মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত থামাতেই হবে: জাতিসংঘ

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত থামাতেই হবে: জাতিসংঘ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকরে ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় পূর্ণ মানবিক সহায়তা নিশ্চিতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ও ফিলিস্তিনিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান জাতিসংঘের মহাসচিব।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সহিংসতা অবশ্যই থামাতে হবে বলে মন্তব্য করেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

বৃহস্পতিবার বিশ্ব সংস্থাটির সাধারণ পরিষদে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। এ সময় তিনি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ও ফিলিস্তিনিদের দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকরে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান।

পাশাপাশি, পরিস্থিতি মোকাবিলায় পূর্ণ মানবিক সহায়তা নিশ্চিতে দুই পক্ষকে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি।

সাধারণ পরিষদের বৈঠকটির আয়োজন করে অরগানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) ও আরব গ্রুপ।

বৈঠকে তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় গত ১০ দিনে ভয়াবহ ও বীভৎস সহিংসতা দেখেছে বিশ্ববাসী। গাজায় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুহুর্মুহ বোমা হামলায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত।

‘বোমা হামলায় আল-শাতি শরণার্থী শিবিরে একই পরিবারের ৯ সদস্য নিহত হওয়ার খবর আমাকে গভীরভাবে শঙ্কিত করেছে। নরকের যন্ত্রণা নেমে এসেছে গাজার শিশুদের জীবনে।’

আল জাজিরার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

তিনি আরও বলেন, ‘গাজায় গণমাধ্যমের ভবন ধ্বংসের ঘটনায় আমি খুবই শঙ্কিত। একই সঙ্গে সাংবাদিক হত্যার ঘটনাটি ছিল ন্যক্কারজনক। সাংবাদিকের অধিকার রয়েছে স্বাধীনভাবে তার কাজ করে যাওয়ার।’

এসময় তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে মানবিক সহায়তা নিশ্চিতে গাজায় সবধরনের বাধা তুলে দিতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বানও জানান।

ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে গাজা থেকে হামাসের রকেট ছোড়া বন্ধেরও আহ্বান জানান তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত থামাতেই হবে: জাতিসংঘ
গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলার আগে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের। ছবি:এএফপি

তিনি জানান, আত্মরক্ষার নামে সহিংসতা ও জঙ্গিবাদের কোনো আইনিভিত্তি নেই। সহিংসতায় কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা যেতে পারে ইসরায়েলকে তা যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে।

গাজায় প্রাণহানি অব্যাহত

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২৭। এদের মধ্যে কমপক্ষে ১০০ জন নারী ও ৬৪ জন শিশু।

গাজায় ১১তম দিনে গড়িয়েছে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান। দেশটির দাবি, নিহতদের মধ্যে রয়েছে দেড় শতাধিক ফিলিস্তিনি বিদ্রোহী।

অবরুদ্ধ গাজার উত্তরাঞ্চলে বৃহস্পতিবার ভোরেই ১০০ দফার বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। গাজার শাসকদল হামাসের স্থাপনা লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয় বলে দাবি তেল আবিবের।

সহিংসতায় নিজ যোদ্ধাদের হতাহতের বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি হামাস। তবে পাল্টা জবাবে ইসরায়েলের দিকেও রকেট ছুড়েছে ফিলিস্তিনি বিদ্রোহীরা।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এ পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় চার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে গাজা থেকে।

এ কদিনের সহিংসতায় ২ শিশুসহ ১২ ইসরায়েলি নিহত হয়েছে।

অবরোধে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত ২০ লাখ বাসিন্দার গাজা উপত্যকা নতুন করে সহিংসতার কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছে। গত কয়েক দিনে অঞ্চলটিতে বোমা মেরে অর্ধশত স্কুল-হাসপাতালসহ ১০০-এর কাছাকাছি ভবন আংশিক বা পুরোপুরি ধসিয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বিমান।

জ্বালানি সংকটে অঞ্চলটির মৌলিক সেবাও বন্ধের পথে।

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।

আরও পড়ুন:
জরুরি চিকিৎসা দিতে গাজায় প্রবেশে ডব্লিউএইচওর আবেদন
ইসরায়েলি বোমায় নিশ্চিহ্ন তিন সদস্যের পরিবার
বাংলাদেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের
ঢাকায় ফিলিস্তিন দূতাবাসে অনুদানের ঢেউ
ইসরায়েলের সমর্থনে তেল আবিবে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

করোনার নয়, হামের টিকা নিয়েছিলেন মিমি

করোনার নয়, হামের টিকা নিয়েছিলেন মিমি

করোনার বদলে হামের টিকা নিয়ে প্রতারণার শিকার হন পশ্চিমবঙ্গের সাংসদ ও অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। ছবি: সংগৃহীত

টিকাকরণে উৎসাহ দিতে ওই শিবির থেকে টিকা নেন যাদবপুরের সাংসদ মিমি চক্রবর্তী। কিন্তু টিকা নেয়ার মেসেজ তার ফোনে না আসায় সন্দেহ হয়। মিমি পুলিশকে জানালে ভুয়া টিকাকরণের বিষয়টি সামনে চলে আসে।

কলকাতা পুরসভার নামে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভুয়া প্রতিষেধক শিবির চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার ভুয়া আইএএস কর্মকর্তা দেবাঞ্জন দেবকে জেরা করে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। করোনার বদলে হাম বা বিসিজির টিকা নিয়ে প্রতারণার শিকার হন পশ্চিমবঙ্গের সাংসদ ও অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীসহ অনেকে।

এ নিয়ে দেবাঞ্জন দেবের সঙ্গে শাসক দলের নেতা-মন্ত্রীদের একসঙ্গে উপস্থিতির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে এ ঘটনায় তৃণমূল যোগের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিজেপি।

ভুয়া টিকা শিবিরে কোভিশিল্ড বা কোভ্যাক্সিন নয়, তার বদলে বিসিজি বা হামের টিকা দেয়া হয়েছে বলে তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে অনুমান করছেন।

এ প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, 'এ রাজ্যে সবকিছু বেআইনিভাবে চলে, তা থেকে টাকা কামানোও হয় । এসবের মধ্যে তৃণমূলের নেতারাও যুক্ত। একজন সাংসদ কীভাবে এসব খোঁজখবর না নিয়ে গেলেন?'

কলকাতায় টিকা জালিয়াতি নিয়ে রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘কলকাতাসহ সারা রাজ্যে টিকা দেয়ার কাজ সন্তোষজনক। একজন অপরাধ করেছে। পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।

‘নেতাদের সঙ্গে ছবি কিছু প্রমাণ করে না। তাহলে সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়ে সবার পরিচয় যাচাই করতে হয়।’

টানা ১০ দিন কলকাতা পুরসভার নামে কসবায় বিনা মূল্যে করোনার টিকাকরণের শিবির চালাচ্ছিলেন দেবাঞ্জন।

টিকাকরণে উৎসাহ দিতে ওই শিবির থেকে টিকা নেন যাদবপুরের সাংসদ মিমি চক্রবর্তী। কিন্তু টিকা নেয়ার মেসেজ তার ফোনে না আসায় সন্দেহ হয়।

মিমি পুলিশকে জানালে ভুয়া টিকাকরণের বিষয়টি সামনে চলে আসে।

তদন্তে নেমে দেবাঞ্জনকে জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, শুধু কসবা নয়, আমহার্স্ট স্ট্রিট সিটি কলেজেও দেবাঞ্জন একই রকম ভুয়া টিকাকরণের শিবির করেছিলেন।

কলকাতা পুরসভার নামে বেআইনি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন দেবাঞ্জন। ভারত সরকারের স্টিকার, নীল বাতি লাগানো সাদা টয়োটা গাড়ি চড়ে ঘুরে বেড়াতেন দেবাঞ্জন। এলাকায় প্রভাবশালী পরিচিত ছিলেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

দেবাঞ্জনের কাছ থেকে কলকাতা পুরসভার সিলমোহর, প্যাড, অন্যান্য কাগজপত্র এবং তার কসবার নিউমার্কেটের অফিস থেকে ভুয়া টিকা বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারীরা।

প্রায় ২৫ লাখ টাকা মূল্যের মাস্ক, স্যানিটাইজার, হ্যান্ডওয়াশ ও অক্সিমিটার দেবাঞ্জন মজুত করেছিলেন পরে চড়া দামে বিক্রি করবেন বলে।

যে ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থার কাছ থেকে পুরসভার নাম ভাঙিয়ে ঋণ নিয়েছিলেন দেবাঞ্জন, সে সংস্থা তালতলা থানায় অভিযোগ করেছে।

টিকা দেয়ার জন্য ১৩ জনের একটি দল গঠন করেছিলেন দেবাঞ্জন। এ দলে কারা ছিলেন, তারা ডাক্তার নাকি নার্স, এসব জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

শুক্রবার লালবাজারের তদন্তকারী কর্মকর্তা দেবাঞ্জনের কাছ থেকে জানতে চেষ্টা করবেন এ প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আর কারা, কীভাবে যুক্ত। টিকার ভায়াল এল কোথা থেকে এবং আর কোথাও এমন ভুয়া শিবির চলছে কি না।

বাগরি মার্কেট থেকে কিনে এনে নকল স্টিকার লাগানো টিকার ভায়ালে কী ছিল, তা জানতে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, কলকাতা পুলিশ ও পুরসভার নজর এড়িয়ে ভুয়া টিকাকরণের এমন শিবির এতদিন ধরে চলল কী করে।

এদিকে ভুয়া টিকা নেয়া ব্যক্তিদের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া জানতে কলকাতা পুরসভা তাদের শারীরিক পরীক্ষা করছে।

ভুয়া টিকা নেয়া মিমি চক্রবর্তী শুক্রবার পরীক্ষা করাবেন বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন:
জরুরি চিকিৎসা দিতে গাজায় প্রবেশে ডব্লিউএইচওর আবেদন
ইসরায়েলি বোমায় নিশ্চিহ্ন তিন সদস্যের পরিবার
বাংলাদেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের
ঢাকায় ফিলিস্তিন দূতাবাসে অনুদানের ঢেউ
ইসরায়েলের সমর্থনে তেল আবিবে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

শেয়ার করুন

মোবাইলে ৫ মিনিটের বেশি কথা বললে কর

মোবাইলে ৫ মিনিটের বেশি কথা বললে কর

পাঁচ মিনিটেরও বেশি সময় মোবাইল ফোনে টানা কথা বললে তার ওপর কর আরোপ করবে পাকিস্তান সরকার। ছবি: সংগৃহীত

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মোবাইলে পাঁচ মিনিটের বেশি কথা বললে ৭৫ পয়সা বেশি হারে সম্পূরক শুল্ক দিতে হবে। তবে এসএমএস এবং মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর কোনো শুল্ক থাকছে না।’

পাঁচ মিনিটেরও বেশি সময় মোবাইল ফোনে টানা কথা বললে তার ওপর কর আরোপ করবে পাকিস্তান সরকার।

জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের ওপর বিতর্ক শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী শওকত তারিন এই ঘোষণা দেন।

ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরির সভাপতিত্বে এই অধিবেশনে রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে সিনেটর ও বিরোধী দলের আইনপ্রণেতাদের সুপারিশের জবাবে এ ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী ।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মোবাইলে পাঁচ মিনিটের বেশি কথা বললে ৭৫ পয়সা বেশি হারে সম্পূরক শুল্ক দিতে হবে। তবে এসএমএস এবং মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর কোনো শুল্ক থাকছে না।’

দেশটির সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও মন্ত্রিসভা মোবাইলে কথা বলার ওপর বাড়তি সারচার্জ আরোপের বিপক্ষে থাকলেও অর্থমন্ত্রীর কাছ থেকে হঠাৎই এমন ঘোষণা এসেছে।

দেশটির সরকার তার উচ্চাভিলাষী রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৫ হাজার ৮০০ বিলিয়ন রুপি নির্ধারণ করেছে এবং মন্ত্রী জানান তাদের নেয়া সুপারিশ কার্যকর হলে ১২ ধরনের বকেয়া কর থেকে মুক্তি পাবে সরকার।

মোবাইলে ৫ মিনিটের বেশি কথা বললে কর

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে বাজেটের ওপর আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী শওকত তারিন। ছবি: সংগৃহীত

তিনি আরও জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হেনস্তার কারণে অনেক করদাতা তাদের রিটার্ন জমা দেয়া থেকে বিরত থাকেন। এক্ষেত্রে তিনি একটি নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষের কাছে কর আদায়ের দায়িত্ব স্থানান্তরের কথা জানান।

আরও পড়ুন:
জরুরি চিকিৎসা দিতে গাজায় প্রবেশে ডব্লিউএইচওর আবেদন
ইসরায়েলি বোমায় নিশ্চিহ্ন তিন সদস্যের পরিবার
বাংলাদেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের
ঢাকায় ফিলিস্তিন দূতাবাসে অনুদানের ঢেউ
ইসরায়েলের সমর্থনে তেল আবিবে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

শেয়ার করুন

চড়া দামে জাল টিকা বিক্রির অভিযোগ

চড়া দামে জাল টিকা বিক্রির অভিযোগ

কলকাতায় দেবাঞ্জন দেবের বিরুদ্ধে ভুয়া টিকা বিক্রির অভিযোগ ওঠে। ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস

কলকাতা পুরসভার হাতে আসা এক নথিতে দেখা যায়, সরলা ডেভেলপমেন্ট মাইক্রোফিন্যান্স প্রাইভেট লিমিটেড নামের আর্থিক সংস্থাকে ১৭১টি করোনার টিকা বিক্রি করেছিলেন দেবাঞ্জন, যার দাম বাবদ ১.১১ লাখ টাকা দেবাঞ্জনকে দিয়েছিল সংস্থাটি।

কলকাতার কসবায় ভুয়া টিকাকরণ কেন্দ্র চালানোয় অভিযুক্ত দেবাঞ্জন দেবের বিরুদ্ধে ভুয়া টিকা বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

একটি আর্থিক সংস্থাকে চড়া মূল্যে ১৭১টি করোনার টিকা বিক্রি করেছিলেন দেবাঞ্জন। সেই টিকা আসল না নকল, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে শুক্রবার এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

কলকাতা পুরসভার হাতে আসা এক নথিতে দেখা যায়, সরলা ডেভেলপমেন্ট মাইক্রোফিন্যান্স প্রাইভেট লিমিটেড নামের আর্থিক সংস্থাকে ১৭১টি করোনার টিকা বিক্রি করেছিলেন দেবাঞ্জন, যার দাম বাবদ ১.১১ লাখ টাকা দেবাঞ্জনকে দিয়েছিল সংস্থাটি।

সেই টিকা জাল বলেই অনুমান তদন্তকারীদের। সঙ্গে আর কোনো সংস্থাকে দেবাঞ্জন এভাবে টিকা বিক্রি করেছিল কি না তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

এই চক্রে রাজ্য সরকার বা কলকাতা পুরসভার কোনো আধিকারিক যুক্ত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সপ্তাহ কয়েক আগে কসবায় নিজের অফিসের কর্মীদের টিকা দেন দেবাঞ্জন। তাদের স্পুতনিক ভি টিকা দেয়া হয় বলে দাবি।

তবে গোয়েন্দাদের প্রশ্ন, স্পুতনিক ভি টিকা দেবাঞ্জন পেলেন কোথা থেকে? কারণ কয়েক সপ্তাহ ধরে কলকাতায় পরীক্ষামূলকভাবে ওই টিকা দেয়া হচ্ছে। শহরে পৌঁছেছে অল্প কিছু টিকা। সেই টিকাও জাল বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।

টিকা নেয়ার পর কর্মীদের কাছে কোনো এসএমএস পৌঁছায়নি বলে দাবি করেছেন তারা।

আরও পড়ুন:
জরুরি চিকিৎসা দিতে গাজায় প্রবেশে ডব্লিউএইচওর আবেদন
ইসরায়েলি বোমায় নিশ্চিহ্ন তিন সদস্যের পরিবার
বাংলাদেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের
ঢাকায় ফিলিস্তিন দূতাবাসে অনুদানের ঢেউ
ইসরায়েলের সমর্থনে তেল আবিবে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

শেয়ার করুন

চীনে করোনা সংক্রমণ শুরু হতে পারে উনিশের অক্টোবরে

চীনে করোনা সংক্রমণ শুরু হতে পারে উনিশের অক্টোবরে

২০১৯ সালের অক্টোবরে চীনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হতে পারে নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ছবি: এএফপি

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ কেন্টের বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৯ সালের অক্টোবরের শুরুর দিকে থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সার্স-কোভ-২ এর আবির্ভাব হয়।

২০১৯ সালের অক্টোবরে চীনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হতে পারে। এর দুই মাস পর ডিসেম্বরে দেশটির উহান শহরে মানবদেহে ভাইরাসটির অস্তিত্ব প্রথম শনাক্ত হয়।

চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী পিএলওএস প্যাথোজেন্সে শুক্রবার প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ কেন্টের বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৯ সালের অক্টোবরের শুরুর দিকে থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সার্স-কোভ-২ এর আবির্ভাব হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাইরাসের আবির্ভাবের সম্ভাব্য তারিখ ২০১৯ সালের ১৭ নভেম্বর। পরের বছর ২০২০ সালের জানুয়ারির দিকে এটি সম্ভবত বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রথম করোনা শনাক্তের কথা বিশ্বকে জানায় চীন। উহান শহরের হুয়ানান সিফুড মার্কেট থেকে এটির সংক্রমণ হতে পারে বলে সে সময় ধারণা করা হয়।

ডিসেম্বরের আগে চীনে করোনার উপস্থিতির সঙ্গে হুয়ানান সিফুড মার্কেটের যোগসূত্র জানা যায়নি। এর অর্থ হলো মার্কেটটি থেকে ছড়ানোর আগেই সার্স-কোভ-২ এর সংক্রমণ শুরু হয়।

চলতি বছরে মার্চের শেষের দিকে চীন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) যৌথ গবেষণা প্রতিবেদনে অবশ্য স্বীকার করা হয়, উহানে প্রাদুর্ভাবের আগেই করোনায় বিছিন্নভাবে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে।

চলতি সপ্তাহে চীনে করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকের ডিলিট করা সিকোয়েন্সিং ডাটা উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল শহরের ফ্রেড হাচিনসন ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টারের বিজ্ঞানী ড. জেস ব্লুম।

ডাটায় দেখা যায়, হুয়ানান সিফুড মার্কেট থেকে সংগ্রহ করা নমুনা সামগ্রিকভাবে সার্স-কোভ-২কে প্রতিনিধিত্ব করে না; বরং হুয়ানান থেকে ছড়ানোর আগে এটির উপস্থিতি ডাটায় পাওয়া যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অফ হেলথ রয়টার্সকে জানায়, গত বছরের মার্চে গবেষণায় ব্যবহৃত নমুনা সিকোয়েন্স রিড আর্কাইভে জমা দেয়া হয়। পরে চীনের অনুসন্ধানকারীদের অনুরোধে সেসব ডিলিট করা হয়।

চীনা অনুসন্ধানকারীদের ভাষ্য ছিল, নমুনা হালনাগাদ করে অন্য আরেকটি আর্কাইভে জমা দেয়া হবে।

সমালোচকদের ভাষ্য, ডিলিট করায় এটাই প্রমাণ হয় যে, করোনার উৎস ঢাকার চেষ্টা করেছিল চীন।

হার্ভার্ডের ব্রড ইনস্টিটিউটের গবেষক অ্যালিনা চ্যান টুইটবার্তায় বলেন, ‘উহানে করোনা কীভাবে ছড়ায় এ তথ্য সংবলিত গুরুত্বপূর্ণ ডাটা ডিলিট করতে আন্তর্জাতিক ডাটাবেজকে বিজ্ঞানীরা কেন বলবেন?’

আরও পড়ুন:
জরুরি চিকিৎসা দিতে গাজায় প্রবেশে ডব্লিউএইচওর আবেদন
ইসরায়েলি বোমায় নিশ্চিহ্ন তিন সদস্যের পরিবার
বাংলাদেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের
ঢাকায় ফিলিস্তিন দূতাবাসে অনুদানের ঢেউ
ইসরায়েলের সমর্থনে তেল আবিবে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

শেয়ার করুন

পুরোনো ক্ষত দগদগে হয়ে উঠছে কানাডার আদিবাসীদের

পুরোনো ক্ষত দগদগে হয়ে উঠছে কানাডার আদিবাসীদের

মেরিভ্যালের স্কুলে গ্রাউন্ড-পেনিট্রেটিং রাডার ব্যবহার করে চলছে অচিহ্নিত কবর শনাক্তের কাজ। ছবি: কাওয়েসেস ফার্স্ট নেশন

সাসকাচোয়ান প্রদেশের ৭৪টি আদিবাসী গোষ্ঠীর জোট ফেডারেশন অফ সভরেইন ইনডিজেনাস নেশন্সের (এফএসআইএন) প্রধান ববি ক্যামেরন বলেন, ‘আদিবাসীদের নির্মূলের চেষ্টা চালানো একটি জাতি হিসেবে একদিন পরিচিত হবে কানাডা। এটা তো কেবল শুরু।’

প্রথমে ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশে আদিবাসী শিশুদের একটি আবাসিক স্কুলপ্রাঙ্গণে অপ্রাপ্তবয়স্ক ২১৫ জনের দেহাবশেষের সন্ধান। মাস না গড়াতেই যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তের সাসকাচোয়ান প্রদেশের এক আবাসিক স্কুলপ্রাঙ্গণে শনাক্ত হয় আরও ৭৫১টি পুরোনো অচিহ্নিত কবর।

ধারাবাহিক এসব ঘটনায় বিব্রত হালের অভিবাসীবান্ধব উদার রাষ্ট্র কানাডা।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, ‘যে আঘাত ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে কানাডার আদিবাসীরা যাচ্ছেন, সে বোঝা কমানোর দায়িত্ব পুরো দেশের।’

তবে ট্রুডোর এই বক্তব্যেও দৃশ্যত কমেনি কানাডার আদিবাসীদের মানসিক চাপের বোঝা। দুই বারে প্রায় এক হাজার অচিহ্নিত কবর শনাক্তের ঘটনায় আবারও দগদগে হয়ে উঠেছে তাদের পুরোনো ক্ষত।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ক্ষত দেশটির ঔপনিবেশিক শাসনামলে আদিবাসী নির্মূলের লক্ষ্যে চালানো নির্মম নির্যাতনের।

গত ২ জুন একসময়ের মেরিভ্যাল ইন্ডিয়ান রেসিডেন্সিয়াল স্কুলে কবরগুলো খুঁজে বের করার কাজ শুরু করে স্থানীয় আদিবাসী গোষ্ঠী কাওয়েসেস ফার্স্ট নেশন। সাসকাচোয়ানে এ ধরনের কবর শনাক্তের ঘটনা এটাই প্রথম।

ওই এলাকায় অচিহ্নিত প্রাচীন কবর শনাক্তে ২০১৯ সালে গোষ্ঠীটিকে ৭০ হাজার কানাডিয়ান ডলারের অর্থ সহায়তা দেয় স্থানীয় ক্যাথলিক প্রশাসন।

এ ছাড়া রোমান ক্যাথলিক চার্চ যত বছর স্কুলটি চালিয়েছে, সেই সময়ে কাওয়েসেস আদিবাসীদের মৃত্যুর খতিয়ানও কাওয়েসেস ফার্স্ট নেশনকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তবে নিজেদের অঞ্চলে অচিহ্নিত কবর শনাক্তে কাওয়েসেসরা কার্যকর পদক্ষেপ নেয় মূলত মে মাসে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার কামলুপসে ২১৫ আদিবাসী শিশুর দেহাবশেষের সন্ধান মেলার পর।

মেরিভ্যালে অচিহ্নিত কবর শনাক্তে ব্যবহার করা হয় গ্রাউন্ড-পেনিট্রেটিং রাডার। যন্ত্রটি মেরিভ্যালের মাটিতে মোট ৭৫১টি জায়গা কবর হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বলা হচ্ছে, ১০ শতাংশ যান্ত্রিক ত্রুটি ধরে নিলেও ছয় শতাধিক কবর আছে এলাকাটিতে।

সাম্প্রতিক কবর আবিষ্কারের ঘটনায় স্থানীয় আর্চবিশপ ডন বোলেন বৃহস্পতিবার একটি চিঠি পাঠিয়েছেন কাওয়েসেস ফার্স্ট নেশনের প্রধান কাডমুস ডেলোরমিকে।

এতে ‘গির্জা কর্তৃপক্ষ ও কর্মীদের পাপ ও ব্যর্থতার জন্য’ আবার ক্ষমা চেয়েছেন আর্চবিশপ। তিনি অনুরোধ করেছেন দেহাবশেষের পরিচয় শনাক্তে আদিবাসী গোষ্ঠীটিকে গির্জা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে সহযোগিতা দেয়ার।

আদিবাসীদের ওপর ঔপনিবেশিকতার ক্ষত

কানাডার আবাসিক শিক্ষাব্যবস্থার অধীনে আদিবাসী শিশুদের ওপর নির্যাতনের পুরোনো ক্ষতকে জাগিয়ে তুলেছে এসব কবর শনাক্তের ঘটনা।

সাসকাচোয়ান প্রদেশের ৭৪টি আদিবাসী গোষ্ঠীর জোট ফেডারেশন অফ সভরেইন ইনডিজেনাস নেশন্সের (এফএসআইএন) প্রধান ববি ক্যামেরন বলেন, ‘আদিবাসীদের নির্মূলের চেষ্টা চালানো একটি জাতি হিসেবে একদিন পরিচিত হবে কানাডা। এটা তো কেবল শুরু।’

আদিবাসী নিপীড়ন কার্যক্রমের কেন্দ্রে ছিল রোমান ক্যাথলিক চার্চ পরিচালিত কানাডার আবাসিক শিক্ষাব্যবস্থা।

গত ১০০ বছরের বেশি সময়ে এসব স্কুলে আদিবাসী শিশুদের ওপর চলা নির্মমতা নিয়ে যথেষ্ট তথ্য নেই কানাডা সরকারের হাতে। ফলে অপরাধীদের কখনো জবাবদিহিতার মুখেও পড়তে হয়নি।

১৮৩১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত এ ব্যবস্থার আওতায় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছিল দেড় লাখ আদিবাসী শিশুকে। তাদের জোর করে খ্রিস্টানদের আবাসিক স্কুলে রেখে দেয়া হতো, খেতে দেয়া হতো না; চালানো হতো শারীরিক ও যৌন নির্যাতন।

কানাডার তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করত ক্যাথলিক চার্চগুলো।

কানাডার ট্রুথ অ্যান্ড রিকন্সিলিয়েশন কমিশন ২০১৫ সালে ‘সাংস্কৃতিক জেনোসাইড’বিষয়ক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে আবাসিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে এই জেনোসাইডের কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল সাসকাচোয়ানের প্রদেশে সদ্য আবিষ্কৃত মেরিভ্যাল স্কুলটির সমাধিক্ষেত্রের কথা।

প্রদেশটির আদিবাসী গোষ্ঠী কাওয়েসেস ফার্স্ট নেশন অধ্যুষিত এলাকায় ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত ১০০ বছরের বেশি সময় চলেছে স্কুলটির কার্যক্রম।

এফএসআইএনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিদার বিয়ার সত্তরের দশকে মেরিভ্যাল স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন। সে সময় স্কুলটিতে ছোট একটি সমাধিক্ষেত্র তিনি দেখেছিলেন বলে জানান।

সমাধিক্ষেত্রটি আসলে কত বড়, বৃহস্পতিবার তা জানার পর বিস্মিত এই নারী বলেন, ‘এরপর তো স্কুলের ভেতরে একা একা হেঁটে বেড়ানোও কষ্টকর হয়ে যাবে। সেখানকার দুঃখ তাড়িয়ে বেড়াবে।

‘প্রতিটি আবাসিক স্কুল এলাকাতেই এখন এ রকম একটা অশুভ বিষয় ছায়া হয়ে থাকবে।’

নানা বিতর্কের মুখে ১৯৯৯ সালে মেরিভ্যাল স্কুলটি ভেঙে দিয়ে সেখানে অনাবাসিক একটি স্কুল চালু করা হয়।

চলতি মাসের শুরুতে ক্যাথলিকদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস দুঃখ প্রকাশ করলেও তাতে মন গলেনি কানাডার ভুক্তভোগী আদিবাসীদের। কারণ তিনি বা এসব স্কুল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা রোমান ক্যাথলিক চার্চ এসব ঘটনায় সরাসরি ক্ষমা চায়নি।

আরও পড়ুন:
জরুরি চিকিৎসা দিতে গাজায় প্রবেশে ডব্লিউএইচওর আবেদন
ইসরায়েলি বোমায় নিশ্চিহ্ন তিন সদস্যের পরিবার
বাংলাদেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের
ঢাকায় ফিলিস্তিন দূতাবাসে অনুদানের ঢেউ
ইসরায়েলের সমর্থনে তেল আবিবে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

শেয়ার করুন

অরুণাচলের গা ঘেঁষে ছুটছে চীনের বুলেট ট্রেন

অরুণাচলের গা ঘেঁষে ছুটছে চীনের বুলেট ট্রেন

বেইজিং ভারত সীমান্ত এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে অনেক দিন থেকেই জোর দিয়েছে। যার মধ্যে অরুণাচল সীমান্ত ঘেঁষে এই বুলেট ট্রেন অন্যতম।

চীন শাসিত তিব্বত থেকে প্রথম ইলেকট্রিকচালিত বুলেট ট্রেন চলাচল শুরু করেছে। পরীক্ষামূলক চললেও পুরোদমে ট্রেন চলাচল শুরু হবে আগামী ১ জুলাই।

ভারতের অরুণাচল রাজ্যে একেবারে সীমান্ত ঘেঁষে এই ট্রেন চলাচলে কিছুটা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে ভারত।

হঠাৎ করে কয়েক বছর থেকে অরুণাচলের আশপাশে প্রযুক্তির ব্যাপকতা বাড়িয়েছে চীন। ট্রেন চলাচল শুরুর ঘটনায় সীমান্ত এলাকার প্রত্যন্ত বসতির ওপর অতিরিক্ত নজরদারি শুরু করেছে ভারত।

বেইজিং ভারত সীমান্ত এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে অনেক দিন থেকেই জোর দিয়েছে। যার মধ্যে অরুণাচল সীমান্ত ঘেঁষে এই বুলেট ট্রেন অন্যতম।

এই ট্রেন ছুটবে অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তে বেইজিং থেকে তিব্বতের লাসা পর্যন্ত। আর এই পরিস্থিতির জন্য সীমান্তে সামরিক ব্যবস্থাকে কঠোর করছে ভারত।

অরুণাচলের গা ঘেঁষে ছুটছে চীনের বুলেট ট্রেন
চীনের একটি বুলেট ট্রেন স্টেশন। ছবি: এএফপি

তিব্বতের লাসার নিংচি সেকশনে ৪৩৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার পথে বুলেট ট্রেন চালাবে চীন। তিব্বতের এই প্রত্যন্ত এলাকায় এটাই প্রথম বুলেট ট্রেন।

১ জুলাই চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ১০০ বছর পূর্তি। আর সে উপলক্ষ্যেই বিরাট কর্মযজ্ঞ।

অরুণাচলের গা ঘেঁষে ছুটছে চীনের বুলেট ট্রেন
অরুণাচলের গা ঘেঁষে ছুটে চলতে প্রস্তুত চীনের বুলেট ট্রেন। ছবি: এএফপি

চীন বলছে, বুলেট ট্রেনের পরিকল্পনা দীর্ঘদিনের। ২০১৪ সাল থেকে কাজ শুরু হয়।

অরুণাচলের গা ঘেঁষে ছুটছে চীনের বুলেট ট্রেন
১ জুলাই থেকে চলাচল শুরুর আগে জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে ট্রেন। ছবি: এএফপি

চীন নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর বিভিন্ন স্থাপত্য ও উন্নয়ন দিয়ে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার কথা বলছে।

আরও পড়ুন:
জরুরি চিকিৎসা দিতে গাজায় প্রবেশে ডব্লিউএইচওর আবেদন
ইসরায়েলি বোমায় নিশ্চিহ্ন তিন সদস্যের পরিবার
বাংলাদেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের
ঢাকায় ফিলিস্তিন দূতাবাসে অনুদানের ঢেউ
ইসরায়েলের সমর্থনে তেল আবিবে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

শেয়ার করুন

ডাবের পানি লবণের মিশ্রণে করোনা সারে না

ডাবের পানি লবণের মিশ্রণে করোনা সারে না

ইউনিভার্সিটি অফ ইন্দোনেশিয়ার মেডিক্যাল স্কুলের ডিন অধ্যাপক আরি ফাহরিয়াল সিয়াম জানান, করোনাভাইরাসের ওষুধ হিসেবে কথিত এ পথ্যের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, ‘এই পথ্য নিছক গুজব; মিথ্যা খবর। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তিকে সুস্থ করে তুলতে সক্ষম কোনো সুনির্দিষ্ট ওষুধই এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি; না আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে, না ভেষজ পথ্য হিসেবে।’

ডাব বা নারিকেলের পানির সঙ্গে লবণ, মধু আর লেবুর রস মিশিয়ে খেলে করোনাভাইরাস সেরে যায় বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে।

তবে বার্তা সংস্থা এএফপির ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দাবিটি সত্য নয়।

চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সেরে ওঠার সঙ্গে এ মিশ্রণ পান করার কোনো সম্পর্ক নেই।

ফেসবুকে করোনার প্রাকৃতিক বা ঘরোয়া ওষুধটির দাবি সংক্রান্ত পোস্টটি প্রথম প্রকাশ হয় গত ২৫ মে।

পোস্টে ইন্দোনেশিয়ার ভাষায় লেখা কথাটি অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, ‘মহান আল্লাহ তায়ালার নামে শুরু করছি। করোনাভাইরাস থেকে আরোগ্য লাভের একটি প্রাকৃতিক পথ্য বা ওষুধ এটি। উপকরণ: ডাবের পানি, একটি লেবুর রস, আধা চা-চামচ লবণ ও দুই টেবিল চামচ মধু।

‘সব মিশিয়ে পান করে ফেলুন। আল্লাহ আপনার সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করবেন। আমিন।’

পরে আরও বেশ কয়েকজন একই পোস্ট প্রকাশ করেছেন ফেসবুকে। কিন্তু এ দাবি মিথ্যা।

ইউনিভার্সিটি অফ ইন্দোনেশিয়ার মেডিক্যাল স্কুলের ডিন অধ্যাপক আরি ফাহরিয়াল সিয়াম জানান, করোনাভাইরাসের ওষুধ হিসেবে কথিত এ পথ্যের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

তিনি বলেন, ‘এই পথ্য নিছক গুজব; মিথ্যা খবর। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তিকে সুস্থ করে তুলতে সক্ষম কোনো সুনির্দিষ্ট ওষুধই এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি; না আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে, না ভেষজ পথ্য হিসেবে।’

ইন্দোনেশিয়ার ইয়োগিজাকার্তা শহরের গাদজাহ মাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক জুলিয়ার ইকাবতি বলেন, ‘ফেসবুকের এসব পোস্ট ভিত্তিহীন। এসব দাবির পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ উপস্থাপন করেনি কেউ।’

করোনাভাইরাস প্রতিরোধ, প্রতিকার ও চিকিৎসাবিষয়ক এমন বেশ কয়েকটি তথ্য ভুয়া বলেও আগেও বের হয়ে এসেছে এএফপির ফ্যাক্ট চেকে।

এর আগে লবণ খাওয়া, লেবুর রস পান করা, অ্যাসপিরিন ওষুধ, লেবুর রস ও মধুর মিশ্রণ করোনার ঘরোয়া ওষুধ হিসেবে কার্যকর বলে ভিত্তিহীন দাবি করেছিলেন অনেকেই।

আরও পড়ুন:
জরুরি চিকিৎসা দিতে গাজায় প্রবেশে ডব্লিউএইচওর আবেদন
ইসরায়েলি বোমায় নিশ্চিহ্ন তিন সদস্যের পরিবার
বাংলাদেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের
ঢাকায় ফিলিস্তিন দূতাবাসে অনুদানের ঢেউ
ইসরায়েলের সমর্থনে তেল আবিবে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

শেয়ার করুন