ইসরায়েলি বোমায় নিশ্চিহ্ন তিন সদস্যের পরিবার

ইসরায়েলের বিমান হামলায় ধ্বংস হয়ে যায় ইয়াদ সালহার ঘর। ছবি: এএফপি

ইসরায়েলি বোমায় নিশ্চিহ্ন তিন সদস্যের পরিবার

নিহত ইয়াদের ভাই ওমর সালহা বলেন, ‘আমার ভাই কী করেছে? সে শুধু তার হুইলচেয়ারে বসে ছিল। তার স্ত্রীর অপরাধ কী? তাদের মেয়েও বা কী করেছে? ওই সময় তারা সবাই মধ্যাহ্নভোজের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।’

গাজা উপত্যকায় দায়ের এল-বালাহ শহরে তিন রুমের ফ্ল্যাটে বাস করতেন শারীরিক প্রতিবন্ধী ইয়াদ সালহা, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আমানি ও তাদের তিন বছরের মেয়ে নাঘাম। বুধবার দুপুরে খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা। হঠাৎ বোমা হামলা হয়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনজনই।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি বোমা হামলায় ৩৩ বছর বয়সী ইয়াদের ঘর ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে পড়ে রয়েছে নাঘামের লাল রঙের ভাঙা বাইসাইকেল।

পরিবারের তিন সদস্যকে হারিয়ে হতবিহ্বল ইয়াদের ভাই ৩১ বছর বয়সী ওমর সালহা। মর্গে তিনি জানান, তার ভাই ১৪ বছর ধরে হাঁটতে পারেন না। তিনি কোনো সশস্ত্র যোদ্ধাও ছিলেন না।

হামলার সময় প্রতিবেশীর ঘরে ছিলেন ওমর। বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, ‘আমার ভাই কী করেছে? সে শুধু তার হুইলচেয়ারে বসে ছিল। তার স্ত্রীর অপরাধ কী? তাদের মেয়েও বা কী করেছে? ওই সময় তারা সবাই মধ্যাহ্নভোজের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।’

ওমর সালহা বলেন, তার ভাই ইয়াদ বেকার ছিলেন। মা ও তিন ভাইয়ের সঙ্গে ফ্ল্যাট ভাগাভাগি করে থাকতেন।

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার অন্য অনেক দরিদ্র পরিবারের মতো ইয়াদের পরিবারও ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত জাতিসংঘের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

বুধবার দুপুরে ইসরায়েলের বোমা হামলার সময় ওমর সালহার মা উম ইয়াদও ঘরে ছিলেন না। দুই দিন আগে ভাইয়ের বাসায় গিয়েছিলেন তিনি।

ছেলেহারানো ৫৮ বছর বয়সী এই মা বলেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার প্রার্থনা করত আমার বড় ছেলে। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার অপেক্ষায় ছিল। এরই মধ্যে মৃত্যু হলো তার।’

এদিকে স্ত্রী, সন্তানসহ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির নিহতের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গাজার উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী ইউসেফ আবু আল-রিশ। নিরীহ মানুষকে ঘরের ভেতরে হত্যা করাকে ‘অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আর কত মানুষ মরলে পড়ে বিশ্ব বিবেক নড়েচড়ে বসবে?’

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১০ মে শুরু হওয়া ইসরায়েলের বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত ৬৪ শিশুসহ ২২৭ ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলের পুলিশ জানিয়েছে, ওই সময়ের মধ্যে ১২ ইসরায়েলিকে রকেট হামলায় হত্যা করেছে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র বাহিনী। এদের মধ্যে দুটি শিশুও রয়েছে।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের
ঢাকায় ফিলিস্তিন দূতাবাসে অনুদানের ঢেউ
ইসরায়েলের সমর্থনে তেল আবিবে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী
গাজায় অস্ত্রবিরতির আশা হামাসের, উল্টো বক্তব্য নেতানিয়াহুর
গাজা ইস্যুতে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ফ্রান্স

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সু চি সমর্থকরা এখন রোহিঙ্গাদের পক্ষে

সু চি সমর্থকরা এখন রোহিঙ্গাদের পক্ষে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোববার রোহিঙ্গাদের পক্ষে সংহতি জানায় মিয়ানমারের কয়েক লাখ মানুষ।

ইউরোপভিত্তিক আলোচিত রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী রো নায় সান লুইন জানান, অনলাইনে রোহিঙ্গাদের নিয়ে মিয়ানমারের জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে এক বছরের মতো সময় লাগে। রোববারই প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোহিঙ্গাদের পক্ষে পোস্ট এত ভাইরাল হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও টুইটারে কালো কাপড় পরে মিয়ানমারের জাতিগত নিপীড়িত সংখ্যালঘু মুসলমান রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি জানিয়েছে দেশটির সামরিক জান্তাবিরোধী কয়েক লাখ আন্দোলনকারী।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার কালো কাপড় পরে প্রতিরোধের প্রতীক তিন আঙুল দেখিয়ে হ্যাশট্যাগ ব্ল্যাকফররোহিঙ্গা লিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের ছবি পোস্ট করেন মিয়ানমারের অধিকারকর্মী ও বেসামরিক নাগরিকরা।

মিয়ানমারের আলোচিত মানবাধিকারকর্মী থিনজার শুনলেই টুইটবার্তায় রোহিঙ্গাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের প্রত্যেকের ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের প্রত্যেক নাগরিক ন্যায়বিচার পাবেন।’

মিয়ানমারের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার দেশটির বাণিজ্যিক শহর ইয়াঙ্গুনে কালো কাপড় পরে কয়েকজন মিয়ানমারবাসী প্ল্যাকার্ডে ‘নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের জন্য প্রতিবাদ’ লিখে বিক্ষোভ করেন।

রোববার দুপুরের মধ্যে টুইটারে ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষ হ্যাশট্যাগ ব্ল্যাকফররোহিঙ্গা (#Black4Rohingya) ব্যবহার করেছেন।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলে নারকীয় অভিযান চালায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। ধর্ষণ, হত্যা ও অগ্নিসংযোগের হাত থেকে বাঁচতে সে সময় প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। সব মিলিয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৩ লাখের বেশি।

সশস্ত্র বিদ্রোহীদের নির্মূলে ওই অভিযান দরকার ছিল বলে দীর্ঘদিন ধরে এর পক্ষে সাফাই গেয়ে আসছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে করা অভিযোগে সেনাবাহিনীর পক্ষ নেন দেশটির তৎকালীন সরকারপ্রধান অং সান সু চিও।

মিয়ানমারের অনেক নাগরিক মনে করেন, রোহিঙ্গারা বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ থেকে তাদের দেশে অনুপ্রবেশ করেছে। এরই জেরে মিয়ানমারের নাগরিকত্বসহ মৌলিক অধিকার থেকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত এই সম্প্রদায়ের মানুষ।

সু চি সমর্থকরা এখন রোহিঙ্গাদের পক্ষে

রোহিঙ্গাদের দুর্দশা নিয়ে মিয়ানমারের জনগণের একটি বড় অংশ সহানুভূতিহীন ছিলেন। অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের পক্ষ নেয়ায় অনেক সময় দেশটির অধিকারকর্মী ও সাংবাদিকেরা অনলাইনে তোপের মুখে পড়েন।

ইউরোপভিত্তিক আলোচিত রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী রো নায় সান লুইন জানান, অনলাইনে রোহিঙ্গাদের নিয়ে মিয়ানমারের জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে এক বছরের মতো সময় লাগে। রোববারই প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোহিঙ্গাদের পক্ষে পোস্ট এত ভাইরাল হয়।

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের পক্ষে প্রচারে মিয়ানমারের জনগণকে নামতে দেখে আমি খুবই খুশি। ভবিষ্যতে তারা রোহিঙ্গাদের প্রতি আরও সংহতি জানাবেন বলে আমি আশাবাদী।’

সু চি সমর্থকরা এখন রোহিঙ্গাদের পক্ষে

সম্প্রতি মিয়ানমারের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার ঘোষণা দেয় দেশটির ছায়া সরকার।

১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত নেতা সু চিকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এর পরই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে দেশটিতে সামরিক জান্তাবিরোধী আন্দোলন গড়ে ওঠে। পাশাপাশি দেশটির জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার নিয়েও সোচ্চার হয় মিয়ানমারের অনেক নাগরিক।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের
ঢাকায় ফিলিস্তিন দূতাবাসে অনুদানের ঢেউ
ইসরায়েলের সমর্থনে তেল আবিবে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী
গাজায় অস্ত্রবিরতির আশা হামাসের, উল্টো বক্তব্য নেতানিয়াহুর
গাজা ইস্যুতে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ফ্রান্স

শেয়ার করুন

বাংলাদেশিদের ওপর পাকিস্তানের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা

বাংলাদেশিদের ওপর পাকিস্তানের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা

পাকিস্তানের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সি ক্যাটাগরির দেশের ক্ষেত্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এনসিওসির বিশেষ নির্দেশনার আওতায় কেবল সি ক্যাটাগরির দেশের নাগরিক পাকিস্তানে ভ্রমণ করতে পারবেন।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, ইরাকসহ ২৬টি দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পাকিস্তান।

দেশটির ন্যাশনাল কমান্ড অ্যান্ড অপারেশন সেন্টার (এনসিওসি) শনিবার এ নিষেধাজ্ঞা দেয় বলে ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

পাকিস্তানের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, করোনার সংক্রমণ মোকাবিলায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে এ, বি ও সি- এই তিন ক্যাটাগরি চালু করা হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এ ক্যাটাগরিতে যেসব দেশ রয়েছে, তাদের নাগরিকদের বাধ্যতামূলক কোভিড-১৯ টেস্ট করা লাগবে না।

‘বি ক্যাটাগরির দেশের নাগরিকদের পাকিস্তানে ভ্রমণ তারিখের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করোনার পিসিআর পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসতে হবে।

তিনি বলেন, ‘সি ক্যাটাগরির দেশের ক্ষেত্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এনসিওসির বিশেষ নির্দেশনার আওতায় কেবল সি ক্যাটাগরির দেশের নাগরিক পাকিস্তানে ভ্রমণ করতে পারবেন।’

এর মধ্যে সি ক্যাটাগরিভুক্ত দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, ভুটান, ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

আরও রয়েছে তিউনিসিয়া, বলিভিয়া, চিলি, কলাম্বিয়া, কোস্টারিকা, ডমিনিকান রিপাবলিক, ইকুয়েডর, নামিবিয়া, প্যারাগুয়ে, পেরু, ত্রিনিদাদ, টোবাগো ও উরুগুয়ে।

সি ক্যাটাগরিভুক্ত দেশের বাইরে যেসব দেশ রয়েছে, তাদের বি ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে। ওই সব দেশের করোনার পিসিআর পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসা যাত্রীরাই কেবল পাকিস্তানে ভ্রমণ করতে পারবেন।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের
ঢাকায় ফিলিস্তিন দূতাবাসে অনুদানের ঢেউ
ইসরায়েলের সমর্থনে তেল আবিবে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী
গাজায় অস্ত্রবিরতির আশা হামাসের, উল্টো বক্তব্য নেতানিয়াহুর
গাজা ইস্যুতে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ফ্রান্স

শেয়ার করুন

জি-৭ সম্মেলনের মধ্যে ইসরায়েলের সহিংসতা বন্ধে লন্ডনে বিক্ষোভ

জি-৭ সম্মেলনের মধ্যে ইসরায়েলের সহিংসতা বন্ধে লন্ডনে বিক্ষোভ

ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে শনিবার লন্ডনে বিক্ষোভ করে হাজার হাজার মানুষ।

যুক্তরাজ্যের বিরোধী লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বলেন, ‘লন্ডনে আজ (শনিবার) ফিলিস্তিনের জন্য ন্যায়বিচারের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে আমি অস্ত্র বিক্রি বন্ধেরও আহ্বান জানাচ্ছি।’

বিশ্বের ধনী দেশগুলোর জোট জি-সেভেনের সম্মেলন চলাকালে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ করেছেন যুক্তরাজ্যের হাজার হাজার মানুষ। ওই সময় ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন বন্ধে জি-সেভেনের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

লন্ডনের ডাউনিং স্ট্রিটে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের বাসভবন অভিমুখে স্থানীয় সময় শনিবার বিক্ষোভ মিছিল বের হয় বলে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল অধিকৃত ফিলিস্তিন অঞ্চলে জায়নবাদী রাষ্ট্রটির নীতির প্রতিবাদে মিছিলে বিক্ষোভকারীরা প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দেন।

ফিলিস্তিনের ওপর ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধে সমর্থন বন্ধে যুক্তরাজ্যসহ জি-সেভেনভুক্ত দেশের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান লন্ডনবাসী।

বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের বিরোধী লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন। সমাবেশে জনগণের উদ্দেশে ভাষণ দেন তিনি।

করবিন টুইটবার্তায় বলেন, ‘লন্ডনে আজ (শনিবার) ফিলিস্তিনের জন্য ন্যায়বিচারের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে আমি অস্ত্র বিক্রি বন্ধেরও আহ্বান জানাচ্ছি।

‘যুক্তরাজ্যের তৈরি অস্ত্র শিশুসহ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করছে। দেশের বাইরে সংঘাতে আমাদের দেশের অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। এটা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।’

যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কর্নওয়াল কাউন্টিতে শুক্রবার থেকে টানা তিন দিনব্যাপী সম্মেলনে বসেছেন জি-সেভেনের নেতারা।

করোনাভাইরাস সৃষ্ট বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় করণীয় পদক্ষেপ নিয়ে জি-সেভেনভুক্ত সাত দেশ কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

১০ মে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের টানা ১১ দিনের বিমান হামলায় ২৫৩ ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়। এদের মধ্যে ৬৬টি শিশু রয়েছে। বিমান হামলায় গাজা ভূখণ্ডের বাড়িঘরসহ অনেক স্থাপনা ধূলিসাৎ হয়।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের
ঢাকায় ফিলিস্তিন দূতাবাসে অনুদানের ঢেউ
ইসরায়েলের সমর্থনে তেল আবিবে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী
গাজায় অস্ত্রবিরতির আশা হামাসের, উল্টো বক্তব্য নেতানিয়াহুর
গাজা ইস্যুতে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ফ্রান্স

শেয়ার করুন

ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন: বিশ্বনেতাদের প্রতি ইমরান

ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন: বিশ্বনেতাদের প্রতি ইমরান

ইসলামবিদ্বেষ বন্ধে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ছবি: এএফপি

সাক্ষাৎকারে ইমরান বলেন, ‘কানাডার ঘটনায় পাকিস্তানের সবাই মর্মাহত হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে আমরা নিহতদের পারিবারিক ছবি দেখেছি। পরিবারটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোয় পাকিস্তানিদের মনে গভীর প্রভাব পড়েছে।’

ট্রাকচাপায় কানাডার এক মুসলমান পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় বিদ্বেসপ্রসূত বক্তব্য ও ইসলামবিদ্বেষ বন্ধে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

কানাডাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিবিসির প্রধান রাজনৈতিক প্রতিনিধি রোসমেরি বারটনকে শনিবার দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ আহ্বান জানান বলে ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে ইমরান বলেন, ‘কানাডার ঘটনায় পাকিস্তানের সবাই মর্মাহত হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে আমরা নিহতদের পারিবারিক ছবি দেখেছি। পরিবারটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোয় পাকিস্তানিদের মনে গভীর প্রভাব পড়েছে।’

ইমরান বলেন, সম্প্রতি পশ্চিমা দেশগুলোতে মুসলমানদের ওপর হামলার ধরন অনলাইনে উগ্রবাদের দিকে নজর দেয়ার দাবি জানাচ্ছে।

অনলাইনে উগ্রবাদ বলতে কী বোঝানো হচ্ছে, জানতে চাইলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি, এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত। অনলাইনে বেশ কিছু বিদ্বেষমূলক ওয়েবসাইট রয়েছে, যেগুলো মানুষের ভেতর ঘৃণার জন্ম দিচ্ছে। এসব বন্ধে আন্তর্জাতিক মহলের এগিয়ে আসা জরুরি।’

কানাডার অন্টারিও প্রদেশের লন্ডন শহরে রোববার সন্ধ্যায় পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত পরিবারের ওপর ট্রাক উঠিয়ে দেয়া হয়। ওই ঘটনায় পরিবারটির চার সদস্য নিহত হয়। গুরুতর আহত হয় পরিবারের নয় বছরের এক ছেলে।

কানাডা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, পরিবারটি মুসলমান হওয়ায় তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ২০০৭ সালে ওই পরিবার পাকিস্তান থেকে কানাডায় পাড়ি দেয়।

ভয়াবহ ওই ঘটনার পর টুইটবার্তায় দুঃখ প্রকাশ করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

তিনি বলেন, ‘অন্টারিওতে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মুসলমান পরিবারকে হত্যা করা হয়েছে জেনে বিমর্ষ বোধ করছি। এমন ঘৃণ্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এটাই জানান দিচ্ছে, পশ্চিমা দেশে ইসলামবিদ্বেষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

সিবিসিকে ইমরান জানান, কানাডার প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোর সঙ্গে এ নিয়ে তার কথা হয়েছে। অনলাইনে ঘৃণা ও ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গুরুত্ব বোঝেন ট্রুডো। বিশ্বের অন্য নেতাদের প্রতি ইসলামবিদ্বেষ বন্ধে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে বিশ্বনেতারা যে পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন, তা যেন বাস্তবায়ন করা হয়।’

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের
ঢাকায় ফিলিস্তিন দূতাবাসে অনুদানের ঢেউ
ইসরায়েলের সমর্থনে তেল আবিবে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী
গাজায় অস্ত্রবিরতির আশা হামাসের, উল্টো বক্তব্য নেতানিয়াহুর
গাজা ইস্যুতে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ফ্রান্স

শেয়ার করুন

স্বর্ণের দাম আরও বাড়ার আভাস

স্বর্ণের দাম আরও বাড়ার আভাস

মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা পর্যায়ে স্বর্ণের দাম প্রতিদিনই ছিল ঊর্ধ্বমুখী। ফলে দেশটির স্বর্ণ খাত ১৩ বছরের মধ্যে রেকর্ড সর্বোচ্চ বার্ষিক দরবৃদ্ধি দেখতে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মুদ্রাস্ফীতি অপ্রত্যাশিত রূপ নেয়ায় আগামী কয়েক মাসে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ব্যাপক বাড়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা পর্যায়ে স্বর্ণের দাম প্রতিদিনই ছিল ঊর্ধ্বমুখী। ফলে দেশটির স্বর্ণ খাত ১৩ বছরের মধ্যে রেকর্ড সর্বোচ্চ বার্ষিক দরবৃদ্ধি দেখতে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দুবাইভিত্তিক দৈনিক খলিজ টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রে গত মাসে ভোক্তা পর্যায়ের সূচকে (সিপিআই) স্বর্ণের মূল্য বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ।

এর আগে এপ্রিলে এ সূচক বৃদ্ধির হার ছিল শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ, যা ২০০৯ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ।

দুবাইয়ের আর্থিক পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান সেঞ্চুরি ফাইন্যান্সিয়ালের বিনিয়োগবিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা বিজয় ভালেচা বলেন, ‘সিপিআই সূচকে প্রত্যাশার বিপরীত ধারার মধ্যেই গত সপ্তাহে স্বর্ণের দামে মিশ্র প্রবণতা ছিল। অর্থাৎ কিছু দেশে দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও অনেক জায়গায় ছিল নিম্নমুখী।

‘মুদ্রাস্ফীতির বিপরীতে অর্থনীতির রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচিত স্বর্ণ। বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি কল্পনার চেয়েও বেশি বাড়ছে বলে তথ্য পাচ্ছি আমরা। এ কারণেই স্বর্ণের দাম বাড়ছে এবং এটি সুখবর।’

বিজয় ভালেচা আরও বলেন, ‘এ অঞ্চলে ১ হাজার ৮৪৫ থেকে ১ হাজার ৮৫০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে স্বর্ণের দাম, যা ১ হাজার ৯১০ ডলারে গিয়ে ঠেকবে বলে স্পষ্ট ধারণা পাচ্ছি আমরা।’

দুবাইয়ে অনেক মূল্যের এ ধাতুর দর ১ দশমিক ১২ শতাংশ কমে শুক্রবার আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৮৭৬ দশমিক ৮৭ ডলারে পৌঁছায়। আউন্সপ্রতি দাম কমে ২১ দশমিক ২১ ডলার।

দুবাই গোল্ড অ্যান্ড জুয়েলারি গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি গ্রাম বিক্রি হয়েছে ২২৭ দশমিক ৫ দিরহামে। ২২ ক্যারেট ২১৩ দশমিক ৭৫ দিরহামে, ২১ ক্যারেট ২০৪ দিরহামে এবং ১৮ ক্যারেট ১৭৪ দশমিক ৭৫ দিরহামে বিক্রি হয়।

দুবাইসহ পুরো সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কমে গ্রামপ্রতি গড়ে ২২৭ দশমিক ৫ দিরহাম হয়েছে।

ভালেচা বলেন, এখন পর্যন্ত ২২৪ দিরহামের কমে এ দর নামেনি। আগামী সপ্তাহেই এ দাম লাফিয়ে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরএম ক্যাপিটাল অ্যানালিটিকসের প্রতিষ্ঠাতা ও জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক রাশেদ হাজিয়েভের মতে, স্বর্ণের দাম এরই মধ্যে বেড়ে ১ হাজার ৮৫৫ থেকে ১ হাজার ৮৭০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে।

দ্রুতই এ দাম ১ হাজার ৯৫০ থেকে ১ হাজার ৯৭৫ ডলারে গিয়ে ঠেকবে বলে আভাস দিয়েছেন তিনি।

গত বছরের মার্চে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বড় ধরনের সংটের আশঙ্কায় চীনসহ বিভিন্ন দেশের বায়াররা স্বর্ণ কিনে মজুত রাখতে শুরু করে।

চাহিদা বাড়ায় সে সময় স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ চূড়ায় ওঠে। তখন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স (৩১.১০৩৪৭৬৮ গ্রাম) স্পট গোল্ড ২ হাজার ৬৩ ডলার পর্যন্ত বিক্রি হয়। পরে অবশ্য তা কমে আসে।

বাংলাদেশের বাজারে সর্বশেষ স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয় গত ২৩ মে। সে সময় সব ধরনের স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ৪১ টাকা করে বাড়ানো হয়।

সে অনুযায়ী, দেশে এখন প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণ ৭৩ হাজার ৪৮৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ৭০ হাজার ৩৩৪ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের দাম ৬১ হাজার ৫৮৬ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ৫১ হাজার ২৬৩ টাকা।

তার ১২ দিন আগে ১০ মে স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ৩৩২ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাজারে দাম বাড়ানো হয় বলে জানিয়েছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।

গত বছরের আগস্টে দেশের বাজারে স্বর্ণের ভরি ৭৭ হাজার ২১৬ টাকায় উঠেছিল, যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এরপর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে স্থানীয় বাজারেও স্বর্ণের দাম ওঠানামা করেছে।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের
ঢাকায় ফিলিস্তিন দূতাবাসে অনুদানের ঢেউ
ইসরায়েলের সমর্থনে তেল আবিবে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী
গাজায় অস্ত্রবিরতির আশা হামাসের, উল্টো বক্তব্য নেতানিয়াহুর
গাজা ইস্যুতে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ফ্রান্স

শেয়ার করুন

মহাকাশে বেজোসের সঙ্গী হতে খরচ ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার

মহাকাশে বেজোসের সঙ্গী হতে খরচ ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার

মহাকাশ প্রতিষ্ঠান ব্লু অরিজিনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস।

নিলামে বিজয়ী ব্যক্তির নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি ব্লু অরিজিন। তবে মহাকাশে ভ্রমণের সঙ্গী হতে তাকে খরচ করতে হচ্ছে ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার। নিলামে বিজয়ী ওই ব্যক্তি এখন এই অর্থ তুলে দেবেন ব্লু অরিজিনের কাছে।

চাঁদে মানুষের পদার্পনের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মহাকাশে ঘুরতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জেফ বেজোস।

নিজের মহাকাশ প্রতিষ্ঠান ব্লু অরিজিনের তৈরি রকেটে এই ভ্রমণের জন্য অনেক আগেই বেজোস ঘোষণা দেন তার সঙ্গী হিসেবে নেবেন ছোটভাই মার্ক জোসেফকে।

তিন সিটের সেই মহাকাশযানে আরেকটি সিটে একজন পর্যটক নেয়ার কথা জানান। সে জন্য ব্লু অরিজিন থেকে নিলামের মাধ্যমে একজনকে নির্বাচিত করা হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়।

অবশেষে এক মাসের দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে গতকাল শনিবার সে নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। উন্মুক্ত সেই নিলামে বিজয়ী হয়ে একজন হচ্ছেন অ্যামাজন প্রধানের সফরসঙ্গী।

নিলামে বিজয়ী ব্যক্তির নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি ব্লু অরিজিন। তবে মহাকাশে ভ্রমণের সঙ্গী হতে তাকে খরচ করতে হচ্ছে ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার। নিলামে বিজয়ী ওই ব্যক্তি এখন এই অর্থ তুলে দেবেন ব্লু অরিজিনের কাছে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, নিলামে বিজয়ী ব্যক্তির নাম এখনও প্রকাশ করেনি ব্লু অরিজিন। আগামী সপ্তাহে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে তারা।

বেজোসের সঙ্গে মহাকাশ ভ্রমণে আগ্রহ দেখিয়েছে ১৪০টির বেশি দেশের মানুষ। নিলামে অংশ নিতে এর আগে ১৫৯টি দেশ থেকে ৭ হাজার ৬০০ মানুষ নিবন্ধন করেন।

নিলামটি পরিচালনা করেছে বোস্টনভিত্তিক আরআর অকশন নামের প্রতিষ্ঠান।

নিলামে প্রত্যাশা ছিল সর্বোচ্চ দাম উঠেতে পারে ৫ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে নিলামে প্রত্যাশার চেয়ে পাঁচগুণের বেশি খরচ করতে চেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

ব্লু অরিজিন এক টুইট করে জানিয়েছে, বিজয়ী নিলামকারী এই অর্থ ব্লু অরিজিন ফাউন্ডেশনে দান করবেন।

বিশ্বের শীর্ষ ধনী, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন, মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্লু অরিজিনের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জেফ বেজসের সম্পদের পরিমাণ ১৮ হাজার ৬২০ কোটি ডলার।

চদ্রাভিযানের ৫০ বছর পূর্তি হবে ২০ জুলাই। সেদিনই মহাকাশে ফ্লাইট পরিচালনা করবে ব্লু অরিজিন।

আগের সপ্তাহে বেজস এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লেখেন, ‘২০ জুলাই আমার ভাইয়ের সঙ্গে এই যাত্রা শুরু করব। এই রোমাঞ্চকর যাত্রায় আমার সঙ্গী হবে আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু।

ব্লু অরিজিনের লক্ষ্য মানুষের জন্য মহাকাশ যাত্রা সহজ করে তোলা। এ জন্য মানুষকে মহাশূন্যের ১০০ কিলোমিটার ওপরে নিয়ে যাবে ব্লু অরিজিনের মহাকাশযান। আর এর খরচ সহনীয় করতে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের
ঢাকায় ফিলিস্তিন দূতাবাসে অনুদানের ঢেউ
ইসরায়েলের সমর্থনে তেল আবিবে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী
গাজায় অস্ত্রবিরতির আশা হামাসের, উল্টো বক্তব্য নেতানিয়াহুর
গাজা ইস্যুতে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ফ্রান্স

শেয়ার করুন

কানাডায় ট্রাক হামলায় নিহত মুসলিমদের দাফন

কানাডায় ট্রাক হামলায় নিহত মুসলিমদের দাফন

কানাডার ওন্টারিও লন্ডন শহরে ট্রাক হামলায় নিহত মুসলিম পরিবারের জানাজা ও দাফন হয় শনিবার। ছবি: এএফপি

কানাডার জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিন সামনে রেখে নামাজ পড়েন স্থানীয় মুসলিমরা। এতে উপস্থিত ছিলেন কানাডায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার রাজা বশির তারার।

কানাডার অন্টারিও প্রদেশের লন্ডন শহরে শোকাবহ পরিবেশে সমাহিত হলেন বিদ্বেষপ্রসূত ট্রাক হামলায় নিহত মুসলিম পরিবারের চার সদস্য।

লন্ডনের একটি ইসলামিক সেন্টারের বাইরে স্থানীয় সময় শনিবার বিকেলে তাদের জানাজায় অংশ নেন কয়েক শ মুসল্লি।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্থানীয় প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর কর্মসূচি নেয়া হয়।

এ সময় সিবিসি নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে লন্ডনের মেয়র এড হোল্ডার বলেন, ‘শোক প্রকাশের ভাষা নেই আমাদের। একটি পরিবারের তিনটি প্রজন্মের মানুষের এভাবে হারিয়ে যাওয়া ভীষণ হৃদয়বিদারক। অপূরণীয় এ ক্ষতি উপলব্ধির চেষ্টা করছি আমরা।’

গত ৬ জুন সন্ধ্যায় লন্ডনের হাইড পার্কের কাছে রাস্তা পার হওয়ার সময় ট্রাক হামলায় প্রাণ হারান পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত পরিবারটির চার সদস্য। বেঁচে যাওয়া একমাত্র সদস্য ৯ বছরের এক ছেলেশিশু হাসপাতালে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

এরপরই কানাডার জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিন সামনে রেখে নামাজ পড়েন স্থানীয় মুসলিমরা।

এতে উপস্থিত ছিলেন কানাডায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার রাজা বশির তারার।

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় পুরো পাকিস্তান শোকস্তব্ধ। আক্রোশের বশবর্তী হয়ে হাস্যোজ্জ্বল একটি পরিবারের ওপর এমন হামলায় আমাদের মন কাঁদছে। কঠিন এই সময়ে পরিবারটির পাশে আছে পুরো জাতি।’

পরে পরিবারটির আত্মীয়-পরিজন ও বন্ধুবান্ধবদের উপস্থিতিতে সীমিত আকারে আলাদা জানাজা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ধর্মবিশ্বাসের কারণেই হামলার লক্ষ্য হয় পরিবারটি। তাদের সঙ্গে ঘাতক ট্রাকচালকের কোনো পূর্বপরিচয় ছিল না।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো একে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ আখ্যা দিলেও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কোনো অভিযোগ করা হয়নি।

অভিযুক্ত ২০ বছর বয়সী ট্রাকচালক নাথানিয়েল ভেল্টম্যানের বিরুদ্ধে চারটি হত্যা মামলা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় কানাডায় বাড়তে থাকা মুসলিমবিদ্বেষ ও ইসলামভীতির মূলোৎপাটনের ডাক উঠেছে অভিবাসীবান্ধব দেশটির সর্বস্তরে।

এ লক্ষ্যে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণে পার্লামেন্টের হাউস অফ কমন্সে শুক্রবার একটি প্রস্তাব পাস হয়। এর ফলে জুলাই মাসের শেষ দিকে এ বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে একটি শীর্ষ সম্মেলন হবে। এতে অংশ নেবেন কেন্দ্রীয় ও সব প্রদেশের শীর্ষ রাজনীতিবিদ, আইনপ্রণেতা ও সরকারি কর্মকর্তারা।

কানাডার সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা চলতি বছরের মার্চে জানিয়েছে, ২০১৯ সালে মুসলমানদের ওপর ১৮১টি হামলার ঘটনা নথিবদ্ধ করে পুলিশ। ২০১৮ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৬৬। কেবল ধর্মপরিচয়ের কারণে হামলার শিকার হন তারা।

তবে কানাডার ইতিহাসে মুসলমানদের ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাটি হয় ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে। কিউবেকের একটি মসজিদে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ছয়জনকে হত্যা করে ঘাতক।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের
ঢাকায় ফিলিস্তিন দূতাবাসে অনুদানের ঢেউ
ইসরায়েলের সমর্থনে তেল আবিবে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী
গাজায় অস্ত্রবিরতির আশা হামাসের, উল্টো বক্তব্য নেতানিয়াহুর
গাজা ইস্যুতে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ফ্রান্স

শেয়ার করুন