গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণে চীনের নতুন রেকর্ড

গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণে চীনের নতুন রেকর্ড

চীনের পূর্ব জিয়াংশু প্রদেশে একটি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র। ছবি: এএফপি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে বিশ্বের মোট গ্রিনহাউজ গ্যাসের ২৭ শতাংশ নিঃসরণ করেছে চীন। ওই বছর দেশটি প্রথমবারের মতো সব উন্নয়নশীল দেশের মোট গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের পরিমাণকেও অতিক্রম করেছে।

পৃথিবীর সব উন্নয়নশীল দেশ মিলে যে পরিমাণ গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ করে, চীন একাই তার চেয়ে বেশি গ্যাস নিঃসরণ করে বলে উঠে এসেছে এক গবেষণা প্রতিবেদনে

এর আগে ২০০৬ সালে পরিবেশ দূষণকারী গ্রিনহাউজ গ্যাস কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে প্রথম অবস্থানে এসেছিল দেশটি।

শুক্রবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বৈশ্বিক অর্থনীতি ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা রোডিয়াম গ্রুপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে একাই বৈশ্বিক উষ্ণতার জন্য দায়ী বিশ্বের মোট গ্রিনহাউজ গ্যাসের ২৭ শতাংশ নিঃসরণ করেছে চীন। ওই বছর দেশটি প্রথমবারের মতো সব উন্নয়নশীল দেশের মোট গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের পরিমাণকেও অতিক্রম করেছে। গত এক দশকে চীনের গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ বেড়েছে ২৫ শতাংশ।

রোডিয়াম গ্রুপের গবেষণায় অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভলপমেন্টের (ওইসিডি) সদস্য দেশগুলোকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এদের মধ্যে ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়ামসহ কয়েকটি ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশও রয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে চীনের পরেই গ্রিনহাউজ নিঃসরণে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির গ্রিনহাউজ নিঃসরণের পরিমাণ ছিল ১১ শতাংশ, যেখানে তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারতের নিঃসরণ করেছে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশ চীন। সেই হিসাবে মাথাপিছু গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণে দেশটি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। তবে গত দুই দশকে চীনের মাথাপিছু গ্রিনহাউজ নিঃসরণও তিনগুণ বেড়েছে।

গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের ইতিহাসে শিল্প বিপ্লবের পর ২০১৯ সাল পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গ্যাস নিঃসরণ করেছে ওইসিডিভুক্ত দেশগুলি।

রোডিয়ামের গবেষকরা বলছেন, ‘গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণে চীন কিছু দিন আগে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অতিক্রম করলেও গত কয়েক শতাব্দী ধরে এই দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি নিঃসরণকারী।’

গ্রিনহাউজ গ্যাসের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ায় মেরু অঞ্চলের বরফ গলে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। এতে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বিশ্বের অনেক দেশ। একই সঙ্গে আফ্রিকার মরু অঞ্চলে বাড়ছে খরার তীব্রতা।

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনহাউজ গ্যাস কমানোর বিষয়ে কোনো ঐক্যমতে না আসতে পারলে জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকানো কঠিন হয়ে উঠবে।

২০৬০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে চীন। অন্যদিকে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় করা প্যারিস চুক্তিতে ফিরেছে যুক্তরাষ্ট্র।

আরও পড়ুন:
জলবায়ু পরিবর্তন: পৃথিবী রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর চার প্রস্তাব

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নাগাল্যান্ডে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১২ গ্রামবাসী নিহত

নাগাল্যান্ডে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১২ গ্রামবাসী নিহত

নাগাল্যান্ডে জঙ্গি ভেবে ১২ সাধারণ মানুষকে গুলি করে হত্যা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ছবি: বিবিসি

শনিবার রাতে নাগাল্যান্ডের মন জেলার তিরু-ওটিং রোডে সন্ত্রাস দমন অভিযান চালাচ্ছিল নিরাপত্তা বাহিনী। সে সময় একটি মিনি পিকআপ ভ্যানে করে বাড়ি ফিরছিল একদল সাধারণ মানুষ। অনুপ্রবেশকারী ভেবে তাদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে তাদের মধ্যে ১২ জন নিহত হয়।

সন্ত্রাস দমন অভিযানে বেরিয়ে ভুলবশত ‘অনুপ্রবেশকারী জঙ্গি’ ভেবে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে ১২ জন গ্রামবাসী নিহত হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে ভারত-মিয়ানমার সীমান্তের কাছে নাগাল্যান্ডের মন জেলার ওটিং গ্রামে। এ ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে নাগাল্যান্ড প্রশাসন।

নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেইফিও রিও এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে টুইট করেছেন।

তিনি লেখেন, ‘ওটিংয়ে গ্রামবাসীর মৃত্যুর ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক।’

মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন, উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী দোষীরা শাস্তি পাবে বলে জানান তিনি।

নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে অসম রাইফেলসের পক্ষ থেকে বিবৃতি দেয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হবে। দোষীদের আইন অনুযায়ী শাস্তি দেয়া হবে।’

স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার রাতে নাগাল্যান্ডের মন জেলার তিরু-ওটিং রোডে সন্ত্রাস দমন অভিযান চালাচ্ছিলেন নিরাপত্তা বাহিনী। সে সময় একটি মিনি পিকআপ ভ্যানে করে বাড়ি ফিরছিলেন একদল সাধারণ মানুষ। অনুপ্রবেশকারী ভেবে তাদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে তাদের মধ্যে ১২ জন নিহত হয়।

এদিকে গ্রামের লোকজন তাদের পরিজনদের ফিরে আসতে দেরি দেখে খুঁজতে বেরিয়ে দেখে মিনি পিকআপ ভ্যান ভর্তি লাশ। এ ঘটনায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দারা।

নিরাপত্তা বাহিনীকে ঘিরে ধরে গ্রামবাসী বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। বাহিনীর তিনটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

এ সময় নিরাপত্তা বাহিনী আত্মরক্ষার্থে গুলি চালালে সাতজন স্থানীয় বাসিন্দা আহত হয়।

সেখানে একজন বিএসএফ জওয়ানেরও মৃত্যু হয়েছে বলে অসম রাইফেলসের বিবৃতিতে জানানো হয়।

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

রোববারের টুইটে তিনি বলেন, ‘ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হবে। নিহতদের পরিবার বিচার পাবে।’

আরও পড়ুন:
জলবায়ু পরিবর্তন: পৃথিবী রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর চার প্রস্তাব

শেয়ার করুন

এরদোয়ানকে হত্যাচেষ্টা ভণ্ডুলের দাবি

এরদোয়ানকে হত্যাচেষ্টা ভণ্ডুলের দাবি

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান

এরই মধ্যে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করেছে তুর্কি পুলিশের বোমা নিস্ক্রিয়কারী দল। জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে কাজ শুরু করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে হত্যার চেষ্টা নসাৎ করে দেয়ার দাবি করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।

জেরুজালেম পোস্টের বরাতে তুর্কি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, শনিবার প্রেসিডেন্টকে হত্যাচেষ্টার একটি চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিয়েছেন তুর্কি গোয়েন্দারা।

এরদোয়ানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিতব্য একটি শোভাযাত্রায় তার নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত পুলিশের একটি গাড়ি থেকে শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করে গোয়েন্দারা।

তুরষ্কের দক্ষিণের শহর সিরতে ওই শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল। শোভাযাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ আগেই ঘটনাস্থল থেকে ওই বোমা উদ্ধার করা হয়।

এরই মধ্যে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করেছে তুর্কি পুলিশের বোমা নিস্ক্রিয়কারী দল। জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে কাজ শুরু করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো।

এ ঘটনা এমন সময় ঘটলো, যখন অর্থনৈতিক বিভিন্ন ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান তার জনপ্রিয়তা হারাতে শুরু করেছেন।

দেশটিতে গত এক বছরে বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে লিরার মান ৪৪ শতাংশ কমে গেছে। ফলে দেশটিতে ভোগ্যপণ্যের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে।

২০১৬ সালে এরদোয়ানকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য সেনাবাহিনীর একাংশ অভ্যুত্থানের চেষ্টা করে। সে ঘটনায় কমপক্ষে ২৯০ জন নিহত ও ১ হাজার ৪৪০ জন আহত হন।

তুরস্কের পার্লামেন্ট ও রাষ্ট্রপতির প্রাসাদেও সে সময় বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। তারপরও সফল হয়নি অভ্যুথানচেষ্টা।

ওই অভ্যুত্থানচেষ্টার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত তুরস্কের আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক নেতা ফেতহুল্লাহ গুলেনকে দায়ী করে থাকে এরদোয়ান সরকার। তবে গুলেন তা অস্বীকার করে অভ্যুথানচেষ্টার নিন্দা জানান।

আরও পড়ুন:
জলবায়ু পরিবর্তন: পৃথিবী রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর চার প্রস্তাব

শেয়ার করুন

ভাইয়ের যৌন কেলেঙ্কারিতে চাকরি গেল সিএনএন উপস্থাপকের

ভাইয়ের যৌন কেলেঙ্কারিতে চাকরি গেল সিএনএন উপস্থাপকের

সিএনএনের সংবাদ উপস্থাপক ও সংবাদদাতা ক্রিস কুওমো। ছবি: সংগৃহীত

ক্রিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করা নারীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে নিজের অবস্থান এবং নিউজ মিডিয়া আউটলেটগুলো ব্যবহার করেছিলেন।

যৌন অসদাচরণের অভিযোগ মোকাবিলায় ভাই নিউ ইয়র্কের সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমোকে সহায়তা করায় বরখাস্ত হলেন সিএনএনের অভিজ্ঞ সংবাদ উপস্থাপক ও সংবাদদাতা ক্রিস কুওমো।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভাই অ্যান্ড্রু কুওমোর মামলায় ক্রিস কুওমোর জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে সিএনএন কর্তৃপক্ষ।

ক্রিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করা নারীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে নিজের অবস্থান এবং নিউজ মিডিয়া আউটলেটগুলো ব্যবহার করেছিলেন।

সিএনএন অধিকতর তদন্তের সুবিধার্থে গত সপ্তাহের শুরুতেই ৫১ বছর বয়সী ক্রিসকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়।

ক্রিস সিএনএনের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘প্রাইম টাইম নিউজ শো’ এর উপস্থাপক ছিলেন। আইন সংস্থার সহায়তা নিয়ে সিএনএন কর্তৃপক্ষ তাকে বরখাস্ত করেছে।

তবে ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।

ক্রিস আগেই স্বীকার করেছিলেন, ভাইকে জনসংযোগ দৃষ্টিকোণ থেকে অভিযোগগুলো পরিচালনার বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে সিএনএনের কিছু নিয়ম তিনি ভঙ্গ করেছেন।

সিএনএন থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর টুইটারে এক বিবৃতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন ক্রিস। তিনি বলেন, ‘আমি চাইনি যে, সিএনএনে এভাবে আমার সময় শেষ হোক। তবে আমি ইতিমধ্যে বলেছি কেন এবং কীভাবে আমি আমার ভাইকে সাহায্য করেছি।’

ক্রিসের ভাই নিউ ইয়র্কের সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমোর বিরুদ্ধে ২৯ অক্টোবর নিউ ইয়র্কের একটি আদালতে যৌন অপরাধের অভিযোগে মামলা করা হয়। রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের তদন্তে অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে অধস্তন নারী কর্মীদের বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণ এবং রাজ্যের আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়।

এর জেরে ৬৩ বছর বয়সী অ্যান্ডু কুওমোকে গভর্নর পদ থেকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

অ্যান্ড্রু কুওমো একজন ডেমোক্রেট নেতা। চলমান মহামারি ইস্যুতে নিউ ইয়র্ক কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে সে সম্পর্কে তিনি ব্রিফ করতেন। প্রায়ই তার ভাইয়ের শোতে উপস্থিত হতেন।

তাদের বাবা প্রয়াত মারিও কুওমোও নিউ ইয়র্কের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আরও পড়ুন:
জলবায়ু পরিবর্তন: পৃথিবী রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর চার প্রস্তাব

শেয়ার করুন

বিয়ে বাড়িগামী বাস নদীতে, নিহত ২৩

বিয়ে বাড়িগামী বাস নদীতে, নিহত ২৩

এনজিউ নদীর ওপর বন্যায় ডুবে যাওয়া সেতু পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বাসটি। ছবি: সংগৃহীত

কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরের এনজিউ নদীর ওপর বন্যায় হালকা ডুবে থাকা সেতু পার হতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটিতে কতজন যাত্রী ছিল তা জানা যায়নি।

কেনিয়ায় বিয়ে বাড়ি যাওয়ার পথে নদীতে ডুবে একটি বাসের অন্তত ২৩ যাত্রী নিহত হয়েছেন। তাদের বেশির ভাগই ক্যাথলিক চার্চের গায়ক দলের সদস্য।

স্থানীয় সময় শনিবার দেশটির রাজধানী নাইরোবি থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরের এনজিউ নদীর ওপর বন্যায় ডুবে যাওয়া সেতু পার হতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

কিতুই শহরের গভর্নর চ্যারিটি এনগিলু জানিয়েছেন, কেনিয়ার পূর্বাঞ্চলের বন্যায় এনজিউ নদীর ওপর থাকা সেতুটি ডুবে যায়। সেই সেতু পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয় বাসটি।

কর্তৃপক্ষের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, বাসটি থেকে এ পর্যন্ত ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হয়েছে, ভেতরে আরও মরদেহ আছে। ডুবে যাওয়া বাসটি থেকে চারজন শিশুসহ ১৭ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

বাসটিতে করে কিতুই শহরের মুইঙ্গি ক্যাথলিক চার্চের গায়ক দলের সদস্যরা তাদের এক সহকর্মীর বিয়েতে যাচ্ছিলেন।

বাসটিতে যাত্রীর সংখ্যা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রেডক্রস ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

দেশটির ডেপুটি প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুতো এ ঘটনায় নিহতদের প্রতি শোক জানিয়েছেন। কেনিয়ার বেশির ভাগ অঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে রাস্তায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের জন্য গাড়িচালকদের আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
জলবায়ু পরিবর্তন: পৃথিবী রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর চার প্রস্তাব

শেয়ার করুন

ইন্দোনেশিয়ায় অগ্ন্যুৎপাতে মৃত্যু বেড়ে ১৩

ইন্দোনেশিয়ায় অগ্ন্যুৎপাতে মৃত্যু বেড়ে ১৩

ইন্দোনেশিয়ায় অগ্নুৎপাতের লাভায় আটকে পড়া গাড়ি। ছবি: এএফপি

আব্দুল মুহারি বলেন, ‘রোববার সকাল পর্যন্ত ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও অনেকে থাকতে পারে। উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।’

ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভা দ্বীপে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে প্রাণহানি বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া আরও মরদেহ থাকতে পারে বলে উদ্ধারকারীদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে দেশটির ন্যাশনাল ডিজাস্টার মাইগ্রেশন এজেন্সির মুখপাত্র।

সংবাদমাধ্যম এএফপিকে আব্দুল মুহারি বলেন, ‘রোববার সকাল পর্যন্ত ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও অনেক থাকতে পারে। উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।’

এ সময় ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান মুহারি।

শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মাউন্ট সেমেরুতে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আশপাশের এলাকা কালো ধোঁয়া ও ছাইয়ে ছেয়ে যায়। এলাকা ছেড়ে মানুষজন নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে শুরু করে।

আগ্নেয়গিরির ছাই ১৫ হাজার মিটার ওপরে ওঠায় সে বিষয়ে এয়ারলাইনসকে সতর্ক করা হয়েছে। এলাকায় জনসাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আশপাশের গ্রামগুলো ধ্বংসাবশেষে ঢেকে গেছে। ঘন ধোঁয়া সূর্যকে ঢেকে ফেলছে। পুরো এলাকা অন্ধকারে ছেয়ে গেছে।

স্থানীয় কর্মকর্তা তরিকুল হক বলেন, ‘ওই এলাকা থেকে মালাং শহরের একটি সড়ক ও ব্রিজ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অগ্ন্যুৎপাতের কারণে জরুরি অবস্থা তৈরি হয়েছে।’

সমুদ্র থেকে মাউন্ট সেমেরুর উচ্চতা ৩ হাজার ৬৭৬ মিটার। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে এই আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনায় কয়েক হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।

আরও পড়ুন:
জলবায়ু পরিবর্তন: পৃথিবী রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর চার প্রস্তাব

শেয়ার করুন

ইন্দোনেশিয়ায় অগ্ন্যুৎপাতে প্রাণহানি, এলাকা ছাড়ছে মানুষ

ইন্দোনেশিয়ায় অগ্ন্যুৎপাতে প্রাণহানি, এলাকা ছাড়ছে মানুষ

জাভা দ্বীপে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পর ছড়িয়ে পড়েছে ছাই। ছবি: এএফপি

অগ্ন্যুৎপাতে আগ্নেয়গিরির ঘন ছাইয়ে সূর্য আড়ালে পড়েছে। এলাকার বাসিন্দারা বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। তাদের পেছনে উড়ছে অগ্ন্যুৎপাতের ছাই। এমন কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। 

ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভা দ্বীপে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে একজনের প্রাণহানির পাশাপাশি অর্ধশত মানুষ আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মাউন্ট সেমেরুতে এ ঘটনা ঘটে।

শনিবার সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অগ্ন্যুৎপাতের ঘন ছাইয়ে সূর্য অনেকটাই আড়ালে পড়েছে। ধোঁয়ায় ছেয়ে যাওয়া এলাকার বাসিন্দারা বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। তাদের পেছনে উড়ছে অগ্ন্যুৎপাতের ছাই। এমন কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

আগ্নেয়গিরির ছাই ১৫ হাজার মিটার ওপরে ওঠায় সে বিষয়ে এয়ারলাইন্সকে সতর্ক করা হয়েছে। এলাকায় জনসাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আশপাশের গ্রামগুলো ধ্বংসাবশেষে ঢেকে গেছে। ঘন ধোঁয়া সূর্যকে ঢেকে ফেলছে। পুরো এলাকা অন্ধকারে ছেয়ে গেছে।

স্থানীয় কর্মকর্তা তরিকুল হক বলেন, ‘ওই এলাকা থেকে মালাং শহরের একটি সড়ক ও ব্রিজ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অগ্ন্যুৎপাতের কারণে জরুরি অবস্থা তৈরি হয়েছে।’

সমুদ্র থেকে মাউন্ট সেমেরুর উচ্চতা ৩ হাজার ৬৭৬ মিটার। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে এই আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনায় কয়েক হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।

আরও পড়ুন:
জলবায়ু পরিবর্তন: পৃথিবী রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর চার প্রস্তাব

শেয়ার করুন

নারীর জোরপূর্বক বিয়েতে তালেবানের নিষেধাজ্ঞা

নারীর জোরপূর্বক বিয়েতে তালেবানের নিষেধাজ্ঞা

আফগান নারী। ফাইল ছবি

ডিক্রিতে তালেবান আরও জানিয়েছে, এখন থেকে বিধবা আফগানরা স্বামীর মৃত্যুর ১৭ সপ্তাহ পর নিজের পছন্দের কাউকে বিয়ে করতে পারবেন।

নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় আফগানিস্তানে জোরপূর্বক বিয়ে নিষিদ্ধ করেছে তালেবান প্রশাসন।

গত ৩ ডিসেম্বর এক ডিক্রি জারি করে তারা বলেছে, নারীদের ‘সম্পত্তি’ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। আর বিয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই তাদের সম্মতি থাকতে হবে।

শুধু তা-ই নয়, নির্দিষ্ট সময় পর বিধবাদের পছন্দের পাত্রকে বিয়ে করারও অনুমতি দিয়েছে আফগান প্রশাসন।

আল-জাজিরার খবর, ডিক্রিতে তালেবান প্রধান হাইবাতুল্লাহ আখুনজাদা ঘোষণা করেছেন, নারী-পুরুষ উভয়ের সমান হওয়া উচিত। আফগানিস্তানে কেউ নারীদের জোর খাটিয়ে বা চাপ প্রয়োগ করে বিয়ে করতে পারবে না।

তবে, তালেবানের নতুন নির্দেশনায় নারীদের বিয়ের ন্যূনতম বয়সসীমা উল্লেখ করা হয়নি। যদিও ইতোপূর্বে এই বয়সসীমা ১৬ বছর নির্ধারণ করা হয়েছিল।

ডিক্রিতে তালেবান আরও জানিয়েছে, এখন থেকে বিধবা আফগানরা স্বামীর মৃত্যুর ১৭ সপ্তাহ পর নিজের পছন্দের কাউকে বিয়ে করতে পারবেন।

আফগানিস্তানে দীর্ঘদিনের উপজাতীয় প্রথা অনুসারে, বিধবাকে তার প্রয়াত স্বামীর ভাই অথবা অন্য কোনো আত্মীয়কে বিয়ে করা বাধ্যতামূলক ছিল। তালেবান নেতৃত্ব ঘোষণা দিয়েছে, তারা আফগান আদালতকে নারীদের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণের নির্দেশ দিয়েছে, বিশেষ করে বিধবাদের সঙ্গে।

গত আগস্টে ক্ষমতায় আসা গোষ্ঠীটি আরও বলেছে, তারা জনগণের মধ্যে নারী অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছে। তালেবানের এ ধরনের ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই সন্তুষ্ট নারী অধিকার কর্মী ও সংগঠনগুলো।

আরও পড়ুন:
জলবায়ু পরিবর্তন: পৃথিবী রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর চার প্রস্তাব

শেয়ার করুন