ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ৬০ শতাংশ বাড়াচ্ছে ইরান

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ৬০ শতাংশ বাড়াচ্ছে ইরান

ইরানের নাতাঞ্জ পরমাণু কেন্দ্র। ছবি: এএফপি

ইসরায়েলকে ইঙ্গিত করে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেন, পরমাণু কেন্দ্রে হামলার সঙ্গে জড়িতদের জবাব দিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত করার প্রস্তুতি ইরান প্রায় সম্পন্ন করে এনেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)।

সংস্থাটি স্থানীয় সময় বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

আইএইএ এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরান বলেছে নাতাঞ্জ পরমাণু কেন্দ্রে তারা আইআর-১ সেন্ট্রিফিউজ ১,০২৪ এর বেশি সক্রিয় করবে। এ বিষয়ে কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এটি শেষ হলেই নাতাঞ্জে সেন্ট্রিফিউজ কাজ শুরু হবে।

রোববার নাতাঞ্জ পরমাণু কেন্দ্রে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইরান বলছে, এই বিস্ফোরণে ইসরায়েলের হাত রয়েছে। ওই ঘটনার পরই মঙ্গলবার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেয় ইরান, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

গত সপ্তাহে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় ২০১৫ সালে সম্পাদিত পরমাণু চুক্তির বিষয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসে জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, চীন ও রাশিয়ার প্রতিনিধি দল। এরই মধ্যে ইরানের প্রধান পরমাণু কেন্দ্রে হামলা হয়।

ইসরায়েলের সমালোচনা করে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেন, পরমাণু কেন্দ্রে হামলার সঙ্গে জড়িতদের জবাব দিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ইসরায়েল আশা করেছিল, হামলার মাধ্যমে পরমাণু চুক্তিতে ফেরার বিষয়ে ভিয়েনায় চলমান আলোচনা বাধাগ্রস্ত হবে।

এদিকে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বাড়ানোর সিদ্ধান্তে বুধবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশগুলো।

চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য এক যৌথ বিবৃতিতে বলে, ‘উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন পরমাণু অস্ত্র তৈরির গুরত্বপূর্ণ ধাপ। বেসামরিক প্রয়োজনে এত বেশি পরিমাণ ইউরেনিয়াম ইরানের দরকার নেই।’

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন বলেন, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ঘোষণা প্ররোচনামূলক। এর মাধ্যমে ভিয়েনায় পরমাণুবিষয়ক চলমান আলোচনায় ইরানের আন্তরিকতা প্রশ্নের মুখে পড়বে।

ইরানের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরব দেশটিকে এ পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এ মাত্রায় বাড়ানো কখনো শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে হতে পারে না। এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় আরও উত্তেজনা সৃষ্টি না করে চলমান আলোচনায় ইরানের গুরুত্ব দেয়া উচিত।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের ‘নাশকতার’ বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি ইরানের
পরমাণু কেন্দ্রে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট, নাশকতা বলছে ইরান
ফের পরমাণু চুক্তির শর্ত ভাঙল ইরান
বিশ্বশক্তির সঙ্গে পরমাণু বৈঠক গঠনমূলক হয়েছে: ইরান
২৫ বছরের সহযোগিতা চুক্তি ইরান-চীনের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জাল টাকা চক্রের ৪ সদস্য কারাগারে

জাল টাকা চক্রের ৪ সদস্য কারাগারে

ময়মনসিংহ থেকে গ্রেপ্তার জাল টাকা তৈরি চক্রের চার সদস্যকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উপজেলার লাহেরীপাড়া এলাকা থেকে ওই চার ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার জাল নোট জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ১৩০টি ১০০০ টাকার ও ৪০টি ৫০০ টাকার জাল নোট। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থেকে গ্রেপ্তার জাল টাকা তৈরি চক্রের চার সদস্যকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।

জেলা মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে বৃহস্পতিবার বিকেলে আসামিদের পাঠানো হয়। পরে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন জাহাঙ্গীর হোসেন রুবেল, আবু সাঈদ, শাহীন শাহিদ ও আশিকুল ইসলাম ইসাহাক। তারা ফুলবাড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

বিষয়টি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম।

এর আগে, বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উপজেলার লাহেরীপাড়া এলাকা থেকে ওই চার ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার জাল নোট জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ১৩০টি ১০০০ টাকার ও ৪০টি ৫০০ টাকার জাল নোট।

পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ।

ময়মনসিংহ ডিবির ওসি সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এ চক্রটি জাল টাকার কারবার করে আসছিল। বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে তারা জাল নোটগুলো ছড়িয়ে দিত। তাদের প্রতারণার শিকার হয়েছে অনেকে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই চার ব্যক্তিকে বুধবার বিকেলে আটক করা হয়।’

এ চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের আটকের চেষ্টা চলছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের ‘নাশকতার’ বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি ইরানের
পরমাণু কেন্দ্রে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট, নাশকতা বলছে ইরান
ফের পরমাণু চুক্তির শর্ত ভাঙল ইরান
বিশ্বশক্তির সঙ্গে পরমাণু বৈঠক গঠনমূলক হয়েছে: ইরান
২৫ বছরের সহযোগিতা চুক্তি ইরান-চীনের

শেয়ার করুন

গাজীপুরে বিক্ষোভে ভাটা, ঢাকার সঙ্গে রেল চালু  

গাজীপুরে বিক্ষোভে ভাটা, ঢাকার সঙ্গে রেল চালু  

টঙ্গী রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার রাকিবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, মহাসড়ক অবরোধ শেষে মিছিল নিয়ে ফিরছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে টঙ্গী রেল স্টেশন এলাকায় রেল সড়কে টায়ার, ঝুট, কাঠ জ্বালিয়ে অবরোধ করেন তারা। এতে সারা দেশের সঙ্গে দেড় ঘণ্টা রেল চলাচল বন্ধ থাকে।

বন্ধ থাকার দেড় ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে।

অবরোধকারীরা চলে গেলে সন্ধ্যা ৭টার দিকে রেল লাইন থেকে জ্বলন্ত টায়ার, ঝুট ও কাঠ অপসারণ করা হয়। এর পর পরই ট্রেন চলাচল স্বাভবিক হয় বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

টঙ্গী রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার রাকিবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, মহাসড়ক অবরোধ শেষে মিছিল নিয়ে ফিরছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে টঙ্গী রেল স্টেশন এলাকায় রেল সড়কে টায়ার, ঝুট, কাঠ জ্বালিয়ে অবরোধ করেন তারা। এতে সারা দেশের সঙ্গে দেড় ঘণ্টা রেল চলাচল বন্ধ থাকে। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে অবরোধকারীরা চলে গেলে রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়।

রেলের একটি সূত্র জানিয়েছে, রেল লাইনে অগ্নিসংযোগ করায় কোনো ট্রেন ঢাকায় ঢুকতে ও বের হতে পারেনি। এতে একাধিক ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে। অবরোধের মুখে আন্তঃনগর যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে টঙ্গী স্টেশন এলাকা থেকে ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে ফিরিয়ে নেয়া হয়।

এর আগে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর জেরে গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের শাস্তি চেয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের অন্তত চারটি এলাকায় অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে এই বিক্ষোভে মেয়রের পদ কেড়ে নেয়া, আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার ও আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তোলেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা।

বেলা তিনটার দিকে টঙ্গী হোসেন মার্কেট, চেরাগ আলী, স্টেশন রোড, বোর্ড বাজারে অবরোধ করেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এতে দুই দিকেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।

নেতা-কর্মীরা সরকারের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য দাবি করে বলছেন, তাদের দাবি পূরণ না হলে তারা বিক্ষোভ প্রত্যাহার করবেন না।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার সময় মেয়র ছিলেন ভারতে। গত রাতে তিনি দেশে ফিরেছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ফেসবুকে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেছেন, যে ভিডিও ছড়িয়েছে, তার পুরোটাই বানোয়াট। ‘সত্যটা’ জানিয়ে তিনি বলেছেন, যারা এই ভিডিও ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

অনলাইনে যারা এখনও ভিডিওটি পোস্ট করে রেখেছেন, তাদের সেটি সরিয়ে দেয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

মেয়রের দাবি, বঙ্গবন্ধুকে তিনি অন্তরে ধারণ করেন। তার অস্তিত্ব এবং ভালোবাসা হলেন তিনি।

গাজীপুরে বিক্ষোভে ভাটা, ঢাকার সঙ্গে রেল চালু


গাজীপুরের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে এই বানোয়াট ভিডিও ছড়ানো হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘যারা এই অন্যায় কাজ করছে আমি আইনের সহযোগিতা নিয়ে, যারা বিজ্ঞ আইনজীবী তাদের পরামর্শে আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

ফেসবুকে যারা ভিডিওটি ছড়াচ্ছেন তাদেরকে সেটি ডিলিট করে দেয়ার পরামর্শও দেন মেয়র জাহাঙ্গীর।

টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় কয়েকশ নেতা-কর্মী নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম নুরু। এ সময় তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে আমরা রাজনীতি করি। সেই মহান নেতাকে নিয়ে সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের কুরুচিপূর্ণ ও আশালীন মন্তব্যে আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। তার এই বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে অনতিবিলম্বে ক্ষমা চাইতে হবে।’

টঙ্গী থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান সরকার বাবু বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত ৩০ লাখ শহীদকে নিয়ে অসম্মানজনক বক্তব্যের কারণে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তার স্বপদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়ে ফেলেছেন। বঙ্গবন্ধু এবং দেশমাতৃকার প্রশ্নে এক বিন্দু ছাড় নয়।’

টঙ্গী থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কে এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘জাহাঙ্গীর আলম মেয়র হওয়ার পর থেকে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগকে কীভাবে ধ্বংস করা যায়, নেতা-কর্মীদের কীভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা যায় সেই অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় জাতির পিতাকে নিয়ে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন বক্তব্য দিয়েছেন। তাই আজকে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আমরা রাজপথে আন্দোলনে নেমেছি। অবিলম্বে তাকে দলের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র পদ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানাই।’

ভিডিওতে যা দেখা যায়, যা শোনা যায়

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির প্রথম দিকে মেয়র জাহাঙ্গীরকে নীল রঙের জামা পরে চেয়ারে বসে কারও সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়।

ভিডিওটির প্রথম দিকে মেয়রকে দেখা গেলে বাকি অংশে শুধু অডিও বক্তব্য শোনা যায়। কিছু কিছু অংশ ছিল অস্পষ্ট।

ভিডিওটি কে বা কারা কবে ধারণ করেছেন, সেটি জানা যায়নি। কারাই বা সেটি ফেসবুকে ছেড়েছে, সেটিও অজানা।

ভিডিওটির শুরুতে মেয়র জাহাঙ্গীরকে মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করতে শোনা যায়। তার দাবি, বঙ্গবন্ধু তার স্বার্থে এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। পাকিস্তান ভাঙার পেছনে রাষ্ট্রপতি হওয়ার বাসনা কাজ করেছে বলেও মনে করেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা।

তার ধারণা, বাংলাদেশ স্বাধীন না হয়ে ব্রিটেনের সঙ্গে থাকলে পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত জাতি থাকত এখানকার মানুষ।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের প্রসঙ্গে টেনে মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি রাসেল সাহেবকে এইখানে নিয়া ফালাইছি। আমি চাইছি রাসেল সাহেব ভুল করুক। আমি ইচ্ছা করেই চাইছি হেও মিছিলটাতে এটেন্ড করুক।’

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজমত উল্লাহ আমারে জীবনে মারার লাইগা লোক কন্টাক্ট করছে, সব করছে। এখন সে আমার কর্মী হইছে। ...আমারে জিগায় কী করছ? আমারে কয়দিন জিগাইছে কী করো, কেমনে সম্ভব? হেও সব জানে না! আমি তো খেলা জিতছি।’

জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমি মন্ত্রীরে নিয়া মাথা ঘামাই না। জাহিদ আহসান রাসেল আছে না? তারে নিয়া আমি এক মিনিটও চিন্তা করি না। খালি জাস্ট শুইনা রাখো, বিশ্বাস করার দরকার নাই। আমি চিন্তা করলাম সে তো মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠই। দরকারটা কী আমার এখানে, পরিবর্তনে কী হইব? এখানে পরিবর্তনের লাভ টা কার?’

গত তিন বছরেও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে প্যানেল মেয়র নির্বাচন করা হয়নি। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনাও চলছে। এ বিষয়ে ভিডিওটিতে মেয়রকে বলতে শোনা যায়, ‘প্যানেল মেয়র দেই না। দিলে কী হইব? আমারে কি কাউন্সিলররা মেয়র বানাইছে? আমার কি মেয়রগিরি যাইবগা? যেমন আমি এখানে প্যানেল মেয়র করি নাই। রাসেল এমপি অনেকরে মেয়র বানাইয়া দিতেছে, অনেকরে কাউন্সিলর বানাইয়া দিতেছে। প্রধানমন্ত্রী আরেকজনরে ভারপ্রাপ্ত দিব?’

বাংলাদেশের দুটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্তাব্যক্তি তার নিকটাত্মীয় উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘বাতাসটা আমার কাছে বইলা যায়।’

গাজীপুরে বিক্ষোভে ভাটা, ঢাকার সঙ্গে রেল চালু


বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি এমনকি হেফাজতের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলার কথাও বলেন মেয়র জাহাঙ্গীর।

তিনি বলেন, ‘আমি জামায়াতের সাথে চলি না? বিএনপির সাথে চলি না? অন্য পার্টি আছে না সবার সাথেই তো কথা বলি। এই যে আমার সাথে ঘণ্টা তিনেক আগেও বাবুনগরী (হেফাজতের প্রয়াত আমির) প্রায় ৪৭ মিনিট কথা বলছে। সে আসতে চায়। আমি কথা বলছি না?

‘ধীরাশ্রম, ঝাঝর, চান্দরা আছে ৮/১০ বিঘা, দিঘিরচালা আছে ১৬ বিঘা, তেলিপাড়াও আছে। আমার এখানে সাড়ে তিন শ বিঘা জমি আছে। এই নির্বাচনের সময়েও দশ হাজার কোটি টাকা আনছি।’

ভীষণ ক্ষুব্ধ গাজীপুর আওয়ামী লীগ

এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পরই বুধবার বিকেল থেকে গাজীপুরে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তারা মেয়রের বিরুদ্ধে আইনি ও দলীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তুলছেন।

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান নিউজবাংলাকে বলেন, মেয়র জাহাঙ্গীর যা বলেছেন তা রাষ্ট্রবিরোধী। এটা তারা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।

গাজীপুর আওয়ামী লীগ মেয়রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে জানিয়েছে আজমত উল্লাহ বলেন, বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতাকেও জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের ‘নাশকতার’ বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি ইরানের
পরমাণু কেন্দ্রে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট, নাশকতা বলছে ইরান
ফের পরমাণু চুক্তির শর্ত ভাঙল ইরান
বিশ্বশক্তির সঙ্গে পরমাণু বৈঠক গঠনমূলক হয়েছে: ইরান
২৫ বছরের সহযোগিতা চুক্তি ইরান-চীনের

শেয়ার করুন

৩ ফার্মেসিকে জরিমানা ৪ লাখ

৩ ফার্মেসিকে জরিমানা ৪ লাখ

গুলশানে র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত তিন ফার্মেসিকে অর্থদণ্ড দেয়। ছবি: নিউজবাংলা

র‍্যাব-৪-এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আনিসুর রহমান জানান, ফার্মেসিগুলো অনুমোদনহীন ও আমদানি নিষিদ্ধ ওষুধ বিক্রি করছিল। সে জন্য ফার্মেসিগুলোর ম্যানেজারদের অর্থদণ্ড দেয়া হয়।

অনুমোদনহীন ও আমদানি নিষিদ্ধ ওষুধ রাখায় রাজধানীর গুলশানের তিন ফার্মেসিকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

গুলশান-২ এলাকায় বৃহস্পতিবার র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান চালায়।

র‍্যাব-৪-এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আনিসুর রহমান জানান, ফার্মেসিগুলো অনুমোদনহীন ও আমদানি নিষিদ্ধ ওষুধ বিক্রি করছিল। সে জন্য ফার্মেসিগুলোর ম্যানেজারদের অর্থদণ্ড দেয়া হয়।

অভিযানের সময় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত চলা অভিযানে জান্নাত ফার্মার ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন রিজবুকে ২ লাখ, ইউনাইটেড ফার্মা ব্রাঞ্চ-১-এর ম্যানেজার শাহাদাত আলমকে দেড় লাখ ও ইউনাইটেড ফার্মা ব্রাঞ্চ-২-এর ম্যানেজার আব্দুল হামিদকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তিন ফার্মেসি থেকে জব্দ করা ওষুধ ধ্বংস করে দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের ‘নাশকতার’ বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি ইরানের
পরমাণু কেন্দ্রে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট, নাশকতা বলছে ইরান
ফের পরমাণু চুক্তির শর্ত ভাঙল ইরান
বিশ্বশক্তির সঙ্গে পরমাণু বৈঠক গঠনমূলক হয়েছে: ইরান
২৫ বছরের সহযোগিতা চুক্তি ইরান-চীনের

শেয়ার করুন

সহজ হলো ডলার এনডোর্সমেন্ট

সহজ হলো ডলার এনডোর্সমেন্ট

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের সার্কুলারে বলা হয়েছে, পাসপোর্টের মেয়াদ যত বছর থাকবে, তত বছরের জন্য একসঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্ট করা যাবে। তবে বাৎসরিক সীমা ১২ হাজার ডলার অতিক্রম করতে পারবে না। ভ্রমণ কোটার অব্যবহৃত অংশ পরবর্তী বছরে স্থানান্তর করা যাবে না।

বি‌দেশ ভ্রমণে ডলার এনডোর্সমেন্ট সহজ করে‌ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থে‌কে পাসপোর্টের মেয়াদ যত‌ বছর থাক‌বে, তত বছ‌রের জন্য একস‌ঙ্গে বৈ‌দে‌শিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্ট করা‌ যা‌বে। তবে নিয়ম অনুযায়ী বছরে ১২ হাজার ডলারের বেশি খরচ করতে পারবে না।

বৃহস্প‌তিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ সার্কুলার জারি করেছে।

সার্কুলারে বলা হ‌য়ে‌ছে, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকসংশ্লিষ্ট নিবাসী বাংলাদেশি ব্যক্তির অনুকূলে তার পাসপোর্টের মেয়াদ থাকাকালীন আন্তর্জাতিক কার্ডে বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় ও নির্ধারণ করতে পারবে। ত‌বে এডি ব্যাংককে নির্দিষ্ট কয়েকটি শর্ত মেনে চলতে হবে।

বাৎসরিক সীমা ১২ হাজার ডলার অতিক্রম কর‌তে পার‌বে না। ভ্রমণ কোটার অব্যবহৃত অংশ পরবর্তী বছরে স্থানান্তর করা যাবে না।

এ ছাড়া বিদেশে চাকরি ও ইমিগ্র্যান্ট হিসেবে কিংবা শিক্ষার জন্য বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের মেয়াদকালীন এনডোর্সমেন্ট করা যাবে না বলে সার্কুলারে বলা হয়েছে।

তবে সম্পূরক কার্ডধারী ব্যক্তি তার ভ্রমণ কোটার আওতায় এ সুবিধা পাবে।

বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভ্রমণ কোটা প্রযোজ্য হয়ে থাকে। তবে নির্দিষ্ট ভ্রমণ পরবর্তী বছরের মধ্যে পড়লে ৩১ ডিসেম্বর সময় পর্যন্ত একটি কোটা এবং ১ জানুয়ারি থেকে অন্য বছরের কোটা ব্যবহার করতে হবে।

পাসপোর্টের মেয়াদ থাকাকালীন বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় বা নির্ধারণ সুবিধা গ্রহণ করা না হলে কার্ডের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়ের ক্ষেত্রে ঘটনাত্তর এনডোর্সমেন্ট করার সুবিধা রাখা হয়েছে।

যৌক্তিক কারণে কার্ডের মাধ্যমে ভ্রমণ ব্যয় বাৎসরিক কোটা সীমা অতিক্রম করলে ওই অর্থ গ্রাহকের নিবাসী বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবের স্থিতি দ্বারা সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ জাতীয় হিসাব না থাকলে পরবর্তী বছরের ভ্রমণ কোটার সঙ্গে সর্বোচ্চ ৫০০ ডলার সমন্বয় করা যাবে।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের ‘নাশকতার’ বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি ইরানের
পরমাণু কেন্দ্রে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট, নাশকতা বলছে ইরান
ফের পরমাণু চুক্তির শর্ত ভাঙল ইরান
বিশ্বশক্তির সঙ্গে পরমাণু বৈঠক গঠনমূলক হয়েছে: ইরান
২৫ বছরের সহযোগিতা চুক্তি ইরান-চীনের

শেয়ার করুন

৬৭ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি: গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা

৬৭ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি: গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা

রাজধানীর মিরপুরে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়। ফাইল ছবি

২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তদন্ত করে এই ফাঁকি উদঘাটন করা হয়। এই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি সেবা থেকে প্রাপ্ত আয়ের বিপরীতে ৩৪ হাজার ৯১০ টাকা ভ্যাট পরিশোধ করেছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির দেয়ার কথা ছিল ৩০ কোটি ৩৬ লাখ ৮৩ হাজার ৬০০ টাকা। উৎসে ভ্যাট বাবদ ৮ কোটি ৫৪ লাখ ২০ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা ভ্যাট পরিশোধ করেছে। কিন্তু দেয়ার কথা ছিল প্রায় ২৪ কোটি টাকা।

গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে ৬৭ কোটি টাকর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ফাঁকি উদঘাটন করার পর তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন ভ্যাট গোয়েন্দা ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান।

তিনি জানান, ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার কায়সারের নেতৃত্বে একটি দল ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তদন্ত করে এই ফাঁকি উদঘাটন করে।

তবে এ বিষয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোর্শেদ কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

গ্রামীণ ব্যাংক একটি নন-ব্যাকিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করে না। নিজস্ব আইন দ্বারা পরিচালিত হয়। নোবেল বিজয়ী ড. মুহম্মদ ইউনূস এই ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটির কোনো ভ্যাট নিবন্ধন নেই, যা ভ্যাট আইনের পরিপন্থি।

রাজধানী ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর হতেই ব্যাংকিং ও নন-ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে আসছে। কিন্তু ভ্যাট নিবন্ধন গ্রহণ করেনি।

এনবিআর বলেছে, গ্রামীণ ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা হিসেবে সেবার বিপরীতে কমিশন, ফি বা চার্জ গ্রহণ করে থাকে। যে কারণে ভ্যাট নিবন্ধন গ্রহণ বাধ্যতামূলক।

গ্রামীণ ব্যাংক মূলত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণ দিয়ে থাকে। এসব ঋণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন খরচের বিপরীতে চার্জ, ফি ও কমিশনের ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রযোজ্য।

ভ্যাট গোয়েন্দারা বলেছেন, তদন্তকালে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক অডিট প্রতিবেদন এবং অন্যান্য দলিল যাচাই করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য আমলে নেয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি তদন্ত চলাকালে সেবা থেকে প্রাপ্ত আয়ের বিপরীতে ৩৪ হাজার ৯১০ টাকা ভ্যাট পরিশোধ করেছে।

কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির দেয়ার কথা ছিল ৩০ কোটি ৩৬ লাখ ৮৩ হাজার ৬০০ টাকা। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির ফাঁকির পরিমাণ দাঁড়ায় ৩০ কোটি ৩৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬৯০ টাকা।

যথাসময়ে সরকারি কোষাগারে জমা না দেয়ায় জরিমানা দাঁড়ায় প্রায় ১৪ কোটি টাকা।

প্রতিষ্ঠানটি তদন্ত মেয়াদে বিভিন্ন খরচের বিপরীতে উৎসে ভ্যাট বাবদ ৮ কোটি ৫৪ লাখ ২০ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা ভ্যাট পরিশোধ করেছে। কিন্তু দেয়ার কথা ছিল প্রায় ২৪ কোটি টাকা।

এ ক্ষেত্রে অপরিশোধিত ভ্যাট ১৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। যথাসময়ে পরিশোধ না করায় জরিমানা হিসেবে আসে ৭ কোটি ২৩ লাখ ২৬ হাজার ৯৭৭ টাকা।

অর্থাৎ সব মিলিয়ে অপরিশোধিত ভ্যাটের পরিমাণ ৪৫ কোটি ৭৫ লাখ ৩৭ হাজার ৯৪৬ টাকা এবং জরিমানা বাবদ ২১ কোটি ২৩ লাখ ২২ হাজার ৬৮৩ টাকা।

এ টাকা সরকারি কোষাগারে রাজস্ব হিসেবে আদায়যোগ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের ‘নাশকতার’ বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি ইরানের
পরমাণু কেন্দ্রে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট, নাশকতা বলছে ইরান
ফের পরমাণু চুক্তির শর্ত ভাঙল ইরান
বিশ্বশক্তির সঙ্গে পরমাণু বৈঠক গঠনমূলক হয়েছে: ইরান
২৫ বছরের সহযোগিতা চুক্তি ইরান-চীনের

শেয়ার করুন

মাদক রোধে সংস্কৃতিকর্মীদের ভূমিকা প্রয়োজন: খাদ্যমন্ত্রী

মাদক রোধে সংস্কৃতিকর্মীদের ভূমিকা প্রয়োজন: খাদ্যমন্ত্রী

সাপাহারে বৃহস্পতিবার উন্নয়ন কর্মসূচির প্রণোদনা বিতরণ করেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। ছবি: নিউজবাংলা

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, নিজের চিন্তাচেতনা স্বচ্ছ রাখার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সংস্কৃতিকর্মীদের ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। সংস্কৃতিবান্ধব বর্তমান সরকার সংস্কৃতিকর্মীদের বিষয়ে আন্তরিক। সংস্কৃতিমনা প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে।

মাদক রোধে সংস্কৃতিকর্মীদের ভূমিকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নওগাঁর সাপাহার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির প্রণোদনা বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, নিজের চিন্তাচেতনা স্বচ্ছ রাখার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সংস্কৃতিকর্মীদের ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। সংস্কৃতিবান্ধব বর্তমান সরকার সংস্কৃতিকর্মীদের বিষয়ে আন্তরিক। সংস্কৃতিমনা প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধি, বিবাহ রেজিস্ট্রার ও প্রশাসনকে সোচ্চার হতে হবে। বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

মাদকের ভয়াল থাবা সমাজকে পঙ্গু করে দিচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যুব সমাজকে রক্ষা করতে মাদক রুখতে হবে। বাল্যবিবাহ ও মাদকের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স ভূমিকা গ্রহণে প্রশাসনসহ সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

এ বিষয়ে প্রশাসনকে পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারিতে দেশে খাদ্যসংকট হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাকালে ক্ষতিগ্রস্ত সব সেক্টরে প্রণোদনা দিয়েছেন। মানুষের জীবন-জীবিকা স্বাভাবিক রেখেছেন। খাদ্যের অভাব হলে ৩৩৩ নম্বরে ফোন দিলে দরিদ্রদের খাদ্য পৌঁছে দেয়া হয়েছে। দরিদ্রদের মোবাইলে সহায়তার টাকা পৌঁছে গেছে। এটাই বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ, শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্যাহ আল মামুন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান শাহাজান আলী মন্ডল, আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুল আলম চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী, সহকারী পুলিশ সুপার বিনয় কুমার সরকার ও উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা আমেনা খাতুন ।

পরে মন্ত্রী উপজেলা পরিষদ মুক্তমঞ্চ উদ্বোধন করেন।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের ‘নাশকতার’ বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি ইরানের
পরমাণু কেন্দ্রে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট, নাশকতা বলছে ইরান
ফের পরমাণু চুক্তির শর্ত ভাঙল ইরান
বিশ্বশক্তির সঙ্গে পরমাণু বৈঠক গঠনমূলক হয়েছে: ইরান
২৫ বছরের সহযোগিতা চুক্তি ইরান-চীনের

শেয়ার করুন

জোয়ারে ভোটকেন্দ্রে হাঁটু পানি, সরানোর দাবি

জোয়ারে ভোটকেন্দ্রে হাঁটু পানি, সরানোর দাবি

বিদ্যালয়টির যোগাযোগ ব্যবস্থা বেহাল হওয়ায় ভোটকেন্দ্র সরিয়ে নেয়ার দাবি জানাচ্ছে এলাকাবাসী। ছবি: নিউজবাংলা

লোহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন তালুকদার বলেন, ‘কেন্দ্রটি সরাতে এলাকাবাসী আমাকে বারবার অনুরোধ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেছি।’

বর্ষা বা জোয়ারের সময় পটুয়াখালী সদরের লোহালিয়া ইউনিয়নের পূর্ব কাকড়াবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়। যাতায়াতেও পোহাতে হয় অসহনীয় দুর্ভোগ। স্কুলটি ভোটকেন্দ্র হিসেবে সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সেখান থেকে কেন্দ্রটি সরানোর দাবি উঠেছে।

এলাকাবাসীর লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছেন নির্বাচন কর্মকর্তারা। জানিয়েছেন, শিগগিরই সিদ্ধান্ত দেবে নির্বাচন কমিশন।

দুই থেকে আড়াই শ ভোটারের সই করা আবেদনে বলা হয়, লোহালিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কাকড়াবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র হিসেবে সম্পূর্ণ অনুপযোগী। বর্ষা বা জোয়ারের সময় বিদ্যালয়টির সামনে হাঁটু পানি জমে থাকে।

এ ছাড়া কেন্দ্রের দুই পাশের রাস্তা দুটি কর্দমাক্ত হয়ে থাকে। ওই কেন্দ্রে চলাচল করতে হয় হেঁটে। কেন্দ্রটি ওয়ার্ডের শেষ প্রান্তে হওয়ায় ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই পরিস্থিতি বিবেচনায় কেন্দ্রটি সরিয়ে ১৫৪ নম্বর মধ্য কাকড়াবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেয়ার আবেদন করা হয়েছে।

১ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার আজাহার উদ্দিন খান বলেন, ‘কেন্দ্রের এক পাশের রাস্তা ভাঙা। হেইহানে কলা ও সুবারি গাছ দিয়া বানানো হাক্কা দিয়ে চলাচল করতে হয়। এই কারণে স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের আসা-যাওয়া কম।’

জোয়ারে ভোটকেন্দ্রে হাঁটু পানি, সরানোর দাবি

জাকির হোসেন মোল্লা নামের একজন বলেন, ‘ভোটারদের যৌক্তিক দাবি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেব। এরপরও কেন্দ্র পরিবর্তন না হলে, আন্দোলন ছাড়া উপায় থাকবে না।’

লোহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন তালুকদার বলেন, ‘কেন্দ্রটি সরাতে এলাকাবাসী বারবার অনুরোধ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তাদের বলেছি, ভোটারদের সুবিধার জন্য কেন্দ্রটি যেন সরিয়ে নেয়া হয়।’

জোয়ারে ভোটকেন্দ্রে হাঁটু পানি, সরানোর দাবি

এ বিষয়ে জানতে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খান আবি সাহানুরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খালিদ বিন রউফ জানান, ভোটারদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছি। জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠাব। সেখান থেকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতার মোর্শেদ বলেন, ‘চলাচলে সমস্যা এবং ঝুঁকিপূর্ণ হলে কেন্দ্র পরিবর্তনের সুপারিশ করব। এরই মধ্যে অফিসারকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছি।’

গত মার্চে কয়েক ধাপে সবগুলো উপজেলায় নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। এরপর ৩ মার্চ প্রথম ধাপে ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদের ভোট গ্রহণের তফসিল ঘোষণা হয়। ভোট হয় ২০ সেপ্টেম্বর।

আগামী সপ্তাহে এই উপজেলায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের ‘নাশকতার’ বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি ইরানের
পরমাণু কেন্দ্রে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট, নাশকতা বলছে ইরান
ফের পরমাণু চুক্তির শর্ত ভাঙল ইরান
বিশ্বশক্তির সঙ্গে পরমাণু বৈঠক গঠনমূলক হয়েছে: ইরান
২৫ বছরের সহযোগিতা চুক্তি ইরান-চীনের

শেয়ার করুন