ব্রহ্মপুত্রের উৎসমুখে পাল্টাপাল্টি বাঁধ দিতে চায় চীন-ভারত

ব্রহ্মপুত্র নদ। ছবি:সংগৃহীত

ব্রহ্মপুত্রের উৎসমুখে পাল্টাপাল্টি বাঁধ দিতে চায় চীন-ভারত

আসামের ওপর দিয়ে এসে এ নদ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে কুড়িগ্রাম হয়ে। তিন দেশের ওপর দিয়ে বয়ে চলা দুই হাজার ৮৫০কিলোমিটার দীর্ঘ ব্রহ্মপুত্র এশিয়া মহাদেশের গুরুত্বপূর্ণ নদ হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে এই জোড়া বাঁধের প্রভাব  নেতিবাচক হবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জলবিদ্যুতের উৎপাদন তিনগুণ বাড়াতে তিব্বতে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর বাঁধ নির্মাণ করতে যাচ্ছে চীন। ভাটির দেশ হিসেবে এ নিয়ে ভারতের উদ্বেগ শুরু থেকেই। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তারাও বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে।

তবে পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, দুটি বাঁধ ভূমিকম্পপ্রবণ ব্রহ্মপুত্র নদের লাগোয়া এলাকায় তীব্র ভূমিকম্পের আশঙ্কা বাড়াবে। পাশাপাশি আশ্রয়চ্যুত হবে বহু মানুষ।

আসামের ওপর দিয়ে এসে এ নদ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে কুড়িগ্রাম হয়ে। তিন দেশের ওপর দিয়ে বয়ে চলা দুই হাজার ৮৫০কিলোমিটার দীর্ঘ ব্রহ্মপুত্র এশিয়া মহাদেশের গুরুত্বপূর্ণ নদ হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে এই জোড়া বাঁধের প্রভাব নেতিবাচক হবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন তাদের দেশের জলবিদ্যুতের উৎপাদন কম করে তিনগুণ বাড়াতে চায়। কারণ জলবিদ্যুতের উৎপাদন খরচ সবচেয়ে কম। তাতে তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো পরিবেশে দূষণ হয় না। যদিও বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটিও চীনেই। মধ্য চীনের ইয়াংজি নদীর ওপর। এ নাম ‘থ্রি গর্জেস’।

ব্রহ্মপুত্রের ওপর বাঁধ নির্মাণের জন্য বেইজিং বেছে নিয়েছে তিব্বতের মেডগ কাউন্টির একটি সুবিশাল এলাকা। বেইজিংয়ের লক্ষ্য, ওই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বছরে ৩০ হাজার কোটি মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন।

ভারতের উদ্বেগের কারণ, তিব্বতে ওই বাঁধটি যে এলাকায় নির্মাণ করা হবে সেই এলাকা হিমালয় পর্বতমালার অন্তর্ভুক্ত। সেখান থেকেই ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্তি। নদের পানিপ্রবাহ তিব্বতে চীনের প্রস্তাবিত বাঁধের এলাকা শেষ হয়ে যাওয়ার পর হিমালয় ছেড়ে বেরিয়ে আসবে না।

ভারতের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ব্রহ্ম চেলানি একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত প্রবন্ধে লিখেছেন, ‘এই বাঁধ ব্রহ্মপুত্র নদের জলপ্রবাহ নিচের দিকে (ভারতের দিকে) নামার প্রতিবন্ধক হয়ে উঠবে। লাগোয়া ভূকম্পপ্রবণ এলাকায় ভূমিকম্পের আশঙ্কা তীব্রতর করে তুলবে। সুবিশাল ওই বাঁধ বানানো হলে বহু স্থানীয় বাসিন্দা আশ্রয়চ্যুত হবেন।'

ব্রহ্মপুত্রের নিম্ন অববাহিকায় ভারতের পাল্টা বাঁধ বানানোর পরিকল্পনারও সমালোচনা করেছেন চেলানি। লিখেছেন, ‘তাতে সমস্যা আরও বাড়বে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মোদির সমালোচনা করে ভাইরোলজিস্টের পদত্যাগ

মোদির সমালোচনা করে ভাইরোলজিস্টের পদত্যাগ

ভারতে করোনায় দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে করোনাভাইরাসবিষয়ক তথ্য সংগ্রহে ফাঁকফোকরের কথা উল্লেখ করে ড. জামিল লিখেছিলেন, ‘গত ৩০ এপ্রিল আট শতাধিক ভারতীয় বিজ্ঞানী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে তারা বিশদ গবেষণার জন্য তথ্যে তাদের প্রবেশাধিকার দেয়ার অনুরোধ করেছিলেন। মহামারির গতিপ্রকৃতির পূর্বাভাস এবং ভাইরাসে বিস্তার নিয়ন্ত্রণে এটি জরুরি ছিল।’

ভারতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিদ ও বিজ্ঞানীদের নিয়ে সরকারের গঠিত একটি উপদেষ্টা ফোরাম থেকে পদত্যাগ করেছেন দেশটির শীর্ষ ভাইরাস বিশেষজ্ঞ শহীদ জামিল।

করোনার দাপটে মৃত্যুপুরীতে রূপ নেয়া দেশটিতে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য বেশ কিছুদিন ধরেই নরেন্দ্র মোদির সরকারের নেয়া বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে আসছিলেন তিনি।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের করোনাভাইরাস শনাক্তে এবং এ নিয়ে গবেষণার লক্ষ্যে ইন্ডিয়ান সার্স-কোভ-টু জেনেটিকস কনসোর্টিয়াম বা ইনসাকগ ফোরাম তৈরি করেছিল মোদি প্রশাসন।

কিন্তু করোনাভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীদের সরবরাহকৃত তথ্য-প্রমাণের দিকে কর্তৃপক্ষের একেবারেই নজর নেই বলে অভিযোগ ছিল ড. শহীদ জামিলের।

এমন পরিস্থিতিতে তিনি পদত্যাগ করলেও সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেননি তিনি। পদত্যাগের খবর সঠিক উল্লেখ করে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ক্ষুদে বার্তায় তিনি লিখেন, ‘কারণ জানাতে আমি বাধ্য নই।’

তবে সেই ক্ষুদে বার্তায় জামিল জানান, তাকে গত শুক্রবার ফোরাম থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে একটি কলাম লেখেন জামিল। সেখানে তিনি লেখেন, ‘ভারতে প্রমাণসাপেক্ষ নীতি গ্রহণে তীব্র বিরোধিতার সম্মুখীন হচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।’

কলামে তিনি নরেন্দ্র মোদির সরকারের করোনাভাইরাস মহামারি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থাপনা, বিশেষ করে স্বল্পসংখ্যক নমুনা পরীক্ষা, ধীর গতির টিকাদান, টিকার ঘাটতি এবং স্বাস্থ্যখাতে জনবলের ব্যাপক সংকট নিয়ে কথা বলেন।

তিনি লেখেন, ‘এই সংকটগুলো সমাধানের ওপর বারবার জোর দিচ্ছেন আমাদের বিজ্ঞানীরা। কিন্তু প্রমাণসাপেক্ষ নীতি নির্ধারণে তাদের মত উপেক্ষা করার যেন সিদ্ধান্তই নিয়ে রেখেছে কর্তৃপক্ষ।’

দেশটিতে করোনাভাইরাস বিষয়ক তথ্য সংগ্রহে ফাঁকফোকরের কথা উল্লেখ করে শহীদ জামিল লিখেন, ‘গত ৩০ এপ্রিল আট শতাধিক ভারতীয় বিজ্ঞানী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে তারা বিশদ গবেষণার জন্য তথ্যে তাদের প্রবেশাধিকার দেয়ার অনুরোধ করেছিলেন। মহামারির গতিপ্রকৃতির পূর্বাভাস ও ভাইরাসে বিস্তার নিয়ন্ত্রণে এটি জরুরি ছিল।’

তিনি আরও লেখেন, ‘কেবল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয়াও আত্মঘাতী পদক্ষেপ। এতে দিনে দিনে মহামারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া ছাড়া আর কিছু হয়নি। যে হারে মানুষ মরছে, আমাদের জাতীয় জীবনে এটি স্থায়ী কলঙ্ক হয়ে থাকবে।’

ভারতের শীর্ষ ভাইরাস বিশেষজ্ঞ ড. শাহিদ জামিল।

চলতি মাসে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চে ভাইরাসের ব্যাপকতা এবং দেশজুড়ে ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির বিষয়ে আগেই সরকারকে সতর্ক করেছিল শহীদ জামিলের ইনসাকগ।

করোনার বি.১.৬১৭ প্রজাতিটিই ভারতে চলমান করোনা তাণ্ডবের প্রধান কারণ বলে মনে করছেন গবেষকরা। বৈশ্বিক মহামারির এ পর্যায়ে ভারতে করোনায় প্রতিদিন গড়ে প্রাণ হারাচ্ছেন চার হাজারের বেশি মানুষ।

কেন ভারত সরকার বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা শোনেনি, বিশেষ করে জনসমাগম নিষিদ্ধের মতো বিষয়ে, সে প্রশ্নে রয়টার্সকে ড. জামিল বলেন, করোনা প্রতিরোধে নীতিমালা গ্রহণে বিজ্ঞানীদের গবেষণায় মনোযোগ দিচ্ছিল না কর্তৃপক্ষ।

মহামারির বাস্তবতা উপেক্ষা করে পাঁচ রাজ্যে মাসব্যাপী বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ, প্রচারণা ও জনসমাবেশ; হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসব কুম্ভমেলায় কোটি মানুষের অংশগ্রহণের পরপরই অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে শুরু করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ।

ব্যাপক সমালোচনার পরেও নির্বাচনি সমাবেশে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ ভারত সরকারের শীর্ষ রাজনীতিবিদদের অনেকে।

করোনায় প্রাণহানিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের পরের অবস্থান ভারতের। দেশটিতে করোনায় মৃতের সংখ্যা পৌনে তিন লাখের কাছাকাছি।

সংক্রমণ শনাক্তের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ ভারত। দেশটিতে এ নিয়ে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে আড়াই কোটি মানুষের দেহে।

রোববার ২৪ ঘণ্টায় ভারতে তিন লাখ ১১ হাজার মানুষের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে চার হাজার ৭৭ জনের।

ভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে থাকায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে করোনার টেস্ট কিট, ওষুধ, অক্সিজেনসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জামের। রোগীর বিপরীতে স্বাস্থ্য খাতে দেখা দিয়েছে ব্যাপক লোকবল সংকট।

মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হতে থাকায় শ্মশান, কবরস্থানগুলোতেও স্বজনদের মরদেহ নিয়ে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে অসংখ্য মানুষকে।

এমন পরিস্থিতিতে সৎকারের খরচ তিন গুণ বেড়ে ১৫ হাজার রুপি ছাড়িয়েছে অনেক জায়গায়। সৎকার ছাড়াই নদীতে ভাসিয়ে অথবা মাটিচাপা দেয়া হচ্ছে অনেক মরদেহ।

কারণ শেষকৃত্যে বিপুল খরচ আর চিতায় পোড়ানোর জন্য কাঠের ঘাটতির ফলে দরিদ্র মানুষদের জন্য স্বজনদের অন্তিম যাত্রায় ধর্মীয় রীতি নিশ্চিত করে মরদেহ পোড়ানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শেয়ার করুন

গাজায় নিহতদের প্রায় ৪৮ শতাংশ নারী-শিশু

গাজায় নিহতদের প্রায় ৪৮ শতাংশ নারী-শিশু

গাজায় অষ্টম দিনের মতো হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। ছবি: এএফপি

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামলা দ্রুত বন্ধ হচ্ছে না জানানোর কয়েক ঘণ্টা পর সোমবার শুরু হয় ইসরায়েলি গোলাবর্ষণ। এর আগের দিন এবারের হামলায় সবচেয়ে বেশি নিহত দেখেছে গাজাবাসী। রোববার অবিরাম গোলায় উপত্যকায় কমপক্ষে ৪২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়। আহত হয় আরও অনেকে।

ফিলিস্তিনের গাজায় টানা আট দিনের হামলায় নিহত হয়েছে কমপক্ষে ১৯২ জন। এর মধ্যে ৯২ জনই নারী-শিশু (৩৪ নারী ও ৫৮ শিশু)। সে হিসাবে নিহতদের ৪৭.৯২ শতাংশই নারী ও শিশু।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামলা দ্রুত বন্ধ হচ্ছে না জানানোর কয়েক ঘণ্টা পর সোমবার শুরু হয় ইসরায়েলি গোলাবর্ষণ।

এর আগের দিন এবারের হামলায় সবচেয়ে বেশি নিহত দেখেছে গাজাবাসী। রোববার অবিরাম গোলায় উপত্যকায় কমপক্ষে ৪২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়। আহত হয় আরও অনেকে। গুঁড়িয়ে দেয়া হয় কমপক্ষে দুটি আবাসিক ভবন।

ইসরায়েলি হামলার জবাবে গাজা থেকে এক সপ্তাহ ধরে ছোড়া রকেটে দুই শিশুসহ ১০ ইসরায়েলি নিহত হয়েছে বলে দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

হামাসের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রোববারের হামলায় লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে সংগঠনটির উপত্যকাপ্রধান ইয়াহইয়া আল-সিনওয়ারের বাড়িকেও।

এমন পরিস্থিতিতে রোববার বৈঠকে বসে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। কিন্তু পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলো সমাধান তো দূরের কথা, এ বিষয়ে কোনো বিবৃতি পর্যন্ত দিতে পারেনি।

ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটের দুই রাষ্ট্র সমাধান ব্যাহত হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি লিন্ডা থমাস-গ্রিনফিল্ড বলেন, সংঘাত বন্ধে দুই পক্ষকে অস্ত্রবিরতিতে সম্মত করাতে অক্লান্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন।

এ সময় ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ আল-মালিকি বলেন, ‘ইসরায়েল প্রায়ই আমাদের বলে তাদের জুতো পরে দেখতে যে তারা কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অথচ তারা তো জুতোই পরে না।

‘মিলিটারি বুট পরে আমাদের ওপর চেপে বসেছে তারা। শনিবারও একটি শরণার্থী শিবিরে হামলা চালিয়ে একই পরিবারের ১০ জনকে হত্যা করেছে তারা। এই অমানবিকতার কী ব্যাখ্যা হতে পারে?’

জবাবে ইসরায়েলের স্থায়ী প্রতিনিধি গিলাড এরডান বলেন, ‘হামাসের ছোড়া রকেটে ১০ বছর বয়সী এক আরব-ইসরায়েলি মেয়ে নিহত হয়েছে। বেসামরিক প্রাণহানি এড়িয়ে সন্ত্রাসীদের নির্মূলে যে নায়কোচিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল, সেটা দেখুন।’

আগের দিনের চেয়ে সোমবার আরও ভারী বোমাবর্ষণ করছে ইসরায়েল। গাজার এপি প্রতিনিধি ফারেস আকরাম জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে প্রকম্পিত গাজার উত্তর থেকে দক্ষিণাঞ্চল।

আল জাজিরার প্রতিনিধি সাফওয়াত আল-কাহলুত বলেন, শান্ত সময় ছিল সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা।

শেয়ার করুন

শূন্য হাতে নিরাপত্তা পরিষদ, পূর্ণ শক্তি প্রয়োগে নেতানিয়াহু

শূন্য হাতে নিরাপত্তা পরিষদ, পূর্ণ শক্তি প্রয়োগে নেতানিয়াহু

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিঃস্ব ফিলিস্তিনি নারীর আর্তনাদ। ছবি: এএফপি

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া তো দূরের কথা, যুক্তরাষ্ট্রের বাধায় রোববারের বৈঠকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে চলমান ইসরায়েলি অরাজকতার বিরুদ্ধে বিবৃতি প্রকাশেও ব্যর্থ হয় নিরাপত্তা পরিষদ।

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জরুরি বৈঠক করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। সে বৈঠক শেষে একটি যৌথ বিবৃতি পর্যন্ত দিতে পারেনি সদস্য রাষ্ট্রগুলো। এমন বাস্তবতায় পূর্ণ শক্তিতে গাজায় হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

চলমান সহিংসতার সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিন রোববার এমন বিপরীত চিত্র দেখল বিশ্ব।

গাজার শাসক দল হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে উল্লেখ করে রোববার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রয়োজন বুঝেই কাজ করছি। শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় যতক্ষণ দরকার ততক্ষণ হামলা অব্যাহত থাকবে। এটি সময়সাপেক্ষ।’

হামাস যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অভিযানের কথা বলা হলেও ইসরায়েলের বিমান হামলায় এ দিন গাজায় ১৬ নারী ও ১০ শিশুসহ নিহত হয় কমপক্ষে ৪২ জন। এতে সপ্তাহব্যাপী সহিংসতায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ২০০ ছাড়ায়। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু গাজাতেই প্রাণ গেছে ১৯৭ জনের। এদের মধ্যে ৫৮ শিশু ও ৩৪ নারী। আহত হয়েছেন এক হাজার ২৩৫ জন।

রোববার মধ্যরাত থেকে গাজায় বোমা ছুড়ে কমপক্ষে তিনটি ভবন ধসিয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী।

ইসরায়েলের দাবি, গত আট দিনে হামাসের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রে ইসরায়েলে দুই শিশুসহ ১০ জন নিহত হয়েছে। পাল্টা অভিযানে হামাসের অর্ধশতাধিক যোদ্ধার প্রাণহানি হয়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া তো দূরের কথা, যুক্তরাষ্ট্রের বাধায় রোববারের বৈঠকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে চলমান ইসরায়েলি অরাজকতার বিরুদ্ধে বিবৃতি প্রকাশেও ব্যর্থ হয় নিরাপত্তা পরিষদ।

ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটের দুই রাষ্ট্র সমাধান ব্যাহত হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি লিন্ডা থমাস-গ্রিনফিল্ড বলেন, সংঘাত বন্ধে দুই পক্ষকে অস্ত্রবিরতিতে সম্মত করাতে অক্লান্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন।

এ সময় ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ আল-মালিকি বলেন, ‘ইসরায়েল প্রায়ই আমাদের বলে তাদের জুতো পরে দেখতে যে তারা কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অথচ তারা তো জুতোই পরে না।

‘মিলিটারি বুট পরে আমাদের ওপর চেপে বসেছে তারা। শনিবারও একটি শরণার্থী শিবিরে হামলা চালিয়ে একই পরিবারের ১০ জনকে হত্যা করেছে তারা। এই অমানবিকতার কী ব্যাখ্যা হতে পারে?’

জবাবে ইসরায়েলের স্থায়ী প্রতিনিধি গিলাড এরডান বলেন, ‘হামাসের ছোড়া রকেটে ১০ বছর বয়সী এক আরব-ইসরায়েলি মেয়ে নিহত হয়েছে। বেসামরিক প্রাণহানি এড়িয়ে সন্ত্রাসীদের নির্মূলে যে নায়কোচিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল, সেটা দেখুন।’

এ সময় হামাসের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদকে একাট্টা হওয়ার আহ্বান জানান এরডান। তিনি বলেন, নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিতে যা করতে হয়, সব করবে ইসরায়েল।

অস্ত্রবিরতিতে মধ্যস্থতার জন্য কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলাদা জরুরি বৈঠক করেছে নিরাপত্তা পরিষদ। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। যদিও কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া শেষ হয় সে বৈঠকটিও।

শেয়ার করুন

ওবামার সাক্ষাৎকার নেয়া সেই শিশু সাংবাদিক আর নেই

ওবামার সাক্ষাৎকার নেয়া সেই শিশু সাংবাদিক আর নেই

বারাক ওবামার সঙ্গে ড্যামন ওয়েবার। ফাইল ছবি

২০০৯ সালে বারাক ওবামার ওই সাক্ষাৎকারটি নিয়ে সবার নজর কাড়েন এক সময়ের শিশু সাংবাদিক ড্যামন ওয়েড। যুক্তরাষ্ট্রের সে সময়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডো বাইডেন ও কিংবদন্তি বাস্কেটবল তারকা ডুয়াইন ওয়েডের সাক্ষাৎকারও নেন তিনি।

বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থাকার সময় তার সাক্ষাৎকার নিয়ে সবার নজরকাড়া শিশু সাংবাদিক ড্যামন ওয়েবার আর নেই। ২৩ বছর বয়সেই তাকে চলে যেতে হলো।

গত ১ মে ২৩ বছর বয়সী ওয়েবার মারা যান বলে জানিয়েছেন তার বোন ক্যানড্যান্স হার্ডি। জানান, তার ভাইয়ের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।

ওয়েবারের মৃত্যু নিয়ে এর চেয়ে বেশি কিছু প্রকাশ করা হয়নি। জর্জিয়ার আলবানি স্টেট ইউনিভার্সিটির কমিউনিক্যাশসনের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি।

শিশু সাংবাদিক হিসেবে ২০০৯ সালের ১৩ আগস্ট হোয়াইট হাউজে বারাক ওমাবার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন ওয়েবার। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১১ বছর। ১০ মিনিটের সেই সাক্ষাৎকার ইউটিউবে পোস্ট করা হয়।

ওবামার ওই সাক্ষাৎকারে বেশির ভাগ জুড়েই ছিল শিক্ষা নিয়ে আলোচনা। স্কুলে শিক্ষার্থীদের দেয়া মধ্যাহ্ন ভোজ আরও ভালো মানের করা যায় কি না ছিল সেই আলোচনাও।

নিজের ছাত্র জীবনে স্কুলের মধ্যাহ্নভোজের খাবারের মানের বিষয়টি স্মৃতিচারণ করে ওবামা বলেন, ‘আমার মনে পড়ে, আমি যখন স্কুলে তখন মধ্যাহ্নভোজে যেসব খাবার পেতাম তা খেতে খুব ভালো লাগতো না।

‘স্কুলের মধ্যাহ্নভোজের খাবার নূন্যতম স্বাস্থ্যসম্মত করা যায় কি না বিষয়টি আমরা দেখছি। কারণ, স্কুলে মধ্যাহ্নভোজে বিভিন্ন ধরনের ফ্রাই, পিজ্জা, টেটার টটস অনেক কিছুই দেয়। কিন্তু এসব স্বাস্থ্যসম্মত কোনো খাবার না।’

ড্যামন ওয়েবার

ওবামার আগে যুক্তরাষ্ট্রের সে সময়ের ভাইস-প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও কিংবদন্তি বাস্কেটবল খেলোয়াড় ডুয়াইন ওয়েডেরও সাক্ষাৎকার নেন ওয়েবার। এর মধ্যে ওয়েড জানান, সুযোগ পেলে ওবামার বিপক্ষে একটি ম্যাচ খেলতে তিনি।

এ ব্যাপারে ওবামার কাছে প্রশ্ন রাখেন ওয়েবার- ‘আপনি কী তার (ওয়েডের) সঙ্গে সঙ্গে ওয়ান-অন-ওয়ানে বাস্কেটবল খেলতে ইচ্ছুক?’

জবাবে ওবামা বলেন, ‘আমি ডুয়াইন ওয়েডের সঙ্গে খেলতে পারি। যদিও আমি এটা স্বীকার করছি, বাস্কেটবলে আমার চেয়ে ডুয়াইন ওয়েড একটু বেশি ভালো।’

শেয়ার করুন

ওআইসি বৈঠকে গাজা হামলায় ইসরায়েলের নিন্দা সৌদির

ওআইসি বৈঠকে গাজা হামলায় ইসরায়েলের নিন্দা সৌদির

ইসরায়েলি হামলায় জ্বলছে ফিলিস্তিন অধ্যুষিত গাজা উপত্যাকা। ছবি: এএফপি

গাজায় বিমান হামলার নিন্দা জানিয়ে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ বলেন, ‘গাজা উপত্যকায় বিমান হামলার মধ্য দিয়ে ইসলামের পবিত্র স্থানের শুদ্ধতা লঙ্ঘন করা হয়েছে। পূর্ব জেরুজালেমের শেখ জাররাহ এলাকা থেকে ফিলিস্তিনিদের নিজেদের মাতৃভূমি থেকে জোর করে উচ্ছেদ করা হচ্ছে।’

গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের অধিকার ইসরায়েল ‘ঘোরতর লঙ্ঘন’ করেছে মনে করছে সৌদি আরব। এ ঘটনার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি সমাধান চেয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রী।

ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) ভার্চুয়াল বৈঠক শুরুর প্রথম দিন রোববার তিনি এ মন্তব্য করেন বলে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

২০ লাখ জনবসতিপূর্ণ গাজায় ইসরায়েলের টানা ভয়াবহ বিমান হামলার এক সপ্তাহ পর রোববার ওআইসির ৫৭ সদস্য রাষ্ট্র পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ে জরুরি বৈঠকে বসে।

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে গত সোমবার থেকে চলমান সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ১৮৮ ফিলিস্তিনি নিহতের খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে অন্তত ৫২টি শিশু।

গাজায় বিমান হামলার নিন্দা জানিয়ে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ বলেন, ‘গাজা উপত্যকায় বিমান হামলার মধ্য দিয়ে ইসলামের পবিত্র স্থানের শুদ্ধতা লঙ্ঘন করা হয়েছে। পূর্ব জেরুজালেমের শেখ জাররাহ এলাকা থেকে ফিলিস্তিনিদের নিজেদের মাতৃভূমি থেকে জোর করে উচ্ছেদ করা হচ্ছে।

‘পূর্ব জেরুজালেম ফিলিস্তিনিদের। আমরা এর ওপর কোনো আঘাত সহ্য করব না।’

ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ ও দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের ভিত্তিতে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে শান্তি আলোচনা আবার শুরু করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান বিন ফারহান।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ। ছবি: এএফপি

ইসরায়েলের হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বৈঠকে অংশ নেয়া ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি জাতীয় কর্তৃপক্ষের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ আল-মালিকি।

তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনের মানুষের জাগরণ এটাই প্রমাণ করেছে, জেরুজালেম হচ্ছে চূড়ান্ত সীমানা। এর বাইরে কারো প্রবেশ গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের জনগণ ইসরায়েলের হত্যা যন্ত্রে হার মানবে না।’

মালিকি বলেন, ‘আল্লাহকে জানানো জরুরি, আমরা শেষ দিন পর্যন্ত প্রতিরোধ করব। দীর্ঘদিন ধরে আমরা দখলদারদের হাতে বন্দি। এটাই এ অঞ্চলে সমস্যার মূল কারণ। অহেতুক ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে।’

ভার্চুয়াল এ বৈঠকে অংশ নেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। তিনি জানান, জাতিসংঘের প্রাসঙ্গিক রেজ্যুলেশন, আরব পিস ইনিশিয়েটিভ এবং কোয়ার্টার রোডম্যাপের মেনেই ফিলিস্তিনি ইস্যুতে একটি ব্যাপক ও টেকসই সমাধানে বিশ্বাসী বাংলাদেশ।

মোমেন বলেন, ‘জাতিসংঘের প্রধান অঙ্গ হিসাবে আন্তর্জাতিক শান্তি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে আল-কুদস আল শরীফ এবং দখলকৃত জমিতে সহিংসতা ও সুরক্ষা লঙ্ঘনের বিষয়টি উত্থাপন করা উচিত।’

শেয়ার করুন

কলকাতার শেষ জমিদার পরিবার

কলকাতার শেষ জমিদার পরিবার

সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের আদি নিবাস পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম বর্ধমানের আমাটিতে। এই বংশের ১৯তম পুরুষ পঞ্চানন গঙ্গোপাধ্যায় আমাটি ছেড়ে হুগলির গোপালপুরে বসতি স্থাপন করেন। পঞ্চানন গঙ্গোপাধ্যায় মোঘল সাম্রাজ্যের পাঠান বাহিনীতে যুদ্ধ কৌশলবিদ হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। তার বীরত্বের জন্য খান উপাধি লাভ করেন।

ভারতে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হলে জমিদারি প্রথা বাতিল করে, সব ভূমি ফেডারেল সরকারের অধীনে চলে আসে ।

পূর্ববঙ্গীয় রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫১ সালে ১৬ মে আইন সভায় পাস হয়। এর দুই বছর পর ১৯৫৩ সালে ভারতের সংবিধানেও একই রকম একটি আইন প্রবর্তন করা হয়। ফলে সরকার আর জনগণের মধ্যে কোনো মধ্যবর্তী সুদ থাকেনি। সামন্ত প্রভুদের হাত থেকে মুক্তি পায় জনগণ।

জমিদারি প্রথা বিলোপের পর কোনো কোনো জমিদার জমি হস্তান্তরের ক্ষতির কারণে মামলা করেন। পরে অবশ্য তাদের কিছু কিছু ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও করে আদালত।

ব্রিটিশদের আসার আগে সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার ছিল কলকাতার জমিদার। ১৬৯৮ সালের ১০ নভেম্বর সুতানুটি, কলকাতা, গোবিন্দপুর গ্রাম তিনটি সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের কাছ থেকে ইজারা নেয় ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।

কথিত আছে, সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার গ্রাম তিনটি ব্রিটিশদের দিতে রাজি ছিলেন না। ব্রিটিশরা মুঘল দরবারে ঘুষ দিয়ে গ্রাম তিনটির ইজারা নেন বার্ষিক ১৩০০ টাকা রাজস্বের বিনিময়ে।

সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের আদি নিবাস পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম বর্ধমানের আমাটিতে। এই বংশের ১৯তম পুরুষ পঞ্চানন গঙ্গোপাধ্যায় আমাটি ছেড়ে হুগলির গোপালপুরে বসতি স্থাপন করেন। পঞ্চানন গঙ্গোপাধ্যায় মোঘল সাম্রাজ্যের পাঠান বাহিনীতে যুদ্ধ কৌশলবিদ হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। তার বীরত্বের জন্য তিনি খান উপাধি লাভ করেন।

পরে হালিশহর, উত্তরপাড়া, বিরাটি, বড়িশাতে এই পরিবারের প্রভাব বিস্তার লাভ করে।

পরিবারের ২১ তম পুরুষ জিয়া গঙ্গোপাধ্যায় সন্ত কামদেব ব্রহ্মচারী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন ।

১৬০৮ সালে জিয়া গঙ্গোপাধ্যায়ের ছেলে লক্ষ্মীকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় রাজা মানসিংহের থেকে প্রচুর ভূসম্পত্তি জায়গির হিসেবে লাভ করেন। মোগল সম্রাট আকবর তাদের রায় ও জাহাঙ্গীর চৌধুরী উপাধি দেন।

সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার পরিষদ পারিবারিক ইতিহাস-ঐতিহ্য রক্ষার প্রচেষ্টায় একটি সাবর্ণ সংগ্রহশালা করেছে। এটি গবেষণা ও প্রকাশনা সংস্থা হিসেবে কাজ করে।

সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের পক্ষ থেকে ২০০১ সালে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা করে দাবি করা হয়, ইংরেজ সওদাগর জব চার্নক সত্যিই কলকাতার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কিনা খতিয়ে দেখা হোক।

কলকাতা হাইকোর্ট ২০০৩ সালের ১৬ মে রায় দেয় জব চার্নক কলকাতার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন না।

শেয়ার করুন

কোভিডে গোবর-গোমূত্র কাজ করে না বলায় সাংবাদিক গ্রেপ্তার

কোভিডে গোবর-গোমূত্র কাজ করে না বলায় সাংবাদিক গ্রেপ্তার

সাংবাদিক কিশোরচন্দ্র ওয়াংখেম। ছবি সংগৃহীত

সম্প্রতি কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মারা যান মণিপুর বিজেপির রাজ্য সভাপতি সাইখম টিকেন্দ্র সিং। তিনি গোড়া থেকেই কোভিডমুক্ত হতে গোবর ব্যবহার এবং গোমূত্র পান করে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে প্রচারণাও চালিয়েছেন।

কোভিডে গোবর ও গোমূত্র কাজ করে না বলে মন্তব্য করে বিপাকে পড়েছেন ভারতের মণিপুর রাজ্যের এক সাংবাদিক।

তাকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সম্প্রতি কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মারা যান মণিপুর বিজেপির রাজ্য সভাপতি সাইখম টিকেন্দ্র সিং। তিনি গোড়া থেকেই কোভিডমুক্ত হতে গোবর ব্যবহার এবং গোমূত্র পান করে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে প্রচারণাও চালিয়েছেন।

কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, তার মৃত্যুর পর থেকেই কোভিডে গোবর ব্যবহার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এরই জের ধরে ফেসবুকে গোবর ও গোমূত্রের অকার্যকারিতা নিয়ে পোস্ট দেন সাংবাদিক কিশোরচন্দ্র ওয়াংখেম।

আরেক রাজনীতিক কর্মী ইরেন্দ্রো লেইচম্বমও প্রায় একই ধরনের পোস্ট করেন।

এরপরই তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা করেন রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি উশাম দেবান ও সাধারণ সম্পাদক পি প্রেমানন্দ।

এই মামলাতেই বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করা হয় সাংবাদিক কিশোরচন্দ্র ওয়াংখেম ও রাজনীতিক কর্মী ইরেন্দ্রো লেইচম্বমকে।

আদালতে তোলা হলে দুইজনকে ১৭ মে পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

এর আগেও সাংবাদিক কিশোরচন্দ্রকে নেটমাধ্যমের পোস্টের কারণে দু’টি ভিন্ন মামলায় দুইবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

শেয়ার করুন