টিউমারের রোগীর ওপর কাশি, ৩০ দিনের কারাদণ্ড

চেইন শপে এক গ্রাহকের গায়ে কাশি দেয়ায় ডেবরা হান্টারকে ৩০ দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ছবি: স্ক্যারিমাম্মি ডটকম

টিউমারের রোগীর ওপর কাশি, ৩০ দিনের কারাদণ্ড

‘পিয়ার ১’ নামের চেইন শপের কর্মীদের সঙ্গে বাদানুবাদের সময় অপর এক গ্রাহকের গায়ে ইচ্ছা করে কাশি ফেলেন ডেবরা। এ ঘটনায় গত বছরের জুনে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে গত বছর চেইন শপে ব্রেইন টিউমার থাকা গ্রাহকের গায়ে কাশি দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার এক নারীকে ৩০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার অঙ্গরাজ্যটির সবচেয়ে জনবহুল শহর জ্যাকসনভিল আদালতের বিচারক ডেবরা হান্টার নামের নারীকে এ সাজা দেন।

জ্যাকসনভিলে অবস্থিত ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি কার্যালয়ের জনসংযোগ পরিচালক ডেভিড চ্যাপম্যানের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়, কারাদণ্ডের পাশাপাশি ডেবরাকে ৫০০ ডলার জরিমানা করা হয়েছে

তাকে ছয় মাসের প্রবেশনও (সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয় মেনে চলা) দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য ও রাগ নিয়ন্ত্রণের নিয়মিত পর্যালোচনায় অংশ নিতে বলা হয়েছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকের করোনাভাইরাস পরীক্ষার খরচও বহন করতে বলা হয়েছে ডেবরা হান্টারকে।

‘পিয়ার ১’ নামের চেইন শপের কর্মীদের সঙ্গে বাদানুবাদের সময় অপর এক গ্রাহকের গায়ে ইচ্ছা করে কাশি ফেলেন ডেবরা। এ ঘটনায় গত বছরের জুনে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ঘটনার তদন্তকারীদের ভাষ্য, চেইন শপের কর্মীদের সঙ্গে ডেবরার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ধারণ করছিলেন ভুক্তভোগী হিদার স্প্র্যাগ। বিষয়টি দেখে হিদারের দিকে তেড়ে আসেন ডেবরা।

ওই সময় তিনি হিদারের গায়ে কফ ফেলার কথা বলেন এবং একপর্যায়ে সত্যি সত্যিই তা করেন।

এ নিয়ে স্প্র্যাগ বিচারককে বলেন, ঘটনার পর থেকে তিনি উদ্বেগের সঙ্গে সপরিবার করোনা পরীক্ষার স্থান খুঁজছিলেন। অবশেষে তিনি পরীক্ষা করাতে পেরেছিলেন। সে পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছিল।

আরও পড়ুন:
ক্যাপিটল ভবনের কাছে হামলা, পুলিশ কর্মকর্তাসহ নিহত ২
হিন্দুত্ববাদী পাঁচ সংগঠনকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান
ক্যালিফোর্নিয়ায় বন্দুকধারীর গুলিতে শিশুসহ নিহত ৪
যুক্তরাষ্ট্রে বন্দি শিবিরে অভিবাসী শিশুদের করুণ দশা
যুক্তরাষ্ট্রের সুপারমার্কেটে বন্দুকধারীর গুলি, নিহত ১০

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভারতে করোনায় মৃত্যু ফের ৪০০০ ছাড়াল

ভারতে করোনায় মৃত্যু ফের ৪০০০ ছাড়াল

করোনায় ভারতে আবারও দৈনিক মৃত্যু চার হাজার ছাড়াল। ছবি: এএফপি

ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ভারতে করোনা শনাক্ত কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ১১ হাজার ১৭০। আর দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২ কোটি ৪৬ লাখ ৮৪ হাজার ৭৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। গত ১০ দিনে দেশটিতে মোট ৪০ লাখ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে।

ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত কিছু কমলেও মৃত্যু ছাড়িয়েছে চার হাজার। দেশটিতে এক দিনে মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৭৭ জনের। গত কিছুদিন থেকেই দৈনিক মৃত্যু চার হাজারের আশপাশেই রয়েছে।

এ নিয়ে দেশটিতে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ২ লাখ ৭০ হাজার ২৮৪ জনে।

এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সময়ে ভারতে করোনা শনাক্ত কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ১১ হাজার ১৭০। আর দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২ কোটি ৪৬ লাখ ৮৪ হাজার ৭৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত ১০ দিনে দেশটিতে মোট ৪০ লাখ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে।

দেশটিতে গত ৫ এপ্রিল থেকে দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা এক লাখ ছাড়ায়। এরপর চলতি মাসেও দৈনিক চার লাখের ওপর ছিল সংক্রমণের সংখ্যা।

এখন প্রতি সপ্তাহে দেড় কোটি নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে শনিবার করোনা নিয়ন্ত্রণে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

দিল্লির প্রতিটি জেলায় অক্সিজেন কনসানট্রেটর ব্যাংক স্থাপন করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। দিল্লিতে এক মাসের বেশি সময়ের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বনিম্ন শনাক্ত হয়েছে সাড়ে ছয় হাজার।

গত ২৪ ঘণ্টায় মহারাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি ৯৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনায়। মৃত্যু বেড়েছে মুম্বাই, পাঞ্জাবসহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে।

পশ্চিমবঙ্গে মৃত্যুর রেকর্ড

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়। রাজ্যে এই সময়ে সর্বোচ্চ ১৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার থেকে দুই সপ্তাহের লকডাউন শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। ৩০ মে পর্যন্ত চলবে এই লকডাউন।

আরও পড়ুন:
ক্যাপিটল ভবনের কাছে হামলা, পুলিশ কর্মকর্তাসহ নিহত ২
হিন্দুত্ববাদী পাঁচ সংগঠনকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান
ক্যালিফোর্নিয়ায় বন্দুকধারীর গুলিতে শিশুসহ নিহত ৪
যুক্তরাষ্ট্রে বন্দি শিবিরে অভিবাসী শিশুদের করুণ দশা
যুক্তরাষ্ট্রের সুপারমার্কেটে বন্দুকধারীর গুলি, নিহত ১০

শেয়ার করুন

গাজায় অস্ত্রবিরতি মানবে না ইসরায়েল

গাজায় অস্ত্রবিরতি মানবে না ইসরায়েল

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সপ্তম দিনের মতো চলছে ইসরায়েলের বিমান হামলা। ছবি: এএফপি

পরিস্থিতির ভয়াবহতায় আলোচনার জন্য ইসরায়েলে গিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দূত হ্যাডি আমর, যদিও কোনো অগ্রগতি হয়নি। এর আগে গাজায় এক বছরের অস্ত্রবিরতির জন্য মিসরের দেয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ইসরায়েল।

সব কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে সপ্তম দিনের মত ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ডে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। অঞ্চলটিতে সাম্প্রতিক সময়ের ভয়াবহ এ হত্যাযজ্ঞ বন্ধে এক সপ্তাহেও কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি বিশ্ব সম্প্রদায়।

শনিবার গাজায় হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিস্থিতির জন্য ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসকে দায়ী করেছেন নেতানিয়াহু।

তিনি বলেন, 'আমরা অভিযানের মাঝামাঝি পর্যায়ে রয়েছি। অভিযান শেষ হয়নি। যতদিন প্রয়োজন, এ অভিযান চলবে।'

নেতানিয়াহুর দাবি, বেসামরিক প্রাণহানি এড়িয়ে কেবল হামাসের স্থাপনা লক্ষ্য করেই হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল।

গত এক সপ্তাহে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরসহ ফিলিস্তিনের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরায়েলের বিমান হামলায় প্রাণ গেছে কমপক্ষে দেড় শ জনের। এদের মধ্যে ৪১ জনই শিশু।

এমন পরিস্থিতিতে সংকট নিয়ে আলোচনায় রোববার বৈঠক নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।

গাজায় বেসামরিক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহতায় শনিবার হতাশা ও উদ্বেগ জানান মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

বিবৃতিতে ইসরায়েলকে নির্বিচারে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বেসামরিক স্থাপনা ও সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং যেকোনো মূল্যে এটি বন্ধ করতে হবে।’

পরিস্থিতির ভয়াবহতায় আলোচনার জন্য ইসরায়েলে গিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দূত হ্যাডি আমর, যদিও কোনো অগ্রগতি হয়নি।

এর আগে গাজায় এক বছরের অস্ত্রবিরতির জন্য মিসরের দেয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ইসরায়েল। যদিও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস শুক্রবার প্রস্তাবটি গ্রহণ করে বলে জানিয়েছে কায়রো।

উত্তেজনা পরিহারে শনিবার ইসরায়েল ও হামাস-দুই পক্ষকেই সহনশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচআরসির প্রধান মিশেল ব্যাশেলে।

এর আগে ‘দীর্ঘমেয়াদে শান্তি প্রতিষ্ঠার’ লক্ষ্য অর্জন হওয়া পর্যন্ত গাজায় বোমা হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গানৎজ।

আরও পড়ুন:
ক্যাপিটল ভবনের কাছে হামলা, পুলিশ কর্মকর্তাসহ নিহত ২
হিন্দুত্ববাদী পাঁচ সংগঠনকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান
ক্যালিফোর্নিয়ায় বন্দুকধারীর গুলিতে শিশুসহ নিহত ৪
যুক্তরাষ্ট্রে বন্দি শিবিরে অভিবাসী শিশুদের করুণ দশা
যুক্তরাষ্ট্রের সুপারমার্কেটে বন্দুকধারীর গুলি, নিহত ১০

শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ, বাইডেনের নৈশভোজ বর্জন মুসলমানদের

যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ, বাইডেনের নৈশভোজ বর্জন মুসলমানদের

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে। ছবি: এএফপি

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় হোয়াইট হাউজে তার আয়োজনে ঈদ নৈশভোজ বর্জনের ডাক দিয়েছে আমেরিকান মুসলিমস ফর প্যালেস্টাইন নামের একটি সংগঠন। স্থানীয় সময় রোববার তারা ‘ফিলিস্তিনের সঙ্গে ঈদ’ নামের পাল্টা একটি কর্মসূচির ঘোষণা দেয়।

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ করেছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মুসলমান।

দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় হোয়াইট হাউজে তার আয়োজনে ঈদ নৈশভোজ বর্জনের ডাক দিয়েছে আমেরিকান মুসলিমস ফর প্যালেস্টাইন নামের একটি সংগঠন।

স্থানীয় সময় রোববার তারা ‘ফিলিস্তিনের সঙ্গে ঈদ’ নামের পাল্টা একটি কর্মসূচির ঘোষণা দেয়।

সংগঠনটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রেসিডেন্ট বাইডেন, হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র জেন সাকি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস সম্প্রতি যে বিবৃতিগুলো দিয়েছেন, সেগুলোতে পূর্ব জেরুজালেম থেকে ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নিধন, রমজানে আল-আকসা মসজিদে মুসল্লিদের ওপর ইসরায়েলি হামলা এবং গাজায় চলমান অবরোধকে (যাতে এরই মধ্যে শতাধিক মানুষের প্রাণ গেছে) পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ফিলিস্তিন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা আমাদের ফিলিস্তিনি ভাই-বোনদের প্রতি সংহতি জানানোর অংশ হিসেবে দেশজুড়ে মুসলমানরা সম্মিলিতভাবে সম্প্রদায়ের সদস্যদের প্রতি হোয়াইট হাউজের অনুষ্ঠান বর্জনের তাগিদ দিচ্ছে। একই সঙ্গে হোয়াইট হাউজের অনুষ্ঠানের প্রতিবাদে ফিলিস্তিনের সঙ্গে ঈদে যোগ দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।’

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলমানদের প্রভাবশালী সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স জানায়, তারা হোয়াইট হাউজে ঈদ উদযাপন বর্জন করবে।

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ১৪৯ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে আরও ১৩ জন নিহত হয়েছে। গত এক সপ্তাহের হামলায় ফিলিস্তিনে আহত ব্যক্তির সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে।

দখলকৃত পশ্চিম তীরেও সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে সেখানে নিহত হয়েছে ১৩ ফিলিস্তিনি। ছবি: এএফপি

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, হোয়াইট হাউজ রোববার ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এক নৈশভোজের আয়োজন করেছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মুসলমানদের পক্ষ থেকে কয়েকটি প্রতিনিধিদলকে নিমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

ইসরায়েলের সমর্থনে বাইডেন

হোয়াইট হাউজ থেকে শনিবার এক বিবৃতি দিয়ে ইসরায়েলের ওপর হামাসের রকেট হামলার নিন্দা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

ইসরায়েলি প্রধনমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থন আছে বলে জানান আমেরিকার প্রেসিডেন্ট।

তার বিবৃতিতে বলা হয়, হামাস ও গাজায় অন্য সব ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর’ রকেট হামলা প্রতিরোধের অধিকার আছে ইসরায়েলের।

হোয়াইট হাউজ আরও জানিয়েছে, জো বাইডেন ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে কথা বলেছেন। সে আলাপে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিস্তিনের মধ্যে অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছেন।

জার্মানিতেও বিক্ষোভ

জার্মানির বিভিন্ন শহরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেয়।

কয়েকটি শহরে বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

আরও পড়ুন:
ক্যাপিটল ভবনের কাছে হামলা, পুলিশ কর্মকর্তাসহ নিহত ২
হিন্দুত্ববাদী পাঁচ সংগঠনকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান
ক্যালিফোর্নিয়ায় বন্দুকধারীর গুলিতে শিশুসহ নিহত ৪
যুক্তরাষ্ট্রে বন্দি শিবিরে অভিবাসী শিশুদের করুণ দশা
যুক্তরাষ্ট্রের সুপারমার্কেটে বন্দুকধারীর গুলি, নিহত ১০

শেয়ার করুন

বোমায় নিহত ৮ ভাই-বোন, জীবিত ৫ মাসের ওমর

বোমায় নিহত ৮ ভাই-বোন, জীবিত ৫ মাসের ওমর

আল জালালা টাওয়ারের ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া শিশু ওমর, যার আট ভাই-বোন নিহত হয়েছে ইসরায়েলের বোমা হামলায়। ছবি: এএফপি

ওমরের বাবা মোহাম্মদ হাদিদি জানান, ঈদ উপলক্ষে ভবনটিতে ভাইয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন তার স্ত্রী ও পাঁচ ছেলে। মামাতো ভাই-বোনদের সঙ্গে খেলতে সেখানেই থেকে যেতে চেয়েছিল শিশু সন্তানরা। মা-ও রাজি হয়েছিলেন। এই খেলতে চাওয়াই শেষ পর্যন্ত হলো কাল।

আল জাজিরা, বার্তা সংস্থা এপি, এএফপিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কার্যালয় ধ্বংসে যে বহুতল ভবনটিতে হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল, সেখানে ঈদ উদযাপন করছিল মোহাম্মদ হাদিদির পরিবার।

শনিবারের হামলায় ওই পরিবারের আটজন নিহত হয়েছে বলে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

হামলার পর ভবন থেকে আট ভাই-বোনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে কেবল পাঁচ মাসের শিশু ওমরকে।

ওমরের বাবা মোহাম্মদ হাদিদি জানান, ঈদ উপলক্ষে ভবনটিতে ভাইয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন তার স্ত্রী ও পাঁচ ছেলে। মামাতো ভাই-বোনদের সঙ্গে খেলতে সেখানেই থেকে যেতে চেয়েছিল শিশু সন্তানরা। মা-ও রাজি হয়েছিলেন। এই খেলতে চাওয়াই শেষ পর্যন্ত হলো কাল।

উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতরে শিশুদের খেলনা, নানা রকম খাবারের সাজানো টেবিল খুঁজে পেয়েছেন।

প্রকাশ্য দিবালোকে আল জালালা টাওয়ারে এ হামলা থেকে ওমর বেঁচে গেলেও প্রাণ গেছে হাদিদির স্ত্রী-সন্তানসহ ১০ জনের।

হামলাটি সরাসরি সম্প্রচার করা এপি জানিয়েছে, ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ অঞ্চলের ভেতরকার পরিস্থিতি প্রকাশ বন্ধ করতেই ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এ আগ্রাসন। এর ফলে গাজার প্রকৃত পরিস্থিতি আরও কম জানবে বিশ্ব।

হামলার এক ঘণ্টা আগে ভবনের মালিককে বোমা হামলার ব্যাপারে সতর্ক করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

এএফপি জানিয়েছে, ভবন খালি করার জন্য আরও ১০ মিনিট সময় বেশি দেয়ার অনুরোধ করা হলেও তা রক্ষা করেনি সেনাবাহিনী।

আল জাজিরার সাংবাদিক সাফওয়ান আল কাহালুত জানান, খবর পেয়েই তিনি ও তার সহকর্মীরা ব্যক্তিগত ও অফিসের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, বিশেষ করে ক্যামেরা নিয়ে ভবন থেকে বের হয়ে যান।

শনিবার ছিল ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস ও ইসরায়েলের সংঘাতের ষষ্ঠ দিন।

দিনটি ছিল ফিলিস্তিনের জন্য ‘মহাদুর্যোগের দিন’ হিসেবে পরিচিত নাকবা দিবস। ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থার বিলোপ এবং সাত লাখের বেশি ফিলিস্তিনির স্থায়ীভাবে রাষ্ট্রহীন হওয়ার কালো দিন এটি।

প্রতিবছর ১৫ মে নাকবা দিবসকে কেন্দ্র করে উত্তাপ বাড়ে অঞ্চলটিতে।

আরও পড়ুন:
ক্যাপিটল ভবনের কাছে হামলা, পুলিশ কর্মকর্তাসহ নিহত ২
হিন্দুত্ববাদী পাঁচ সংগঠনকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান
ক্যালিফোর্নিয়ায় বন্দুকধারীর গুলিতে শিশুসহ নিহত ৪
যুক্তরাষ্ট্রে বন্দি শিবিরে অভিবাসী শিশুদের করুণ দশা
যুক্তরাষ্ট্রের সুপারমার্কেটে বন্দুকধারীর গুলি, নিহত ১০

শেয়ার করুন

সপ্তম দিনে ইসরায়েলি হামলা, গাজায় নিহত বেড়ে ১৪৯

সপ্তম দিনে ইসরায়েলি হামলা, গাজায় নিহত বেড়ে ১৪৯

গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় আহত সন্তানদের নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার আগে কান্নায় ভেঙে পড়েন এক নারী। ছবি: এএফপি

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১৪৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ৪১ জনই শিশু। আর এক সপ্তাহে ইসরায়েলি হামলায় আহত হয়েছে গাজার অন্তত সাড়ে ৯০০ মানুষ।

গাজায় সপ্তম দিনের মতো হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। এই সাত দিনে গাজায় নিহত হয়েছে ১৪৯ জন। এর মধ্যে ৪১ জনই শিশু।

উপত্যকায় রোববারও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। আবাসিক এলাকার একটি ভবনে ভোরে হামলায় চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়।

এ ছাড়া ওই হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়। সে হামলায় অন্তত দুটি ভবন মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয় ইসরায়েল।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় হামাসের প্রধান ইয়াহিয়া আল-সিনওয়ারের বাড়িকেও লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

এদিকে ইসরায়েলের তেল আবিবে হামাসের রকেট হামলা থেকে বাঁচতে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য ছোটাছুটি শুরু করে লোকজন। অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হামাসের রকেট আটকে দিতে আকাশ সুরক্ষা সিস্টেম ‘আইরন ডোম’ ব্যবহার করছে।

গাজায় এক শরণার্থী শিবিরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৭ শিশুসহ ১০ জন নিহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েল আরেকটি বড় হামলা চালায় মিডিয়া ভবনে।

ওই ভবনে আল জাজিরা, এপিসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দপ্তর ছিল।

এক টেলিভিশন ভাষণে শনিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘যত দিন প্রয়োজন হবে, গাজায় হামলা অব্যাহত থাকবে।’

দখলকৃত পশ্চিম তীরেও সংঘর্ষ
দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়। ছবি: এএফপি

হামাসের নেতা ইসমাইল হানিয়া বলেন, ইসরায়েলি হামলায় প্রতিরোধ চলবেই।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১৪৯ ফিলিস্তিন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ৪১ জনই শিশু। আর এক সপ্তাহে ইসরায়েলি হামলায় আহত হয়েছে অন্তত সাড়ে ৯০০ ফিলিস্তিনি।

অন্যদিকে সহিংসতা ছড়িয়েছে দখলকৃত পশ্চিম তীরেও। সেখানে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়।

দীর্ঘদিন ধরে চলা ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সংঘাত বিষয়ে রোববার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে শান্তি আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন:
ক্যাপিটল ভবনের কাছে হামলা, পুলিশ কর্মকর্তাসহ নিহত ২
হিন্দুত্ববাদী পাঁচ সংগঠনকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান
ক্যালিফোর্নিয়ায় বন্দুকধারীর গুলিতে শিশুসহ নিহত ৪
যুক্তরাষ্ট্রে বন্দি শিবিরে অভিবাসী শিশুদের করুণ দশা
যুক্তরাষ্ট্রের সুপারমার্কেটে বন্দুকধারীর গুলি, নিহত ১০

শেয়ার করুন

সপ্তাহে ১ ডোজ টিকাও যায়নি কাশ্মীরে

সপ্তাহে ১ ডোজ টিকাও যায়নি কাশ্মীরে

জম্মু-কাশ্মীরে ২৪ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে লকডাউন। ছবি: এনডিটিভি

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ও প্রাণহানি বাড়তে থাকায় জম্মু-কাশ্মীরে লকডাউন ২৪ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। হাতে গোনা জরুরি কয়েকটি সেবা বাদে সবকিছুই বন্ধ। বাড়ির বাইরে বের হওয়াও নিষিদ্ধ।

ভারতের জম্মু-কাশ্মীরে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি থমকে গেছে। গত এক সপ্তাহে এক ডোজ টিকাও অঞ্চলটিতে পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। টিকার মজুত পৌঁছেছে শূন্যের কোঠায়।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার উপত্যকাটির ভারত নিয়ন্ত্রিত অংশের বেশির ভাগ জেলায় এক ডোজ টিকাও পায়নি কেউ। রাজধানী শ্রীনগরেও একই হাল।

এদিন প্রায় দেড় কোটি বাসিন্দার মধ্যে মাত্র ৫০৪ জন টিকা নিয়েছেন।

সপ্তাহব্যাপী টিকা সরবরাহ বন্ধ থাকায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘এর আগের শনিবার শেষবার টিকার একটি চালান এসেছিল। সব দিয়ে দেয়া হয়েছে। আর কোনো টিকা আমাদের হাতে নেই।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ও প্রাণহানি বাড়তে থাকায় কাশ্মীরে লকডাউন ২৪ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। হাতে গোনা জরুরি কয়েকটি সেবা বাদে সবকিছুই বন্ধ। বাড়ির বাইরে বের হওয়াও নিষিদ্ধ।

করোনার বিস্তার রোধে শ্রীনগরে আসা-যাওয়া বন্ধ; ব্যারিকেড দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে রাস্তাঘাট। অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন রয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন শেষে রাজ্যটি থেকে কয়েক হাজার সেনাসদস্যকে কাশ্মীরে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। এরপর আরও কঠোর হয়েছে বিধিনিষেধ।

তবে সোমবার থেকে লকডাউন শিথিলের কথা ছিল কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটিতে।

কাশ্মীরে এ পর্যন্ত করোনায় প্রাণহানি হয়েছে তিন হাজারের বেশি মানুষের। শনাক্ত হয়েছে আড়াই লাখের বেশি।

অঞ্চলটিতে পুলিশ, সেনাসদস্যসহ ২৮ লাখ মানুষ টিকা নিয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন মূলত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাই।

দেশজুড়ে ১৮ ও তার বেশি বয়সী সবার টিকাদান শুরু হলেও কাশ্মীরে তা হয়নি। পুরো অঞ্চলটিতে কেবল দুটি টিকাকেন্দ্রে ১৮ বছর বয়সীদের টিকা দেয়া হচ্ছে। তা-ও দিনে সর্বোচ্চ ৩০০ ডোজ করে। টিকা সংকটে এই কর্মসূচিও এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ।

আরও পড়ুন:
ক্যাপিটল ভবনের কাছে হামলা, পুলিশ কর্মকর্তাসহ নিহত ২
হিন্দুত্ববাদী পাঁচ সংগঠনকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান
ক্যালিফোর্নিয়ায় বন্দুকধারীর গুলিতে শিশুসহ নিহত ৪
যুক্তরাষ্ট্রে বন্দি শিবিরে অভিবাসী শিশুদের করুণ দশা
যুক্তরাষ্ট্রের সুপারমার্কেটে বন্দুকধারীর গুলি, নিহত ১০

শেয়ার করুন

ইসরায়েলি বোমায় নিশ্চিহ্ন আল জাজিরা ভবন

ইসরায়েলি বোমায় নিশ্চিহ্ন আল জাজিরা ভবন

‌‘আমি ওই ভবনে ১১ বছর কাজ করেছি। ভবনটির ছাদ থেকে বহু লাইভ সম্প্রচার করেছি আমরা। চোখের সামনে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র এসে ভবনটিতে আঘাত করে। এরপরই হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ে ভবনটি।’

গাজা ভূখণ্ডের একটি ভবন বিমান হামলায় ধসিয়ে দিয়েছে ইসরায়েল। এই ভবনে কাতারভিত্তিক চ্যানেল আল জাজিরা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) দপ্তর অবস্থিত।

শনিবার ইসরায়েল ১৩ তলার ‘জালা টাওয়ার’ নামে ওই ভবনটি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়। ওই হামলায় কেউ হতাহত হয়েছে কিনা জানা যায়নি। ভবনটিতে অফিস ছাড়াও বেশ কিছু আবাসিক ফ্ল্যাট রয়েছে।

হামলার এক ঘণ্টা আগে ভবনের অধিবাসীদের বোমা হামলার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়।

এক টুইট বার্তায় আল জাজিরা জানায়, আল-জাজিরাসহ আরও কয়েকটি বার্তা সংস্থার দপ্তর এই ভবনে অবস্থিত।

এপির এক সাংবাদিক বলেন, হামলার আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ভবনের মালিককে এ ব্যাপারে সতর্ক করে দেয়।

এএফপি জানায়, ভবনের মালিক ইসরায়েলি বাহিনীর কাছ থেকে ভবন খালি করার জন্য আরও ১০ মিনিট সময় বেশি দেয়ার অনুরোধ করেন। তবে তার সেই অনুরোধ রক্ষা করা হয়নি।

আল জাজিরার এক সংবাদিক সাফওয়ান আল কাহালুত হামলার আগ দিয়ে ওই ভবনেই ছিলেন। তিনি বলেন, খবর পাওয়ার পর তিনি ও তার সহকর্মীরা ব্যক্তিগত ও অফিসের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বিশেষ করে ক্যামেরা নিয়ে বের হয়ে যান।

‌‘আমি ওই ভবনে ১১ বছর কাজ করেছি। ভবনটির ছাদ থেকে বহু লাইভ সম্প্রচার করেছি আমরা। চোখের সামনে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র এসে ভবনটিতে আঘাত করে। এরপরই হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ে ভবনটি।’

তিনি বলেন, ওই ভবনে সহকর্মীদের সঙ্গে বহু স্মৃতি রয়েছে আমার।

ইসরায়েলের অভিযোগ, হামাসের সশস্ত্র গোয়েন্দা শাখার সরঞ্জাম ওই ভবনে রাখা হত। এ কাজে ভবনটিতে অবস্থিত গণমাধ্যমের একটি দপ্তরকে ব্যবহার করত তারা। নাম না বললেও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আল জাজিরাকে লক্ষ্য করেই এ মন্তব্য করে।

তবে গাজায় ‌ইসরায়েলের ‘খবর’ দিয়ে ভবন ধসিয়ে দেয়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। গাজার বহু ভবন এভাবে ধসিয়ে দেয়া হয়েছে।

কাহালুত বলছিলেন, এ ধরনের বিমান হামলায় যারা বাড়িঘর হারায় তাদের মানসিক অবস্থা কেমন থাকে তা অন্য কেউ বুঝতে পারবে না। এ যেন এক সকালে ঘুম থেকে উঠে জানতে পারা, আপনার পুরো পেশাজীবন আর স্মৃতির সঙ্গে কেউ আপনার কর্মস্থলকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

গাজায় গত সোমবার থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১৪০ ফিলিস্থিনি নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৩৯টি শিশু ও ২২ নারী রয়েছেন।

এছাড়া গাজা থেকে ছোড়া হামাসের রকেটে আটজন ইসরায়েলি নিহত হয়। এদের মধ্য পাঁচ বছর বয়সী একটি শিশু ও এক সেনা রয়েছে।

আরও পড়ুন:
ক্যাপিটল ভবনের কাছে হামলা, পুলিশ কর্মকর্তাসহ নিহত ২
হিন্দুত্ববাদী পাঁচ সংগঠনকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান
ক্যালিফোর্নিয়ায় বন্দুকধারীর গুলিতে শিশুসহ নিহত ৪
যুক্তরাষ্ট্রে বন্দি শিবিরে অভিবাসী শিশুদের করুণ দশা
যুক্তরাষ্ট্রের সুপারমার্কেটে বন্দুকধারীর গুলি, নিহত ১০

শেয়ার করুন