জর্ডানকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে প্রিন্স হামজা: সাফাদি

প্রিন্স হামজা বিন হুসেইন। ছবি: এএফপি

জর্ডানকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে প্রিন্স হামজা: সাফাদি

উপপ্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে জর্ডানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা পেত্রার খবরে বলা হয়, প্রিন্স হামজা বিবিসির কাছে পাঠানো ভিডিওর মাধ্যমে তথ্য বিকৃত এবং সহানুভূতি আদায় করতে চাইছেন।

জর্ডানের সাবেক যুবরাজ প্রিন্স হামজা বিন হুসেইন বিদেশিদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী আয়মান সাফাদি।

রোববার বিবিসির কাছে প্রিন্স হামজার পাঠানো দুইটি ভিডিও প্রকাশের পর তাকে ‘গৃহবন্দি রাখার’ কারণ ব্যাখ্যায় এ কথা বলেন সাফাদি।

উপপ্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে জর্ডানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা পেত্রার খবরে বলা হয়, প্রিন্স হামজা বিবিসির কাছে পাঠানো ভিডিওর মাধ্যমে তথ্য বিকৃত এবং সহানুভূতি আদায় করতে চাইছেন।

রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে সাফাদি আরও বলেন,‘প্রিন্স হামজা বিদেশিদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। বেশ কিছু দিন ধরে তার ওপর নজর রাখা হয়েছিল।

শনিবার ডিভিও বার্তায় প্রিন্স হামজা অভিযোগ করেন, তাকে গৃহবন্দি করা হয়েছে।

দেশটিতে সমালোচকদের দমনের অংশ হিসেবে তাকে গৃহবন্দি করা হয় বলে হামজা অভিযোগ করেন।

ভিডিও বার্তায় হামজা আরও জানান, সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাকে বাড়ি থেকে বের হতে নিষেধাজ্ঞা এবং কারও সঙ্গে যোগাযোগ না করার নির্দেশ দিয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ বিন আল-হুসাইনের সমালোচনা করায় দেশটির প্রশাসনে থাকা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে হয়রানি করা হচ্ছে।

এরই অংশ হিসেবে সাবেক প্রিন্স হামজাকেও গৃহবন্দি করা হয়। হামজা বিন আল-হুসাইন বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ বিন আল-হুসাইনের সৎ ভাই।

সেনাবাহিনীর কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, প্রিন্স হামজাসহ উচ্চপদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তা সেনা ‘অভ্যুত্থানচেষ্টায়’ জড়িত। এজন্য তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জর্ডান ও রাজপরিবারের সুরক্ষার জন্য হামজাকে সতর্ক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে একজন সাবেক মন্ত্রী, রাজপরিবারের জুনিয়র সদস্য এবং সন্দেহভাজন বেশ কয়েকজনকে আটক করেছেন তারা।

আরও পড়ুন:
জর্ডানের সাবেক যুবরাজ গৃহবন্দি  

শেয়ার করুন

মন্তব্য

যুক্তরাজ্যে তরুণরা পাবেন অ্যাস্ট্রাজেনেকার বিকল্প টিকা

যুক্তরাজ্যে তরুণরা পাবেন অ্যাস্ট্রাজেনেকার বিকল্প টিকা

যুক্তরাজ্যে ৪০ বছরের কম বয়সীরা পাবেন অ্যাস্ট্রাজেনেকার বিকল্প টিকা। ছবি: সংগৃহীত

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস প্রতিরোধী অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়েছেন এদের মধ্যে অন্তত ২৪২ জনের রক্ত জমাট বাঁধার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৪৯ জনের। এদের বড় অংশই তরুণ যাদের বয়স ৪০ এর নীচে।

যুক্তরাজ্যে চল্লিশ বছরের কম বয়সীদের মাঝে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নেয়ার পর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এদের কারো কারো রক্ত জমাট বাঁধার খবর পাওয়া গেছে।

দেশটির ওষুধ নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থার তথ্য মতে, সেখানে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার অন্তত: দুই কোটি ৮৫ লাখ ডোজ দেয়া হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর মধ্যে অন্তত ২৪২ জনের রক্ত জমাট বাঁধার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৪৯ জনের। এদের বড় অংশই তরুণ যাদের বয়স ৪০ এর নীচে।

দেশটির টিকা ও রোগ প্রতিরোধ কমিটির (জেসিবিআই) শীর্ষ কর্মকর্তা অধ্যাপক ওয়ে সেন লিম বলেন, ‘তরুণ যাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৯ এর মধ্যে তাদের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা না দেয়া নিরাপদ হবে। অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার বিকল্প না পাওয়া পর্যন্ত তাদের টিকা না নিলেও চলবে। দেশটিতে কোভিড পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।’

তিনি জানান, এই পরিস্থিতিতে অ্যাস্ট্রাজেনেকার বিকল্প হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার ও মডার্নার টিকা।

দেশটির ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবায় ব্যবহৃত সামগ্রীর নিয়ন্ত্রক সংস্থার (এমএইচআরএ) প্রধান নির্বাহী ডা. জুন রেইন জানান, অ্যাস্ট্রাজেনেকের টিকা ব্যবহারের ঝুঁকি ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।

অনুর্ধ্ব ৩০ বছর বয়সীদের জন্য বিকল্প টিকা

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা সম্প্রতি এই টিকার বিরল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে রক্ত জমাট বাঁধার বিষয়টি উল্লেখ করে। তবে টিকা থেকে যে সুরক্ষা পাওয়া যাবে তা ঝুঁকির চেয়ে অনেক বেশি। ইউরোপের কিছু দেশ এরই মধ্যে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ৩০ বছরের কম বয়সীদের জন্য অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার বিকল্প টিকার ব্যবস্থা করা হবে বলে গত ৭ এপ্রিল জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়ে বেশ কিছু দিন থেকেই রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। ইউরোপের বহু দেশ এরই মধ্যে এই টিকার ব্যবহার নিষিদ্ধ করলেও বিষয়টি নিয়ে এত দিন নীরব ছিল যুক্তরাজ্য।

যুক্তরাজ্যের এমএইচআরএর পর্যালোচনায় দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে মোট দুই কোটি মানুষ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়েছেন। মার্চের শেষ পর্যন্ত টিকা নেয়ার পর ৭৯ জনের মধ্যে বিরল রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা দেখা দেয়। এদের মধ্যে ১৯ জন মারা গেছে।

সংস্থাটি জানায়, তার মানে এই নয় যে, টিকার কারণেই রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনা ঘটছে। তবে দুটির মধ্যে সংযোগ ক্রমেই দৃঢ় হচ্ছে।

এমএইচআরএ’র প্রধান নির্বাহী ডা. জুন রেইনে বলেন, এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অত্যন্ত বিরল। টিকার কারণেই রক্ত জমাট বাঁধছে কিনা তা নিয়ে গবেষণা চলছে। ঝুঁকি ও সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য করতে গেলে দেখা যাবে পাল্লা দ্বিতীয়টির দিকে ঝুঁকে আছে।

তবে তিনি আরও বলেন, জনগণের সুরক্ষাই আমাদের কাছে সর্বাধিক অগ্রধিকার পাবে।

এমএইচআরএ’র এই পর্যালোচনার পর যুক্তরাজ্য সরকারের স্বতন্ত্র টিকা বিষয়ক উপদেষ্টা সংস্থা জয়েন্ট কমিটি জেসিভিআইয়ের তথ্য মতে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের জন্য বিকল্প টিকার ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেয়।

এমএইচআরএ জানিয়েছে, যারা অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন তারা দ্বিতীয় ডোজের টিকাও নির্ভয়ে নিতে পারেন। তবে যাদের রক্ত জমাট বাঁধার উপসর্গ দেখা দিয়েছিল তারা টিকা নেয়া থেকে বিরত থাকবেন।

আরও পড়ুন:
জর্ডানের সাবেক যুবরাজ গৃহবন্দি  

শেয়ার করুন

অক্সিজেন দিচ্ছে না কেন্দ্র: মোদিকে ফের চিঠি মমতার

অক্সিজেন দিচ্ছে না কেন্দ্র: মোদিকে ফের চিঠি মমতার

মমতা ব্যানার্জি

মমতা ব্যানার্জি অভিযোগ করে বলেন, রাজ্যের চাহিদামতো অক্সিজেন দেয়া হচ্ছে না । উল্টো গত ১০ দিনে রাজ্যের উৎপাদিত অক্সিজেন অন্য রাজ্যে পাঠানো হয়েছে। রাজ্যকে কেন্দ্র দিনে ৩০৮ মেট্রিকটন অক্সিজেন দিচ্ছে। প্রতিদিন ৪৫০ মেট্রিক টন অক্সিজেন প্রয়োজন।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি অভিযোগ করে বলেছেন, তার রাজ্যকে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন দিচ্ছে না কেন্দ্রীয় সরকার। উল্টো তার রাজ্যের অক্সিজেন অন্য রাজ্যে পাঠানো হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আবারও লেখা এক চিঠিতে এ অভিযোগ করেন পশ্চিমবঙ্গে তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসা তৃণমূলের নেত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে অক্সিজেন চেয়ে শুক্রবার লেখা ওই চিঠিতে মমতা অভিযোগ করেন, রাজ্যের চাহিদামতো অক্সিজেন দেয়া হচ্ছে না । উল্টো গত ১০ দিনে রাজ্যের উৎপাদিত অক্সিজেন অন্য রাজ্যে পাঠানো হয়েছে। রাজ্যকে কেন্দ্র দিনে ৩০৮ মেট্রিকটন অক্সিজেন দিচ্ছে।

মমতা ব্যানার্জি

চাহিদার তুলনায় কম অক্সিজেন পাওয়ার বিষয়ে চিঠিতে তিনি আরও লিখেছেন, প্রতিদিন ৪৫০ টন অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৭০ টন অক্সিজেন লেগেছে। আগামী সাত-আট দিনে অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে হবে ৫০০ টন।

এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী চিঠিতে রাজ্যের চাহিদামতো অক্সিজেন দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। এ বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও কথা বলেছেন।

এদিকে অক্সিজেন সংকট মোকাবিলায় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একটি অক্সিজেন প্ল্যান্ট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর।

এদিকে মালদার মানিকচকে বৃদ্ধা মাকে বাড়িতে রেখে ছেলে ও পরিবারের অন্য সদস্যরা চলে গেছেন বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্য দপ্তর খবর পেয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসাতে অ্যাম্বুলেন্স পাঠায়।

অন্যদিকে করোনায় আক্রান্ত আরেক বৃদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে হুগলির চুঁচুড়ায়। তার ছেলে-বৌমাও করোনায় আক্রান্ত। তারা শহরের অন্য প্রান্তে থাকেন। মায়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে জানালে তারা গিয়ে দেখে বৃদ্ধা যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। পরে দরজা ভেঙে বৃদ্ধাকে বের করা হয়। ইমামবাড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

এর মধ্যে সুখবর হচ্ছে, বৃহস্পতিবার চীন থেকে এসেছে ৪৫০টি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর। অক্সিজেন কনসেনট্রেটর বাতাস থেকে অক্সিজেন তৈরি করে। চিকিৎসকরা মনে করেন, অক্সিজেন সংকট মেটাতে এই যন্ত্র কার্যকর হবে।

আরও পড়ুন:
জর্ডানের সাবেক যুবরাজ গৃহবন্দি  

শেয়ার করুন

‘ভাইরাস চলে গেছে, এই ধারণাই সর্বনাশ ডেকে আনল’

‘ভাইরাস চলে গেছে, এই ধারণাই সর্বনাশ ডেকে আনল’

হোলি ফ্যামিলি হাসপাতলে রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত রোহন আগরওয়াল। ছবি: আনন্দবাজার

রোহনের দেখভালে যারা মারা গিয়েছেন, তাদের ভুলতে পারেন না তিনি। চেষ্টায় কোনো কমতি ছিল না। কিন্তু পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম নেই হাসপাতালে। কোন রোগীর আগে চিকিৎসা করবেন, তা নিয়ে সারাক্ষণ নিজের ভেতরে টানাপোড়েন চলতে থাকে তার।

রাজধানী দিল্লির হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল ভারতের অন্যতম সেরা হাসপাতালগুলোর একটি। সেখানে চিকিৎসায় কোন রোগী প্রাধান্য পাবেন সেটি বেছে নিতে হচ্ছে ২৬ বছর বয়সী চিকিৎসক রোহন আগরওয়ালকে।

আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখনও পড়াশোনা শেষ হয়নি রোহনের।

দিল্লির ওই হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসক হিসেবে প্রশিক্ষণ চলছে তার। হাসপাতালে সেই রোহনের নেতৃত্বেই চলছে করোনা রোগীদের চিকিৎসা।

অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকা কোনো রোগীকে সামনে পড়ে থাকতে দেখেও অনেক সময় তার কিছু করার থাকছে না। হাসপাতালে শয্যা, অক্সিজেন কিছুই নেই।

রোহন বলেন, ‘কাকে বাঁচানো যাবে আর কাকে যাবে না, সেটি ঈশ্বর ঠিক করে দেন।’

পুরো হাসপাতালে করোনা আক্রান্তদের পরিবারের ভিড়। অধিকাংশের মুখে কাপড়ের মাস্ক। হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মী থেকে শুরু করে রোগী ও তাদের পরিবার প্রত্যেকেই জানেন হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা নেই।

অক্সিজেন, ভেন্টিলেটরের অভাব। হাসপাতালের যে ঘরে বর্জ্য ফেলা হয়, সেখানেও এক রোগী মাটিতে শুয়ে অক্সিজেনের অভাবে কাতরাচ্ছেন এমন ছবিও দেখা গেছে । রোহন নিজেও জানেন না, তিনি করোনা আক্রান্ত হলে এই হাসপাতালে শয্যা পাবেন কি না।

জানুয়ারিতে ভারতে করোনা মহামারি মোকাবিলায় সামনের সারিতে থাকাদের টিকা দেয়া কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। ওই সময় অসুস্থ থাকায় টিকা নিতে পারেননি রোহন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘ভাইরাস চলে গেছে, এই ধারণাই সর্বনাশ ডেকে আনল।’

প্রয়োজনে কখনো টানা ২৭ ঘণ্টাও কাজ করতে হয় রোহনকে। সারা দিনের কাজের পর রাতে যখন ঘুমোতে যান, তখনও যেন শুনতে পান মনিটরে হৃদস্পন্দনের শব্দ। তার দেখভালে যারা মারা গিয়েছেন, তাদের ভুলতে পারেন না তিনি। চেষ্টায় কোনো কমতি ছিল না। কিন্তু পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম নেই হাসপাতালে। কোন রোগীর আগে চিকিৎসা করবেন, তা নিয়ে সারাক্ষণ নিজের ভেতরে টানাপোড়েন চলতে থাকে তার।

রোহন বলেন, ‘কোনো রোগীর হয়তো জ্বর হয়েছে। আমি জানি তিনি অসুস্থ। কিন্তু তার অক্সিজেনের প্রয়োজন নেই বলে ভর্তি করতে পারি না। করোনায় আক্রান্ত একজন বৃদ্ধ এবং একজন যুবকের মধ্যে কাকে ভর্তি নেব, বুঝতে পারি না।

তিনি বলেন, ‘দুজনেরই হয়তো অনেকটা অক্সিজেন প্রয়োজন, কিন্তু শয্যা একটাই।’

হাসপাতালের পরিবেশ দেখে হতাশ এই তরুণ চিকিৎসক।

তিনি বলেন, ‘মাঝে মাঝে ঘণ্টা খানেকের জন্য একটু বেড়িয়ে আসতে ইচ্ছে করে। কারণ আমি জানি, আমাকে এখনও টানা ২৪ ঘণ্টা ওই হাসপাতালেই থাকতে হবে।’

আরও পড়ুন:
জর্ডানের সাবেক যুবরাজ গৃহবন্দি  

শেয়ার করুন

সরকারের উদাসীনতায় ডুবছে দেশ: সোনিয়া গান্ধী



সরকারের উদাসীনতায় ডুবছে দেশ: সোনিয়া গান্ধী

‘কোভিড সংকট মোকাবিলায় সক্ষম এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব প্রয়োজন। তবে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই রাজনৈতিক পার্থক্যকে দূরে সরিয়ে রেখে এবং দেশকে ঐক্যবদ্ধ করেই লড়তে হবে।’

ভারতে করোনাভাইরাসের ভয়াবহ সংক্রমণ ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের ব্যর্থতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী।

শুক্রবার কংগ্রেস সংসদীয় দলের ভার্চুয়াল বৈঠকে ভাষণ দিয়ে তিনি। বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার অতিমারির সংকটকালে দেশের জনগণের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছে।

আর এই ব্যর্থতার কারণ হিসেবে সোনিয়া গান্ধী বলেন, ‘এমন একটা রাজনৈতিক নেতৃত্ব সরকার পরিচালনা করছে; যারা দেশের নাগরিকদের সম্পর্কে অনুভূতিহীন। আর রাজনৈতিক নেতৃত্বের এই অনুভূতিহীনতাই দেশকে পঙ্গু করে ফেলছে। মোদি সরকারের উদাসীনতার ভারে দেশ ডুবে যাচ্ছে।’

ভারতে মোট শনাক্ত কোভিড-১৯ রোগী ২ কোটি ১৪ লাখ ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা ২ লাখ ৩৪ হাজার।

এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রয়োজন বলে উল্লেখ করে সোনিয়া আরও বলেন, ‘কোভিড সংকট মোকাবিলায় সক্ষম এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব প্রয়োজন। তবে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই রাজনৈতিক পার্থক্যকে দূরে সরিয়ে রেখে এবং দেশকে ঐক্যবদ্ধ করেই লড়তে হবে।’

তিনি আরও বলেন, মোদি সরকারকে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে জরুরিভিত্তিতে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকতে হবে। চলতি অতিমারিকে আরও ভালোভাবে মোকাবিলার জন্য সম্মিলিত পদক্ষেপ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোর বৈঠক করারও দাবি জানান সোনিয়া।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটের বিষয়ে সোনিয়া গান্ধী বলেন, ‘সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ফলাফল কংগ্রেসের জন্য ভীষণভাবেই হতাশাব্যঞ্জক। আমাদের সম্মিলিতভাবে এই বিপর্যয় থেকে যথাযথ শিক্ষা নিতে হবে। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি শিগগিরই বৈঠক করবে এবং ফলাফল পর্যালোচনা করবে।’

সাম্প্রতিক বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের ভরাডুবি হওয়ার পরে দলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে এটিই সোনিয়া গান্ধীর প্রথম বৈঠক।

সদ্যসমাপ্ত এল ভোটে কেরালা ও আসামে বিরোধী আসনেই বসতে হবে কংগ্রেসকে। পুদুচেরিতে ক্ষমতাচ্যুত তারা। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভায় কংগ্রেসের সদস্য সংখ্যা শূন্য। শুধুমাত্র তামিলনাড়ুতে শাসক জোটের সদস্য হিসেবে সফল কংগ্রেস।

আরও পড়ুন:
জর্ডানের সাবেক যুবরাজ গৃহবন্দি  

শেয়ার করুন

গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণে চীনের নতুন রেকর্ড

গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণে চীনের নতুন রেকর্ড

চীনের পূর্ব জিয়াংশু প্রদেশে একটি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র। ছবি: এএফপি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে বিশ্বের মোট গ্রিনহাউজ গ্যাসের ২৭ শতাংশ নিঃসরণ করেছে চীন। ওই বছর দেশটি প্রথমবারের মতো সব উন্নয়নশীল দেশের মোট গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের পরিমাণকেও অতিক্রম করেছে।

পৃথিবীর সব উন্নয়নশীল দেশ মিলে যে পরিমাণ গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ করে, চীন একাই তার চেয়ে বেশি গ্যাস নিঃসরণ করে বলে উঠে এসেছে এক গবেষণা প্রতিবেদনে

এর আগে ২০০৬ সালে পরিবেশ দূষণকারী গ্রিনহাউজ গ্যাস কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে প্রথম অবস্থানে এসেছিল দেশটি।

শুক্রবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বৈশ্বিক অর্থনীতি ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা রোডিয়াম গ্রুপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে একাই বৈশ্বিক উষ্ণতার জন্য দায়ী বিশ্বের মোট গ্রিনহাউজ গ্যাসের ২৭ শতাংশ নিঃসরণ করেছে চীন। ওই বছর দেশটি প্রথমবারের মতো সব উন্নয়নশীল দেশের মোট গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের পরিমাণকেও অতিক্রম করেছে। গত এক দশকে চীনের গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ বেড়েছে ২৫ শতাংশ।

রোডিয়াম গ্রুপের গবেষণায় অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভলপমেন্টের (ওইসিডি) সদস্য দেশগুলোকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এদের মধ্যে ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়ামসহ কয়েকটি ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশও রয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে চীনের পরেই গ্রিনহাউজ নিঃসরণে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির গ্রিনহাউজ নিঃসরণের পরিমাণ ছিল ১১ শতাংশ, যেখানে তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারতের নিঃসরণ করেছে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশ চীন। সেই হিসাবে মাথাপিছু গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণে দেশটি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। তবে গত দুই দশকে চীনের মাথাপিছু গ্রিনহাউজ নিঃসরণও তিনগুণ বেড়েছে।

গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের ইতিহাসে শিল্প বিপ্লবের পর ২০১৯ সাল পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গ্যাস নিঃসরণ করেছে ওইসিডিভুক্ত দেশগুলি।

রোডিয়ামের গবেষকরা বলছেন, ‘গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণে চীন কিছু দিন আগে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অতিক্রম করলেও গত কয়েক শতাব্দী ধরে এই দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি নিঃসরণকারী।’

গ্রিনহাউজ গ্যাসের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ায় মেরু অঞ্চলের বরফ গলে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। এতে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বিশ্বের অনেক দেশ। একই সঙ্গে আফ্রিকার মরু অঞ্চলে বাড়ছে খরার তীব্রতা।

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনহাউজ গ্যাস কমানোর বিষয়ে কোনো ঐক্যমতে না আসতে পারলে জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকানো কঠিন হয়ে উঠবে।

২০৬০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে চীন। অন্যদিকে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় করা প্যারিস চুক্তিতে ফিরেছে যুক্তরাষ্ট্র।

আরও পড়ুন:
জর্ডানের সাবেক যুবরাজ গৃহবন্দি  

শেয়ার করুন

করোনায় ভারতে ঘণ্টায় মৃত্যু ১৫০

করোনায় ভারতে ঘণ্টায় মৃত্যু ১৫০

গত টানা ১০ দিন তিন হাজারের বেশি করোনাজনিত মৃত্যু দেখেছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম দেশটি। এই সময়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৩৬ হাজার ১১০ জন, যার অর্থ প্রতি ঘণ্টায় সংখ্যা ১৫০ জনের বেশি।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে খেই হারা ভারত। কোনোভাবেই পরিস্থিতি সামাল দেয়া যাচ্ছে না। প্রায় প্রতিদিনই হচ্ছে শনাক্ত-মৃত্যুর রেকর্ড। দেশটিতে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে গত ১০ দিন ধরে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ১৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টার হিসাবে বৃহস্পতিবার ভারত করোনা শনাক্তে নতুন রেকর্ড হয়েছে। এই সময়ে ৪ লাখ ১৪ হাজারের বেশি মানুষের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। মৃত্যু হয়েছে আরও ৩ হাজার ৯২৭ জনের।

টানা ১০ দিন তিন হাজারের বেশি করোনাজনিত মৃত্যু দেখেছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম দেশটি। এই সময়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৩৬ হাজার ১১০ জন, যার অর্থ প্রতি ঘণ্টায় সংখ্যা ১৫০ জনের বেশি।

করোনায় ১০ দিনের হিসাবে এতবেশি মৃত্যু দেখেনি আর কোনো দেশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব বলছে ১০ দিনের ব্যবধানে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুতে ভারতের ঠিক পরেই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ৩৪ হাজার ৭৯৮ জন। এরপর ব্রাজিল, ৩২ হাজার ৬৯২ জন। এই তালিকায় থাকা পরের দুই দেশ মেক্সিকো, ১৩ হাজার ৮৯৭ জন এবং যুক্তরাজ্য ১৩ হাজার ২৬৬ জন।

করোনা সম্পরর্কীত সরকারি হিসাব তুলে ধরে টাইমস অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ভারত চার লাখের বেশি শনাক্ত দেখেছে টানা দুই দিন। বৃহস্পতিবার সংক্রমণ ৪ লাখ ১৪ হাজার ৫৫৪ জনের শরীরে; বুধবার সংক্রমণ ধরা পড়ে ৪ লাখ ১২ হাজার ৭৮৪ জনের শরীরে।

করোনাজনিত কারণে বৃহস্পতিবার ১০০ এর বেশি মৃত্যু দেখেছে ১৩টি রাজ্য। এর মধ্যে ছয়টি রাজ্যে হয়েছে মৃত্যুর রেকর্ড। জনসংখ্যার হিসাবে ১৩ রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে ছোট রাজ্য উত্তরাখন্ড।

করোনার মধ্যেই এই রাজ্যে হয়েছে কুম্ব মেলা। বৃহস্পতিবার রাজ্যটিতে ১৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে, সর্বোচ্চ মৃত্যুর তালিকায় দশম।

করোনায় মৃত্যুতে রেকর্ড গড়েই যাচ্ছে মহারাষ্ট্র। ২৪ ঘণ্টার হিসাবে বৃহস্পতিবার রাজ্যটিতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৫৩ জনে। এ ছাড়া, ৩০০ এর বেশি মৃত্যুর খবর দেয় উক্তর প্রদেশ, দিল্লি ও কর্ণাটক। আর ২০০ এর বেশি মৃত্যু হয়েছে চত্তিশগরে।

এ ছাড়া একশোর বেশি মৃত্যু হওয়া রাজ্যগুলো হলো- তামিলনাড়ু, হরিয়ানা, রাজস্থান, পাঞ্জাব, উত্তরাখন্ড, ঝাড়খন্ড, গুজরাট ও পশ্চিমবঙ্গ। একদিনের হিসাবে রেকর্ড মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে তামিলনাডু (১৯৫), রাজস্থান (১৬১), পশ্চিমবঙ্গ (১১৭), কেরালা (৬৩) ও জম্মু-কাশ্মীরে (৫২)।

আরও পড়ুন:
জর্ডানের সাবেক যুবরাজ গৃহবন্দি  

শেয়ার করুন

ভালুক নিয়ে ভোটের প্রচারে

ভালুক নিয়ে ভোটের প্রচারে

গর্ভনর প্রার্থী হতে প্রচারের সময় ভালুক নিয়ে হাজির জন কক্স। ছবি: এএফপি

কক্সের প্রচারের পুরোটা সময় খুব শান্ত অবস্থায় বসে থেকে ‘বক্তব্য শুনেছে’ ট্যাগ নামের ভালুকটি। সেখানে জনসম্মুখেই তাকে নাস্তা করায় তার প্রশিক্ষক।

দলের পতাকায় প্রতীক হিসেবে স্থান পেয়েছে ভালুক। তবে প্রচারের মাঠে জ্যান্ত ভালুক নিয়ে হাজির হবেন কেউ এটা কল্পনা করাও একটু কঠিনই। তবে এমনই হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়।

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর হিসেবে ভোটের লড়াই শুরু হতে যাচ্ছে। তার আগে চলছে প্রার্থী নির্বাচনের কাজ। আর প্রার্থী হতে অনেকেই চালাচ্ছেন নানা ধরনের প্রচার।

সেই নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী হতে জন কক্স নামের এক রাজনীতিবিদ প্রচারের সময় ৫০০ কেজি ওজনের এক ভালুক নিয়ে র‍্যালিতে অংশ নেন।

‘বিউটি অ্যান্ড দ্য বিস্ট’ স্লোগানে জন কক্স প্রচার শুরু করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়া হলিউডের রাজ্য হিসেবেও পরিচিত। তবে জন কক্স লোকজনের কাছে খুব বেশি পরিচিত মুখ নন।

রাজ্যেটির বর্তমান গভর্নর ডেমোক্র্যাট দলের ডেভিড নিউজম। তিনি সমাধিক পরিচিতও বটে।

কক্স রাজ্যটির বাসিন্দাদের বিভিন্ন আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তাকে নির্বাচিত করতে সমর্থন আদায়ের চেষ্টায়।

এরপরই তিনি নতুন এক জনসভায় হাজির হয়েছেন কোডিয়াক ভালুক নিয়ে। এটি আরসিন প্রজাতির ভালুক, যা খুব বড় হয়।

ভালুকটির নাম ট্যাগ। তাকে অবশ্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে সিনেমা, টিভি সিরিজ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অভিনয়ের জন্য।

কক্সের প্রচারের পুরোটা সময় খুব শান্ত অবস্থায় বসে থেকে ‘বক্তব্য শুনেছে’ ট্যাগ। সেখানে জনসম্মুখেই তাকে নাস্তা করায় তার প্রশিক্ষক।

অবশ্য এমন কর্মকাণ্ডের জন্য এরই মধ্যে সমালোচিত হতে শুরু করেছেন জন কক্স। বিভিন্ন প্রাণী অধিকার সুরক্ষা সংস্থাগুলো কক্সের বিরুদ্ধে আইন অমান্যের অভিযোগ এনেছেন।

প্রাণীদের অধিকার সুরক্ষার সংগঠন পিপলস ফল দ্য এথিক্যাল ট্রিটমেন্টস অফ অ্যানিমেলস (পিআইটিএ) বলছে, ‘এভাবে একজন রাজনীতিকের কোডিয়াক ভালুক ব্যবহার করা খুবই দুর্ভাগ্যজনক ও লজ্জাজনক।’

বন্যপ্রাণীকে এসব প্রচারকাজ থেকে দূরে রাখার আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটি এক টুইটে রাজনীতিবিদদের আহ্বান জানান।

মূলত ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর করোনা মহামারি মোকাবিলায় ব্যর্থতার পরিচয় দেয়ায় চাপে পড়ে চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়েছেন।

আরও পড়ুন:
জর্ডানের সাবেক যুবরাজ গৃহবন্দি  

শেয়ার করুন