আবার লকডাউনের পথে মহারাষ্ট্র

ভারতে সেপ্টেম্বরের পর সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয় শনিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায়। ছবি: এনডিটিভি

আবার লকডাউনের পথে মহারাষ্ট্র

মহারাষ্ট্র, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ুতে যে হারে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, তা থেকে সহজেই বোঝা যায়, শুধু লকডাউন বা রাত্রিকালে কারফিউ জারি করে করোনা অতিমারি আটকানো সম্ভব নয়। করোনা মোকাবিলায় একমাত্র পথ হতে পারে দ্রুত সবাইকে টিকা কার্যক্রমের আওতায় আনা।পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো। বাড়াতে হবে করোনা পরীক্ষা।

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বেড়েই চলেছে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি মহারাষ্ট্রে। সংক্রমণ ঠেকাতে এই রাজ্যে আবার লকডাউন ঘোষণা করা হতে পারে।

শনিবার ভারত সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্যানুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় নতুন সংক্রমণ ৮৯ হাজার ১২৯। গত সেপ্টেম্বরের পর শনাক্তের দিক থেকে এটাই সর্বোচ্চ সংখ্যা। তাই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আটকাতে আবারও লকডাউনের পথেই হাঁটবে সরকার?

ভারতের ২৮টি রাজ্যের মধ্যে মহারাষ্ট্রের করোনা পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। শুক্রবারই নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৪৭ হাজার ৮২৭ জন। মৃত্যু হয়েছে ২১২ জনের। গত বছর মহামারি ঘোষণার পর থেকে একদিনে আক্রান্তের এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা। সংক্রমণ রোধে লকডাউন জারির সম্ভাবনা প্রকট হচ্ছে। তবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে এখনও লকডাউন ঘোষণা দেননি।

পরিস্থিতি পর্যালোচনায় চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে শনিবারই মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক করার কথা। শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে করোনা রোধে আরব সাগর তীরের এই রাজ্যে আবার লকডাউন দেয়া হবে কিনা।

মহারাষ্ট্রের বড় বেশ কয়েকটি শহরে এরই মধ্যে রাত্রিকালে কারফিউ জারি করা হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত জরুরি পরিষেবা ছাড়া সিনেমা হল, রেস্তোরাঁ, শপিং মল বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। ফের লকডাউন এড়াতে স্বাস্থবিধি মেনে চলার জন্য রাজ্যের সব প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

দিল্লিও পিছিয়ে নেই। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে আক্রান্ত ৩ হাজার ৫৯৪। কিন্তু দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, এখনই লকডাউন নয়।

কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশের সরকার নতুন কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। স্কুলে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে বেঙ্গালুরু প্রশাসন। কর্ণাটকের প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক শিক্ষামন্ত্রী সুরেশ কুমার জানিয়েছেন, সংক্রমণ বাড়ছে এবং পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হলো।

দেশজুড়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যেই বেশ কয়েকটি রাজ্যে চলছে বিধানসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনের প্রচারে বহু ক্ষেত্রেই কোভিড বিধি মানছেন না রাজনৈতিক নেতা–কর্মীরা। সচেতনতা বাড়ানোর কথা প্রচার করা হলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। করোনা বাড়ার এটাও কারণ।

এর পাশাপাশি আরেকটি বিষয় হলো গত বছর লকডাউন ঘোষণা করা হলেও সেই সময় থেকেই ব্যাপকহারে বাড়তে শুরু করে করোনার সংক্রমণ। তাই এবার লকডাউন জারি করলে করোনা সংক্রমণ কতটা নিয়ন্ত্রণে আসবে তাও খতিয়ে দেখতে হবে।

গত বছর লকডাউন জারি করার পরও সংক্রমণের হার সারা দেশেই বেড়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, ওই সময় লকডাউন জারি না করা হলে করোনা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করত।

চিকিৎসকদের মতে, মহারাষ্ট্র, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ুতে যে হারে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে তা থেকে সহজেই বোঝা যায়, শুধু লকডাউন বা রাত্রিকালে কারফিউ জারি করে করোনা অতিমারি আটকানো সম্ভব নয়।

করোনা মোকাবিলায় একমাত্র পথ হতে পারে দ্রুত সবাইকে টিকা কার্যক্রমের আওতায় আনা। পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো। বাড়াতে হবে করোনার পরীক্ষা।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পশ্চিমবঙ্গে ভোটকেন্দ্রের বাইরে গুলি-সংঘর্ষে নিহত ৫

পশ্চিমবঙ্গে ভোটকেন্দ্রের বাইরে গুলি-সংঘর্ষে নিহত ৫

কুচবিহারের একটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় স্থানীয়রা। ছবি: এনডিটিভি

কোচবিহারের একটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ করছে বিজেপি ও তৃণমূল।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ভোট চলার সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিতে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে চারজন। দলীয় সংঘর্ষে প্রাণ গেছে আরও একজনের।

কোচবিহারের একটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ করছে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস।

শনিবার সকালে কলকাতা থেকে ৬৮০ কিলোমিটার দূরের শীতলকুচি এলাকার একটি কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। কেন্দ্রটিতে ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।

বিধানসভা নির্বাচনের চতুর্থ দফার ভোট চলছে রাজ্যের ৪৪টি আসনে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, সকালে শীতলকুচির একটি বুথে ভোট দিয়ে এক তরুণ বাড়ি ফিরে যান। বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ লাগছে জানালে আশপাশের এলাকায় দ্রুত গুজব ছড়িয়ে পড়ে, তাকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পিটিয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরই ওই বুথটিতে পৌঁছায় কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী সিআইএসএফের একটি দল। সে সময় স্থানীয়রা তাদের ঘিরে ফেলে অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে গুলি চালাতে শুরু করে সিআইএসএফ।

এতে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের সঙ্গে থাকা পরিবারের সদস্য ও অন্যরা অভিযোগ করেন, বিজেপিকে ভোট দিতে বাধ্য করছিল সিআইএসএফ সদস্যরা। এতে অনেক ভোটার অস্বীকৃতি জানালে তাদের গুলি করা হয়।

পশ্চিমবঙ্গে এক জনসভায় অংশ নিয়ে এ ঘটনায় শোক জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ঘটনার কিছুক্ষণ পরই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার দলকে সহিংসতার জন্য দায়ী করে নিন্দাও জানান তিনি।

মোদি বলেন, ‘কোচবিহারে যা ঘটেছে, তা দুঃখজনক। শোকগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সান্ত্ব্না জানাচ্ছি। মমতা দিদি আর তার গুন্ডারা নির্বাচনে নিজেদের পরাজয় আসন্ন জেনে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।’

পাল্টা জবাব দিয়েছেন মমতাও। পুরো ঘটনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে দায়ী করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগ দাবি করেছেন তিনি।

মমতা বলেন, ‘বিজেপি জানে যে তারা জিতবে না। তাই বোমাবাজি করে আর সহিংসতা চালিয়ে অরাজক পরিবেশ তৈরি করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গ্রামে গ্রামে নির্যাতন চালাচ্ছে বিএসএফ আর সিআইএসএফের সদস্যরা। নারী, ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের হুমকি দিচ্ছে যে তারা যদি বিজেপিকে ভোট না দেয়, তাহলে পরিণতি ভালো হবে না। ভোটে দাঁড়ানো মানুষজনকে এলোপাতাড়ি গুলি করছে। তাদের এই সাহস কারা জোগাচ্ছে?’

সহিংসতা জন্য বিজেপিকে দায়ী করে তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে, দলটির পাঁচ কর্মী নিহত হয়েছে।

মমতা বলেন, ‘পঞ্চায়েত নির্বাচনেও এত মানুষ মারা যায়নি। সাধারণ নির্বাচনের সময় ২০ জন নিহত হয়েছিল সহিংসতায়। ১৩ জনই আমার দলের ছিল।’

এ ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গে পুলিশের বিশেষ পর্যবেক্ষক বিবেক দুবের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ চেয়েছে নির্বাচন কমিশন।

শেয়ার করুন

ফেসবুকের বিজ্ঞাপনেও জেন্ডার পক্ষপাত

ফেসবুকের বিজ্ঞাপনেও জেন্ডার পক্ষপাত

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘যোগ্যতা বিচারে সম্ভাব্য চাকরির বিজ্ঞাপন ফেসবুক ব্যবহারকারীদের না দেখিয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা দেখানো হচ্ছে নারী-পুরুষ বিচারে।’ ফেসবুকের এই অ্যালগরিদম যুক্তরাষ্ট্রের বৈষম্যবিরোধী আইন পরিপন্থি হতে পারে বলেও জানানো হয় প্রতিবেদনে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক চাকরির বিজ্ঞাপনে নারী-পুরুষ বৈষম্য করে। অনেক ব্যবহারকারী যথাযথ যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সঠিক বিজ্ঞাপনটি দেখতে পান না। কারণ, ফেসবুকে বিজ্ঞাপন প্রচারের যে প্রক্রিয়ায় তাতে সেটি সঠিক ব্যক্তির কাছে পৌঁছায় না।

ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার এক গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য। শুক্রবার প্রকাশ করা হয় প্রতিবেদনটি। এতে বলা হয়, ফেসবুকে চাকরির বিজ্ঞাপন সমান অনুপাতে নারী ও পুরুষ ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছায় না।

গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাপভিত্তিক পণ্য সংগ্রহ ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইনস্টাকার্টের বিজ্ঞাপন বেশি দেখতে পেয়েছেন ফেসবুকের নারী ব্যবহারকারীরা। আবার ডোমিনোজ পিৎজায় আবেদনের জন্য ফেসবুকে প্রকাশিত বিজ্ঞাপন যাদের কাছে পৌঁছেছে, তাদের বেশিরভাগই পুরুষ।

ইনস্টাকার্টে বেশিরভাগই নারী চালক, যারা গ্রাহকের পণ্য সংগ্রহ করেন এবং পৌঁছে দেন। অন্যদিকে ডোমিনোজের বেশিরভাগ কর্মীই পুরুষ।

অথচ মাইক্রোসফটের প্ল্যাটফর্ম লিংকডইনে ইনস্টাকার্ট ও ডোমিনোজের একই চাকরির বিজ্ঞাপন নারী-পুরুষ ভেদে সমান ব্যবহারকারী দেখতে পেয়েছেন।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘যোগ্যতা বিচারে সম্ভাব্য চাকরির বিজ্ঞাপন ফেসবুক ব্যবহারকারীদের না দেখিয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা দেখানো হচ্ছে নারী-পুরুষ বিচারে।’

ফেসবুকের এই অ্যালগরিদম যুক্তরাষ্ট্রের বৈষম্যবিরোধী আইন পরিপন্থি হতে পারে বলেও জানানো হয় প্রতিবেদনে।

ফেসবুকের মুখপাত্র জো অসবোর্নে জানান, ব্যবহারকারীরা কোন বিষয়ে বেশি আগ্রহী, সাংকেতিকভাবে তা যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে সে অনুযায়ী তাদের কাছে ফেসবুক বিজ্ঞাপন পৌঁছায়।

বিজ্ঞাপন প্রচারে নারী-পুরুষ ভেদাভেদের অভিযোগে একাধিক মামলা ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার তদন্তে ফেসবুকের নাম জড়িয়েছে।

প্রযুক্তি খাতে স্বচ্ছতা অবলম্বনের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহযোগিতা নেয়ার কথা জানিয়েছে ফেসবুক, লিংকডইন উভয় প্রতিষ্ঠানই।

শেয়ার করুন

বড় যুদ্ধে জড়াতে পারে ভারত-পাকিস্তান: প্রতিবেদন

বড় যুদ্ধে জড়াতে পারে ভারত-পাকিস্তান: প্রতিবেদন

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আগামী দিনগুলোতে যুদ্ধ বাঁধতে পারে বলে জানানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। ছবি: ডন

দক্ষিণ এশিয়ায় সম্ভাব্য অনিশ্চয়তার একটি বড় কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তানবিষয়ক নীতিমালাকে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এর প্রভাব পড়বে আফগানিস্তানের প্রায় সব প্রতিবেশী দেশ, বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানে।

অনিচ্ছা সত্ত্বেও বড় পরিসরে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে চির প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তান।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দেয়া হয়েছে এমন আভাস।

‘গ্লোবাল ট্রেন্ডস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ জানায়, ‘ভুল-বোঝাবুঝি’র কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতিবেশী দেশ দুটির কূটনৈতিক তৎপরতায় যেকোনো মুহূর্তে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

পাকিস্তানি দৈনিক ডন জানিয়েছে, ওয়াশিংটন থেকে গত সপ্তাহে প্রকাশ হয় প্রতিবেদনটি। চার বছর পরপর প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে পরবর্তী ৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে বিশ্ব রাজনীতিতে সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের আভাস দেয়া হয়। সে অনুযায়ী নীতি নির্ধারণে প্রয়োজনীয় পরামর্শও দেয়া হয় এতে।

কী আছে প্রতিবেদনে

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতে বিচারকদের ওপর সাম্প্রতিক এক সন্ত্রাসী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে যুদ্ধের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বেশ কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের এ ধরনের হামলার সক্ষমতা অর্জন, নয়াদিল্লির প্রতিশোধ আর ইসলামাবাদের প্রতিরক্ষা—সব মিলিয়ে পাঁচ বছরের মধ্যেই ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ছে।

স্পর্শকাতর সময়ে দেশ দুটির হিসাবনিকাশে যেকোনো ধরনের ভুল বড় ধরনের আঞ্চলিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলেও সতর্ক করা হয় প্রতিবেদনে। এ ক্ষেত্রে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট অনেক বছর স্থায়ীও হতে পারে।

দক্ষিণ এশিয়ায় সম্ভাব্য অনিশ্চয়তার আরও একটি বড় কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তানবিষয়ক নীতিমালাকে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এর প্রভাব পড়বে আফগানিস্তানের প্রায় সব প্রতিবেশী দেশে, বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানে।

আফগানিস্তানের ধর্মভিত্তিক সশস্ত্র রাজনৈতিক সংগঠন তালেবান ও এর বিরোধীদের মধ্যে গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ছে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। আর এ কারণে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনের আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক বিস্তার এবং অপরাধী চক্র ও শরণার্থীদের দেশ ছাড়ার প্রেক্ষাপট।

এ ছাড়া পাকিস্তানের পশ্চিমে আফগানিস্তান, ইরান ও চীন সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে বিচ্ছিন্নতাবাদ বাড়তে পারে এ সুযোগে। এটিও ভারত-পাকিস্তান বৈরিতা বাড়ার বড় কারণ হবে বলে মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা। সঙ্গে আছে ভারত ও পাকিস্তানের সাধারণ সীমান্ত অঞ্চল কাশ্মীরে দেশ দুটির সেনাবাহিনীর আকস্মিক হস্তক্ষেপের শঙ্কা।

এসব কারণে আগামী পাঁচ বছরে দক্ষিণ এশিয়ায় বাণিজ্যিক ও জ্বালানি খাত আরও নিম্নমুখী হবে বলে আভাস দেয়া হয় প্রতিবেদনে। সামগ্রিকভাবে এখনও বিশ্বের যেকোনো অঞ্চলের তুলনায় বাণিজ্য সবচেয়ে নিম্নমুখী দক্ষিণ এশিয়াতেই।

পানি নিয়েও ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি ইউএনডিপির তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ২০২৫ সাল নাগাদ পানির তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে পাকিস্তানে। সংরক্ষণে দুর্বল অবকাঠামো ও অপর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়াসহ নানা কারণে পানির জন্য ভারত থেকে প্রবাহিত উৎসের ওপর নির্ভরতা বাড়বে পাকিস্তানের।

এ ছাড়া আঞ্চলিক দুই শক্তি চীন-ভারত দ্বন্দ্বের জেরেও দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

এতে বলা হয়, আঞ্চলিক নেতৃত্বে নয়াদিল্লির প্রভাব খর্ব করে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। ভারত মহাসাগরে চীনের কর্তৃত্বের বিপরীতে জাপানে বিনিয়োগ ও সামরিক সহযোগিতা বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করতে পারে ভারত।

আবার কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় চীনের পাশাপাশি সুদূর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও সম্পর্কে গতি রক্ষা করতে চাইবে বিভিন্ন দেশ। বিশেষ করে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার রপ্তানি বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র বলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি চাইবে না কোনো দেশই।

ভারসাম্য রক্ষার এ কূটনীতিতে দক্ষিণ এশিয়ায় চীন-যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি প্রভাব বাড়তে পারে রাশিয়া, জাপানেরও।

শেয়ার করুন

২৫ গুণ দ্রুতগতিতে ধনী দেশে টিকাদান

২৫ গুণ দ্রুতগতিতে ধনী দেশে টিকাদান

করোনাভাইরাসের টিকা নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক নারী। ছবি: এএফপি।

গত বৃহস্পতিবার নাগাদ বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১১ শতাংশ হয়েও বৈশ্বিকভাবে দেওয়া করোনা টিকার ৪০ শতাংশ নিয়েছে ২৭টি ধনী দেশের নাগরিকরা। অন্যদিকে বিশ্বের ১১ শতাংশ নিম্ন আয়ের মানুষ পেয়েছে টিকার মাত্র ১.৬ শতাংশ ডোজ।

বিশ্বের মোট জনসংখ্যার পাঁচ শতাংশকে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা দেয়া হয়েছে। তবে টিকার বিতরণ ব্যবস্থাপনায় দেখা গেছে বড় ধরনের বৈষম্য। বেশির ভাগ টিকাই বাগিয়ে নিয়েছে ধনী দেশগুলো।

গত বৃহস্পতিবার নাগাদ বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১১ শতাংশ হয়েও বৈশ্বিকভাবে দেওয়া করোনা টিকার ৪০ শতাংশ নিয়েছে ২৭টি ধনী দেশের নাগরিকরা।

অন্যদিকে বিশ্বের ১১ শতাংশ নিম্ন আয়ের মানুষ পেয়েছে টিকার মাত্র ১.৬ শতাংশ ডোজ।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের ভ্যাকসিন ট্র্যাকারে প্রকাশিত তথ্য নিয়ে এমন প্রতিবেদন করেছেন টম রান্ডেল।

ওই প্রতিবেদক জানান, স্বল্প আয়ের দেশগুলোর তুলনায় ২৫ গুণ দ্রুততার সঙ্গে টিকাদান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে উচ্চ আয়ের দেশগুলোর সরকার।

ব্লুমবার্গের টিকাবিষয়ক তথ্যভান্ডার অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৫৪টি দেশে ৭২ কোটি ৬০ লাখ ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমটি টিকাপ্রাপ্তির সঠিক অবস্থা জানাতে এসব দেশের সম্পদের হিসাবের পাশাপাশি নাগরিকদের টিকা পাওয়ার সুবিধার রেকর্ড তুলে ধরেন।

ট্র্যাকার অনুসারে দেখা যায়, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েও এখন পর্যন্ত মোট টিকার ২৪ শতাংশ প্রয়োগ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর। আর পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে দেশটির ৭৫ শতাংশ নাগরিককে টিকা দেয়া হবে।

অন্যদিকে বৈশ্বিক জনসংখ্যার ২.৭ শতাংশ হয়েও মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ ডোজ পেয়েছে পাকিস্তানের নাগরিকরা।

ধনী দেশের সরকারগুলো টিকা উৎপাদক প্রতিষ্ঠান থেকে শত শত কোটি ডোজ আগাম চুক্তির ভিত্তিতে কিনে রেখেছে। ফলে এমন বৈষ্যমের চিত্র বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা যাচ্ছে।

জনসংখ্যার ভিত্তিতে টিকার সুষম বণ্টন নিশ্চিতে এখনও কোনো উপায় বা পদ্ধতির প্রয়োগ দেখা যায়নি।

এমন বাস্তবতায় বিশ্বের সবচেয়ে কম সম্পদশালী মহাদেশ আফ্রিকার মানুষ সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হচ্ছে।

মহাদেশটির ৫৪টি দেশের মধ্যে কেবল তিনটি দেশে এখন পর্যন্ত টিকার আওতায় এসেছে মাত্র এক শতাংশ মানুষ। এখনও ২০টি দেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়নি।

শেয়ার করুন

টিউমারের রোগীর ওপর কাশি, ৩০ দিনের কারাদণ্ড

টিউমারের রোগীর ওপর কাশি, ৩০ দিনের কারাদণ্ড

চেইন শপে এক গ্রাহকের গায়ে কাশি দেয়ায় ডেবরা হান্টারকে ৩০ দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ছবি: স্ক্যারিমাম্মি ডটকম

‘পিয়ার ১’ নামের চেইন শপের কর্মীদের সঙ্গে বাদানুবাদের সময় অপর এক গ্রাহকের গায়ে ইচ্ছা করে কাশি ফেলেন ডেবরা। এ ঘটনায় গত বছরের জুনে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে গত বছর চেইন শপে ব্রেইন টিউমার থাকা গ্রাহকের গায়ে কাশি দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার এক নারীকে ৩০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার অঙ্গরাজ্যটির সবচেয়ে জনবহুল শহর জ্যাকসনভিল আদালতের বিচারক ডেবরা হান্টার নামের নারীকে এ সাজা দেন।

জ্যাকসনভিলে অবস্থিত ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি কার্যালয়ের জনসংযোগ পরিচালক ডেভিড চ্যাপম্যানের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়, কারাদণ্ডের পাশাপাশি ডেবরাকে ৫০০ ডলার জরিমানা করা হয়েছে

তাকে ছয় মাসের প্রবেশনও (সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয় মেনে চলা) দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য ও রাগ নিয়ন্ত্রণের নিয়মিত পর্যালোচনায় অংশ নিতে বলা হয়েছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকের করোনাভাইরাস পরীক্ষার খরচও বহন করতে বলা হয়েছে ডেবরা হান্টারকে।

‘পিয়ার ১’ নামের চেইন শপের কর্মীদের সঙ্গে বাদানুবাদের সময় অপর এক গ্রাহকের গায়ে ইচ্ছা করে কাশি ফেলেন ডেবরা। এ ঘটনায় গত বছরের জুনে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ঘটনার তদন্তকারীদের ভাষ্য, চেইন শপের কর্মীদের সঙ্গে ডেবরার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ধারণ করছিলেন ভুক্তভোগী হিদার স্প্র্যাগ। বিষয়টি দেখে হিদারের দিকে তেড়ে আসেন ডেবরা।

ওই সময় তিনি হিদারের গায়ে কফ ফেলার কথা বলেন এবং একপর্যায়ে সত্যি সত্যিই তা করেন।

এ নিয়ে স্প্র্যাগ বিচারককে বলেন, ঘটনার পর থেকে তিনি উদ্বেগের সঙ্গে সপরিবার করোনা পরীক্ষার স্থান খুঁজছিলেন। অবশেষে তিনি পরীক্ষা করাতে পেরেছিলেন। সে পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছিল।

শেয়ার করুন

রাতভর হত্যা, মিয়ানমারকে ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণার আহ্বান

রাতভর হত্যা, মিয়ানমারকে ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণার আহ্বান

অস্থায়ী ব্যারিকেডের পেছন থেকে আতশবাজি ছুঁড়ে সেনাবাহিনীকে পিছু হটানোর চেষ্টা মিয়ানমারের বিক্ষোভকারীদের। ছবি: এএফপি

রেডিও ফ্রি এশিয়া জানিয়েছে, ইয়াঙ্গুনসহ বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতা চলছে। বিক্ষোভকারীদের তৈরি করা ব্যারিকেড ভেঙে দেয়া হচ্ছে। আন্দোলনরত মানুষের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়া হচ্ছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই ব্যাপক ধরপাকড় চালাচ্ছে পুলিশ।

মিয়ানমারে শুক্রবার রাত ও শনিবার সকাল পর্যন্ত কমপক্ষে ৬০ বিক্ষোভকারীকে গুলি করে হত্যা করেছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

এ নিয়ে দেশটিতে পয়লা ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের পর থেকে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১৮ জনে।

অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স জানিয়েছে, এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রায় তিন হাজার মানুষকে।

এমন অবস্থায় সেনাবাহিনীর ওপর চাপ প্রয়োগে মিয়ানমারকে ‘নো ফ্লাই জোন’ (উড্ডয়ন নিষিদ্ধ এলাকা) ঘোষণা ও দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির প্রতিনিধি।

শুক্রবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এক বৈঠকে ভার্চুয়ালি অংশ নেন কিয়াও মোয়ে তুন।

তিনি বলেন, মিয়ানমারে শিশুসহ শ শ মানুষ নিহত হওয়ার পরও হত্যা বন্ধে দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

এ সময় চলমান অরাজকতা বন্ধ এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তাৎক্ষণিক ও শক্ত ব্যবস্থা নিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি।

জাতিসংঘে নিযুক্ত মিয়ানমারের প্রতিনিধি বলেন, বেসামরিক এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনীর বিমান অভিযান চলছে। আরও রক্তপাত এড়াতে অঞ্চলগুলোকে ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণা করা উচিত।

সেনা কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব জব্দ, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করা পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগ বন্ধেরও আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ।

রেডিও ফ্রি এশিয়া জানিয়েছে, ইয়াঙ্গুনসহ বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতা চলছে। বিক্ষোভকারীদের তৈরি করা ব্যারিকেড ভেঙে দেয়া হচ্ছে। আন্দোলনরত মানুষের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়া হচ্ছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই ব্যাপক ধরপাকড় চালাচ্ছে পুলিশ।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ দমনের লক্ষ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর আক্রমণে নিহত ছয় শতাধিক মানুষের মধ্যে কমপক্ষে ৪৩ জন শিশু ছিল।

যদিও শিশুহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাও মিন তুন বলেন, বাড়িতে ঢুকে শিশুদের ওপর সেনাসদস্যরা কখনোই গুলি চালাবে না। যদি এমন কিছু ঘটে থাকেও তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ভারতে অনুপ্রবেশ

চলমান সহিংস পরিস্থিতিতে সীমান্তপথে ভারতে অনুপ্রবেশ করছে মিয়ানমারের বিপুলসংখ্যক নাগরিক। বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

এতে বলা হয়েছে, ভারতের মণিপুরে সীমান্ত অঞ্চলে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের মিয়ানমার থেকে আসা ‘আশ্রয়প্রার্থীদের ভালোভাবে দেশে ফেরত পাঠানোর’ নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার।

এ আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাপক জনরোষের মুখে দ্বিতীয় একটি আদেশ জারি করা হয়েছে।

এতে মিয়ানমার থেকে আসা আহত আশ্রয়প্রার্থীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করাসহ সব ধরনের মানবিক পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

রানির স্বামী কিন্তু রাজা নন

রানির স্বামী কিন্তু রাজা নন

প্রিন্স ফিলিপ ও রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। ছবি: সংগৃহীত

আইনে বলা হয়েছে, ক্রাউন প্রিন্সেসকে যে বিয়ে করবেন, তিনি রাজা নন, হবেন রানির রাজকীয় সঙ্গী। রানি চাইলে তাকে খেতাব হিসেবে ‘সঙ্গী রাজা’র উপাধি দিতে পারেন। কিন্তু রাজার ক্ষমতা কখনোই তিনি প্রয়োগ করতে পারবেন না।

রাজার স্ত্রী যেমন রানি, তেমনি রানির স্বামীরও রাজাই হওয়ার কথা। কিন্তু ৭৩ বছর যুক্তরাজ্যের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে সংসার করেও সে উপাধি বা কর্তৃত্ব কোনোটাই পাননি প্রিন্স ফিলিপ।

এর কারণ প্রিন্স ফিলিপের কোনো অযোগ্যতা নয়, বরং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের একটি আইন। ওই আইনে বলা হয়েছে, যুবরানি বা ক্রাউন প্রিন্সেসকে যে ব্যক্তি বিয়ে করবেন, তিনি রাজা নন, হবেন রানির রাজকীয় সঙ্গী। রানি চাইলে তাকে খেতাব হিসেবে ‘সঙ্গী রাজা’র উপাধি দিতে পারেন। কিন্তু রাজার ক্ষমতা কখনোই তিনি প্রয়োগ করতে পারবেন না।

রাজাকে বিয়ে করলেও বিষয়টি খুব ভিন্ন কিছু হয় না। রাজার স্ত্রীর পরিচয় হয় ‘সঙ্গী রানি’। কিন্তু শুধু নামেই। রানির কোনো ক্ষমতাই তিনি চর্চা করতে পারেন না।

গ্রিক ও ড্যানিশ রাজকুমার ফিলিপের জীবন পাল্টে যায় ১৯৫২ সালে। ওই বছর প্রিন্সেস এলিজাবেথের বাবার মৃত্যু হয়। আবার ওই বছরই অভিষেক হয় রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের। নৌ কর্মকর্তার ক্যারিয়ার ছেড়ে, গ্রিক ও ড্যানিশ প্রিন্সের খেতাব জলাঞ্জলি দিয়ে স্ত্রীর রাজকর্মে সহায়তা শুরু করেন তিনি।

প্রিন্স ফিলিপ

ক্ষমতাসীন রানির স্বামী হওয়ার পরও কখনও রাজা হিসেবে পরিচিত হননি প্রিন্স ফিলিপ। বরং তাকে বলা হয়েছে রানির ‘সঙ্গী রাজকুমার’। রাজার খেতাব কখনোই তাকে দেয়া হয়নি। রানি চাইলে প্রিন্স ফিলিপকে ‘সঙ্গী রাজার’ উপাধি দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি প্রয়োজন মনে করেননি।

রানির পর সিংহাসনে বসার তালিকায় প্রথম অবস্থান প্রিন্স চার্লসের। তার পরে আছেন তার জ্যেষ্ঠপুত্র প্রিন্স উইলিয়াম। এরপর উইলিয়ামের বড় ছেলে জর্জ। এর পর জর্জের ছোট বোন শার্লট।

মজার বিষয় হচ্ছে, রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মা (রানি মাতা হিসেবেই তিনি বেশি পরিচিত ছিলেন) প্রথম এলিজাবেথও রানি ছিলেন না। তিনি রাজার ‘সঙ্গী রানি’ ছিলেন।

আবার রানির বড় ছেলে প্রিন্স চার্লস যদি সিংহাসনে বসেন, তাহলে তার স্ত্রী ক্যামিলা হবেন শুধুই সঙ্গী। ‘রানি’ অভিধা পাবেন না তিনি। কারণ তাদের বিয়ের সময়ই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়, চার্লসের প্রথম স্ত্রী প্রিন্সেস অব ওয়েলস ডায়ানার সম্মানার্থে কখনও রানির খেতাব ব্যবহার করবেন না ক্যামিলা। রানিও হতে পারবেন না।

যদিও চার্লসের বড় ছেলে প্রিন্স উইলিয়ামের স্ত্রী কেট মিডলটনের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন হবে। প্রিন্স উইলিয়াম রাজা হওয়ার পর তিনি রানি ক্যাথেরিন হিসেবে পরিচিত হবেন। যদিও প্রকৃত রানি হতে পারবেন না। হবেন ‘সঙ্গী রানি’।

শেয়ার করুন