মিসরে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৩২

মিসরে ট্রেন দুর্ঘটনায় দুমড়েমুচড়ে যাওয়া বগির ভেতর থেকে হতাহতদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন স্থানীয়রা। ছবি: এএফপি

মিসরে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৩২

মিসরের রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অজ্ঞাত কয়েকজন ব্যক্তি ট্রেনের ‘ইমার্জেন্সি ব্রেকে’ টান দেয়ার পর এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হঠাৎ ব্রেকের কারণে থেমে থাকা একটি ট্রেনকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় চলন্ত ট্রেনটি।

মিসরের সোহাজ শহরে দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে প্রাণ গেছে কমপক্ষে ৩২ যাত্রীর। আহত হয়েছে অন্তত ৬৬ জন।

শুক্রবার সোহাজের উত্তরাঞ্চলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মিসরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হতাহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নেয়ার জন্য ৩৬টি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়েছে ঘটনাস্থলে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, তীব্র সংঘর্ষে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারে সহযোগিতা করছেন স্থানীয়রাও।

দুর্ঘটনার কারণ এখনও জানা যায়নি।

নিরাপত্তা কর্মকর্তার সূত্রে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দুই ট্রেনের সংঘর্ষে দুমড়েমুচড়ে গেছে দুটি বগি। উল্টে গেছে আরেকটি বগি। দুর্ঘটনার সময় খুব একটা বেশি গতিতে চলছিল না ট্রেন দুটি।

মিসরের রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অজ্ঞাত কয়েকজন ব্যক্তি ট্রেনের ‘ইমার্জেন্সি ব্রেকে’ টান দেয়ার পর এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হঠাৎ ব্রেকের কারণে থেমে থাকা একটি ট্রেনকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় চলন্ত ট্রেনটি। কারা এবং কেন এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা জানতে চলছে তদন্ত।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন মিসরের স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

উত্তর আফ্রিকায় সর্ববৃহৎ ও সবচেয়ে প্রাচীন রেল যোগাযোগের দেশ মিসর। অব্যবস্থাপনা ও দুর্বল অবকাঠামোর কারণে দেশটিতে প্রায়ই ছোটবড় রেল দুর্ঘটনা ঘটে।

২০১৭ সালে সরকারি তথ্যেই মিসরে রেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১ হাজার ৭৯৩ জনের।

তবে দেশটিতে এযাবৎকালের সবচেয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে ২০০২ সালে। রাজধানী কায়রো থেকে মিসরের দক্ষিণাঞ্চলে যাওয়ার সময় চলন্ত ট্রেনে আগুন লেগে প্রাণ যায় ৩ শতাধিক মানুষের।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কার্বন নিঃসরণ ২০২১ সালে: আইইএ

ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কার্বন নিঃসরণ ২০২১ সালে: আইইএ

জ্বালানি জীবাশ্ম পোড়ানোয় বাড়ছে কার্বন নিঃসরণ। ছবি: এএফপি

আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক ও উদ্বেগের। একদিকে রাষ্ট্রপ্রধানরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা তাদের অগ্রাধিকার। অন্যদিকে আমরা ইতিহাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম কার্বন নিঃসরণ দেখছি। এটি আসলেই হতাশাজনক।’

করোনা মহামারির আঘাতে তৈরি অর্থনৈতিক মন্দা কাটাতে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার বাড়িয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। এ খাতে প্রণোদনা দিয়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে তারা। এতে বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের নিঃসরণ চলতি বছরে শুধু বাড়বেই না, বৃদ্ধির দিক থেকে এটি হবে ইতিহাসে দ্বিতীয় বৃহত্তম।

আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (আইইএ) এমন পূর্বাভাস দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে

সংস্থাটির পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ১০ বছর আগে ব্যাপক আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে বিশ্ব। ওই ঘটনার পর এই প্রথম কার্বন নিঃসরণের হার এতটা বাড়তে যাচ্ছে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে, সেটি আগামীতে আরও বাড়বে।

আইইএ বলছে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ এরই মধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। চলতি বছরে ব্যাপক মাত্রায় কার্বন নিঃসরণ বন্ধে দেশগুলোকে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে, নাহলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা সম্ভব নয়।

জীবাশ্ম জ্বালানির মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিকর কয়লা। পৃথিবীর অনেক দেশে বিদ্যুতের জন্য কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও এশিয়ায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। এতে কার্বন নিঃসরণ বাড়ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার বিপুল ব্যবহারে তাই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাম কয়লার চেয়ে কম। এরপরেও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লার ব্যবহার কমছে না।

আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক ও উদ্বেগের। একদিকে রাষ্ট্রপ্রধানরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন তাদের অগ্রাধিকার। অন্যদিকে আমরা ইতিহাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম কার্বন নিঃসরণ দেখছি। এটি আসলেই হতাশাজনক।’

বিজ্ঞানীরা আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৫ সেলসিয়াস পর্যন্ত রাখতে চাইলে এ দশকে কার্বন নিঃসরণ ৪৫ শতাংশ কমাতে হবে। এর অর্থ বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা যেন এতটা না বাড়ে যাতে তাপমাত্রা বিপজ্জনক হারে বৃদ্ধি পেতে পারে। এজন্য এই দশকেই কার্বন নিঃসরণ সহনীয় পর্যায়ে আনা জরুরি।

বিরল বলেন, ‘মহামারির কারণে হওয়া অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঠেকাতে কার্বন নিঃসরণ বাড়ানো আমাদের এ বার্তা দেয়, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আমাদের প্রাথমিক পদক্ষেপ কোনোভাবেই পর্যাপ্ত নয়।’

২০১০ সালের আর্থিক সংকটের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করেন আইইএর নির্বাহী পরিচালক বিরল। সে সময় সস্তা জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের মধ্য দিয়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা হয়েছিল। এর ফলে কার্বন নিঃসরণ ছয় শতাংশের বেশি বেড়ে যায়।

বিরল সতর্ক করে বলেন, ‘মনে হচ্ছে, আমরা আবারও একই ভুল করছি। ২০১০ সালের চেয়ে এবার আমি আরও বেশি হতাশ।’

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে গত বছর বিশ্বের অনেক দেশে কঠোর লকডাউন দেয়া হয়। ওই সময় কার্বন নিঃসরণ রেকর্ড সাত শতাংশ কমে যায়। কিন্তু লকডাউন উঠে যাওয়ার পর বছরের শেষের দিকে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ আগের জায়গায় ফেরত আসে। কয়েকটি জায়গায় তা ২০১৯ সালের পরিমাণকেও ছাড়িয়ে যায়।

শেয়ার করুন

কিউবায় কাস্ত্রো যুগের অবসান

কিউবায় কাস্ত্রো যুগের অবসান

প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি কিউবার সবচেয়ে প্রভাবশালী পদটিও সামলাবেন মিগুয়েল ডায়াজ-ক্যানেল। ছবি: এএফপি

২০১৮ সালে কিউবার প্রেসিডেন্ট হন ডায়াজ-ক্যানেল। কাস্ত্রো সরকারের প্রতি বিশ্বস্ত ও তাদের সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক কাঠামোতে বিশ্বাসী বলে মনে করা হয় তাকে।

কিউবায় ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির (পিসিসি) ফার্স্ট সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল ডায়াজ-ক্যানেল।

ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্রটির সবচেয়ে প্রভাবশালী এ পদটি গত ৬২ বছর ধরে ছিল কাস্ত্রো পরিবারের। ১৯৫৯ সালের বিপ্লবের পর এবারই প্রথম এ পদটিতে এমন কেউ এলেন, যার নামে নেই কাস্ত্রো শব্দটি।

স্থানীয় সময় সোমবার কিউবার পরবর্তী নেতা হিসেবে মিগুয়েল ডায়াজ-ক্যানেলের নাম ঘোষণা করা হয়। এর মাধ্যমে একই সঙ্গে দল ও রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি।

২০১৮ সালে রাউল কাস্ত্রোর পর কিউবার প্রেসিডেন্ট হন ডায়াজ-ক্যানেল। কাস্ত্রো সরকারের প্রতি বিশ্বস্ত ও তাদের সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক কাঠামোতে বিশ্বাসী বলে মনে করা হয় তাকে।

দলীয় চার দিনের সম্মেলনের প্রথম দিন শুক্রবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন ৮৯ বছর বয়সী রাউল কাস্ত্রো। নতুন দলপ্রধানের নাম ঘোষণার আগে তিনি বলেছিলেন, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী তরুণ কোনো নেতার হাতে নেতৃত্ব হস্তান্তর করতে চান তিনি।

৬০ বছরের ডায়াজ-ক্যানেল বয়সে পূর্বসূরি রাউল কাস্ত্রোর চেয়ে প্রায় ৩০ বছরের ছোট। কাস্ত্রো পরিবারের বাইরে কিউবার ক্ষমতা গেলেও ডায়াজ-ক্যানেলের হাত ধরে তাৎক্ষণিক কোনো রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের শঙ্কা নেই বলে মত বিশ্লেষকদের। নিরাপদ হাতেই দেশের দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন বলে মনে করেন রাউল কাস্ত্রোও।

বড় ভাই ফিদেল কাস্ত্রোর পর ২০১১ সালে পিসিসির ফার্স্ট সেক্রেটারি হন রাউল। ১৯৫৯ সালের বিপ্লবে স্বৈরাচারী শাসক জেনারেল ফুলজেনসিও বাতিস্তাকে উৎখাতের পর থেকেই দেশের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন দুই ভাই।

ষাটের দশকের শুরু থেকে পঞ্চাশ বছর কিউবার নেতৃত্বে ছিলেন ফিদেল। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে ২০০৮ সালে ভাই রাউলকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব হস্তান্তর করেন ফিদেল। ২০১৬ সালে তার মৃত্যুর পর থেকে পিসিসির প্রধান ছিলেন রাউল।

শেয়ার করুন

কৃষ্ণাঙ্গ ফ্লয়েড হত্যার রায় ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে কঠোর নিরাপত্তা

কৃষ্ণাঙ্গ ফ্লয়েড হত্যার রায় ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে কঠোর নিরাপত্তা

ফ্লয়েড হত্যার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নেয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ছবি: এএফপি

তিন সপ্তাহের শুনানি শেষ হলেও রায় ঘোষণা এখনও বাকি। নিরাপত্তা নিশ্চিতে মিনেপোলিস আদালত চত্বরে কাঁটাতারের বেড়া, ব্যারিকেড স্থাপনসহ মোতায়েন করা হয়েছে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের।

যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যা মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মিনেপোলিসসহ বিভিন্ন শহরে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

শুনানির শেষ দিন সোমবার বাদীপক্ষের আইনজীবীরা বহিষ্কৃত পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক শভিনকে ফ্লয়েডের হত্যাকারী আখ্যা দেন।

যদিও শভিনের পক্ষের আইনজীবীদের দাবি, পুলিশ প্রশিক্ষণ অনুযায়ীই ব্যবস্থা নিয়েছিলেন তিনি।

তিন সপ্তাহের শুনানি শেষ হলেও রায় ঘোষণা এখনও বাকি। নিরাপত্তা নিশ্চিতে মিনেপোলিস আদালত চত্বরে কাঁটাতারের বেড়া, ব্যারিকেড স্থাপনসহ মোতায়েন করা হয়েছে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের।

রায় ঘোষণা হলে বিভিন্ন শহরে আন্দোলন শুরু হতে পারে, এমন আশঙ্কায় নেয়া হচ্ছে নানা নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

গত বছরের মে মাসে পুলিশের হেফাজতে নিহত হন ৪৬ বছর বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান জর্জ ফ্লয়েড। সে সময় ভাইরাল ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ফ্লয়েডের ঘাড়ে নয় মিনিটের বেশি সময় হাঁটু দিয়ে জোরে চাপ দিয়ে রাখেন শ্বেতাঙ্গ শভিন। এক পর্যায়ে ফ্লয়েড নিস্তেজ হয়ে পড়লেও তাতে তোয়াক্কা ছিল না উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার্স’ নামে গণবিক্ষোভের মুখে চার পুলিশ কর্মকর্তা বাহিনী থেকে বহিষ্কার হন। এদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত শভিনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়।

মামলায় উল্লেখিত সব অভিযোগই অস্বীকার করেন শভিন। অপরাধ প্রমাণে সর্বোচ্চ ৪০ বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারে তার।

দীর্ঘ শুনানিতে চিকিৎসক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষজ্ঞ, শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা, পথচারী, ফ্লয়েডের স্বজন ও বন্ধুবান্ধবসহ ৪৫ জন সাক্ষীর বক্তব্য শুনেছে আদালত।

চূড়ান্ত রায়ে শভিন দণ্ডিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে তা হবে নজিরবিহীন ঘটনা। দেশটিতে নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে আসামিদের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ও বিচারের ঘটনাই বিরল।

মিনেপোলিসের আদালতে ফ্লয়েড হত্যা মামলার ১২ বিচারকের মধ্যে ছয় শ্বেতাঙ্গ, চার কৃষ্ণাঙ্গ ও দুইজন ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর। বিচারকদের মধ্যে সাতজন নারী ও পাঁচজন পুরুষ।

শেয়ার করুন

যুক্তরাজ্য-ভ্রমণ তালিকায় নিষিদ্ধ ভারত

যুক্তরাজ্য-ভ্রমণ তালিকায় নিষিদ্ধ ভারত

ভারতকে ভ্রমণ নিষিদ্ধের তালিকায় যুক্ত করেছে যুক্তরাজ্য। ছবি: এএফপি

ভারতে কমপক্ষে ১০৩ জনের শরীরে করোনার নতুন ধরন শনাক্তের পর যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক সোমবার ভারতকে লাল তালিকায় যুক্ত করার কথা জানান। এতে ভারতের কেউ যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবেন না।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এবং নতুন একটি ভ্যারিয়েন্ট পাওয়ায় যুক্তরাজ্যে ভ্রমণ নিষিদ্ধের তালিকায় নাম উঠেছে ভারতের।

দেশটিতে কমপক্ষে ১০৩ জনের শরীরে করোনার নতুন ধরন শনাক্তের পর যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক সোমবার এই ঘোষণা দেন।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ভারত সফরের কথা থাকলেও সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় তা বাতিল করা হয়েছে। এরপরই দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভারতকে লাল তালিকায় অন্তর্ভুক্তির কথা জানান।

ম্যাট হ্যানকক জানান, গত ১০ দিন যারা ভারতে আছেন, তারা যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবেন না।

তবে ব্রিটিশ অথবা আইরিশ পাসপোর্ট ব্যবহারকারী কিংবা ব্রিটিশ নাগরিকরা দেশটিতে প্রবেশ করতে পারলেও তাদের সরকারিভাবে ১০ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

আগামী শুক্রবার থেকে এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করবে যুক্তরাজ্য।

ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২ লাখ ৫৯ হাজার ১৭০ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। আর এই সময়ে মারা গেছে ১ হাজার ৭৬১ জন।

এমন সংক্রমণ বাড়তে থাকায় দেশটিতে ভ্রমণে সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রও।

দেশটির স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা সেন্টার ফর ডিজিজ কনট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এক বিবৃতিতে বলেছে, ভারতে এখন সংক্রমণের চতুর্থ পর্যায় চলছে। এই অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের যে কেউ দেশটিতে ভ্রমণে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। এমনকি টিকা নেয়া থাকলেও আক্রান্তের আশঙ্কা রয়েছে।

ভারতে দৈনিক সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালে অক্সিজেনের ঘাটতি, বেড ও ওষুধের অভাব চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

শেয়ার করুন

সিরামকে শতভাগ অগ্রিম অর্থ দিল ভারত সরকার

সিরামকে শতভাগ অগ্রিম অর্থ দিল ভারত সরকার

জুলাই পর্যন্ত টিকার অগ্রিম মূল্য হিসেবে সিরামকে তিন হাজার কোটি রুপি ও ভারত বায়োটেককে এক হাজার কোটি রুপি পরিশোধ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

ভারতে টিকা উৎপাদনকারী দুই প্রতিষ্ঠান সিরাম ইনস্টিটিউট ও ভারত বায়োটেককে শতভাগ অর্থ অগ্রিম পরিশোধ করে রেখেছে দেশটির সরকার।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই পর্যন্ত টিকার অগ্রিম মূল্য হিসেবে সিরামকে তিন হাজার কোটি রুপি ও ভারত বায়োটেককে এক হাজার কোটি রুপি পরিশোধ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

করোনাভাইরাসে ভারতে ২৪ ঘণ্টায় আবারও রেকর্ড মৃত্যুর মধ্যেই এলো এ খবর। দেশটিতে সোমবার এক দিনে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৭৫৭ জনের, মহামারিকালে যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। ফলে এক বছরে ভারতে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৮০ হাজার ছাড়িয়েছে।

দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত ১ কোটি ৫৩ লাখের বেশি মানুষ। টানা ষষ্ঠ দিনের মতো দুই লাখের বেশি মানুষের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজারের বেশি। গত এক সপ্তাহে এ সংখ্যা ১৬ লাখের বেশি।

করোনাভাইরাসে সংক্রমণের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পরের অবস্থানে আছে ভারত। প্রাণহানিতে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও মেক্সিকোর পরই অবস্থান দেশটির।

এমন পরিস্থিতিতে মহামারি নিয়ন্ত্রণে টিকা কার্যক্রমের গতি বাড়াতে তৎপর হয়েছে ভারত সরকার। গত সপ্তাহে ভারত বায়োটেকের বেঙ্গালুরু কারখানার জন্য ৬৫ কোটি রুপির তহবিলে অনুমোদন দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। কোভ্যাকসিনের উৎপাদন বাড়াতে নেয়া হয় এ পদক্ষেপ।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদন করছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা ফার্মাসিউটিক্যালসের গবেষণালব্ধ করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা কোভিশিল্ড। অন্যদিকে ভারতীয় গবেষকদের উদ্ভাবিত কোভ্যাকসিন উৎপাদন করছে ভারত বায়োটেক।

টিকা উৎপাদন অব্যাহত রাখতে এবং ধাপে ধাপে উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান দিতে প্রতিষ্ঠান দুটিকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে দেশটির সরকার। অর্থায়নের প্রাথমিক লক্ষ্য, টিকা প্রস্তুতে কাঁচামাল আমদানি, কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ ও টিকা উৎপাদন ও বণ্টন।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভারতে করোনার টিকার মজুত শেষ হয়ে আসছে বলে উদ্বেগের মধ্যেই এসব তথ্য প্রকাশ করল ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়।

সোমবার সকালেই পাঞ্জাব সরকার কেন্দ্রকে হুঁশিয়ার করে জানায়, রাজ্যটিতে আর মাত্র তিন দিন টিকা দেয়ার মতো ডোজ মজুত আছে। শুক্রবার অন্ধ্র প্রদেশ জানায়, রাজ্যটিতে টিকার মজুত সম্পূর্ণ শেষ।

টিকার সরবরাহ পর্যাপ্ত নয় বলে চলতি মাসের শুরুতেই মুম্বাই-পুনেসহ রাজ্যের শতাধিক টিকাকেন্দ্র বন্ধ করে দেয়া হয় মহারাষ্ট্রে।

চলতি সপ্তাহেই ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়, টিকা উৎপাদনে বিশ্বের সর্ববৃহৎ দেশটি অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে টিকা আমদানির কথাও ভাবছে।

যদিও এর আগ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি ছিল, করোনাভাইরাসের টিকার ঘাটতি নেই ভারতে।

এদিকে আগামী ১ মে থেকে ভারতে ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের প্রত্যেকের জন্য টিকা কার্যক্রম শুরু করছে ভারত। বর্তমানে টিকা নেয়ার জন্য দেশটিতে ন্যূনতম বয়স ৪৫ বছর।

গত ১৬ জানুয়ারি ভারতে টিকা কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে এক বা দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন সাড়ে ১২ কোটি মানুষ।

শেয়ার করুন

ইউরোপে ৩ বছরে নিখোঁজ ১৮ হাজার অভিবাসী শিশু

ইউরোপে ৩ বছরে নিখোঁজ ১৮ হাজার অভিবাসী শিশু

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অভিবাসী শিশুদের নিখোঁজ হওয়ার খবর উপেক্ষা করে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ছবি: ইনফো মাইগ্র্যান্টস

নিখোঁজ হওয়া শিশুরা বিভিন্ন অপরাধী চক্রের শিকার হচ্ছে বলেও রয়েছে শঙ্কা। ২০১৯ সালের অক্টোবরে বেলজিয়াম থেকে যুক্তরাজ্যে পাচারের সময় একটি লরিতে বেশ কয়েকজন কিশোরসহ ৩৯ জন ভিয়েতনামী অভিবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর আরও গভীর হয় এ উদ্বেগ।

ইউরোপের ৩০টি দেশ থেকে গত তিন বছরে নিখোঁজ হয়েছে অভিভাবকহীন ১৮ হাজারের বেশি অভিবাসী শিশু।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে ‘লস্ট ইন ইউরোপ’ শীর্ষক জরিপে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

জরিপটি প্রকাশ করে বেলজিয়ামের দুটি সংবাদমাধ্যম ন্যাক ও দ্যে স্তান্দার্দ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ও বহির্ভূত ৩০টি দেশে নিখোঁজ হয়েছে কমপক্ষে ১৮ হাজার ২৯২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসী, আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থী।

ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অভ্যর্থনা কেন্দ্র থেকেই নিখোঁজ হয়েছে তারা।

ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজ অভিবাসী শিশুর প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি। বিশেষ করে ফ্রান্স ও রোমানিয়ার মতো কিছু দেশে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বিষয়ে কোনো তথ্যই রাখা হয় না বলে অনেক শিশু জরিপের বাইরে থেকে গেছে।

ইনফো মাইগ্র্যান্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়, জার্মানি থেকে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৮০৬ শিশু হারিয়েছে। এ ছাড়া ইতালি থেকে ৫ হাজার ৭৭৫, বেলজিয়াম থেকে ২ হাজার ৬৪২ ও গ্রিস থেকে ২ হাজার ১১৮ শিশু নিখোঁজ হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই শিশুরা কীভাবে নিখোঁজ হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ধারণাই নেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

বেলজিয়ামে আশ্রয়প্রার্থীদের অভ্যর্থনাবিষয়ক কেন্দ্রীয় সংস্থা ফেডাসিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে দেশটিতে নিখোঁজ হয়েছে অভিভাবকহীন ৫৮৩ শিশু। ২০১৯ সালে এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৭২। ২০১৮ সালে ছিল ৯৮৭।

প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনাভাইরাস মহামারি ও দীর্ঘ লকডাউনের কারণে সারা বিশ্বে সব ধরনের কার্যক্রম প্রায় অচল থাকায় গত বছর নিখোঁজ শিশুর সংখ্যা অনেক কমে আসে।

ফেডাসিলের মুখপাত্র লিজ গিলিস বলেন, ‘করোনা মহামারির কারণে অভিবাসীদের নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় ভীষণ নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে নিখোঁজের সংখ্যাও কমেছে।’

অভিবাসীরা কোন দেশ থেকে এসেছে, তা ইউরোপের সব দেশে নথিবদ্ধ রাখা হয় না।

বিদ্যমান তথ্যে দেখা যায়, বেশির ভাগ অভিবাসীই মরক্কো, আলজেরিয়া, আফগানিস্তান, ইরিত্রিয়া ও গিনি থেকে আসা।

গত ১০ বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের মধ্যে মাত্র ১০টি দেশ অভিবাসীদের সংখ্যা নথিভুক্ত করেছে। এক দেশের সঙ্গে অন্যগুলোর তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতিতে কোনো মিল না থাকায় তথ্যেরও ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে।

নিখোঁজ হওয়া শিশুরা বিভিন্ন অপরাধী চক্রের শিকার হচ্ছে বলেও রয়েছে শঙ্কা। ২০১৯ সালের অক্টোবরে বেলজিয়াম থেকে যুক্তরাজ্যে পাচারের সময় একটি লরিতে বেশ কয়েকজন কিশোরসহ ৩৯ জন ভিয়েতনামী অভিবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর আরও গভীর হয় এ উদ্বেগ।

পরামর্শক সংস্থা মিসিং চিলড্রেন ইউরোপের অভিযোগ, অভিবাসী শিশুদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে সময়মতো অবহিত করা হয়েছে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিষয়টি উপেক্ষা করে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শেয়ার করুন

উইঘুরদের প্রতি চীনের আচরণ ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’

উইঘুরদের প্রতি চীনের আচরণ ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’

চীনের শিনজিয়াংয়ে ৪০০ শিবিরে উইঘুরসহ ১০ লাখ মানুষকে আটকে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছে বিভিন্ন সংস্থা। ছবি: এইচআরডব্লিউ

এইচআরডব্লিউর অভিযোগ, কথিত ‘রাজনৈতিক শিক্ষাকেন্দ্র’, বিচারপূর্ব আটককেন্দ্র ও কারাগারসহ ৪০০ শিবিরে ১০ লাখের বেশি মানুষকে আটকে রাখা হয়েছে। মা-বাবাকে আটকে রাখা হয়েছে, এমন সন্তানদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রাখা হচ্ছে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হেফাজতে।

চীনের জাতিগত সংখ্যালঘু উইঘুরদের প্রতি দেশটির সরকারের আচরণ মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

সংস্থাটির মতে, শুধু উইঘুরই নয়, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শিনজিয়াং প্রদেশের অন্যান্য নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের প্রতিও একই কায়দায় দমন-পীড়ন চালাচ্ছে বেইজিং।

এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদন ‘ব্রেক দেয়ার লাইনএইজ, ব্রেক দেয়ার রুটস’-এ এসব মন্তব্য করা হয়েছে।

৫৩ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, শিনজিয়াংয়ের বাসিন্দাদের কোণঠাসা করতে গণআটক অভিযান, নির্যাতন, সাংস্কৃতিক নিপীড়নসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে চীনা সরকার।

প্রতিবেদনে উইঘুরদের গুম, নজরদারি, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা, বিদেশ থেকে চীনে ফিরতে বাধ্য করা, জোরপূর্বক বিভিন্ন কাজ করানো, যৌন সহিংসতা ও সন্তান জন্মদানের অধিকার কেড়ে নেয়ার মতো বিভিন্ন আচরণের কথা তুলে ধরা হয়।

স্ট্যানফোর্ড ল’ স্কুলের হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট রেজোল্যুশন ক্লিনিকের সহযোগিতায় লেখা প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, শিনজিয়াংয়ের উইঘুর মুসলমানদের ওপর নিপীড়ন চালানো বেইজিংয়ের জন্য নতুন নয়। তবে সম্প্রতি নতুন মাত্রা নিয়েছে অত্যাচারের ধরন।

এইচআরডব্লিউর অভিযোগ, কথিত ‘রাজনৈতিক শিক্ষাকেন্দ্র’, বিচারপূর্ব আটককেন্দ্র ও কারাগারসহ ৪০০ শিবিরে ১০ লাখের বেশি মানুষকে আটকে রাখা হয়েছে। মা-বাবাকে আটকে রাখা হয়েছে, এমন সন্তানদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রাখা হচ্ছে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হেফাজতে।

উইঘুরদের দমনে ২০১৭ সাল থেকে তৎপরতা জোরদার করে বেইজিং। ১৪০ কোটি মানুষের দেশ চীনের মাত্র দেড় শতাংশের বাস শিনজিয়াংয়ে। অথচ সারা দেশে যত মানুষ গ্রেপ্তার, তার ২১ শতাংশই এ প্রদেশে। গত পাঁচ বছরে অঞ্চলটিতে আগের পাঁচ বছরের তুলনায় গ্রেপ্তারের হার বেড়েছে ৩০৬ শতাংশ।

২০১৭ সাল থেকে অঞ্চলটির দুই-তৃতীয়াংশ মসজিদ চীনা সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এইচআরডব্লিউর চীনের পরিচালক সোফি রিচার্ডসন বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের অর্থ হলো মানুষ হিসেবে প্রাপ্য কিছু অধিকার গুরুতর পর্যায়ে লঙ্ঘনের অপরাধ। বেসামরিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত ও ঢালাওভাবে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়। শিনজিয়াংয়ে যা ঘটছে, আন্তর্জাতিক আইনে তা ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন।’

উইঘুরদের ওপর নিপীড়ন বন্ধে চীনের বিরুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়কে সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এইচআরডব্লিউর নির্বাহী পরিচালক কেনেথ রথ।

উইঘুরদের বিরুদ্ধে বেইজিংয়ের আচরণকে আগেই ‘জেনোসাইড’ আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডস এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। উইঘুর ইস্যুতে চীনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও কানাডা।

বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে চীনা সরকার। বেইজিংয়ের দাবি, উগ্রবাদ ঠেকাতে শিবিরগুলোতে উইঘুর মুসলমানদের কারিগরি শিক্ষা দেয়া হয়।

শেয়ার করুন