মহানবীর কার্টুন দেখানোর পর যুক্তরাজ্যে শিক্ষককে হত্যার হুমকি

player
মহানবীর কার্টুন দেখানোর পর যুক্তরাজ্যে শিক্ষককে হত্যার হুমকি

ইয়র্কশায়ারের একটি স্কুলের শ্রেণিকক্ষে মহানবীকে নিয়ে কার্টুন দেখানোর পর স্কুলটি বন্ধ করে দেয়া হয়।

ইয়র্কশায়ারের একটি স্কুলের শ্রেণিকক্ষে কার্টুনটি দেখানোর পর ক্ষোভ বিক্ষোভের মধ্যে শিক্ষককে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ শুরুর দ্বিতীয় দিনে স্কুলটি বন্ধ করে দেয়া হলেও বিক্ষোভ থামছে না।

ফ্রান্সে তুলকালামের পর এবার মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর কার্টুন দেখানো নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে যুক্তরাজ্যে।

ইয়র্কশায়ারের একটি স্কুলের শ্রেণিকক্ষে কার্টুনটি দেখানোর পর ক্ষোভ বিক্ষোভের মধ্যে শিক্ষককে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ শুরুর দ্বিতীয় দিনে স্কুলটি বন্ধ করে দেয়া হলেও বিক্ষোভ থামছে না। খবর প্রকাশ করেছে দ্যা ডেইলি মেইল।

স্কুলটিতে চলা বিক্ষোভের মুখে কার্টুন দেখানোর অভিযোগে আটক শিক্ষককে পুলিশি নিরাপত্তায় সরিয়ে নেয়া হয়।

তবে ওই শিক্ষককে হত্যার হুমকি দেয়ায় ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির শিক্ষাসচিব গ্যাবিন ইউলিয়ামসন।

নাম প্রকাশের না করার সত্ত্বে বলা হয়, ইয়র্কশায়ারের ওই শিক্ষক মহানবীকে নিয়ে আকাঁ কার্টুনটি শ্রেনিকক্ষে দেখান।

এই শিক্ষক একজন রাগবি খেলোয়ার। তিনি তার সঙ্গীকে নিয়ে ২০১০ সাল থেকে স্কুলের পাশে একটি আবাসিক ভবনে থাকতেন। তিনি স্থানীয় তরুণদেরকেও প্রশিক্ষন দিতেন।

স্কুলের বাইরে অন্তত: অর্ধশতাধিক মানুষ এখনও বিক্ষোভ করে যাচ্ছেন। ওই শিক্ষককে বরখাস্ত করায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এক শিক্ষার্থীর বাবা-মা।

এদিকে, শিক্ষাসচিব বলেন, শিক্ষককে এভাবে মৃত্যুর হুমকি ও ভয় দেখানো মোটেই সমীচিন নয়। এই বিষয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে অভিভাবকদের আলোচনা হতে পারে।

গত বছর ২১ অক্টোবর ফ্রান্সে ইসলামের নবী হযরত মোহাম্মদের (সা.) ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের ঘটনায় শিক্ষককে গলাকেটে হত্যা করা হয়।

শিক্ষককে হত্যার ঘটনায় প্যারিসে একটি মসজিদ সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দেয় দেশটির কর্তৃপক্ষ। ঐ মসজিদ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে খুন হওয়া শিক্ষককের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

শিক্ষক সেমুয়েল প্যাটিকে গলাকেটে হত্যা করার আগে প্যারিসের উপকণ্ঠের এই গ্র্যান্ড মসজিদ কর্তৃপক্ষ ফেসবুকে ভিডিওর মাধ্যমে ঘৃণা ছড়িয়েছে।

প্যারিসের একটি স্কুলের কাছে শিক্ষক সেমুয়েল প্যাটিকে গলাকেটে হত্যা করে চেচেন বংশোদ্ভূত এক তরুণ হামলাকারী।

আরও পড়ুন:
কার্টুন চরিত্রগুলোর কাল্পনিক ছবি

শেয়ার করুন

ধর্মের নামে দেশে বিভাজনের চেষ্টা চলছে: মমতা

ধর্মের নামে দেশে বিভাজনের চেষ্টা চলছে: মমতা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত

নেতাজি জন্ম শতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে পশ্চিমবঙ্গের বিশাল অবদান রয়েছে। সেই বাংলাকে অবজ্ঞা করার মতো কাজ যারা করবেন, তারা আগুনে হাত পোড়াবেন।’

নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর ১২৫তম জন্মদিন উদযাপনে দিল্লির অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের প্রস্তাবিত নেতাজি ট্যাবলো বাদ দেয়া থেকে নেতাজি মূর্তি গড়া, স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অবজ্ঞা, একাধিক অভিযোগে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতার হুঁশিয়ারি, ‘বাঙালির ইতিহাস মুছে দেয়ার ক্ষমতা কারও নেই। ধর্মের নামে কেউ কেউ দেশে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে।

রোববার রেড রোডের নেতাজি জন্ম শতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে পশ্চিমবঙ্গের বিশাল অবদান রয়েছে। সেই বাংলাকে অবজ্ঞা করার মতো কাজ যারা করবেন, তারা আগুনে হাত পোড়াবেন।’

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজ কেউ কেউ হিন্দু-মুসলিম করে বেড়ান। দেশটাকে ভাগ করতে চান। দেশটাকে ঐক্য রেখেই জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়। আমরা অন্তর থেকে দেশকে ভালবাসি না । তাই গৃহযুদ্ধ করি। তাই আমাদের মধ্যে জন্ম নেয় মীরজাফর, উমিচাঁদ। তারা আজও মরেনি। তাদের বংশ বেড়ে চলেছে। এসব কথা যিনি বলেছেন, তার নাম সুভাষ চন্দ্র বসু।’

দিল্লির ঐতিহাসিক অমরজ্যোতি নিভিয়ে দেয়া প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মশাল দিয়ে আগুন জ্বেলে শহীদ সৈনিকদের সম্মান জানানো হয়। একটা অমরজ্যোতি নিভিয়ে, একটা নেতাজি মূর্তি করে নেতাজিকে ভালোবাসা যায় না।

‘নেতাজির মৃত্যু-রহস্য এতদিনেও বের করতে পারলেন না। স্বাধীনতার এতদিন পর কেউ জানলো না কোথায় গেলেন নেতাজি।’

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নেতাজি আজাদ হিন্দ বাহিনী তৈরি করেছিলেন। পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন। ভারতকে স্বাধীন করার জন্য নিজেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন। রাজ্যের সব স্বাধীনতা সংগ্রামীর কথা স্মরণ করে আমরা ২৩ থেকে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মরণ করব।’

আরও পড়ুন:
কার্টুন চরিত্রগুলোর কাল্পনিক ছবি

শেয়ার করুন

আবার আইএসের সশস্ত্র হামলা, নিহত ১২০

আবার আইএসের সশস্ত্র হামলা, নিহত ১২০

সিরিয়ায় ঘোয়রান কারাগারে কুর্দি বাহিনী-আইএসের চলমান সহিংসতায় নিহত হয়েছে অন্তত ১২০ জন। ছবি: এপি

সিরিয়ার হাসাকেহ শহরে কুর্দি পরিচালিত ঘোয়রান কারাগারের ভেতর ও বাইরে চলা সহিংসতায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। পর্যবেক্ষণকারী এই সংগঠন জানিয়েছে, আইএসের সশস্ত্র জঙ্গিরা ঘোয়রান কারাগারে তাদের বন্দি সদস্যদের মুক্ত করার পাশাপাশি কারাগারের নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রথমে কারা ফটকে গাড়িবোমা হামলা চালায়। এ সময় অনেক আইএস বন্দি সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে জঙ্গিরা কারাগারের অস্ত্রাগারও দখলের চেষ্টা করে।

প্রায় তিন বছর পর ফের সিরিয়ায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সদস্যরা। কারাগারে আইএসের হামলাকে কেন্দ্র করে জঙ্গিদের সঙ্গে কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর তুমুল সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হাসাকেহ শহরে।

কুর্দি বাহিনী-আইএসের চলমান সহিংসতায় নিহত হয়েছে অন্তত ১২০ জন।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক যুদ্ধ ও সংঘাত পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ৭৭ আইএস সদস্য ও ৩৯ কুর্দি যোদ্ধা রয়েছে। সাত বেসামরিক নাগরিক ছাড়াও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, কারারক্ষীরাও রয়েছেন নিহত ব্যক্তিদের তালিকায়।
দেশটির হাসাকেহ শহরে কুর্দি পরিচালিত ঘোয়রান কারাগারের ভেতর ও বাইরে চলা সহিংসতায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

পর্যবেক্ষণকারী এই সংগঠন জানিয়েছে, আইএসের সশস্ত্র জঙ্গিরা ঘোয়রান কারাগারে তাদের বন্দি সদস্যদের মুক্ত করার পাশাপাশি কারাগারের নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রথমে কারা ফটকে গাড়িবোমা হামলা চালায়। এ সময় অনেক আইএস বন্দি সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে জঙ্গিরা কারাগারের অস্ত্রাগারও দখলের চেষ্টা করে।

কারাগারে শতাধিক আইএস সদস্যের বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে এ সংঘর্ষ শুরু হয়।

যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কুর্দি বাহিনী (এসডিএফ) জানায়, পালিয়ে যাওয়ার সময় অন্তত ১০৪ বন্দিকে আটক করা হয়েছে।

কুর্দি ও আইএসের মধ্যে সংঘর্ষ থেমে থেমে চলছে।

কারাগারের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও আশপাশের এলাকায় লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের হটানোর চেষ্টা করছে কুর্দি বাহিনী।

আইএসের মুখপত্র হিসেবে পরিচিত সংবাদমাধ্যম আমাক জানিয়েছে, আইএস সদস্যরা ঘোয়রান কারাগারের একটি অস্ত্রাগার দখলের পর দুটি আত্মঘাতী বোমা হামলার মধ্য দিয়ে ওই অভিযান শুরু করে। এই সফল অভিযানে তারা তাদের কয়েক শ সদস্যকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে পেরেছে।

আরও পড়ুন:
কার্টুন চরিত্রগুলোর কাল্পনিক ছবি

শেয়ার করুন

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর বিয়ে আটকালো করোনা

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর বিয়ে আটকালো করোনা

জেসিন্ডা আরডার্ন। ছবি: সংগৃহীত

জেসিন্ডা বলেন, ‘আমার বিয়েও হবে না। এ ধরনের অভিজ্ঞতা যাদের হয়েছে, আমিও তাদের দলে যোগ দিলাম। আমি খুবই দুঃখিত।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নিজের বিয়ে বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন।

স্থানীয় সময় রোববার সাংবাদিকদের আরডার্ন এ কথা জানান বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স

দেশজুড়ে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এমন অবস্থায় নিজের বিয়ে নিয়ে কথা বলেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী।

জেসিন্ডা বলেন, ‘আমার বিয়েও হবে না। এ ধরনের অভিজ্ঞতা যাদের হয়েছে, আমিও তাদের দলে যোগ দিলাম। আমি খুবই দুঃখিত।’

দীর্ঘদিনের সঙ্গী টেলিভিশন উপস্থাপক ক্লার্ক গেফোর্ডের সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন জেসিন্ডা আরডার্ন। তবে বিয়ের তারিখ বা এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু এখনও জানা যায়নি।

ধারণা করা হচ্ছিল, শিগগিরই আনুষ্ঠানিকতা সারবেন তারা। তবে এর মধ্যেই নতুন বিধিনিষেধে পিছিয়ে গেল জেসিন্ডা-গেফোর্ডের বিয়ে।

সঙ্গীর সঙ্গে বিয়ে বাতিলের ঘোষণায় কেমন অনুভব করছেন, জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা বলেন, ‘জীবন এমনই।’

তিনি বলেন, ‘আমাকে সাহস করে বলতে হচ্ছে, নিউজিল্যান্ডের হাজার হাজার বাসিন্দা যাদের জীবনে মহামারি মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে তাদের থেকে আমি আলাদা নই। এই প্রভাবের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর হলো, কেউ যখন গুরুতর অসুস্থ হন, তখন প্রিয়জনের সাথে থাকতে পারেন না।’

প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা বলেন, ‘এর বেদনা আমার অন্য যেকোনো দুঃখজনক ঘটনাকে ছাড়িয়ে যাবে।’

ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাবের পর পুরো নিউজিল্যান্ডে সর্বোচ্চ স্তরের বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে সম্প্রতি। এর মধ্যে রয়েছে যেকোনো অনুষ্ঠানে ১০০ জনের বেশি মানুষের উপস্থিতি না থাকা এবং দোকান ও গণপরিবহনে মাস্ক পরা।

২০২০ সালের মার্চ থেকে নিউজিল্যান্ড অন্য দেশের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ রেখেছে। মহামারি শুরুর পর এ পর্যন্ত দেশটিতে ১৫ হাজার ১০৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৫২ জনের।

আরও পড়ুন:
কার্টুন চরিত্রগুলোর কাল্পনিক ছবি

শেয়ার করুন

সারোগেসি: তসলিমার একের পর এক মন্তব্যের লক্ষ্য প্রিয়াঙ্কা?

সারোগেসি: তসলিমার একের পর এক মন্তব্যের লক্ষ্য প্রিয়াঙ্কা?

ধারণা করা হচ্ছে, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও নিক জোনাস দম্পতির সারোগেট শিশু নেয়ার কারণে কঠোর সমালোচনা করে দীর্ঘ লেখা লিখেছেন তসলিমা নাসরিন।

গৃহহীন স্বজনহীন কোনো শিশুকে দত্তক নেয়ার চেয়ে সারোগেসির মাধ্যমে ধনী এবং ব্যস্ত সেলিব্রিটিরা নিজের জিনসমেত একখানা রেডিমেড শিশু চায়। মানুষের ভেতরে এই সেলফিস জিনটি, এই নার্সিসিস্টিক ইগোটি বেশ আছে। এসবের ঊর্ধ্বে উঠতে কেউ যে পারে না তা নয়, অনেকে গর্ভবতী হতে, সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম হলেও সন্তান জন্ম না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।’

গর্ভ ভাড়া নিয়ে সন্তানের জন্ম বা সারোগেসি নিয়ে এক উক্তি করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন আলোচিত লেখক তসলিমা নাসরিন। এই সমালোচনার জবাবে তিনি আবার বলেছেন, তিনি পদ্ধতি নয় প্রথার বিরুদ্ধে।

সারোগেসির বিজ্ঞানের চমৎকার একটি আবিষ্কার উল্লেখ করে এই প্রথার কঠোর সমালোচনা করেছিলেন তসলিমা। নিজের ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, ‘এই প্রথার (সারোগেসি) মাধ্যমে সন্তানদানের প্রক্রিয়া ততদিন টিকে থাকবে, যতদিন সমাজে দারিদ্র্য টিকে থাকবে।’

শনিবার রাতে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ মন্তব্য করেন এ লেখিকা।

ধারণা করা হচ্ছে, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও নিক জোনাস দম্পতির সারোগেট শিশু নেয়ার কারণে এই দীর্ঘ লেখা লিখেছেন তসলিমা।

তাদের নাম উল্লেখ না করলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় জল্পনা শুরু তারকা দম্পতিকে উদ্দেশ করেই এমন মন্তব্য তসলিমার।

তসলিমা লেখেন, ‘দারিদ্র্য নেই তো সারোগেসি নেই। দরিদ্র মেয়েদের জরায়ু টাকার বিনিময়ে নয় মাসের জন্য ভাড়া নেয় ধনীরা। ধনী মেয়েরা কিন্তু তাদের জরায়ু কাউকে ভাড়া দেবে না। কারণ, গর্ভাবস্থায় জীবনের নানা ঝুঁকি থাকে, শিশুর জন্মের সময়ও থাকে ঝুঁকি। দরিদ্র না হলে কেউ এই ঝুঁকি নেয় না।’

ধনী ও ব্যস্ত সেলিব্রেটিদের কঠোর সমালোচনা করে তিনি লেখেন, ‘গৃহহীন স্বজনহীন কোনো শিশুকে দত্তক নেয়ার চেয়ে সারোগেসির মাধ্যমে ধনী এবং ব্যস্ত সেলিব্রিটিরা নিজের জিনসমেত একখানা রেডিমেড শিশু চায়। মানুষের ভেতরে এই সেলফিস জিনটি, এই নার্সিসিস্টিক ইগোটি বেশ আছে। এসবের ঊর্ধ্বে উঠতে কেউ যে পারে না তা নয়, অনেকে গর্ভবতী হতে, সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম হলেও সন্তান জন্ম না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।’

টাকার বিনিময়ে নয়, ভালোবেসে যখন সারোগেট মা হবেন তখন এই পদ্ধতিকে সমর্থন করবেন উল্লেখ করে তসলিমা লেখেন, ‘সারোগেসিকে তখন মেনে নেব যখন শুধু দরিদ্র নয়, ধনী মেয়েরাও সারোগেট মা হবে, টাকার বিনিময়ে নয়, সারোগেসিকে ভালোবেসে হবে। ঠিক যেমন বোরখাকে মেনে নেব, যখন পুরুষেরা ভালোবেসে বোরখা পরবে। মেয়েদের পতিতালয়কে মেনে নেব, যখন পুরুষেরা নিজেদের পতিত-আলয় গড়ে তুলবে, মুখে মেকআপ করে রাস্তায় ত্রিভঙ্গ দাঁড়িয়ে কুড়ি-পঁচিশ টাকা পেতে নারী-খদ্দেরের জন্য অপেক্ষা করবে।

‘তা না হলে সারোগেসি, বোরখা, পতিতাবৃত্তি রয়ে যাবে নারী এবং দরিদ্রকে এক্সপ্লয়টেশানের প্রতীক হিসেবে।’

সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের নানা প্রতিক্রিয়ার পর তসলিমা আবার টুইট করেন বিষয়টি নিয়ে।

এক টুইটে তিনি লেখেন, ‘সারোগেসির মাধ্যমে তাদের রেডিমেড বাচ্চা পেলে সেই মায়েরা কেমন অনুভব করেন? যে মায়েরা বাচ্চাদের জন্ম দেয় তাদের প্রতি কি তাদের একই অনুভূতি আছে?’

পরে আবার তিনি লেখেন, ‘আমার সারোগেসি সংক্রান্ত টুইটগুলো সারোগেসি সম্পর্কে আমার বিভিন্ন মতামত। এর সঙ্গে প্রিয়াঙ্কা-নিকের কোনো সম্পর্ক নেই। আমি এই জুটিকে ভালোবাসি।’

আরও পড়ুন:
কার্টুন চরিত্রগুলোর কাল্পনিক ছবি

শেয়ার করুন

ওমিক্রনের ‘সাব ভ্যারিয়েন্ট’ ভারতে

ওমিক্রনের ‘সাব ভ্যারিয়েন্ট’ ভারতে

ভারতে বেড়েছে করোনার সংক্রমণ। ঝুঁকি বাড়িয়েছে ভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন।

ভারতে ওমিক্রনের কমিউনিটি সংক্রমণ হচ্ছে। একাধিক বড় শহরে প্রভাব ফেলছে এই ধরন। এরই মধ্যে শনাক্ত হয়েছে ওমিক্রনের সাব ভ্যারিয়েন্ট বিএ.২।

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন (ভ্যারিয়েন্ট) ওমিক্রনে বিপর্যস্ত ভারত; এমন অবস্থাতেই দেশটিতে এবার শনাক্ত হলো ওমিক্রনের একটি উপধরন (সাব ভ্যারিয়েন্ট)।

‘ইন্ডিয়ান সার্স-কভ-২ জেনেটিকস কনসোর্টিয়াম’ (আইএনএসএসিওজি) )-এর সর্বশেষ বুলেটিনে রোববার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বুলেটিনে বলা হয়েছে, ভারতে ওমিক্রনের কমিউনিটি সংক্রমণ হচ্ছে। একাধিক বড় শহরে প্রভাব ফেলছে এই ধরন। এরই মধ্যে শনাক্ত হয়েছে ওমিক্রনের উপধরন বিএ.২।

কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে ওমিক্রনের এই উপধরন, তা জানার চেষ্টা করছেন গবেষকরা।

আইএনএসএসিওজি প্রকাশিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, ভারতের বিভিন্ন এলাকায় বিএ.২ ধরনটি শনাক্ত হয়েছে। ওমিক্রনে আক্রান্তদের বেশির ভাগেরই এখনও পর্যন্ত লক্ষণ নেই বা মৃদু লক্ষণ রয়েছে। তবে হাসপাতালে ভর্তি এবং আইসিইউতে রাখার মতো পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।

ইনফ্লুয়েঞ্জা ও করোনা সংক্রমণের জিনোম সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহকারী সংস্থাটি জানিয়েছ, বর্তমানে বিশ্বের ৪০টি দেশে মোট ৮ হাজার ৪০টি ওমিক্রনের বিএ.২ রূপ ধরা পড়েছে। প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে ফিলিপাইনে। ডেনমার্কেও ৬৪১১ জিনোম সিকোয়েন্সের মধ্যে অধিকাংশই বিএ.২ উপ-ধরন বলে জানা গেছে।

ভারতেও ৫৩০টি নমুনায় ওমিক্রনের এই উপ-ধরন ধরা পড়েছে। এরপরই রয়েছে সুইডেন, সেখানে ১৮১টি নমুনায় এই নতুন উপ-ধরন ধরা পড়েছে। সিঙ্গাপুরে ১২৭টি নমুনায় ওমিক্রন বিএ.২ ধরা পড়েছে।

আরও পড়ুন:
কার্টুন চরিত্রগুলোর কাল্পনিক ছবি

শেয়ার করুন

গাড়ি চালনায় অবিশ্বাস্য দক্ষতা

গাড়ি চালনায় অবিশ্বাস্য দক্ষতা

খাদের কিনারে পাহাড়ির রাস্তায় ঘুরছে গাড়ি। ভিডিও থেকে নেয়া ছবি।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, সর্বোচ্চ পাঁচ ফুটের একটি পাহাড়ি রাস্তা। রাস্তার ধারের রেলিং নেই বললেই চলে। এবড়ো-খেবড়ো, ভাঙাচোরা। এমনই রাস্তায় দক্ষতার সঙ্গে গাড়ির মুখ উল্টো দিকে ঘুরিয়ে ফেললেন এক চালক।

পাহাড়ের ওপর ছোট্ট একটু রাস্তা। পাশেই বড় খাদ। মানুষ হাঁটলেও যেকোনো সময় পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়ে যায়। সেখানে কি না একটি বড় গাড়ি ঘুরিয়ে ফেলা হলো!

সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে ভাইরাল হয়েছে বলে আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, সর্বোচ্চ পাঁচ ফুটের একটি পাহাড়ি রাস্তা। রাস্তার ধারের রেলিং নেই বললেই চলে। এবড়ো-খেবড়ো, ভাঙাচোরা। এমনই রাস্তায় দক্ষতার সঙ্গে গাড়ির মুখ উল্টো দিকে ঘুরিয়ে ফেললেন এক চালক।

ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে তা নিয়ে অবশ্য বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। এক টুইটার ব্যবহারকারী এটি শেয়ারের পর তা ভাইরাল হয়েছে।

দক্ষ চালক না হলে পাহাড়ি রাস্তায় গাড়ি চালানো যে কতটা কঠিন, তা বহু চালক হাড়ে হাড়ে টের পান। সাহস তো বটেই, তার সঙ্গে দক্ষতা জুড়ে গেলে অনেক কঠিন চড়াই-উতরাইও সহজ মনে হয়।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়া এই চালককেও তা মনে করে প্রশংসা করছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা।

টুইটারে অনেকেই বলেছেন, একটু ভুল হলেই জীবন শেষ হয়ে যেতে পারত চালকের। একদিকে পাহাড়ের ঢাল, অন্যদিকে কয়েক শ ফুট গভীর খাদ। তার মাঝে পাঁচ ফুটের একটি রাস্তা। আর সেই রাস্তায় যেভাবে গাড়ি ঘোরালেন চালক, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।

আরও পড়ুন:
কার্টুন চরিত্রগুলোর কাল্পনিক ছবি

শেয়ার করুন

দিল্লিতে ৩২ বছর পর জানুয়ারিতে সর্বোচ্চ বৃষ্টি

দিল্লিতে ৩২ বছর পর জানুয়ারিতে সর্বোচ্চ বৃষ্টি

দিল্লিতে ৩২ বছর পর জানুয়ারিতে সর্বোচ্চ বৃষ্টির দিনে পথচারীরা। ছবি: এএফপি

শনিবার বৃষ্টিপাতের ফলে দিল্লিতে ঠান্ডা বেড়ে যায় প্রচণ্ডহারে। এ দিন সেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এই সময়ের গড় তাপমাত্রার চেয়ে ৭ ডিগ্রি কম। এটি চলতি শীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শনিবার ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর। শীতকালে অর্থাৎ জানুয়ারি মাসে এত বৃষ্টিপাত গত ৩২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, শনিবার রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সারা দিনে দিল্লিতে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৬৯ দশমিক ৮ মিলিমিটার।

১৯৮৯ সালে দিল্লিতে জানুয়ারি মাসে ৭৯ দশমিক ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, শনিবার বৃষ্টিপাতের ফলে দিল্লিতে ঠান্ডা বেড়ে যায় প্রচণ্ডহারে। এ দিন সেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এই সময়ের গড় তাপমাত্রার চেয়ে ৭ ডিগ্রি কম। এটি চলতি শীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

সফদরজং পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র বলছে, তারা সকাল ৮টার আগে মাত্র ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছিল।

দেশটির আবহাওয়া অফিস জানায়, দিল্লির মতো পাঞ্জাব, হরিয়ানা, পূর্ব উত্তর প্রদেশ এবং উত্তর রাজস্থানেও রোববার পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে।

এমন অবস্থার মধ্যেও দিল্লির বাতাসের মান খুব খারাপ বলে জানানো হয়েছে। বাতাসের সূচকে শনিবার দিল্লির স্কোর ৩১৬, যা ‘ভেরি পুওর’ ক্যাটাগরির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।

আরও পড়ুন:
কার্টুন চরিত্রগুলোর কাল্পনিক ছবি

শেয়ার করুন