জাহাজ আটকে বন্ধ সুয়েজ খাল

এভারগ্রিনকে সরাতে কাজ করছে বেশ কয়েকটি টাগবোট। ছবি: সংগৃহীত

জাহাজ আটকে বন্ধ সুয়েজ খাল

লোহিত সাগর হয়ে নেদারল্যান্ডসের রটারডামে যাচ্ছিল এভারগ্রিন নামের বিশালাকৃতির জাহাজটি। পথে সুয়েজ খাল পার হওয়ার সময় তীরের সঙ্গে আটকে যায় সেটি।

হঠাৎ স্থবির হয়ে গেছে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথ সুয়েজ খাল। কনটেইনারবাহী ২ লাখ টন ওজনের একটি জাহাজ অগভীর পানিতে আটকে যাওয়ায় ১৩ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে এ নৌপথে জাহাজ চলাচল।

আল জাজিরা জানিয়েছে, লোহিত সাগর হয়ে নেদারল্যান্ডসের রটারডামে যাচ্ছিল এভারগ্রিন নামের বিশালাকৃতির জাহাজটি। পথে সুয়েজ খাল পার হওয়ার সময় তীরের সঙ্গে আটকে যায় সেটি।

শিপিং কোম্পানি জিএসি জানিয়েছে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল পৌনে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে এভারগ্রিনের পেছনে থাকা আরও ১৫টি জাহাজ নোঙর ফেলতে বাধ্য হয়। এভারগ্রিনকে সরিয়ে নৌপথ খালি করার আগ পর্যন্ত জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে না।

ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা বেশ কয়েকটি টাগবোট দিয়ে জাহাজটিকে আড়াআড়ি অবস্থান থেকে সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত চেষ্টা সফল হয়নি।

৪০০ মিটার লম্বা আর ৫৯ মিটার চওড়া এভারগ্রিন ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের ২০ হাজার কনটেইনার বহনে সক্ষম। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তীব্র বাতাসে সরু খালের মূল পথ থেকে সরে গিয়ে তীরে আটকে গেছে জাহাজটি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ধারণক্ষমতা অনুযায়ী কনটেইনারবোঝাই জাহাজটি খালের দুই পাশজুড়ে দাঁড়িয়ে আছে।

তাইওয়ানের এভারগ্রিন মেরিন কর্পের অধীনে জাহাজটি পণ্য আনা-নেয়া করছে।

এ ব্যাপারে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষ।

সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ১০ শতাংশই হয় ১৫০ বছরের পুরোনো খালটির মাধ্যমে। ২০২০ সালে এ পথ অতিক্রম করেছে ১০০ কোটি টনের বেশি ওজনের প্রায় ১৯ হাজার জাহাজ। অর্থাৎ দিনে খালটি পার হয়েছে ৫১টির বেশি জাহাজ।

গত কয়েক বছরে অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত মিসরের বৈদেশিক আয়ের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে সুয়েজ খাল। শুধু গত বছরই এ খাল থেকে ৫৬১ কোটি ডলার আয় করেছে দেশটি।

২০১৮ সালেও জাহাজ চলাচল সাময়িক বন্ধ ছিল সুয়েজ খালে। গ্রিসের বেসরকারি মালিকানাধীন একটি কনটেইনারবাহী জাহাজের ইঞ্জিন নষ্ট এবং এ ঘটনায় পাঁচটি জাহাজের সংঘর্ষের ফলে সরু খাল পথটি স্থবির হয়ে পড়ে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিশ্বাসঘাতকতা, সৌদি আরবে ৩ সেনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

বিশ্বাসঘাতকতা, সৌদি আরবে ৩ সেনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

২০১৯ সালে রেকর্ড ১৮৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব। ছবি: এএফপি

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের অভিযোগ, বিরোধী মত দমনে কঠোর নির্যাতনের পাশাপাশি অন্যায্য বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করছে সৌদি আরব। বরাবরই এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটি।

দেশদ্রোহিতা ও শত্রুপক্ষকে সহযোগিতার অভিযোগে সৌদি আরবে তিন সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

শনিবার তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন সেনা কর্মকর্তা ‘সৌদি আরবের নিয়ম লঙ্ঘন করে শত্রুদের সহযোগিতা করেছিলেন’ এবং ‘দেশের সেনাবাহিনীর স্বার্থ ক্ষুণ্ন করেছেন’। তবে ‘শত্রুপক্ষ’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে, সেটিও স্পষ্ট করা হয়নি প্রতিবেদনে।

যে তিন সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে তারা হলেন- মোহাম্মেদ বিন আহমেদ বিন ইয়াহিয়া আকাম, শাহের বিন ইসা বিন কাসিম হাক্কাউই ও হামুদ বিন ইব্রাহিম বিন আলি হাজমি।

বিবৃতিতে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশেষ আদালতে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করেই এ সাজা দেয়া হয়েছে তাদের।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের দক্ষিণে ইয়েমেনের সীমান্তবর্তী কোনো প্রদেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে তিন সেনা কর্মকর্তার।

ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ছয় বছরের বেশি সময় ধরে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে সৌদি প্রশাসন।

রাজপরিবারের কট্টর সমালোচক সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার পর থেকে মানবাধিকার ইস্যুতে কাঠগড়ায় সৌদি আরব। ২০১৮ সালে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় তাকে।

এছাড়া একের পর এক নারী অধিকার কর্মীকে গ্রেপ্তারের কারণেও বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচিত রিয়াদ।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের অভিযোগ, বিরোধী মত দমনে কঠোর নির্যাতনের পাশাপাশি অন্যায্য বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করছে সৌদি আরব।

বরাবরই এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটি।

২০২০ সালে ২৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে সৌদি আরবে; বিগত কয়েক বছরে যা সর্বনিম্ন।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় মানবাধিকার কমিশনের তথ্য অনুসারে, ২০১৯ সালেই রেকর্ড ১৮৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে দেশটিতে।

শেয়ার করুন

পশ্চিমবঙ্গে হারছে তৃণমূল?

পশ্চিমবঙ্গে হারছে তৃণমূল?

অসমে ভোট দেয়ার পর তিন নারী দেখাচ্ছেন অমোচনীয় কালির চিহ্ন। ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

“আমরা ভোটারদের কাছে মূলত দুটি বিষয় জানতে চেয়েছিলাম— প্রথমত, আপনি কাকে ভোট দেবেন। দ্বিতীয়ত, কে সরকার গড়বে। ‘কে সরকার গড়বে’ এই প্রশ্নের ক্ষেত্রে অধিকাংশই উত্তর দিয়েছেন, ‘বিজেপি’।’’

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে এবার ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয়ের পাল্লা ভারি বলে আভাস মিলেছে। তৃণমূলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ নির্বাচন বিষয়ক পরামর্শক প্রশান্ত কিশোরের (পিকে) ফাঁস হওয়া একটি অডিওতে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

নিজের প্রতিষ্ঠানের সমীক্ষার ফল নিয়ে প্রশান্ত বলেন, “আমরা ভোটারদের কাছে মূলত দুটি বিষয় জানতে চেয়েছিলাম— প্রথমত, আপনি কাকে ভোট দেবেন। দ্বিতীয়ত, কে সরকার গড়বে। ‘কে সরকার গড়বে’ এই প্রশ্নের ক্ষেত্রে অধিকাংশই উত্তর দিয়েছেন, ‘বিজেপি’।’’

শনিবার পশ্চিমবঙ্গে চতুর্থ দফার ভোটপর্ব শুরুর আগে পিকের ওই অডিও টেপ সামনে আনেন বিজেপি নেতা অমিত মালব্য।

ভারতের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অমিতের দাবি, ওই অডিওটি পিকের ক্লাবহাউস চ্যাটের অংশ। পিকেও কার্যত মেনে নিয়েছেন চ্যাটের কণ্ঠস্বরটি তারই।

এ সম্পর্কে প্রতিক্রিয়ায় প্রশান্ত শনিবার টুইটারে লেখেন, ‘আমি খুশি, বিজেপি তাদের নেতার কথার চেয়ে আমার চ্যাটকে (আলোচনা) বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।’

তবে কথার নির্দিষ্ট কিছু অংশ তুলে ধরা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি লেখেন, ‘তাদের পুরো চ্যাটটি প্রকাশ্যে আনা উচিত। আমি আগেও বলেছি, আবার বলছি, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ১০০ পেরোবে না।’

ফাঁস হওয়া অডিওতে নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন পিকে। তাকে বলতে শোনা গেছে, রাজ্যের ভোটে নরেন্দ্র মোদি, হিন্দুত্ব, অবাঙালি ভোট বড় ফ্যাক্টর।

তিনি বলেন, ‘ভোট থাকলে তা মোদির নামে রয়েছে। ভোট থাকলে হিন্দুত্বের নামে রয়েছে। মেরুকরণ, মোদি, হিন্দিভাষী, দলিত এগুলোই ফ্যাক্টর। শুভেন্দু গেল, কী প্রশান্ত কিশোর এলো, তা এখানে ধর্তব্যের বিষয়ই নয়। মোদি এখানে জনপ্রিয়।’

মতুয়া ভোটের দুই-তৃতীয়াংশ এবং সামগ্রিক হিন্দু ভোটের অর্ধেক বা তার বেশি বিজেপির পক্ষে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তার ভাষ্যে, ১ কোটি হিন্দিভাষী এবং ২৭ শতাংশ দলিত ভোটার পুরোপুরি বিজেপির সঙ্গে রয়েছে।

মতুয়া ভোটের গুরুত্বের কথা জানিয়ে প্রশান্ত বলেন, ‘আমাদের সমীক্ষার হিসাব বলছে, লোকসভা নির্বাচনের মতো একতরফা না হলেও এখনও মতুয়া ভোটের ৭৫ শতাংশ বিজেপির পক্ষে এবং ২৫ শতাংশ তৃণমূলের পক্ষে যাবে।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, পশ্চিমবঙ্গের বুথে বুথে বিজেপির সংগঠন দুর্বল। কিন্তু ফাঁস হওয়া অডিওতে তা মানতে চাননি প্রশান্ত।

তিনি বলেন, ‘তৃণমূল স্তরে বিজেপির প্রচুর নিষ্ঠাবান কর্মী রয়েছে। হতে পারে তারা বাম থেকে বিজেপিতে এসেছেন। কিন্তু এখন তারা একনিষ্ঠভাবে বিজেপির হয়েই কাজ করছেন।

‘একটি-দুটি জায়গা বাদ দিলে পশ্চিমবঙ্গের এমন কোনো এলাকা নেই, যেখানে বিজেপির প্রচুর নিষ্ঠাবান কর্মী নেই।’

পরিস্থিতি এমন হলে তৃণমূল কত ভোট পেতে পারে? প্রশান্তের জবাব, ‘আমার হিসেবে বিজেপি ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ হিন্দু ভোট পাবে।’ এরপরই কেটে যায়, অডিও ক্লিপের কথোপকথন।

শেয়ার করুন

আগে দেশের মানুষের টিকা, তারপর রপ্তানি: সোনিয়া গান্ধী

আগে দেশের মানুষের টিকা, তারপর রপ্তানি: সোনিয়া গান্ধী

সোনিয়া গান্ধী। ফাইল ছবি

মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, পাঞ্জাব, রাজস্থানের মতো রাজ্যে সংক্রমণ বাড়ছে, তাই টিকা আরও প্রয়োজন বলে দাবি জানিয়েছে রাজ্যগুলো।

কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘আগে ভারতীয়দের টিকা নিশ্চিত করে তবে করোনার টিকা রপ্তানিতে জোর দেয়া হোক।’

করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় কংগ্রেসশাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে শনিবার ভার্চুয়াল বৈঠক করেন সোনিয়া গান্ধী।

তিনি মুখ্যমন্ত্রীদের আরও বেশি করে নমুনা পরীক্ষার পরামর্শ দেন। টিকাদান কর্মসূচিতে জোর দিতেও কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রীদের আবেদন করেন তিনি। বলেন, ‘ভ্যাকসিন রপ্তানির দিকে জোর দেয়া হচ্ছে।’‌

একদিন আগে রাহুল গান্ধীও একই দাবি তুলেছিলেন। মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, পাঞ্জাব, রাজস্থানের মতো রাজ্যে সংক্রমণ বাড়ছে, তাই টিকা আরও প্রয়োজন বলে দাবি জানিয়েছে রাজ্যগুলি।

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে আরও কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করতে চলেছে দিল্লি সরকার। কিন্তু পূর্ণ লকডাউনে ফিরবেন না কেজরিওয়াল সরকার। শনিবার এ অবস্থান স্পষ্ট করে জানালেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। এ দিন সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘গত নভেম্বরে করোনার তৃতীয় ওয়েভের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে রাজ্য। সেই সময় প্রতিদিন সংক্রমণ ছিল প্রায় সাড়ে ৮ হাজার। সেই সংক্রমণ প্রতিরোধে যে স্বাস্থ্যব্যবস্থা দিল্লির সরকারি হাসপাতালে বন্দোবস্ত করা হয়েছিল, এবারও সেই ব্যবস্থার আয়োজন করা হচ্ছে। লকডাউন বিকল্প নয়। দিল্লির মানুষকে সুরক্ষিত করতে আমরা আরও কড়া করোনা বিধি চালুর পথে হাঁটব।’

যত দিন গড়াচ্ছে, ততই করোনা যেন গ্রাস করছে ভারতকে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আঘাতে প্রতিদিন বাড়ছে সংক্রমণের গ্রাফ। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮৪ জন। মৃত্যু হয়েছে ৭৯৪ জনের, যা রেকর্ড তৈরি করেছে দেশে। করোনার দ্বিতীয় পর্যায়ে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখের গন্ডি পেরিয়েছে। কিন্তু প্রথম পর্যায়ে এত আক্রান্ত হয়নি, যত আক্রান্ত হচ্ছে দ্বিতীয় পর্যায়ের করোনা হানায়।

সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ৩২ লাখ ৫ হাজার ৯২৬ জন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১ কোটি ১৯ লাখ ৯০ হাজার ৮৫৯ জন। আক্রান্তের তুলনায় সুস্থতার হার অনেকটাই কম।

দেশে এখন সক্রিয় কেসের সংখ্যা ১০ লাখ ৪৬ হাজার ৬৩১। এখন পর্যন্ত দেশে মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৩৬ জনের। সবচেয়ে চিন্তার পরিস্থিতি মহারাষ্ট্রে। গত ১৫ দিনে মহারাষ্ট্রে সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

এদিকে শনিবারই রাষ্ট্রীয় সমাজসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবতের করোনা আক্রান্তের খবর জানা গিয়েছে। কলকাতাও দুচিন্তা

বাড়াচ্ছে। নির্বাচনি এ রাজ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে কোভিড। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতা মহানগরে এক লাফে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৯৮৭ হয়েছে। সংক্রমিত ও মৃতের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে রাজ্যে।

শেয়ার করুন

পশ্চিমবঙ্গে ভোটকেন্দ্রের বাইরে গুলি-সংঘর্ষে নিহত ৫

পশ্চিমবঙ্গে ভোটকেন্দ্রের বাইরে গুলি-সংঘর্ষে নিহত ৫

কুচবিহারের একটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় স্থানীয়রা। ছবি: এনডিটিভি

কোচবিহারের একটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ করছে বিজেপি ও তৃণমূল।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ভোট চলার সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিতে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে চারজন। দলীয় সংঘর্ষে প্রাণ গেছে আরও একজনের।

কোচবিহারের একটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ করছে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস।

শনিবার সকালে কলকাতা থেকে ৬৮০ কিলোমিটার দূরের শীতলকুচি এলাকার একটি কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। কেন্দ্রটিতে ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।

বিধানসভা নির্বাচনের চতুর্থ দফার ভোট চলছে রাজ্যের ৪৪টি আসনে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, সকালে শীতলকুচির একটি বুথে ভোট দিয়ে এক তরুণ বাড়ি ফিরে যান। বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ লাগছে জানালে আশপাশের এলাকায় দ্রুত গুজব ছড়িয়ে পড়ে, তাকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পিটিয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরই ওই বুথটিতে পৌঁছায় কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী সিআইএসএফের একটি দল। সে সময় স্থানীয়রা তাদের ঘিরে ফেলে অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে গুলি চালাতে শুরু করে সিআইএসএফ।

এতে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের সঙ্গে থাকা পরিবারের সদস্য ও অন্যরা অভিযোগ করেন, বিজেপিকে ভোট দিতে বাধ্য করছিল সিআইএসএফ সদস্যরা। এতে অনেক ভোটার অস্বীকৃতি জানালে তাদের গুলি করা হয়।

পশ্চিমবঙ্গে এক জনসভায় অংশ নিয়ে এ ঘটনায় শোক জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ঘটনার কিছুক্ষণ পরই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার দলকে সহিংসতার জন্য দায়ী করে নিন্দাও জানান তিনি।

মোদি বলেন, ‘কোচবিহারে যা ঘটেছে, তা দুঃখজনক। শোকগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সান্ত্ব্না জানাচ্ছি। মমতা দিদি আর তার গুন্ডারা নির্বাচনে নিজেদের পরাজয় আসন্ন জেনে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।’

পাল্টা জবাব দিয়েছেন মমতাও। পুরো ঘটনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে দায়ী করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগ দাবি করেছেন তিনি।

মমতা বলেন, ‘বিজেপি জানে যে তারা জিতবে না। তাই বোমাবাজি করে আর সহিংসতা চালিয়ে অরাজক পরিবেশ তৈরি করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গ্রামে গ্রামে নির্যাতন চালাচ্ছে বিএসএফ আর সিআইএসএফের সদস্যরা। নারী, ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের হুমকি দিচ্ছে যে তারা যদি বিজেপিকে ভোট না দেয়, তাহলে পরিণতি ভালো হবে না। ভোটে দাঁড়ানো মানুষজনকে এলোপাতাড়ি গুলি করছে। তাদের এই সাহস কারা জোগাচ্ছে?’

সহিংসতা জন্য বিজেপিকে দায়ী করে তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে, দলটির পাঁচ কর্মী নিহত হয়েছে।

মমতা বলেন, ‘পঞ্চায়েত নির্বাচনেও এত মানুষ মারা যায়নি। সাধারণ নির্বাচনের সময় ২০ জন নিহত হয়েছিল সহিংসতায়। ১৩ জনই আমার দলের ছিল।’

এ ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গে পুলিশের বিশেষ পর্যবেক্ষক বিবেক দুবের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ চেয়েছে নির্বাচন কমিশন।

শেয়ার করুন

ফেসবুকের বিজ্ঞাপনেও জেন্ডার পক্ষপাত

ফেসবুকের বিজ্ঞাপনেও জেন্ডার পক্ষপাত

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘যোগ্যতা বিচারে সম্ভাব্য চাকরির বিজ্ঞাপন ফেসবুক ব্যবহারকারীদের না দেখিয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা দেখানো হচ্ছে নারী-পুরুষ বিচারে।’ ফেসবুকের এই অ্যালগরিদম যুক্তরাষ্ট্রের বৈষম্যবিরোধী আইন পরিপন্থি হতে পারে বলেও জানানো হয় প্রতিবেদনে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক চাকরির বিজ্ঞাপনে নারী-পুরুষ বৈষম্য করে। অনেক ব্যবহারকারী যথাযথ যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সঠিক বিজ্ঞাপনটি দেখতে পান না। কারণ, ফেসবুকে বিজ্ঞাপন প্রচারের যে প্রক্রিয়ায় তাতে সেটি সঠিক ব্যক্তির কাছে পৌঁছায় না।

ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার এক গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য। শুক্রবার প্রকাশ করা হয় প্রতিবেদনটি। এতে বলা হয়, ফেসবুকে চাকরির বিজ্ঞাপন সমান অনুপাতে নারী ও পুরুষ ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছায় না।

গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাপভিত্তিক পণ্য সংগ্রহ ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইনস্টাকার্টের বিজ্ঞাপন বেশি দেখতে পেয়েছেন ফেসবুকের নারী ব্যবহারকারীরা। আবার ডোমিনোজ পিৎজায় আবেদনের জন্য ফেসবুকে প্রকাশিত বিজ্ঞাপন যাদের কাছে পৌঁছেছে, তাদের বেশিরভাগই পুরুষ।

ইনস্টাকার্টে বেশিরভাগই নারী চালক, যারা গ্রাহকের পণ্য সংগ্রহ করেন এবং পৌঁছে দেন। অন্যদিকে ডোমিনোজের বেশিরভাগ কর্মীই পুরুষ।

অথচ মাইক্রোসফটের প্ল্যাটফর্ম লিংকডইনে ইনস্টাকার্ট ও ডোমিনোজের একই চাকরির বিজ্ঞাপন নারী-পুরুষ ভেদে সমান ব্যবহারকারী দেখতে পেয়েছেন।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘যোগ্যতা বিচারে সম্ভাব্য চাকরির বিজ্ঞাপন ফেসবুক ব্যবহারকারীদের না দেখিয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা দেখানো হচ্ছে নারী-পুরুষ বিচারে।’

ফেসবুকের এই অ্যালগরিদম যুক্তরাষ্ট্রের বৈষম্যবিরোধী আইন পরিপন্থি হতে পারে বলেও জানানো হয় প্রতিবেদনে।

ফেসবুকের মুখপাত্র জো অসবোর্নে জানান, ব্যবহারকারীরা কোন বিষয়ে বেশি আগ্রহী, সাংকেতিকভাবে তা যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে সে অনুযায়ী তাদের কাছে ফেসবুক বিজ্ঞাপন পৌঁছায়।

বিজ্ঞাপন প্রচারে নারী-পুরুষ ভেদাভেদের অভিযোগে একাধিক মামলা ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার তদন্তে ফেসবুকের নাম জড়িয়েছে।

প্রযুক্তি খাতে স্বচ্ছতা অবলম্বনের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহযোগিতা নেয়ার কথা জানিয়েছে ফেসবুক, লিংকডইন উভয় প্রতিষ্ঠানই।

শেয়ার করুন

বড় যুদ্ধে জড়াতে পারে ভারত-পাকিস্তান: প্রতিবেদন

বড় যুদ্ধে জড়াতে পারে ভারত-পাকিস্তান: প্রতিবেদন

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আগামী দিনগুলোতে যুদ্ধ বাঁধতে পারে বলে জানানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। ছবি: ডন

দক্ষিণ এশিয়ায় সম্ভাব্য অনিশ্চয়তার একটি বড় কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তানবিষয়ক নীতিমালাকে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এর প্রভাব পড়বে আফগানিস্তানের প্রায় সব প্রতিবেশী দেশ, বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানে।

অনিচ্ছা সত্ত্বেও বড় পরিসরে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে চির প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তান।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দেয়া হয়েছে এমন আভাস।

‘গ্লোবাল ট্রেন্ডস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ জানায়, ‘ভুল-বোঝাবুঝি’র কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতিবেশী দেশ দুটির কূটনৈতিক তৎপরতায় যেকোনো মুহূর্তে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

পাকিস্তানি দৈনিক ডন জানিয়েছে, ওয়াশিংটন থেকে গত সপ্তাহে প্রকাশ হয় প্রতিবেদনটি। চার বছর পরপর প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে পরবর্তী ৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে বিশ্ব রাজনীতিতে সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের আভাস দেয়া হয়। সে অনুযায়ী নীতি নির্ধারণে প্রয়োজনীয় পরামর্শও দেয়া হয় এতে।

কী আছে প্রতিবেদনে

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতে বিচারকদের ওপর সাম্প্রতিক এক সন্ত্রাসী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে যুদ্ধের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বেশ কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের এ ধরনের হামলার সক্ষমতা অর্জন, নয়াদিল্লির প্রতিশোধ আর ইসলামাবাদের প্রতিরক্ষা—সব মিলিয়ে পাঁচ বছরের মধ্যেই ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ছে।

স্পর্শকাতর সময়ে দেশ দুটির হিসাবনিকাশে যেকোনো ধরনের ভুল বড় ধরনের আঞ্চলিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলেও সতর্ক করা হয় প্রতিবেদনে। এ ক্ষেত্রে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট অনেক বছর স্থায়ীও হতে পারে।

দক্ষিণ এশিয়ায় সম্ভাব্য অনিশ্চয়তার আরও একটি বড় কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তানবিষয়ক নীতিমালাকে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এর প্রভাব পড়বে আফগানিস্তানের প্রায় সব প্রতিবেশী দেশে, বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানে।

আফগানিস্তানের ধর্মভিত্তিক সশস্ত্র রাজনৈতিক সংগঠন তালেবান ও এর বিরোধীদের মধ্যে গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ছে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। আর এ কারণে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনের আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক বিস্তার এবং অপরাধী চক্র ও শরণার্থীদের দেশ ছাড়ার প্রেক্ষাপট।

এ ছাড়া পাকিস্তানের পশ্চিমে আফগানিস্তান, ইরান ও চীন সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে বিচ্ছিন্নতাবাদ বাড়তে পারে এ সুযোগে। এটিও ভারত-পাকিস্তান বৈরিতা বাড়ার বড় কারণ হবে বলে মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা। সঙ্গে আছে ভারত ও পাকিস্তানের সাধারণ সীমান্ত অঞ্চল কাশ্মীরে দেশ দুটির সেনাবাহিনীর আকস্মিক হস্তক্ষেপের শঙ্কা।

এসব কারণে আগামী পাঁচ বছরে দক্ষিণ এশিয়ায় বাণিজ্যিক ও জ্বালানি খাত আরও নিম্নমুখী হবে বলে আভাস দেয়া হয় প্রতিবেদনে। সামগ্রিকভাবে এখনও বিশ্বের যেকোনো অঞ্চলের তুলনায় বাণিজ্য সবচেয়ে নিম্নমুখী দক্ষিণ এশিয়াতেই।

পানি নিয়েও ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি ইউএনডিপির তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ২০২৫ সাল নাগাদ পানির তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে পাকিস্তানে। সংরক্ষণে দুর্বল অবকাঠামো ও অপর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়াসহ নানা কারণে পানির জন্য ভারত থেকে প্রবাহিত উৎসের ওপর নির্ভরতা বাড়বে পাকিস্তানের।

এ ছাড়া আঞ্চলিক দুই শক্তি চীন-ভারত দ্বন্দ্বের জেরেও দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

এতে বলা হয়, আঞ্চলিক নেতৃত্বে নয়াদিল্লির প্রভাব খর্ব করে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। ভারত মহাসাগরে চীনের কর্তৃত্বের বিপরীতে জাপানে বিনিয়োগ ও সামরিক সহযোগিতা বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করতে পারে ভারত।

আবার কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় চীনের পাশাপাশি সুদূর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও সম্পর্কে গতি রক্ষা করতে চাইবে বিভিন্ন দেশ। বিশেষ করে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার রপ্তানি বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র বলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি চাইবে না কোনো দেশই।

ভারসাম্য রক্ষার এ কূটনীতিতে দক্ষিণ এশিয়ায় চীন-যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি প্রভাব বাড়তে পারে রাশিয়া, জাপানেরও।

শেয়ার করুন

২৫ গুণ দ্রুতগতিতে ধনী দেশে টিকাদান

২৫ গুণ দ্রুতগতিতে ধনী দেশে টিকাদান

করোনাভাইরাসের টিকা নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক নারী। ছবি: এএফপি।

গত বৃহস্পতিবার নাগাদ বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১১ শতাংশ হয়েও বৈশ্বিকভাবে দেওয়া করোনা টিকার ৪০ শতাংশ নিয়েছে ২৭টি ধনী দেশের নাগরিকরা। অন্যদিকে বিশ্বের ১১ শতাংশ নিম্ন আয়ের মানুষ পেয়েছে টিকার মাত্র ১.৬ শতাংশ ডোজ।

বিশ্বের মোট জনসংখ্যার পাঁচ শতাংশকে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা দেয়া হয়েছে। তবে টিকার বিতরণ ব্যবস্থাপনায় দেখা গেছে বড় ধরনের বৈষম্য। বেশির ভাগ টিকাই বাগিয়ে নিয়েছে ধনী দেশগুলো।

গত বৃহস্পতিবার নাগাদ বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১১ শতাংশ হয়েও বৈশ্বিকভাবে দেওয়া করোনা টিকার ৪০ শতাংশ নিয়েছে ২৭টি ধনী দেশের নাগরিকরা।

অন্যদিকে বিশ্বের ১১ শতাংশ নিম্ন আয়ের মানুষ পেয়েছে টিকার মাত্র ১.৬ শতাংশ ডোজ।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের ভ্যাকসিন ট্র্যাকারে প্রকাশিত তথ্য নিয়ে এমন প্রতিবেদন করেছেন টম রান্ডেল।

ওই প্রতিবেদক জানান, স্বল্প আয়ের দেশগুলোর তুলনায় ২৫ গুণ দ্রুততার সঙ্গে টিকাদান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে উচ্চ আয়ের দেশগুলোর সরকার।

ব্লুমবার্গের টিকাবিষয়ক তথ্যভান্ডার অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৫৪টি দেশে ৭২ কোটি ৬০ লাখ ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমটি টিকাপ্রাপ্তির সঠিক অবস্থা জানাতে এসব দেশের সম্পদের হিসাবের পাশাপাশি নাগরিকদের টিকা পাওয়ার সুবিধার রেকর্ড তুলে ধরেন।

ট্র্যাকার অনুসারে দেখা যায়, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েও এখন পর্যন্ত মোট টিকার ২৪ শতাংশ প্রয়োগ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর। আর পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে দেশটির ৭৫ শতাংশ নাগরিককে টিকা দেয়া হবে।

অন্যদিকে বৈশ্বিক জনসংখ্যার ২.৭ শতাংশ হয়েও মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ ডোজ পেয়েছে পাকিস্তানের নাগরিকরা।

ধনী দেশের সরকারগুলো টিকা উৎপাদক প্রতিষ্ঠান থেকে শত শত কোটি ডোজ আগাম চুক্তির ভিত্তিতে কিনে রেখেছে। ফলে এমন বৈষ্যমের চিত্র বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা যাচ্ছে।

জনসংখ্যার ভিত্তিতে টিকার সুষম বণ্টন নিশ্চিতে এখনও কোনো উপায় বা পদ্ধতির প্রয়োগ দেখা যায়নি।

এমন বাস্তবতায় বিশ্বের সবচেয়ে কম সম্পদশালী মহাদেশ আফ্রিকার মানুষ সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হচ্ছে।

মহাদেশটির ৫৪টি দেশের মধ্যে কেবল তিনটি দেশে এখন পর্যন্ত টিকার আওতায় এসেছে মাত্র এক শতাংশ মানুষ। এখনও ২০টি দেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়নি।

শেয়ার করুন