খাশোগজি হত্যায় ভীতির পরিবেশ তৈরি করেন সৌদি যুবরাজ

সাংবাদিক জামাল খাশোগজি ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ছবি: সংগৃহিত।

খাশোগজি হত্যায় ভীতির পরিবেশ তৈরি করেন সৌদি যুবরাজ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে বলা হয়, খাশোগজি হত্যার সময়ে সৌদি যুবরাজ সম্ভবত এমন পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছিলেন, যাতে তার সহযোগীদের মধ্যে শঙ্কা হয়, অর্পিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাদের বরখাস্ত বা গ্রেপ্তার করা হবে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) অনুমোদনে সাংবাদিক জামাল খাশোগজিকে হত্যা করা হয় উল্লেখ করে শুক্রবার প্রতিবেদন প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালকের দপ্তর ওডিএনআই।

ওই প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা কেন এমবিএসের অনুমোদনের বিষয়টি সামনে এনেছে, তার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে খাশোগজি হত্যায় অংশগ্রহণকারী, আদেশদাতা কিংবা জড়িত ব্যক্তিদের নামও যুক্ত করা হয়েছে এতে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আমাদের মূল্যায়ন হলো সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগজিকে ধরে আনা বা হত্যার অভিযানে অনুমোদন দিয়েছেন।’

এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ২০১৭ সাল থেকে সৌদি আরবে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে যুবরাজের নিয়ন্ত্রণ, অভিযানে এমবিএসের এক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও তার নিরাপত্তা দলের কয়েকজনের সরাসরি সম্পৃক্তি এবং খাশোগজিসহ বিদেশে থাকা ভিন্ন মতাবলম্বীদের মুখ বন্ধে সহিংস পদক্ষেপে যুবরাজের সমর্থনের ভিত্তিতে গোয়েন্দারা এমন মূল্যায়ন করেছেন।

ওডিএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সাল থেকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ যুবরাজ এমবিএসের। ফলে যুবরাজের অনুমোদন ছাড়া সৌদির কর্মকর্তাদের এ ধরনের একটি অভিযান পরিচালনার সম্ভাবনা খুবই কম।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, খাশোগজি হত্যার সময়ে যুবরাজ সম্ভবত এমন পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছিলেন, যাতে তার সহযোগীদের মধ্যে শঙ্কা হয়, অর্পিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাদের বরখাস্ত বা গ্রেপ্তার করা হবে। এ থেকে বোঝা যায়, এমবিএসের আদেশ নিয়ে প্রশ্ন করার কথা নয় সহযোগীদের কিংবা তার (এমবিএস) সম্মতি ছাড়াই স্পর্শকাতর কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছে তারা।

ইস্তাম্বুলে যাওয়া সৌদির দলটি নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর পৌঁছানো দলে এমন কর্মকর্তা ছিলেন, যারা সৌদির রাজকীয় আদালতের সেন্টার ফর স্টাডিজ অ্যান্ড মিডিয়া অ্যাফেয়ার্সের (সিএসএমএআরসি) কর্মী বা সংশ্লিষ্ট ছিলেন। অভিযানের সময় এমবিএসের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা সউদ আল-কাহতানির নেতৃত্বে ছিল সিএসএমএআরসি। ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে কাহতানি দাবি করেছিলেন, তিনি সৌদি যুবরাজের অনুমোদন ছাড়া সিদ্ধান্ত নেন না।

তুরস্কে যাওয়া দলটিতে এমবিএসের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনী র‌্যাপিড ইন্টারভেনশন ফোর্সের (আরআইএফ) সাত সদস্য ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, সৌদি রয়্যাল গার্ডের অংশ আরআইএফের কাজ যুবরাজের সুরক্ষা দেয়া। বাহিনীটি শুধু তার কাছেই জবাবদিহি করে। ইতিপূর্বে যুবরাজের নির্দেশে সৌদি ও বিদেশে ভিন্ন মতাবলম্বীদের দমন অভিযানগুলোতে সরাসরি অংশ নেয় আরআইএফ। এ কারণে গোয়েন্দাদের উপসংহার হলো, এমবিএসের অনুমোদন না থাকলে খাশোগজি হত্যা অভিযানে অংশ নিত না বাহিনীটি।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘যুবরাজ খাশোগজিকে হুমকি মনে করতেন এবং দরকার হলে সহিংস কায়দায় তাকে দমিয়ে রাখার পদক্ষেপে তার (এমবিএস) জোর সমর্থন ছিল। যদিও পরিকল্পনা করে খাশোগজির বিরুদ্ধে অনির্দিষ্ট একটি অভিযান চালিয়েছিলেন সৌদি কর্মকর্তারা, আমরা এখন পর্যন্ত জানি না, কত আগে তারা তাকে (খাশোগজি) ক্ষতি করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

গোয়েন্দাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, মোহাম্মদ বিন সালমানের হয়ে খাশোগজি হত্যার নির্দেশ, এতে অংশগ্রহণ কিংবা জড়িত রয়েছেন কয়েকজন ব্যক্তি। অভিযান শেষ পর্যন্ত খাশোগজি হত্যায় রূপ নেবে, এমনটি অংশগ্রহণকারীরা আগে থেকেই জানত কি না, সে বিষয়ে গোয়েন্দারা জানেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন সৌদ আল-কাহতানি, মাহের মুতরেব, নয়ফল-আরিফি, মোহাম্মদ আল-জাহরানি, মানসুর আবাহুসাইন, বদর আল-উতাইবাহ, আবদুল আজিজ আল হাউসাওয়ি, ওয়ালিদ আবদুল্লাহ আল শিহরি, খালিদ আল উতায়বাহ, তা’আর আল হার্বি, ফাহদ শিয়াব আল বালাওয়ি, মেশাল আল-বুস্তানি, তুর্কি আল শিহরি, মুস্তফা আল মাদানি, সাইফ সাদ আল, আহমেদ জায়েদ আসিরি, আবদুল্লা মোহাম্মদ আলহোরিনি, ইয়াসির খালিদ আলসালেম, ইব্রাহিম আল-সালিম, সালাহ আল তুবাইগি ও মোহাম্মদ আল উতায়বাহ।

প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান সৌদির

সাংবাদিক জামাল খাশোগজি হত্যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে সৌদি। প্রকাশের পরপরই প্রতিবেদনটি নিয়ে বিবৃতি দেয় সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রতিবেদনে সৌদি আরবের নেতৃত্বকে নিয়ে নেতিবাচক, মিথ্যা ও অগ্রহণযোগ্য মূল্যায়ন সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে সৌদি। প্রতিবেদনটিতে ভুল তথ্য ও সিদ্ধান্ত রয়েছে বলেও মনে করে সৌদি আরব।

‘খাশোগজি হত্যা ঘৃণ্য অপরাধ এবং তা সৌদি রাষ্ট্রের আইন ও মূল্যবোধের ঘোর লঙ্ঘন। একদল ব্যক্তি যেসব সংস্থায় কাজ করতেন সেসব সংস্থার সংশ্লিষ্ট সব নিয়মকানুন ও কর্তৃপক্ষকে ডিঙিয়ে ওই হত্যা সংঘটন করে।’

আরও পড়ুন:
খাশোগজি হত্যা: যুবরাজের সংশ্লিষ্টতা নাকচ সৌদির
খাশোগজি হত্যায় অনুমোদন ছিল সৌদি যুবরাজের: যুক্তরাষ্ট্র
সৌদি বাদশাহকে ফোন বাইডেনের
খাশোগজি হত্যা: সৌদি বাদশাহকে ‘ফোন করবেন’ বাইডেন
খাশোগজি হত্যা: প্রতিবেদন ‘প্রকাশ করবেন’ বাইডেন মনোনীত

শেয়ার করুন

মন্তব্য

অক্সিজেন বন্ধ: মহারাষ্ট্রে ২২ কোভিড রোগীর মৃত্যু

অক্সিজেন বন্ধ: মহারাষ্ট্রে ২২ কোভিড রোগীর মৃত্যু

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, ‘বিশ্বে যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি মেডিক্যাল অক্সিজেন তৈরি করে ভারত তার একটি। তার পরও এই পরিস্থিতি, কারণ আমাদের অক্সিজেন পরিবহনের কাঠামোই তৈরি করা হয়নি।‘ এরই মধ্যে বুধবার কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে তার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ভারত ৭৩৪ শতাংশ বেশি অক্সিজেন রপ্তানি করেছে।

ভারতের একটি সরকারি কোভিড হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে একসঙ্গে অন্তত ২২জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

বিবিসি জানায়, মহারাষ্ট্রের নাসিক শহরের জাকির হুসেইন হাসপাতালে বুধবার এ ঘটনা ঘটে।

তবে কর্মকর্তারা জানান, রোগীদের ভ্যান্টিলেটরে অন্তত ৩০ মিনিট অক্সিজেন সরবরাহ ছিল না। শহরের পৌর কমিশনার কৈলাশ যাদব বলেন, ‌‘আমরা এ ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’

বুধবার সকালেও হাসপাতালে অন্তত ১৫০ রোগী ভর্তি ছিলেন, যাদের হয় ভেন্টিলিটরে রেখে বা চব্বিশ ঘন্টা অক্সিজেন সরবরাহ করে চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু দুপুরের দিকে হাসপাতালের ঠিক বাইরে যখন একটি অক্সিজেন ট্যাঙ্কার থেকে তাদের স্টোরেজে গ্যাস ভরা হচ্ছিল, তখনই মারাত্মক লিকেজের ঘটনা ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে ঘন সাদা ধোঁয়ায় চারপাশ ছেয়ে যায় - আর হাসপাতালে যে রোগীদের অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছিল তাদের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। মারা যাওয়াদের মধ্যে ১১জন পুরুষ ও ১১ জন নারী ছিলেন।

ট্যাংকারগুলো অক্সিজেনশূন্য হয়েছে বোঝার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেগুলো সরিয়ে নেয়। ভারতজুড়ে প্রায় সব হাসপাতালই তীব্র অক্সিজেন সংকট চলছে।

অমল ভিয়েভহারের দাদি এই দুর্ঘটনায় মারা যান। অমল বলছিলেন, ‌‘আমরা জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা চাই।‘

ভারতের প্রধানমন্ত্রী এই ঘটনাকে হৃদয়বিদারক হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, ‘এ ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক।‘

তবে অক্সিজেনের এই সংকটের জন্য কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বে যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি মেডিক্যাল অক্সিজেন তৈরি করে ভারত তার একটি। তার পরও এই পরিস্থিতি, কারণ আমাদের অক্সিজেন পরিবহনের কাঠামোই তৈরি করা হয়নি।‘

এরই মধ্যে বুধবার কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে তার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ভারত ৭৩৪ শতাংশ বেশি অক্সিজেন রপ্তানি করেছে।

ভারতে করোনাভাইসের দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। প্রতিদিনই তাদের আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ পার হয়ে যায়। বুধবার এই সংখ্যা ছিল প্রায় তিন লাখ। দেশটিতে এরই মধ্যে শুধু অক্সিজেন নয় প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতিও তৈরি হয়েছে।

ভারতে যে চারটি রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ মহারাষ্ট্র তার অন্যতম। বাকি রাজ্যগুলো হচ্ছে দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর প্রদেশ।

আরও পড়ুন:
খাশোগজি হত্যা: যুবরাজের সংশ্লিষ্টতা নাকচ সৌদির
খাশোগজি হত্যায় অনুমোদন ছিল সৌদি যুবরাজের: যুক্তরাষ্ট্র
সৌদি বাদশাহকে ফোন বাইডেনের
খাশোগজি হত্যা: সৌদি বাদশাহকে ‘ফোন করবেন’ বাইডেন
খাশোগজি হত্যা: প্রতিবেদন ‘প্রকাশ করবেন’ বাইডেন মনোনীত

শেয়ার করুন

এভারেস্টেও পৌঁছে গেছে করোনা

এভারেস্টেও পৌঁছে গেছে করোনা

খবরে বলা হয়েছে, কোভিডের লক্ষণ দেখা দেওয়ায় এ মাসে তিন জন পর্বতারোহীকে হেলিকপ্টারযোগে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের মধ্যে অন্তত একজনকে করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়।

বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট আরোহনকারীদের মধ্যে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে বলে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকার খবরে এ কথা বলা হয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, কোভিডের লক্ষণ দেখা দেওয়ায় এ মাসে তিন জন পর্বতারোহীকে হেলিকপ্টারযোগে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের মধ্যে অন্তত একজনকে করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়।

করোনা মহামারির কারণে গত বছর এভারেস্টে আরোহন বন্ধ করে দেয়া হয়। এ বছরই তা আবার খুলে দেয়া হলে ৩৭০ জন আরোহীকে এখন পর্যন্ত অনুমতি দেয়া হয়েছে।

এভারেস্ট চড়ার জন্যে আরোহীদের বেসক্যাম্পে প্রায় দু’মাস বাধ্যতামূলকভাবে অবস্থান করতে হয়, যাতে তাদের দেহ উচ্চতার সঙ্গে অভ্যস্ত হতে পারে। একজনের দেহে করোনা পাওয়া যাওয়ায় এখন কর্মকর্তারা সতর্ক থাকছেন, যাতে বাকি আরোহীরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে পারেন।

করোনার সংক্রমণ রোধ করতে নেপাল সরকার মাস্ক পরা এবং সামাজিক দূরত্ব রক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে। তাছাড়া ১৭ হাজার ৬০০ ফুট উচ্চতাতেও একটি অস্থায়ী মেডিক্যাল ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে।

নেপালের সবচেয়ে বড় অভিযান অপারেটরের চেয়ারম্যান মিংমা শেরপা বলেন, করোনা ধরা পড়লেও বাকি আরোহীরা অভিযান বাতিল করবেন না। তারা আরোহন অব্যাহত রাখবেন। তিনি বলেন, বেজক্যাম্পে পৌঁছানোর পর রণে ভঙ্গ দেওয়ার কোনো মানে হয় না।

আরও পড়ুন:
খাশোগজি হত্যা: যুবরাজের সংশ্লিষ্টতা নাকচ সৌদির
খাশোগজি হত্যায় অনুমোদন ছিল সৌদি যুবরাজের: যুক্তরাষ্ট্র
সৌদি বাদশাহকে ফোন বাইডেনের
খাশোগজি হত্যা: সৌদি বাদশাহকে ‘ফোন করবেন’ বাইডেন
খাশোগজি হত্যা: প্রতিবেদন ‘প্রকাশ করবেন’ বাইডেন মনোনীত

শেয়ার করুন

ভ্যাকসিন নিয়ে রাজনীতি করবেন না: কেন্দ্রকে মমতা


ভ্যাকসিন নিয়ে রাজনীতি করবেন না: কেন্দ্রকে মমতা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি আরও বলেন, ‘করোনা ম্যান মেড ডিজাস্টার নয়, মোদি মেড ডিজাস্টার। আতঙ্কিত হবেন না। রাজ্য সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে।’

প্রথম দিকে অবহেলা করলেও করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে আতঙ্কিত হয়ে টিকা নেয়ার লাইনে মানুষের উপচেপড়া ভিড়; কিন্তু টিকার অভাবে ফিরে যাচ্ছেন অনেকে।

বুধবার মালদায় এক সংবাদ সম্মেলনে টিকার সংকট নিয়ে তৃণমূল নেত্রী কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করে বলেন ‘টিকা নিয়ে রাজনীতি করবেন না। টিকা নিয়ে ব্যবসা করবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজ্যে প্রতিদিন ৪০ হাজার মানুষকে টিকা দেয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৯৩ লাখ মানুষকে টিকা দেয়া হয়েছে।’

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেন, ‘করোনা ম্যান মেড ডিজাস্টার নয়, মোদি মেড ডিজাস্টার। আতঙ্কিত হবেন না। রাজ্য সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে।’

মমতার অভিযোগের জবাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘টিকা নিয়ে কোথাও কোনো অস্বচ্ছতা নেই। টিকা নিয়ে মমতা মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। তৃণমূলের রাজনীতি অন্তিম লগ্নে। কোভিড ধরে বাঁচতে চাইছে।’

এদিকে কেন্দ্র-রাজ্য টিকার দামে এত ফারাক কেন প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি বলেন, রাজ্যকে কেন বেশি দাম দিয়ে টিকা কিনতে হবে, তার প্রতিবাদ জানিয়ে মোদিকে চিঠি লিখবেন তিনি।

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত রাজ্যে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ১৭২ জন। সক্রিয় রোগী ৫৮ হাজার ৩৮৬ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত রোগী ৯৮১৯ জন। এর মধ্যে কলকাতায় রয়েছেন ২ হাজার ২৩৪ জন। রাজ্যে মোট মৃত্যু হয়েছে ১০ হাজার ৬৫২ জনের। রাজ্যে সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক ৮২।

আরও পড়ুন:
খাশোগজি হত্যা: যুবরাজের সংশ্লিষ্টতা নাকচ সৌদির
খাশোগজি হত্যায় অনুমোদন ছিল সৌদি যুবরাজের: যুক্তরাষ্ট্র
সৌদি বাদশাহকে ফোন বাইডেনের
খাশোগজি হত্যা: সৌদি বাদশাহকে ‘ফোন করবেন’ বাইডেন
খাশোগজি হত্যা: প্রতিবেদন ‘প্রকাশ করবেন’ বাইডেন মনোনীত

শেয়ার করুন

তেজস্ক্রিয় পানি সাগরে ফেলা নিয়ে বিরোধে জাপান

তেজস্ক্রিয় পানি সাগরে ফেলা নিয়ে বিরোধে জাপান

ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১০ লাখ টন তেজস্ক্রিয় পানি সাগরে ফেলতে চায় জাপান। বিরোধিতা করছে প্রতিবেশী দেশগুলো।

সাগরে তেজস্ক্রিয় পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে জাপান। সুনামিতে বিধ্বস্ত ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১০ লাখ টনের বেশি দূষিত পানি সাগরে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপান।

এই পানির পরিমাণ এতো বিপুল যে তা দিয়ে অলিম্পিকের উপযোগী ৫ হাজার সুইমিং পুল ভরিয়ে ফেলা যাবে।

এতে আপত্তি জানিয়েছে দেশটির সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী চীন। শুধু তাই না, জাপানের আঞ্চলিক বন্ধু ও মিত্র হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানও এর বিরোধিতা করছে।

জাপান বলছে, এই পানিতে থাকা তেজস্ক্রিয়তা শোধন করে এমনভাবে তা সাধারণ পানির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে, যে তাতে থাকা দূষণের মাত্রা সুপেয় পানির পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে।

তবে স্থানীয় মৎস্য শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা এ উদ্যোগের ঘোর বিরোধিতা করছে।

কয়েক বছর ধরে তুমুল বিতর্কের পর অবশেষে এই পানি সাগরে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে জাপান।

২০১১ সালে ভূমিকম্প এবং তার ধাক্কায় সৃষ্ট সুনামির আঘাতে জাপানের ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুল্লিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুমামির ধাক্কায় চুল্লিগুলির শীতলায়ন ব্যবস্থা বিধ্বস্ত হলে তিনটি চুল্লি অতিরিক্ত তাপে গলে যায়।

এইসব গলিত চুল্লি ঠাণ্ডা করতে ১০ লাখ টনের বেশি পানি ব্যবহার করা হয়। তেজস্ক্রিয় এই পানি কোথায় রাখা হবে, এ নিয়ে বিপাকে পড়ে জাপান।

বর্তমানে এই পানি একটি জটিল প্রক্রিয়ায় পরিশোধন করে এর তেজস্ক্রিয় উপকরণ সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। তবু পানিতে কিছু পরিমাণে তেজস্ক্রিয় উপকরণ, বিশেষ করে ট্রিশিয়াম কণা থেকে যায়, যা বেশি পরিমাণে শরীরে গেলে অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে মনে করা হয়।

পরিশোধনের পর এই পানি রাখা হয় বিশাল বিশাল ট্যাংকে। ফুকুশিমা বিদ্যুত কেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো) বলছে, এসব পানি রাখার জায়গা ফুরিয়ে আসছে। ২০২২ সাল নাগাদ তাদের পক্ষে এ পানি রাখার মতো আর জায়গা থাকবে না।

এ পানি সাগরে ছেড়ে দেয়ার প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আসছে গ্রিনপিসসহ বিভিন্ন পরিবেশবাদি গ্রুপ দীর্ঘ দিন ধরে।

গ্রিনপিস বলেছে, জাপানের এ পরিকল্পনা প্রমাণ করছে, দেশটির সরকার ‘ফুকুশিমার মানুষকে আবারও হতাশ করল।’

জাপানের মৎস্য শিল্পের সঙ্গে জড়িতরাও এ উদ্যোগের বিরুদ্ধে। তারা বলছে, তেজস্ক্রিয়তার আশঙ্কায় তাদের কাছ থেকে ভোক্তারা পণ্য কিনতে রাজি হবে না।

এ সিদ্ধান্তের কথা জানার পর দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজান ‘দায়িত্বশীল’ আচরণ করতে আহ্বান জানিয়েছেন জাপান সরকারের প্রতি।

তবে যুক্তরাষ্ট্র এ ক্ষেত্রে জাপানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছে, তাদের মনে হচ্ছে পারমাণবিক নিরাপত্তার বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত মান অনুসরণ করেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে তাদের মনে হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
খাশোগজি হত্যা: যুবরাজের সংশ্লিষ্টতা নাকচ সৌদির
খাশোগজি হত্যায় অনুমোদন ছিল সৌদি যুবরাজের: যুক্তরাষ্ট্র
সৌদি বাদশাহকে ফোন বাইডেনের
খাশোগজি হত্যা: সৌদি বাদশাহকে ‘ফোন করবেন’ বাইডেন
খাশোগজি হত্যা: প্রতিবেদন ‘প্রকাশ করবেন’ বাইডেন মনোনীত

শেয়ার করুন

করোনা নিয়ন্ত্রণ: সুখবর দিলো ডব্লিউএইচও

করোনা নিয়ন্ত্রণ: সুখবর দিলো ডব্লিউএইচও

তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস

কোভিড বিশ্বজুড়ে ২৫-৫৯ বছর বয়সীদের মধ্যে বর্তমানে যেভাবে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। কোভিডের নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্ট বা ধরনকে তিনি এর জন্য দায়ী করেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বলেছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কোভিড-১৯ মহামারি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সম্পদের নিরপেক্ষ বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে।

সোমবার এক ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি। বৈশ্বিক পরিবেশ কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ এ ব্রিফিংয়ে সুইডেন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দেন।

দ্য স্ট্রেইট টাইমস পত্রিকা জানায়, ডব্লিউএইচও প্রধান গেব্রিয়েসুস বলেছেন, ‘আগামী কয়েক মাসের মধ্যে মহামারিকে নিয়ন্ত্রণে আনার মতো সরঞ্জাম আমাদের আছে। তবে আমাদের এগুলোর ধারাবাহিক ও ন্যায়সঙ্গত বিলিবণ্টন নিশ্চিত করতে হবে।‘

তবে কোভিড বিশ্বজুড়ে ২৫-৫৯ বছর বয়সীদের মধ্যে বর্তমানে যেভাবে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। কোভিডের নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্ট বা ধরনকে তিনি এর জন্য দায়ী করেন।

গেব্রিয়েসুস বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে নয় মাসে। পরবর্তী চার মাসে এই সংখ্যা ২০ লাখে পৌঁছে। আর ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে পরের তিন মাসে।

পরিবেশকর্মী থুনবার্গ ‌‘টিকা জাতীয়তাবাদের’ প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ধনী দেশগুলো তাদের তরুণ নাগরিকদেরও টিকা দিচ্ছে। যেখানে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ঝুঁকিপূর্ণ গ্রুপের নাগরিকরাও টিকা পাচ্ছেন না।

তিনি বলেন, উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে প্রতি চারজনে একজন টিকা দিয়েছেন। এই সংখ্যা উন্নয়নশীল দেশের ক্ষেত্রে প্রতি ৫০০ জনেরও বেশি মানুষের মধ্যে একজন।

‘টিকা জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে। এখন ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত হবে ঝুঁকিপূর্ণ গ্রুপকে চিহ্নিত করে তাদের আগে টিকাদান নিশ্চিত করা। সেটা তারা যে দেশেরই নাগরিক হোক না কেন।‘

থুনবার্গ মহামারি ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণেই প্রাণী থেকে প্রাণীতে এবং প্রাণী থেকে মানুষে রোগ বেশি ছড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিজ্ঞান আমাদের দেখিয়েছে, আমরা যদি আমাদের জীবনযাপনে পরিবর্তন না আনি তাহলে এ ধরনের মহামারি আরও ঘন ঘন আক্রমণ করবে। মহামারির জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে দিচ্ছি আমরা।

আরও পড়ুন:
খাশোগজি হত্যা: যুবরাজের সংশ্লিষ্টতা নাকচ সৌদির
খাশোগজি হত্যায় অনুমোদন ছিল সৌদি যুবরাজের: যুক্তরাষ্ট্র
সৌদি বাদশাহকে ফোন বাইডেনের
খাশোগজি হত্যা: সৌদি বাদশাহকে ‘ফোন করবেন’ বাইডেন
খাশোগজি হত্যা: প্রতিবেদন ‘প্রকাশ করবেন’ বাইডেন মনোনীত

শেয়ার করুন

শঙ্খ ঘোষের জন্য গান স্যালুট চায় না পরিবার

শঙ্খ ঘোষের জন্য গান স্যালুট চায় না পরিবার

অবিচলিত শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন কবি শঙ্খ ঘোষ। কবির প্রয়াণে অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে বাংলা কবিতা। কবির শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী অনাড়ম্বরভাবে কবির শেষ কৃত্য সম্পন্ন হবে কলকাতার নিমতলা শশ্মানে।

কবি শঙ্খ ঘোষের প্রয়াণে শোক জানানোর পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় কবিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে চাইলে আপত্তি তোলেন কবির পরিবার।

প্রবাদপ্রতিম কবি সহজ-সরল অনাড়ম্বর জীবন ভালবাসতেন। কবির ইচ্ছে ছিল, শেষ যাত্রা যেন অনাড়ম্বর হয়। শেষ বিদায়ে কবির ইচ্ছেকেই গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তার জন্য অনাড়ম্বর শেষকৃত্য অনুষ্ঠানই আয়োজন করতে চায় পরিবার।

রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘গান স্যালুট চান না, কবিকে নীরবে বিদায় দিতে চান কবির পরিবার।’

অবিচলিত শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন কবি শঙ্খ ঘোষ। কবির প্রয়াণে অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে বাংলা কবিতা। কবি জীবনানন্দ দাশ পরবর্তী শক্তি সুনীল শঙ্খ উৎপল বিনয়- চারজন আগেই চলে গেছেন। এবার চলে গেলেন শঙ্খ ঘোষ।

করোনা আক্রান্ত কবির চিকিৎসা বাড়িতেই চলছিল। মঙ্গলবার রাতে তার অবস্থার অবনতি হয়। বুধবার সকাল আটটায় তিনি নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার মৃত্যুতে শোক জ্ঞাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, রাজ্যপাল জাগদীপ ধনকড়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

পদ্মভূষণ, সাহিত্য অ্যাকাডেমি, জ্ঞানপীঠ, দেশিকোত্তমসহ বহু দেশি-বিদেশি পুরস্কারে সম্মানিত কবি শঙ্খ ঘোষের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ, দিনগুলি রাতগুলি, মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে, বাবরের প্রার্থনা, পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ, মূর্খ বড় সামাজিক নয় ইত্যাদি।

বুধবার সন্ধ্যায় কবির শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী অনাড়ম্বরভাবে কবির শেষ কৃত্য সম্পন্ন হবে কলকাতার নিমতলা শশ্মানে।

আরও পড়ুন:
খাশোগজি হত্যা: যুবরাজের সংশ্লিষ্টতা নাকচ সৌদির
খাশোগজি হত্যায় অনুমোদন ছিল সৌদি যুবরাজের: যুক্তরাষ্ট্র
সৌদি বাদশাহকে ফোন বাইডেনের
খাশোগজি হত্যা: সৌদি বাদশাহকে ‘ফোন করবেন’ বাইডেন
খাশোগজি হত্যা: প্রতিবেদন ‘প্রকাশ করবেন’ বাইডেন মনোনীত

শেয়ার করুন

লকডাউনে জন্মনিয়ন্ত্রণে ধস, রেকর্ড নবজাতকের শঙ্কা

লকডাউনে জন্মনিয়ন্ত্রণে ধস, 
রেকর্ড নবজাতকের শঙ্কা

যুক্তরাজ্যে লকডাউনের মাঝে বেড়েছে সন্তান জন্মদান। ছবি: সংগৃহীত

লকডাউনের মধ্যে গর্ভধারণ ও নবজাতকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন রয়েল কলেজ অফ মিডওয়াইভস-এর মহাপরিচালক বিরথ হারলেভ ল্যাম। তিনি জানান, ‘এ মহামারি অধিকাংশ মানুষকে একটু ধীর গতির জীবনযাত্রার সঙ্গে অভ্যস্ত করে তোলে। অনেকেই বাসা থেকে অফিসের কাজ করছেন। তারা আরও বেশি করে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন। এতে করে কেউ কেউ সন্তান নেয়ার বিষয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।’

যুক্তরাজ্যে লকডাউনের মধ্যে শিশু জন্মে ধস নামার আশঙ্কা করা হলেও বাস্তবে ঘটেছে উল্টো ঘটনা। চিকিৎসকের সঙ্গে সন্তান-সম্ভবা নারীদের দেখা করার (অ্যাপয়েন্টমেন্ট) হার বেড়ে গেছে।

দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য সেবার (ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস) আওতাধীন মেটারনিটি বিভাগের দেয়া পরিসংখ্যান মতে, গত বছর মে মাসে সন্তান-সম্ভবা নারীদের চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করার সংখ্যা একটু কমে আসলেও এর পর থেকেই তা বেড়ে যেতে দেখা যায়। এই সংখ্যা এখনও বাড়ছে। এতে শিশু জন্মের রেকর্ড হতে পারে বলে আশঙ্কা জানানো হয়েছে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে

গত বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর) গর্ভবতী নারীদের তার চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করার সংখ্যা গেল পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল।

দেশটিতে গত বছর মে মাসে ২০১৯ সালের একই মাসের তুলনায় এমন অ্যাপয়েন্টমেন্টের হার সাড়ে দশ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৫১ হাজারে। তবে এর পর থেকে আবারও অ্যাপয়েন্টমেন্টের সংখ্যা বাড়তে থাকে। সেপ্টেম্বরে এসে তা হয়েছিলো ৫৮ হাজারের বেশি। ২০১৫ সালের পর এটিই হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।

গত বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) অ্যাপয়েন্টমেন্টের সংখ্যা ছিল এক লাখ ৭৩ হাজারের বেশি। যা ২০১৯ সালের একই সময়ের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি।

সংক্রমণ রোধে দেশটিতে প্রথমবারের মতো লকডাউন ঘোষিত হয়েছিল গত বছর ২৩ মার্চ। সরকার ঘোষিত এই লকডাউনের সময় স্বাস্থ্য বিভাগের আওতাধীন সব প্রজনন স্বাস্থ্যবিষয়ক কেন্দ্রগুলো ছয় সপ্তাহ বন্ধ থাকার মধ্যেও বেড়েছে গর্ভধারণের সংখ্যা।

লকডাউনের মধ্যে গর্ভধারণ ও নবজাতকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন রয়েল কলেজ অফ মিডওয়াইভস-এর মহাপরিচালক বিরথ হারলেভ ল্যাম।

তিনি জানান, ‘এ মহামারি অধিকাংশ মানুষকে একটু ধীর গতির জীবনযাত্রার সঙ্গে অভ্যস্ত করে তোলে। অনেকেই বাসা থেকে অফিসের কাজ করছেন। এতে করে আরও বেশি সময় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন তারা। এতে করে কেউ কেউ সন্তান নেয়ার বিষয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।’

এ প্রসঙ্গে সাউদাম্পটন ইউনিভার্সিটির জনসংখ্যাবিষয়ক অধ্যাপক অ্যান বেরিংটন বলেন, ‘মহামারির মধ্যেও যেসব দম্পতির আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল তাদের মধ্যে সন্তান নেয়ার প্রবণতা ছিল বেশি। তবে অধিকাংশ নতুন দম্পতি, যাদের চাকরির নিশ্চয়তা ছিল না, তাদের মধ্যে সন্তান নেয়ার সংখ্যা কম ছিল।’

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হতাশাজনক ঘটনার পরে অনেক সময় শিশু জন্মের সংখ্যা বেড়ে যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে একই ভাবে সন্তান-সম্ভবা নারীর সংখ্যা বেড়ে গিয়েছিল।

গবেষণা সংস্থা অপিনিয়াম জানায়, লকডাউন শেষে পরের দুই বছরে যুক্তরাজ্য কমপক্ষে ২০ লাখ শিশু ভূমিষ্ঠ হতে পারে যদি ২৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী সব নারী সন্তান নেয়ার পরিকল্পনা করে থাকেন।

আরও পড়ুন:
খাশোগজি হত্যা: যুবরাজের সংশ্লিষ্টতা নাকচ সৌদির
খাশোগজি হত্যায় অনুমোদন ছিল সৌদি যুবরাজের: যুক্তরাষ্ট্র
সৌদি বাদশাহকে ফোন বাইডেনের
খাশোগজি হত্যা: সৌদি বাদশাহকে ‘ফোন করবেন’ বাইডেন
খাশোগজি হত্যা: প্রতিবেদন ‘প্রকাশ করবেন’ বাইডেন মনোনীত

শেয়ার করুন