সেনাদের বীরত্ব নিয়ে প্রশ্ন, চীনে ব্লগার গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার ব্লগার কিউ জিমিং। ছবি: সংগৃহীত

সেনাদের বীরত্ব নিয়ে প্রশ্ন, চীনে ব্লগার গ্রেপ্তার

লাদাখ সীমান্তে গত বছর ভারতের বিপক্ষে সংঘর্ষে নিহত চীনা সেনাদের নিয়ে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ব্লগার কিউকে। এই সংঘর্ষ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এই নিয়ে ছয়জনকে প্রেপ্তার করল চীন কর্তৃপক্ষ।

হিমালয়-অধ্যুষিত লাদাখ সীমান্তের গালওয়ান উপত্যকায় গত বছর ভারতীয় সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত চীনা সেনাদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় এক ব্লগারকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।

কর্তৃপক্ষ বলছে, ৩৮ বছর বয়সী ব্লগার ওই সংঘর্ষ নিয়ে ‘বিদ্বেষপূর্ণভাবে সত্যকে বিকৃত করেছিল’।

বিবিসি লিখেছে, গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এই নিয়ে ছয়জনকে আটক করল চীন কর্তৃপক্ষ।

গত বছরের জুনে ভারত-চীন সীমান্তে ওই সংঘর্ষ হয়। এটি ছিল দেশ দুটির মধ্যে গত ৪৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী লড়াই। ভারত জানিয়েছিল, ওই সংঘর্ষে হাতাহাতিতে তাদের অন্তত ২০ জন সেনার মৃত্যু হয়েছে।

তবে নিজেদের সেনাদের মধ্যে হতাহত নিয়ে মুখ খুলছিল না চীন। গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো বেইজিং জানায়, গালওয়ান উপত্যকায় ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষে তাদের চারজন সেনার মৃত্যু হয়েছিল।

তবে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলায় কিউ জিমিং নামে জনপ্রিয় ব্লগারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, চীনা মাইক্রোব্লগিং ওয়েবসাইট ওয়েইবোতে ২৫ লাখ ফলোয়ার ছিল তার।

তবে কিউয়ের অ্যাকাউন্টটি মুছে ফেলার কারণে সেটি যাছাই করা যায়নি। গত সপ্তাহে ওয়েইবো জানিয়েছিল, কিউয়ের অ্যাকাউন্টটি এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে তারা।

বীর ও শহিদদের ব্যাপারে অপবাদ ঠেকাতে ২০১৮ সালে একটি আইন পাস করে চীন।

তবে কিউয়ের বিচার সম্প্রতি চীনের ফৌজদারি আইনে আনা সংশোধিত একটি ধারা অনুযায়ী হতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম।

সংশোধিত ধারাটি কার্যকর হবে আগামী মাস থেকে। এই ধারায় দোষী ব্যক্তির তিন বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।

আরও পড়ুন:
লাদাখ থেকে সেনা সরাচ্ছে ভারত-চীন
ভারতের ৪ কিলোমিটার ভেতরে চীনের গ্রাম

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নাসার গোপন বার্তা, ‘ডেয়ার মাইটি থিংস’

নাসার গোপন বার্তা, ‘ডেয়ার মাইটি থিংস’

এই প্যারাস্যুটের সাহায্যে মঙ্গলে অবতরণ করে অধ্যবসায়। ছবি: নাসা।

যে বিশাল প্যারাস্যুটের সাহায্যে রোভারটি অবতরণ করে মঙ্গলের রুক্ষ মাটিতে, সেই প্যারাস্যুটে একটি গোপন বার্তা লুকিয়ে রেখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার বিজ্ঞানীরা। আর রোভার অবতরণের মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যেই সেই বার্তা উদ্ঘাটন করেছেন পৃথিবীর কিছু কম্পিউটার জিনিয়াস।

পৃথিবী থেকে কোটি কোটি কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বৃহস্পতিবার রক্তিম গ্রহ মঙ্গলের মাটি স্পর্শ করে নাসার পারসেভারেন্স বা ‘অধ্যবসায়’ রোভার।

ছয় চাকার এই রোভার মঙ্গলের মাটিতে অন্তত দুই বছর অবস্থান করবে। গ্রহটির পাথুরে মাটি খুঁড়ে প্রাণের অস্তিত্বের প্রমাণ খুঁজবে এটি।

যে বিশাল প্যারাস্যুটের সাহায্যে রোভারটি অবতরণ করে মঙ্গলের রুক্ষ মাটিতে, সেই প্যারাস্যুটে একটি গোপন বার্তা লুকিয়ে রেখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার বিজ্ঞানীরা।

আর রোভার অবতরণের মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যেই সেই বার্তা উদ্ঘাটন করেছেন পৃথিবীর কিছু কম্পিউটার জিনিয়াস।

মঙ্গলের বুকে অধ্যবসায়কে নিরাপদে নামতে ব্যবহার করা প্যারাস্যুটে ছিল লাল-সাদার অজস্র রেখা। সাধারণ চোখে এর মধ্যে বিশেষত্ব খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। তবে বিভিন্ন দেশের কম্পিউটার জিনিয়াসেরা ওই রেখাগুলোর মধ্যেই খুঁজে পেয়েছেন একটি বাক্য, ‘ডেয়ার মাইটি থিংস’; বাংলায় অর্থটি অনেকটা এ রকম- ‘সাহসী কাজে নির্ভীক’।

অধ্যবসায়ের প্যারাস্যুটে এভাবেই বাইনারি কোডে লেখা ছিল বার্তা

রোভার অবতরণের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের আগে নাসার বিজ্ঞানীদের একটি অংশ ছাড়া আর কেউই প্যারাসুটে এই লুকানো বার্তা সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। অধ্যবসায় মিশনের নেতৃত্ব দেয়া নাসার জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরি অনানুষ্ঠানিকভাবে অনেক দিন ধরেই ‘ডেয়ার মাইটি থিংস’ স্লোগানটি নিজেদের বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছে।

আর অধ্যবসায়ের প্যারাস্যুটে বাইনারি কোডে (১০১০১০) লেখা ছিল ওই স্লোগানটি। বার্তাটি উদ্ঘাটনের পর নাসার প্রধান প্রকৌশলী অ্যাডাম স্টেল্টজনার বেশ বিস্মিত। তিনি বলেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে ইন্টারনেট কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কোডটি ধরে ফেলেছে! ইন্টারনেটে এমন কিছু কি আছে, যা আপনি করতে পারবেন না?’

নাসার সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার আয়ান ক্লার্ক বৃহস্পতিবার অবতরণের আগে এই গোপন বার্তা সম্পর্কে নাসার ভেতরেই মাত্র ছয়জন জানতেন। ছবি প্রকাশের মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে এই রহস্য উদ্ঘাটন হয়ে যাবে, তা নাসাও ভাবতে পারেনি।

‘ডেয়ার মাইটি থিংস’ শব্দ তিনটি নেয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্টের একটি জনপ্রিয় উদ্ধৃতি থেকে। আর সেটি হলো, ‘Far better it is to dare mighty things, to win glorious triumphs, even though checkered by failure.’

আরও পড়ুন:
লাদাখ থেকে সেনা সরাচ্ছে ভারত-চীন
ভারতের ৪ কিলোমিটার ভেতরে চীনের গ্রাম

শেয়ার করুন

ভারতে আবারও বাড়ছে করোনা

ভারতে আবারও বাড়ছে করোনা

ভারতে আবারও বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। ছবি: এএফপি

গত মাসে কেরল ছাড়া বাকি রাজ্যগুলির দৈনিক সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ছিল। গত কদিনে মহারাষ্ট্রে আবার বাড়তে শুরু করেছে সংক্রমণ। আড়াই-তিন হাজারের আশপাশে থাকতে থাকতে তা লাফিয়ে বেড়ে ৫-৬ হাজারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, পাঞ্জাবের মতো রাজ্যেও আক্রান্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।  

দুই মাস কিছুটা কম থাকার পর ভারতে করোনা শনাক্তের সংখ্যা আবারও বাড়ছে। চলতি মাস থেকে আবার ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা। এর মধ্যে কয়েকটি রাজ্যের পরিস্থিতি বেশ জটিল।

গত কয়েকদিনে ভারতে প্রায় প্রতিদিনই করোনা শনাক্তের সংখ্যা পৌঁছাচ্ছে ১৩-১৪ হাজারে। বুধবারই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০০ এর বেশি মানুষ।

যে রাজ্যগুলোতে করোনা আবার বাড়ছে এর মধ্যে রয়েছে মহারাষ্ট্র, পাঞ্জাব, কেরালা, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ।

গত মাসে কেরালা ছাড়া বাকি রাজ্যগুলোর দৈনিক সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ছিল। গত কদিনে মহারাষ্ট্রে আবার বাড়তে শুরু করেছে সংক্রমণ। আড়াই-তিন হাজারের আশপাশে থাকতে থাকতে তা লাফিয়ে বেড়ে পাঁচ-ছয় হাজারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, পাঞ্জাবের মতো রাজ্যেও আক্রান্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। মঙ্গলবার মহারাষ্ট্রে দৈনিক সংক্রমণ পাঁচ হাজার ছাড়ালেও কেরালায় তা কমে আড়াই হাজারের নিচে।

নতুন করে সংক্রমণ বৃদ্ধির পাশাপাশি করোনা ভাইরাসের ধরন পরিবর্তনও চিন্তা বাড়াচ্ছে বিজ্ঞানী এবং চিকিৎসকদের। ইতোমধ্যে ‘এন ৪৪০কে’ এবং ‘ই ৪৮৪কে’, এই দুটি স্ট্রেইনের সন্ধান মিলেছে মহারাষ্ট্র, কেরালা এবং তেলেঙ্গনায়।

এই তিনটি রাজ্যের সঙ্গে ছত্তিশগড় ও পাঞ্জাব কে চিঠি দিয়ে সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরাও করোনা ভাইরাসের মিউটেশন ও ধরন পরিবর্তনের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন।

এই কদিনের প্রায় ৩৫০০ নমুনা পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা দেখছেন ভাইরাসের অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন নজরে আসে কিনা।

বুধবার দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার এবং দিল্লি রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর ঘোষণা দিয়েছেন, ১ মার্চ থেকে দেশের বয়স্ক নাগরিক ও অন্যান্য রোগে ভোগা ৪৫ বছরের বেশি বয়সীদের করোনা টিকা দেয়ার কাজ শুরু হবে।

তিনি জানিয়েছেন, ১০ হাজার সরকারি কেন্দ্রের পাশাপাশি ২০ হাজার বেসরকারি কেন্দ্রেও টিকা দেয়া হবে।

কেন্দ্রীয়মন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রথম পর্বে এক কোটি স্বাস্থ্যকর্মী ও দুই কোটি সম্মুখসারির কর্মীকে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা ছিল। ইতোমধ্যে টিকা নিয়েছেন প্রায় ৬০ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মী।

দ্বিতীয় পর্বে টিকা দেয়া হয় পুলিশ ও অন্যান্য সম্মুখসারির কর্মীদের। এই পর্বেও বহু মানুষ টিকা নিয়েছেন। এবার তৃতীয় পর্যায়ে টিকার আওতায় আসবেন ষাটোর্ধ্ব ও অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ৪৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষ।

দিল্লির রাজ্য সরকার বুধবার এক নির্দেশিকা জারি করে বলেছে, কেরালা, মহারাষ্ট্র ,পাঞ্জাব ,ছত্তিশগড় ও মধ্যপ্রদেশ থেকে বাস, বিমান বা ট্রেনে দিল্লিতে ঢুকলে করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট দেখানো আবশ্যক।

তবে সড়কপথে ছোট গাড়িতে দিল্লিতে ঢুকতে গেলে এ ধরনের কোনো রিপোর্ট দেখাতে হবে না। দিল্লি ঢোকার আগে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আরটি–পিসিআর টেস্ট করাতে হবে।

শনিবার থেকে চালু হচ্ছে নতুন নিয়ম। ১৫ মার্চ পর্যন্ত আপাতত দেখাতে হবে রিপোর্ট। গত কয়েক সপ্তাহে দেশে যত জন আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ৮৬ শতাংশই এই পাঁচ রাজ্যের। সূত্রের খবর, সে কারণেই সক্রিয় হয়েছে দিল্লি সরকার। কারণ দিল্লিতে এখন করোনা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে।

আরও পড়ুন:
লাদাখ থেকে সেনা সরাচ্ছে ভারত-চীন
ভারতের ৪ কিলোমিটার ভেতরে চীনের গ্রাম

শেয়ার করুন

বৃহত্তম ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নাম বদলে নরেন্দ্র মোদি

বৃহত্তম ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নাম বদলে নরেন্দ্র মোদি

নতুন নাম রাখা হয়েছে নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম। বুধবার উদ্বোধনী ম্যাচের আগে এই নাম পরিবর্তন করেন প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দ।

ভারত-ইংল্যান্ড সিরিজের তৃতীয় টেস্ট হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। গোলাপি বলের ডে-নাইট ম্যাচ শুরুর দিনই বদলে গেল এর নাম। মোতেরার ১ লাখ ১০ হাজার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ভেন্যুটি এখন থেকে পরিচিত হবে নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম হিসেবে।

রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ বুধবার উদ্বোধন করেন নতুন নামের স্টেডিয়ামটির। মোতেরা স্টেডিয়ামের আগের নাম ছিল সর্দার প্যাটেল স্টেডিয়াম।

উদ্বোধনের মঞ্চে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় থেকে মোতেরাকে বিশ্বের সবথেকে বড় স্টেডিয়াম হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখতেন নরেন্দ্র মোদি। উনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর শুরু হয় মোতেরা স্টেডিয়াম নবনির্মাণের কাজ। দীর্ঘ ৫ বছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা খরচ করে গড়ে তোলা হয়েছে এটি। এখন থেকে এটি নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম নামে পরিচিত হবে।’

বিশ্বের সব থেকে বড় স্টেডিয়ামের উদ্বোধনের মঞ্চে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী কিরেন রিজিজু।

স্টেডিয়ামটি ধারণক্ষমতার হিসেবে ছাড়িয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডকে (এমসিজি)। এমসিজিতে ৯০ হাজার দর্শক একসঙ্গে খেলা দেখতে পারেন।

অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন স্টেডিয়ামে ১১টি পিচের সঙ্গে আছে অনুশীলনের জন্য দুটি ছোট মাঠ। বিশ্বের একমাত্র ক্রিকেট মাঠ এটি, যেখানে খেলোয়াড়দের জন্য চারটি ড্রেসিং রুমের সুবিধা আছে।

আরও পড়ুন:
লাদাখ থেকে সেনা সরাচ্ছে ভারত-চীন
ভারতের ৪ কিলোমিটার ভেতরে চীনের গ্রাম

শেয়ার করুন

হাস্যোজ্জ্বল সেলফির পর স্ত্রীকে ফেলে দিলেন পাহাড় থেকে

হাস্যোজ্জ্বল সেলফির পর স্ত্রীকে ফেলে দিলেন পাহাড় থেকে

বাটারফ্লাই উপত্যকায় সেমরাকে হত্যার আগে তার সঙ্গে হাকানের সেলফি। ছবি: ডেইলি মেইল।

প্রায় দুই বছর আগে পরিকল্পিত এই হত্যার বিষয়টিকে ভালোভাবেই ধামাচাপা দিয়েছিলেন আয়সাল। তবে ওই পাহাড়ে একই সময়ে চড়া এক পর্যটকের ভিডিও এবং সেমরার জীবন বিমার টাকা তুলতে গিয়ে শেষপর্যন্ত তিনি ধরা পড়েন।

গর্ভে সাত মাসের সন্তান নিয়ে স্বামীর সঙ্গে সাগরতীরের উঁচু পাহাড়ে ঘুরতে গিয়েছিলেন সেমরা আয়সাল। চূড়ার কাছে পৌঁছে উচ্ছ্বসিত সেমরাকে নিয়ে সেলফি তোলেন স্বামী হাকান আয়সাল।

আর তার পরেই ঘটে ভয়ংকর ঘটনা। সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে ধাক্কা মেরে নিচে ফেলে দেন হাকান। যে স্বামীর হাত ধরে খানিক আগেই আনন্দে উদ্বেল হয়েছিলেন সেমরা, তার নির্মমতার শিকার হয়েই প্রাণ হারান তিনি। মৃত্যু হয় গর্ভের সন্তানেরও।

তুরস্কের মুগলার বাটারফ্লাই উপত্যকায় প্রায় দুই বছর আগে পরিকল্পিত এই হত্যার বিষয়টিকে ভালোভাবেই ধামাচাপা দিয়েছিলেন আয়সাল। তবে ওই পাহাড়ে একই সময়ে চড়া এক পর্যটকের ভিডিও এবং সেমরার জীবন বিমার টাকা তুলতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি ধরা পড়েন।

আয়সালকে গ্রেপ্তারের পর তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে তুর্কি পুলিশ।

ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালের জুনে ইজিয়ান সাগরতীরের বাটারফ্লাই উপত্যকায় সাত মাসের গর্ভবতী স্ত্রী সেমরাকে ঘুরতে নিয়ে যান হাকান আয়সাল। এর কিছু দিন আগেই সেমরার জীবন বিমা করানো হয়েছিল।

বাটারফ্লাই উপত্যকায় ঘুরতে গিয়ে স্বামীর সঙ্গে সেলফি তুলেছিলেন সেমরাও

পাহাড়ের চূড়ায় স্ত্রীকে নিয়ে বেশ ছবি তোলেন হাকান। তদন্তকারীরা বলছেন, চূড়ায় পৌঁছে প্রায় তিন ঘণ্টা স্ত্রীকে নিয়ে অপেক্ষা করেন তিনি। যখন নিশ্চিত হন আশপাশে আর কেউ নেই, ঠিক তখনই সেমরাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন হাকান।

প্রায় হাজার ফুট নিচে পড়ে তাৎক্ষণিক মৃত্যু হয় সেমরার। সেমরার অন্তিম সময়ের কিছু দৃশ্য ধরা পড়ে এক পর্যটকের ক্যামেরায়। তিনি বলছেন, হাকানের আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় ভিডিও ধারণ করেন তিনি।

সেমরাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়ার আগ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করেন একজন পর্যটক

তুরস্কের তদন্তকারীরা জানান, ৪ লাখ তুর্কি লিরার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৯ লাখ টাকা) বিমা ছিল সেমরার নামে, যার নমিনি ছিলেন স্বামী হাকান। ওই টাকার লোভেই স্ত্রীকে হত্যা করেন তিনি।

সেমরার মৃত্যুকে শুরুতে দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন হাকান। তবে জীবন বিমার টাকা তুলতে গেলে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। তদন্তের কারণে হাকানকে টাকা দেয়াও বন্ধ রাখে বিমা কোম্পানি।

সেমরার ভাই নাইম ইয়োলচু বলেন, ‘আমার বোন মারা যাওয়ার পর হাকানের মধ্যে কোনো ভাবাবেগ দেখিনি। আমরা যখন সেমরার মরদেহ ফরেনসিক মেডিসিন ইনস্টিটিউট থেকে আনতে যাই, হাকান তখন গাড়িতে ঠায় বসেছিলেন। আমরা ভেঙে পড়েছিলাম, কিন্তু হাকান ছিলেন স্বাভাবিক।’

আরও পড়ুন:
লাদাখ থেকে সেনা সরাচ্ছে ভারত-চীন
ভারতের ৪ কিলোমিটার ভেতরে চীনের গ্রাম

শেয়ার করুন

ধর্ষণের অভিযোগে জবাবদিহি করতে হতে পারে ট্রাম্পকে

ধর্ষণের অভিযোগে জবাবদিহি করতে হতে পারে ট্রাম্পকে

ক্যারলের দাবি, নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে ম্যানহাটনের একটি দোকানে ধর্ষণের শিকার হন তিনি। যদিও তার এ অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে প্রায় ২৫ বছর পর, ২০১৯ সালের নভেম্বরে। প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন এ মামলার অভিযোগ সাফ অস্বীকার করেন ট্রাম্প।

লেখিকা ও সাংবাদিক ই জ্যঁ ক্যারলকে ধর্ষণের অভিযোগে এ বছরই জবাবদিহির মুখে পড়তে হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে।

ক্যারলের দাবি, নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে ম্যানহাটনের একটি দোকানে ধর্ষণের শিকার হন তিনি। যদিও তার এ অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে প্রায় ২৫ বছর পর, ২০১৯ সালের নভেম্বরে।

প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন এ মামলার অভিযোগ সাফ অস্বীকার করেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ‘ক্যারলের মতো নারীর প্রতি আগ্রহ নেই আমার।’

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সে সময় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন বর্তমানে ৭৭ বছর বয়সী ক্যারল।

ক্যারল জানান, একটি দোকানে হুট করেই ট্রাম্পের সামনে পড়েছিলেন তিনি। সে সময় টেলিভিশনে একটি টক-শো উপস্থাপনা করতেন তিনি। উপস্থাপিকা হিসেবে ট্রাম্প তাকে চিনে নেয়ায় দুজনে মিলে বেশ কিছুক্ষণ গল্পও করেন। একপর্যায়ে ভুলভাল বুঝিয়ে ড্রেসিংরুমে নিয়ে সেখানেই তাকে ধর্ষণ করেন ট্রাম্প।

ক্যারলের দাবি, সে সময় যে পোশাকটি তার পরনে ছিল, সেটি সংরক্ষিত আছে তার কাছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এ বছরই এ মামলায় শুনানির জন্য ট্রাম্পকে কাঠগড়ায় আনার পরিকল্পনা করছেন ক্যারলের আইনজীবীরা। তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের ডিএনএ নমুনা চাইবেন।

যৌন সহিংসতার অভিযোগ সংক্রান্ত দুটি মানহানির মামলা রয়েছে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে।

তিনি প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন তার আইনজীবীরা মামলাটি পেছাতে সক্ষম হলেও, এখন তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া দ্রুতই এগোবে বলে মনে করছেন ক্যারলের আইনজীবীরা।

আরও পড়ুন:
লাদাখ থেকে সেনা সরাচ্ছে ভারত-চীন
ভারতের ৪ কিলোমিটার ভেতরে চীনের গ্রাম

শেয়ার করুন

করোনাকালে ফলল চীনা যুবকের সব ভবিষ্যদ্বাণী

করোনাকালে ফলল চীনা যুবকের সব ভবিষ্যদ্বাণী

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসি ২৬ বছর বয়সি ইউওয়াং গু।

করোনাভাইরাসে মৃত্যু নিয়ে দুটি সুনামধন্য প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় ব্যাপক তারতম্য ভাবিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী ২৬ বছর বয়সী ইউওয়াং গু-কে। সময়ক্ষেপণ না করে মহামারিতে মৃত্যুবিষয়ক সঠিক ও গ্রহণযোগ্য উপাত্ত প্রকাশ করতে দ্রুত কাজ শুরু করে দেন এই চীনা যুবক।

২০২০ সালের শুরুর দিকে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে নাকাল বিশ্ববাসী। সবার দৃষ্টি ছিল তখন কী হতে যাচ্ছে আগামীর দিনগুলোতে। স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশ্বের শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন ও ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটনের ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভেলিউশনের (আইএইচএমই) দেয়া তথ্যের ওপর মুখিয়ে আছে বিশ্বের শত কোটি মানুষ।

গত বছর এপ্রিলের শুরুতে ইম্পেরিয়াল কলেজ সতর্ক করে বলে আগস্টের মধ্যে মহামারিতে কেবল যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর সংখ্যা ২ লাখ ছাড়াবে। তবে একই সময়ে মৃতের সংখ্যা অনেক কম হবে বলে উপাত্ত প্রকাশ করে আইএইচএমই । যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে অবস্থিত বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানটির তথ্য মতে মৃত্যুর সংখ্যা ৬০ হাজারের বেশি ছাড়াবে না।

নির্ধারিত সময় আগস্টে দেশটিতে মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা ছাড়িয়েছিল ১ লাখ ৬০ হাজার।

দুটি সুনামধন্য প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় এমন তারতম্য ভাবিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী ২৬ বছর বয়সী ইউওয়াং গু-কে। সময়ক্ষেপণ না করে করোনাভাইরাসে মৃত্যুবিষয়ক সঠিক ও গ্রহণযোগ্য উপাত্ত প্রকাশ করতে দ্রুত কাজ শুরু করে দেন এই চীনা যুবক।

গু সবেমাত্র ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পাশাপাশি গণিত শাস্ত্রেও তিনি উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন। এই দুই উচ্চতর শিক্ষায় ডাটা নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে করোনাভাইরাসে মৃত্যুবিষয়ক উপাত্ত নিয়ে বিশ্লেষণ করতে অনেক বেশি সহায়তা করেছে।

এপ্রিলের শেষ দিকে গু তার মডেল ব্যবহার করে জানান ৯ মে যুক্তরাষ্ট্রে কোভিডে মৃত্যুর মোট সংখ্যা দাঁড়াবে ৮০ হাজারে। দুই সপ্তাহ পরে তার অনুমিত মৃত্যুর সংখ্যা সত্য প্রমাণিত হয়। মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৯ হাজার ৯৬৭ জন। পার্থক্য কেবল ৩৩।

গু জানান, দেশটিতে ভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা ৯০ হাজার ছাড়াবে ১৮ মে। আর ২৭ মে মোট মৃত্যু ১ লাখ ছোঁবে। শুধু সময়ের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী এই চীনা যুবকের গবেষণালব্ধ ফলাফলগুলো পুরোপুরি সত্য বনে যায়।

ঠিক একই সময় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে অবস্থিত বিশ্বের শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইএইচএমই জানায়, গোটা ২০২০ সালেও যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যু ৮০ হাজার ছাড়াবে না। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় মৃত্যুর টালি আটকে যাবে ৮০ হাজারের ঘরে।

ঠিক তখনই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে গু জানান, যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ আসছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্বাস্থ্যবিধি শিথিল করা ও বাসিন্দাদের চলাচলে বিধিনিষেধ তুলে দেয়ায় এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির শুরু হতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন গু।

গু’র অভাবনীয় সফলতা নিয়ে সম্প্রতি ব্লুমবার্গে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন সব তথ্য উঠে আসে।

শীর্ষ প্রতিষ্ঠান আইএইচএমই-র দেয়া তথ্য প্রতিদিনই দেশটির মহামারিবিষয়ক সবশেষ প্রতিবেদন হিসেবে হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশ করতেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

আইএইচএমই’র দেয়া তথ্যকে প্রাধান্য দিয়ে দেশটির শীর্ষ সংক্রমক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউসি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে কোভিডে আক্রান্তের সংখ্যা ৬০ হাজারের মধ্যে আটকে যাবে। তা কখনোই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দেয়া অতিরঞ্জিত তথ্য ১ লাখ বা ২ লাখের ঘর ছোঁবে না।

গেল ২২ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে মৃত্যু ৫ লাখ ছাড়িয়েছে।

এদিকে, আইএইচএমই কর্তৃপক্ষ তাদের গবেষণালব্ধ তথ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে ব্যবহার করে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয় গোটা বিশ্বে। তারা জানায় জুলাইতে কোভিডে মৃত্যু নেমে আসবে শূন্যের কোটায়।

জুনে প্রকাশিত আইএইচএমই-র এমন অবিবেচক উপাত্তভিত্তিক গবেষণা আহত করেছে গু’র মতো অনেককে। গু তার মডেলে জানান জুলাইতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিনকার মৃত্যুর টালি লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে ১,০০০ থেকে ১,৫০০-এর মধ্যে উঠানামা করবে।

মে মাসের শেষ দিক থেকে গু’র দেয়া তথ্যের প্রতি মার্কিনিদের আগ্রহ বাড়তে থাকে। প্রতিদিন কয়েক কোটি নাগরিক গুর ওয়েবসাইটে হুমড়ি খেয়ে পড়তে থাকেন। করোনাভাইরাস ইস্যুতে সরকারের রাখঢাক নয়, আসল অবস্থা জানতেই কোটি নাগরিক আস্থার সঙ্গে গ্রহণ করতে থাকে তার মডেলের তত্ত্ব ও উপাত্তকে।

ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটনের বায়োলজির অধ্যাপক কার্ল বার্গস্ট্রোম টুইট বার্তায় গু’র দেয়া তথ্যের প্রতি আস্থা জানায়।

দেশটির শীর্ষ প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) তাদের ওয়েবসাইটে গু’র দেয়া তথ্যও প্রকাশ করতে থাকে। এরই মধ্যে সিডিসি’র নিয়মিত বৈঠকে আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে অংশ নিতে থাকেন ক্যালিফোর্নিয়ায় বড় হয়ে ওঠা চীনা যুবক গু।

ইউনিভার্সিটি অফ ম্যাসাচুসেটসের সহযোগী অধ্যাপক নিকোলাস রেইকসের করা এক জরিপে দেখা যায় করোনা ইস্যুতে এপ্রিল থেকে আগস্টের মধ্যে দেশজুড়ে ৫০ জনপ্রিয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছিলো গু’র ওয়েবসাইট।

নভেম্বরে গু দেখতে পেল বিশ্বের সুনামধন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর দেয়া মডেলগুলোতে অসামঞ্জস্যতা কমে এসেছে। মডেলগুলো জনগণের কাছ থেকে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেতে শুরু করেছে। অবাস্তব ও অনুমানপ্রসূত উপাত্তের পরিবর্তে তাদের তথ্যে প্রকাশ পেতে শুরু করেছে দায়িত্বশীলতার প্রকাশ। এমন অবস্থায় গু নিজে থেকেই কোভিড সংক্রান্ত আগাম মৃত্যুর উপাত্ত প্রকাশ করা থেকে ইস্তফা নেন।

এই উপাত্তবিষয়ক ইঞ্জিনিয়ার যখন বুঝতে পেলেন সব দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্তব্য ও দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে শুরু করেছেন, তখন তাদের খাটো করার আর দরকার নেই। তাদের শুধরে দেয়াই ছিলো তার মূল লক্ষ্য। আর যখন তিনি তার লক্ষ্যে পৌঁছে গেছেন, তখন তিনি উপলব্ধি করেন মিশন সফল হয়েছে।

আসলে কীভাবে সঠিক প্রমাণিত হতো গুর উপাত্ত। এমন প্রশ্নের উত্তরে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন জানিয়েছে রাজনীতিসহ সব ধরনের প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত রেখে বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত মৃত্যুবিষয়ক উপাত্তগুলোকে নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা শেষে সিদ্ধান্ত নেয়াই ছিল গু’র সফলতার মূল চাবিকাঠি।

আরও পড়ুন:
লাদাখ থেকে সেনা সরাচ্ছে ভারত-চীন
ভারতের ৪ কিলোমিটার ভেতরে চীনের গ্রাম

শেয়ার করুন

কোভ্যাক্সের টিকা ঘানায়

কোভ্যাক্সের টিকা ঘানায়

ডব্লিউএইচওর কোভ্যাক্স কর্মসূচির প্রথম চালানের টিকা পৌঁছেছে ঘানায়। ছবি: ইউনিসেফ

চলতি বছরের শেষ নাগাদ ১৯০টি দেশে করোনার টিকার ২০০ কোটি ডোজ সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে ডব্লিউএইচওর। তালিকার ৯৮টি উন্নত দেশের সঙ্গে ৯২টি স্বল্পোন্নত দেশও যেন একই সময়ে টিকা পায়, সেটি নিশ্চিত করতে চায় সংস্থাটি।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সব দেশে টিকার সুষম বণ্টন নিশ্চিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) পরিচালিত কোভ্যাক্স কর্মসূচির ডোজের প্রথম চালান পৌঁছেছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানায়।

চলতি বছরের শেষ নাগাদ ১৯০টি দেশে করোনার টিকার ২০০ কোটি ডোজ সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে ডব্লিউএইচওর।

তালিকার ৯৮টি উন্নত দেশের সঙ্গে ৯২টি স্বল্পোন্নত দেশও যেন একই সময়ে টিকা পায়, সেটি নিশ্চিত করতে চায় সংস্থাটি।

এরই অংশ হিসেবে বুধবার অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার ৬ লাখ ডোজ পৌঁছায় ঘানার রাজধানী আক্রায়।

যৌথ বিবৃতিতে মুহূর্তটিকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ। এতে বলা হয়, মহামারির ইতি টানতে বিশ্বের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার পর্দা উঠল ঘানায় টিকা পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে। প্রথম দফায় আরও টিকা পাঠানো হবে নিম্ন ও মধ্য আয়ের বিভিন্ন দেশে।

ঘানায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৬০০ মানুষের। আক্রান্ত প্রায় ৮১ হাজার। করোনা শনাক্তকরণ ব্যবস্থায় ঘাটতির ফলে ঘানার প্রকৃত মহামারি পরিস্থিতি সামনে আসেনি বলে রয়েছে অভিযোগ।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত শতভাগ জনগোষ্ঠীর জন্য করোনার টিকা সংগ্রহ করতে পেরেছে হাতেগোনা কয়েকটি ধনী দেশ। বিপরীতে একটি ডোজও টিকা পায়নি ১৩০টির বেশি দেশ।

এ অবস্থায় টিকাবঞ্চিত হয়ে সংক্রামক ভাইরাসটি প্রতিরোধের লড়াইয়ে দরিদ্র দেশগুলো যেন পিছিয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে মহামারির শুরু থেকেই কাজ করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এ প্রচেষ্টায় যোগ দিয়েছে টিকাবিষয়ক আন্তর্জাতিক জোট গ্যাভি ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স এবং কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশন্স (সিইপিআই)।

ধনী দেশগুলো যেন টিকা কিনতে দরিদ্র দেশগুলোকেও আর্থিক সহযোগিতা করতে সম্মত হয়, তা নিশ্চিত করাও এ কর্মসূচির লক্ষ্য।

কোভ্যাক্স কর্মসূচির জন্য এখন পর্যন্ত ৬০০ কোটি ডলারের তহবিল সংগ্রহ করতে পেরেছে ডব্লিউএইচও। তবে এ বছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কমপক্ষে আরও ২০০ কোটি ডলার প্রয়োজন বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

আরও পড়ুন:
লাদাখ থেকে সেনা সরাচ্ছে ভারত-চীন
ভারতের ৪ কিলোমিটার ভেতরে চীনের গ্রাম

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg