ভাসমান রোহিঙ্গাদের উদ্ধারের আহ্বান জাতিসংঘের

নৌকায় করে এভাবেই বিপজ্জনক পথ পাড়ি দেয় রোহিঙ্গারা। ছবি: এএফপি

ভাসমান রোহিঙ্গাদের উদ্ধারের আহ্বান জাতিসংঘের

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রোহিঙ্গাদের জীবন বাঁচাতে এবং আরও মর্মান্তিক কিছু ঠেকাতে এখনই জরুরি পদক্ষেপ নেয়া দরকার।’

বাংলাদেশের উপকূলের কাছে সাগরে ভাসমান একদল রোহিঙ্গাকে উদ্ধারে দ্রুত কাজ শুরুর আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

মঙ্গলবার বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের নিয়ে ১০ দিন আগে রওনা হওয়া নৌকাটি ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে আটকে যায়। নৌকার সব যাত্রীই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

মানবাধিকার সংস্থা দ্য আরাকান প্রজেক্ট জানায়, নৌকাটিতে থাকা কমপক্ষে আট রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। তাদের বেশির ভাগই পানিশূন্যতায় মারা গেছে।

সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ৬৫ নারী-কিশোরীসহ ৯০ জনের মতো রোহিঙ্গা নৌকাটিতে রয়েছে।

দ্য আরাকান প্রজেক্টের পরিচালক ক্রিস লেওয়া সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ মিনিটকে বলেন, ‘খাবার বা পানি ফুরিয়ে যাওয়ায় সমুদ্রের পানি খেতে রোহিঙ্গারা বাধ্য হচ্ছে।’

এ বিষয়ে ভারতের নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিবিসি। তাদের কাছে নিজেদের সমুদ্রসীমায় এ ধরনের কোনো নৌকা আটকে নেই বলে জানায় উভয় বাহিনীই।

তবে দ্বীপপুঞ্জের কাছে নৌকাটিকে পাওয়া গেছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন ভারতের কোস্টগার্ডের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

সোমবার সকালের দিকে দ্য আরাকান প্রজেক্টের পরিচালক বলেছিলেন, ভারতের নৌবাহিনী নৌকাটিতে পানি ও খাবার সরবরাহ করেছে।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রোহিঙ্গাদের জীবন বাঁচাতে ও আরও মর্মান্তিক কিছু ঠেকাতে এখনই জরুরি পদক্ষেপ নেয়া দরকার।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘উদ্ধারকাজ চালিয়ে দুর্দশাগ্রস্ত মানুষদের দ্রুত তীরে ভেড়াতে আমরা সব সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি।’

২০১৭ সালে সেনাবাহিনী পরিচালিত গণহত্যা ও অগ্নিসংযোগ থেকে বাঁচতে মিয়ানমার থেকে ৭ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

গত বছর ২০০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা নৌকায় করে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ অন্যান্য দেশে সমুদ্রপথে যাওয়ার সময় হয় মারা যায় বা নিখোঁজ হয়।

আরও পড়ুন:
মিয়ানমারে জান্তা সরকারের সাড়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ
রোহিঙ্গা শিবিরে অপরাধ দমনে মে মাসের মধ্যে ব্যবস্থা
ভাসানচরে আরও ১০০৯ রোহিঙ্গা
ভাসানচরে আরও ২ হাজার রোহিঙ্গা
ভারতে যাওয়ার সময় শিশুসহ ৩ রোহিঙ্গা আটক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মিয়ানমারে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি, নিহত বেড়ে ১৮

মিয়ানমারে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি, নিহত বেড়ে ১৮

মিয়ানমারে সেনাশাসন বিরোধী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে গুলি চালিয়েছে পুলিশ ও সেনাবাহিনী। ছবি: টুইটার

মিয়ানমারে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সেনাশাসনবিরোধী শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলা চালিয়েছে সেনা ও পুলিশ বাহিনী। বিশ্বাসযোগ্য সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি, আন্দোলনকারীদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এতে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩০ জন।

মিয়ানমারে সেনাশাসনবিরোধী আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি ও টিয়ার গ্যাসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮তে পৌঁছেছে।

রোববার দেশটির জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দিনব্যাপী দেশের বিভিন্ন স্থানে সেনাশাসনবিরোধী শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলা চালিয়েছে সেনা ও পুলিশ বাহিনী। বিশ্বাসযোগ্য সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি আন্দোলনকারীদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এতে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩০ জন।

রোববার ইয়াঙ্গুন, দায়ুই ও মানদালায় বিক্ষোভে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি।

এর আগে ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছিলেন মিয়ানমারের অধিকারকর্মী, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

ইয়াঙ্গুনের হ্লেডান শহরে গুলিবিদ্ধ এক যুবককে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সেই চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। সেখানে গুলিবিদ্ধ আরও দুইজনের অবস্থা গুরুতর।

দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর দায়ুতে একটি বিক্ষোভে প্রতিবাদকারীদের ওপর গুলি চালায় পুলিশ। এতে অন্তত চারজন নিহত হন।

মানদালয় শহরের একটি বড় মিছিলে গুলি চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। এতে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ছাড়া, লাচিউ শহরে বিক্ষোভে গুলি চালায় পুলিশ।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রাণহানির সংখ্যাটি ২০ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে সেনাবাহিনী। এরপর থেকেই রাস্তায় বিক্ষোভ করে যাচ্ছে দেশটির সর্বস্তরের জনগণ। তাদের ওপর চলছে জান্তা সরকারের দমনপীড়নও।

গত শনিবার রাজধানী নেপিদোসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ তীব্র রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে চলে ব্যাপক ধরপাকড়। আটক করা হয় বার্তা সংস্থা এপির এক আলোকচিত্রীসহ কমপক্ষে তিন সংবাদকর্মীকে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, মনিয়া শহরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন এক নারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি ছড়িয়ে পড়লেও পরিচয় বা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়নি।

এ দিন ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও স্টান গ্রেনেড ছোড়ে পুলিশ। এ সময় অনেক জায়গায় ব্যারিকেড দিয়ে লুকানোর চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, অনেক বিক্ষোভকারীকে বেধড়ক পিটিয়েছে সাদা পোশাকের নিরাপত্তাকর্মীরা; ছুড়েছে ফাঁকা গুলি। একই পরিস্থিতি ছিল ম্যান্ডেলে শহরে।

পর্যবেক্ষক সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স জানিয়েছে, সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে ৭৭০ জনের বেশি মানুষকে আটক করেছে মিয়ানমারের পুলিশ। অনেককে সাজাও দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
মিয়ানমারে জান্তা সরকারের সাড়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ
রোহিঙ্গা শিবিরে অপরাধ দমনে মে মাসের মধ্যে ব্যবস্থা
ভাসানচরে আরও ১০০৯ রোহিঙ্গা
ভাসানচরে আরও ২ হাজার রোহিঙ্গা
ভারতে যাওয়ার সময় শিশুসহ ৩ রোহিঙ্গা আটক

শেয়ার করুন

২ হাজার বছর আগের চার চাকার গাড়ি!

২ হাজার বছর আগের চার চাকার গাড়ি!

ইতালির পম্পেইয়ে পাওয়া প্রায় দুই হাজার বছর আগের চার চাকার গাড়ি। ছবি: সংগৃহীত

গাড়িটি পাওয়া যায় ইতালির পম্পেওর সিভিটা গিলিয়ানা এলাকায়, প্রাচীন নগরীটির উত্তর দিকের দেয়াল ঘেঁষা সে সময়ের ভবনের প্রবেশ পথের পাশে। গাড়িটিতে রয়েছে ‘লোহার উপাদান, পরিষ্কার ব্রোঞ্জ, টিনের সাজসজ্জা ও পুষ্পখচিত কারুকাজ। সবকিছুই ‘প্রায় অক্ষত’।

প্রাচীন রোমান নগর বর্তমান ইতালির নেপলসের পম্পেইয়ে সেই সময়ের চার চাকার একটি গাড়ির সন্ধান মিলেছে। প্রত্নতত্ত্ববিদদের ধারণা, ঘোড়া টানার রথটি প্রায় দুই হাজার বছর আগের।

পম্পেইয়ের যে জায়গা থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে তিনটি ঘোড়ার কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছিল তার ঠিক পাশেই পাওয়া যায় গাড়িটি।

এটি সম্ভবত উত্সব উপলক্ষে ও প্যারেডে ব্যবহার করা হতো বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। এই আবিষ্কারকে ‘ব্যতিক্রমী’ উল্লেখ করে তারা বলছেন, গাড়িটি ‘সংরক্ষণের দারুণ একটি অবস্থায়’ আছে।

ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতে ৭৯ খ্রিস্টাব্দে ধ্বংস্তুপে পরিণত হয় পম্পেই। আগ্নেয়গিরির লাভার পুরো আস্তরণে ঢেকে যায় নগরীটি। চাপা পড়ে অনেক মানুষ ও ভবন। সেই পম্পেই এখন প্রত্নতাত্ত্বিক গুপ্তধনের ভান্ডার।

রথটি পাওয়া যায় পম্পেওর সিভিটা গিলিয়ানা এলাকায়, প্রাচীন নগরীটির উত্তর দিকের দেয়াল ঘেঁষা সে সময়ের ভবনের প্রবেশ পথের পাশে।

পম্পেই পার্কের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গাড়িটিতে রয়েছে ‘লোহার উপাদান, পরিষ্কার ব্রোঞ্জ, টিনের সাজসজ্জা ও পুষ্পখচিত কারুকাজ। সবকিছুই ‘প্রায় অক্ষত’।

প্রত্নতত্ত্ববিদরা বলছেন, খনন কাজের সময় ৭ জানুয়ারি গাড়িটির প্রথম সন্ধান পাওয়া যায়। নিরাপদে সেটি উদ্ধারে লেগেছে কয়েক সপ্তাহ। রথের উপকরণগুলো ভঙ্গুর হওয়ার শঙ্কায় উদ্ধারকাজটি ছিল জটিল। উদ্ধার নিখুঁত করতে প্লাস্টার মডিউলিংসহ অবলম্বন করা হয়েছে বিশেষ কিছু কৌশল।

অবৈধ টানেল ব্যবহার করে বা অন্য কোনো উপায়ে কোনো ধরনের প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন চুরি ঠেকাতে পুরো কাজটির তদারকিতে ছিল স্থানীয় প্রসিকিউটর অফিস।

গাড়িটি অক্ষত অবস্থায় রাখতে প্রত্নতত্ত্ববিদদের চেষ্টা। ছবি: সংগৃহীত

রথটিকে ইতালিতে পাওয়া অন্যান্য প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন থেকে ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখা হচ্ছে। পম্পেও পুরাকীর্তি এলাকার পরিচালক মাস্সিমো ওসানা। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এটা অসাধারণ এক আবিষ্কার, এটা প্রাচীন বিশ্ব সম্পর্কে আমাদের জানাশোনা এগিয়ে নেবে।’

ওসানা জানান, গাড়িটির সাজসজ্জা দেখে মনে হচ্ছে, এটি সে সময়ের সেখানকার সম্প্রদায়ের বিয়ে বা এ জাতীয় অনুষ্ঠানে ব্যবহার করা হতো। নববধূকে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।

গাড়িটিতে রয়েছে নানা ধরনের কারুকাজ। ছবি: সংগৃহীত

ইতালির সংস্কৃতি মন্ত্রী দারিও ফ্রানচেসিনি বলেন, ‘পম্পেই এসব আবিষ্কার দিয়ে আমাদের বিস্মিত করেই চলছে। এমনটা আরও অনেক বছর অব্যাহত থাকবে। কেননা, ২০ হেক্টর এলাকা এখনও খননের বাকি।’

নেপলসের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ২৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত প্রাচীন পম্পেই নগরী। এটি ইউনেসকোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত। এলাকাটি ইতালির সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটনস্থল। তবে করোনা মহামারির কারণে পম্পেই এখন বন্ধ আছে।

আরও পড়ুন:
মিয়ানমারে জান্তা সরকারের সাড়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ
রোহিঙ্গা শিবিরে অপরাধ দমনে মে মাসের মধ্যে ব্যবস্থা
ভাসানচরে আরও ১০০৯ রোহিঙ্গা
ভাসানচরে আরও ২ হাজার রোহিঙ্গা
ভারতে যাওয়ার সময় শিশুসহ ৩ রোহিঙ্গা আটক

শেয়ার করুন

আসছে এক ডোজের টিকা

আসছে এক ডোজের টিকা

ফাইজার ও মডার্নার চেয়ে জনসন উদ্ভাবিত টিকা দামে কম, সংরক্ষণপ্রক্রিয়াও সহজ। আগের টিকা দুটি সংরক্ষণে উচ্চমাত্রার ফ্রিজার প্রয়োজন হলেও সাধারণ রেফ্রিজারেটরেই রাখা যাবে জনসনের টিকা।

জনসন অ্যান্ড জনসন উদ্ভাবিত করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকায় অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন দপ্তর (এফডিএ)। করোনা থেকে সুরক্ষা পেতে অন্যান্য টিকা দুই ডোজ নেয়া বাধ্যতামূলক হলেও এই টিকা এক ডোজ নিলেই চলবে বলে জানিয়েছেন উদ্ভাবকেরা।

করোনা প্রতিরোধী এটা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় টিকা। এর আগে আরও দুটি টিকা আনে দেশটির দুই প্রতিষ্ঠান ফাইজার ও মডার্না।

বিবিসি লিখেছে, ফাইজার ও মডার্নার চেয়ে জনসনের টিকা দামে কম, সংরক্ষণপ্রক্রিয়াও সহজ। আগের টিকা দুটি সংরক্ষণে উচ্চ মাত্রার ফ্রিজার প্রয়োজন হলেও সাধারণ রেফ্রিজারেটরেই রাখা যাবে জনসনের টিকা।

জনসনের টিকার ট্রায়ালে দেখা গেছে, এটি করোনাজনিত জটিল অসুস্থতা রোধ করতে পারে। তবে সার্বিকভাবে টিকাটির কার্যকররতা ৬৬ শতাংশ।

টিকাটি মূলত উদ্ভাবন করেছে বেলজিয়ান ফার্মাসিউটিক্যালস জ্যানসেন, যার মালিকানায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জনসন অ্যান্ড জনসন।

প্রতিষ্ঠানটির টিকা পেতে এরই মধ্যে অনেক দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। চলতি বছরের জুনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারকে ১০ কোটি ডোজ টিকা দিতে সম্মত হয়েছে জনসন অ্যান্ড জনসন। আগামী সপ্তাহ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এর প্রয়োগ শুরু হতে পারে।

জনসনের টিকার অর্ডার দিয়েছে যুক্তরাজ্য, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও কানাডা। জরুরি অবস্থায় এই টিকা ব্যবহারে অনুমোদন দিয়েছে বাহরাইন। এর বাইরে দরিদ্র দেশগুলোর জন্য কোভ্যাক্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ৫০ কোটি ডোজ টিকা দেবে প্রতিষ্ঠানটি।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী আরও একটি টিকার খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বলেছেন, এটা সব আমেরিকানের জন্য উজ্জীবিত হওয়ার খবর। তবে করোনা যুদ্ধ শেষ হতে এখনও অনেক পথ বাকি।

বাইডেন বলেন, ‘যদিও আজকের সুসংবাদটা আমরা উদযাপন করছি, তবু সব আমেরিকানের প্রতি আমার আহ্বান, আপনারা হাত ধুবেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলবেন এবং সব সময় মাস্ক পরবেন।

‘আমি অনেকবার বলেছি, পরিস্থিতি আবার খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা, করোনার নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে বর্তমান অগ্রগতি খারাপের দিকে মোড় নিতে পারে।’

দক্ষিণ আফ্রিকা অনুমোদনের আগেই চলতি মাসের শুরু থেকেই জনসনের টিকা প্রয়োগ শুরু করেছে। দেশটি প্রথমে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত কোভিশিল্ড টিকা প্রয়োগ করতে যাচ্ছিল। কিন্তু পরে জানায়, করোনার নতুন ধরনে কোভিশিল্ড কাজ করে ‘সামান্যই’। আর দক্ষিণ আফ্রিকার করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে বেশির ভাগই নতুন ধরনে সংক্রমিত।

জনসনের টিকার ট্রায়াল হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলে। এতে দেখা গেছে, টিকাটি করোনাজনিত জটিল অসুস্থতা দমনে ৮৫ শতাংশ কার্যকর। আর মাঝারি মাত্রার অসুস্থতা দমনে কার্যকর ৬৬ শতাংশ।

ট্রায়ালে যারা টিকা নিয়েছেন, তাদের কারও মৃত্যু হয়নি। এমনটি টিকা নেয়ার ২৮ দিন পরও কাউকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়নি।

আরও পড়ুন:
মিয়ানমারে জান্তা সরকারের সাড়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ
রোহিঙ্গা শিবিরে অপরাধ দমনে মে মাসের মধ্যে ব্যবস্থা
ভাসানচরে আরও ১০০৯ রোহিঙ্গা
ভাসানচরে আরও ২ হাজার রোহিঙ্গা
ভারতে যাওয়ার সময় শিশুসহ ৩ রোহিঙ্গা আটক

শেয়ার করুন

সেনাবিরোধী বক্তব্যে মিয়ানমারের দূত বরখাস্ত

সেনাবিরোধী বক্তব্যে মিয়ানমারের দূত বরখাস্ত

জাতিসংঘে নিযুক্ত মিয়ানমারের দূত কিয়াও মোয়ে তুন। ছবি: বিবিসি

মিয়ানমারে রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘে নিযুক্ত তাদের দূত কিয়াও মোয়ে দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে না, এমন একটি অনানুষ্ঠানিক সংগঠনের হয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। একজন দূত হিসেবে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দায়িত্বে অবহেলা করেছেন।

মিয়ানমারের সামরিক শাসককে ক্ষমতাচ্যুত করতে আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য দেয়ার পরের দিনই জাতিসংঘে নিজেদের দূতকে বরখাস্ত করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে শুক্রবার আবেগময় বক্তব্যে কিয়াও মোয়ে তুন বলেছিলেন, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়ার আগ পর্যন্ত মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করা কারও উচিত হবে না।

মিয়ানমারে গণতন্ত্র পুনর্বহাল করতে দেশটির সেনাবাহিনীর ওপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বানও জানান কিয়াও মোয়ে।

ক্ষমতাচ্যুত অং সান সু চির সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছেন জানিয়ে এই দূত বলেন, ‘অচিরেই এই সামরিক অভ্যুত্থানের পতন ঘটাতে, নির্দোষ জনগণের ওপর নিপীড়ন থামাতে, জনগণের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে এবং গণগন্ত্র পুনর্বহাল করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে আমাদের আরও কঠোর পদক্ষেপ দরকার।’

কিয়াও মোয়ে তুন এই বক্তব্য ব্যাপক প্রশংসা পায়; ‘সাহসী ভাষণ’ হিসেবে উল্লেখ করেন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দূত লিন্ডা টমাস গ্রিনফিল্ড।

বক্তব্যের পর কিয়াও মোয়ে তিন আঙুলের স্যালুট দেখান, যা মিয়ানমারে স্বৈরশাসন আন্দোলনকারীদের প্রতিবাদী অঙ্গভঙ্গি হিসেবে পরিচিত।

এই ভাষণের পরপরই জাতিসংঘে প্রতিনিধিত্ব থেকে কিয়াও মোয়েকে বরখাস্তের খবর আসে মিয়ানমারের রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশনে।

এক ঘোষণায় বলা হয়, ‘কিয়াও মোয়ে দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে না, এমন একটি অনানুষ্ঠানিক সংগঠনের হয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। একজন দূত হিসেবে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দায়িত্বে অবহেলা করেছেন।’

১ ফেব্রুয়ারির ভোরে অং সান সু চিসহ গণতান্ত্রিক উপায়ে জয়ী নেতাদের গ্রেপ্তার করে মিয়ানমারে এক বছরের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে ক্ষমতা দখল করে সেনারা।

দেশটির সামরিক অভ্যুত্থানে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা বিশ্ব এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো। মিয়ানমারের সেনাদের ওপর অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ অনেক দেশ।

অভ্যুত্থানের পর থেকেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমারের জনগণ। সেনাবিরোধী আন্দোলনে এরই মধ্যে মৃত্যু হয়েছে বেশ কয়েকজনের, আহত হয়েছেন অনেকে। শনিবারও গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে সেনাবিরোধী বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা।

আরও পড়ুন:
মিয়ানমারে জান্তা সরকারের সাড়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ
রোহিঙ্গা শিবিরে অপরাধ দমনে মে মাসের মধ্যে ব্যবস্থা
ভাসানচরে আরও ১০০৯ রোহিঙ্গা
ভাসানচরে আরও ২ হাজার রোহিঙ্গা
ভারতে যাওয়ার সময় শিশুসহ ৩ রোহিঙ্গা আটক

শেয়ার করুন

সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে পারবেন সৌদি নারীরা

সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে পারবেন সৌদি নারীরা

সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে পারবেন সৌদি নারীরা। ছবি: সংগৃহীত

আবেদনকারীদের প্রত্যেককে সমন্বিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। থাকবে স্বাস্থ্যপরীক্ষাসহ বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা এবং বিভিন্ন বাধ্যতামূলক শর্ত।

সেনাবাহিনীতেও নারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত করল সৌদি আরব। চলতি সপ্তাহেই এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

সশস্ত্র বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত সৌদি অ্যারাবিয়ান আর্মি, রয়্যাল সৌদি এয়ার ডিফেন্স, রয়্যাল সৌদি নেভি, রয়্যাল সৌদি স্ট্র্যাটেজিক মিসাইল ফোর্স এবং আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল সার্ভিসে সৈনিক থেকে সার্জেন্ট পর্যন্ত বিভিন্ন পদে শুরু হবে নিয়োগ।

আরব নিউজ জানিয়েছে, আবেদনকারীদের প্রত্যেককে সমন্বিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। থাকবে স্বাস্থ্যপরীক্ষাসহ বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা এবং বিভিন্ন বাধ্যতামূলক শর্ত।

সৌদি সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে হলে নারী আবেদনকারীদের বয়স থাকতে হবে ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, উচ্চতা হতে হবে কমপক্ষে ১৫৫ সেন্টিমিটার এবং তাদের সরকারি চাকরির কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকা যাবে না।

এক্ষেত্রে আরও যেসব শর্ত পূরণ করতে হবে সৌদি নারীদের, সেগুলো হলো: স্বতন্ত্র জাতীয় পরিচয়পত্র এবং কমপক্ষে মাধ্যমিক পাস হতে হবে; বিদেশি নাগরিকের সাথে বৈবাহিক সম্পর্কে থাকা যাবে না ইত্যাদি।

গত ৩০ বছর ধরে সৌদি সশস্ত্র বাহিনীতে নারীদের নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। রিয়াদের এ সিদ্ধান্তে দেশজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে জনগণের মধ্যে।

২০১৫ সালে সৌদি আরবের ক্ষমতা গ্রহণ করেন বর্তমান বাদশাহ সালমান বিন আব্দুলআজিজ আল সৌদ। ২০১৭ সালে যুবরাজ হিসেবে অভিষিক্ত হন তার সপ্তম পুত্রসন্তান মোহাম্মদ বিন সালমান।

এরপর যুবরাজের হাত ধরে রক্ষণশীল দেশটিতে এসেছে বেশ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ; যার অন্যতম নারীদের গাড়ি চালানো, স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখা এবং সিনেমা হলে যাওয়ার অনুমতি।

অবশ্য বিগত চার বছরে বিরোধী মতাদর্শীদের কঠোরভাবে দমন, ইয়েমেন যুদ্ধসহ বেশি কিছু বিষয়ে বিতর্কিত তার ভূমিকা।

আরও পড়ুন:
মিয়ানমারে জান্তা সরকারের সাড়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ
রোহিঙ্গা শিবিরে অপরাধ দমনে মে মাসের মধ্যে ব্যবস্থা
ভাসানচরে আরও ১০০৯ রোহিঙ্গা
ভাসানচরে আরও ২ হাজার রোহিঙ্গা
ভারতে যাওয়ার সময় শিশুসহ ৩ রোহিঙ্গা আটক

শেয়ার করুন

মিয়ানমারে বিক্ষোভ দমনে কঠোর নিরাপত্তা বাহিনী

মিয়ানমারে বিক্ষোভ দমনে কঠোর নিরাপত্তা বাহিনী

সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছেন মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি মানুষ। ছবি: এএফপি

ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও স্টান গ্রেনেড ছোঁড়ে পুলিশ। এ সময় অনেক জায়গায় ব্যারিকেড দিয়ে লুকোনোর চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা।

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভকারীদের দমনে আবারও শক্তি প্রয়োগ করল দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।

শনিবার রাজধানী নেপিদোসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ তীব্র রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে চলে ব্যাপক ধরপাকড়। আটক করা হয় বার্তা সংস্থা এপির এক আলোকচিত্রীসহ কমপক্ষে তিন সংবাদকর্মীকে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, মনিয়া শহরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন এক নারী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ছবি ছড়িয়ে পড়লেও পরিচয় বা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়নি।

এ দিন ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও স্টান গ্রেনেড ছোঁড়ে পুলিশ। এ সময় অনেক জায়গায় ব্যারিকেড দিয়ে লুকোনোর চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, অনেক বিক্ষোভকারীকে বেধড়ক পিটিয়েছে সাদা পোশাকের নিরাপত্তা কর্মীরা; ছুড়েছে ফাঁকা গুলি। একই পরিস্থিতি ছিল ম্যান্ডেলে শহরে।

পর্যবেক্ষক সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স জানিয়েছে, সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে ৭৭০ জনের বেশি মানুষকে আটক করেছে মিয়ানমারের পুলিশ। অনেককে সাজাও দেয়া হয়েছে।

সংঘর্ষে প্রাণ গেছে কমপক্ষে তিন বিক্ষোভকারী এবং এক পুলিশ সদস্যের।

১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত ও আটক করে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেয় দেশটির সেনাবাহিনী। তখন থেকেই গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবিতে দেশজুড়ে চলছে বিক্ষোভ।

আরও পড়ুন:
মিয়ানমারে জান্তা সরকারের সাড়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ
রোহিঙ্গা শিবিরে অপরাধ দমনে মে মাসের মধ্যে ব্যবস্থা
ভাসানচরে আরও ১০০৯ রোহিঙ্গা
ভাসানচরে আরও ২ হাজার রোহিঙ্গা
ভারতে যাওয়ার সময় শিশুসহ ৩ রোহিঙ্গা আটক

শেয়ার করুন

১০০ আসনও পাবে না বিজেপি: প্রশান্ত কিশোর

১০০ আসনও পাবে না বিজেপি: প্রশান্ত কিশোর

তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট বিষয়ক পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোর। ছবি: পিটিআই

প্রশান্ত কিশোরের চ্যালেঞ্জ, ২ মে (ভোট গণনার দিন) আমার কথা মিলিয়ে নেবেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিজেপি যদি এর থেকে ভালো করে তবে জায়গা ছেড়ে দেব।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা ভোটে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ২৯৪টির মধ্যে ১০০ আসনও পাবে না বলে দাবি করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট-বিষয়ক উপদেষ্টা প্রশান্ত কিশোর (পিকে)।

শনিবার এক টুইট বার্তায় তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি হারছেই। ক্ষমতা দখলের জন্য প্রয়োজন ১৪৭টি আসন। কিন্তু বিজেপি ১০০-তেও পৌঁছাতে পারবে না।

টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ভারতীয় গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধানযুদ্ধে বাংলা একমাত্র ঘরের মেয়েকেই চায়।

শনিবার পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হয়েছে।

এর আগে পিকে বলেছিলেন, বিজেপির আসনসংখ্যা দুই অঙ্ক ছাড়াবে না। এদিন পেশাদার ভোট-কুশলী পিকে সে কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। তফসিল ঘোষণার পরও তার এ কথা।

পিকের চ্যালেঞ্জ, ২ মে (ভোট গণনার দিন) আমার কথা মিলিয়ে নেবেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিজেপি যদি এর থেকে ভালো করে তবে জায়গা ছেড়ে দেব।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা ধরে রাখতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস প্রশান্ত কিশোরকে তাদের ভোটের কৌশল তৈরির দায়িত্ব দিয়েছে।

তার পরামর্শেই নতুন স্লোগান বাংলা নিজের মেয়েকেই চায় প্রচার করছে তৃণমূল।

তবে পিকের এই দাবি মানতে নারাজ তৃণমূল বিরোধীরা। স্বাভাবিক কারণেই বিজেপির তরফ থেকে উড়িয়ে দেয়া হয়েছে পিকের তত্ত্ব। বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘চাকরি বাঁচাতেই পিকে এসব বলে বাজার ধরতে চাইছেন।’

সিপিএমের তন্ময় ভট্টাচার্য মনে করেন, রোববার বামেদের ব্রিগেড জনসভা থেকেই পশ্চিমবঙ্গে প্রত্যাবর্তন শুরু হবে। এই মিটিংয়ে কংগ্রেসসহ অন্যান্য দলও অংশ নিচ্ছে।

আরও পড়ুন:
মিয়ানমারে জান্তা সরকারের সাড়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ
রোহিঙ্গা শিবিরে অপরাধ দমনে মে মাসের মধ্যে ব্যবস্থা
ভাসানচরে আরও ১০০৯ রোহিঙ্গা
ভাসানচরে আরও ২ হাজার রোহিঙ্গা
ভারতে যাওয়ার সময় শিশুসহ ৩ রোহিঙ্গা আটক

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg