এশিয়ার মাদক সম্রাট গ্রেপ্তার

এশিয়ার মাদক সম্রাট গ্রেপ্তার

চীনের বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান এই নাগরিক ‘দ্য কোম্পানি’ নামক একটি ক্রাইম সিন্ডিকেটের প্রধান। সিন্ডিকেটটি এশিয়া অঞ্চলে সাত হাজার কোটি ডলারের অবৈধ মাদক বাজার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মোস্ট ওয়ান্টেড আসামি বিশ্বের অন্যতম মাদক পাচার গ্যাং এর প্রধানকে গ্রেপ্তার করেছে নেদারল্যান্ডস পুলিশ।

আমস্টাডার্মের শিফোল বিমানবন্দর থেকে শুক্রবার গ্রেপ্তার করা এই মাদক সম্রাটের নাম সি চি লপ।

চীনের বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান এই নাগরিক ‘দ্য কোম্পানি’ নামক একটি ক্রাইম সিন্ডিকেটের প্রধান। সিন্ডিকেটটি এশিয়া অঞ্চলে সাত হাজার কোটি ডলারের অবৈধ মাদক বাজার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

সির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল অস্ট্রেলিয়ায়। বিচারের মুখোমুখি করতে তাকে নিয়ে যাওয়ার উপায় খুঁজছে দেশটি।

অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের দাবি, তাদের দেশে অবৈধ মাদকের ৭০ শতাংশই ঢুকে ‘দ্য কোম্পানি’ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে, যেটি ‘স্যাম গর সিন্ডিকেট’ নামেও পরিচিত।

৫৬ বছর বয়সী সিকে মেক্সিকোর মাদক সম্রাট জোয়াকিন আল চেপো গুজম্যানের সঙ্গেও তুলনা করা হয়ে থাকে।

গ্রেপ্তার হওয়ার আগে টিসেকে এক দশকের বেশি সময় ধরে ট্র্যাকিং করে আসছিল অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ। টিসের নাম উল্লেখ না করে এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, নেদারল্যান্ডস পুলিশের সঙ্গে ইন্টারপোলে এ বিষয়ে ২০১৯ সালে একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।

সিকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ডাচ পুলিশের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘তার নাম মোস্ট ওয়ান্টেড লিস্টে ছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আমরা তাকে আটক করি।’

২০১৯ সালে বার্তা সংস্থা রয়টার্স টিসের ওপর একটি বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ছাপিয়েছিল। তাতে বলা হয়, পুলিশের তালিকায় এই লোকটি এশিয়া অঞ্চলের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’।

জাতিসংঘের হিসাব তুলে ধরে রয়টার্সের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছিল, সির সিন্ডিকেট মাদক উপাদান মেথামফেটামিন বিক্রি করেই ২০১৮ সালে আয় করে থাকতে পারে এক হাজার ৭০০ কোটি ডলার।

গুঞ্জন ছিল, সাম্প্রতিক সময়ে টিসের চলাফেরা ছিল ম্যাকাও, হংকং ও তাইওয়ানে। এর আগে ১৯৯০ এর দশকে মাদক চোরা চালানের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে নয় বছর জেল খাটেন তিনি।

আরও পড়ুন:
মাদক ছাড়ায় ফুল উপহারে বরণ
প্রাইভেটকার ভর্তি গাঁজা: মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
নাফ নদীতে গোলাগুলি, ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার
গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নিরক্ষীয় গিনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত ২০

নিরক্ষীয় গিনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত ২০

নিরক্ষীয় গিনির সেনাছাউনিতে বিস্ফোরণ অনেক মানুষ হতাহত হয়। ছবি: টিভিজিই

প্রেসিডেন্ট তোদোরো অবিয়াং নগুয়েমা এমবাসোগো বলেন, রোববার বিকেল ৪টার দিকে বাটা শহরের মনডং নকুয়ানতোমা এলাকার সেনাছাউনিতে বিস্ফোরণ হয়। ডিনামাইট নিয়ে গাফিলতির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে দেশের বৃহত্তম শহরটির প্রায় সব ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মধ্য আফ্রিকার দেশ নিরক্ষীয় গিনির সেনাছাউনিতে পরপর বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণে কমপক্ষে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছে ছয় শতাধিক মানুষ।

দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন টিভিজিইর বরাতে দ্য গার্ডিয়ান এসব তথ্য জানিয়েছে।

দেশটির প্রেসিডেন্ট তোদোরো অবিয়াং নগুয়েমা এমবাসোগো বলেন, রোববার বিকেল ৪টার দিকে বাটা শহরের মনডং নকুয়ানতোমা এলাকার সেনাছাউনিতে বিস্ফোরণ হয়। ডিনামাইট নিয়ে গাফিলতির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে দেশের বৃহত্তম শহরটির প্রায় সব ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, সেনাছাউনির অস্ত্রভাণ্ডারে আগুন ধরায় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন গোলাবারুদে বিস্ফোরণ হয়। প্রাথমিকভাবে ২০ জন নিহত ও ৬০০ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে। বিস্ফোরণের কারণ তদন্ত করা হবে।

ধারণা করা হচ্ছে, সেনাছাউনিতে কমপক্ষে পাঁচটি বিস্ফোরণ হয়েছে।

টিভিজিইতে দেখা যায়, বিস্ফোরণস্থল থেকে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলি উঠছে। সেখান থেকে মানুষজন পালাচ্ছে। তাদের একজন বলছেন, ‘কী হয়েছে, জানি না। তবে সব ধ্বংস হয়ে গেছে।’

ফ্লোরেনতিনো নামের এক চিকিৎসক বলেন, আহতদের সংখ্যা এত বেশি যে হাসপাতাল উপচে পড়েছে। একটি স্পোর্টস সেন্টারে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছিল। সেখানে বিস্ফোরণে আহতদের পাঠানো হবে।

রেডিও মাকুতো টুইটবার্তায় জানিয়েছে, বিস্ফোরণে সৃষ্ট ধোঁয়া ক্ষতিকর হতে পারে বিবেচনায় বিস্ফোরণস্থল থেকে চার কিলোমিটার দূরে শহরের বাইরে স্থানীয়দের সরানো হচ্ছে।

৭৮ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট অবিয়াং নগুয়েমা প্রায় ৪২ বছর ধরে নিরক্ষীয় গিনি শাসন করছেন। দেশটির বিরোধী দল ও আন্তর্জাতিক সংস্থা তার বিরুদ্ধে প্রায়ই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে।

আরও পড়ুন:
মাদক ছাড়ায় ফুল উপহারে বরণ
প্রাইভেটকার ভর্তি গাঁজা: মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
নাফ নদীতে গোলাগুলি, ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার
গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

দুতের্তের নির্দেশ: ফিলিপাইনে অভিযানে নিহত ৯

দুতের্তের নির্দেশ: ফিলিপাইনে অভিযানে নিহত ৯

ফিলিপাইনে কমিউনিস্টবিরোধী অভিযানের বিপক্ষে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। ছবি: এএফপি

পুলিশ জানায়, বিদ্রোহের অভিযোগে অন্তত ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন রোববারের অভিযানে নিহত হয়।

কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের খুন করতে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তের নির্দেশের ৭২ ঘণ্টা পার না হতেই দেশটিতে পুলিশের অভিযানে ৯ জন নিহত হয়েছে।

রোববারের এই অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ছয়জনকে। পালিয়ে গেছে আরও ছয় বিদ্রোহী।

ফিলিপাইন পুলিশের বরাত দিয়ে সোমবার এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার উত্তরের তিন প্রদেশে কমিউনিস্ট নিধন অভিযানে নামে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, বিদ্রোহের অভিযোগে অন্তত ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন রোববারের অভিযানে নিহত হয়।

তবে এসব ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ক্যাভিট প্রদেশের শ্রমিক নেতা এমানুয়েল অ্যাসানসিওনও আছেন বলে বিবৃতিতে দাবি করেছে মৎস্যজীবীদের সংগঠন ‘পামালাকায়া’।

ইউনিভার্সিটি অব দ্য ফিলিপিনসের শিক্ষার্থীদের প্রকাশনী ‘ইউপিএলবি পারসপেক্টিভ’ জানিয়েছে, বাটাঙ্গাস প্রদেশে এক শ্রমিক সংগঠক দম্পতিকে হত্যা করা হয়েছে। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে ১০ বছর বয়সী সন্তানসহ তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। সরকারি বাহিনী তাদের তুলে নিয়ে গেলেও এ ঘটনায় দায় স্বীকার করেনি কেউ।

রোববার রিজাল প্রদেশেও দুই অধিকারকর্মীকে গুলি করে হত্যার কথা জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন কারাপাতান। সংগঠনটির মহাসচিব ক্রিস্টিনা পালাবের অভিযোগ, ‘প্রেসিডেন্ট দুতের্তের দেয়া হত্যার নির্দেশ আবশ্যিক হিসেবে নিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।’

ফিলিপাইনে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। এসব ঘটনাকে কর্তৃপক্ষের ‘সাজানো পরিকল্পনা’ বলে বর্ণনা করেছে সংস্থাটি।

ফিলিপাইনে কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারের দ্বন্দ্ব পাঁচ দশকের বেশি সময়ের। দেশটির সেনাবাহিনীর হিসাব অনুযায়ী, কমিউনিস্টদের সঙ্গে লড়াইয়ে গত ৫৩ বছরে প্রাণ গেছে ৩০ হাজারের বেশি মানুষের।

কমিউনিস্টদের সঙ্গে বিভিন্ন সময় সরকারপ্রধানরা শান্তি আলোচনায় বসলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। ফিলিপাইনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান হোসে মারিয়া সিসন নেদারল্যান্ডসে স্বেচ্ছা-নির্বাসনে আছেন।

মিন্দানাওয়ে শুক্রবার কমিউনিস্টবিরোধী এক আলোচনা সভায় প্রেসিডেন্ট দুতের্তে বলেন, ‘পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি, তারা যখনই বন্দুকযুদ্ধে কোনো কমিউনিস্ট বিদ্রোহীকে পাবে, তাদের মৃত্যু হয়েছে এটা যেন তারা নিশ্চিত করে।’

আরও পড়ুন: কমিউনিস্টদের খুনের নির্দেশ দুতের্তের

এ সময় কমিউনিস্টরা অস্ত্র ফেলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এলে তাদের চাকরি ও বাসস্থান নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট।

২০১৬ সালে ক্ষমতায় এসেই দেশজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করেন দুতের্তে। বিতর্কিত এ অভিযানে নিহত হন আট হাজারের বেশি মানুষ।

আরও পড়ুন:
মাদক ছাড়ায় ফুল উপহারে বরণ
প্রাইভেটকার ভর্তি গাঁজা: মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
নাফ নদীতে গোলাগুলি, ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার
গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

মিয়ানমারের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করল অস্ট্রেলিয়া

মিয়ানমারের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করল অস্ট্রেলিয়া

মিয়ানমারজুড়ে চলছে জান্তা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। ছবি: এএফপি

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যারিজ পায়ান বলেন, ‘আমরা মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীকে ধৈর্য্য ধারণ এবং বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান অব্যাহত রাখছি।’

জান্তা সরকারের নিপীড়নে মিয়ানমারে গণতন্ত্রকামী জনগণের প্রাণহানি বাড়তে থাকায় উদ্বেগ জানিয়ে দেশটির সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

সেই সঙ্গে বেসামরিক জনগণের ওপর সহিংসতা চালানো থেকে বিরত থাকতে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যারিজ পায়ান।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে। চলমান বিক্ষোভের মুখে অচল হয়ে পড়েছে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশটি।

শুরুতে নমনীয় থাকলেও সময়ের সঙ্গে বিক্ষোভ দমাতে কঠোর অবস্থান নেয় সামরিক সরকার। কাঁদুনে গ্যাস, রাবার বুলেটের পাশাপাশি সরাসরি গুলি ব্যবহার করছে পুলিশ। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে ৫০ জনের বেশি মানুষ।

বেশ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ ও জোট ইতোমধ্যে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার মিয়ানমারের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করল অস্ট্রেলিয়া।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যারিজ পায়ান বলেন, ‘আমরা মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীকে ধৈর্য্য ধারণ এবং বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান অব্যাহত রাখছি।’

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বিষয়ক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মূলত অসামরিক বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত। ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধন অভিযান চালানোর পরও দেশটির সেনাবাহিনীকে ইংরেজি প্রশিক্ষণ প্রদান প্রকল্প অব্যাহত রেখেছিল অস্ট্রেলিয়া।

আরও পড়ুন:
মাদক ছাড়ায় ফুল উপহারে বরণ
প্রাইভেটকার ভর্তি গাঁজা: মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
নাফ নদীতে গোলাগুলি, ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার
গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

ছেলের গায়ের রং নিয়ে রাজপরিবারে উদ্বেগ ছিল: মেগান

ছেলের গায়ের রং নিয়ে রাজপরিবারে উদ্বেগ ছিল: মেগান

অপরাহ উইনফ্রের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল। ছবি: এএফপি

মেগান বলেন, ‘আমার সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে থেকেই তারা (ব্রিটিশ রাজপরিবার) চায়নি সে প্রিন্স বা প্রিন্সেস হোক, যা কিনা প্রটোকলে নেই। আমার সন্তান কোনো নিরাপত্তা পাবে না বলেও সে সময় আমাদের জানানো হয়।’

ছেলে আর্চির জন্মের আগেই তাকে ঘিরে নানা ধরনের কানাঘুষা শুরু হয় বলে দাবি করেছেন ডাচেস অফ সাসেক্স মেগান মার্কেল।

প্রিন্স হ্যারির স্ত্রীর অভিযোগ, অনাগত শিশুর গায়ের রং কত কালো হতে পারে তা নিয়ে ব্রিটিশ রাজপরিবারে উদ্বেগ ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রখ্যাত টেলিভিশন সঞ্চালক অপরাহ উইনফ্রেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মেগান এসব কথা বলেন।

সিবিএসে স্থানীয় সময় রোববার রাতে সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার হয় বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

কৃষ্ণাঙ্গ মা ও শ্বেতাঙ্গ বাবার ঘরে জন্ম নেয়া মেগান বলেন, ২০১৮ সালে ব্রিটিশ রাজপরিবারে বিয়ের আগে সহজ জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন তিনি। কিন্তু বিয়ের পর নানা সংকটে পড়েন তিনি। সে সময় অনুনয় বিনয় করেও সাহায্য-সহযোগিতা না পেয়ে একপর্যায়ে আত্মঘাতী চিন্তা মাথায় আসে তার।

তিনি বলেন, ‘আমার সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে থেকেই তারা (ব্রিটিশ রাজপরিবার) চায়নি সে প্রিন্স বা প্রিন্সেস হোক, যা কিনা প্রটোকলে নেই। আমার সন্তান কোনো নিরাপত্তা পাবে না বলেও সে সময় আমাদের জানানো হয়।’

মেগান বলেন, “আমার গর্ভধারণের সময়কালে ‘তোমাকে নিরাপত্তা দেয়া হবে না, এমনকি কোনো উপাধিও তুমি পাবে না’ এসব আলোচনা আমাকে ও হ্যারিকে শুনতে হয়েছে। আমার অনাগত সন্তানের গায়ের রং কত কালো হতে পারে, এ নিয়েও উদ্বেগ-ফিসফিসানি ছিল।”

রাজপরিবারের কে বা কারা ওই সময় এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে, তা নিয়ে মুখ খোলেননি মেগান।

প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগানের সঙ্গে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই সাক্ষাৎকারে হাজির হন এ দম্পতি।

সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজদায়িত্ব থেকে সরে এসেছেন হ্যারি ও মেগান। বাকিংহ্যাম প্যালেস ছেড়ে তারা এখন ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থান করছেন।

Megan2-image

উইন্ডসর ক্যাসেলে নবজাতক পুত্রসন্তান আর্চিকে নিয়ে হ্যারি ও মেগান। ছবি: এএফপি

হ্যারি-মেগানের সমালোচকদের অভিযোগ, কোনো ধরনের অঙ্গীকার ছাড়া পদের চাকচিক্য উপভোগ করতে চান প্রিন্স চার্লসের ছোট ছেলে প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী ডাচেস অফ সাসেক্স মেগান।

অন্যদিকে হ্যারি-মেগান দম্পতির সমর্থকদের ভাষ্য, আধুনিক ও মিশ্র বর্ণের আবহে বেড়ে ওঠা মেগানের প্রতি অনেক আক্রমণাত্মক ছিল সেকেলে ব্রিটিশ রাজপরিবার।

রাজপরিবারের সদস্যদের হাতে মেগানের হেনস্তা হওয়ার অভিযোগও আছে। এ নিয়ে প্রথম খবর প্রকাশ হয় দ্য টাইমস পত্রিকায়।

আরও পড়ুন:
মাদক ছাড়ায় ফুল উপহারে বরণ
প্রাইভেটকার ভর্তি গাঁজা: মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
নাফ নদীতে গোলাগুলি, ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার
গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

বোরকা নিষিদ্ধের পক্ষে সুইজারল্যান্ড

বোরকা নিষিদ্ধের পক্ষে সুইজারল্যান্ড

সুইজারল্যান্ডে মুখ ঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ হয়েছে। ছবি:এএফপি

স্থানীয় সময় রোববার অনুষ্ঠিত এ গণভোটে বোরকা নিষিদ্ধের পক্ষে ছিলেন ৫১ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার। অন্যদিকে নিষিদ্ধের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ৪৮.৮ শতাংশ।

সুইজারল্যান্ডে জনসমক্ষে বোরকা, নিকাবসহ মুখ ঢাকা পোশাক নিষিদ্ধের পক্ষে সামান্য বেশি ভোট পড়েছে।

স্থানীয় সময় রোববার অনুষ্ঠিত এ গণভোটে বোরকা নিষিদ্ধের পক্ষে ছিলেন ৫১ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার। অন্যদিকে নিষিদ্ধের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ৪৮.৮ শতাংশ।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, সুইজারল্যান্ডের ২৬টি ক্যান্টনের (প্রশাসনিক অঞ্চল) ছয়টিতে বেশিরভাগ মানুষ বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। এই ছয় ক্যান্টনের মধ্যে আছে দেশটির সবচেয়ে বড় তিন শহর জুরিখ, জেনেভা ও বাসেল। এ ছাড়া রাজধানী বার্নের অধিকাংশ মানুষও ছিলেন নিষিদ্ধের বিপক্ষে।

গণভোটের প্রস্তাবে পোশাকের ধরন উল্লেখ করা না হলেও মুসলিম নারীদের বোরকা বা নিকাবকে লক্ষ্য করেই প্রচার চালানো হয়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি জনসমক্ষে মুখ ঢেকে রাখতে পারবেন না। রেস্তোরাঁ, স্টেডিয়াম, গণপরিবহন বা রাস্তায় হাঁটার ক্ষেত্রেও মুখ আবৃত করা পোশাক পরা যাবে না।

তবে ধর্মীয় উপাসনালয়, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যগত ইস্যুতে এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ করোনা থেকে রক্ষায় মাস্ক পরতে কোনো সমস্যা নেই।

সুইজারল্যান্ডের দুটি অঞ্চলে জনসমক্ষে মুখ ঢাকা পোশাক পরা নিষিদ্ধ। সে নিয়মটি সারা দেশে প্রযোজ্য হবে কি না, তা নিয়ে রোববার হয় গণভোট।

ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডসসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।

সুইজারল্যান্ডে এই প্রস্তাবের কোথাও বোরকা, নিকাবের কথা আলাদা করে বলা না হলেও এর পক্ষের রাজনৈতিক প্রচারে মুসলমান নারীদের পোশাককেই সামনে আনা হয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল ‘দ্য সুইস পিপলস পার্টি’ প্রস্তাবের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেয়।

তাদের বিলি করা একটি প্রচারপত্রে বোরকা পরা এক নারীর চিত্র ব্যবহার করে লেখা হয়েছে, ‘ইসলামি উগ্রবাদ থামাও।’

তবে সরকার ও সংসদ এ নিয়ে দেশজুড়ে নিষেধাজ্ঞার বিপক্ষে ছিল। এর মাধ্যমে অকারণ ইসলাম ভীতি ছড়ানো হচ্ছে বলেও মত তাদের।

বোরকা নিষিদ্ধের বিরোধীদের একটি প্রচারপত্রে বলা হয়, ‘অযৌক্তিক, অপ্রয়োজনীয় ও ইসলামভীতি ছড়ানো বোরকাবিরোধী আইনকে না বলুন।’

প্রস্তাবের বিরোধীদের ভাষ্য, মুখ ঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ করা যাবে না। এর পরিবর্তে যেসব জায়গায় কর্তৃপক্ষ পরিচয় নিশ্চিত হতে চাইবে সেসব ক্ষেত্রে কেউ মুখ ঢাকা পোশাক পরলেও চেহারা দেখানোর বাধ্যবাধকতা জারি করতে হবে।

প্রস্তাবটিতে যেসব কথা বলা হয়েছে সেগুলোকে ‘বর্ণবাদী; হিসেবে উল্লেখ করেছে মুসলমান নারীদের সংগঠন পার্পল হেডস্কার্ভস।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে সংগঠনটির মুখপাত্র ইনেস এল-শিখ বলেন, ‘প্রস্তাবিত আইনে যা সমস্যা নয় সেটিকে একটি সমস্যা হিসেবে দেখানো হচ্ছে। অথচ পুরো সুইজারল্যান্ডে মাত্র ৩০ জন নারী বোরকা পরেন।’

২০১৯ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৮৬ লাখ জনসংখ্যার সুইজারল্যান্ডে মাত্র পাঁচ দশমিক পাঁচ শতাংশ মুসলমান।

আরও পড়ুন:
মাদক ছাড়ায় ফুল উপহারে বরণ
প্রাইভেটকার ভর্তি গাঁজা: মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
নাফ নদীতে গোলাগুলি, ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার
গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

উইঘুরদের ওপর গণহত্যার অভিযোগ অযৌক্তিক: চীন

উইঘুরদের ওপর গণহত্যার অভিযোগ অযৌক্তিক: চীন

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। ছবি: এএফপি

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকারের প্রতি ইঙ্গিত করে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘‘গণহত্যার” কথা উঠলে বেশির ভাগ মানুষের চোখে ভাসে ষষ্ঠদশ শতাব্দীর উত্তর আমেরিকার আদিবাসী, উনবিংশ শতাব্দীর আফ্রিকার দাস, বিংশ শতাব্দীর ইহুদি এবং এখনও সংগ্রামরত আদিবাসী অস্ট্রেলিয়ানদের কথা।’

চীনের শিনজিয়াং প্রদেশের জাতিগত সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলমানদের ওপর গণহত্যার অভিযোগ ‘অযৌক্তিক’ বলে ফের উড়িয়ে দিয়েছে চীন।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই স্থানীয় সময় রোববার সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন বলে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শিনজিয়াংকে ঘিরে অপপ্রচার বিশ্বাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পশ্চিমা বিশ্বের রাজনীতিকেরা। আদতে সেখানে কী হচ্ছে, তা স্বচক্ষে দেখতে ওই প্রদেশ সফরে সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছে চীন।

ওয়াং ই বলেন, ‘শিনজিয়াংয়ে তথাকথিত গণহত্যা হাস্যকরভাবে অযৌক্তিক। ইচ্ছাকৃতভাবে অসৎ উদ্দেশ্যে এ গুজব ছড়ানো হয়েছে। গণহত্যার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকারের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “‘গণহত্যার” কথা উঠলে বেশির ভাগ মানুষের চোখে ভাসে ষষ্ঠদশ শতাব্দীর উত্তর আমেরিকার আদিবাসী, উনবিংশ শতাব্দীর আফ্রিকার দাস, বিংশ শতাব্দীর ইহুদি এবং এখনও সংগ্রামরত আদিবাসী অস্ট্রেলিয়ানদের কথা।’

চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়, শিনজিয়াং প্রদেশের উইঘুররা গণহত্যার শিকার। চীন সরকার তাদের উৎখাতে কাঠামোগত প্রয়াস বাস্তবায়ন করছে।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নেদারল্যান্ডসসহ বেশ কয়েকটি দেশ উইঘুরদের ওপর চীন সরকারের কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে।

দেশগুলোর অভিযোগ, জোর করে উইঘুর নারীদের সন্তানধারণে অক্ষম করা হচ্ছে। পাশাপাশি উইঘুর শিশুদের তাদের পরিবার থেকেও আলাদা করছে চীন সরকার।

বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনেও বলা হয়েছিল, বন্দিশিবিরে উইঘুরদের জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করা হচ্ছে।

এ ছাড়া শিবিরগুলোতে কাঠামোগত ধর্ষণ ও নির্যাতন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়, ক্যাম্পে অন্তত ১০ লাখ উইঘুরকে বন্দি করে রাখা হয়েছে।

অবশ্য ওই ক্যাম্পগুলোতে কারিগরি শিক্ষা দেয়ার পাশাপাশি এর মাধ্যমে উগ্রবাদ নির্মূল করা হচ্ছে বলে চীনের পক্ষ থেকে একাধিকবার দাবি করা হয়।

তবে কানাডা, নেদারল্যান্ডসের পার্লামেন্টে উইঘুরদের ওপর ‘গণহত্যা’ হচ্ছে বলে বিভিন্ন সময় উল্লেখ করেন আইনপ্রণেতারা। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেনও একই মত দেন।

আরও পড়ুন:
মাদক ছাড়ায় ফুল উপহারে বরণ
প্রাইভেটকার ভর্তি গাঁজা: মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
নাফ নদীতে গোলাগুলি, ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার
গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

রোহিঙ্গা ইস্যুতে দায়ী সু চি: মিয়ানমারের সেনাবাহিনী

রোহিঙ্গা ইস্যুতে দায়ী সু চি: মিয়ানমারের সেনাবাহিনী

অং সান সু চি ও মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। ২০১৬ সালে তোলা ছবি। এএফপি

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জনসংযোগ কর্মকর্তা আরি বেন-মেনাশে বলেন, ‘রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর সহিংস সেনা অভিযানের পেছনে কলকাঠি নেড়েছিলেন সু চি।’

রোহিঙ্গা সংকটের জন্য মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চিকে দায়ী করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।

সংবাদ মাধ্যম দি গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোতে এ বার্তা পৌঁছে দিতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে, ইসরায়েলের সাবেক গোয়েন্দা আরি বেন-মেনাশেকে।

চলতি সপ্তাহে নেইপিদোতে তার নিয়োগ সম্পন্ন হয়। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর পক্ষে এরই মধ্যে কাজও শুরু করেছেন ইরানে জন্ম নেয়া ইসরায়েলি-কানাডিয়ান এই লবিস্ট।

ওয়াশিংটনে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে চলমান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ফরেইন লবি’।

তাদের বরাত দি গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী দেশটির অভ্যুত্থান পরবর্তী ‘প্রকৃত পরিস্থিতি’ পশ্চিমা বিশ্বের কাছে তুলে ধরবেন বেন-মেনাশে।

এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের নেতৃস্থানীয় দেশগুলোকে তিনি এই বার্তা দিচ্ছেন, মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী দেশটির গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি নিজেই।

১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের পর থেকে সেনাবাহিনীর নির্দেশে গৃহবন্দি আছেন সু চি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে দেশটিতে এক মাসের বেশি সময় ধরে চলছে গণবিক্ষোভ। নিরাপত্তা বাহিনী আগ্রাসনে এ পর্যন্ত প্রাণ গেছে অর্ধশত আন্দোলনকারীর।

এ ইস্যুতে বিশ্বজুড়ে কাঠগড়ায় থাকা মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরছেন বেন-মেনাশে। এজন্য সু চি সরকারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা ইস্যু এবং পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর চীনবিরোধী অবস্থানকে হাতিয়ার করেছেন বেন-মেনাশে।

ফরেইন লবিকে বলেছেন, ‘রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর সহিংস সেনা অভিযানের পেছনে কলকাঠি নেড়েছিলেন সু চি।’

তার দাবি, রোহিঙ্গাদের কোণঠাসা করতে সেনাবাহিনীকে প্রভাবিত করেছেন সু চি নিজে। রোহিঙ্গা নিপীড়নের পেছনে তারই হাত ছিল, সেনাবাহিনীর নয়।

২০১৯ সালে সুইজারল্যান্ডের হেগে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বরতার সাফাই গেয়েছিলেন শান্তিতে নোবেলজয়ী সু চি।

আবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বেন-মেনাশে বলেছেন, ‘মিয়ানমারকে চীনের প্রভাববলয়ে ঢোকানোর ব্যবস্থা করছিলেন সু চি। যা ঠেকাতে বাধ্য হয়ে অভ্যুত্থানের সিদ্ধান্ত নেয় সেনাবাহিনী।’

তিনি আরো বলেন, ‘মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কখনোই দেশকে চীনের হাতের পুতুল হয়ে থাকতে দেশকে দেখতে চায় না। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের চীনবিরোধী অবস্থানকে সমর্থন করে তারা।’

সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ওপর। অভিযোগ রয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধ, অবৈধভাবে গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা এবং কঠোরভাবে বিক্ষোভ দমন চেষ্টার।

এ প্রসঙ্গে সাবেক ইসরায়েলি গোয়েন্দার দাবি, ভুল বোঝাবুঝির শিকার হয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে বেন-মেনাশে জানিয়েছেন, কানাডায় তার রাজনৈতিক পরামর্শ দানকারী প্রতিষ্ঠান ডিকেন্স অ্যান্ড ম্যাডসনের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে নেইপিদোর বর্তমান সেনা নিয়ন্ত্রিত প্রশাসন।

তার দাবি, অগ্রিম হিসেবে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে কাজটি নিয়েছেন তিনি। মিয়ানমারের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করানো তার অন্যতম লক্ষ্য। এতে সফল হলে পাবেন আরও বিপুল পারিশ্রমিক।

বিভিন্ন দেশের বিতর্কিত সরকারের হয়ে সাফাই গাওয়ার লম্বা ইতিহাস রয়েছে বেন-মেনাশের। ৬৯ বছর বয়সী বেন-মেনাশে প্রথম আলোচনায় আসেন আশির দশকে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী রোনাল্ড রিগ্যানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব উস্কে দেয়ার অভিযোগ আছে ইসরায়েলি এই গোয়েন্দার বিরুদ্ধে।

১৯৮০ সালে তৎকালীন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন রোনাল্ড রিগ্যান। বেন-মেনাশে তখন বলেছিলেন, নির্বাচনে জয়ের জন্য ইরানে অপহৃত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মুক্তি না দিতে ইরানি প্রশাসনের সাথে ষড়যন্ত্র করেন রিগ্যান।

জিম্বাবুয়ের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দীর্ঘদিনের শাসক রবার্ট মুগাবে, সুদানের সামরিক জান্তা এবং ভেনেজুয়েলা, তিউনিসিয়া ও কিরগিজিস্তানের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের হয়েও কাজ করেছেন তিনি।

সব মিলিয়ে কয়েক দশকের দীর্ঘ পেশাজীবনে সংবাদ শিরোনামে বেন-মেনাশের নাম না ওঠার ঘটনাই বিরল। এক সময় যুক্ত ছিলেন অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গেও।

আরও পড়ুন:
মাদক ছাড়ায় ফুল উপহারে বরণ
প্রাইভেটকার ভর্তি গাঁজা: মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
নাফ নদীতে গোলাগুলি, ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার
গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg