নেতাদের খুনের পরিকল্পনা হচ্ছে, অভিযোগ কৃষকদের

তিনটি বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে টানা আন্দোলন করছেন ভারতের কৃষকরা। ছবি: এএফপি

নেতাদের খুনের পরিকল্পনা হচ্ছে, অভিযোগ কৃষকদের

শুক্রবার রাতে সিংঘু সীমান্তে হঠাৎ সংবাদ সম্মেলনে করেন কৃষকরা। সেখানে মাস্কে মুখ ঢাকা এক যুবককে হাজির করেন তারা। অভিযোগ করেন, চার কৃষক নেতাকে খুন করতে দুটি দলকে নিয়োগ করা হয়েছে। আর ওই দলেরই এক সদস্যকে শনাক্ত করেছেন তারা।

কৃষক নেতাদের খুনের ছক কষা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দিল্লি-হরিয়ানা সীমান্তের বিক্ষোভকারীরা।

তাদের অভিযোগ, হরিয়ানার পুলিশ কর্মকর্তা এই ছক কষছেন। যদিও বিক্ষোভকারী কৃষকদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

শুক্রবার রাতে সিংঘু সীমান্তে হঠাৎ সংবাদ সম্মেলনে করেন কৃষকরা। সেখানে মাস্কে মুখ ঢাকা এক যুবককে হাজির করেন তারা। অভিযোগ করেন, চার কৃষক নেতাকে খুন করতে দুটি দলকে নিয়োগ করা হয়েছে। আর ওই দলেরই এক সদস্যকে শনাক্ত করেছেন তারা।

২৬ জানুয়ারির কৃষক প্যারেড ভেস্তে দেওয়ার উদ্দেশেই এই ছক কষা হয়েছে বলে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ।

সিংঘু সীমানায় প্রকাশ্যেই ওই অভিযুক্ত বলেন, ‘‌কৃষক নেতাদের উপর হামলা করতে তাদের নিয়োগ করা হয়েছে। এ ধরনের দুটি দল রয়েছে। একদল মিশে রয়েছে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে। তাদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্রও রয়েছে। অন্য দলের সদস্যরা পুলিশের কর্মকর্তা সেজে কাজ সারতে চাইছে।’‌

অভিযুক্ত যুবক আরও জানান, প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন র‍্যালির মধ্যে থেকে গুলি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি, চার কৃষক নেতার ছবিও দেয়া হয়েছে আততায়ীদের। তাদের খুন করতে ‘সুপারি’ও দেয়া হয়েছে।

কৃষকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, এই পরিকল্পনার মাথা হরিয়ানার সোনেপতের রাই পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তা বিবেক মালিক। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। মিথ্যে অভিযোগ দাবি করে প্রশ্ন তুলেছেন, পুলিশ কেন এরকম করবে?

শুক্রবার কৃষক সংগঠনগুলির যৌথ মঞ্চ ও কেন্দ্রীয় সরকারের ১১তম বৈঠক ব্যর্থ হবার পর দুপক্ষই একে ওপরের বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করেছে। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমরের দাবি, সরকার তাদের পক্ষে ‘সর্বোচ্চ প্রস্তাব’ দিয়েছিল। কিন্তু কৃষক নেতারা তা না মানায় আন্দোলনকারীদের কোর্টেই এখন বল রয়েছে । বলেছেন, ‘আমরা আরও এক দফার বৈঠকে যেতে পারি যদি কৃষক সংগঠনগুলি আইন প্রত্যাহার করা ছাড়া নতুন প্রস্তাব দেয়।’

কৃষকদের ‘মঙ্গলের জন্য’ কেন্দ্রের এই প্রস্তাব না মানায় দুঃখ গোপন করেননি কৃষিমন্ত্রী। তার অভিযোগ, সংগঠনের নেতারা কৃষকদের ভালোর জন্য আন্তরিকতা দেখাচ্ছেন না। তোমর বলেছেন, ‘আলোচনা এখনও অমীমাংসিত। কারণ কৃষকদের ভালোর জন্য ইউনিয়ন আন্তরিক নয়। এর জন্য আমি খুবই দুঃখিত। দেশ এবং কৃষকদের স্বার্থে আমাদের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার জন্য বলেছিলাম।’

তোমর কৃষকদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘বল এখন আপনাদের কোর্টে।’

সর্বভারতীয় কৃষকসভার নেতা হান্নান মোল্লা বলেছেন, ‘বৈঠকে কোনও সিদ্ধান্তও নেয়া যায়নি। আইন সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি থেকে আমরা সরছি না।’

ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের সদস্য হর্ষ গিলের বক্তব্য, ‘কৃষকদের মনোযোগ আপাতত প্রজাতন্ত্র দিবসে রাজপথে ট্রাক্টর র‍্যালিতে। এই কর্মসূচিতে যোগদানের জন্য শয়ে শয়ে কৃষক দিল্লি সীমানায় এসে পৌঁছাচ্ছে। এই অবস্থায় আন্দোলন শিথিল করার অর্থ কার্যত হার স্বীকার করে নেয়া। আইন প্রত্যাহারের লিখিত প্রতিশ্রুতি ছাড়া আন্দোলন বন্ধ হবে না বলে দাবি তার। শীত বিক্ষোভকারীদের কাছে বাধা নয়।’

হর্ষ গিল-এর বক্তব্যের প্রতিধ্বনি শোনা গেছে সিংঘু, টিকরি, চিল্লা সীমান্তে অবস্থানরত কৃষকদের কাছেও। দমতে রাজি নয় দিল্লি সীমানায় অবস্থানরত কৃষকরা। উল্টো প্রজাতন্ত্র দিবসে রাজপথে ট্রাক্টর র‍্যালির মধ্যে দিয়েই শক্তি প্রদর্শনে মরিয়া তারা।

বিক্ষোভকারীদের মতে, কেন্দ্রের প্রস্তাবে রাজি হলে আন্দোলন ‘নিরর্থক’ হয়ে পড়বে। ট্রাক্টর ব়্যালি ঘিরে প্রশাসনের উপর যে চাপ তৈরি হয়েছে তাও কার্যত অচল হয়ে যাবে। যার সুযোগ নিতে পারে নরেন্দ্র মোদির সরকার।

সিংঘু সীমানায় অবস্থান বিক্ষোভে বসা হরিয়ানার আম্বালার কৃষক ৭৩ বছরের জগমোহন সিং বলেছেন, ‘আইন স্থগিতের কেন্দ্রীয় প্রস্তাব নৈতিকভাবে আমাদের জয়। কিন্তু, কৃষি আইন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনও মতেই এখান থেকে উঠব না।’

জগমোহনের ছেলে, নাতিরাও এই আন্দোলনে দিল্লি সীমানায় বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন। একই দাবি, পাঞ্জাবের হোসিয়ারপুরের দেবা সংঘর্ষপুর কমিটির নেতা বছর ৩৮-এর হরমিন্দর সিংয়ের। এতদূর এগিয়ে গিয়ে পিছিয়ে আসার কোনও অর্থ হয়না বলে দাবি তার। উত্তরপ্রদেশ-দিল্লি সীমান্তের গাজিপুরে অবস্থানরত রামপুরের কৃষক হাসিব আহমেদ বলেছেন, ‘কেন্দ্র মনে করছে চাপ দিলেই আমরা উঠে যাব। কিন্তু ঠিক তার উল্টো হবে। আমরা এখন ২৬ জানুয়ারি দিল্লিতে ট্রাক্টর র‍্যালির জন্য মরিয়া।’

আরও পড়ুন:
কৃষক বিক্ষোভের নেপথ্যের নারীরা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আস্থা ভোটে জয় ইমরানের

আস্থা ভোটে জয় ইমরানের

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ছবি: এএফপি

চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে আসন হারালে আস্থা ভোটের প্রস্তাব দেন ইমরান খান নিজেই। বিরোধীদের দাবি, সিনেটে সরকারি দলের গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন হারানোর অর্থই হলো, প্রধানমন্ত্রী আর পার্লামেন্টের আস্থাভাজন নেই।

ব্যাপক উত্তেজনা আর গোলযোগের মধ্যে হওয়া আস্থা ভোটে জিতেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

রাজধানী ইসলামাদে শনিবারের পার্লামেন্ট অধিবেশনে এ ভোট হয়, যা বর্জন করে প্রধান বিরোধী দল নওয়াজ শরিফের নেতৃত্বাধীন পিএমএল (এন)।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আস্থা ভোটে জয়লাভে কমপক্ষে ১৭২টি ভোটের দরকার ছিল ইমরান খানের। সেখানে নিজের পক্ষে তিনি ১৭৮টি ভোট নিশ্চিত করতে সক্ষম হন।

চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে আসন হারালে স্বেচ্ছায় আস্থা ভোটের প্রস্তাব দেন ইমরান খান। ২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে সরকার গঠন করেন তিনি।

বিরোধীদের দাবি, সিনেটে সরকারি দলের গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন হারানোর অর্থই হলো যে প্রধানমন্ত্রী আর পার্লামেন্টের আস্থাভাজন নেই। এ জন্য আলাদা করে আস্থা ভোটের প্রহসনের দরকার ছিল না।

এ বিষয়ে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা শহীদ খাকন আব্বাসি সাংবাদিকদের বলেন, দেশের জনগণের সঙ্গে প্রতারণার জন্য অবৈধ অধিবেশনের এ নাটক সাজিয়েছেন ইমরান খান।

এদিকে পার্লামেন্টের বাইরে এদিন আক্রমণের শিকারও হয়েছেন বিরোধী দলের অনেক নেতা।

স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, পার্লামেন্ট চত্বরে বিক্ষোভরত বিরোধীদলীয় নেতারা যখন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, সে সময় তাদের ঘিরে ফেলে একদল মানুষ। এরপরই চালায় সংঘবদ্ধ আক্রমণ। আক্রমণের শিকার হন আব্বাসি, বিরোধী দলের এক নেত্রী ও এক সিনেটর।

হামলাকারীরা ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক বলে উল্লেখ করেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।

আরও পড়ুন:
কৃষক বিক্ষোভের নেপথ্যের নারীরা

শেয়ার করুন

ভারতে আশ্রয়: আট পুলিশকে ফেরত চাইল মিয়ানমার

ভারতে আশ্রয়: আট পুলিশকে ফেরত চাইল মিয়ানমার

জান্তার নির্দেশ পালন এড়াতে প্রতিবেশি ভারতে আশ্রয় নিচ্ছেন মিয়ানমারের অনেক পুলিশ কর্মকর্তা। ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারে সেনাশাসনবিরোধী বিক্ষোভে পুলিশের সমর্থনের খবর আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে । তবে এর আগে তাদের দেশ ছেড়ে পালানোর খবর জানা যায়নি।

সীমান্তপথে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়া কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে ফেরত চেয়েছে মিয়ানমার। সেনাবাহিনীর নির্দেশ এড়াতে নিজ দেশ ছেড়ে প্রতিবেশি দেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন তারা।

শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।

ভারতের মিজোরাম রাজ্যের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তার সূত্র উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি মিয়ানমারের পুলিশ ও তাদের পরিবারের সদস্যরাসহ প্রায় ৩০ জন ভারতে আশ্রয় চেয়েছেন। ১ ফেব্রুয়ারির সেনা অভ্যুত্থানের পর বিক্ষোভকারীদের ওপর শাসকগোষ্ঠী কঠোরতর হওয়ায় এবং সহিংসতা বাড়তে থাকার মধ্যে দেশ ছেড়ে পালান তারা।

মিজোরামের চাম্পাই জেলার উপকমিশনার মারিয়া সি টি জুয়ালি বলেন, মিয়ানমারের ফালাম জেলার উপকমিশনারের কাছ থেকে একটি চিঠি পেয়েছেন তিনি। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আট পুলিশ কর্মকর্তাকে আটক করে মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ করা হয়েছে চিঠিতে।

এ ব্যাপারে সিদ্ধান্তের জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করছেন মারিয়া।

চিঠিটির একটি অনুলিপি যাচাই করেছে রয়টার্স। এতে লেখা রয়েছে, অনুমতি ছাড়া ভারতীয় ভূখণ্ডে পালিয়ে যাওয়া এক নারীসহ কমপক্ষে আট পুলিশ কর্মকর্তার তথ্য রয়েছে মিয়ানমারের প্রশাসনের হাতে। তালিকার চার কর্মকর্তার বয়স ২২ বছর থেকে ২৫ বছরের মধ্যে।

মিয়ানমারে সেনাশাসনবিরোধী বিক্ষোভে পুলিশের সমর্থনের খবর আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে । তবে এর আগে তাদের দেশ ছেড়ে পালানোর খবর জানা যায়নি।

এ ব্যাপারে জানতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে রয়টার্স। তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া না জানালেও একদিন আগের সংবাদ সম্মেলনে জানানো তথ্যের পুনরাবৃত্তি করেছে নয়া দিল্লি। বলেছে, আপাতত মিয়ানমারের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত সরকার।

আরও পড়ুন:
কৃষক বিক্ষোভের নেপথ্যের নারীরা

শেয়ার করুন

‘সভ্যতার আঁতুড়ঘরে’ যাচ্ছেন পোপ

‘সভ্যতার আঁতুড়ঘরে’ যাচ্ছেন পোপ

ইরাকের প্রাচীন শহর উরে অবস্থিত জিগ্গুরাত মন্দির। ছবি: এএফপি

ছয় হাজার বছরেরও বেশি সময় আগে বিশ্বের শুরুর দিককার নগর কেন্দ্রগুলোর একটি হিসেবে বিকাশ হয় উরের। কয়েক শতাব্দী পর অঞ্চলটি তৎকালীন বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়।

অঞ্চলটিতে উদ্ভাবন হয়েছিল চাকা। হাম্মুরাবির আইনের বিকাশও হয়েছিল। জ্বালানির উৎস হিসেবে প্রথমবারের মতো তেল পোড়ানো হয় সেখান থেকেই।

বর্তমান ইরাকের রাজধানী বাগদাদ থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে দি কার প্রদেশের এ শহরটির নাম উর, যা ‘সভ্যতার আঁতুড়ঘর’ হিসেবে পরিচিত জায়গাগুলোর একটি। সেখানে যাওয়ার কথা রয়েছে ইরাকে তিন দিনের সফররত পোপ ফ্রান্সিসের।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরাকের রাজনীতিক, ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং নাজাফ, এরবিল, মসুল ও বাগদাদে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো দেখা শেষে পোপ যাবেন উরে। শনিবার সেখানে তার আয়োজনে আন্তধর্মীয় সভা হওয়ার কথা রয়েছে।

ছয় হাজার বছরেরও বেশি সময় আগে বিশ্বের শুরুর দিককার নগর কেন্দ্রগুলোর একটি হিসেবে বিকাশ হয় উরের। কয়েক শতাব্দী পর অঞ্চলটি তৎকালীন বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়। সেখানকার কারখানাগুলোতে তৈরি কার্পেট ও পশমের কাপড় তৎকালীন মেসোপটোমিয়াসহ বিভিন্ন প্রান্তে রপ্তানি হতো।

প্রাচীনকাল থেকেই গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয় উর বা তাল আল-মুকায়ের নামের এলাকাটিকে। ২০১৬ সালে ইউনেসকো বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান দেয় উরকে।

আরও পড়ুন:
কৃষক বিক্ষোভের নেপথ্যের নারীরা

শেয়ার করুন

কমিউনিস্টদের খুনের নির্দেশ দুতের্তের

কমিউনিস্টদের খুনের নির্দেশ দুতের্তের

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে। ছবি: সংগৃহীত

কমিউনিস্টদের উদ্দেশে দুতের্তে বলেন, ‘আপনারা সবাই ডাকাত, আপনাদের কোনো আদর্শ নেই। এমনকি চীন, রাশিয়াও এখন পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।’

কমিউনিস্টদের দেখামাত্র খুনের নির্দেশ দিয়েছেন বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচিত ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে।

দেশটির মিন্দানাওয়ে শুক্রবার কমিউনিস্টবিরোধী এক আলোচনা সভায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর প্রতি এ নির্দেশের কথা জানান তিনি।

দুতের্তে বলেন, ‘পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি, তারা যখনই বন্দুকযুদ্ধে কোনো কমিউনিস্ট বিদ্রোহীকে পাবে, তাদের মৃত্যু হয়েছে এটা যেন তারা নিশ্চিত করে।

‘এটা নিশ্চিত করবেন ওদের মরদেহ যেন পরিবারের কাছে পৌঁছায়।’

বক্তব্যে দুতের্তে বলেন, ‘মানবাধিকার ভুলে যান। এটাই আমার নির্দেশ। আমি জেলে যেতে প্রস্তুত আছি, এটা কোনো সমস্যাই না।’

কমিউনিস্টদের উদ্দেশে দুতের্তে বলেন, ‘আপনারা সবাই ডাকাত, আপনাদের কোনো আদর্শ নেই। এমনকি চীন, রাশিয়াও এখন পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।’

এ সময় কমিউনিস্টরা অস্ত্র ফেলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এলে তাদের চাকরি ও বাসস্থান নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট।

ফিলিপাইনে কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারের দ্বন্দ্ব পাঁচ দশকের বেশি সময়ের। দেশটির সেনাবাহিনীর হিসাব অনুযায়ী, কমিউনিস্টদের সঙ্গে লড়াইয়ে গত ৫৩ বছরে প্রাণ গেছে ৩০ হাজারের বেশি মানুষের।

কমিউনিস্টদের সঙ্গে বিভিন্ন সময় সরকারপ্রধানরা শান্তি আলোচনায় বসলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি।

ফিলিপাইনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান হোসে মারিয়া সিসন নেদারল্যান্ডসে স্বেচ্ছা-নির্বাসনে আছেন।

২০১৬ সালে ক্ষমতায় এসেই দেশজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করেন দুতের্তে। সমালোচিত এই অভিযানে নিহত হন আট হাজারের বেশি মানুষ।

আরও পড়ুন:
কৃষক বিক্ষোভের নেপথ্যের নারীরা

শেয়ার করুন

সোমালিয়ায় আত্মঘাতী গাড়িবোমায় নিহত ২০

সোমালিয়ায় আত্মঘাতী গাড়িবোমায় নিহত ২০

আত্মঘাতী গাড়িবোমা বিস্ফোরণের পর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এলাকাটি। ছবি: এএফপি

নৈশভোজের জন্য রেস্তোরাঁয় অনেক মানুষের সমাগম ছিল। বিস্ফোরণের পর ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় গোটা এলাকা। এরপর শুরু হয় গোলাগুলি।

সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় ২০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ৩০ জন।

বন্দর এলাকার একটি রেস্তোরাঁর বাইরে শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, নৈশভোজের জন্য রেস্তোরাঁয় অনেক মানুষের সমাগম ছিল। বিস্ফোরণের পর ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় গোটা এলাকা। এরপর শুরু হয় গোলাগুলি।

বিস্ফোরণে রেস্তোরাঁর পাশের একটি ভবন ধসে পড়ে। এ ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকেই আটকা থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস আমিনের প্রতিষ্ঠাতা ড. আবদুল কাদির আদেন বলেন, ‘এ পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। আহত ৩০ জনকে বিস্ফোরণস্থল থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা আহমেদ আব্দুল্লাহি জানান, দ্রুতগতিতে ছুটে আসা একটি গাড়ি লুল ইয়েমেনি রেস্তোরাঁর সামনে বিস্ফোরিত হয়।

‘আমি রেস্তোরাঁয় যাচ্ছিলাম। বিস্ফোরণের শব্দে ফিরে আসি। পেছনে ফিরে দেখি ধোঁয়ায় ছেয়ে গেছে এলাকা।’

নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওসমান বলেন, ‘শক্তিশালী বিস্ফোরণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

হামলার দায় স্বীকার করেনি কেউ। পুলিশের মুখপাত্র সাদিক আদেন হামলার জন্য জঙ্গি সংগঠন আল শাবাবকে দায়ী করেছেন।

আল-কায়েদার মতাদর্শী আল শাবাব সোমালিয়ায় বিভিন্ন সময় এ ধরনের বোমা হামলা চালিয়ে আসছে।

আরও পড়ুন:
কৃষক বিক্ষোভের নেপথ্যের নারীরা

শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ হাজার প্রতিষ্ঠানে চীনের সাইবার হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ হাজার প্রতিষ্ঠানে চীনের সাইবার হামলা

সাইবার হামলায় জড়িত চীনভিত্তিক ক্যাম্পেইনটি সম্প্রতি মাইক্রোসফট এক্সচেঞ্জ সফটওয়্যারে শনাক্ত হয়েছে। অত্যন্ত সুকৌশলে তারা ইমেইল চুরি করে নেয়ার পাশাপাশি কোনো উপায়ে কম্পিউটার সার্ভারে ঢুকে যায় এবং দূর থেকে সার্ভারটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

স্থানীয় সরকার, ব্যবসায়ীদের সার্ভারসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৩০ হাজার প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা চালিয়েছে চীনের একটি সাইবার হামলাকারী গ্রুপ।

একটি কম্পিউটার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের বরাতে শনিবার এ সংবাদ প্রকাশ করেছে আল জাজিরা

সাইবার হামলায় জড়িত চীনভিত্তিক ক্যাম্পেইনটি সম্প্রতি মাইক্রোসফট এক্সচেঞ্জ সফটওয়্যারে শনাক্ত হয়েছে। অত্যন্ত সুকৌশলে তারা ইমেইল চুরি করে নেয়ার পাশাপাশি কোনো উপায়ে কম্পিউটার সার্ভারে ঢুকে যায় এবং দূর থেকে সার্ভারটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার বিষয়ক অনুসন্ধানী সাংবাদিক ব্রায়ান ক্রেবস তার সাইবার সিকিউরিটি নিউজ ওয়েবসাইটে এক পোস্টে এসব তথ্য জানান।

এ বিষয়ে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জেনিফার পিসাকি বলেন, ‘এটা একটি সক্রিয় হুমকি। সার্ভারগুলো ঠিক করতে এগুলোর পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রত্যেককে এখনই কাজ করা দরকার। আমরা উদ্বিগ্ন যে, অনেকেই এই হামলার শিকার হয়েছে।’

দুর্বল প্রকৃতির সার্ভারগুলোর নিরাপত্তায় মাইক্রোসফট কিছু সমাধান দিয়েছে। কিন্তু এতে হ্যাকারদের হাতে তথ্যাদি বেহাত হওয়া থামেনি। বরং আরও বেড়েছে।

এর কোনো সমাধান পাওয়া গেছে কি না এ ব্যাপারে সার্ভারগুলোতে কোনো আপডেট নেই বলে বিষয়টি অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন ক্রেবস।

পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্ষুদ্র ব্যবসা বাণিজ্য, টাউন, সিটি ও স্থানীয় সরকারের সার্ভারসহ গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অন্তত ৩০ হাজার প্রতিষ্ঠান চীনের অস্বাভাবিক আক্রমণাত্মক একটি সাইবার হামলাকারী দল কর্তৃক আক্রান্ত হয়েছে। তারা ওই সব প্রতিষ্ঠান থেকে ইমেইল চুরি করে নিয়ে যায়।’

সাইবার বিষয়ে পারদর্শী ক্রেবস জানান, চীনের এসব হ্যাকার পাসওয়ার্ড প্রটেক্টেড সফটওয়্যার টুল ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার কম্পিউটার সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

গত সপ্তাহে মাইক্রোসফট জানিয়েছিল, তাদের ইমেইল সার্ভিসে চীনের রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট একটি হ্যাকিং গ্রুপের সন্ধান পাওয়া গেছে, যাদের চেষ্টা থাকে ব্যবসায়ীদের ডাটা চুরি করা।

মাইক্রোসফট বলছে, হ্যাকিং গ্রুপটির নাম ‘হাফনিয়াম’, গ্রুপটি হ্যাকিংয়ে খুবই দক্ষ ও খুবই বুদ্ধি সম্পন্ন।

হাফনিয়াম এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান টার্গেট করে হামলা চালিয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল দেশটির সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ, কিছু ল ফার্ম, প্রতিরক্ষা সরঞ্জামাদি বিষয়ক ঠিকাদার, থিংক-ট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠান ও এনজিও।

আরও পড়ুন:
কৃষক বিক্ষোভের নেপথ্যের নারীরা

শেয়ার করুন

মিয়ানমারে গণতন্ত্র ফেরাতে কার্যকর ব্যবস্থা চায় জাতিসংঘ

মিয়ানমারে গণতন্ত্র ফেরাতে কার্যকর ব্যবস্থা চায় জাতিসংঘ

মিয়ানমারে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ক্রিস্টিন শর্নার বুর্গেন। ছবি: এএফপি

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সংস্থাটির বিশেষ দূত বলেন, ‘নভেম্বরের নির্বাচনের ফল মেনে নিতে সেনাবাহিনীকে চাপ প্রয়োগ করতে হবে। আমাদের অবশ্যই মিয়ানমারের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।’

মিয়ানমারে সেনাদের নৃশংসতা বন্ধ ও গণতন্ত্র ফেরাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তাগিদ দিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত সংস্থাটির বিশেষ দূত ক্রিস্টিন শর্নার বুর্গেন।

মান্দালায় ২৬ বছরের যুবককে গুলি করে হত্যা এবং মাগওয়ে অঞ্চলে সু চির দল এনএলডির এক কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর এ তাগিদ দেন জাতিসংঘের দূত।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংসতা বন্ধে যৌথ উদ্যোগ চেয়েছেন ক্রিস্টিন শর্নার। তিনি জানান, বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের দিকে এগোচ্ছে মিয়ানমার।

তিনি বলেন, ‘নভেম্বরের নির্বাচনের ফল মেনে নিতে সেনাবাহিনীকে চাপ প্রয়োগ করতে হবে। আমাদের অবশ্যই মিয়ানমারের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।’

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমারের পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানালেও নিন্দা প্রস্তাব পাস করাতে পারেনি চীন ও রাশিয়ার ভেটোর কারণে।

মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালায় শুক্রবার অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে নামেন কয়েক শ প্রকৌশলী। ক্ষমতাচ্যুত স্টেট কাউন্সিলর সু চির মুক্তির দাবিতে স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে শহর।

এদিন বিক্ষোভরত ২৬ বছরের এক যুবকের গলায় সরাসরি গুলি চালায় পুলিশ। চিকিৎসকের বরাতে এ খবর নিশ্চিত করে বার্তা সংস্থা এএফপি।

মধ্য মাগওয়ে অঞ্চলে ছোরা হামলা হয় সু চির দল এনএলডির রাজনীতিক ও তার এক আত্মীয়ের ওপর। ১৭ বছরের ওই আত্মীয় বেঁচে গেলেও মারা যান ওই রাজনীতিক।

আরও পড়ুন: অভ্যুত্থানের পর সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিন দেখল মিয়ানমার

দক্ষিণের শহর দাওয়িতে বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে পুলিশ। বিক্ষোভ হয়েছে বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুন, পাথেইন ও মধ্য মইঙ্গিয়ান শহরে।

২৭ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারী এএফপিকে বলেন, ‘বিক্ষোভের সামনে থাকতে ভয় পাচ্ছি। তবে নেতাদের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। একে অন্যকে বাঁচাতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ আমরা।’

আরও পড়ুন: মিয়ানমারে আন্দোলনকারীদের টিকটকের মাধ্যমে মৃত্যুর হুমকি

দক্ষিণ-পূর্বের কারেন রাজ্যে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে কয়েক হাজার মানুষ। সমাবেশের নেতৃত্ব দেয় আদিবাসীদের সংগঠন কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন (কেএনইউ)। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন লড়াই করে আসছে সশস্ত্র এই সংগঠনটি।

এক বিবৃতিতে কেএনইউ বলেছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে সেনাবাহিনীর হামলা সহ্য করা হবে না। সেনা স্বৈরশাসনের পতন ঘটাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দা, সশস্ত্র আদিবাসী সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এক হয়ে কাজ করতে হবে।

আরও পড়ুন:
কৃষক বিক্ষোভের নেপথ্যের নারীরা

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg