সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার ও শাসক দলের দ্বিচারিতা

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের টুইটার অ্যাকাউন্ট সাময়িক ব্লক করে দিয়েছিল টুইটার। ফাইল ছবি

সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার ও শাসক দলের দ্বিচারিতা

একদিকে অমিত শাহের টুইটার অ্যাকাউন্ট সাময়িক বন্ধ করা নিয়ে বিজেপির শোরগোল, আরেকদিকে বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর আদেশ, সরকারের বিরুদ্ধে কোনো আপত্তিকর মন্তব্য করা যাবে না সোশ্যাল মিডিয়ায়।

একদিকে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সুযোগ চাই, অন্যদিকে নেটনাগরিকদের সমালোচনা করার অধিকার কেড়ে নেয়া– এই দুই পরস্পরবিরোধী আচরণ শাসকদলের পদক্ষেপে।

ভারতের সংসদীয় কমিটি যখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের টুইটার অ্যাকাউন্ট সাময়িক ব্লক করে দেয়ার জন্য টুইটার কর্তৃপক্ষকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করছেন, তখনই বিজেপির শরিক বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার নির্দেশ দিলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারের বিরুদ্ধে আপত্তিজনক বা মানহানিকর পোস্ট করলে তা শাস্তিযোগ্য সাইবার অপরাধ বলে গণ্য করা হবে। আর শুধুমাত্র সরকারের বিরুদ্ধেই নয়, সরকারি কর্মকর্তা বা কোনো মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওই ধরনের পোস্ট করলেও শাস্তির মুখে পড়তে হবে নেটনাগরিকদের।

২০২০ সালের নভেম্বর মাসে আচমকাই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেয় টুইটার। সরিয়ে দেয়া হয় তার মূল ছবিটিও। যদিও অ্যাকাউন্ট আবার চালু করে দেয়া হয়। কিন্তু তা নিয়ে বিতর্ক পিছু ছাড়েনি টুইটার কর্তৃপক্ষের।

বৃহস্পতিবার এ নিয়ে সংসদীয় কমিটির সামনে জেরবার হতে হয় সংস্থার কর্মকর্তাদের। সংসদীয় কমিটির সামনে ডেকে পাঠানো হয় দুই সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট টুইটার ও ফেসবুকের কর্মকর্তাদের। যাবতীয় নীতিনিয়ম স্পষ্টভাবে জানাতে বলা হয়। সেখানেই শাহের অ্যাকাউন্টের প্রসঙ্গ উঠে আসে বলে জানা গিয়েছে।

সূত্রের খবর, শাসক দল বিজেপি থেকে যারা সংসদীয় কমিটিতে রয়েছেন, মূলত তাদেরই আক্রমণের মুখে পড়েন টুইটার কর্মকর্তারা। জবাবে টুইটার কর্মকর্তারা জানান, শাহের অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেয়ার বিষয়টি একেবারেই ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ ছিল। তবে সেই সময় ‘ডিসপ্লে পিকচার’ অর্থাৎ প্রোফাইলের মূল ছবিটি নিয়ে কপিরাইট সংক্রান্ত অভিযোগ জমা পড়ে। তাই ছবিটিও সরিয়ে দেয়া হয়।

টুইটারের সত্যাসত্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সংসদীয় কমিটির সদস্যরা। জবাবে সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, ভার্চুয়াল দুনিয়াতেও সকলের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তুলতে চাইছেন তারা। কিন্তু তাদের এই জবাবে সন্তুষ্ট হতে পারেননি সংসদীয় কমিটির সদস্যরা। এ নিয়ে পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার থেকে ফেসবুক বা টুইটারের মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারের সমালোচকদের কড়া শাস্তি হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নীতিশ। এ বিষয়ে বিহারের ইকোনমিক অফেন্সেস উইংয়ের আইজি নায়ার হাসনেন খানকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারের বিরুদ্ধে কেউ আপত্তিজনক বা মানহানিকর কোনো পোস্ট করলে তা যেন রিপোর্ট করা হয়। পাশাপাশি, তাদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্যও নির্দেশ দেন তিনি।

নীতিশের নির্দেশ মেনে আইজি নায়ার হাসনেন রাজ্যের সব সচিবকে একটি চিঠি দিয়েছেন। ওই চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘সরকার, সম্মানীয় মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিজনক বা মানহানিকর মন্তব্য করছেন কয়েক জন ব্যক্তি এবং কিছু সংস্থা। এই সব পোস্ট আইনবিরোধী এবং সাইবার অপরাধ বলে গণ্য হবে।’

প্ররোচনামূলক পোস্ট রুখতে সম্প্রতি একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে টুইটার, যে কারণে আমেরিকায় ক্যাপিটল হিলে হামলায় প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে ডনাল্ড ট্রাম্পের অ্যাকাউন্টও সাময়িক ব্লক করে দেয় তারা। তাদের এই ‘সাহসী’ পদক্ষেপ একদিকে যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছিল, তেমনই ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের অ্যাকাউন্ট ব্লক করা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছিল তাদের। নাগরিকদের নিরাপত্তা, সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার ও ভার্চুয়াল দুনিয়ায় মহিলাদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক ব্যবস্থা নেয়ার কথা সেই সময় জানায় টুইটার।

আরও পড়ুন:
‘লাভ জেহাদ’ ঠেকাতে উত্তরপ্রদেশে অধ্যাদেশ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জাতিসংঘে মিয়ানমার জান্তার নিযুক্ত দূতের পদত্যাগ, বিক্ষোভ অব্যাহত

জাতিসংঘে মিয়ানমার জান্তার নিযুক্ত দূতের পদত্যাগ, বিক্ষোভ অব্যাহত

মিয়ানমারে শুক্রবারও সেনাশাসনের বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ অব্যাহত ছিল। ছবি: এএফপি

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্তেফানে দুজাররিচ জানান, মিয়ানমার মিশনের পাঠানো একটি আনুষ্ঠানিক চিঠিতে তিন মং নাইং পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। জাতিসংঘে মিয়ানমারের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে থাকছেন কিয়াও মোয়ে তুনই। 

জাতিসংঘে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত তিন মং নাইং পদত্যাগ করেছেন। পদটিতে বহাল থাকছেন তার পূর্বসূরী ও অং সান সু চি সরকারের নিয়োগ করা কিয়াও মোয়ে তুন।

শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্তেফানে দুজাররিচ জানান, মিয়ানমার মিশনের পাঠানো একটি আনুষ্ঠানিক চিঠিতে তিন মং নাইং পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। জাতিসংঘে মিয়ানমারের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে থাকছেন কিয়াও মোয়ে তুনই।

শুক্রবার সাধারণ পরিষদের এক অধিবেশনে মিয়ানমারে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চান কিয়াও মোয়ে তুন। পরদিনই তাকে বহিষ্কার করে স্থায়ী প্রতিনিধির সহকারী তিন মং নাইংকে তার পদে নিয়োগ করে দেশটির সেনাবাহিনী।

সোমবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্টকে লেখা চিঠিতে কিয়াও মোয়ে তুন জানান, ১ ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থান এবং অং সান সু চির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পুরো প্রক্রিয়াটিই অবৈধ। এ কারণে তাকে বহিষ্কারের অধিকার নেই সেনাবাহিনীর। মিয়ানমারের স্থায়ী প্রতিনিধির পদে বহাল থাকতে জাতিসংঘের সমর্থনও চান তিনি।

পরদিনই তাকে বহিষ্কৃত দাবি করে জাতিসংঘকে চিঠি দেয় মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

দুটি পরস্পরবিরোধী চিঠি পেয়ে পরিস্থিতির জটিলতা বিবেচনায় নিজস্ব নিয়মকানুন খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছিলেন দুজাররিচ। পরে এ বিষয়ে সাধারণ পরিষদে ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠের মত নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হয়, ভোট হলে তার ফল হতো সুদূরপ্রসারী। আদতে তাতে মিয়ানমারে সেনাশাসনের প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের স্বীকৃতির বিষয়টিই উঠে আসত। এ জন্য মঙ্গলবার থেকেই জাতিসংঘে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করছেন কিয়াও মোয়ে তুন। প্রত্যেকের সমর্থনও আদায় করেছেন তিনি।

এদিকে, শুক্রবারও সেনাশাসনের বিরুদ্ধে মিয়ানমারজুড়ে বিক্ষোভ হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এদিনও প্রাণ গেছে কমপক্ষে এক জনের। এ নিয়ে দেশটিতে সহিংসতায় প্রায় ৪০ জন নিহত হলেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান মিশেল ব্যাশেলে জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভে অংশ নেয়া জনতার ওপর কঠোর নিপীড়ন চালাচ্ছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। বিক্ষোভ দমনে চলছে ব্যাপক ধরপাকড়। ২৯ জন সংবাদকর্মীসহ এ পর্যন্ত আটক হয়েছেন ১ হাজার ৭০০ এর বেশি মানুষ।

এদিন দেশজুড়ে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর জানিয়েছে এএফপি। ইয়াঙ্গুনে স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার পর থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নের খবর ভাইরাল হয় ফেসবুক-টুইটারে। পরে কারিগরী ত্রুটির কারণে সারা দেশে বিদ্যুৎ সংযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে জানায় ইয়াঙ্গুন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই করপোরেশন। সংযোগ পুনরায় চালু হয় বিকাল ৪টার দিকে।

এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ওপর ফেসবুক-টুইটারের পর কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব। সরিয়ে দিয়েছে এমআরটিভিসহ দেশটির সেনা নিয়ন্ত্রিত সরকারের পাঁচটি চ্যানেল।

আরও পড়ুন:
‘লাভ জেহাদ’ ঠেকাতে উত্তরপ্রদেশে অধ্যাদেশ

শেয়ার করুন

ফিলিস্তিনে যুদ্ধাপরাধ: আইসিসির তদন্তে আপত্তি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের

ফিলিস্তিনে যুদ্ধাপরাধ: আইসিসির তদন্তে আপত্তি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: এএফপি

আইসিসির প্রধান প্রসিকিউটর ফাতাও বেনসুদা অঙ্গীকার করে বলেন, কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা আনুকূল্য ছাড়া স্বাধীন, পক্ষপাতহীন ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত কাজ পারিচালনা করা হবে।

ফিলিস্তিনি অধ্যুষিত অঞ্চলে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) তদন্ত তৎপরতাকে বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি ফের ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস।

ফিলিস্তিনে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ নিয়ে স্থানীয় সময় বুধবার তদন্তের ঘোষণা দেয় আইসিসি। পরের দিন বৃহস্পতিবার কমলা ও নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনালাপ হয় বলে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০ জানুয়ারি ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার পর এই প্রথম ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয় কমলার।

গত মাসে আইসিসির পক্ষ থেকে বলা হয়, দখলিকৃত ফিলিস্তিন অঞ্চল আইসিসির আওতায় পড়ে। ফলে ওই অঞ্চলে ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলিদের যুদ্ধাপরাধ তদন্ত করার এখতিয়ার আইসিসির রয়েছে।

আইসিসির প্রধান প্রসিকিউটর ফাতাও বেনসুদা অঙ্গীকার করে বলেন, কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা আনুকূল্য ছাড়া স্বাধীন, পক্ষপাতহীন ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত কাজ পারিচালনা করা হবে।

ইসরায়েলের সেনাবাহিনী ও ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাসকে সম্ভাব্য অপরাধী হিসেবে উল্লেখ করেন বেনসুদা।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে বেনসুদা বলেছিলেন, পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে।

আগামী ১৬ জুন বেনসুদাকে স্থলাভিষিক্ত করবেন ব্রিটিশ প্রসিকিউটর করিম খান।

দুই নেতার ফোনালাপের বিষয়ে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইসরায়েলের সেনাদের ওপর আইসিসির অধিকার ফলানোর বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সরকার। এ বিষয়ে কমলা ও নেতানিয়াহুর মধ্যে কথা হয়।

এর আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন বলেছিলেন, আইসিসির তদন্তের সিদ্ধান্তকে দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা করে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আদালতের এ সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে হতাশ।

ব্লিঙ্কেন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইসরায়েল আইসিসির অংশী নয়। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক আদালতের এখতিয়ারের বিষয়ে দেশটি সম্মতও হয়নি। ইসরায়েলের সেনাদের বিষয়ে আইসিসির অধিকার চর্চার চেষ্টায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’

আরও পড়ুন:
‘লাভ জেহাদ’ ঠেকাতে উত্তরপ্রদেশে অধ্যাদেশ

শেয়ার করুন

মিয়ানমারে আন্দোলনকারীদের টিকটকের মাধ্যমে মৃত্যুর হুমকি

মিয়ানমারে আন্দোলনকারীদের টিকটকের মাধ্যমে মৃত্যুর হুমকি

মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে বন্দুক তাক করে পুলিশের এক কর্মকর্তা। এএফপির ফাইল ছবি

ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি ক্যামেরার দিকে বন্দুক তাক করে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলছে, ‘আমি তোমাদের মুখে গুলি করব। এজন্য আমি সত্যিকারের বুলেট ব্যবহার করব। গোটা শহর আজ রাতে আমি টহল দিব। দেখামাত্রই গুলি করব। আপনাদের শহিদ হওয়ার বাসনা আমি পূরণ করব।’

মিয়ানমারের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেয়া বিক্ষোভকারীদের টিকটকের মাধ্যমে দেশটির পুলিশ ও সেনারা মৃত্যুর হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ডিজিটাল অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন মিয়ানমার আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্ট (এমআইডিও) জানিয়েছে, টিকটকের আট শতাধিক ভিডিওতে আন্দোলনকারীদের ভয়-ভীতি দেখানো হয়েছে।

এমআইডিওর নির্বাহী পরিচালক তাইকে তাইকে অং বলেন, ‘এটা হিমশৈলের কেবল উপরিভাগ। টিকটকে এমন আরও শত শত ভিডিও রয়েছে, যেখানে উর্দি পরা সেনা ও পুলিশ আন্দোলনকারীদের হুমকি দিচ্ছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সামরিক জান্তা সরকারের মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করেনি।

ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি ক্যামেরার দিকে বন্দুক তাক করে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলছে, ‘আমি তোমাদের মুখে গুলি করব। এজন্য আমি সত্যিকারের বুলেট ব্যবহার করব। গোটা শহর আজ রাতে আমি টহল দিব। দেখামাত্রই গুলি করব। আপনাদের শহিদ হওয়ার বাসনা আমি পূরণ করব।’

টিকটকে আসা উর্দি পরা ওই ব্যক্তি বা অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগে ব্যর্থ হয় রয়টার্স। তারা সেনাবাহিনীতে কাজ করেন কি না, তাও যাচাই করা সম্ভব হয়নি বার্তা সংস্থাটির পক্ষে।

মিয়ানমারের আন্দোলনকে ঘিরে চীনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকে ভীতি প্রদর্শনমূলক বা বিদ্বেষপ্রসূত ভিডিও দেয়া সম্প্রতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি জায়ান্ট ফেসবুক এরই মধ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্ট সব পেজ বন্ধ করে দিয়েছে। এর আগে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর দেশটিতে ফেসবুক নিষিদ্ধ করে।

টিকটক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘কোনো ধরনের সহিংসতা উসকানো বা ক্ষতিকর ভুল তথ্য সম্বলিত কনটেন্ট প্রকাশে আমরা অনুমোদন দিই না। এ বিষয়ে আমাদের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। মিয়ানমারকে নিয়ে সব ধরনের সহিংসতামূলক বা মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর মতো কনটেন্ট আমরা সরিয়ে ফেলছি। আমাদের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে এমন সব কনটেন্ট দ্রুতই সরানো হচ্ছে।’

টিকটকে পোস্ট করা ১২টির বেশি ভিডিও পর্যালোচনা করেছে রয়টার্স। সামরিক শাসন উৎখাত ও নির্বাচিত নেতা অং সান সু চির মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি ডাক দেয়া বিক্ষোভকারীদের উর্দি পরা ব্যক্তিরা বন্দুক হাতে হুমকি দিচ্ছে বলে ওইসব ভিডিওতে দেখা যায়।

ওইসব হুমকিমূলক ভিডিওর কোনো কোনোটি কয়েক হাজার বার ভিউ হয়েছে। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা ভিডিও চলতি সপ্তাহে সরিয়ে ফেলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নামী তারকাদের নাম হ্যাশট্যাগ দিয়েও কেউ কেউ আন্দোলনকারীদের হুমকি দিচ্ছে।

১ ফেব্রুয়ারি সু চি, প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ বেশ কয়েকজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে মিয়ানমারের ক্ষমতায় বসে সেনাবাহিনী।

সেনাশাসনের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলন দমাতে মিয়ানমারের আইনশৃখলা বাহিনী ব্যাপক মারমুখী অবস্থানে রয়েছে। এরই মধ্যে তাদের হাতে নিহত হয়েছে অর্ধ শতাধিক মানুষ। বুধবার সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ওই একদিনই ৩৮ বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘লাভ জেহাদ’ ঠেকাতে উত্তরপ্রদেশে অধ্যাদেশ

শেয়ার করুন

নেপালে পুলিশের গুলিতে ভারতীয় নিহত

নেপালে পুলিশের গুলিতে ভারতীয় নিহত

ভারত-নেপাল সীমান্তে নেপাল পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন এক ভারতীয়। ছবি: এনডিটিভি

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতের নাম গোবিন্দ। ২৬ বছর বয়সী ওই তরুণ বৃহস্পতিবার পাপ্পু সিং এবং গুরমিত সিং নামের আরও দুইজনের সঙ্গে নেপাল গিয়েছিলেন। সেখানকার পুলিশের সঙ্গে কী বিষয়ে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়েছে, তা জানা যায়নি।

ভারত-নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকায় কথা-কাটাকাটির জেরে এক ভারতীয়কে গুলি করে হত্যা করেছে নেপালের পুলিশ।

ভারতের উত্তর প্রদেশের পুলিশ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, উত্তর প্রদেশের পিলিভিত জেলাসংলগ্ন নেপালের সীমান্তবর্তী এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে।

বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতের নাম গোবিন্দ। ২৬ বছর বয়সী ওই তরুণ বৃহস্পতিবার পাপ্পু সিং এবং গুরমিত সিং নামের আরও দুইজনের সঙ্গে নেপাল গিয়েছিলেন। সেখানকার পুলিশের সঙ্গে কী বিষয়ে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়েছে, তা জানা যায়নি।

পিলিভিত জেলার পুলিশ প্রধান জয় প্রকাশ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সীমান্ত প্রহরী সংস্থার (এসএসবি) মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি, ভারতের তিন নাগরিক নেপাল গিয়েছিলেন। সেখানে কিছু বিষয় নিয়ে দেশটির পুলিশের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়।

‘নেপালের পুলিশের গুলিতে তাদের একজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যজন ভারতে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন। বাকিজনের খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি।

‘ভারতে যিনি ফিরেছেন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনার সঙ্গে সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’

আরও পড়ুন:
‘লাভ জেহাদ’ ঠেকাতে উত্তরপ্রদেশে অধ্যাদেশ

শেয়ার করুন

নেপালের ‘সাহসী’ মুসকান পাচ্ছেন আন্তর্জাতিক পুরস্কার

নেপালের ‘সাহসী’ মুসকান পাচ্ছেন আন্তর্জাতিক পুরস্কার

মুসকানের বয়স যখন ১৫ তখন একটি ছেলের প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় অ্যাসিড হামলার শিকার হয়েছিলেন। এতে তার মুখাবয়ব, বুক ও হাত মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়।

অ্যাসিড হামলার বিরুদ্ধে কাজ করার স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক সাহসী নারী পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন নেপালের মুসকান খাতুন।

নেপালে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে বলে কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, অ্যাসিড হামলার শেষ ঘটাতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মুসকানকে এই পুরস্কার দেয়া হচ্ছে।

৮ মার্চ নারী দিবসের দিন দেয়া হবে এই পুরস্কার। এ উপলক্ষে আয়োজিত ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী টনি ব্লিনকেন।

১৭ বছর বয়সী মুসকান নিজেও অ্যাসিড আক্রান্ত। পুরস্কারটির জন্য তাকে মনোনীত করায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে টুইট করেছেন নেপালে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত র‌্যান্ডি বেরি।

‘আমি সত্যিকার অর্থে খুব রোমাঞ্চিত যে, অ্যাসিড হামলা নির্মূলে নেপালের মুসকান খাতুন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সাহসী নারী পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন।’

মুসকানের বয়স যখন ১৫ তখন একটি ছেলের প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় অ্যাসিড হামলার শিকার হয়েছিলেন। এতে তার মুখাবয়ব, বুক ও হাত মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়।

নৃশংস ওই অ্যাসিড হামলার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন মুসকান। অ্যাসিড হামলাকারীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিতে কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি তোলেন তিনি।

এর জেরে অ্যাসিড হামলার বিরুদ্ধে নতুন আইন প্রণয়নে বাধ্য হয় নেপাল সরকার। গত বছরের সেপ্টেম্বরে এ বিষয়ে একটি অধ্যাদেশ জারি করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।

নেপালে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জানিয়েছে, হিমালয় অধ্যুষিত দেশটির প্রথম নারী হিসেবে এই পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন মুসকান। এই পুরস্কারজয়ী সবচেয়ে কম বয়সী নারী হবেন তিনি।

১৫ বছর ধরে আন্তর্জাতিক সাহসী নারী পুরস্কার দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। শান্তি, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, লিঙ্গ বৈষম্য, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি কাজে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেয়া হয় এই পুরস্কার।

এই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন পাকিস্তানের মালালা ইউসুফজাই ও বাংলাদেশের সারাহ হোসেনসহ অনেকে।

এবার মুসকান ছাড়াও আরও যারা পুরস্কারটি পাচ্ছেন, তারা হলেন- বেলারুশের মারিয়া কালেসনিকাভা, কলম্বিয়ার মায়েরলিস অ্যাঙ্গারিতা, কঙ্গোর জুলিয়েনে লুসেনগে, গুয়াতেমালার বিচারক এরিকা আইফান, ইরানের শোহরেহ বায়েত, সোমালিয়ার জাজরা মোহামেদ আহমেদ, স্পেনের সিস্টার অ্যালিসিয়া ভাকাস মোরো, শ্রীলঙ্কার রানিথা জ্ঞানারাজ, তুরস্কের ক্যানান গুলু ও ভেনেজুয়েলার রোসারিও কন্ট্রেরাস।

আরও পড়ুন:
‘লাভ জেহাদ’ ঠেকাতে উত্তরপ্রদেশে অধ্যাদেশ

শেয়ার করুন

আফগানিস্তানে হামলায় নারী চিকিৎসকসহ নিহত ৮

আফগানিস্তানে হামলায় নারী চিকিৎসকসহ নিহত ৮

প্রাদেশিক পুলিশপ্রধানের মুখপাত্র ফরিদ খান বলেন, নিহত শ্রমিকরা আফগানিস্তানের ধর্মীয় সংখ্যালঘু শিয়া হাজারা সম্প্রদায়ের। তারা কাবুল, বামিয়ান ও উত্তরাঞ্চলের বালখ প্রদেশ থেকে নানগারহারে কাজের উদ্দেশে এসেছিলেন।

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলের জালালাবাদ শহরে বোমা হামলায় এক নারী চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া একদল বন্দুকধারীর গুলিতে কমপক্ষে সাত বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

দেশটির নানগারহার প্রদেশের কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

প্রদেশটির গভর্নর কার্যালয়ের এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ওই নারী চিকিৎসক রিকশায় চড়ে হাসপাতালের দিকে যাচ্ছিলেন। ওই সময় রিকশার সঙ্গে লাগানো ম্যাগনেটিক বোমা বিস্ফোরিত হয়। এ ঘটনায় এক শিশুও আহত হয়।

নানগারহার প্রদেশের পুলিশপ্রধান জুমা গুল হেমাত বলেন, বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত ব্যক্তিরা সবাই সরখ রড জেলার একটি প্লাস্টার কারখানায় কাজ করতেন। ওই ঘটনায় সন্দেহভাজন চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রাদেশিক পুলিশপ্রধানের মুখপাত্র ফরিদ খান বলেন, নিহত শ্রমিকরা আফগানিস্তানের ধর্মীয় সংখ্যালঘু শিয়া হাজারা সম্প্রদায়ের। তারা কাবুল, বামিয়ান ও উত্তরাঞ্চলের বালখ প্রদেশ থেকে নানগারহারে কাজের উদ্দেশে এসেছিলেন।

নানগারহার প্রদেশে একই দিনে দুই হামলার দায় এখনও কোনো সংগঠন নেয়নি। তবে আইএসের জঙ্গিরা শিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল।

নানগারহার হামলার দুই দিন আগে জালালাবাদ শহরেই বেসরকারি এক টেলিভিশন স্টেশনে কর্মরত তিন নারী সংবাদকর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। মুরসাল ওয়াহিদি, সাদিয়া সাদাত ও শাহনাজ রাউফি নামের ওই সংবাদকর্মীদের হত্যার দায় স্বীকার করেছিল আইএস।

আরও পড়ুন:
‘লাভ জেহাদ’ ঠেকাতে উত্তরপ্রদেশে অধ্যাদেশ

শেয়ার করুন

ইরাকে যাচ্ছেন পোপ

ইরাকে যাচ্ছেন পোপ

ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। এএফপির ফাইল ছবি

সফরকালে ইরাকের সর্বোচ্চ শিয়া মুসলিম ধর্মীয় নেতার সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে পোপের। এ ছাড়া দেশটির মসুল শহরে প্রার্থনার পাশাপাশি স্টেডিয়ামে আয়োজিত ধর্মীয় সভায় অংশ নিবেন তিনি।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা হুমকির মধ্যেই প্রথমবারের মতো ইরাক সফরে যাচ্ছেন ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস।

শুক্রবার বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরাকে চার দিনের সফরে দেশটির ক্রমহ্রাসমান খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মনোবল বাড়ানো ও আন্তঃধর্মীয় আলোচনা উন্নত করবেন পোপ।

সফরকালে ইরাকের সর্বোচ্চ সম্মানিত শিয়া মুসলিম ধর্মীয় নেতার সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে পোপের। এ ছাড়া দেশটির মসুল শহরে প্রার্থনার পাশাপাশি স্টেডিয়ামে আয়োজিত ধর্মীয় সভায় অংশ নেবেন তিনি।

ইরাকে করোনার সংক্রমণ নতুন করে বেড়ে যাওয়া ও নিজের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের মধ্যেও দেশটি সফরে যাওয়ার পরিকল্পনায় অনড় পোপ।

গত বুধবার ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের এক ঘাঁটিতে রকেট হামলার কয়েক ঘণ্টা পর পোপ বলেন, ইরাকের খ্রিষ্টানদের দ্বিতীয়বার হতাশ করা যাবে না।

এর আগে ১৯৯৯ সালের শেষের দিকে ইরাক সফরের পরিকল্পনা করেও শেষ পর্যন্ত বাতিল করেছিলেন পোপ দ্বিতীয় জন পল।

বিশ্বের অন্যতম আদি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বাস ইরাকে। কিন্তু দেশটিতে গত দুই দশকে তাদের সংখ্যা ১৪ লাখ থেকে আড়াই লাখে নেমে আসে।

২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটের আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন ক্ষমতাচ্যুত হন। এর পরই ধর্মীয় সহিংসতার হাত থেকে বাঁচতে দেশটির লাখ লাখ খ্রিষ্টান দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।

এ ছাড়া ২০১৪ সালে ইরাকের উত্তরাঞ্চল আইএসের জঙ্গিরা দখল নেয়ার পর বাস্তুচ্যুত হয় দেশটির হাজার হাজার খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী মানুষ।

আরও পড়ুন:
‘লাভ জেহাদ’ ঠেকাতে উত্তরপ্রদেশে অধ্যাদেশ

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg