বিহারে সরকারের সমালোচনা করলেই সাজা

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার। ফাইল ছবি

বিহারে সরকারের সমালোচনা করলেই সাজা

আইজি হাসনাইন খান লিখেছেন, ‘কিছু ব্যক্তি ও সংগঠন সরকার এবং সম্মানিত ব্যক্তিদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্য করছে। আইন অনুযায়ী এ ধরনের মন্তব্য সাইবার অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করলে সাজা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের বিহার সরকার। একই সঙ্গে সরকারবিরোধী মন্তব্যকে সাইবার অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সরকারের সমালোচনা ঠেকাতে একটি সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করেছেন মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার। সেখানে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারের মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের নিয়ে কোনো মানহানিকর মন্তব্য করলে সেটি সাইবার অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে রাজ্য পুলিশকে নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

এরপরে রাজ্য সরকারের সব অফিসে চিঠি পাঠিয়েছেন বিহার পুলিশের ইনস্পেক্টর জেনারেল নায়ার হাসনাইন খান।

তিনি লিখেছেন, ‘কিছু ব্যক্তি এবং সংগঠন সরকার ও সম্মানিত ব্যক্তিদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্য করছে। আইন অনুযায়ী এ ধরনের মন্তব্য সাইবার অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।’

নীতিশ কুমার প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, এসব মাধ্যমে তার সরকারের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ায় বিরোধীরা।

নতুন সিদ্ধান্তের জবাবে মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে একটি টুইট করেছেন বিরোধী নেতা তেজস্বী যাদব। সেখানে তিনি নীতিশ কুমারকে ‘অপরাধীদের রক্ষক’ হিসেবে অভিহিত করেন। সাহস থাকলে ওই টুইটার পোস্টের জন্য তাকে গ্রেপ্তার করতে আহ্বানও জানিয়েছেন তেজস্বী।

আরও পড়ুন:
বিহারে পরাজয়ে কংগ্রেসে কলহ
উন্নয়ন করলেই সমর্থন মিলবে প্রমাণিত: মোদি
বিহার বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী বিজেপি জোট
বিহারে এগিয়ে বিজেপি জোট
বিহার বিধানসভা নির্বাচন: ভোট গণনা শুরু

শেয়ার করুন

মন্তব্য

অর্থ সহায়তা কমানো ইয়েমেনের জন্য মৃত্যুদণ্ড: জাতিসংঘ

অর্থ সহায়তা কমানো ইয়েমেনের জন্য মৃত্যুদণ্ড: জাতিসংঘ

ইয়েমেনের রাজধানী সানায় বিমান হামলায় বিধ্বস্ত বাড়িঘর। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছেন এক ইয়েমেনি। ছবি: এএফপি

গুতেরেস বলেন, ‘ইয়েমেনের লাখ লাখ শিশু, নারী ও পুরুষের জীবন রক্ষায় গুরুতরভাবে সহায়তা প্রয়োজন। অর্থ সহায়তা কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত অসহায়দের মৃত্যুদণ্ড দেয়ার শামিল।’

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ রোধে মানবিক কর্মসূচিতে বিভিন্ন দাতা দেশ প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম অর্থ সহায়তা দেয়ার অঙ্গীকার করায় হতাশা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

অপ্রতুল এ সহায়তাকে ইয়েমেনবাসীর জন্য ‘মৃত্যুদণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।

ইয়েমেনবাসীর জন্য অর্থ সহায়তা-সংক্রান্ত কনফারেন্স সোমবার অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভার্চুয়ালি বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থা যুক্ত হয়।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, কনফারেন্সে ইয়েমেনে জরুরি ভিত্তিতে মানবিক সংকট মোকাবিলায় দাতা দেশগুলোকে ৩ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার দেয়ার আহ্বান জানায় জাতিসংঘ। কিন্তু দেশগুলো ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার দিতে সম্মত হয়।

কনফারেন্স শেষে এক বিবৃতিতে গুতেরেস বলেন, ‘ইয়েমেনের লাখ লাখ শিশু, নারী ও পুরুষের জীবন রক্ষায় গুরুতরভাবে সহায়তা প্রয়োজন। অর্থ সহায়তা কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত অসহায়দের মৃত্যুদণ্ড দেয়ার শামিল।’

তিনি বলেন, ‘যারা উদারভাবে অর্থ সহায়তা দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন তাদের ধন্যবাদ জানাই। অন্যদের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছি। গত কয়েক দশকের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে কবলিত ইয়েমেন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বিভিন্ন দাতা দেশের সহায়তা ইয়েমেনের প্রয়োজন।’

কনফারেন্সে শতাধিক দেশের সরকার ও দাতা সংস্থা অংশ নেয়। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ১৯১ মিলিয়ন ডলার ও সৌদি আরব ৪৩০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেয়ার অঙ্গীকার করে। গত বছরের চেয়ে দেশ দুটির এ অর্থ সহায়তা কম।

অবশ্য কনফারেন্সে ইয়েমেনেকে ২৪১ মিলিয়ন ডলার দেয়ার অঙ্গীকার করে জার্মানি। গত বছর ১৩৮ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছিল দেশটি।

ক্রমহ্রাসমান মানবিক সহায়তার কারণে গত বছর ইয়েমেনে স্বাস্থ্যসেবা, খাবার বিতরণসহ বেশ কয়েকটি মানবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে হয়।

দেশটির জনসংখ্যার প্রায় দুই তৃতীয়াংশ জীবনধারণে দাতা সংস্থার সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। অর্থ সহায়তা যত কমছে, তাদের দুর্দশাও তত বাড়ছে।

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, জনসংখ্যার অর্ধেক বা ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি ইয়েমেনি এ বছর অনাহারের মুখে পড়বে। খাদ্যের অভাবে দেশটির প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ধুঁকে ধুঁকে মরছে।

পাঁচ বছরের কম বয়সী চার লাখ শিশু প্রকট অপুষ্টিতে মারা যেতে পারে বলে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে।

২০১৪ সালে রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের বিশাল এলাকা হুতি বিদ্রোহীরা দখলের পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।

পরের বছরের মার্চে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদির সরকারকে ক্ষমতায় বসানোর চেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সামরিক জোটে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যোগ দেয়। তখন থেকে ইয়েমেনের পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।

ইয়েমেন-যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর পাশাপাশি দেশটির বেশির ভাগ অবকাঠামো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। জীবিত লাখ লাখ মানুষ অনাহারে মরছে।

আরও পড়ুন:
বিহারে পরাজয়ে কংগ্রেসে কলহ
উন্নয়ন করলেই সমর্থন মিলবে প্রমাণিত: মোদি
বিহার বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী বিজেপি জোট
বিহারে এগিয়ে বিজেপি জোট
বিহার বিধানসভা নির্বাচন: ভোট গণনা শুরু

শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি যুবরাজ কি নিষিদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি যুবরাজ কি নিষিদ্ধ

সাংবাদিক জামাল খাশোগজি হত্যায় সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের হাত রয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা। ছবি: এএফপি

সাংবাদিক জামাল খাশোগজি হত্যার পেছনে জড়িত সৌদি আরবের ৭৬ নাগরিকের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই তালিকায় সৌদি যুবরাজ রয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেন, ‘আমি সুনির্দিষ্টভাবে এই তালিকায় কাউকে অন্তর্ভুক্ত বা তালিকা থেকে কাউকে বাদ দিতে পারছি না।’

সাংবাদিক জামাল খাশোগজি হত্যায় ইন্ধন দেয়ার অভিযোগে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে (এমবিএস) যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেয়ায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে কি না, এ ব্যাপারে পরিষ্কার কিছু বলছে না ওয়াশিংটন।

২০১৮ সালের অক্টোবরে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতে গিয়ে নির্মমভাবে খুন হন ওয়াশিংটন পোস্টের কলাম লেখক ও সৌদি রাজতন্ত্রের কট্টর সমালোচক খাশোগজি।

খাশোগজি একসময় সৌদি রাজপরিবারের খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। শুরু থেকেই অভিযোগ ছিল তার হত্যার পেছনে হাত রয়েছে এমবিএসের। ট্রাম্পের শাসনামলে এ হত্যা প্রতিবেদনের ধামাচাপা দিয়ে রাখে যুক্তরাষ্ট্র। জো বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর বিষয়টি নিয়ে অবস্থান পাল্টায় হোয়াইট হাউস।

শুক্রবার প্রকাশ করা হয় খাশোগজি হত্যা নিয়ে করা যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের (ডিএনআই) প্রতিবেদন। এতে বলা হয়, এ হত্যায় নির্দেশ ছিল এমবিএসের।

বাইডেন প্রশাসন জানায়, এই হত্যার পেছনে জড়িত সৌদি আরবের ৭৬ নাগরিকের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে জড়িত থাকতে পারেন এমন ব্যক্তিদেরও আনা হতে পারে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায়।

সে তালিকায় এমবিএস রয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সরাসরি কিছু জানালেন না যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস। বললেন, ‘যে ৭৬ জনকে এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তাদের ব্যাপারে বিস্তারিত বলা বা ভবিষ্যতে এই তালিকায় কাদের যোগ করা হতে পারে, আমরা তা জানানোর অবস্থায় নেই।’

এমবিএসের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত কী, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রাইস বলেন, ‘আমি সুনির্দিষ্টভাবে এই তালিকায় কাউকে অন্তর্ভুক্ত বা তালিকা থেকে কাউকে বাদ দিতে পারছি না।

‘নিকট ভবিষ্যতে ক্রাউন প্রিন্সের যুক্তরাষ্ট্র সফরের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত অবগত নই।’

আল জাজিরা অবশ্য সংবাদ প্রকাশ করেছে যে, খাশোগজি হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের ওপর যেসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, তা এমবিএসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

নেড প্রাইসের উদ্বৃতি দিয়ে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের সঙ্গে ‘যথার্থ সম্পর্ক’ রাখতে কাজ করে যাচ্ছে বাইডেন প্রশাসন। দুই দেশের সম্পর্কে ‘ফাটল’ না ধরিয়ে বরং ‘মজবুত’ করার উদ্দেশ্য তাদের।

আরও পড়ুন:
বিহারে পরাজয়ে কংগ্রেসে কলহ
উন্নয়ন করলেই সমর্থন মিলবে প্রমাণিত: মোদি
বিহার বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী বিজেপি জোট
বিহারে এগিয়ে বিজেপি জোট
বিহার বিধানসভা নির্বাচন: ভোট গণনা শুরু

শেয়ার করুন

ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট সারকোজির কারাদণ্ড

ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট সারকোজির
কারাদণ্ড

দুর্নীতি ও ক্ষমতা অপব্যবহারের দায়ে ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজিকে কারাদণ্ড দেয়া হয়। ছবি: এএফপি

ফ্রান্সে দণ্ডিত সাবেক প্রেসিডেন্টদের মধ্যে সারকোজি দ্বিতীয়। এর আগে দুর্নীতির দায়ে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাক শিরাককে কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছিল।

দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজিকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে প্যারিসের একটি আদালত। এর মধ্যে দুই বছরের স্থগিত দণ্ড রয়েছে।

আদালত স্থানীয় সময় সোমবার দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্টকে সাজা দেয় বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ফ্রান্সে দণ্ডিত সাবেক প্রেসিডেন্টদের মধ্যে সারকোজি দ্বিতীয়। এর আগে দুর্নীতির দায়ে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাক শিরাককে কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছিল।

২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ৬৬ বছর বয়সী সারকোজি। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।

আদালতে প্রসিকিউটররা বিচারকদের বলেন, ২০০৭ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রচারের জন্য সারকোজির বিরুদ্ধে কসমেটিকস কোম্পানি ল’রিয়েলের উত্তরাধিকারী লিলিয়ান বেটেনকোর্টের কাছ থেকে বেআইনিভাবে টাকা নেয়ার অভিযোগ ওঠে।

এ নিয়ে তদন্ত শুরু হলে একপর্যায়ে ২০১৪ সালে বিচারক গিলবার্ট আজিবার্টকে তদন্ত-সংক্রান্ত গোপনীয় তথ্য দিতে বলেন সারকোজি। বিনিময়ে ওই বিচারককে মোনাকোতে চাকরি দেয়ার কথা বলেন তিনি।

সারকোজি ও তার আইনজীবী থিয়েরি হারজগের কথোপকথন টেলিফোনে আড়ি পাতা হলে বিষয়টি সামনে আসে। ২০০৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে লিবিয়ার অর্থায়নের আরেকটি অভিযোগ তদন্তের স্বার্থে টেলিফোনে আড়ি পাতা হয়েছিল।

আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়, সারকোজি যে বেআইনি কাজ করছেন, তা তিনি ভালোভাবেই জানতেন।

দুর্নীতি ও ক্ষমতা অপব্যবহারের দায়ে সারকোজি ছাড়াও আরও দুই আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাদেরও একই দণ্ড দেয় ফ্রান্সের আদালত।

আরও পড়ুন:
বিহারে পরাজয়ে কংগ্রেসে কলহ
উন্নয়ন করলেই সমর্থন মিলবে প্রমাণিত: মোদি
বিহার বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী বিজেপি জোট
বিহারে এগিয়ে বিজেপি জোট
বিহার বিধানসভা নির্বাচন: ভোট গণনা শুরু

শেয়ার করুন

ইসরায়েলে পৌঁছেছেন আমিরাতের প্রথম রাষ্ট্রদূত

ইসরায়েলে পৌঁছেছেন আমিরাতের প্রথম রাষ্ট্রদূত

সোমবার জেরুজালেমে পৌঁছান আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল খাজা। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনকারী প্রথম আরব রাষ্ট্র আমিরাত। এই সম্পর্ক স্থাপিত হয় আব্রাহাম অ্যাকর্ড নামক যৌথ সমঝোতার ভিত্তিতে।

ইসরায়েলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রথম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মোহাম্মদ আল খাজা। সোমবার তিনি জেরুজালেমে পৌঁছেছেন।

আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে এরই মধ্যে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট র‍্যভেঁ রিভলিনের কাছে নিজের পরিচয়পত্র জমা দিয়েছেন তিনি। দেখা করেছেন ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গাবি আশকেনাজির সাথে।

নতুন কর্মক্ষেত্রে যোগ দিয়ে মোহাম্মদ খাজা বলেন, ‘ইসরায়েলে প্রথম আমিরাতি রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পাওয়া সৌভাগ্যের ও গর্বের। দু্ই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেয়াই আমার লক্ষ্য। সারা মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনার সূচনা হলো এর মাধ্যমে।’

এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের সঙ্গে আরব রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কোন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এরই অংশ হিসেবে গত বছর ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও আরব আমিরাতের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকে চুক্তি স্বাক্ষর হয় ।

এরপর ইসরায়েলে আরব আমিরাতের দূতাবাস চালু হয় জানুয়ারিতে। কিন্তু এত দিন সে দূতাবাসের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন প্রবীণ কূটনীতিক এইতান নায়েহ।

এরই মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু, ভিসাবিহীন ভ্রমণ ব্যবস্থা, সুরক্ষিত বিনিয়োগ, বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে অবদানসহ বেশ কিছু ইস্যুতে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে দুটি দেশ।

ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনকারী প্রথম আরব রাষ্ট্র আমিরাত। এই সম্পর্ক স্থাপিত হয় আব্রাহাম অ্যাকর্ড নামক যৌথ সমঝোতার ভিত্তিতে। এর আগে ১৯৭৯ সালে মিসর প্রথম এবং তারপর ১৯৯৪ সালে জর্ডান দ্বিতীয় মুসলিম দেশ হিসেবে ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপন করে।

আরব আমিরাতের পর আব্রাহাম অ্যাকর্ডে যুক্ত হয়েছে বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান।

এতদিন ফিলিস্তিনের সঙ্গে শান্তিচুক্তি না হলে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করার অবস্থানে ছিল মুসলিম রাষ্ট্রগুলো।

আরও পড়ুন:
বিহারে পরাজয়ে কংগ্রেসে কলহ
উন্নয়ন করলেই সমর্থন মিলবে প্রমাণিত: মোদি
বিহার বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী বিজেপি জোট
বিহারে এগিয়ে বিজেপি জোট
বিহার বিধানসভা নির্বাচন: ভোট গণনা শুরু

শেয়ার করুন

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির ভয়েই রাজপরিবার ছেড়েছেন প্রিন্স হ্যারি!

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির ভয়েই রাজপরিবার ছেড়েছেন প্রিন্স হ্যারি!

অপরাহ উইনফ্রের অনুষ্ঠানে দেখা যাবে প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল দম্পতিকে। ছবি: সংগৃহীত

২০২০ সালের জানুয়ারিতে ব্রিটিশ রাজপরিবারের দায়দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান হ্যারি-মেগান দম্পতি। এ জন্য অবশ্য রাজসিংহাসনের অধিকার ছাড়তে হয়নি প্রিন্স হ্যারিকে।

মা প্রিন্সেস ডায়ানা আর স্ত্রী মেগান মার্কেলের ভাগ্য বুঝি একই দিকে যাচ্ছে- এমন শঙ্কাতেই সস্ত্রীক রাজপরিবারের দায়িত্ব থেকে থেকে সরে দাঁড়ান প্রিন্স হ্যারি।

আমেরিকান উপস্থাপক অপরাহ উইনফ্রেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন ব্রিটিশ রাজপুত্র নিজেই। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল সিবিএস নিউজে প্রচারিত একটি টিজার ক্লিপে অন্তত এমনটাই বলতে শোনা গেছে হ্যারিকে।

অপরাহ উইনফ্রের উপস্থাপনায় ‘মেগান অ্যান্ড হ্যারি: আ সিবিএস প্রাইমটাইম স্পেশাল’ অনুষ্ঠানে দেখা যাবে ব্রিটিশ রাজপরিবারের বহুল আলোচিত এই দম্পতিকে। যুক্তরাষ্ট্রের দর্শকরা অনুষ্ঠানটি সিবিএস নিউজে দেখতে পাবেন আগামী ৭ মার্চ।

১৬ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা আসার পর থেকেই আলোচনায় অনুষ্ঠানটি। সোমবারই বহুল প্রতীক্ষিত অনুষ্ঠানটির প্রমোশনাল ভিডিও হিসেবে ৩০ সেকেন্ডের দুটি ক্লিপ প্রকাশ করে সিবিএস।

এতে প্রিন্স হ্যারিকে বলতে শোনা যায়, ‘ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি’র ভয় পাচ্ছিলেন তিনি। আর সে কারণেই স্ত্রী মেগানের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন রাজপরিবার থেকে বেরিয়ে স্বেচ্ছায় সাধারণ মানুষের জীবন গ্রহণ করার।

ভিডিও ক্লিপে হ্যারির পাশে বসা মেগানকে অপরাহর প্রশ্ন ছিল, কখনো তাকে চুপ করিয়ে দেয়া হয়েছিল কি না, কিংবা নীরব থাকতে চাপ দেয়া হয়েছিল কি না, কিংবা সহ্যের সীমা অতিক্রম করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেছিল কি না। প্রশ্নের জবাবে মেগান কী বলেছেন, সংক্ষিপ্ত ভিডিওতে সেটি দেখানো হয়নি। এ প্রশ্নের উত্তর জানতে রোববার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে আগ্রহী দর্শকদের।

সিবিএস জানিয়েছে, পুরো অনুষ্ঠানে বিয়ে, মাতৃত্ব, রাজপরিবারের সদস্য থাকার সময়ের জীবনযাপন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ইত্যাদি নিয়ে কথা বলেছেন সাবেক অভিনেত্রী মেগান মার্কেল। জানিয়েছেন, কীভাবে সামলেছেন জনতার কৌতুহল মেটানোর ভয়াবহ চাপ।

রাজপরিবারের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া কতটা কঠিন ছিল, কী কী চাপের মধ্যে পড়তে হয়েছে সে জন্য, কঠিন সে সময় কীভাবে পার করেছেন- এমন নানা প্রশ্ন আর রাজপরিবারের দায়িত্বভার বহনের সময় ও তারপরের জীবন নিয়ে কথা বলেছেন হ্যারি।

২০১৮ সালে মেগান মার্কেলকে বিয়ে করেন হ্যারি। সাধারণ পরিবারের মেয়ে হলেও প্রিন্স হ্যারিকে বিয়ের আগে প্রখ্যাত হলিউড অভিনেত্রী হিসেবে নিজের পরিচয় তৈরি করেছিলেন মেগান মার্কেল।

২০২০ সালের জানুয়ারিতে ব্রিটিশ রাজপরিবারের দায়দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান হ্যারি-মেগান দম্পতি। এ জন্য অবশ্য রাজসিংহাসনের অধিকার ছাড়তে হয়নি তাকে। দাদি রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের উত্তরসূরী হিসেবে বাবা প্রিন্স চার্লস, বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়াম, উইলিয়ামের তিন সন্তান প্রিন্স জর্জ, প্রিন্সেস শার্লট ও প্রিন্স লুইসের পর সিংহাসনের ষষ্ঠ উত্তরাধিকারী প্রিন্স হ্যারি। রাজপরিবারের দায়িত্ব ছাড়লেও ডিউক ও ডাচেস অব ক্যামব্রিজ হিসেবে পদমর্যাদাও ধরে রেখেছেন হ্যারি-মেগান।

এর আগে রাজপরিবার ছাড়ার কারণ হিসেবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের কৌতুহলের কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসতে এবং ‘বিষাক্ত পরিবেশ’ থেকে নিজের ও স্ত্রী-সন্তানের সুরক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলেছিলেন হ্যারি।

হ্যারির মা, প্রয়াত প্রিন্সেস অব ওয়েলস ডায়ানাও ১৯৯৬ সালে স্বামী প্রিন্স অব ওয়েলস চার্লসের সাথে বিবাহবিচ্ছেদের পর রাজপরিবারের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। ত্যাগ করেন ‘হার রয়্যাল হাইনেস’ পদবিও।

এর পরের বছর ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত হন তিনি। মৃত্যুর কারণ হিসেবে দায়ী করা হয় পাপারাজ্জিদের মোটরবাইকের ধাওয়া এবং গাড়ির গতি বাড়ানোর এক পর্যায়ে চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোকে। বলা হয়, ডায়ানার গাড়িচালক মদ্যপও ছিলেন সে সময়। ডায়ানার মৃত্যুর কারণ নিয়ে অসংখ্য বিতর্ক ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব থাকলেও কোনোটারই স্বপক্ষে প্রমাণ নেই।

অপরাহর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটির প্রচারণামূলক ভিডিওতে প্রিন্স হ্যারি বলেছেন, ‘যে ভয়াবহ কঠিন পরিস্থিতি থেকে আমরা দুজন বের হয়ে এসেছি, ২৪ বছর আগে আমার মা সে পরিস্থিতি কীভাবে সহ্য করেছেন- সেটা আমি কল্পনা করতেও ভয় পাই। স্বামী-স্ত্রী হিসেবে আমরা তো তাও একসাথে একে অপরের পাশে থেকে কঠিন সময়টা পার করেছি। আমার মা বছরের পর বছর একাই সব সহ্য করেছেন।’

হ্যারি বলেন, ‘আমার সবচেয়ে বড় ভয় ছিল যে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে। আজ আমি মুক্ত, এখানে কথা বলছি স্ত্রীকে পাশে নিয়ে, এতেই আমি খুশি।’

হ্যারি-মেগানের এ সাক্ষাৎকারের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি বাকিংহাম প্যালেস। যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠানটি কবে প্রচার করা হবে, তাও অজানা।

মেগানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে হ্যারির সঙ্গে তার বিয়ের রাজকীয় আয়োজনের অন্যতম আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন অপরাহ উইনফ্রে।

আরও পড়ুন:
বিহারে পরাজয়ে কংগ্রেসে কলহ
উন্নয়ন করলেই সমর্থন মিলবে প্রমাণিত: মোদি
বিহার বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী বিজেপি জোট
বিহারে এগিয়ে বিজেপি জোট
বিহার বিধানসভা নির্বাচন: ভোট গণনা শুরু

শেয়ার করুন

মুম্বাইয়ে নজিরবিহীন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পেছনে চীন!

মুম্বাইয়ে নজিরবিহীন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পেছনে চীন!

জুনে চীন-ভারতের লাদাখ সীমান্তে সংঘর্ষে ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার ঘটনার পরপরই চীনের তৈরি ম্যালওয়্যারগুলো সক্রিয় হয়। সারা ভারতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ নেটওয়ার্কে সেগুলো ছড়িয়ে দেয় চীনা হ্যাকাররা।

২০২০ সালের অক্টোবরে ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে নজিরবিহীন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পেছনে হাত ছিল চীনের।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান রেকর্ডেড ফিউচার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে এ তথ্য। অনলাইন ডিজিটাল নিরাপত্তা ঝুঁকি বিশ্লেষণের কাজ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি।

গত ১২ অক্টোবর স্থানীয় সময় সকাল ১০টার পর থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হতে শুরু করে মুম্বাইয়ের বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, পুঁজিবাজার, এমনকি হাসপাতাল আর রেল সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও। দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে এ অচলাবস্থা বিরাজ করে। থমকে যায় ট্রেন চলাচল।

সে সময় কারণ হিসেবে টাটা পাওয়ারের গ্রিডে কারিগরি ত্রুটির কথা জানায় ভারতের ওয়েস্টার্ন রেলওয়ে। শহরের হাসপাতালগুলোতে, বিশেষ করে আইসিইউয়ের কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে কমপক্ষে আট ঘণ্টার জন্য বিদ্যুতের বিকল্প জ্বালানি হিসেবে পর্যাপ্ত ডিজেল সরবরাহের নির্দেশও দিয়েছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

রেকর্ডেড ফিউচার বলছে, ভারতের প্রধান বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর কম্পিউটার নেটওয়ার্কে এক ধরনের ম্যালওয়্যার ঢুকিয়ে দিয়েছিল চীনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান রেডইকো। যার মাধ্যমে সেদিনের এই নজিরবিহীন অচলাবস্থা তৈরি হয়।

এ-সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদনটি নিয়ে প্রথম খবর প্রকাশ করে নিউইয়র্ক টাইমস। এতে বলা হয়, জুনে চীন-ভারতের লাদাখ সীমান্তে সংঘর্ষে ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার ঘটনার পরপরই চীনের তৈরি ম্যালওয়্যারগুলো সক্রিয় হয়। সারা ভারতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ নেটওয়ার্কে সেগুলো ছড়িয়ে দেয় চীনা হ্যাকাররা।

রেকর্ডেড ফিউচার জানিয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ খাতের সাথে জড়িত ভারতের ১২টি প্রতিষ্ঠানের ২১টি ইন্টারনেট প্রটোকল বা আইপি অ্যাড্রেস ছিল হ্যাকারদের লক্ষ্য। সবগুলো আইপি অ্যাড্রেসই ভারত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তালিকাভুক্ত।

গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মুম্বাইয়ে এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মহারাষ্ট্র রাজ্যের পাডঘায় অবস্থিত স্টেট লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারে ম্যালওয়্যার ছড়ানোর খবরও প্রকাশ হয়। কিন্তু দুটি ঘটনার মধ্যে সম্পৃক্ততার বিষয়টি সে সময় নিশ্চিত করা যায়নি। কিন্তু এর ভিত্তিতেই অনুসন্ধানের মাধ্যমে বেরিয়ে আসে পুরো ইন্ডিয়ান লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারে সমন্বিত সাইবার হামলার অনেক তথ্য-প্রমাণ।

ভারতের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ তথ্যে রেকর্ডেড ফিউচারের প্রবেশাধিকার নেই বলে মুম্বাইয়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য দায়ী ম্যালওয়্যারের কোডের বিস্তারিত উদঘাটন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২০ সালের শুরু থেকেই ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার নেটওয়ার্কে চীনা পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হ্যাকারদের অনুপ্রবেশ বাড়তে শুরু করে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
বিহারে পরাজয়ে কংগ্রেসে কলহ
উন্নয়ন করলেই সমর্থন মিলবে প্রমাণিত: মোদি
বিহার বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী বিজেপি জোট
বিহারে এগিয়ে বিজেপি জোট
বিহার বিধানসভা নির্বাচন: ভোট গণনা শুরু

শেয়ার করুন

সু চির বিরুদ্ধে আরও দুই অভিযোগ

সু চির বিরুদ্ধে আরও দুই অভিযোগ

মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেতা অং সান সু চির মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ। ছবি: এএফপি

আইনজীবী মিন মিন সো বলেন, সোমবার ঔপনিবেশিক আমলের দণ্ডবিধির এক ধারায় সু চির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, যাতে ভীতি বা শঙ্কা সৃষ্টি অথবা জনগণের শান্তি বিঘ্ন হওয়ার মতো তথ্যের প্রকাশ নিষিদ্ধের কথা উল্লেখ রয়েছে।

মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেতা অং সান সু চির বিরুদ্ধে আরও দুইটি অভিযোগ এনেছে দেশটির আদালত।

সু চির আইনজীবীর বরাতে সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

আইনজীবী মিন মিন সো বলেন, রাজধানী নেপিদোতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানিতে হাজির হন সু চি। এ সময় নিজের আইনি দলকে দেখতে চান তিনি।

১ ফেব্রুয়ারি ভোরে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হাতে আটক হন শান্তিতে নোবেলজয়ী সু চি ও তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) বেশ কয়েকজন নেতা। ওই দিন এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণার মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় বসে দেশটির সেনারা।

আটকের পর সু চিকে প্রকাশ্যে আর দেখা যায়নি।

সু চিকে ‘মা’ সম্বোধন করে মিন মিন সো বলেন, ‘আমি ভিডিওতে মাকে দেখেছি। তাকে সুস্থ দেখাচ্ছিল।’

এর আগে বেআইনিভাবে আমদানি করা ছয়টি ওয়াকিটকি রেডিও রাখার অভিযোগ আনা হয় সু চির বিরুদ্ধে। পরে তার বিরুদ্ধে করোনাভাইরাসের প্রটোকল ভাঙার মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়।

মিন মিন সো বলেন, সোমবার ঔপনিবেশিক আমলের দণ্ডবিধির এক ধারায় সু চির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, যাতে ভীতি বা শঙ্কা সৃষ্টি অথবা জনগণের শান্তি বিঘ্ন হওয়ার মতো তথ্যের প্রকাশ নিষিদ্ধের কথা উল্লেখ রয়েছে।

এ ছাড়া সু চির বিরুদ্ধে টেলিযোগাযোগ আইনে আরেকটি অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানান মিন মিন সো।

সু চির পরবর্তী শুনানির তারিখ ১৫ মার্চ।

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, সু চির শুনানির সময় মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভ চলছিল। ওই সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ছুড়ে মারে পুলিশ। পুলিশি এ হামলায় এখন পর্যন্ত হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে সেনাশাসকেরা ক্ষমতায় বসার পর থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও সু চির মুক্তির দাবিতে টানা আন্দোলন করছে মিয়ানমারের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

আন্দোলন শুরুর পর গতকাল রোববার বিক্ষোভকারীদের ওপর সবচেয়ে বেশি সহিংস হয় দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মিয়ানমারজুড়ে বিক্ষোভে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি ছোড়ে পুলিশ। এতে নিহত হয় ১৮ জন।

আরও পড়ুন:
বিহারে পরাজয়ে কংগ্রেসে কলহ
উন্নয়ন করলেই সমর্থন মিলবে প্রমাণিত: মোদি
বিহার বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী বিজেপি জোট
বিহারে এগিয়ে বিজেপি জোট
বিহার বিধানসভা নির্বাচন: ভোট গণনা শুরু

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg