কেমন হবে বাইডেনের অভিষেক

কেমন হবে বাইডেনের অভিষেক

অন্যান্য বারের মতো এবারের অভিষেকে ক্যাপিটল ভবনের নিচে কোনো জনসমাগম দেখা যাবে না। এ ছাড়া অভিষেকে থাকছেন না বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও।

করোনাভাইরাস মহামারি ও ক্যাপিটল ভবনে হামলার পর কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে পূর্বসূরীদের চেয়ে একদম ভিন্ন হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিতে যাওয়া জো বাইডেনের অভিষেক অনুষ্ঠান।

অন্যান্য বারের মতো এবারের অভিষেকে ক্যাপিটল ভবনের নিচে কোনো জনসমাগম দেখা যাবে না। এ ছাড়া অভিষেকে থাকছেন না বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও।

তাহলে কেমন হতে যাচ্ছে বাইডেনের অভিষেক? কী থাকছে তাতে?

অভিষেক অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে প্রতিবেদন করেছে এনপিআর ও দ্য গার্ডিয়ান।

জাতীয় সঙ্গীত ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে স্থানীয় সময় বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলে শুরু হবে অভিষেক অনুষ্ঠান। ১২টা বাজার একটু আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের শপথ নেয়ার কথা। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক সোনিয়া সোতোমেয়র তাকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।

এরপর প্রথা অনুযায়ী ক্যাপিটলের পশ্চিম প্রান্তে দুপুরে শপথ নেবেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী জো বাইডেন। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস শপথ বাক্য পড়বেন। এরপর বাইডেন অভিষেক বক্তব্য দেবেন।

বাইডেন এরপর ক্যাপিটলের পূর্ব প্রান্তে সামরিক বাহিনীর সেনাদের সঙ্গে দেখা করবেন।

পরে বাইডেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, জর্জ ডব্লিউ বুশ ও বিল ক্লিনটন সস্ত্রীক আরলিংটন ন্যাশনাল সেমেট্রিতে যাবেন। সেখানে ‘টুম্ব অফ দ্য আননওন সোলজারের’ স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন তারা।

IN2-image

এরপর ১৫ নম্বর স্ট্রিট থেকে হোয়াইট হাউজ পর্যন্ত বাইডেনকে মিলিটারি এসকোর্ট দেয়া হবে।

ধারণা করা হচ্ছে, অনুষ্ঠানে আনুমানিক এক হাজার ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এদের মধ্যে বেশির ভাগই কংগ্রেসের সদস্য এবং তাদের অতিথি।

অভিষেক অনুষ্ঠানে পপ স্টার লেডি গাগা জাতীয় সঙ্গীত গাইবেন। আমন্ত্রিত অতিথিদের গির্জায় নিয়ে যাওয়ার আগে কবিতা পাঠের আয়োজন করা হয়েছে। পাঠের পর জেনিফার লোপেজ, গার্থ ব্রুকস সঙ্গীত পরিবেশন করবেন।

অভিষেক অনুষ্ঠানকে ঘিরে এবার বড় আকারের সামাজিক সমাগম হচ্ছে না। তবে এর পরিবর্তে বুধবার রাতে বিশেষ টেলিভিশন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ৯০ মিনিটের ‘সেলেব্রেটিং আমেরিকা’ নামের ওই অনুষ্ঠানে সঞ্চালক থাকছেন চলচ্চিত্র তারকা টম হ্যাঙ্কস। সেখানে অংশ নেবেন বাইডেন ও কমলা।

এ ছাড়া ওই ‘ভাচুয়াল বল’ অনুষ্ঠানে সঙ্গীত শিল্পী জন বন জোভি, ডেমি লোভেটো, জাস্টিন টিম্বারলেক থাকছেন।

IN$-image

অভিষেকের দুই সপ্তাহ আগে ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্পের সমর্থকদের তাণ্ডবের প্রেক্ষিতে ও আরও সহিংসতার শঙ্কায় রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ২৫ হাজারের বেশি ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। ইরাক ও আফগানিস্তানে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের চেয়ে এ সংখ্যা পাঁচ গুণ বেশি।

আরও পড়ুন:
বাইডেনের শপথের দিন অভ্যন্তরীণ হামলার শঙ্কা
বাইডেনের অভিষেকের আগে যুক্তরাষ্ট্রে সশস্ত্র বিক্ষোভ
ক্যাপিটল ভবনে হামলা: সমর্থন কমল ট্রাম্পের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মিয়ানমারে বিক্ষোভ দমনে কঠোর নিরাপত্তা বাহিনী

মিয়ানমারে বিক্ষোভ দমনে কঠোর নিরাপত্তা বাহিনী

মিয়ানমারে বিক্ষোভ দমনে কঠোর নিরাপত্তা বাহিনী। ছবি: এএফপি

ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও স্টান গ্রেনেড ছোঁড়ে পুলিশ। এ সময় অনেক জায়গায় ব্যারিকেড দিয়ে লুকোনোর চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা।

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভকারীদের দমনে আবারও শক্তি প্রয়োগ করল দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।

শনিবার রাজধানী নেপিদোসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ তীব্র রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে চলে ব্যাপক ধরপাকড়। আটক করা হয় বার্তা সংস্থা এপির এক আলোকচিত্রীসহ কমপক্ষে তিন সংবাদকর্মীকে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, মনিয়া শহরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন এক নারী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ছবি ছড়িয়ে পড়লেও পরিচয় বা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়নি।

এ দিন ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও স্টান গ্রেনেড ছোঁড়ে পুলিশ। এ সময় অনেক জায়গায় ব্যারিকেড দিয়ে লুকোনোর চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, অনেক বিক্ষোভকারীকে বেধড়ক পিটিয়েছে সাদা পোশাকের নিরাপত্তা কর্মীরা; ছুড়েছে ফাঁকা গুলি। একই পরিস্থিতি ছিল ম্যান্ডেলে শহরে।

পর্যবেক্ষক সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স জানিয়েছে, সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে ৭৭০ জনের বেশি মানুষকে আটক করেছে মিয়ানমারের পুলিশ। অনেককে সাজাও দেয়া হয়েছে।

সংঘর্ষে প্রাণ গেছে কমপক্ষে তিন বিক্ষোভকারী এবং এক পুলিশ সদস্যের।

১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত ও আটক করে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেয় দেশটির সেনাবাহিনী। তখন থেকেই গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবিতে দেশজুড়ে চলছে বিক্ষোভ।

আরও পড়ুন:
বাইডেনের শপথের দিন অভ্যন্তরীণ হামলার শঙ্কা
বাইডেনের অভিষেকের আগে যুক্তরাষ্ট্রে সশস্ত্র বিক্ষোভ
ক্যাপিটল ভবনে হামলা: সমর্থন কমল ট্রাম্পের

শেয়ার করুন

১০০ আসনও পাবে না বিজেপি: প্রশান্ত কিশোর

১০০ আসনও পাবে না বিজেপি: প্রশান্ত কিশোর

তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট বিষয়ক পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোর। ছবি: পিটিআই

প্রশান্ত কিশোরের চ্যালেঞ্জ, ২ মে (ভোট গণনার দিন) আমার কথা মিলিয়ে নেবেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিজেপি যদি এর থেকে ভালো করে তবে জায়গা ছেড়ে দেব।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা ভোটে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ২৯৪টির মধ্যে ১০০ আসনও পাবে না বলে দাবি করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট-বিষয়ক উপদেষ্টা প্রশান্ত কিশোর (পিকে)।

শনিবার এক টুইট বার্তায় তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি হারছেই। ক্ষমতা দখলের জন্য প্রয়োজন ১৪৭টি আসন। কিন্তু বিজেপি ১০০-তেও পৌঁছাতে পারবে না।

টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ভারতীয় গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধানযুদ্ধে বাংলা একমাত্র ঘরের মেয়েকেই চায়।

শনিবার পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হয়েছে।

এর আগে পিকে বলেছিলেন, বিজেপির আসনসংখ্যা দুই অঙ্ক ছাড়াবে না। এদিন পেশাদার ভোট-কুশলী পিকে সে কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। তফসিল ঘোষণার পরও তার এ কথা।

পিকের চ্যালেঞ্জ, ২ মে (ভোট গণনার দিন) আমার কথা মিলিয়ে নেবেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিজেপি যদি এর থেকে ভালো করে তবে জায়গা ছেড়ে দেব।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা ধরে রাখতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস প্রশান্ত কিশোরকে তাদের ভোটের কৌশল তৈরির দায়িত্ব দিয়েছে।

তার পরামর্শেই নতুন স্লোগান বাংলা নিজের মেয়েকেই চায় প্রচার করছে তৃণমূল।

তবে পিকের এই দাবি মানতে নারাজ তৃণমূল বিরোধীরা। স্বাভাবিক কারণেই বিজেপির তরফ থেকে উড়িয়ে দেয়া হয়েছে পিকের তত্ত্ব। বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘চাকরি বাঁচাতেই পিকে এসব বলে বাজার ধরতে চাইছেন।’

সিপিএমের তন্ময় ভট্টাচার্য মনে করেন, রোববার বামেদের ব্রিগেড জনসভা থেকেই পশ্চিমবঙ্গে প্রত্যাবর্তন শুরু হবে। এই মিটিংয়ে কংগ্রেসসহ অন্যান্য দলও অংশ নিচ্ছে।

আরও পড়ুন:
বাইডেনের শপথের দিন অভ্যন্তরীণ হামলার শঙ্কা
বাইডেনের অভিষেকের আগে যুক্তরাষ্ট্রে সশস্ত্র বিক্ষোভ
ক্যাপিটল ভবনে হামলা: সমর্থন কমল ট্রাম্পের

শেয়ার করুন

খাশোগজি হত্যায় ভীতির পরিবেশ তৈরি করেন সৌদি যুবরাজ

খাশোগজি হত্যায় ভীতির পরিবেশ তৈরি করেন সৌদি যুবরাজ

সাংবাদিক জামাল খাশোগজি ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ছবি: সংগৃহিত।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে বলা হয়, খাশোগজি হত্যার সময়ে সৌদি যুবরাজ সম্ভবত এমন পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছিলেন, যাতে তার সহযোগীদের মধ্যে শঙ্কা হয়, অর্পিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাদের বরখাস্ত বা গ্রেপ্তার করা হবে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) অনুমোদনে সাংবাদিক জামাল খাশোগজিকে হত্যা করা হয় উল্লেখ করে শুক্রবার প্রতিবেদন প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালকের দপ্তর ওডিএনআই।

ওই প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা কেন এমবিএসের অনুমোদনের বিষয়টি সামনে এনেছে, তার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে খাশোগজি হত্যায় অংশগ্রহণকারী, আদেশদাতা কিংবা জড়িত ব্যক্তিদের নামও যুক্ত করা হয়েছে এতে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আমাদের মূল্যায়ন হলো সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগজিকে ধরে আনা বা হত্যার অভিযানে অনুমোদন দিয়েছেন।’

এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ২০১৭ সাল থেকে সৌদি আরবে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে যুবরাজের নিয়ন্ত্রণ, অভিযানে এমবিএসের এক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও তার নিরাপত্তা দলের কয়েকজনের সরাসরি সম্পৃক্তি এবং খাশোগজিসহ বিদেশে থাকা ভিন্ন মতাবলম্বীদের মুখ বন্ধে সহিংস পদক্ষেপে যুবরাজের সমর্থনের ভিত্তিতে গোয়েন্দারা এমন মূল্যায়ন করেছেন।

ওডিএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সাল থেকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ যুবরাজ এমবিএসের। ফলে যুবরাজের অনুমোদন ছাড়া সৌদির কর্মকর্তাদের এ ধরনের একটি অভিযান পরিচালনার সম্ভাবনা খুবই কম।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, খাশোগজি হত্যার সময়ে যুবরাজ সম্ভবত এমন পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছিলেন, যাতে তার সহযোগীদের মধ্যে শঙ্কা হয়, অর্পিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাদের বরখাস্ত বা গ্রেপ্তার করা হবে। এ থেকে বোঝা যায়, এমবিএসের আদেশ নিয়ে প্রশ্ন করার কথা নয় সহযোগীদের কিংবা তার (এমবিএস) সম্মতি ছাড়াই স্পর্শকাতর কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছে তারা।

ইস্তাম্বুলে যাওয়া সৌদির দলটি নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর পৌঁছানো দলে এমন কর্মকর্তা ছিলেন, যারা সৌদির রাজকীয় আদালতের সেন্টার ফর স্টাডিজ অ্যান্ড মিডিয়া অ্যাফেয়ার্সের (সিএসএমএআরসি) কর্মী বা সংশ্লিষ্ট ছিলেন। অভিযানের সময় এমবিএসের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা সউদ আল-কাহতানির নেতৃত্বে ছিল সিএসএমএআরসি। ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে কাহতানি দাবি করেছিলেন, তিনি সৌদি যুবরাজের অনুমোদন ছাড়া সিদ্ধান্ত নেন না।

তুরস্কে যাওয়া দলটিতে এমবিএসের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনী র‌্যাপিড ইন্টারভেনশন ফোর্সের (আরআইএফ) সাত সদস্য ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, সৌদি রয়্যাল গার্ডের অংশ আরআইএফের কাজ যুবরাজের সুরক্ষা দেয়া। বাহিনীটি শুধু তার কাছেই জবাবদিহি করে। ইতিপূর্বে যুবরাজের নির্দেশে সৌদি ও বিদেশে ভিন্ন মতাবলম্বীদের দমন অভিযানগুলোতে সরাসরি অংশ নেয় আরআইএফ। এ কারণে গোয়েন্দাদের উপসংহার হলো, এমবিএসের অনুমোদন না থাকলে খাশোগজি হত্যা অভিযানে অংশ নিত না বাহিনীটি।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘যুবরাজ খাশোগজিকে হুমকি মনে করতেন এবং দরকার হলে সহিংস কায়দায় তাকে দমিয়ে রাখার পদক্ষেপে তার (এমবিএস) জোর সমর্থন ছিল। যদিও পরিকল্পনা করে খাশোগজির বিরুদ্ধে অনির্দিষ্ট একটি অভিযান চালিয়েছিলেন সৌদি কর্মকর্তারা, আমরা এখন পর্যন্ত জানি না, কত আগে তারা তাকে (খাশোগজি) ক্ষতি করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

গোয়েন্দাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, মোহাম্মদ বিন সালমানের হয়ে খাশোগজি হত্যার নির্দেশ, এতে অংশগ্রহণ কিংবা জড়িত রয়েছেন কয়েকজন ব্যক্তি। অভিযান শেষ পর্যন্ত খাশোগজি হত্যায় রূপ নেবে, এমনটি অংশগ্রহণকারীরা আগে থেকেই জানত কি না, সে বিষয়ে গোয়েন্দারা জানেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন সৌদ আল-কাহতানি, মাহের মুতরেব, নয়ফল-আরিফি, মোহাম্মদ আল-জাহরানি, মানসুর আবাহুসাইন, বদর আল-উতাইবাহ, আবদুল আজিজ আল হাউসাওয়ি, ওয়ালিদ আবদুল্লাহ আল শিহরি, খালিদ আল উতায়বাহ, তা’আর আল হার্বি, ফাহদ শিয়াব আল বালাওয়ি, মেশাল আল-বুস্তানি, তুর্কি আল শিহরি, মুস্তফা আল মাদানি, সাইফ সাদ আল, আহমেদ জায়েদ আসিরি, আবদুল্লা মোহাম্মদ আলহোরিনি, ইয়াসির খালিদ আলসালেম, ইব্রাহিম আল-সালিম, সালাহ আল তুবাইগি ও মোহাম্মদ আল উতায়বাহ।

প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান সৌদির

সাংবাদিক জামাল খাশোগজি হত্যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে সৌদি। প্রকাশের পরপরই প্রতিবেদনটি নিয়ে বিবৃতি দেয় সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রতিবেদনে সৌদি আরবের নেতৃত্বকে নিয়ে নেতিবাচক, মিথ্যা ও অগ্রহণযোগ্য মূল্যায়ন সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে সৌদি। প্রতিবেদনটিতে ভুল তথ্য ও সিদ্ধান্ত রয়েছে বলেও মনে করে সৌদি আরব।

‘খাশোগজি হত্যা ঘৃণ্য অপরাধ এবং তা সৌদি রাষ্ট্রের আইন ও মূল্যবোধের ঘোর লঙ্ঘন। একদল ব্যক্তি যেসব সংস্থায় কাজ করতেন সেসব সংস্থার সংশ্লিষ্ট সব নিয়মকানুন ও কর্তৃপক্ষকে ডিঙিয়ে ওই হত্যা সংঘটন করে।’

আরও পড়ুন:
বাইডেনের শপথের দিন অভ্যন্তরীণ হামলার শঙ্কা
বাইডেনের অভিষেকের আগে যুক্তরাষ্ট্রে সশস্ত্র বিক্ষোভ
ক্যাপিটল ভবনে হামলা: সমর্থন কমল ট্রাম্পের

শেয়ার করুন

বিলুপ্ত পাখি ফিরে এলো ১৭২ বছর পর

বিলুপ্ত পাখি ফিরে এলো ১৭২ বছর পর

‘ব্ল্যাক ব্রাউড বাবলার’ পাখি। ছবি: সংগৃহীত

‘ব্ল্যাক ব্রাউড বাবলার’ নামের পাখিটির বৈজ্ঞানিক নাম মালাকোচিনকলা পার্সপিসিলাতা; এটিকে বিশেষজ্ঞরা ইন্দোনেশিয়ান পাখি বিজ্ঞানের সবচেয়ে রহস্যময় পাখি হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন।

১৭২ বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলে ধারণা করা একটি প্রজাতির পাখির দেখা মিলেছে ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও রেনফরেস্টে। এমনই এক ঘোষণা দিয়েছে পাখি সংরক্ষণে একটি সংগঠন।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক পাখি সংরক্ষণে চ্যারিটি সংগঠন ‘ওরিয়েন্টাল বার্ড ক্লাব’ গত বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

‘ব্ল্যাক ব্রাউড বাবলার’ নামের পাখিটির বৈজ্ঞানিক নাম মালাকোচিনকলা পার্সপিসিলাতা; এটিকে বিশেষজ্ঞরা ইন্দোনেশিয়ান পাখি বিজ্ঞানের সবচেয়ে রহস্যময় পাখি হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন।

ওয়েন্টাল বার্ড ক্লাবের দাবি, সম্প্রতি এই প্রজাতির পাখি দেখতে পেয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ কালিমান্তান রাজ্যের স্থানীয় দুই বাসিন্দা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মুহাম্মাদ সুরান্তো ও মুহাম্মাদ রিজকি ফাউজান নামে দুই স্থানীয় বাসিন্দা তাদের আবাসস্থলের অদূরে বন্য সামগ্রী জড়ো করছিলেন। হঠাৎ একটি অপরিচিত পাখির প্রজাতি দেখে থমকে যান তারা। পাখিটি ধরার পর কয়েকটি ছবি তোলেন, এরপর ছেড়ে দেন।

ছবিগুলো নিয়ে দুইজন পাখি গবেষণায় জড়িত স্থানীয় দুটি সংগঠন ‘বিডব্লিউ গ্যালিটাস’ ও ‘বার্ডপ্যাকার’ এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

পাখিটি প্রায় পৌনে দুইশ বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ‘ব্ল্যাক ব্রাউড বাবলার’ হতে পারে বলে ধারণা করে সংগঠন দুটি। এরপর ইন্দোনেশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলের পাখিবিদদের সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, পাখিটি বিলুপ্ত সেই ‘ব্ল্যাক ব্রাউড বাবলার’।

পাখিটি ধরে ছবি তোলা রিজকি ফাউজান বলেন, ‘এটা জেনে স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছিল, আমরা এমন একটি পাখির প্রজাতি পেয়েছিলাম, যেটি বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

‘আমরা যখন পেয়েছিলাম তখন ভাবিনি যে, এটা আদৌ বিশেষ কিছু হতে পারে। আমরা ভেবেছিলাম, এটা কেবল আগে কখনও দেখিনি এমন একটি পাখির প্রজাতি হতে পারে।’

সুরেলা ‘ব্ল্যাক ব্রাউড বাবলার’ পাখিটি বর্ণনা পাওয়া যায় ১৮৫০ সালে রচিত বিখ্যাত ফরাসি প্রাণিবিদ ও পাখিবিদ চার্লস লুসিয়ান বোনাপার্ট রচিত প্রাণীর নমুনা নথিতে। এটি তিনি লিখেছিলেন ১৮৪০ এর দশকে ইস্ট ইন্ডিজ অঞ্চলে জার্মান ভূতাত্ত্বিক ও প্রকৃতিবিদ কার্ল এ.এল.এম শোয়ানারের সফরের ওপর ভিত্তি করে।

এরপর পাখিটি নিয়ে কোনো নমুনা বা সন্ধানের খবর পাওয়া যায়নি। পাখিটির উৎসস্থলের বিষয়টি এখন পর্যন্ত রহস্যঘেরা। এমনকি যে দ্বীপে এই পাখিটির সন্ধানের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল নমুনা পুস্তকে, সেই দ্বীপটির অবস্থান নিয়েও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়নি।

তবে দ্বীপটি ইন্দোনেশিয়ার জাভা অঞ্চলেই হতে পারে জোর ধারণা পাখিবিজ্ঞানীদের। ১৮৯৫ সালে সুইস পাখিবিদ জোহান বাটিকোফার জানিয়েছিলেন, অন্বেষণ অভিযানের সময় জার্মান প্রকৃতিবিদ শোয়ানার বোর্নিওতেই ছিলেন।

পাখিটির পুনরায় দেখা পাওয়া নিয়ে লেখা প্রতিবেদনটির মূল লেখক ইন্দোনেশিয়ান পাখি সংরক্ষণ সংগঠন বার্ডপেকারের পানজি গুস্তি আকবর। তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘রোমাঞ্চকর এই আবিষ্কারে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ব্ল্যাক ব্রাউড বাবলার এসেছে দক্ষিণ-পূর্ব বোর্নিও থেকে। এর ফলে এই পাখিটির উৎপত্তি নিয়ে শতাব্দী দীর্ঘ বিভ্রান্তির অবসান হলো।’

আরও পড়ুন:
বাইডেনের শপথের দিন অভ্যন্তরীণ হামলার শঙ্কা
বাইডেনের অভিষেকের আগে যুক্তরাষ্ট্রে সশস্ত্র বিক্ষোভ
ক্যাপিটল ভবনে হামলা: সমর্থন কমল ট্রাম্পের

শেয়ার করুন

সামরিক অভ্যুত্থান বন্ধে জাতিসংঘের ব্যবস্থা চান সু চির দূত

সামরিক অভ্যুত্থান বন্ধে জাতিসংঘের ব্যবস্থা চান সু চির দূত

নির্বাচিত নেতা অং সান সু চিসহ আটক নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বিক্ষোভ করছে মিয়ানমারের জনগণ। ছবি: এএফপি

কিয়াও মো তুন বলেন, ‘সামরিক অভ্যুত্থানের দ্রুত অবসান, নির্দোষ মানুষদের ওপর অত্যাচার বন্ধ, জনগণের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়া এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ আমাদের দরকার।’

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটির ক্ষমতাচ্যুত সরকারের দূত কিয়াও মো তুন।

অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন মিয়ানমার সরকারের পক্ষে শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তিনি এ আহ্বান জানান।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাশাসনবিরোধী বিক্ষোভে শুক্রবার আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ও স্টান গ্রেনেড ছোড়ে পুলিশ। এর আগে তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলমান আন্দোলন থামাতে মারমুখী ছিল দেশটির পুলিশ ও সেনাবাহিনী। এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চাইলেন সংস্থাটিতে মিয়ানমারের দূত কিয়াও।

সাধারণ অধিবেশনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এবং জনগণের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় যেকোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান কিয়াও।

তিনি বলেন, ‘সামরিক অভ্যুত্থানের দ্রুত অবসান, নির্দোষ মানুষদের ওপর অত্যাচার বন্ধ, জনগণের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়া এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ আমাদের দরকার।’

মিয়ানমারকে নিয়ে বিশেষ এক বৈঠকে সামরিক অভ্যুত্থানের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিতে জাতিসংঘের সব সদস্য রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান কিয়াও।

মিয়ানমারের সামরিক সরকারকে স্বীকৃতি না দিতে বা সহযোগিতা না করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান কিয়াও। গত বছরের গণতান্ত্রিক নির্বাচনের ফলকে মেনে নিতে সেনাবাহিনীকে বাধ্য করার কথা আন্তর্জাতিক মহলকে বলেন তিনি।

এ ছাড়া শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংস আচরণ বন্ধে সম্ভাব্য সব ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নিতে বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান কিয়াও।

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আমরা লড়াই জারি রাখব।’

১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। ওই দিনই আটক করা হয় শান্তিতে নোবেলজয়ী নেতা সু চি, প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ কয়েক শ নেতা-কর্মীকে।

আটক হওয়া নেতাদের মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করছে মিয়ানমারের হাজারো মানুষ।

আরও পড়ুন:
বাইডেনের শপথের দিন অভ্যন্তরীণ হামলার শঙ্কা
বাইডেনের অভিষেকের আগে যুক্তরাষ্ট্রে সশস্ত্র বিক্ষোভ
ক্যাপিটল ভবনে হামলা: সমর্থন কমল ট্রাম্পের

শেয়ার করুন

জেন্ডার প্রকাশ পার্টিকে ‘ট্রান্সফোবিক’ বললেন গায়িকা লোভাটো

জেন্ডার প্রকাশ পার্টিকে ‘ট্রান্সফোবিক’ বললেন গায়িকা লোভাটো

ডেমি লোভাটো। ছবি: এএফপি

লোভাটো বলেন, ‘এটা শুধু রাজনৈতিক সঠিকতার বিষয় নয়। আমরা আমাদের পরিচয়ের কারণেই কেবল জেন্ডার প্রকাশ পার্টির নিন্দা করছি এমনটি নয়; বাস্তবতার কারণেও করছি।’

জেন্ডার প্রকাশ পার্টির কড়া সমালোচনা করে একে ‘ট্রান্সফোবিক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আলোচিত অভিনেত্রী ও গায়িকা ডেমি লোভাটো।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তিনি এ নিয়ে কথা বলেন বলে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইউনিল্যাডের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

অনাগত শিশুকে ঘিরে পরিবার ও স্বজনদের জেন্ডার প্রকাশ পার্টির চল হাল আমলে বেশ জনপ্রিয়। অনেকেই এই পার্টির আয়োজন করছে। গোলাপি বা নীল রঙের আলো ও বেলুনসজ্জিত এসব অনুষ্ঠানে অনাগত শিশুর জেন্ডার প্রকাশ করা হয়।

জেন্ডার প্রকাশ পার্টির তীব্র সমালোচনা করে লোভাটো বলেন, ট্রান্স মানুষদের কথা মাথায় না রেখেই এসব পার্টির আয়োজন করা হয়।

ইনস্টাগ্রামে ‘জেন্ডার প্রকাশ পার্টি কেন ট্রান্সফোবিক’ শিরোনামে ৯ পৃষ্ঠার নিবন্ধ পোস্ট করেন ২৮ বছর বয়সী লোভাটো। ওই শিরোনামে আগে একটি লেখা লিখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের লেখক অলোক ভেইড-মেনন।

নিবন্ধে বলা হয়, ‘জেন্ডার প্রকাশ পার্টি ট্রান্সফোবিক নয়, এমনটি জাহির করা আন্তরিকতাহীন ও ভুল। আপনারা বাইনারি গোলাপি ও নীল রঙের কেক এসব অনুষ্ঠানে রাখতে পারেন না।’

তিনি বলেন, ‘এটা শুধু রাজনৈতিক সঠিকতার বিষয় নয়। আমরা আমাদের পরিচয়ের কারণেই কেবল জেন্ডার প্রকাশ পার্টির নিন্দা করছি এমনটি নয়; বাস্তবতার কারণেও করছি।’

নিবন্ধে আরও বলা হয়, ‘ট্রান্সফোবিয়া শুধু ব্যক্তি ট্রান্স মানুষের বিরুদ্ধে সংস্কার নয়। যারা ট্রান্স জেন্ডার নন, তারাই কেবল স্বাভাবিক বা জৈব আর বাকিরা তা নয়, চিন্তার এমন ধারাকেও প্রভাবিত করে ট্রান্সফোবিয়া।

‘জেন্ডার বাইনারির মতো এসব চিন্তা সব মানুষের প্রতি অসদাচরণের ক্ষেত্র প্রস্তুতে সহায়তা করে। বিশেষ করে ট্রান্স ও জেন্ডার নন-কনফর্মিং মানুষজন এর শিকার বেশি হন।’

আরও পড়ুন:
বাইডেনের শপথের দিন অভ্যন্তরীণ হামলার শঙ্কা
বাইডেনের অভিষেকের আগে যুক্তরাষ্ট্রে সশস্ত্র বিক্ষোভ
ক্যাপিটল ভবনে হামলা: সমর্থন কমল ট্রাম্পের

শেয়ার করুন

খাশোগজি হত্যা: যুবরাজের সংশ্লিষ্টতা নাকচ সৌদির

খাশোগজি হত্যা: যুবরাজের সংশ্লিষ্টতা নাকচ সৌদির

সাংবাদিক জামাল খাশোগজি। এএফপির ফাইল ছবি

প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর সৌদির ৭৬ নাগরিকের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বাইডেন প্রশাসন। পাশাপাশি এমবিএসের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও উপদেষ্টা মেজর জেনারেল আহমেদ হাসান মোহাম্মদ আসিরির ওপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়।

সাংবাদিক জামাল খাশোগজি হত্যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে সৌদি আরব।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) অনুমোদনে খাশোগজিকে হত্যা করা হয় উল্লেখ করে স্থানীয় সময় শুক্রবার প্রতিবেদন প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ডিরেক্টর অফ ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স (ডিএনআই)।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকাশের পরপরই প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দেয় সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রতিবেদনে সৌদি আরবের নেতৃত্বকে নিয়ে নেতিবাচক, মিথ্যা ও অগ্রহণযোগ্য মূল্যায়ন সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে সৌদি। প্রতিবেদনটিতে ভুল তথ্য ও সিদ্ধান্ত রয়েছে বলেও মনে করে সৌদি আরব।

‘খাশোগজি হত্যা ঘৃণ্য অপরাধ এবং তা সৌদি রাষ্ট্রের আইন ও মূল্যবোধের ঘোর লঙ্ঘন। একদল ব্যক্তি যেসব সংস্থায় কাজ করতেন সেসব সংস্থার সংশ্লিষ্ট সব নিয়ম-কানুন ও কর্তৃপক্ষকে ডিঙিয়ে ওই হত্যা সংঘটন করে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের দোষী সাব্যস্ত করে দণ্ডিত করে সৌদি আরবের আদালত। জামাল খাশোগজির পরিবার ওইসব দণ্ডাদেশকে স্বাগতও জানায়।’

২০১৮ সালের অক্টোবরে তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের কনস্যুলেটে সৌদি এজেন্টদের হাতে নির্মমভাবে খুন হন দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট ও রাজতন্ত্রের নীতির কট্টর সমালোচক খাশোগজি। বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নথি নিতে সৌদি কনস্যুলেটে গিয়েছিলেন তিনি।

ডিএনআইয়ের প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়, ইস্তাম্বুলে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগজিকে হত্যা কর্মকাণ্ডে এমবিএসের অনুমোদন ছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) পাশাপাশি অন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তদন্তে উঠে আসে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চার পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করেননি। ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা নেয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তা প্রকাশ করলেন।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ৭৬ সৌদি নাগরিকের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বাইডেন প্রশাসন। পাশাপাশি এমবিএসের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও উপদেষ্টা মেজর জেনারেল আহমেদ হাসান মোহাম্মদ আসিরির ওপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়।

খাশোগজি হত্যার প্রতিবেদন সৌদি আরব প্রত্যাখ্যান করেছে, এমন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রতিবেদনেই সবকিছু উল্লেখ আছে। বাইডেন প্রশাসন খাশোগজি হত্যার বিষয়ে স্বচ্ছ থাকার চেষ্টা করছে এবং আমরা যা জানতে পেরেছি, তাই আমেরিকার জনগণের সামনে তুলে ধরেছি।’

আরও পড়ুন:
বাইডেনের শপথের দিন অভ্যন্তরীণ হামলার শঙ্কা
বাইডেনের অভিষেকের আগে যুক্তরাষ্ট্রে সশস্ত্র বিক্ষোভ
ক্যাপিটল ভবনে হামলা: সমর্থন কমল ট্রাম্পের

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg