আবার দল বদলের আভাস পশ্চিমবঙ্গে

শতাব্দী রায়

আবার দল বদলের আভাস পশ্চিমবঙ্গে

শতাব্দী রায়সহ কয়েকজন তৃণমূল সাংসদ দল বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছেন। 

টানটান উত্তেজনা এখন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজনীতিতে। দল বদলের ইঙ্গিত দিয়ে সেই উত্তেজনা আরও উসকে দিচ্ছেন নেতারাই। শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই দলবদলের ঘোষণা আসছে।

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের এক সময়ের দাপুটে নায়িকা এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ শতাব্দী রায় বৃহস্পতিবার জানান, শনিবার বেলা দুটোয় তিনি নিজেই তার ভবিষ্যত কর্মসূচি জানাবেন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে।

শুরু হয় জল্পনা। রটে যায়, শতাব্দী বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। শতাব্দী নিজে অবশ্য সেই জল্পনা উড়িয়ে দেননি। বীরভূম থেকে নির্বাচিত সাংসদ তিনি। সেই বীরভূম জেলার দাপুটে নেতা অনুব্রত মন্ডলের সঙ্গেই তার বিরোধ।

অনুব্রত অবশ্য জানিয়েছেন, তার সঙ্গে কারও বিরোধ নেই। শতাব্দীর অভিযোগ, তাকে মানুষের জন্য কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। সেই অভিযোগও উড়িয়ে দেন অনুব্রত। দাবি করেন, দলই শতাব্দীকে সংসদে পাঠিয়েছে।

শতাব্দীর মান ভাঙাতে শুরু হয় তৎপরতা। দলের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ তাকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ভাইপো, তৃণমূল সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জির দপ্তরে যান। সেখানেই কথা হয়।

প্রাথমিকভাবে ঠিক ছিল, দিল্লি গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করবেন শতাব্দী। এখন অবশ্য তা নিয়ে নিজেই আর কিছু বলছেন না। তবে বিজেপি নেতারা তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। নজর শনিবারের দিকে।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভবিষ্যত পরিকল্পনা জানাতে পারেন আরেক তৃণমূল নেতা রাজ্যের বনমন্ত্রী রাজীব ব্যানার্জি। তিনিও বিক্ষুব্ধ বহুদিন ধরে। তার দল বদল নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে। তাই শনিবার তাকে নিয়েও আগ্রহ রয়েছে অনেকের।

সাবেক সাংবাদিক প্রবীর ঘোষাল এখন তৃণমূলের বিধায়ক। ইদানিং তিনিও দলবিরোধী কথা বলতে শুরু করেছেন। তাকে নিয়েও নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা।

এদিকে, দিল্লিতে দলের রাজ্য নেতাদের উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছেন বিজেপির শীর্ষ নেতারা। আসন্ন ভোট নিয়ে সেখানে আলোচনা রয়েছে। দল ভাঙানোর বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।

দল বদলের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে ভোটের প্রস্তুতিও চলছে পুরোদমে। ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে ভোটার তালিকা।

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটে ভোটারের সংখ্যা ৭ কোটি ৩২ লাখ ৯৪ হাজার ৯৮০। গতবারের তুলনায় এবার ভোটারের সংখ্যা ২০ লাখ ৪৫ হাজার ৫৯৩টি বেশি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভারতে ব্যক্তি স্বাধীনতা কমছে: আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদন

ভারতে ব্যক্তি স্বাধীনতা কমছে: আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদন

ভারতের উত্তর প্রদেশে ২০১৯ সালে নাগরিকত্ব আইন বিরোধী মিছিলে পুলিশের লাঠিপেটা। ছবি: এএফপি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘নরেন্দ্র মোদির সরকার মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ওপর চাপ তৈরি করছে। শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিকদের ভয় দেখানো হচ্ছে। মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এই পতন জোরদার হয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে সরকারের প্রতিক্রিয়া বেশ কিছু মৌলিক অধিকার লঙ্ঘণ করেছে।’

ভারতের স্বাধীনতা ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। তবে এই সংকোচন দেশের সার্বভৌমত্বের উপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। যে স্বাধীনতা সংকোচনের কথা বলা হচ্ছে তা হলো ব্যক্তি স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্ন।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘ফ্রিডম হাউসের’ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

‘ফ্রিডম ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০২১ ডেমোক্রেসি আন্ডার সিজ’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে বুধবার।

সংস্থাটির বার্ষিক প্রতিবেদন ‘ফ্রিডম অফ দ্য ওয়ার্ল্ড-২০২১’ এ বলা হয়েছে, ‘২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে ক্ষয় হচ্ছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশের স্বাধীনতা’।

এই প্রতিবেদনে ভারতে মুসলিমদের উপর ‘ভিন্ন দৃষ্টি’, ‘হামলা’, ‘রাষ্ট্রদ্রোহ আইন’, লকডাউন ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আর্থিক সাহায্যে ১৯৪১ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যক্তি স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে গবেষণামূলক কাজ করছে বেসরকারি সংস্থা ‘ফ্রিডম হাউস’।

ফ্রিডম হাউসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে স্বাধীনতা ক্রমশ আংশিক স্বাধীনতায় পরিণত হচ্ছে। অর্থাৎ নাগরিক অধিকার একেবারে মুক্ত নয় বরং আংশিক মুক্ত।

ব্যক্তি স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে বিশ্বের উদারবাদী দেশের বিচারে ১০০ এর মধ্যে ভারত পেয়েছে ৬৭। আগে প্রাপ্ত নম্বর ছিল ৭১।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘নরেন্দ্র মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকার মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ওপর চাপ তৈরি করছে। শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিকদের ভয় দেখানো হচ্ছে। মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এই পতন জোরদার হয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে সরকারের প্রতিক্রিয়া বেশ কিছু মৌলিক অধিকার লঙ্ঘণ করেছে।’

প্রতিবেদনে ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকারের সময়ে মুসলিমদের ওপর সহিংসতা ও বৈষম্যমূলক নীতি, নাগরিক সমাজের মত প্রকাশের অধিকার খর্ব হওয়ার মতো বিষয় তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি ও তার মিত্ররা সমালোচকদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত আক্রমণ চালিয়ে গেছে। মহামারির সময় পরিকল্পনা ছাড়া লকডাউন ঘোষণায় বহু মানুষের জীবন বিপন্ন হয়েছে। ভারতকে স্বৈরাচারবাদের দিকে চালিত করছে মোদি সরকার।’

দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের কোনো উন্নতি হয়নি। ২০২০ সালে রাজনৈতিক ও নাগরিক স্বাধীনতা যেমন ছিল, এ বছরও সেই অবস্থার বদল ঘটেনি।

১৯৫ দেশ ও ১৫টি অঞ্চলের ওপর তৈরি প্রতিবেদনে মুক্ত, আংশিক মুক্ত, মুক্ত নয়- এই তিন ক্যাটাগরিতে স্কোর দেওয়া হয়েছে।

মুক্ত ক্যাটাগরিতে আছে ৮২টি দেশ, আংশিক মুক্ত ক্যাটাগরিতে ৫৯ এবং মুক্ত নয় ক্যাটাগরিতে ৫৪টি দেশ রয়েছে। বাংলাদেশকে রাখা হয়েছে ভারতের সঙ্গে একই ক্যাটাগরিতে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির প্রথম ১২টি দেশের তালিকায় রয়েছে সিরিয়া, ইরিত্রিয়া (পূর্ব আফ্রিকার একটি ছোট দেশ), দক্ষিণ সুদান, তুর্কমেনিস্তান, উত্তর কোরিয়া, গায়েনা, সৌদি আরব, সোমালিয়া, তাজিকিস্তান, মধ্য আফ্রিকা রিপাবলিক, চীন ও লিবিয়া।

সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতি ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেনের মত দেশগুলিতে, যারা পুরো একশো পয়েন্ট পেয়েছে।

নাগরিক অধিকার বা মানবাধিকারের প্রশ্নে আরও একটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে ভারতের করুণ চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। ‘এক্সেস নাউ’ একটি অলাভজনক আন্তর্জাতিক সংস্থা, যারা বিশ্বজুড়ে মানুষের ডিজিটাল অধিকারকে রক্ষা এবং প্রসারিত করার জন্য কাজ করে।

সম্প্রতি প্রকাশিত এই সংস্থার ‘কিপ ইট অন’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী গোটা দুনিয়ায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকার ১৫৫টি ঘটনার ১০৯টিই ঘটেছে ভারতে।

যা বিশ্বে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের প্রায় ৭০ শতাংশ। ফলে এ ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে ভারত। ২০২০ সালের তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

ভারতে ১৯৯৯-২০২০ সাল পর্যন্ত, বিশ বছরে জম্মু কাশ্মীরে ইন্টারনেট পরিষেবা বহুদিন বন্ধ থাকায় প্রভাব পড়েছে বেশী।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে বিশ্বে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের ঘটনা ছিল ১৯৬টি, ২০১৯ এ ২১৩ এবং ২০২০ সালে ১৫৫টি।

গত বছর ভারতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের ১০৯টি ঘটনার পরে দ্বিতীয় স্থানে ইয়েমেন ও তৃতীয় স্থানে ইথিওপিয়া।

‘এক্সেস নাউ’ পরিষেবা বন্ধের কারণ এবং নির্দেশ প্রয়োগের পদ্ধতি নিয়েও সমালোচনা করেছে।

শেয়ার করুন

মমতার পাশে কট্টরপন্থি শিবসেনা

মমতার পাশে কট্টরপন্থি শিবসেনা

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে শিবসেনার সভাপতি উদ্ধব ঠাকরে। ছবি: টুইটার

মমতাকে ‘বাংলার সত্যিকারের বাঘিনী’ অভিহিত করে মহারাষ্ট্রভিত্তিক রাজনৈতিক দল শিবসেনার জ্যেষ্ঠ নেতা ও রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় রাউত বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে দাঁড়াবে না শিবসেনা। এবারের নির্বাচন দিদি বনাম বাকি সবার লড়াই মনে হচ্ছে।’

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে মহারাষ্ট্রভিত্তিক কট্টর ডানপন্থি সংগঠন শিবসেনা।

বৃহস্পতিবার এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মমতাকে ‘বাংলার সত্যিকারের বাঘিনী’ অভিহিত করে শিবসেনার জ্যেষ্ঠ নেতা ও রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় রাউত বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে দাঁড়াবে না শিবসেনা। এবারের নির্বাচন দিদি বনাম বাকি সবার লড়াই মনে হচ্ছে।’

রাউত বৃহস্পতিবার এক টুইটবার্তায় বলেন, ‘আমরা মমতা দিদির বিপুল সাফল্য কামনা করি।’

পশ্চিমবঙ্গে ২৭ মার্চ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত আট ধাপে বিধানসভা নির্বাচন হবে। ২ মে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে।

ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির দীর্ঘদিনের মিত্র ছিল শিবসেনা। ২০১৯ সালে কংগ্রেস ও ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে মহারাষ্ট্রে বিকাশ আগড়ি সরকার গঠনের লক্ষ্যে বিজেপি থেকে আলাদা হয় শিবসেনা। এর পর থেকে সুযোগ পেলেই সাবেক মিত্রের প্রতি আক্রমণাত্মক মন্তব্য ছোড়ে শিবসেনা।

বিজেপির ধারণা, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন দল মমতার তৃণমূল কংগ্রেসকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সহজেই হারিয়ে রাজ্যটির ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছে তারা।

পশ্চিমবঙ্গে গত কয়েক মাসে নির্বাচন ঘিরে মুখোমুখি অবস্থানে বিজেপি ও তৃণমূল। উভয় শিবিরের বেশ কয়েকজন নেতা বিজেপি ও তৃণমূলে গেছেন। তবে তুলনামূলকভাবে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেয়ার ঘটনা বেশি।

শেয়ার করুন

বক্স জেলি ফিশের হুলে কিশোরের মৃত্যু

বক্স জেলি ফিশের হুলে কিশোরের মৃত্যু

বিষাক্ত বক্স জেলি ফিশ। ছবি:এএফপি

গত ২২ ফেব্রুয়ারি ক্যাপ ইয়র্কের বামাগা শহরে বিচে সাঁতার কাটতে গিয়ে বক্স জেলি ফিসের হামলার শিকার হন এক কিশোর। গুরুতর আহত অবস্থায় সে স্থানীয় একটি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ছিল।

অস্ট্রেলিয়ায় সাত দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর অবশেষে সোমবার মারা গেল ১৭ বছরের এক কিশোর।

কুইন্সল্যান্ডের বিচে সাঁতার কাটতে গিয়ে সে বক্স জেলি ফিশের হুলে গুরুতর আহত হয়। কুইন্সল্যান্ড পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি ক্যাপ ইয়র্কের বামাগা শহরে বিচে সাঁতার কাটতে গিয়ে বক্স জেলি ফিসের হামলার শিকার হয় ওই কিশোর। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় একটি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন তিনি।

আকৃতির জন্য জেলি ফিশের এই প্রজাতি বক্স জেলি ফিশ নামে পরিচিত। একে সামুদ্রিক ভীমরুল বা মৃত্যুর বক্সও বলা হয়। এর লম্বা কর্ষিকা নেমাটোসিস্ট নামের বিষ বহন করে।

উত্তর অস্ট্রেলিয়া এলাকায় বাস করা এই বক্স জেলি ফিসের হুলের আঘাতে পক্ষাঘাত, হার্ট অ্যাটাক এমনি মৃত্যুও হতে পারে। এগুলোর বিষরোধক এখনও আবিষ্কার হয়নি।

শেয়ার করুন

হামলার শঙ্কায় ক্যাপিটলে নিরাপত্তা জোরদার

হামলার শঙ্কায় ক্যাপিটলে নিরাপত্তা জোরদার

ক্যাপিটল ভবনের সামনে অবস্থান করছেন নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য। এএফপির ফাইল ছবি

ক্যাপিটল পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ক্যাপিটল ভবনে হামলা বন্ধে স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রীয় পুলিশের সঙ্গে আমরা একসঙ্গে কাজ করছি। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গেই নিয়েছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটলে বৃহস্পতিবার হামলা হওয়ার আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে দেশটির পুলিশ। ভবনের চারদিকে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

ক্যাপিটল পুলিশের বিবৃতির বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, সশস্ত্র একটি সংগঠন ক্যাপিটল ভবনে হামলার হুমকি দিয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, কংগ্রেস সদস্যদের ওপর যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যরা প্রস্তুত।

এদিকে হামলার হুমকি প্রকাশের পর কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস বৃহস্পতিবারের অধিবেশন মুলতবি করেছে।

অবশ্য ক্যাপিটল ভবনে অধিবেশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উচ্চকক্ষ সিনেট। অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ১.৯ ট্রিলিয়ন ডলারের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত ত্রাণ বিল নিয়ে আলোচনা হবে।

ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ক্যাপিটল পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ক্যাপিটল ভবনে হামলা বন্ধে স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল পুলিশের সঙ্গে আমরা একসঙ্গে কাজ করছি। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গেই নিয়েছি। তথ্যের প্রকৃতি সংবেদনশীল হওয়ায় এখন এর চেয়ে বেশি কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।’

৬ জানুয়ারি রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল ভবনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের জয়ের স্বীকৃতি দিতে যৌথ অধিবেশনে বসে কংগ্রেস। ওই সময় ট্রাম্পের হাজার হাজার সমর্থক সেখানে হামলা ও তাণ্ডব চালায়।

হামলার ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তাসহ পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় পরে ক্যাপিটল পুলিশের প্রধান পদত্যাগ করেন।

ক্যাপিটল ভবনে হামলার প্রায় দুই মাস পর একই জায়গায় ফের হামলার হুমকি এলো।

শেয়ার করুন

টোকিও অলিম্পিকের কার্যনির্বাহী বোর্ডে আরও ১২ নারী

টোকিও অলিম্পিকের কার্যনির্বাহী বোর্ডে আরও ১২ নারী

অলিম্পিক গেমসে স্পিড স্কেটিংয়ে ব্রোঞ্জ মেডেল জয়ী হাশিমোতো কার্যনির্বাহী বোর্ডে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছিলেন। হাশিমোতোর দায়িত্ব গ্রহণের আগে বোর্ডে প্রায় ২০ শতাংশ নারী ছিল। এখন তা বেড়ে ৪২ শতাংশ হয়েছে।

জেন্ডার সমতা উদ্যোগের অংশ হিসেবে টোকিও অলিম্পিকের কার্যনির্বাহী বোর্ডে আরও ১২ নারীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বোর্ডের ৪৫ সদস্যের মধ্যে নারীর সংখ্যা দাঁড়াল ১৯ জনে।

টোকিও অলিম্পিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তোশিরো মুতো কার্যনির্বাহী বোর্ডের বৈঠক শেষে নারী নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

দ্য গার্ডিয়ানের বুধবারের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মুতো বলেন, বোর্ডের সাত ভাইস প্রেসিডেন্টের মধ্যে একজন নারী থাকবেন।

সদ্য নিয়োগ দেয়া নারীদের জায়গা দিতে সম্প্রতি বোর্ডের সদস্যসংখ্যা বাড়ানো হয়। আগে বোর্ডটি ৩৫ সদস্যের ছিল। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন সদস্য মঙ্গলবার পদত্যাগ করায় আরও কিছু পদ শূন্য হয়ে পড়ে।

টোকিও অলিম্পিকের আয়োজক কমিটির নতুন প্রেসিডেন্ট সিকো হাশিমোতো কার্যনির্বাহী বোর্ডের এ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। গত মাসে আয়োজক কমিটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

হাশিমোতোর আগের প্রেসিডেন্ট ৮৩ বছর বয়সী ইয়োশিরো মোরি নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পদত্যাগে বাধ্য হন।

বোর্ডের বৈঠকের শুরুতে হাশিমোতো বলেন, ‘জেন্ডার সমতার অগ্রগতির বিষয়ে আমরা মনে করি, আয়োজক কমিটির প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুততার সঙ্গে দৃশ্যমান পরিবর্তন হাজির করা জরুরি।’

অলিম্পিক গেমসে স্পিড স্কেটিংয়ে ব্রোঞ্জ মেডেল জয়ী হাশিমোতো কার্যনির্বাহী বোর্ডে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছিলেন। তার দায়িত্ব গ্রহণের আগে বোর্ডে প্রায় ২০ শতাংশ নারী ছিল। এখন তা বেড়ে ৪২ শতাংশ হয়েছে।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের জেন্ডার সমতা র‌্যাঙ্কিংয়ে ১৫৩টি দেশের মধ্যে জাপানের অবস্থান ১২১তম। দেশটির শীর্ষ পদগুলোতে বা কার্যনির্বাহী বোর্ডে নারীর অংশগ্রহণ তেমন একটা দেখা যায় না।

শেয়ার করুন

আস্থা ভোটের মুখে ইমরান

আস্থা ভোটের মুখে ইমরান

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এএফপির ফাইল ছবি

কুরেশি বলেন, ‘ইমরান খান ও তার পার্টি সর্বসম্মতভাবে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে। পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী ইমরান আস্থা ভোট চাইবেন। এর মাধ্যমে কারা কোন পক্ষে, তা পরিষ্কার হবে।’

পাকিস্তানের সিনেট নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ আসনে হেরে যাওয়ায় পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে পড়তে যাচ্ছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতাদের বরাত দিয়ে বুধবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পাকিস্তানের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটের ৯৬ আসনের মধ্যে ৪৮টিতে বুধবার নির্বাচন হয়। দেশটির প্রাদেশিক পরিষদ ও পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদে দিনভর আইনপ্রণেতারা ভোট দেন।

বৃহস্পতিবার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের কথা। তবে তার আগেই অনানুষ্ঠানিক ফলে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন ইঙ্গিত দেয়, জাতীয় পরিষদে ইমরানের দল পিটিআইয়ের পরাজয় হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি আসনে।

অনানুষ্ঠানিক ফল অনুযায়ী, বিরোধী দল পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি মাত্র পাঁচটি ভোটে এগিয়ে থেকে (১৬৯-১৬৪) পিটিআইয়ের নেতা ও পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী আব্দুল হাফিজ শেখকে পরাজিত করেন।

সিনেট নির্বাচনের ফল প্রধানমন্ত্রী ইমরান ও তার দল পিটিআইয়ের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে বেসরকারি ফল ঘোষণার পর রাজধানী ইসলামাবাদে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন পিটিআইয়ের জ্যেষ্ঠ নেতা ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি। এতে বিরোধী দলের নেতারা অসদুপায় অবলম্বন করে আইনপ্রণেতাদের অন্যত্র ভোট দিতে প্ররোচনা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কুরেশি বলেন, ‘ইমরান খান ও তার পার্টি সর্বসম্মতভাবে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে। পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী ইমরান আস্থা ভোট চাইবেন। এর মাধ্যমে কারা কোন পক্ষে, তা পরিষ্কার হবে।

‘কারা ইমরান খানের পক্ষে আছেন, আস্থা ভোটের মাধ্যমে তা জানা যাবে। পাশাপাশি যারা তার সঙ্গে নেই বা মনে করেন, বিরোধী দলের মতাদর্শই তাদের জন্য গ্রহণযোগ্য, বিরোধী প্ল্যাটফর্মে যোগ দেয়ার অধিকার তাদের প্রত্যেকের আছে।’

শেয়ার করুন

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধ তদন্ত শুরু

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধ তদন্ত শুরু

আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি ফাতু বেনসুদা এক বিবৃতিতে বলেন, ফিলিস্তিনের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সব ধরনের ভয়ভীতি উপেক্ষা করে, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে তদন্ত করা হবে।

ইসরায়েলের দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে যুদ্ধাপরাধ অভিযোগের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)।

বুধবার এ ঘোষণা দিয়েছেন আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি ফাতু বেনসুদা।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সব ধরনের ভয়ভীতি উপেক্ষা করে, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে তদন্ত করা হবে।

তিনি আরও জানান, ২০১৪ সালের ১৩ জুন থেকে অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে যেসব অপরাধের অভিযোগ আছে, আইসিসির বিচার নীতিমালার মধ্যে থেকে সেগুলোর তদন্ত করা হবে।

এর আগে ফেব্রুয়ারিতে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের অবরোধ আরোপ নিয়ে বিচারের নীতিমালা আইসিসির আছে বলে জানিয়েছিল আইসিসি। যদিও বরাবরই এ পদক্ষেপের তুমুল বিরোধিতা করে আসছে ইসরায়েল।

যুদ্ধাপরাধ তদন্তের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে দেশটির অক্লান্ত প্রচেষ্টার ফল বহুল প্রত্যাশিত এ পদক্ষেপ।

আইসিসির পদক্ষেপে সন্তোষ জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসও। বিবৃতিতে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় হামাসের এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমাদের জনগণের ওপর ইসরায়েলি দখলদাররা যে যুদ্ধাপরাধ সংঘটন করেছে, তার সুষ্ঠু তদন্তে আইসিসির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি। অসহায় ফিলিস্তিনিদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ খুলে গেল এ পদক্ষেপের মাধ্যমে।’

অবশ্য এ সময় গাজায় নিজেদের সশস্ত্র তৎপরতারও পক্ষেও কথা বলেন কাশেম। তিনি বলেন, ‘নিজ ভূখণ্ডে নিজেদের জনগণের প্রতিরক্ষায় প্রতিরোধ গড়ে তোলা অন্যায় নয়। যৌক্তিক কারণে প্রতিরোধ গড়ে তুললে তাতে কোনো আন্তর্জাতিক আইন বাধা দিতে পারে না।’

এর আগে ২০১৯ সালে ফাতু বেনসুদা বলেছিলেন, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি স্থাপনসহ দেশটির সেনাবাহিনীর অভিযান যুদ্ধাপরাধ কি না, সে প্রশ্নে তদন্তের যৌক্তিক জায়গা রয়েছে।

ওই বক্তব্যের পরই অস্থিতিশীল অঞ্চলটিতে আইসিসির বিধিমালা কতটা প্রয়োগযোগ্য, তা যাচাইয়ে বিচারকদের নির্দেশ দেন তিনি।

ফেব্রুয়ারিতে এ সংক্রান্ত রায়ে বিচারকরা জানান, হেগভিত্তিক আদালতটি প্রতিষ্ঠার সময় গৃহীত নীতিমালার আওতায় ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়ে কাজ করা সম্ভব। যদিও ইসরায়েল আইসিসির সদস্য নয় এবং ওই রায় প্রত্যাখ্যানও করে।

সে সময় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ‘ইহুদিবিরোধী মানসিকতা থেকে যুদ্ধাপরাধের ভুয়া অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান করেছে আইসিসি।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে আইসিসির যুদ্ধাপরাধ তদন্ত নিয়ে তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্তটি ইহুদি রাষ্ট্রের ওপর হামলার শামিল।

২০১৪ সালে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের দ্বারস্থ হয় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। সে সময় পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলের দখলদারিত্বের পাশাপাশি বসতি স্থাপনের বিষয়েও আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফিলিস্তিন।

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg