ট্রাম্পের টুইটার অ্যাকাউন্ট স্থায়ী বন্ধ

ট্রাম্পের টুইটার অ্যাকাউন্ট স্থায়ী বন্ধ

টুইটার বলছে, ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট থেকে আসা সাম্প্রতিক সময়ের টুইটগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

আরও সহিংসতার ঝুঁকি এড়াতে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের টুইটার অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মটি।

টুইটার বলছে, ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট থেকে আসা সাম্প্রতিক সময়ের টুইটগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এর আগে বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে সমর্থকদের নজিরবিহীন তাণ্ডবের পর ট্রাম্পের টুইট অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে ব্লক করে দিয়েছিল টুইটার। ব্লক করে দেয়া হয় ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টও।

আরও পড়ুন: শেষ ১৩ দিন কি টিকবেন ট্রাম্প

এসব সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের মধ্যে ট্রাম্প ও তার সমর্থকেরা বেশি ব্যবহার করে থাকে টুইটার।

নানা বিষয়ে বিতর্কিত টুইটের কারণে ট্রাম্পকে নিষিদ্ধ করার জন্য অনেক দিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের অনেক আইনপ্রণেতা ও সেলিব্রিটি টুইটারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছিল।

দেশটির সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা বৃহস্পতিবার টুইট করে সিলিকন ভ্যালিভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির প্রতি আহ্বান জানান, ট্রাম্পের ‘ভয়ঙ্কর আচরণ’ বন্ধে পদক্ষেপ নেয়া উচিত। তার অ্যাকাউন্টটি স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা উচিত।

টুইটারে কেন নিষিদ্ধ ট্রাম্প?

বাইডেনকে জয়ের স্বীকৃতি দিতে ক্যাপিটল ভবনে বুধবার কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনের সময় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল ঘুরিয়ে দেয়ার শেষ চেষ্টায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায় ট্রাম্প সমর্থকরা।

কংগ্রেস ভবন ও ওয়াশিংটন ডিসি জুড়ে এই তাণ্ডবে চার সাধারণ নাগরিক ও এক পুলিশ অফিসারের মৃত্যু হয়।

কংগ্রেস ভবনে তাণ্ডব চলাকালে ট্রাম্প তাদের ‘দেশপ্রেমী’ বলে উল্লেখ করে টুইট করেন। এর জেরে টুইটার তার অ্যাকাউন্টটি ১২ ঘণ্টার জন্য ব্লকড করে দেয়।

সেই সঙ্গে হুঁশিয়ার করে দেয়া হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটির বিধি লঙ্ঘন করলে তাকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হতে পারে।

১২ ঘণ্টা পর টুইটারের নিষেধাজ্ঞা ওঠানো হলে, শুক্রবার ট্রাম্প দুটি টুইট করেন। শেষ দিককার টুইট দুটি ক্ষুব্ধ করে তুলে টুইটার কর্তৃপক্ষকে।

একটি টুইটে ট্রাম্প বলেন- ‘সাড়ে সাত কোটি আমেরিকান দেশপ্রেমী যারা আমাকে, আমেরিকা ফার্স্ট ও মেইক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ভবিষ্যতে তাদের কণ্ঠ আরও উচ্চকিত হবে। কোনোভাবেই তাদের প্রতি অসম্মান বা অন্যায় আচরণ করা হবে না।’

টুইটার বলছে, এই টুইট পর্যালোচনা করে নিয়মমাফিক উপায়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ক্ষমতা হস্তান্তরের কোনো পরিকল্পনা নেই এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

এরপর আরেকটি টুইট করেন ট্রাম্প। এতে ট্রাম্প জানান, ২০ জানুয়ারি নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানে যাবেন না তিনি।

টুইটার জানিয়েছে, ট্রাম্পের দুটি টুইটই সহিংসতা ছড়িয়ে দেয়া সম্পর্কীত নীতি বিরুদ্ধ ছিল।

বন্ধ করে দেয়া হয় ট্রাম্পের টুইটার অ্যাকাউন্ট। এরপর ট্রাম্প ইউএস প্রেসিডেন্টের অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টের পেজ থেকে একটি টুইট করেন।

এতে ট্রাম্প জানান, ভবিষ্যতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম খোলার চিন্তা আছে তার, যা টুইটারর প্রতিদ্বন্দ্বী হবে।

আরও পড়ুন:
শেষ ১৩ দিন কি টিকবেন ট্রাম্প
হারলে সহিংসতায় জড়ায় ডেমোক্র্যাটরাও
নিজেকে ক্ষমা করার পথ খুঁজছেন ট্রাম্প
ট্রাম্প সার্কাসের শেষ পর্ব
হার মানলেন ট্রাম্প

শেয়ার করুন

মন্তব্য