× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
ধ্বংস মন্দির নির্মাণে অনুদান দিচ্ছে পাকিস্তান সরকার
google_news print-icon

গুঁড়িয়ে দেয়া মন্দির নির্মাণে অনুদান দিচ্ছে পাকিস্তান সরকার

গুঁড়িয়ে-দেয়া-মন্দির-নির্মাণে-অনুদান-দিচ্ছে-পাকিস্তান-সরকার
বুধবার খাইবার পাখতুনখোওয়া প্রদেশের একটি মন্দিরে হামলা চালায় মুসলমানদের একটি দল। ছবি: এএফপি
প্রাদেশিক তথ্যমন্ত্রী কামরান বানগাস জানান, মন্দিরটি পুনর্নির্মাণে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। অতিসত্বর মন্দিরের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাও দেবে সরকার।

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোওয়া প্রদেশে ধর্মীয় উন্মাদনায় ধ্বংস হওয়া মন্দির আবার নির্মাণে অনুদান দিচ্ছে সরকার। শনিবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।

বুধবার খাইবার পাখতুনখোওয়া প্রদেশের কারাক জেলার একটি মন্দিরে হামলা চালায় স্থানীয় মুসলমানদের একটি দল। শ্রী পরমহংস জি মহারাজ সমাধি নামের ওই মন্দিরটিতে আগুনও দেয় তারা। এ ঘটনায় উসকানি দেয়ার অভিযোগে স্থানীয় এক ধর্মীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও ৪৫ জনকে।

শুক্রবার খাইবারের প্রাদেশিক তথ্যমন্ত্রী কামরান বানগাস বলেন, ‘হামলায় যে ক্ষতি হয়েছে তাতে আমরা ব্যথিত।’

তিনি জানান, মন্দিরটি পুনর্নির্মাণে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

তথ্যমন্ত্রী কামরান বানগাস বলেন, ‘অতিসত্বর মন্দিরের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাও দেবে সরকার।’

১৯৯৭ সালে মন্দিরটিকে আরও একবার গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। সম্প্রতি উচ্চ আদালতের নির্দেশে এর সংস্কার কাজ চলছিল।

পাকিস্তানে প্রায় ৮০ লাখ হিন্দু রয়েছেন। এদের বেশিরভাগই বাস করেন সিন্ধু প্রদেশে।

পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা প্রায়ই নিপীড়নের শিকার হন। দেশটির মোট জনসংখ্যার মাত্র ২ শতাংশ হিন্দু ধর্মাবলম্বী।

আরও পড়ুন:
পারমাণবিক স্থাপনার তালিকা বিনিময় ভারত-পাকিস্তানের
পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে চায় চীন-পাকিস্তান
পাকিস্তানে মন্দিরে হামলা, আগুন
চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান বানাল পাকিস্তান
নতুন ধরনের করোনায় পাকিস্তানে শনাক্ত ৩

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Norway Ireland and Spain will recognize the state of Palestine

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে নরওয়ে, আয়ারল্যান্ড ও স্পেন

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে নরওয়ে, আয়ারল্যান্ড ও স্পেন প্যালেস্টাইন কমিটির উদ্যোগে ২০২৩ সালের ৪ নভেম্বর গাজা ও ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে নরওয়ের অসলোতে বিক্ষোভ হয়। ছবি: রয়টার্স
নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ও আহত হওয়ার মধ্যে আমাদের একটি বিষয়কে অবশ্যই বাঁচিয়ে রাখতে হবে, যা ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের নিরাপদ ঘর দিতে পারে: দুটি রাষ্ট্র, পারস্পরিক শান্তিপূর্ণভাবে থাকতে পারে।’

শান্তি প্রতিষ্ঠার আশায় স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে নরওয়ে স্বীকৃতি দেবে বলে বুধবার জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার।

নরওয়ের মতো ইউরোপের অপর দুই দেশ আয়ারল্যান্ড ও স্পেন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেবে বলে সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স।

বার্তা সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যভুক্ত অপর দুই রাষ্ট্র স্লোভেনিয়া, মাল্টাও সম্প্রতি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশগুলোর মতে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যাবশ্যক দুই রাষ্ট্র সমাধান।

নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ও আহত হওয়ার মধ্যে আমাদের একটি বিষয়কে অবশ্যই বাঁচিয়ে রাখতে হবে, যা ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের নিরাপদ ঘর দিতে পারে: দুটি রাষ্ট্র, যেগুলো একে অপরের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করতে পারে।’

নরওয়ের ঘোষণার আগে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৪৩টি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

ইউরোপের দেশগুলো এ ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। সুইডেন এক দশক আগে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। অন্যদিকে ফ্রান্স এ ধরনের পরিকল্পনা করছে না। দেশটির ভাষ্য, স্বীকৃতি শান্তির পথে কার্যকর হাতিয়ার হওয়ার আগে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেবে না তারা।

আরও পড়ুন:
গাজায় হামাসপ্রধান সিনওয়ারের খোঁজে যুক্তরাষ্ট্র
ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধে প্রস্তুত হামাস: মুখপাত্র
হামাসের সুড়ঙ্গ থেকে ৩ জিম্মির মরদেহ উদ্ধারের দাবি ইসরায়েলের
গাজা নিয়ে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার বিরোধ প্রকাশ্যে
‘যুক্তরাষ্ট্র নির্মিত ঘাট দিয়ে গাজায় ত্রাণ ঢুকছে’

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Netanyahu gets invitation to US despite arrest warrant application

গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে আমন্ত্রণ পাচ্ছেন নেতানিয়াহু

গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে আমন্ত্রণ পাচ্ছেন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ২০১৫ সালের মার্চে সর্বশেষ ভাষণ দেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: নিউ ইয়র্ক টাইমস
কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণের জন্য বিদেশি নেতাদের আমন্ত্রণকে বিরল সম্মান হিসেবে দেখা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠতম মিত্র বা বিশ্বজুড়ে পরিচিত কোনো ব্যক্তিকে এ ধরনের সুযোগ দেয়া হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন সত্ত্বেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আমন্ত্রণের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকার মাইক জনসন।

নেদারল্যান্ডসের হেগভিত্তিক আইসিসির প্রসিকিউটর করিম খান সোমবার জানান, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ঢুকে হামাসের হামলা এবং পরবর্তী সময়ে গাজায় ইসরায়েলের হামলার ঘটনায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন গাজায় হামাসের প্রধান ইয়াহইয়া সিনওয়ার, দলটির সামরিক শাখা আল কাসাম ব্রিগেডসের প্রধান মোহাম্মদ দেইফ ও রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান ইসমাইল হানিয়া এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইউআভ গালান্ট।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, আইসিসির এ ঘোষণার এক দিন পর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের স্পিকার মাইক জনসন জানান, তিনি এখনও নেতানিয়াহুকে আমন্ত্রণপত্র পাঠাননি। কারণ তিনি কংগ্রেসে যৌথ অধিবেশনে নেতানিয়াহু আমন্ত্রণের চিঠিতে উচ্চকক্ষ সিনেটের ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা চাক শুমারের সাড়ার অপেক্ষায় আছেন।

জনসন আরও জানান, শুমার চিঠিতে সই করতে রাজি না হলে নেতানিয়াহুকে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে আমন্ত্রণ জানানো হবে।

কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণের জন্য বিদেশি নেতাদের আমন্ত্রণকে বিরল সম্মান হিসেবে দেখা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠতম মিত্র বা বিশ্বজুড়ে পরিচিত কোনো ব্যক্তিকে এ ধরনের সুযোগ দেয়া হয়।

নেতানিয়াহু এরই মধ্যে তিনবার সেই সুযোগ পেয়েছেন, যার সর্বশেষটি ছিল ২০১৫ সালে।

আরও পড়ুন:
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির তারিখ ঘোষণা করবে স্পেন
যুদ্ধাপরাধে নেতানিয়াহু-হানিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন
ইরানের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুর সঙ্গে ইসরায়েল জড়িত নয়: কর্মকর্তা
নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভা ছাড়ার হুমকি সাবেক জেনারেল গানৎজের
গাজায় হামাসপ্রধান সিনওয়ারের খোঁজে যুক্তরাষ্ট্র

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Spain will announce the date of recognition of Palestine

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির তারিখ ঘোষণা করবে স্পেন

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির তারিখ ঘোষণা করবে স্পেন ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের রামাল্লায় ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এক বিক্ষোভে পতাকা হাতে ফিলিস্তিনিরা। ছবি: মাজদি মোহাম্মেদ/এপি
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়ার পরিকল্পনা আজ পেশ করার কথা রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যভুক্ত আরেক দেশ আয়ারল্যান্ডের। এর বাইরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছে মাল্টা ও স্লোভেনিয়া।

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতির তারিখ ঘোষণা করবে স্পেন।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বুধবার এ তারিখ ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়ার পরিকল্পনা আজ পেশ করার কথা রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যভুক্ত আরেক দেশ আয়ারল্যান্ডের। এর বাইরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছে মাল্টা ও স্লোভেনিয়া।

এদিকে ইসরায়েল বলেছে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে ইউরোপীয় দেশগুলোর স্বীকৃতি চরমপন্থা ও অস্থিতিশীলতায় রসদ জোগাবে। একই সঙ্গে গাজার শাসক দল হামাস একে গুটি হিসেবে ব্যবহার করবে।

চলতি বছরের মে পর্যন্ত ফিলিস্তিনকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের ১৪৩টি।

আরও পড়ুন:
হামাসের সুড়ঙ্গ থেকে ৩ জিম্মির মরদেহ উদ্ধারের দাবি ইসরায়েলের
গাজা নিয়ে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার বিরোধ প্রকাশ্যে
‘যুক্তরাষ্ট্র নির্মিত ঘাট দিয়ে গাজায় ত্রাণ ঢুকছে’
নিজেদের হামলায় ৫ ইসরায়েলি সেনা নিহত
অবস্থান পাল্টাল বাইডেন প্রশাসন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রেই গাজায় হামলা চালাবে ইসরায়েল

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Funeral arrangements for Raisis body have begun in Tehran

রাইসির মরদেহ তেহরানে, শেষকৃত্যের আয়োজন শুরু

রাইসির মরদেহ তেহরানে, শেষকৃত্যের আয়োজন শুরু ইব্রাহিম রাইসিসহ নিহত অন্যদের মরদেহ ছুঁয়ে দেখছেন ভক্ত-সমর্থকরা। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, রাইসির মরদেহ বহনকারী প্রেসিডেন্সিয়াল বিমান তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে অবতরণ করছে। মরদেহ বিমান থেকে নামানোর সময় সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তারা লালগালিচার পাশে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের অনেকে কাঁদছেন।

হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির কয়েক দিনব্যাপী শেষকৃত্য আয়োজনের অংশ হিসেবে মরদেহ তেহরানে নেয়া হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে।

বার্তা সংস্থাটির প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, রাইসির মরদেহ বহনকারী প্রেসিডেন্সিয়াল বিমান তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে অবতরণ করছে। তার মরদেহ বিমান থেকে নামানোর সময় সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তারা একটি লালগালিচার পাশে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। ওই সময় তাদের অনেককেই কাঁদতে দেখা যায়।

ইরনা প্রকাশিত কয়েকটি ছবিতে দেখা যায়, প্রেসিডেন্সিয়াল বিমানের একটি আসন খালি রাখা হয়েছে। আর আসনটিকে কালো কাপড়ে জড়িয়ে সেখানে রাইসির একটি ছবি রাখা আছে।

রাইসির মৃত্যু ইসলামি প্রজাতন্ত্র রাষ্ট্রটির কট্টরপন্থি এজেন্ডা বাস্তবায়নকে একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

রাইসির মরদেহ তেহরানে, শেষকৃত্যের আয়োজন শুরু
মঙ্গলবার ইরানের তাবরিজ শহরের রাস্তায় শোকার্ত মানুষে ঢল নামে। ছবি: সংগৃহীত

মঙ্গলবার ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাবরিজে রাইসির জানাজা হয়। তার সঙ্গে থাকা বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারের আরোহী পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অন্যদের জানাজাও একইসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। এদিন রাইসি ও অন্যদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তাবরিজ শহরে শোক মিছিল বের হয়।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট রাইসি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আবদোল্লাহিয়ান ও রোববারের দুর্ঘটনায় নিহত অন্যদের মরদেহ বহনকারী ফুল দিয়ে সাজানো ও ইরানের পতাকা দিয়ে আচ্ছাদিত ট্রাকটি যাওয়ার সময় মারটায়ার্স স্কয়ারে কালো পোশাক পরিহিত অসংখ্য মানুষ বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন।

তাবরিজে মঙ্গলবার দেয়া এক ভাষণে ইরানের ইন্টেরিয়র মিনিস্টার আহমাদ ভাহিদি বলেন, ‘রাইসি ও আমির-আবদোল্লাহিয়ান সাহসের সঙ্গে সেবা ও কূটনীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। গাজা রক্ষায় রাইসির মর্মস্পর্শী বক্তব্যের কথা কে ভুলতে পারে?’

তাদের মরদেহগুলো এর পরে শিয়াদের পবিত্র শহর কোম-এ নেয়া হবে। সেখানে ইরানের প্রশিক্ষিত ও অভিজাত ধর্মগুরুরা ফাতিমা মাসুমাহ মাজারে মৃতদের জানাজা নামাজ পরিচালনা করবেন।

রাইসিসহ অন্যদের শেষকৃত্য আয়োজন উপলক্ষে বুধবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লাহ মসজিদে বড় আকারের আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শেষকৃত্যের আয়োজন নির্বিঘ্নে পরিচালনা করার জন্য ইরানিয়ান ভাইস প্রেসিডেন্ট মানসুরি ওইদিনকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেছেন। দেশজুড়ে সব কার্যালয়ের কর্মকাণ্ড বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ জানায়, রাইসির মরদেহ এরপর ঐতিহাসিক ইমাম রেজা মাজারে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি জানাজা নামাজ পরিচালনা করবেন।

এদিকে সোমবার ইরানিয়ান সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সামরিক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিশনকে নিয়োগ দিয়েছেন ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রধান।

ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, আজারবাইজানের পূর্বাঞ্চলের ওই ঘটনাস্থলে যাবে উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল।

আরও পড়ুন:
রাইসির মৃত্যুতে যেভাবে অস্থির হয়ে উঠতে পারে ইরান
হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ইরানকে সহায়তা ‘দিতে পারেনি’ যুক্তরাষ্ট্র
রাইসি’র মৃত্যুতে বাংলাদেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক
রাইসির শোকে সমাবেশ করছেন ইরানিরা
রাইসির দাফন হবে জন্ম-শহর মাশহাদে

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Raisis death could destabilize Iran

রাইসির মৃত্যুতে যেভাবে অস্থির হয়ে উঠতে পারে ইরান

রাইসির মৃত্যুতে যেভাবে অস্থির হয়ে উঠতে পারে ইরান বাঁ থেকে- মোজতবা খামেনি, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও ইব্রাহিম রাইসি। ছবি: সংগৃহীত
৮৫ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে রাইসিকেই দেখা হচ্ছিল। তার মৃত্যুতে এখন খামেনির ছেলেই পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ক্ষমতার বংশগত উত্তরাধিকার ইসলামি প্রজাতন্ত্রের দেশটির সংকট আরও বাড়াবে।

হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমিরাবদুল্লাহিয়ান নিহত হওয়ার পর দেশটির শাসন ব্যবস্থায় অভ্যন্তরীণ রদবদলের আভাস পাওয়া গেছে সোমবারই। তবে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হয় বলে সরকারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখতে হবে না ইরানের নাগরিকদের।

আলোচনাটা সর্বোচ্চ নেতার পদটি নিয়েই। ৮৫ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে রাইসিকেই দেখা হচ্ছিল। তবে তার মৃত্যুতে দেশ পরিচালনার গুরুভার কার ওপর বর্তাবে, তা নিয়ে এখন থেকেই শুরু হয়েছে মাথাব্যথা। সঙ্গে জল্পনা-কল্পনাও ডানা মেলছে।

রাইসির মৃত্যুর পরবর্তী পরিস্থিতিতে এখন খামেনির ছেলেই পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে ক্ষমতার বংশগত উত্তরাধিকার ইসলামি প্রজাতন্ত্রের দেশটির সংকট আরও বাড়াবে। কারণ রাজতন্ত্রের বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও দেশটির নাগরিকদের অনেকে এই শাসন ব্যবস্থাকে দুর্নীতিগ্রস্ত ও স্বৈরাচারী শাসন হিসেবে দেখেন।

ইরানের শাসন ব্যবস্থা যেভাবে কাজ করে

প্রেসিডেন্ট ও সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য ইরানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে দেশের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন সর্বোচ্চ নেতা। তিনিই সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে কাজ করেন। শক্তিশালী বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) নিয়ন্ত্রণও তার হাতে।

১২ সদস্যবিশিষ্ট গার্ডিয়ান কাউন্সিলের অর্ধেক সদস্যও তার মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। দেশটির প্রেসিডেন্ট, সংসদ সদস্য, এমনকি সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা বিশেষজ্ঞ পরিষদের প্রার্থীদেরও যাচাই করে এই গার্ডিয়ান কাউন্সিল।

কাগজ-কলমে দেশে ইসলামি আইন বজায় রাখতে সার্বিক তত্ত্বাবধান করে থাকেন গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্যরা (ধর্মগুরু)। তবে বাস্তবতা হলো, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নিজ স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রাখা ও তার নিজস্ব অগ্রাধিকারগুলোকে এগিয়ে নিতে কেউ যাতে চ্যালেঞ্জ না করতে পারে, তা নিশ্চিত করে সতর্কতার সঙ্গে শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করেন।

কট্টরপন্থী রাইসি ছিলেন খামেনির সমর্থক এবং তার ঘনিষ্ঠদেরও অন্যতম একজন। ২০২১ সালের নির্বাচনে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাইসিকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করে বিশেষজ্ঞ পরিষদ। নির্বাচনে রুহানিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেও বাধা দেয়া হয়। এর মাধ্যমে আট বছর ধরে প্রেসিডেন্টের পদ সামলানো হাসান রুহানির স্থলাভিষিক্ত হন রাইসি। ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে কম ভোট পড়ে সেবারের নির্বাচনে।

রাইসির মৃত্যুর পর দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোখবার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। ইরানের সংবিধান অনুসারে ৫০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে। এক্ষেত্রে কাকে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে আনা হবে, সে কাজটি সাবধানতার সঙ্গে করতে হবে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে।

এর অর্থ এই দাঁড়াচ্ছে যে, দেশটিতে কড়া ইসলামি শাসন আরোপ চলতে থাকবে এবং ভিন্নমতের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন চালিয়ে যাবে ইরান। এছাড়া দেশটির ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন ও পশ্চিমাদের গভীর সন্দেহের চোখে দেখা চলমান থাকবে।

ক্ষমতার উত্তরাধিকারের বিষয়ে যা হবে

ইরানের রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রেসিডেন্ট আসবেন, যাবেন। কেউ কেউ কট্টরপন্থী, কেউবা মধ্যপন্থী হতে পারেন। তবে প্রত্যেককেই শাসন ব্যবস্থার প্রতি অনুগত হয়ে কাজ করতে হয়।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির সর্বোচ্চ নেতা রয়েছেন খামেনি। ফলে তার মৃত্যুর পরই কেবল ইরানে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারে।

৮৮ জন বিশেষজ্ঞ নিয়ে গড়া পরিষদের মাধ্যমে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করা হয়। ওই পরিষদের সদস্যরা আবার ১২ সদস্যের গার্ডিয়ান কাউন্সিলের মাধ্যমে আট বছর পর পর নির্বাচিত হন।

খামেনির উত্তরাধিকারী কে হবেন- এ বিষয়ক আলোচনা বা যে কোনো কৌশল সাধারণ জনগণের অগোচরে হয়ে থাকে। ফলে দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী কে হতে চলেছেন, সাধারণের পক্ষে তা আগে থেকে জানা সম্ভব হয়ে ওঠে না।

তবে বিশ্লেষকরা যে দুই ব্যক্তিকে খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে দেখছিলেন তাদের একজন রাইসি, অন্যজন খামেনির ছেলে মোজতবা। ৫৫ বছর বয়সী মোজতবা একজন শিয়া ধর্মগুরু। তবে সরকারি দায়িত্ব পালনের কোনো অভিজ্ঞতা নেই তার।

মোজতবা ইরানের সর্বোচ্চ পদে বসলে যা হতে পারে

বিপ্লবের মাধ্যমে ১৯৭৯ সালে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর দেশটির নেতারা ইরানকে শুধু পশ্চিমা ক্ষয়িষ্ণু গণতন্ত্র নয়, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিরাজমান সামরিক একনায়কতন্ত্র এবং রাজতন্ত্র থেকেও অনেক উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

তবে খামেনির ছেলে সর্বোচ্চ নেতার আসনে বসলে ফের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব শুরু হতে পারে ইরানে। শুধু ইসলামি শাসনের সমালোচকদের কাছেই নয়, দেশের বর্তমান শাসন ব্যবস্থা যেসব ইরানি ‘অনৈসলামিক’ বলে বিবেচনা করে, তাদের মধ্যেও ক্ষোভের সঞ্চার করতে পারে ক্ষমতার এই উত্তরাধিকার।

পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে ইরানের ওপর আরোপিত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে। আর ইসলামি শাসন যা রাইসির আমলে আরও তীব্র আকার ধারণ করে, দেশের নারী ও যুবাদের আরও বিচ্ছিন্ন করেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি বড় বড় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের সম্মুখীন হয়েছে ইরান। ২০২২ সালে মাহসা আমিনি গ্রেপ্তারের পর দেশটি বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠা এর বড় উদাহরণ। চুল না ঢেকে রাস্তায় বের হওয়ার কারণে আমিনি গ্রেপ্তার হন। এর বিরুদ্ধে ইরানজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ওই বিক্ষোভ থেকে দেশজুড়ে পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত ও ২২ হাজারের বেশি নাগরিক আটক হন।

রাইসির মৃত্যুতে তাই নতুন সর্বোচ্চ নেতা বেছে নেয়ার প্রক্রিয়াটি আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে, যা দেশটিতে ফের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

আরও পড়ুন:
হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ইরানকে সহায়তা ‘দিতে পারেনি’ যুক্তরাষ্ট্র
রাইসি’র মৃত্যুতে বাংলাদেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক
রাইসির শোকে সমাবেশ করছেন ইরানিরা
রাইসির দাফন হবে জন্ম-শহর মাশহাদে
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় রসদ যোগাতে পারে রাইসির মৃত্যু

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
US could not help Iran in helicopter crash

হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ইরানকে সহায়তা ‘দিতে পারেনি’ যুক্তরাষ্ট্র

হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ইরানকে সহায়তা ‘দিতে পারেনি’ যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টারটির ধ্বংসাবশেষ। ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, ‘ইরানের সরকার আমাদের কাছে সহায়তা চেয়েছিল। আমরা তাদের পরিষ্কার করে জানিয়েছি, আমরা সহায়তা দিতাম।… তবে শেষ পর্যন্ত, মূলত লজিস্টিক কারণে, আমরা সহায়তা দিতে সক্ষম হইনি।’

ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সহায়তা চেয়েছিল তেহরান। কিন্তু ব্যবস্থাপনাগত কারণে ওয়াশিংটন সহযোগিতা করতে পারেনি।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে এ নিয়ে বিস্তারিত জানায়নি।

রোববার আজারবাইজান সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি বাঁধ প্রকল্প উদ্বোধনের পর ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর তাবরিজে ফেরার পথে দেশটির প্রেসিডেন্ট রাইসি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসাইন আমির আব্দোল্লাহিয়ান ও তাদের সফরসঙ্গীদের বহনকারী হেলিকপ্টারটি দুর্ঘটনায় পড়ে। এ ঘটনায় হেলিকপ্টারে থাকা সবার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে শত্রু মনে করলেও তেহরান ওয়াশিংটনের কাছে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক সহযোগিতা চেয়েছিলে বলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, ‘ইরানের সরকার আমাদের কাছে সহায়তা চেয়েছিল। আমরা তাদের পরিষ্কার করে জানিয়েছি, আমরা সহায়তা দিতাম। এ ধরনের পরিস্থিতিতে একটি বিদেশি সরকারের যেকোনো অনুরোধে আমরা যেমন সাড়া দিয়ে থাকি। তবে শেষ পর্যন্ত, মূলত লজিস্টিক কারণে, আমরা সহায়তা দিতে সক্ষম হইনি।’

রোববার রাতভর তুষার ঝড়ের মধ্যে অনুসন্ধান অভিযানে বিঘ্ন ঘটে। পরে সোমবার ভোরে হেলিকপ্টারটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়।

কী কারণে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে, তা নিয়ে এ পর্যন্ত সরকারিভাবে কিছু জানায়নি ইরান।

এ ঘটনার জন্য ওয়াশিংটনকে দায়ী করতে পারে তেহরান, এ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন কিনা, এমন প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বলেন, ‘এই দুর্ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা ছিল না।

‘(দুর্ঘটনার) কারণটি কী হতে পারে আমি তা অনুমান করতে পারছি না।’

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরি উচ্চপর্যায়ের একটি দলকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ব্রিগেডিয়ার আলী আবদুল্লাহি। পুরো তদন্ত কাজ শেষ হওয়ার পরই ফল জানানো হবে বলে তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
রাইসি’র মৃত্যুতে বাংলাদেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক
রাইসির দাফন হবে জন্ম-শহর মাশহাদে
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় রসদ যোগাতে পারে রাইসির মৃত্যু

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
1 killed in Singapore Airlines flight hit by storm

ঝড়ের কবলে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট, নিহত ১

ঝড়ের কবলে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট, নিহত ১
বিমান সংস্থাটি তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোতে নিয়মিত আপডেট তথ্য দেয়ার মাধ্যমে জনসাধারণকে অবহিত রাখবে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

লন্ডনের হিত্রো বিমানবন্দর থেকে সিঙ্গাপুরগামী সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট এসকিউ৩২১ প্রবল ঝড়ের কবলে পড়ে। এ ঘটনায় অন্তত একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার এই বৈরি আবহাওয়ার শিকার হয় ফ্লাইটটি।

এয়ারলাইন্সটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে বলা হয়, ২১১ জন যাত্রী ও ১৮ জন ক্রু নিয়ে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর বিমানটি ব্যাংককের উদ্দেশে যাত্রা করে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৪টায় নিরাপদে অবতরণ করে।

‘দুঃখজনকভাবে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সে থাকা একজন নিহত হয়েছেন।’

এ ঘটনায় যাত্রী ও ক্রুদের আহত হওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।

ওই পোস্টে আরও বলা হয়, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স আরোহীদের সহায়তার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আহতদের যথাযথ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে তারা থাই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। অতিরিক্ত সহায়তা প্রদানের জন্য ব্যাংককে একটি দল পাঠানো হয়েছে।

বিমান সংস্থাটি তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোতে নিয়মিত আপডেট তথ্য দেয়ার মাধ্যমে জনসাধারণকে অবহিত রাখবে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন:
শাহ আমানতে ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, অল্পের জন্য বাঁচলেন ১৯৮ আরোহী

মন্তব্য

p
উপরে