কলকাতায় আলু ৪৫, পেঁয়াজ ১১৫

player
কলকাতায় আলু ৪৫, পেঁয়াজ ১১৫

পরিস্থিতি সামাল দিতে আফগানিস্তান থেকে পেঁয়াজ আর ভুটান থেকে আলু আমদানি করছে ভারত সরকার।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় পেঁয়াজ রপ্তানিকারক দেশ ভারত এখন আমদানি করছে পণ্যটি। চাহিদা মেটাতে আলুও আনতে হচ্ছে দেশের বাইরে থেকে। ঘাটতি, তাই দাম বেড়েছে ব্যাপক। পরিস্থিতি বাংলাদেশের মতোই।

কলকাতায় আলু ৪০ রুপি ছুঁই-ছুঁই। পেঁয়াজ ১০০। গ্রামাঞ্চলে দাম আরও বেশি। অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় আলু ৪৫, পেঁয়াজ ১১৫।

ত্রিপুরাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যে আলু ৬০ ছাড়িয়েছে। পেঁয়াজ ১৫০।

এই অবস্থায় বিহারের চলছে ভোট। সেখানে বড় ইস্যু হয়ে উঠছে আলু-পেঁয়াজের অগ্নিমূল্য। বিরোধীরা আলু-পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির জন্য দুষছেন শাসক দলকেই।

আর পরিস্থিতি সামাল দিতে তাই আফগানিস্তান থেকে পেঁয়াজ আর ভুটান থেকে আলু আমদানি করছে ভারত সরকার।

বিহার রাজ্যের ২৪৩টি আসনের মধ্যে ২৮ অক্টোবর ৭১টি কেন্দ্রে ভোট শেষ। ৩ নভেম্বর ৯৪টি কেন্দ্রে আর শেষ দফায় ৭ নভেম্বর ৭৮টি কেন্দ্রে হবে ভোট। গণনা ১০ নভেম্বর।

বিজেপি ও কংগ্রেস দু-দলই আঞ্চলিক দলের ভরসাতেই নির্বাচনী যুদ্ধে অবতীর্ণ। বিজেপির ভরসা শাসক দল জেডিইউ। আর কংগ্রেস আরজেডি ও বাম দলগুলির সঙ্গে মহাজোট করে জিততে চাইছে বিহার।

প্রচারে অন্যান্য ইস্যুর সঙ্গে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে আলু-পেঁয়াজের দাম। আকাশছোঁয়া দামে চিন্তিত বিজেপি শিবির। উৎসবের মৌসুমে দামকে লাগাম আনতে তাই চাপ বাড়ছে দলের হাইকমান্ডের কাছে।

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানিয়েছে, ‘উৎসবের মৌসুমে আফগানিস্তান থেকে পেঁয়াজ আর ভুটান থেকে আলু এলেই দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আমদানি।'

চলতি বছরে ভারতে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদনকারী রাজ্য মহারাষ্ট্রে প্রবল বর্ষণে চাষিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রচুর পেঁয়াজ মাঠেই নষ্ট হয়। আলুও প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

অনলাইনে ঋণ আবেদন নিতে পদ্মা ব্যাংক-স্বাধীন ফিনটেকের চুক্তি

অনলাইনে ঋণ আবেদন নিতে পদ্মা ব্যাংক-স্বাধীন ফিনটেকের চুক্তি

পদ্মা ব্যাংক ও স্বাধীন ফিনটেকের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান দুটির কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীত

চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠান দুটি একসঙ্গে একটি ওয়েব এবং অ্যাপভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে, যেখানে গ্রাহকরা অনলাইনে ক্ষুদ্র ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

নতুন ন্যানো লোন প্রোডাক্ট চালু করতে পদ্মা ব্যাংক ও নতুন স্টার্টআপ কোম্পানি ‘স্বাধীন ফিনটেক’ এর মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

পদ্মা ব্যাংকের গুলশান হেড অফিসে সোমবার এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

পদ্মা ব্যাংকের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) জাবেদ আমিন ও স্বাধীন ফিনটেকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাশফিয়া মাহমুদ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

এ সময় দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠান দুটি একসঙ্গে একটি ওয়েব এবং অ্যাপভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে, যেখানে গ্রাহকরা অনলাইনে ক্ষুদ্র ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

ঋণগ্রহীতাদের অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং অন্যান্য সহায়ক নথি জমা দিতে হবে, যা সংশ্লিষ্ট সংস্থা থেকে যাচাই-বাছাই করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে এটি চালু করা হবে।

এই ওয়েব ও অ্যাপভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গ্রাহকদের ক্রেডিট স্কোরিং এবং সিদ্ধান্ত আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্ভুলভাবে নেয়া সম্ভব হবে।

সরকারি সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী ব্যাংক ও আইসিবির মূল মালিকানায় পরিচালিত চতুর্থ প্রজন্মের পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড দেশজুড়ে ৫৮টি শাখার মাধ্যমে গ্রাহকদের ব্যাংকিং সেবা দিয়ে আসছে।

শেয়ার করুন

এডিপি বাস্তবায়নে কচ্ছপগতি

এডিপি বাস্তবায়নে কচ্ছপগতি

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার ২৪ শতাংশ, যা চার ভাগের এক ভাগেরও কম। ছবি: সংগৃহীত

ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো খরচ করতে পেরেছে ৫৬ হাজার ৯৬২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ২৪ দশমিক ০৬ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের অর্ধেক সময় পার হলেও উন্নয়নকাজের অগ্রগতি বা এডিপি বাস্তবায়ন একবারেই কম। এই সময়ে এডিপির চার ভাগের এক ভাগও বাস্তবায়ন হয়নি।

ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ২৪ শতাংশ। ধীরগতির এই এডিপি বাস্তবায়ন সবচেয়ে কম হয়েছে সরকারের স্বাস্থ্য ও বাণিজ্য খাতে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) এডিপি বাস্তবায়ন নিয়ে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো খরচ করতে পেরেছে ৫৬ হাজার ৯৬২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ২৪ দশমিক ০৬ শতাংশ।

তবে এ হার গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে দশমিক ১৫ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে খরচ করতে পেরেছিল ৫১ হাজার ২৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

গত বছরের প্রথম ছয় মাস করোনার কারণে উন্নয়নকাজ বেশ স্থবির ছিল। সে হিসাবে এবার অনেকটা স্বাভাবিক থাকলেও কাঙ্ক্ষিত গতি আসেনি কাজে।

ছয় মাসের এডিপি বাস্তবায়ন হার শুধু গত অর্থবছর বাদে আগের বছরগুলোর একই সময়ের তুলনায় বেশ কম।

২০১৯-২০ অর্থবছরের ছয় মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হার ছিল ২৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ছিল ২৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ, আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ছিল ২৭ দশমিক ০২ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরে সংস্থার অর্থায়নসহ এডিপির আকার ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। এডিপিতে ১ হাজার ৫৯১টি প্রকল্পের মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ১ হাজার ৩৭২টি, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১২০টি, উন্নয়ন সহায়তায় থোক বরাদ্দ থেকে ৯টি এবং নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প রয়েছে ৯০টি।

বড় বরাদ্দের ১০ মন্ত্রণালয়ের খরচ যত

১০টি মন্ত্রণালয়ের কাছেই মোট এডিপির প্রায় ৭৩ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ রয়েছে। তবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ছাড়া অন্যরা জাতীয় গড়ের কাছাকাছিই এডিপি বাস্তবায়ন করেছে।

এর মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ ৩৩ হাজার ৯০১ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে খরচ করেছে ৯ হাজার ৯১ কোটি টাকা বা ২৬ দশমিক ৮২ শতাংশ।

বিদ্যুৎ বিভাগ ২৮ হাজার ৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ৬ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা বা ২৩ দশমিক ০৫ শতাংশ খরচ করেছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ২৮ হাজার ৪১ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে খরচ করেছে ৭ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা বা ২৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ২০ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে খরচ করেছে ৪ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা বা ২৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এডিপি বরাদ্দ ১৩ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকার। এর বিপরীতে ছয় মাসে খরচ করেছে ৩ হাজার ৬০২ কোটি টাকা বা ২৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

স্বাস্থসেবা বিভাগ ১৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েও খরচ করতে পেরেছে মাত্র ১ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা বা বরাদ্দের ৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ২৩ দশমিক ৭০ শতাংশ, সেতু বিভাগ ১৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ২৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন করেছে।

পিছিয়ে যারা

এডিপি বাস্তবায়নে সবার পেছনে রয়েছে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ। ছয় মাসে তাদের বাস্তবায়ন হার ১ দশমিক ৬১ শতাংশ। এক হাজার ৪২১ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়েও খরচ করতে পেরেছে মাত্র ২২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

সুরক্ষা সেবা বিভাগ ১ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে খরচ করেছে ৫৮ কোটি ৭২ লাখ টাকা। বাস্তবায়ন হার ৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন হার ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। বরাদ্দ ৪১৯ কোটি টাকা হলেও খরচ হয়েছে ২২ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

পিছিয়ে পড়াদের মধ্যে রয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ৯ দশমিক ০১ শতাংশ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ, বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন ৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

শেয়ার করুন

আঞ্চলিক বাণিজ্য: নেতৃত্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

আঞ্চলিক বাণিজ্য: নেতৃত্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

আঞ্চলিক উদ্যোগগুলোতে সফল হতে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য সম্পর্কিত ইস্যুতে সমন্বয় ও নেতৃত্ব দিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে ‘লিড মিনিস্ট্রি’ নির্বাচন করেছে সরকার। বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক ট্রানজিট/কানেক্টিভিটি পর্যালোচনা সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

আঞ্চলিক বাণিজ্য উন্নয়নে বাংলাদেশের নজর কয়েক দশক ধরেই। এ উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক ট্রানজিটে ভেড়ার লক্ষ্যে প্রতিবেশী ভারত, ভুটান, নেপালকে নিয়ে বিবিআইএন উদ্যোগে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু সফলতা আসেনি। এরপর ভুটানকে বাদ দিয়ে ভারত ও নেপালের সঙ্গে নতুন উদ্যোগ (বিআইএন) নেয় সরকার।

বিআইএন উদ্যোগটি চলমান থাকলেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। তারও আগে বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার (বিসিআইএম), সাউথ এশিয়ান সাব-রিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন (এসএএসইসি), রিজিওনাল ইন্টিগ্রেশন, এশিয়ান হাইওয়েজ, সিল্ক রোড, ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড উদ্যোগে যুক্ত হয় বাংলাদেশ। কোনো উদ্যোগই ফল দেয়নি। মুক্ত বাণিজ্যের এই সময়েও জুঁজুর ভয়ে বাংলাদেশ আঞ্চলিক বাণিজ্য উন্নয়নের সুযোগ থেকে অনেকটা বঞ্চিত, একইসঙ্গে বিচ্ছিন্নও।

এদিকে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের চূড়ান্ত পথে বাংলাদেশ। ২০২৯ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ক্ষেত্রে পাওয়া সব শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা হারাবে দেশ। উল্টো বিশ্বকে ডেকে আনতে হবে বাংলাদেশের আঙ্গিনায়। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে করতে হবে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ)। সেখানে সবচেয়ে সহজ উদ্যোগ আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তিও (আরটিএ) এখন পর্যন্ত সঠিকভাবে কার্যকর করতে পারেনি বাংলাদেশ। বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে সরকারকে।

উদ্ভূত বাস্তবতায় ভবিষ্যতে আঞ্চলিক উদ্যোগগুলোতে সফল হতে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য সম্পর্কিত ইস্যুতে সমন্বয় ও নেতৃত্ব দিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে লিড মিনিস্ট্রি নির্বাচন করেছে সরকার।

ট্রানজিট ও কানেক্টিভিটি ইস্যুটি বাণিজ্য সম্পর্কিত হলেও সেখানে মতামত দেয়ার ক্ষেত্রে সবাই নিজেকে ‘লিড মিনিস্ট্রি’ মনে করে। ফলে নীতিনির্ধারণী বৈঠকে আঞ্চলিক বাণিজ্য উন্নয়নে গুরুত্ব হারাচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত। এছাড়া দায়িত্বশীল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দরকষাকষিতে অদূরদর্শিতাও আছে।

বিজনেস অ্যালোকেশন অনুসারে এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেয়ার এখতিয়ার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের থাকলেও বাস্তবে এতোদিন সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ বিচ্ছিন্নভাবে নিজেদের মতো করে কাজ করেছে। সে কারণে এসব কার্যক্রমে সামগ্রিক সমন্বয়ের অভাব ছিল। এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর সম্মতিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ‘লিড মিনিস্ট্রি’ নির্বাচিত হওয়ায় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকারের অন্যান্য বিভাগও।

সম্প্রতি বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক ট্রানজিট/কানেক্টিভিটি পর্যালোচনা সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে অংশ নেয় পররাষ্ট্র, নৌ, সড়ক, রেল মন্ত্রণালয় এবং এনবিআর, স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন অংশীজন।

আঞ্চলিক বাণিজ্য উদ্যোগে ব্যর্থতা কোথায়

বৈঠকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের নীতিনির্ধারণী অংশীজনরা তাদের পারস্পরিক মতামত রাখেন। তারা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ট্রানজিট ও কানেক্টিভিটি সংক্রান্ত ১৫টি উদ্যোগের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করেন। সেগুলোয় সাফল্য না পাওয়ার পেছনে সম্ভাব্য কারণও চিহ্নিত করেছেন তারা।

সার্বিক বিষয় বিশ্লেষণে এসবের মোটাদাগে অজানা জুঁজুর ভয় এবং সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, একক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের হাতে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার থাকছে না। এখানে ভিন্ন ভিন্ন বিভাগ জড়িয়ে পড়ছে এবং তারা কাজের ক্ষেত্র ও দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনায় ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানের মতামত দিচ্ছে। যদিও অংশীজনদের সবাই সরকারেরই অংশ এবং সবার অভীষ্ট লক্ষ্য এক হওয়া সত্বেও বাস্তবে কোনোভাবেই অভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া যাচ্ছে না। এ কারণে কোনো উদ্যোগেই সাফল্য মিলছে না।

অন্যদিকে ট্রানজিট ও কানেক্টিভিটি ইস্যুটি বাণিজ্য সম্পর্কিত হলেও সেখানে মতামত দেয়ার ক্ষেত্রে সবাই নিজেকে ‘লিড মিনিস্ট্রি’ মনে করে। ফলে নীতিনির্ধারণী বৈঠকে আঞ্চলিক বাণিজ্য উন্নয়নে গুরুত্ব হারাচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত। এছাড়া দায়িত্বশীল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দরকষাকষিতে অদূরদর্শিতাও আছে। সর্বোপরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারে অনাগ্রহ তো রয়েছেই।

‘লিড মিনিস্ট্রি’ কেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া ওই বৈঠকের একটি কার্যপত্র নিউজবাংলার হাতে এসেছে। তাতে বলা হয়েছে, আন্তঃদেশীয় যোগাযোগ তথা কানেক্টিভিটি ও ট্রানজিট ইস্যুতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম/প্রকল্প নেয়া হয়। তবে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বেশি লাভবান হওয়ার বিষয়টি সব সময় জড়িত থাকে। তাই কোনো চুক্তি বা প্রতিশ্রুতিতে যাওয়ার আগে তা দেশীয় বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করাও জরুরি। এক্ষেত্রে বিভিন্ন উদ্যোগে মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয়ের দরকার হয়।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (শুল্ক, আন্তঃবাণিজ্য ও আধুনিকায়ন) জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘নেতৃত্বদানকারী মন্ত্রণালয় হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ কাজে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় ও আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (দক্ষিণ এশিয়া) রকিবুল হক বলেন, ‘কোনো দেশের পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক অবস্থান ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মুক্ত বাণিজ্যের বর্তমান সময়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকার সুযোগ নেই। তাই প্রতিবেশী দেশগুলোকে ট্রানজিট দেয়ার ক্ষেত্রে সবার আগে অজানা ভয় থেকে মুক্ত হওয়া দরকার। সে সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

‘বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী দেশ ভারত বিপুল জনসংখ্যার কারণে আমাদের জন্য একটি সম্ভাব্য বাণিজ্য ক্ষেত্র হতে পারে। তবে ট্রানজিট/কানেক্টিভিটির বিষয়টি যথাযথভাবে সমন্বয়ের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করাটা জরুরি। সেটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও হতে পারে।’

‘আঞ্চলিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য করণীয় সব কার্যক্রম অ্যালোকেশন অফ বিজনেস অনুযায়ী বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সমন্বয় করা হলে তা দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য বিকাশে সহায়ক হবে। একইসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা/বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) মাহবুবুল হক বলেন, ‘বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে অ্যালোকেশন অফ বিজনেস-এর তফসিল ১, ১৯৯৬ (এপ্রিল ২০১৭) পর্যন্ত সংশোধিত এর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত অংশের ১৬ নং অনুচ্ছেদে ‘বাংলাদেশের মাধ্যমে ট্রানজিট বাণিজ্য’ শিরোনামে বাণিজ্যিক ট্রানজিট বিষয়ক কার্যক্রম বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করা আছে। কিন্তু এসব উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ কর্তৃক বিচ্ছিন্নভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে। এজন্য এসব কার্যক্রম ফলপ্রসূ করার ক্ষেত্রে সামগ্রিক সমন্বয়ের প্ৰয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে।’

মাহবুবুল হক দাবি করেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য করণীয় সব কার্যক্রম অ্যালোকেশন অফ বিজনেস অনুযায়ী বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সমন্বয় করা হলে তা দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য বিকাশে সহায়ক হবে। একইসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা/বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

একইভাবে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিরাও তাদের মতামত দেন। পরে সবার মতামতের ভিত্তিতে বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ সিদ্ধান্ত জানিয়ে বলেন, ২০২৬ সালে এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে আমাদের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এ আলোকে আঞ্চলিক যোগাযোগের নেটওয়ার্ক স্থাপন করতে হবে। বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মাথায় রেখে দূরদর্শী সিদ্ধান্ত দেয়া দরকার। তাই বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পণ্য পরিবহন ও আঞ্চলিক যোগাযোগ সমন্বয়ের বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ই সম্পন্ন করবে। এক্ষেত্রে সামগ্রিক কার্যক্রমের বিষয়ে কোনো অসামঞ্জস্য থাকলে তার সমাধানে সিদ্ধান্ত দেবে বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত ‘ন্যাশনাল ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন কমিটি’। এর আলোকে দ্রুত আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্পর্কে পা রাখতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ।

শেয়ার করুন

রংপুর সিটি বাজার নিয়ে মেয়র-ব্যবসায়ী মুখোমুখি

রংপুর সিটি বাজার নিয়ে মেয়র-ব্যবসায়ী মুখোমুখি

রংপুর সিটি বাজার। ছবি: নিউজবাংলা

মেয়র সাত দিনের মধ্যে সিটি বাজারের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছেন। এ ব্যাপারে করণীয় নির্ধারণে ব্যবসায়ী সমিতি জরুরি বৈঠক ডেকেছে।

রংপুর সিটি বাজার নিয়ে সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তাফার মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

নগর ভবনে সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে মেয়র বাজারে অবৈধ ঘর তুলে দুর্ভোগ সৃষ্টির জন্য ব্যবসায়ীদের দোষারোপ করেন। এ ছাড়া সিটি বাজার সমিতি ধর্মঘট ডেকে জনভোগান্তি বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেন মেয়র।

১৮ জানুয়ারি ড্রেন, রাস্তা, গণশৌচাগার, পার্কিংসহ পাঁচ দফা দাবিতে সকাল-সন্ধ্যা ধর্মঘট করে সিটি বাজার ব্যবসায়ী সমিতি। বাজারের সামনে অস্থায়ী মঞ্চ করে সমাবেশ করেন তারা।

এদিকে মেয়র সাত দিনের মধ্যে সিটি বাজারের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছেন। এ ব্যাপারে করণীয় নির্ধারণে ব্যবসায়ী সমিতি জরুরি বৈঠক ডেকেছে।

সংবাদ সম্মেলনে মেয়র বলেন, নগরীর প্রাণকেন্দ্রে ৪ একর ১৬ শতক জমির ওপর রংপুর সিটি বাজার। এখানে ১ হাজার ১১২টি দোকান রয়েছে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বাজারে ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নতকরণ, পাকা সড়ক তৈরি, নিরাপত্তা গেট, গণশৌচাগার নির্মাণসহ নানা উন্নয়ন করা হয়েছে। অথচ বাজারের ব্যবসায়ীরা এখনও দোকান ঘরের ভাড়া বকেয়া রেখেছেন প্রায় কোটি টাকা।

মেয়র অভিযোগ করে বলেন, রংপুর সিটি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোস্তফা মাছ বাজার ইজারা নিয়ে সেখানে অবৈধভাবে ঘর তুলেছেন। এতে বাজার সংকুচিত হয়েছে। তিনি সড়কের ওপর অবৈধ দোকানঘর তুলে ক্রেতাদের চলাচল বাধাগ্রস্ত করেছেন।

বাজারের উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে জানিয়ে মেয়র মোস্তফা বলেন, ‘আমরা রংপুর সিটি বাজারের আধুনিকায়নের জন্য বিশ্বব্যাংকে একটি প্রস্তাব দিয়েছি। বিশ্বব্যাংক সেটি আমলে নিয়ে একে একটি আধুনিক বাজারে রূপ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

‘সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সিটি বাজার থেকে প্রাপ্ত আয়ের ৪৫ শতাংশ বাজারের উন্নয়নে ব্যয় করা কথা। কিন্তু বর্তমান সিটি পরিষদ বাজারের উন্নয়নে শতকরা ১১০ ভাগ টাকা খরচ করেছে।’

মেয়র বলেন, ‘ওই ধর্মঘট উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সিটি পরিষদকে নগরবাসীর কাছে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য। আগামী নির্বাচনে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের একটি অংশ এটি।’

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাজারের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে বলে ঘোষণা দেন মেয়র।

রংপুর সিটি বাজার কমিটির সভাপতি মোস্তফা কামাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা জাতীয় পার্টিকে নিয়ে কোনো মন্তব্য করিনি। সিটি বাজারের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেছি। বাজারের উন্নয়ন নিয়ে কয়েক দফায় চিঠি দিলেও কোনো জবাব দেননি মেয়র, সেই প্রমাণ রেখেছি।

‘মেয়র যে বক্তব্য দিয়েছেন তা আমাদের কাছে আছে। আমরা রাতে বৈঠক ডেকেছি। সেখানে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলে আমরা তাকে সহযোগিতা করব।’

মেয়রের সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন মিঞা, প্যানেল মেয়র মাহমুদার রহমান টিটু।

শেয়ার করুন

প্রযুক্তির সবুজ রূপান্তরে টেলিনরের ৫ পূর্বাভাস

প্রযুক্তির সবুজ রূপান্তরে টেলিনরের ৫ পূর্বাভাস

রাজধানীর বারিধারায় জিপি হাউজে সোমবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে আলোচক ও অতিথিরা। ছবি: নিউজবাংলা

টেলিনর বলছে- দ্রুতই গ্রিন ক্লাউডের ব্যাপক প্রসার ঘটবে, জলবায়ু বিষয়ে মাইক্রো ডিগ্রির চাহিদা বাড়বে, সবকিছুর অপটিমাইজেশন বা সর্বোত্তম ব্যবহার গুরুত্ব পাবে, সবুজায়ন বিষয়ে আন্দোলন বা গ্রিন-ইনফ্লুয়েন্সার কর্মকাণ্ড বাড়বে এবং ‘লস্ট জেনারেশন’ বা পরবর্তী প্রজন্মের উপযোগী অফিস ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠবে। আর কোম্পানিগুলো এই খাতে বড় অংকের বিনিয়োগ করবে।

প্রযুক্তি ও ডিজিটালাইজেশনে গ্রিন ট্রান্সফরমেশনকে (সবুজ রূপান্তর) সক্ষম করে তুলতে পাঁচটি ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির পূর্বাভাস দিয়েছে টেলিনর। আগামী দিনের প্রযুক্তি খাতে পরিবর্তন নিয়ে টেলিনরের ‘টেক ট্রেন্ডস ২০২২’ প্রতিবেদনে এসব বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

রাজধানীর বারিধারায় জিপি হাউজে সোমবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে টেলিনরের গবেষণা থেকে প্রাপ্ত ফল প্রকাশ করে গ্রামীণফোন। টেলিনর গ্রুপের সায়েন্টিফিক রিসার্চ ইউনিট ‘টেলিনর রিসার্চ’ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণালব্ধ এসব পূর্বাভাস দিয়েছে।

টেলিনর বলছে- দ্রুতই গ্রিন ক্লাউডের ব্যাপক প্রসার ঘটবে, জলবায়ু বিষয়ে মাইক্রো ডিগ্রির চাহিদা বাড়বে, সবকিছুর অপটিমাইজেশন বা সর্বোত্তম ব্যবহার গুরুত্ব পাবে, সবুজায়ন বিষয়ে আন্দোলন বা গ্রিন-ইনফ্লুয়েন্সার কর্মকাণ্ড বাড়বে এবং ‘লস্ট জেনারেশন’ বা পরবর্তী প্রজন্মের উপযোগী অফিস ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠবে। আর কোম্পানিগুলো এই খাতে বড় অংকের বিনিয়োগ করবে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমদ পলক প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী ইয়াসির আজমান, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের মহাপরিচালক (সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ; বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর, বেলা’র প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

টেলিনরের পূর্বাভাস তুলে ধরে টেলিনর রিসার্চের প্রধান বিওন তালে স্যান্ডবার্গ ভার্চুয়ালি মূল বক্তব্য দেন। তিনি বলেন- নতুন যুগের উন্নত কানেক্টিভিটি, জলবায়ু-বান্ধব শক্তি-সাশ্রয়ী আধুনিক হার্ডওয়্যার, এজ ক্লাউড ও ফাইভ-জি প্রযুক্তি আরো পরিবেশ-বান্ধব হবে। তা প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রিন জব স্কিলসের চাহিদা এবং ডিজিটাল লার্নিং প্ল্যাটফর্মগুলোর ক্লাইমেট মাইক্রো ডিগ্রি দেয়ার বিষয়গুলোকে বাড়িয়ে তুলবে।

একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শক্তি-সাশ্রয়ী ও পরিবেশ-বান্ধব ডিভাইস তৈরির প্রবণতা ও প্রতিযোগিতা বাড়বে। তরুণদের মাঝে সামাজিক মাধ্যমে জলবায়ু সচেতন ইনফ্লুয়েন্সারের সংখ্যা ও জনপ্রিয়তা বাড়বে। কারণ, সম্ভাব্য ঝুঁকি প্রশমনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও জলবায়ু বিষয়ক সচেতন ব্যক্তিদের প্রত্যাশা পূরণে এটি গুরুত্বপূর্ণ।

আগামী প্রজন্মের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে ‘গ্রেট রেসিগনেশন’-এর সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানো এবং বৈশ্বিক মহামারি শেষে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো কিভাবে এ ঝুঁকি এড়িয়ে যেতে পারবে, তা নিয়ে প্রতিবেদনে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

‘সার্ভার ও অ্যাপ্লিকেশন ভিত্তিক কোনো কিছুর ডিজাইন করার সময় সবুজায়নের বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। একইসঙ্গে ব্যবহারকারীরা তাদের দৈনন্দিন জীবনে কিভাবে এগুলোর প্রয়োগ ঘটাতে পারে তা নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ বিষয়গুলোকে মূল পাঠ্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।’

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘চতুর্থ শিল্প-বিপ্লবের প্রযুক্তি অনুসারে আমরা সারা দেশে আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ল্যাব এবং ডিজিটাল লিডারশিপ অ্যাকাডেমিসহ অনেক ডিজিটাল অবকাঠামো ও সেবা চালু করেছি। এছাড়াও তরুণদের জন্য, বিশেষ করে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির জন্য শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউট অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি নির্মাণ করা হচ্ছে।’

ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের মতো দেশগুলো নানামুখী ক্ষতির মুখে পড়ছে। পরিবেশ-বান্ধব পদক্ষেপের মাধ্যমে এ পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। জলবায়ু পরিবর্তনে সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ট্রেনিং সেন্টারকে ক্লাইমেট মাইক্রো ডিগ্রি ও কোর্সের ব্যাপারে নজর দিতে হবে। কীভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করে জলবায়ু সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে কাজ করা যায় কোর্সগুলোর মাধ্যমে মানুষ তা শিখতে পারবে।’

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ তার বক্তব্যে চারটি বিষয়ে আলোকপাত করেন। বিষয়গুলো হলো- জ্বালানি সাশ্রয়, সাইট লেভেল ইনোভেশন, আরএএন (রেডিও অ্যাকসেস নেটওয়ার্ক) ও নেটওয়ার্ক ইক্যুইপমেন্ট ইনোভেশন এবং উন্নত নেটওয়ার্ক পরিকল্পনা ও অপটিমাইজেশন।

তিনি বলেন, ‘টেক ট্রেন্ডস থেকে প্রাপ্ত ফল নিয়ে কাজ করতে কিংবা এগুলোর বিকাশে কীভাবে একসঙ্গে কাজ করা যায় তা নিয়ে কৌশল খুঁজে বের করতে হবে। আমরা ফাইভ-জি নীতিমালা নিয়ে কাজ করছি। অপারেটরদের পরামর্শও নিচ্ছি।’

কামাল কাদীর বলেন, ‘সার্ভার ও অ্যাপ্লিকেশন ভিত্তিক কোনো কিছুর ডিজাইন করার সময় সবুজায়নের বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। একইসঙ্গে ব্যবহারকারীরা তাদের দৈনন্দিন জীবনে কিভাবে এগুলোর প্রয়োগ ঘটাতে পারে তা নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ বিষয়গুলোকে মূল পাঠ্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।’

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘ই-বর্জ্য পরিবেশের ক্ষতির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ঝুঁকি ও করণীয় সম্পর্কে মানুষ সঠিকভাবে জানে না। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন ডিজাইন বাজারে আনার চেয়ে পরিবেশ রক্ষায় পণ্যের স্থায়িত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। নেটওয়ার্ক টাওয়ারের বিকিরণ যাতে মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতির কারণ না হয় সে ব্যাপারে টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলোকে সচেতন হতে হবে।’

ইয়াসির আজমান বলেন, ‘চরম জলবায়ুজনিত বিভিন্ন সমস্যা আমাদের টেকসই অর্থনীতির লক্ষ্য বাধাগ্রস্ত করছে। এখন আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, জলবায়ু-বান্ধব কৌশল গ্রহণ করা, যা সবুজে রূপান্তরের মাধ্যমে ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত রাখবে।

‘এ বছর প্রযুক্তি সংক্রান্ত অনুমান দেখিয়েছে, কিভাবে প্রযুক্তি ও ডিজিটালাইজেশন ডেটা স্থানান্তরকে আরো দক্ষ, সহজ এবং ডিভাইসগুলোকে আরও পরিবেশবান্ধব ও অপটিমাইজ করে তুলবে। একইসঙ্গে ডিজিটাল মাইক্রো ডিগ্রি ও গ্রিন ইনফ্লুয়েন্সারগুলোর মাধ্যমে জলবায়ুতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। ভাল নেতৃত্বের অনুশীলনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে পরবর্তী প্রজন্মের কর্মীরা তাদের কর্মক্ষেত্রে উন্নতি লাভ করতে পারে।’

শেয়ার করুন

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের স্মারক মুদ্রা

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের স্মারক মুদ্রা

বাংলাদেশ ও জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তিতে স্মারক রৌপ্য মুদ্রা ছাড়ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তিতে ১০ ফেব্রুয়ারি ছাড়া হবে ৫০ টাকার স্মারক মুদ্রা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতিঝিল অফিস ও মিরপুরের টাকা জাদুঘরে পাওয়া যাবে এ মুদ্রা । এটি জাপানেও বিক্রি করা হবে। বাক্সসহ রৌপ্য মুদ্রাটির দাম পড়বে ৫ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ ও জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি হবে ১০ ফেব্রুয়ারি। এ জন্য স্মারক রৌপ্য মুদ্রা তৈরি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উপলক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাপান মিন্টের উদ্যোগে ৫০ টাকার স্মারক রৌপ্য মুদ্রা করা হয়েছে।

১০ ফেব্রুয়ারি প্রচলনে দেয়ার পর মুদ্রাটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতিঝিল অফিস ও মিরপুরের টাকা জাদুঘরে পাওয়া যাবে। এটি জাপানেও বিক্রি করা হবে। স্মারক বাক্সসহ মুদ্রাটির দাম পড়বে ৫ হাজার টাকা।

মুদ্রার ডিজাইন

৫০ টাকা অভিহিত গোলাকার মুদ্রাটির ব্যাস ৩৫ মিলিমিটার। দশমিক ৯২৫ ফাইন সিলভার দিয়ে তা তৈরি। বিশেষ এ মুদ্রার ওজন ২০ গ্রাম।

মুদ্রার সামনের দিকে ‘বাংলাদেশ-জাপান কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বর্ষপূর্তি’ লোগো দেয়া হয়েছে। লোগোর উপরিভাগে ডালসহ জাপানের জাতীয় ফুল চেরি ফুল, নিচের দিকে বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা মুদ্রণ করা হয়েছে কালার প্রিন্ট প্রযুক্তিতে। লোগোর বাম দিকে ইংরেজিতে এবং নিচে বাংলায় ‘৫০ টাকা’ লেখা হয়েছে।

মুদ্রার পেছন দিকে মুদ্রণ করা হয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতিসৌধ। এতে বৃত্তাকারভাবে ‘বাংলাদেশ-জাপান কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বর্ষপূর্তি’ লেখার পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজিতে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’ এবং ‘১৯৭২-২০২২’ মুদ্রণ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের সেবা এখন ‘নগদে’

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের সেবা এখন ‘নগদে’

সোমবার রাজধানীর দিলকুশায় বাংলাদেশ ফাইন্যান্স লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির চুক্তি সই হয়। ছবি: নিউজবাংলা

চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ফাইন্যান্সে সঞ্চয় অ্যাকাউন্ট খোলা ও আমানত সংগ্রহ, এসএমই লোন প্রদান ও প্রদেয় ঋণের কিস্তি সংগ্রহ, ফ্যাক্টরিং লোন প্রদানসহ বিবিধ ডিজিটাল লেনদেন ‘নগদ’-এর মাধ্যমে করা যাবে।

ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের আর্থিক সেবাকে আরও সহজ ও গতিশীল করতে দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের সঙ্গে চুক্তি করেছে ডাক বিভাগের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’।

সোমবার রাজধানীর দিলকুশায় বাংলাদেশ ফাইন্যান্স লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ-সংক্রান্ত একটি চুক্তি সই হয়।

চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ফাইন্যান্সে সঞ্চয় অ্যাকাউন্ট খোলা ও আমানত সংগ্রহ, এসএমই লোন প্রদান ও প্রদেয় ঋণের কিস্তি সংগ্রহ, ফ্যাক্টরিং লোন প্রদানসহ বিবিধ ডিজিটাল লেনদেন ‘নগদ’-এর মাধ্যমে করা যাবে।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কায়সার হামিদ এবং ‘নগদ’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাহেল আহমেদ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

বিডি ফাইন্যান্সের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চুক্তির ফলে এখন থেকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের আর্থিক সেবা পৌঁছে যাবে। ‘নগদ’-এর গ্রাহকরা এ সুবিধা পাবেন, এতে করে করোনায় সময়ে বাইরে যাওয়ার ঝামেলা এড়ানোর পাশাপাশি যাতায়াতের অনাকাঙ্ক্ষিত ঝক্কি থেকেও মুক্তি পাবেন গ্রাহকরা, বাঁচবে সময় এবং শ্রম।

চুক্তির বাস্তবতার নিরীখে বাংলাদেশ ফাইন্যান্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কায়সার হামিদ বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সেবা পৌঁছেনি এমন এলাকার ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের মূল ধারার আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক সেবার আওতায় আনতেই তাদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

ডাক বিভাগের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের আর্থিক সেবাবঞ্চিত মানুষকে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের গতিশীল এবং নির্বিঘ্ন সেবা দেয়া যাবে বিধায় এ চুক্তি করা হয়েছে।

‘নগদ’-এর সিইও রাহেল আহমেদ বলেন, মুঠোফোনে আর্থিক পরিষেবার অংশ হিসেবে যাত্রা শুরু করার পর; ‘নগদ’ দেশের মানুষকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরিত করতে এবং তাদের জীবনকে আরও সহজ করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে আমানত প্রদান ও ঋণ সুবিধা গ্রহণকে আরও সুবিধাজনক করে তোলার ক্ষেত্রে এই অংশীদারত্ব একটি মাইলফলক।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফাইন্যান্স লিমিটেডের গ্রুপ সিএফও সাজ্জাদুর রহমান ভুঁইয়া, হেড অফ অপারেশন্স রফিকুল আমিন, হেড অফ বিজনেস ট্রান্সফরমেশন বুদ্ধদেব সরকার, ‘নগদ’-এর চিফ মার্কেটিং অফিসার শেখ আমিনুর রহমান, হেড অফ বিজনেস সেলস মো. সাইদুর রহমান দিপু, হেড অফ ইন্স্যুরেন্স অ্যান্ড এনবিএফআই মো. বায়েজীদ।

শেয়ার করুন