× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

google_news print-icon

ভিয়েতনামে টাইফুন-ভূমিধসে ৩৫ মৃত্যু

ভিয়েতনামে-টাইফুন-ভূমিধসে-৩৫-মৃত্যু
কুয়াংনাম প্রদেশে ভূমি ধসের স্থান থেকে মাটি সরানো হচ্ছে। ছবি: এপি
টাইফুনে অন্তত ৫৬ হাজার ঘরবাড়ির ছাদ উড়ে গেছে। উপড়ে পড়েছে শত শত গাছ। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ১৭ লাখ মানুষ।

মধ্য ভিয়েতনামে টাইফুন মোলাভের আঘাত ও ভারী বর্ষণে ভূমি ধসে অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৫৯ জন।

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

টাইফুনের আঘাতে অন্তত ৫৬ হাজার ঘরবাড়ির ছাদ উড়ে গেছে। উপড়ে পড়েছে শত শত গাছ। তার ছিড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ১৭ লাখ মানুষ।

গত ২০ বছরে দেশটি সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হলো।

দুটি স্থানে ভূমি ধসে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে দক্ষিণ কুয়াং নামের প্রদেশের ত্রা ভান গ্রামে ৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেখানে সেনাবাহিনী উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে।

তবে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে অনেক এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালানো যাচ্ছে না।

ফোক লোক জেলার ত্রা লেং গ্রামে ভূমি ধসে ১১ জন চাপা পড়েন। এর মধ্যে তিন জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টাইফুনের আঘাতে সাগরে দুটি মাছধরার ট্রলার ডুবে যায়। এতে ২৬ জেলে নিখোঁজ হন। তাদের মধ্যে ১২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার থেকে প্রবল বাতাস বইতে থাকে দেশটিতে। টাইফুনের হাত থেকে সুরক্ষা দিতে প্রায় চার লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়া হয়। তা ছাড়া পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত শত শত বিমান উড্ডয়ন বাতিল করা হয়। স্কুল বন্ধ ও সৈকতে যাওয়া-আসা নিষিদ্ধ করা হয়।

শেষমেশ টাইফুনটি দেশটির দক্ষিণে ডানাং এলাকায় আছড়ে পড়ে। তখন সেখানে বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, তাৎক্ষণিকভাবে দুই জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে কুইয়াং নাই প্রদেশে। টাইফুনের হাত থেকে তারা নিজেদের ঘর রক্ষার চেষ্টা করছিলেন। পরে আরও দুই জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া যায়।

ভিয়েতনাম রেড ক্রস সোসাইটির প্রেসিডেন্ট ন্যুইয়েন থি সুয়ান থুই বলেন, টাইফুনের প্রভাবে ভারী বর্ষণের কারণে অনেক এলাকায় বন্যা হয়েছে। লাখো মানুষ ত্রাণের অপেক্ষায় আছে।

সূত্র: এপি ও আলজাজিরা

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Irans position is different from Trumps announcement of the signing of the agreement today

আজ চুক্তি সইয়ের ঘোষণা ট্রাম্পের, ভিন্ন অবস্থান ইরানের

আজ চুক্তি সইয়ের ঘোষণা ট্রাম্পের, ভিন্ন অবস্থান ইরানের ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত সমঝোতা স্মারকটি আজ রোববার (১৪ জুন) স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই ঘোষণা দেন। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার সাথে সাথেই বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

এই চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানও ইতিবাচক সংকেত দিয়েছে। তারা জানিয়েছে যে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে এবং বর্তমানে উভয় দেশ ‘ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের’ জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। ট্রাম্প তার বার্তায় আরও উল্লেখ করেছেন যে, পরিস্থিতি শান্ত হলে তারা ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত তথা ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ সংগ্রহ করবেন এবং পরবর্তীতে তা ধ্বংস করা হবে।

তবে ট্রাম্পের এই আত্মবিশ্বাসী ঘোষণার বিপরীতে ইরানের পক্ষ থেকে কিছুটা ভিন্ন সুর শোনা গেছে। শনিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই চুক্তি স্বাক্ষরের সময়সূচি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সমঝোতা স্মারকটি রোববারই স্বাক্ষরিত হবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই এবং সুনির্দিষ্ট তারিখ জানতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। তার মতে, রোববার এই চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

বিবিসি-র বরাতে জানা গেছে, যদিও ট্রাম্প রোববারকেই চুক্তির দিন হিসেবে চূড়ান্ত বলে ঘোষণা দিয়েছেন, তবে ইরানের এমন দোদুল্যমান অবস্থান পুরো প্রক্রিয়াটিকে শেষ মুহূর্তে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দেয় কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়। যদি চুক্তিটি আজ স্বাক্ষরিত হয়, তবে তা বৈশ্বিক রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্য এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। মূলত অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়গুলোই এই আলোচনার প্রধান আকর্ষণ।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
US Iran on the brink of a historic peace deal

ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

* বদলাচ্ছে রাজনৈতিক সমীকরণ, নেপথ্যে পাকিস্তান * হরমুজ প্রণালী ও লেবানন নিয়ে নতুন সমীকরণ  * ইসরায়েলি শিবিরে চরম উদ্বেগ, নেতানিয়াহুর ক্ষোভ
ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক মাস ধরে চলা বিধ্বংসী যুদ্ধ বন্ধ এবং অর্থনীতি সচল করার লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজকালের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ শনিবার (১৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আর চুক্তি সই হতে পারে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, চুক্তিটি যদি সফলভাবে সম্পন্ন হয়, তবে তা হবে বর্তমান দশকের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সাফল্য। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বৈরী সম্পর্কের অবসান ঘটাতে এমন একটি চুক্তি সত্যিই ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে গণ্য হবে। এটি একদিকে যেমন মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ সুগম করবে, অন্যদিকে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেল ও অর্থনীতির ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরপরই বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। দুই দেশের এই যুদ্ধ থামানোর পেছনে নেপথ্যের নায়ক ও প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে পাকিস্তান। ইতোমধ্যে সমঝোতা স্মারক সইয়ের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন ঐতিহাসিক সব চুক্তির দেশ হিসাবে পরিচিত সুইজারল্যান্ডের জেনেভা ভেন্যু হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করার প্রস্তাব দিয়েছে।

নেপথ্যের নায়ক পাকিস্তান: দুই চিরবৈরী দেশের এই যুদ্ধ থামানোর পেছনে প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরপরই বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে।

প্রস্তুত জেনেভা: সমঝোতা স্মারক সইয়ের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন ঐতিহাসিক চুক্তির শহর হিসেবে পরিচিত সুইজারল্যান্ডের জেনেভাকে ভেন্যু হিসেবে প্রস্তুত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নতুন সমীকরণ: এই চুক্তির ফলে বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালী’ এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ‘লেবানন’ নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।

ইসরায়েলে তোলপাড়: ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের এই সম্ভাব্য চুক্তির খবরে ইসরায়েলি শিবিরে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ডিজিটাল স্বাক্ষর ও দুই ধাপের শান্তি প্রক্রিয়া: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শরিফ জানিয়েছেন, চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব এতে ‘ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর’ বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে সই করবেন। এরপর আগামী সপ্তাহ থেকেই শুরু হবে কারিগরি ও কৌশলগত পর্যায়ের দীর্ঘ আলোচনা। এই শান্তি আলোচনা সফল করতে আঞ্চলিক দেশগুলোর সহযোগিতা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আন্তরিকতার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে শাহবাজ শরিফ বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, এই ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এই সম্ভাব্য চুক্তির পুরো কাঠামো ও ব্লুপ্রিন্ট বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছেন।

আরাগচি জানান, পুরো আলোচনা প্রক্রিয়াটি মূলত দুটি ধাপে বিভক্ত। প্রথম ধাপে আগামী এক বা দুই দিনের মধ্যে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। এই প্রাথমিক চুক্তি সই হওয়ার সাথে সাথেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করে রাখা ইরানের সমস্ত আর্থিক সম্পদ একযোগে মুক্তি দেওয়া হবে। এরপর শুরু হবে দ্বিতীয় ধাপ, যা প্রায় ৬০ দিন স্থায়ী হবে এবং এই সময়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য উভয় পক্ষ টেবিলে বসবে।

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, অতি-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং সামগ্রিক পারমাণবিক ইস্যুটিকে কৌশলেই প্রথম ধাপ থেকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয় ধাপের আলোচনার জন্য তোলা রাখা হয়েছে। আমেরিকা চেয়েছিল ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিক, কিন্তু ইরান তাদের অবস্থানে অনড়। আরাগচি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অতি-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনোভাবেই দেশের বাইরে পাঠানো হবে না, বরং তা ইরানের ভেতরেই তরল করা হবে এবং এটাই একমাত্র উপায়। দ্বিতীয় ধাপের ৬০ দিনের আলোচনায় আমেরিকার আরোপিত সব অবৈধ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চিরতরে প্রত্যাহারের বিষয়টি প্রধান এজেন্ডা হিসেবে থাকবে। যদি ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি সম্ভব না হয়, তবে পুরো পরিস্থিতি আবার আগের যুদ্ধকালীন অবস্থায় ফিরে যাবে বলে সতর্ক করেছে তেহরান।

রণাঙ্গনের পরিস্থিতি নিয়ে হুঙ্কার ছেড়ে আরাগচি বলেন, আমেরিকা-ইসরায়েলের অত্যাধুনিক ও পারমাণবিক সক্ষমতার অস্ত্র থাকা সত্ত্বেও এই অন্যায় যুদ্ধে ইরানই বিজয়ী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আমাদের কূটনীতি মূলত রণাঙ্গনের এই বিজয়কে চুক্তির মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে মাত্র। এই চুক্তির প্রথম শর্তই হচ্ছে ইরানের ওপর আমেরিকার দেওয়া অবৈধ নৌঅবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা। এছাড়া যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে একটি বিশাল অর্থনৈতিক পুনর্গঠন প্যাকেজ এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত, যার মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতিতে বিপুল আন্তর্জাতিক তহবিলের জোগান আসবে। ইতিহাসের এই প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দাপ্তরিকভাবে ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানাতে বাধ্য হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালী ও লেবানন নিয়ে নতুন সমীকরণ: চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের সমস্ত ফ্রন্টে একযোগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে এবং কোনো পক্ষই আর শক্তি প্রয়োগ করতে পারবে না। ওমানের সাথে যৌথভাবে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী ব্যবস্থাপনার জন্য আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি নতুন আইনি ও পরিচালন কাঠামো ঘোষণা করবে ইরান। তবে মার্কিন ব্লক বা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আগ পর্যন্ত প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সেখানে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকবে।

ইসরায়েলি শিবিরে চরম উদ্বেগ, নেতানিয়াহুর ক্ষোভ: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই আসন্ন শান্তি চুক্তিতে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তেল আবিব কোনোভাবেই এই যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে ছিল না। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েলের জনগণের সামনে যে রণকৌশলগত লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন, তা ছিল ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে উপড়ে ফেলা।

কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বর্তমান ব্যবস্থার সাথেই চুক্তি করে ফেলায় ইসরাইলি প্রশাসন ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের শর্ত নেতানিয়াহুর জন্য রাজনৈতিক অস্তিত্বের সংকট তৈরি করেছে, কারণ লেবানন সীমান্ত সুরক্ষিত না হলে উত্তর ইসরায়েলের বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ নাগরিক ঘরে ফিরতে পারবে না, যা আগামী ইসরায়েলি নির্বাচনে নেতানিয়াহুর পরাজয় নিশ্চিত করতে পারে। তাই চুক্তি সইয়ের আগের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠের লড়াইয়ে যতটা সম্ভব সুবিধা আদায়ের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে ইসরাইল। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা-রয়টার্স

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Elon Musk is the worlds first trillionaire

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হলেন ইলন মাস্ক

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হলেন ইলন মাস্ক ছবি: সংগৃহীত

রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে যাত্রা শুরুর পরপরই বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ বা লাখ কোটিপতি হওয়ার ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করেছেন ইলন মাস্ক। গত শুক্রবারের আগপর্যন্ত ‘ট্রিলিয়ন’ সংখ্যাটি কেবল গুটিকয় বড় অর্থনীতির জিডিপি কিংবা বিশাল ঋণের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হতে দেখা যেত, তবে এখন তা একজন ব্যক্তির একক সম্পদে পরিণত হয়েছে। প্রযুক্তি খাতের এই মহাতারকার সম্পদ যেভাবে লাফিয়ে বাড়ছে, তা আধুনিক বিশ্ব অর্থনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, স্পেসএক্সের দুর্দান্ত অভিষেকের পর মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ এখন ১ লাখ ১০ হাজার কোটি (১.১ ট্রিলিয়ন) ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২৬ সালের জুনের বিনিময় হার অনুযায়ী, বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১২৩ লাখ কোটি টাকা। অথচ একই সময়ে বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায়, প্রথম কোনো ব্যক্তির ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার এই ঘটনাকে অনেকে বৈষম্যের চরম উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

এক লাখ কোটি বা এক ট্রিলিয়ন সংখ্যাটি কল্পনা করাও সাধারণ মানুষের জন্য কঠিন। ১ ট্রিলিয়ন লিখতে ১-এর পর ১২টি শূন্য দিতে হয়। যদি এক ট্রিলিয়ন ডলারের কাগজের নোট একটার পর একটা লম্বালম্বিভাবে সাজানো হয়, তবে তা প্রায় ১৫ কোটি ৬০ লাখ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এটি পৃথিবী থেকে চাঁদে ২০০ বারের বেশি যাতায়াতের সমান দূরত্ব এবং পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যবর্তী দূরত্বকেও ছাড়িয়ে যাবে।

ইউএস সেনসাস ব্যুরোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় ৮২০ কোটি মানুষ বাস করছে। এই এক ট্রিলিয়ন ডলার যদি বিশ্বের প্রতিটি মানুষের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হয়, তবে প্রত্যেকে প্রায় ১২২ ডলার বা ১৫ হাজার টাকা করে পাবেন। এছাড়া এই বিশাল সম্পদ মাস্কের জন্মভূমি দক্ষিণ আফ্রিকার বার্ষিক জিডিপির দ্বিগুণেরও বেশি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্যমতে, বর্তমানে বিশ্বের মাত্র ২১টি দেশ এক ট্রিলিয়ন ডলার জিডিপির গণ্ডি পার করতে পেরেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারের চিত্র অনুযায়ী, মাস্কের এই সম্পদ দিয়ে বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ২৫ লাখ মাঝারি মানের বাড়ি একবারে কেনা সম্ভব। জ্বালানি তেলের বাজারেও এর প্রভাব ব্যাপক। বর্তমান চড়া দামেও এক ট্রিলিয়ন ডলার দিয়ে প্রায় ২৪ হাজার ৩০০ কোটি গ্যালন তেল কেনা যাবে, যা দিয়ে পুরো যুক্তরাষ্ট্রের সব গাড়ি প্রায় দুই বছর চালানো সম্ভব। উল্লেখ্য, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম প্রতি গ্যালন ৪ ডলার ছাড়িয়েছে।

সম্পদের দৌড়ে মাস্ক তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে গেছেন। ফোর্বসের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের চেয়ে মাস্ক এখন প্রায় ৭০ হাজার ৬০০ কোটি ডলার এগিয়ে। এমনকি তালিকার পরবর্তী চারজন শীর্ষ ধনীর—ল্যারি পেজ, সের্গেই ব্রিন, জেফ বেজোস ও ল্যারি এলিসন—মোট সম্পদ একত্রে যোগ করলেও তা মাস্কের একক সম্পদের কাছাকাছি পৌঁছাবে।

শেয়ারবাজারের ওঠানামার কারণে এই সম্পদের পরিমাণ যেকোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে। ২০২৪ সালে মাস্কের সম্পত্তি যেখানে ছিল মাত্র ১৯ হাজার ৫০০ কোটি ডলার, স্পেসএক্সের আইপিও আসার সুবাদে তা এখন রকেটের গতিতে বেড়ে এক ট্রিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। ব্যক্তিগত এই বিশাল প্রাচুর্য একদিকে যেমন প্রযুক্তির জয়জয়কার ঘোষণা করছে, অন্যদিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
North Korea tops US tech sector in cyber attacks
ক্রাউডস্ট্রাইকের প্রতিবেদন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে সাইবার হামলায় শীর্ষে উত্তর কোরিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে সাইবার হামলায় শীর্ষে উত্তর কোরিয়া ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর নিরাপত্তা এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ক্রাউডস্ট্রাইকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত রাষ্ট্র-সমর্থিত সাইবার অনুপ্রবেশের প্রায় অর্ধেক ঘটনার পেছনে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা জড়িত। পিয়ংইয়ং-সমর্থিত এই সাইবার গোষ্ঠীগুলো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কৌশলী ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ক্রাউডস্ট্রাইকের বার্ষিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, উত্তর কোরিয়ার ‘ফেমাস চোল্লিমা’ নামক একটি হ্যাকার গোষ্ঠী ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত প্রযুক্তি খাতের ওপর পরিচালিত রাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষকতা প্রাপ্ত সাইবার তৎপরতার ৪৭ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল। এই গোষ্ঠীটি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অন্যতম প্রধান সাইবার হুমকিতে পরিণত হয়েছে। তারা ভুয়া দূরবর্তী কর্মী বা রিমোট ওয়ার্কার সেজে চাকরি নেওয়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ডিপফেক ছবি ব্যবহার এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির মতো অভিনব সব পদ্ধতি কাজে লাগাচ্ছে।

ক্রাউডস্ট্রাইক জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার সাইবার অপারেটিভরা প্রায়ই নিজেদের সফটওয়্যার ডেভেলপার, প্রোগ্রামার বা আইটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠানে দূরবর্তী চাকরি লাভের চেষ্টা করে। তাদের এই জালিয়াতিকে বিশ্বাসযোগ্য করতে তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-নির্ভর ডিপফেক ছবি এবং চুরি করা পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে। এর মাধ্যমে তারা বৈধ চাকরিপ্রার্থীর ছদ্মবেশে প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক ও অত্যন্ত সংবেদনশীল অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে প্রবেশের সুযোগ পায়।

এই কৌশলী অনুপ্রবেশের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া মূলত দ্বিমুখী সুবিধা লাভ করছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছদ্মবেশী এসব কর্মীরা যে বেতন পায়, তা সরাসরি দেশটির সরকারের তহবিলে জমা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তারা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ মেধাস্বত্ব, গোপন ব্যবসায়িক তথ্য এবং অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে স্থায়ী প্রবেশাধিকার লাভ করে। অনেক ক্ষেত্রে হ্যাকাররা এই সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের হুমকি দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বড় অঙ্কের মুক্তিপণও দাবি করে থাকে।

প্রযুক্তি খাতের পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের বিশেষ নজর রয়েছে ব্লকচেইন ডেভেলপার ও ক্রিপ্টোকারেন্সি কোম্পানিগুলোর ওপর। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বৈশ্বিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এড়িয়ে যেতে দেশটি এখন সাইবার চুরির মাধ্যমে ডিজিটাল সম্পদ অর্জনের ওপর ক্রমবর্ধমান হারে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে, শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই উত্তর কোরিয়া-সংশ্লিষ্ট সাইবার অপরাধীরা প্রায় ২০০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি হাতিয়ে নিয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সাইবার অপরাধের মাধ্যমে তারা আরও কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্পদ আত্মসাৎ করেছে বলে ধারণা করা হয়।

ক্রাউডস্ট্রাইকের বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে যে, এই হ্যাকাররা সাধারণত ‘হ্যান্ডস-অন-কিবোর্ড’ পদ্ধতিতে হামলা চালায়। এসব হামলায় স্বয়ংক্রিয় ম্যালওয়্যারের পরিবর্তে প্রকৃত ব্যক্তিরা সরাসরি ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে কাজ করে। সাধারণত চুরি করা লগইন তথ্য ব্যবহার করে হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বৈধ সফটওয়্যার ও টুলসের অপব্যবহার করে। ফলে তারা দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে অবস্থান করতে পারে এবং প্রচলিত নিরাপত্তা সফটওয়্যারের নজর এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Trump agrees to release 24 billion dollars of Irans assets Mohsen Rezaei

ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করতে সম্মত ট্রাম্প: মহসেন রেজায়ি

ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করতে সম্মত ট্রাম্প: মহসেন রেজায়ি ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জব্দকৃত প্রায় ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ সম্পদ ফিরিয়ে দিতে রাজি হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইরানের শীর্ষস্থানীয় এক কর্মকর্তা। তবে এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা সরাসরি নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়নি। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির বরাতে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি শুক্রবার এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি প্রকাশ করেছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সিনিয়র উপদেষ্টা মহসেন রেজায়ি দক্ষিণ-পশ্চিমের শহর দেজফুলে এক জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় এই দাবি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতগুলো বিশ্ব দরবারে ইরানের সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। রেজায়ি আরও মন্তব্য করেন যে, ‘জুয়াড়ি ট্রাম্প’ এখন তেহরানের সাথে সরাসরি আলোচনায় বসতেও দ্বিধাবোধ করছেন। তার মতে, ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রতিরোধ ব্যবস্থার কারণেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের জব্দকৃত অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য হচ্ছে।

রেজায়ি তার বক্তব্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন যে, ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ইসরায়েলি লবিস্টদের প্রভাব এতই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, দেশটি বর্তমানে কার্যত ‘জায়নবাদী শাসনের’ একটি ‘উপনিবেশে’ পরিণত হয়েছে।

অন্যদিকে একই দিনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং উভয় পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের খুব কাছে অবস্থান করছে। এই চুক্তিটি আলোর মুখ দেখলে লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটবে এবং ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে পারবে।

এদিকে হোয়াইট হাউসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের সাথে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই চুক্তির বিনিময়ে ইরানের বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি স্থায়ীভাবে ভেঙে দেওয়ার কঠোর শর্ত আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। যদিও অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রেজায়ির দাবি অত্যন্ত জোরালো, তবে চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত কোন শর্তে স্বাক্ষরিত হয়, সেদিকেই এখন বিশ্ববাসীর নজর।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Uganda protests US travel restrictions due to Ebola

ইবোলার কারণে মার্কিন ভ্রমণ বিধিনিষেধ, উগান্ডার প্রতিবাদ

ইবোলার কারণে মার্কিন ভ্রমণ বিধিনিষেধ, উগান্ডার প্রতিবাদ ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেশী দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র থেকে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা সংক্রমণের জেরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশ উগান্ডার ওপর বিমান ভ্রমণের যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, তার তীব্র সমালোচনা করেছে কাম্পালা। উগান্ডা সরকার এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাকে ‘অন্যায্য’ হিসেবে অভিহিত করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রাণঘাতী ও রক্তক্ষরণজনিত এই ইবোলা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় উগান্ডার গৃহীত তড়িৎ পদক্ষেপগুলো বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে কঙ্গোতে প্রথম সতর্কতা জারির পর থেকে উগান্ডায় এখন পর্যন্ত ১৯ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে মাত্র দুজনের মৃত্যু হয়েছে। উল্লেখ্য, আক্রান্তদের প্রায় সবাই ছিলেন কঙ্গোর নাগরিক, যারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে উগান্ডায় প্রবেশ করেছিলেন। অন্যদিকে, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ১৫ মে থেকে এ পর্যন্ত ৬৭৬ জনেরও বেশি সংক্রমিত হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৩৬ জনের।

উগান্ডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব ডায়ানা আতউইন শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, উগান্ডার বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিমান চলাচলে এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, ‘সতর্কতার প্রয়োজন আমরা বুঝি। তবে সার্বিক নিষেধাজ্ঞা সেই দেশগুলোর ওপর আস্থাকে ক্ষুণ্ন করে, যারা সংক্রমণের তথ্য স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করে এবং এটি বাস্তব ঝুঁকির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস গত সোমবার উগান্ডা সফরকালে দেশটির প্রতিরোধমূলক কৌশলের প্রশংসা করেছিলেন। তবে শুক্রবার জাতিসংঘের এই স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে দিয়েছে যে, প্রতিবেশী গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের নতুন নতুন এলাকায় এই প্রাদুর্ভাব ক্রমশ বিস্তার লাভ করছে। উগান্ডা মনে করছে, তাদের স্বচ্ছতা এবং কার্যকর পদক্ষেপের পরও এ ধরনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতি ও পর্যটন খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Iran destroyed nuclear tunnels to hide uranium stockpile
মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট

ইউরেনিয়ামের মজুত লুকাতে পরমাণু কেন্দ্রের সুড়ঙ্গ ধ্বংস করেছে ইরান

ইউরেনিয়ামের মজুত লুকাতে পরমাণু কেন্দ্রের সুড়ঙ্গ ধ্বংস করেছে ইরান ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র যাতে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুত দখল করতে না পারে, সেই লক্ষ্যে তেহরান তাদের ইসফাহান পরমাণু কেন্দ্রের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গগুলো পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান এই পদক্ষেপ নিয়েছে এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা হিসেবে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথগুলোতে মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুদ্ধের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের পরমাণু মজুত জব্দে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছিলেন, সেই সময়ের তুলনায় বর্তমানে ইসফাহান থেকে ইউরেনিয়াম উদ্ধার করা যেকোনো পক্ষের জন্যই অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এমনকি খোদ ইরানিদের জন্যও এই ধ্বংসস্তূপ থেকে ইউরেনিয়াম বের করা এখন প্রায় অসম্ভব।

পরমাণু খাতের একজন সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, ইরানের এই কৌশলগত পদক্ষেপ এক নতুন সংকট সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মুখে তেহরান হয়তো দাবি করবে, ধ্বংসপ্রাপ্ত সুড়ঙ্গগুলো থেকে পরমাণু উপাদান উদ্ধার করা তাদের পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। অথচ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে যে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, সেখানে এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নির্ধারণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মার্কিন ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সংশ্লিষ্ট শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা স্কট রোকার জানান, যদি সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী ইরানকে তাদের মজুতকৃত ইউরেনিয়াম অপসারণ বা রূপান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়, তবে তার পূর্ণ তালিকা প্রদান ও উদ্ধারের দায়ভার তেহরানের ওপরই থাকবে।

রোকার আশঙ্কা করছেন, ইরান এই সুযোগে কিছু উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধরাছোঁয়ার বাইরে বলে দাবি করতে পারে। তার মতে, ফলে ভবিষ্যতে ইরান যেকোনো সময় গোপনে সেই ইউরেনিয়ামের নাগাল পাবে না—এমন নিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক মহলের কাছে থাকবে না।

মন্তব্য

p
উপরে