20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
সাধারণ মানুষের কণ্ঠ চেপে ধরা হচ্ছে: সোনিয়া

সাধারণ মানুষের কণ্ঠ চেপে ধরা হচ্ছে: সোনিয়া

‘দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর চেপে ধরার চেষ্টা চলছে। আমার বিশ্বাস, কংগ্রেস নেতারা মোদি সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে এবং বিজেপির দেশবিরোধী কার্যকলাপকে কখনই সফল হতে দেবে না। আমাদের লক্ষ্য মানুষের পাশে থাকা।’ 

‘সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর চেপে ধরার চেষ্টা চলছে।’

সর্বভারতীয় কংগ্রেসের পদাধিকারীদের সঙ্গে এক বৈঠকে দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে এভাবেই নরেন্দ্র মোদির সরকারকে আক্রমণ করলেন সোনিয়া গান্ধী।

তিনি বলেন, ‘দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর চেপে ধরার চেষ্টা চলছে। আমার বিশ্বাস, কংগ্রেস নেতারা মোদি সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে এবং বিজেপির দেশবিরোধী কার্যকলাপকে কখনই সফল হতে দেবে না। আমাদের লক্ষ্য মানুষের পাশে থাকা।’

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও বিভিন্ন রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নিয়ে রোববার বৈঠক করেন সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী।

ওই বৈঠকেই নতুন কৃষি আইন, দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, কোভিড পরিস্থিতি এবং ভারতের অর্থনীতির বেহাল দশা নিয়ে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি।

সরকারের জনবিরোধী পদক্ষেপগুলোর বিরুদ্ধে মানুষকে সংগঠিত করে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেন কংগ্রেস সভানেত্রী। বিহার বিধানসভার নির্বাচন ও মধ্যপ্রদেশ বিধানসভার ২২টি আসনের উপনির্বাচনের আগে সোনিয়া গান্ধীর এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এদিন বৈঠকে নতুন কৃষি আইনের প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেস সভানেত্রী বলেন, ‘সবুজ বিপ্লবকে চাপা দেওয়ার জন্য গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। কৃষকদেরকে বৃহৎ করপোরেটের কাছে বন্ধক দেওয়ার ব্যবস্থা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই কৃষি আইনের মধ্য দিয়ে শুধুমাত্র বড় ব্যবসায়ীদের স্বার্থ দেখতে গিয়ে ছোট ও মাঝারি কৃষক, ক্ষেতমজুরদের দুর্দিন ডেকে আনা হচ্ছে। সার্বিকভাবে প্রান্তিক মানুষের জীবন-জীবিকা সংকটের মুখে পড়ে গিয়েছে।’

দেশে ক্রমবর্ধমান দলিত নিগ্রহের কথা বলতে গিয়ে তিনি হাথরাসের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিষয় উল্লেখ করেন।

সোনিয়া বলেন, ‘মোদি সরকারের আমলে দলিতদের ওপর আক্রমণ মাত্রা ছাড়িয়েছে। কখনও ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা, কখনও জাতপাতের বিভাজন এই চলছে দেশে। বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোতে জঙ্গলের রাজত্ব কায়েম হয়েছে।’

কোভিড সংক্রমণ মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে সোনিয়া গান্ধী বলেন, ‘দেশজুড়ে অপরিকল্পিত লকডাউন ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ২১ দিনের মধ্যে করোনাকে শেষ করবেন। তা তো হয়নি, বরং দেশের অর্থনীতিকে তিনি পৌঁছে দিয়েছেন খাদের কিনারায়। একদিকে বেকারদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই, অন্যদিকে কোভিড পরিস্থিতিতে কাজ হারিয়েছেন ১৪ কোটি মানুষ।

‘আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণার নামে কেন্দ্রীয় সরকার শুধু চমক দেওয়ার চেষ্টা করছে। আদতে মানুষের সুরাহা হচ্ছে না। পরিকল্পনাহীন লকডাউনে দিশাহারা পরিযায়ী শ্রমিক; নিজভূমে ফেরার তাড়নায় রাজপথে, রেলপথে প্রাণ হারিয়েছে।’

শেয়ার করুন