অভ্যুত্থানের বার্ষিকীতে লেবাননে বিক্ষোভ

অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিতে বিক্ষোভ করেছে লেবাননের জনগণ। ছবি: এপি

অভ্যুত্থানের বার্ষিকীতে লেবাননে বিক্ষোভ

রাতের দিকে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধে। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে একপর্যায়ে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ।

গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সরকার পতনের এক বছর পূর্তিতে বিক্ষোভ করেছে লেবাননের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

স্থানীয় সময় শনিবার দেশটির রাজধানী বৈরুতে বিক্ষোভে অংশ নেন এক হাজারেরও বেশি মানুষ।

ওই সময় লেবাননের পতাকা ও ব্যানার হাতে রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পেরিয়ে বৈরুত বন্দরের ধ্বংসস্তূপের দিকে অগ্রসর হন।

৪ আগস্ট ভয়াবহ বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত হয় বৈরুত বন্দর। ওই ঘটনায় ১৯০ জনেরও বেশি নিহত ও সাড়ে ছয় হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হন।

বিস্ফোরণের জন্য দেশটির ক্ষমতাসীন দলের দুর্নীতি ও অযোগ্যতাকে দায়ী করেন বিশেষজ্ঞরা।

তালা লাদকি নামে ২৫ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘গত এক বছরে দেশে অনেক কিছুই ঘটেছে। ওই সব ঘটনার নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে আমি ওয়াকিবহাল। জানি, এটা একটা লড়াই। আমি এখনও আশাবাদী। তারপরও গত বছরের তুলনায় এ বছর একটু বেশি ক্লান্ত।’

রাতের দিকে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধে। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে একপর্যায়ে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন এক বিবৃতিতে বিক্ষোভকারীদের ফের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।

তিনি বলেন, ‘জনপ্রিয় আন্দোলনের পর এক বছর কেটে গেছে। সংস্কারের দাবি পূরণে একসঙ্গে কাজ করতে আমি এখনও রাজি।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়া কোনো সংস্কারকাজ সম্ভব নয়। আর সংস্কারের জন্য খুব একটা দেরিও হয়নি।’

লেবাননে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ক্রিস র‍্যাম্পলিং টুইটবার্তায় বলেন, ‘প্রশাসনে ভালো মানুষ আছেন। তাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। লেবাননের জনগণের সঙ্গে আমি আছি।’

তিনি বলেন, ‘আশাহত না হওয়ার কারণ রয়েছে। অত্যাবশ্যকীয় পরিবর্তন ও বিদ্যমান নিষিদ্ধ বিষয় নিয়ে এখন প্রকাশ্যে তর্ক হচ্ছে।’

এদিকে লেবাননবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ সমন্বয়ক ইয়ান কুবিশ এক বিবৃতিতে আবারও দেশটিতে সংস্কারপন্থি সরকারের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারকে অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত সংস্কারেরও আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘লেবাননবাসী কী ধরনের সংস্কার চান, তা এখন সবাই জানে। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বারবার সেসব বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু আদতে কিছুই করেনি। এতে বিদ্যমান অচলাবস্থা স্থায়ী রূপ নিয়েছে।’

গণঅভ্যুত্থানের পরপরই লেবানন অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে। এ ছাড়া করোনাভাইরাস ও বৈরুতের ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর দেশটির বর্তমান অবস্থা বেশ নাজুক।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

শেয়ার করুন

ঘূর্ণিঝড় তাউতে: মুম্বাইয়ে সমুদ্রে নিখোঁজ ৯০ জন

ঘূর্ণিঝড় তাউতে: মুম্বাইয়ে সমুদ্রে নিখোঁজ ৯০ জন

ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় তাউতে আছড়ে পড়েছে গুজরাট উপকূলে। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের নৌবাহিনী জানিয়েছে, তারা ওই নৌযানের ২৭০ কর্মী ও ক্রুর মধ্যে এখন পর্যন্ত উদ্ধার করেছে ১৭৭ জন।

ঘূর্ণিঝড় তাউতের তাণ্ডবে ভারতের মুম্বাইয়ের উপকূলে ডুবে যাওয়া বার্জের ৯০ জনের বেশি কর্মী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

দেশটির নৌবাহিনী জানিয়েছে, তারা ওই নৌযানের ২৭০ কর্মী ও ক্রুর মধ্যে এখন পর্যন্ত উদ্ধার করেছে ১৭৭ জন। উদ্ধার অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে তারা।

সংবাদ সংস্থা বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ডুবে যাওয়া বার্জটির মালিক দেশটির ওয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস করপোরেশন। এসময় বার্জে থাকা কর্মীরা উপকূলে প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্রে খনন কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এসময় ঝড়ের আঘাতে বার্জটি ডুবে যায়।

শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় তাউতের তাণ্ডবের মূখে মুম্বাই উপকূলে আটকে পড়ে তিনটি বার্জ। এই তিনটি নৌযানে কমপক্ষে সাত শতাধিক মানুষ ছিল।

দেশটির নৌবাহিনীর তিন যুদ্ধজাহাজ দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে ২০ থেকে ২৫ ফুট উচ্চতার বিশাল ঢেউয়ের কারণে উদ্ধার কাজ বাধাগ্রস্ত হয়। এসময় উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয় একাধিক উড়োজাহাজ।

ঘূর্ণিঝড় তাউতে

‘তাউতে’ নামটি মিয়ানমারের দেয়া। এর অর্থ হল অতি উচ্চ স্বরযুক্ত টিকটিকি।

চলতি মৌসুমে ভারতে এটিই প্রথম ঘূর্ণিঝড়। এর তীব্রতা গত বছরের সুপার সাইক্লোন আমফানের মতো হবে কিনা তা জানা যায়নি।

ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রস্তুতি যাচাইয়ে শনিবার বিশেষ বৈঠকে করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কেন্দ্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি।

রোববার পর্যন্ত অতি ভারী বৃষ্টি ও ধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে কেরল, কর্নাটক ও গোয়ার একাধিক জেলায়। সৌরাষ্ট্র, কচ্ছসহ গুজরাটের একাধিক এলাকায় মঙ্গল বা বুধবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

শেয়ার করুন

ইসরায়েল ও হামাসের পাল্টাপাল্টি হামলা আবারও শুরু

ইসরায়েল ও হামাসের পাল্টাপাল্টি হামলা আবারও শুরু

গাজায় একাধিক ভবনকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের বিমান হামলা শুরু হয় ১৮ মে। ছবি: রয়টার্স

সংঘাতের জন্য হামাসকে অভিযুক্ত করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গান্টস এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘গাজায় হামাসের শক্তিকে পুরোপুরি দমিয়ে না দেয়া পর্যন্ত বিমান হামলা অব্যাহত থাকবে।’

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের বিমান হামলা ও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামাসের রকেট ছোড়া আবারও শুরু হয়েছে।

সোমবার রাতজুড়ে যুদ্ধবিরতির নানা চেষ্টার মধ্যে শুরু হয়েছে এমন পাল্টাপাল্টি হামলা। ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি কার্যকরের চেষ্টায় এরই মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

মঙ্গলবার গাজায় বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান থেকে অন্তত ২৪টি হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এ খবর প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

এদিকে, ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে গাজা সীমান্তে হামাসের রকেট হামলায় থাইল্যান্ডের দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

সংঘাতের জন্য হামাসকে অভিযুক্ত করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গান্টস এক ভিডিও বার্তায় জানান, গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে সংঘাতপূর্ণ এমন পরিস্থিতির জন্য হামাসই দায়ী। এ খবর প্রকাশ করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

তিনি আরও বলেন, ‘গাজায় হামাসের শক্তিকে পুরোপুরি দমিয়ে না দেয়া পর্যন্ত বিমান হামলা অব্যাহত থাকবে।’

গত ১০ মে সংঘাত শুরুর পর যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো নেতানিয়াহুকে ফোন করেছেন জো বাইডেন। তবে ইসরায়েলি হামলা পুরোপুরি বন্ধের বিষয়ে এখনও গড়িমসি করছে মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্র।

গাজায় সাম্প্রতিক হামলায় ৬১ শিশুসহ কমপক্ষে ২১৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছে অন্তত ১ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি নাগরিক। অন্যদিকে, হামাসের রকেট হামলায় দুই শিশুসহ ইসরায়েলের ১০ নাগরিক নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত তিন শতাধিক ইসরায়েলি।

শেয়ার করুন

ভারতে করোনা: আক্রান্ত কমলেও বাড়ছে মৃত্যু

ভারতে করোনা: আক্রান্ত কমলেও বাড়ছে মৃত্যু

গণচিতা সাজিয়ে দাহ করার জন্য রাখা হয়েছে করোনায় মৃতদের দেহ। ছবি: পিটিআই

একের পর এক গ্রাম উজাড় হয়ে যাচ্ছে। পরিবারের সকলেই মারা যাচ্ছেন। তার পর তাদের দেহ হয়তো ভাসিয়ে দেয়া হচ্ছে নদীতে। বহু গ্রামে ক্ষেত খালি পড়ে রয়েছে। কারণ কাজ করার লোক নেই।

করোনায় মৃত্যুতে আবারও বিশ্ব রেকর্ড হয়েছে ভারতে।

মঙ্গলবার সকালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দেয়া পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এক দিনে করোনায় মারা গেছেন ৪ হাজার ৩২৯ জন।

করোনায় বিশ্বে এক দিনে এখন পর্যন্ত এটাই রেকর্ড। সাত দিন আগে এই সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ২০৫। যা সেই সময় অনুযায়ী সর্বোচ্চ ছিল।

কিন্তু প্রশ্ন জাগছে অন্য ক্ষেত্রে। গত কয়েক দিনে ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা বেশ কিছুটা কমেছে। সাধারণ হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যাও কমার কথা। কিন্তু দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পরিসংখ্যান বলছে উল্টো কথা। আক্রান্ত কমলেও বাড়ছে মৃত্যু।

গ্রামেও এখন থাবা বসিয়েছে করোনা। গ্রাস করছে একের পর এক পরিবার। অনেক পরিবারেই দেখা গেছে, কেউই আর বেঁচে নেই। অর্ধেকের বেশি গ্রাম ধুঁকছে জ্বরে। শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। এমনটাই বলা হচ্ছে এক প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সরকারি পরিসংখ্যান যা বলছে, বাস্তবে তার থেকে অনেক বেশি মানুষ মারা যাচ্ছেন। অর্ধেক লোকের সংক্রমণ ধরাই পড়ছে না। তার আগেই মারা যাচ্ছেন। তার পর চিকিৎসকরা মৃত্যুর কারণ হিসেবে লিখে দিচ্ছেন অন্য কিছু। ধামাচাপা দিচ্ছেন কোভিডের কথা।

দিল্লি থেকে মাত্র দেড় ঘণ্টার রাস্তা পেরিয়ে বাস্সী। উত্তরপ্রদেশের এই গ্রামে গত কয়েক দিনে অসুস্থ হয়েছেন সাড়ে পাঁচ হাজার মানুষ। যা ওই গ্রামটির মোট জনসংখ্যার এক–তৃতীয়াংশ।

গত তিন সপ্তাহে মারা গিয়েছেন ৩০ জন। গ্রামে কোনো চিকিৎসক নেই, স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই, অক্সিজেন নেই।

স্থানীয় কৃষক সংগঠনের নেতা সঞ্জীব কুমার জানান, বেশির ভাগেরই মৃত্যু হয়েছে অক্সিজেনের অভাবে। যাদের অবস্থার অবনতি হচ্ছে, তাদের জেলার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

যাদের সমস্যা বাড়ছে, তাদের চার ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে দূরে হাসপাতালে ভর্তি করানোর চেষ্টা চলছে। অনেকেরই মৃত্যু হচ্ছে পথে।

শুধু উত্তরপ্রদেশ নয়, গোটা দেশের গ্রামেই এই ছবি। একের পর এক গ্রাম উজাড় হয়ে যাচ্ছে। পরিবারের সকলেই মারা যাচ্ছেন। তার পর তাদের দেহ হয়তো ভাসিয়ে দেয়া হচ্ছে নদীতে। বহু গ্রামে ক্ষেত খালি পড়ে রয়েছে। কারণ কাজ করার লোক নেই।

দেশের বেশ কিছু রাজ্য থেকে কয়েক সপ্তাহ ধরে মৃত্যুহার বৃদ্ধির খবর আসছে। মহারাষ্ট্রে সোমবার মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ১৯ জনের। শনিবার থেকে সোমবারের মধ্যে মারা গেছেন ২৮৯ জন। এক সপ্তাহ আগে এই সংখ্যা ছিল ২২৭। এর আগের সপ্তাহে মৃত্যু হয়েছিল ৮৪৮ জনের।

অন্যান্য রাজ্যেও পরিস্থিতি এক। তবে হিসাবেও ভুল থাকছে। মার্চের মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে এপ্রিলে এমনটা দেখা গিয়েছে কর্ণাটকে। মহারাষ্ট্রেও তেমন গড়মিল রয়েছে। এই মুহূর্তে পাঁচটি রাজ্য—মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ুতে – প্রতিদিন গড়ে কমপক্ষে ৩০০ জনের মৃত্যু হচ্ছে। উত্তরাখণ্ডের মতো অপেক্ষাকৃত ছোট একটি রাজ্যে ২২৩ জন মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে নথিভুক্ত সময়ের আগে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী এপ্রিল কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সবচেয়ে মারাত্মক মাস হিসেবে চিহ্নিত থাকবে। ৬৬ হাজার ৮৬৬টি মৃত্যু দেখেছে এই মাসটি। শুধু মৃত্যু নয়, সংক্রমণের বাড়বাড়ন্তের দিক থেকেও। ৭০ লাখ মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন এই মাসে।

শেয়ার করুন

তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকাডুবি: ৩৩ বাংলাদেশি উদ্ধার

তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকাডুবি: ৩৩ বাংলাদেশি উদ্ধার

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মুখপাত্র ফ্লাভিও ডি গিয়াকোমো এএফপিকে বলেন, ‘৩৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে, তাদের সবাই বাংলাদেশ থেকে আসা। অন্তত ৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তারা কোন দেশের আমরা জানি না।’

লিবিয়া থেকে ছেড়ে আসা ইউরোপগামী একটি নৌকা তিউনিসিয়ার উপকূলে ডুবে গেছে। এতে ৫০ জনের বেশি যাত্রী নিখোঁজ হয়েছে। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৩৩ জনকে।

তিউনিসিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, জীবিতদের সবাই বাংলাদেশি নাগরিক।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহামেদ জিকরি জানিয়েছেন, জীবিতরা তিউনিসিয়ার দক্ষিণ উপকূলে ডুবে যাওয়া নৌকাটির পাশেই তেলের একটি প্ল্যাটফর্ম ধরে ভাসছিলেন।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মুখপাত্র ফ্লাভিও ডি গিয়াকোমো এএফপিকে বলেন, ‘৩৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে, তাদের সবাই বাংলাদেশ থেকে আসা। অন্তত ৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তারা কোন দেশের আমরা জানি না।’

ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে ৯০ জনের বেশি যাত্রী ধরার সক্ষমতা ছিল। সেটি রোববার লিবিয়ার জুওয়ারা বন্দর থেকে ছেড়ে যায়। নৌকাটি ডোবার তাৎক্ষণিক কোনো কারণ জানা যায়নি।

উত্তর আফ্রিকান উপকূল ঘেঁষে ইউরোপ যাত্রার নৌযানগুলোতে প্রায়ই ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী বহন করা হয়। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে কোস্টগার্ডের দিক নির্দেশনা উপেক্ষা করেই রাতের বেলায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপমুখী হয় এসব ভঙ্গুর নৌযান। এতে অনেক মানুষের প্রাণ যায়।

তিউনিসিয়ার উদ্ধারকারীরা জীবিত ৩৩ জনকে উদ্ধার করে জারজিস বন্দরে নিয়ে এসেছে, যা উত্তর-পশ্চিম উপকূলের জুওয়ারা বন্দর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গত বছর ভূমধ্যসাগরে অন্তত ১২ শ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এদের বেশির ভাগেরই মৃত্যু হয়েছে সাগরটির মাঝের অংশে।

জলপথে ইউরোপে প্রবেশের মূল প্রবেশদ্বার হলো লিবিয়া উপকূল। আইওএম বলছে, ২০২১ সালের শুরু থেকে উত্তর আফ্রিকার উপকূল বেয়ে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপে পাড়ি দিতে গিয়ে প্রতি মাসে পাঁচ শর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবারও তিউনিসিয়ার নৌবাহিনী জানিয়েছে, তারা ডুবুডুবু একটি নৌকা থেকে এক শর বেশি অভিবাসন প্রত্যাসী ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছেন, যাদের বেশির ভাগই বাংলাদেশ ও সুদানের।

ইউরোপে অভিবাসন প্রত্যাসীদের নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে যাওয়া কয়েকটি নৌকা রোববার আটকে দেয় লিবিয়ার কোস্টগার্ড। তীরে নিয়ে আসা হয় যাত্রীদের।

ডি গিয়াকোমো বলেন, ‘দুই দিন আগে সাগরে প্রায় ৬৮০ জনকে বাধা দেয়া হয়েছে। লিবিয়ানদের সহায়তায় তাদেরকে লিবিয়ায় ফেরত আনা হয়। এখন পর্যন্ত ২০২১ সালে প্রায় ৯ হাজার জনকে সাগর পাড়ি দিতে বাধা দেয়া হয়েছে এবং তাদের লিবিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়েছে।’

শেয়ার করুন

আদালতের রায় উপেক্ষা করে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো মসজিদ

আদালতের রায় উপেক্ষা করে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো মসজিদ

স্থানীয় ইমাম ও মসজিদ কমিটির সদস্য মওলানা আব্দুল মুস্তাফা বলেন, ‘এলাকার সব মুসলমান ভীত ছিল। তাই মসজিদ ভাঙার সময় তারা কেউ এর কাছাকাছি যায়নি বা প্রতিবাদ করারও সাহস পায়নি। এখনও পুলিশের ভয়ে নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্য এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন বেশ কয়েকজন মুসলমান।’

ভারতের উত্তর প্রদেশে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কয়েক দশকের পুরোনো একটি মসজিদ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এর আগে ১৯৯২ সালে একই রাজ্যের অযোধ্যা শহরে বাবরি মসজিদ ভেঙে দেয় হিন্দু জাতীয়তাবাদী লোকজন।

মসজিদ কমিটির নথির বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, উত্তর প্রদেশের রাম সানেহি ঘাট শহরের ওই মসজিদটি ছয় দশকের পুরোনো।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার মসজিদ এলাকা খালি করে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী। একপর্যায়ে বুলডোজার এনে মসজিদটি ভেঙে দেয়া হয়। মসজিদের ধ্বংসাবশেষ পরে নদীতে ফেলা হয়।

মসজিদটি যেখানে ছিল, সেখান থেকে এক মাইলের মধ্যে যাতে কেউ প্রবেশ করতে না পারে, এজন্য নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

উত্তর প্রদেশ রাজ্য বর্তমানে শাসন করছে ভারতের ক্ষমতাসীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন বিজেপি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিজেপি নেতা যোগী আদিত্যনাথ দেশটির ধর্মীয় সংখ্যালঘু মুসলমানদের হরহামেশাই সন্ত্রাসী তকমা দেন। রাজ্যের মুসলমান জনগোষ্ঠীর জন্য বৈষম্যমূলক আইনও পাস করেন তিনি।

রাম সানেহি ঘাট শহরের স্থানীয় ইমাম ও মসজিদ কমিটির সদস্য মওলানা আব্দুল মুস্তাফা বলেন, ‘মসজিদটি কয়েক শ বছরের পুরোনো। প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার মানুষ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে আসতেন।’

তিনি বলেন, ‘এলাকার সব মুসলমান ভীত ছিলেন। তাই মসজিদ ভাঙার সময় তারা কেউ এর কাছাকাছি যাননি বা প্রতিবাদ করারও সাহস পাননি। এখনও পুলিশের ভয়ে নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্য এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন বেশ কয়েকজন মুসলমান।’

মসজিদ ভাঙার বিষয়ে আদর্শ সিং নামের এক জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘মসজিদের বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না। খালি জানি, সেখানে একটি অবৈধ স্থাপনা ছিল। উত্তর প্রদেশ হাইকোর্ট এটিকে অবৈধ বলে রায় দেয়। এ কারণে আঞ্চলিক জ্যেষ্ঠ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওই স্থাপনা ভাঙার বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছেন। এর বেশি কিছু বলতে চাই না।’

মসজিদের অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আপত্তি তুলে আসছিল স্থানীয় প্রশাসন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ মার্চ মসজিদ কমিটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠায় তারা। এতে বলা হয়, মসজিদ ভবনের অবস্থান কীভাবে বাছাই করা হয়েছে, তা বিস্তারিত জানাতে হবে। পাশাপাশি ওই ভবনকে অবৈধ স্থাপনা হিসেবে উল্লেখ করে ভেঙে দেয়ারও ইঙ্গিত দেয়া হয়।

কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবে ১৯৫৯ সাল থেকে মসজিদটির বিদ্যুৎ সংযোগের নথিসহ মসজিদ স্থাপনার পক্ষে বিস্তারিত ব্যাখ্যা লিখে পাঠায় কমিটি। অবশ্য ওই জবাব অফিশিয়াল রেকর্ডভুক্ত করেনি স্থানীয় প্রশাসন।

স্থাপনাটি ভাঙা হতে পারে এ উদ্বেগের জায়গা থেকে ১৮ মার্চ উত্তর প্রদেশ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় মসজিদ কমিটি। মসজিদটি ভেঙে দেয়ার পক্ষে স্থানীয় প্রশাসনের কয়েকটি বক্তব্যের (এটি অবৈধভাবে নির্মিত ও যান চলাচলে বাধা দিচ্ছে) ব্যাখ্যা চায় হাইকোর্ট। যদিও মসজিদটি কোনোভাবে রাস্তার ওপর গড়া হয়নি।

পরবর্তী সময়ে মসজিদটিতে প্রবেশ বন্ধ করতে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ শুরু করে প্রশাসন।

১৯ মার্চ জুমার নামাজের সময় স্থানীয় মুসল্লিদের মসজিদটিতে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভে নামেন বেশ কয়েকজন মুসলমান। প্রতিবাদ দমাতে ৩৫ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ছাড়া বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ রিপোর্টও দেয়া হয়।

স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে উদ্বিগ্ন হয়ে এপ্রিল মাসে হাইকোর্টে জনস্বার্থে একটি মামলা করে মসজিদ কমিটি। ২৪ এপ্রিল হাইকোর্টের পক্ষ থেকে বলা হয়, ৩১ মে পর্যন্ত মসজিদটি কোনোভাবে বেদখল বা ভেঙে দেয়া যাবে না।

মসজিদ ভাঙার পর উত্তর প্রদেশের সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান জাফুর আহমেদ ফারুকি বলেন, ‘অবৈধ ও জবরদস্তিমূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। তারা ১০০ বছর আগের মসজিদ গুঁড়িয়ে দিয়েছে।’

শেয়ার করুন

করোনায় এতিম হওয়াদের পড়াশোনার দায়িত্ব নিল দিল্লি

করোনায় এতিম হওয়াদের পড়াশোনার দায়িত্ব নিল দিল্লি

মহামারিতে মা-বাবা হারানো শিশুদের ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত পড়াশোনার দায়িত্ব নেয়ার কথা জানিয়েছেন নয়াদিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ফাইল ছবি। 

কেজরিওয়াল বলেন, ‘মহামারিতে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী হারিয়েছে এবং এতিম হয়েছে এমন শিশুরা ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতি মাসে ২,৫০০ রুপি দিল্লি সরকারের কাছ থেকে পাবে। তাদের শিক্ষা পুরোপুরি অবৈতনিক করা হয়েছে।’

করোনাভাইরাস মহামারিতে মা-বাবা হারানো শিশুদের ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত পড়াশোনার দায়িত্ব নেয়ার কথা জানিয়েছেন নয়াদিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ পরিবারের মাঝে মঙ্গলবার বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা দেয়ার ঘোষণার সময় এ কথা বলেন কেজরিওয়াল।

তিনি বলেন, ‘মহামারিতে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী হারিয়েছে এবং এতিম হয়েছে এমন শিশুরা ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিমাসে ২,৫০০ রুপি দিল্লি সরকারের কাছে থেকে পাবে। তাদের শিক্ষা পুরোপুরি অবৈতনিক করা হয়েছে।’

টেলিভিশনে প্রচারিত ভাষণে কেজরিওয়াল আরও বলেন, ‘মহামারিতে অনেক শিশু তাদের বাবা-মাকে হারিয়েছে। এমন এতিমদের নিজেদের নিঃস্ব ও অসহায় ভাবার কারণ নেই। আমি তাদের পাশে থাকব সব সময়।’

দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ খবর প্রকাশ পেয়েছে।

কেজরিওয়াল আরও বলেন, ‘করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতি পরিবারকে দেয়া এককালীন ৫০ হাজার রুপির বরাদ্দ এর বাইরে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, ‘পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী স্বামী যদি করোনায় মারা যান তবে বেঁচে যাওয়া স্ত্রী এই অর্থ সহায়তা পাবেন। আমরা বুঝতে পারি স্বজনহারা পরিবারের আহাজারি। আমরা তাদের আপনজনদের পারিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারব না। তবে আমরা স্বজনহারা পরিবারের পাশে আমাদের সাধ্যমতো সহায়তা নিয়ে দাঁড়াতে পারব।’

কেজরিওয়াল আরও জানান মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত ৭২ লাখ পরিবার প্রতি মাসে ১০ কিলোগ্রাম করে বিনা মূল্যে খাদ্যসামগ্রী পাবেন। এর অর্ধেক দেবে তার দল আম আদমি পার্টি। আর বাকি অর্ধেক রাজ্য সরকারের তহবিল থেকে দেয়া হবে।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাবে বিপর্যস্ত ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিও। কয়েক সপ্তাহ আগেও সেখানে দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা ছিল কমপক্ষে ৩০ হাজার। গত সোমবার থেকে শনাক্তের সংখ্যা নেমে এসেছে পাঁচ হাজারের নিচে।

শেয়ার করুন

ভারত: করোনার থাবায় গ্রামে নিশ্চিহ্ন গোটা পরিবার

ভারত: করোনার থাবায় গ্রামে নিশ্চিহ্ন গোটা পরিবার

করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত দুই জনের ছবি হাতে কৃষিজীবী সম্প্রদায়ের নেতা সঞ্জীব কুমার। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে দেড় ঘণ্টার পথ ‘বাসি’ গ্রাম। এই গ্রামের এক-তৃতীয়াংশ বাসিন্দা গত তিন সপ্তাহের ব্যবধানে সংক্রমিত হয়েছেন। এ সময় প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ৩০ জন।

করোনাভাইরাস মহামারিতে ভারতের বড় শহরগুলো বিধ্বস্ত হবার পর এখন এর ধ্বংসলীলা শুরু হয়েছে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে।

পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় গ্রামগুলোতে অনেক পরিবারের সব সদস্যই প্রাণ হারিয়েছেন।

রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে দেড় ঘণ্টার পথ ‘বাসি’ গ্রাম। এই গ্রামের এক-তৃতীয়াংশ বাসিন্দা (কমপক্ষে সাড়ে পাঁচ হাজার জন) গত তিন সপ্তাহের ব্যবধানে সংক্রমিত হয়েছেন। এ সময় প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ৩০ জন।

এই গ্রামে কোনো স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা, চিকিৎসক ও অক্সিজেন সিলিন্ডার নেই। শহরের শিক্ষিত বাসিন্দারা যেমনি টুইটার বার্তায় সহায়তার কথা জানাতে পারেন, তেমন করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দারা পারেন না।

কৃষিজীবী সম্প্রদায় থেকে নবনির্বাচিত নেতা সঞ্জীব কুমারের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দার মৃত্যু হচ্ছে অক্সিজেন সিলিন্ডার না থাকায়।

আক্রান্ত ও গুরুতর অসুস্থদের অনেককে কয়েক ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে অনেককেই সময়মতো নেয়া যায়নি।

গত সপ্তাহে ‘নেইন’ নামের পরিবারের একজন বয়োজ্যেষ্ঠ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। কুমারসাইন নেইন নামের ওই ব্যক্তি থেকে তার বড় ছেলে সংক্রমিত হয়। তাদের দুইজনের অবস্থার অবনতি হলে তাদের সদর হাসপাতালে নেয়ার জন্য অক্সিজেন সুবিধাসহ কোনো অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায়নি। চিকিৎসার অভাবে তাদের দুজনেরই মৃত্যু হয়।

‘বাসি’ গ্রামের প্রতিনিধি আরও বলেন, ‘গ্রামে এখন আর কোনো মানুষেরই দেখা মেলে না। কেউই ঘরের বাইরে যেতে সাহস পান না।

চিকিৎসাসেবার এমন বেহাল চিত্র অধিকাংশ গ্রামগুলোতেই দেখা যায়। অন্তত ১৮টি গ্রামের প্রতিনিধিরা এমন হতাশার কথা জানান।

শেয়ার করুন