প্যারিসে শিরশ্ছেদ ইসলামপন্থি সন্ত্রাসীদের কাজ: মাখোঁ

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। ছবি: এপি

প্যারিসে শিরশ্ছেদ ইসলামপন্থি সন্ত্রাসীদের কাজ: মাখোঁ

মাখোঁ বলেন, ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা শেখানোর কারণেই ওই শিক্ষককে জীবন দিতে হয়েছে।’

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকণ্ঠে ‘ইসলামপন্থি সন্ত্রাসীরা’ স্কুলশিক্ষককে শিরশ্ছেদ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ।

স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে এক স্কুলের কাছে ছুরি দিয়ে ওই শিক্ষকের মাথা বিচ্ছিন্ন করে হামলাকারী। ঘটনার পরপরই পুলিশ তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় হামলাকারী।

পুলিশের পক্ষ থেকে হামলাকারীর ব্যক্তিগত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

মাখোঁ বলেন, ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা শেখানোর কারণেই ওই শিক্ষককে জীবন দিতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তারা জিতবে না...আমরা জবাব দেব।’

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, হামলার সময় ছুরি হাতে ওই ব্যক্তি ‘আল্লাহু আকবর’ বলে চিৎকার করে।

ঘটনাটি সন্ত্রাসবিরোধী প্রসিকিউটররা তদন্ত করছেন। এ ঘটনায় এক জন অপ্রাপ্তবয়স্কসহ চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহত ইতিহাসের শিক্ষক চলতি মাসের শুরুতে মহানবী হজরত মোহাম্মদকে (সা.) নিয়ে আঁকা কার্টুন তার শিক্ষার্থীদের দেখান।

২০১৫ সালে ফ্রান্সের সাপ্তাহিক বিদ্রূপ সাময়িকী শার্লি এবদোর কার্যালয়ে ঢুকে ১২ জনকে হত্যা করে দুই ভাই। ওই ঘটনার বিচারকাজ সম্প্রতি শুরু হয়।

সূত্র: বিবিসি

শেয়ার করুন

করোনাতেও ভারতে বিদেশি বিনিয়োগের জোয়ার

করোনাতেও ভারতে বিদেশি বিনিয়োগের জোয়ার

২০২০-২০২১ অর্থবর্ষে ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫ লাখ ৯২ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে। এর মধ্যে শুধু গুজরাতেই এসেছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৯৮ কোটি টাকা। এই বিনিয়োগের বেশিরভাগই এসেছে কম্পিউটার হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার খাতে। গুজরাতি সংস্থায় সরাসরি বিনিয়োগ করেছে বিদেশি সংস্থাগুলি

গত বছর করোনা ও লকডাউনের জেরে ভারতের অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি হলেও বিদেশি বিনিয়োগে ভাটা পড়েনি।

রাষ্ট্রসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে ভারতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ হয়েছে ৬৪০ কোটি ডলার।

সোমবার প্রকাশিত রাষ্ট্রসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্মেলনের (ইউএনসিটিএডিডি) ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট ২০২১ থেকে জানা গেছে, বিশ্বব্যাপী এফডিআই প্রবাহ মহামারির জেরে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যদিও এরই মাঝে প্রত্যক্ষ বিনিয়োগে বিশ্বে নজির গড়েছে ভারত।

২০২০-২০২১ অর্থবর্ষে ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫ লাখ ৯২ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে। এর মধ্যে শুধু গুজরাতেই এসেছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৯৮ কোটি টাকা।

এই বিনিয়োগের বেশিরভাগই এসেছে কম্পিউটার হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার খাতে। গুজরাতি সংস্থায় সরাসরি বিনিয়োগ করেছে বিদেশি সংস্থাগুলি।

বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডারের নিরিখে ভারত নতুন রেকর্ডও তৈরি হয়েছে। বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম দেশ হয়ে উঠেছে ভারত। করোনা আবহের মধ্যেও ভারতে বিদেশি বিনিয়োগ বন্ধ না হওয়ার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ ভারতে অনেক বেশি রয়েছে।

অতিমারিতে বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল অবকাঠামো এবং পরিষেবাগুলির চাহিদা বৃদ্ধি পায় তাই আইটি ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগ বেশি এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যামাজনও। যেখানে প্রায় ২৮ কোটি ডলারের বিনিয়োগ এসেছে।

আগামী দিনেও এই সমস্ত শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়তে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

কংগ্রেসকে ছাড়াই মোদিবিরোধী জোটের জল্পনা

কংগ্রেসকে ছাড়াই মোদিবিরোধী জোটের জল্পনা

বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ছবি: এএফপি

কংগ্রেসকে সঙ্গে নিলে পরিবারতন্ত্র, ইউপিএ আমলের দুর্নীতি, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষমতা নিয়ে বিজেপি আক্রমণের সুযোগও পেয়ে যাবে। এ কারণে কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে তৃতীয় জোট গড়ার পক্ষে অনেক দলই আলোচনা করছে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

ভারতে লোকসভা ভোটের এখনও বাকি প্রায় তিন বছর। এর আগেই কার্যত লোকসভা ভোটের ঢাকে কাঠি ফেললেন জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির প্রধান শারদ পাওয়ার ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতা যশবন্ত সিনহা।

জাতীয় পর্যায়ে বিজেপিবিরোধী বৃহত্তর জোট করতে ১৫টি রাজনৈতিক দলকে আলোচনার জন্য ডেকেছিলেন ওই দুই নেতা।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচনে বিজেপির বিজয়রথ আটকেছেন তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল নির্বাচন কৌশল প্রণয়নকারী (পলিটিক্যাল স্ট্র্যাটেজিস্ট) প্রশান্ত কিশোরের (পিকে) সংস্থা আইপ্যাকের।

এ বার জাতীয় পর্যায়ে পিকে ম্যাজিক করতে চাইছেন শারদ পাওয়ার। দুই সপ্তাহে প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে দুই বার বৈঠক করেছেন তিনি।

সোমবার দ্বিতীয় বৈঠকের শেষেই তৃতীয় ফ্রন্ট গড়তে মঙ্গলবার আঞ্চলিক দলগুলোকে বৈঠকে ডাকেন তিনি এবং যশবন্ত সিনহা। কিন্তু ওই বৈঠকে ডাক পায়নি কংগ্রেস।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কংগ্রসকে বাদ দিয়েই ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে মাঠে নামবে তৃতীয় ফ্রন্ট।

১১ জুন মুম্বাইয়ে শারদ পাওয়ারের বাড়িতে পিকের সঙ্গে তিন ঘণ্টার বৈঠক হয়েছিল এনসিপি প্রধানের। আলোচ্য ছিল ‘মিশন ২০২৪’।

মঙ্গলবার পাওযার বৈঠক ডাকার পর আরও স্পষ্ট হয়ে গেল তৃতীয় ফ্রন্টের রূপরেখা। জাতীয় পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বিরোধিতার মুখ কে হবেন? সেই জল্পনার মধ্যেই কয়েকদিন আগে টুইটারে ট্রেন্ডিংয়ে এসেছিল ‘হ্যাশট্যাগ বেঙ্গলি প্রাইম মিনিস্টার’। প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য নাম উঠেছিল মমতার।

বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতাও নিজে জানিয়েছেন, তিনি একসঙ্গে ২০২৪ সালের নির্বাচন লড়তে চান। শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউতও জানিয়েছেন, জাতীয় পর্যায়ে বিরোধী জোট গড়ে তোলার জন্য শারদ পাওয়ারের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

এই আবহে ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের দড়ি টানাটানি শুরু হয়ে গেল, এমনটাই বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

মঙ্গলবারের বৈঠকের চিঠি পাঠানো হয়েছে যশবন্ত সিনহার তৈরী একটি সংগঠন রাষ্ট্রীয় মঞ্চের লেটারহেডে। বিজেপি থেকে বেরিয়ে এসে ওই মঞ্চ গঠন করেছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি বলেছিলেন, রাষ্ট্রীয় মঞ্চ একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মঞ্চ থেকে শারদ পাওয়ারকে নেতা হিসাবে তুলে ধরার পরিকল্পনা থাকায় কৌশলগতভাবে যশবন্ত সিনহার পুরানো মঞ্চ থেকেই বৈঠকের চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শারদ পাওয়ার এবং যশবন্ত সিনহা আলোচনা ডেকেছেন। সকলকে উপস্থিত থাকতে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।’

কংগ্রেসকে সঙ্গে নিলে পরিবারতন্ত্র, ইউপিএ আমলের দুর্নীতি, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষমতা নিয়ে বিজেপি আক্রমণের সুযোগও পেয়ে যাবে। এ কারণে কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে তৃতীয় জোট গড়ার পক্ষে অনেক দলই আলোচনা করছে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

ইতোমধ্যে মুখ খুলেছে শিবসেনা। বিষয়টি নিয়ে পাওয়ারের সঙ্গে তাদের একদফা কথাও হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত। বাংলায় নির্বাচনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও দিল্লিকে পরবর্তী লক্ষ্য করার কথা বলেছিলেন।

শেয়ার করুন

নারীকে বসের দেয়া উপহারের ঘড়িতে গোপন ক্যামেরা!

নারীকে বসের দেয়া উপহারের ঘড়িতে গোপন ক্যামেরা!

এ ধরনের স্পাই ক্যাম দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় চলছে নারীর গোপন ভিডিও ধারণ। ছবি: সংগৃহিত

অনলাইনে ঘড়িটি সম্পর্কে খোঁজখবর করতেই বেরিয়ে আসে ভয়াবহ তথ্য। ওই নারী বুঝতে পারেন, ঘড়িটি আসলে একটি গোপন ক্যামেরা। আর এটি এক মাসের বেশি সময় ধরে বসের মোবাইলে পাঠাচ্ছিল তার শোবার ঘরের ভিডিও।

অফিসের বস তার নারী সহকর্মীকে উপহার দিয়েছিলেন একটি টেবিল ঘড়ি। সেই ঘড়িটি জায়গা পায় ওই নারীর শোবার ঘরের এক কোণে। সব কিছুই চলছিল ঠিকঠাক। তবে একদিন ঘড়িটি কক্ষের আরেক কোনো সরিয়ে রাখার পরই দেখা দেয় বিপত্তি।

বস ওই নারীকে বলে বসেন, যদি উপহারের ঘড়িটি পছন্দ না হয়, তবে যেন ফিরিয়ে দেন। আর এতেই তৈরি হয় সন্দেহ। ঘড়ির জায়গা পরিবর্তনের বিষয়টি বস কী করে জানলেন?

এরপর অনলাইনে ঘড়িটি সম্পর্কে খোঁজখবর করতেই বেরিয়ে আসে ভয়াবহ তথ্য। ওই নারী বুঝতে পারেন, ঘড়িটি আসলে একটি গোপন ক্যামেরা। আর এটি এক মাসের বেশি সময় ধরে বসের মোবাইলে পাঠাচ্ছিল তার শোবার ঘরের ভিডিও।
এ বিষয়ে বসকে প্রশ্ন করতেই তিনি নির্বিকার ভঙ্গিতে জবাব দেন, এই কারণেই কি সারারাত গুগল নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন?

ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ কোরিয়ায় এক নারীর সঙ্গে। চলতি সপ্তাহে এ রকম বেশ কিছু ঘটনা নিয়ে ১০৫ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।

মাই লাইফ ইজ নট ইওর পর্ন: ডিজিটাল সেক্স ক্রাইম ইন সাউথ কোরিয়া’ শিরোনামে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনটি তৈরি হয়েছে ৩৮ জনের সাক্ষাৎকার নিয়ে। তাদের কেউ ভুক্তভোগী, কেউ সরকারি কর্মকর্তা আবার কেউ মানবাধিকারকর্মী। প্রতিবেদনটি তৈরিতে সাহায্য করেছেন অনলাইন জরিপে অংশ নেয়া ৫৫৪ জন উত্তরদাতা।

এতে দেখা গেছে, দক্ষিণ কোরিয়ায় সেক্স ক্রাইম সবচেয়ে বেশি হয়েছে ২০০৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত। ২০০৮ সালে যেখানে ৫৮৫টি মামলা হয়েছিল, ২০১৮ সালে তা ৬ হাজার ৬১৫-তে দাঁড়ায়। এ রকম অনেক ঘটনা অবশ্য অপ্রকাশিত রয়ে গেছে।

ঘড়িতে গোপন ক্যামেরার বিষয়টি যখন দক্ষিণ কোরিয়ান ওই নারী বুঝতে পারেন, তিনি আইনের আশ্রয় নেন। তবে তিনি হতাশা জানিয়েছেন বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে। মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে তাকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। বিচারে অবশ্য অভিযুক্তের ১০ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এরপরেও কয়েক বছর আগের সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা এখনও তাড়িয়ে বেড়ায় তাকে।

মানবাধিকার সংস্থা ইউম্যান রাইটস ওয়াচকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার নিজের ঘরে ঘটনাটি ঘটেছিল। এখনও আমি নিজের ঘরে কোনো কারণ ছাড়াই আতঙ্কিত হয়ে উঠি।’

২০১৮ সালে এমন এক অভিজ্ঞতা হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়ায় আরেক নারীর। অপরিচিত এক যুবক তার ঘরের জানালা দিয়ে গোপনে ভিডিও করছিল। বিষয়টি তিনি জানতে পারেন যখন পুলিশ তার দরজায় কড়া নাড়ে। তবে ততদিনে দুই সপ্তাহের বেশি পার হয়ে গেছে। এ সময় ধরে চলেছে গোপন ভিডিও ধারণ।

ওই নারী হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে জানান, সেই ঘটনার পর তিনি আর স্বাভাবিক হতে পারেননি। নতুন বাড়ি কিংবা জনসমাগমস্থল সবখানেই মনে হয় গোপনে তাকে কেউ দেখছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে জানান, তার এক পরিচিত যিনি গোপন ক্যামেরার ভুক্তভোগী, তিনি এখন নিজের ঘরে তাবু গেড়ে বসবাস করেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়া অনেক নারী আত্মহত্যার কথা ভাবতে শুরু করেছেন, অনেকে তা করেও ফেলেছেন।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে বিয়ের ঠিক তিন মাস আগে আত্মহত্যা করেন এক হাসপাতালকর্মী। তিনি জানতে পেরেছিলেন এক সহকর্মী তার কাপড় বদলের সময় গোপনে ভিডিও করেছিলেন। সেই অভিযুক্তকে ১০ মাসের কারাদণ্ড দেন বিচারক।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, দুর্বল আইনের কারণে এ ধরনের ঘটনার রাশ টানা যাচ্ছে না। উদাহরণ হিসেবে তারা দেখিয়েছেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় আইন অনুযায়ী কেবল অনুমতি ছাড়া কারও ছবি বা ভিডিও যেগুলোর মাধ্যমে ব্যক্তিকে যৌন হয়রানি করা যায়, সেগুলো অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এর অর্থ হলো, কারও নগ্ন ছবি না তোলা হলে, সেগুলোকে সেক্স ক্রাইম হিসেবে ধরা হবে না।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানান, একবার তিনি এক যুগলের অন্তরঙ্গ ছবি খুঁজে পান ওই নারীর সাবেক প্রেমিকের কাছে, যেটি তোলা হয়েছিল তার অনুমতি ছাড়া। কর্তৃপক্ষ ওই নারীকে সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। তবে পুলিশ, গোয়েন্দা আর আইনজীবীরা ওই নারীকে অভিযোগ তুলে নিতে পরামর্শ দেয়। তারা জানায়, এই ঘটনায় উল্টো বিপদে পড়বেন তিনি। কেননা তার সাবেক প্রেমিক ব্যক্তিগত ছবির জন্য তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করতে পারেন।

তবে অভিযোগ প্রত্যাহার করেননি ওই নারী। বিচারে সাবেক প্রেমিকের ২ হাজার ৬৫০ ডলার জরিমানা হয়েছিল।

দক্ষিণ কোরিয়ায় ডিজিটাল সেক্স ক্রাইমের সাজার মাত্রা পুনর্বিবেচনা করতে কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সেই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের গোপনীয়তা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে জোর দিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া যৌনতায় সম্মতি নিয়ে আলোচনা ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার তাগিদও দেয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি ডিজিটাল সেক্স ক্রাইম রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার। এই লক্ষ্যে ২০১৮ সালে ডিজিটাল সেক্স ক্রাইম ভিকটিম সেন্টার চালু করেছে দেশটির সরকার। তবে এই পদক্ষেপ দেশজুড়ে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি বলে মনে করছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

শেয়ার করুন

বিজেপি ভেঙে আলিপুরদুয়ারের গঙ্গাপ্রসাদ তৃণমূলে

বিজেপি ভেঙে আলিপুরদুয়ারের গঙ্গাপ্রসাদ তৃণমূলে

সোমবার তৃণমূলে যোগ দিলেন আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মাসহ বিজেপির ৮ নেতা। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একে বিজেপির জন্য বড় ধাক্কা বলে বিবেচনা করছেন বিশ্লেষকরা। ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচনে বিজেপির মোদি-অমিত শাহ জুটি ব্যর্থ হওয়ার পর বিজেপি ছেড়ে আবার তৃণমূল ফিরে এসেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি মুকুল রায়। আর সোমবার তৃণমূল ভবনে সুখেন্দু শেখর রায়, মুকুল রায়, ব্রাত্য বসুর উপস্থিতিতে তৃণমূলে যোগ দিলেন আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মাসহ বিজেপির ৮ নেতা।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচনে বিজেপির মোদি-অমিত শাহ জুটি ব্যর্থ হওয়ার পর বিজেপি ছেড়ে আবার তৃণমূল ফিরে এসেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি মুকুল রায়। আর সোমবার তৃণমূল ভবনে সুখেন্দু শেখর রায়, মুকুল রায়, ব্রাত্য বসুর উপস্থিতিতে তৃণমূলে যোগ দিলেন আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মাসহ বিজেপির ৮ নেতা।

আরএসএসের হাত ধরে উঠে আসা গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা আলিপুরদুয়ারে বিজেপির জেলা সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে বিজেপির ভালো ফলের পিছনে তার ভূমিকা ছিল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আলিপুরদুয়ারে পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্র বিজেপি দখলে রেখেছে গঙ্গাপ্রসাদ শর্মার নেতৃত্বে।

তবে বিধানসভা ভোটের আগে থেকেই বিজেপির সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি হয়। বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান প্রসঙ্গে বিজেপির আলিপুরদুয়ারের সভাপতি জানান, ‘ভোটের আগে জেলা নেতৃত্বকে না জানিয়ে, একের পর এক নেতাকে দিল্লিতে পাঠিয়ে দলে যোগদান করানো হয়েছে। আমাদের কোন কিছু জানানো হয়নি। জেলা নেতৃত্বকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেয়া হয়নি। তখন থেকেই দূরত্ব। কারণ ভোটের আগে দল ছাড়লে গদ্দার বলত। ভোটের ফল দেখিয়ে দিয়েছি। পাঁচটা আসনই বিজেপির দখলে।’

‘আগে থেকেই তৃণমূলে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। বিজেপি, জেলার নেতাদের গুরুত্ব দেয় না। তাই দল ছেড়ে এলাম।’

ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত তৃণমূল নেতা মুকুল রায় বলেন, ‘এটা বিজেপির শেষের শুরু। বিজেপি যেখানে নিজেদের শক্তিশালী বলে দাবি করছে সেই উত্তরবঙ্গ থেকেই আগে ভাঙন ধরলো ওই দলে। এরপর আরও দেখবেন।’

রোববার বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ‘আমরা আরও বড় গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা তৈরি করব।’ তৃণমূলে যোগ দিয়ে গঙ্গাপ্রসাদ তার জবাব দিয়ে বলেন, ‘শুভেন্দু বাবু তো পদের লোভে দলে এসেছেন। বিধানসভার টিকিট না দিলে, বিরোধী দলনেতা না করলে, তিনি কি বিজেপিতে থাকবেন? এই তো দলে এলেন, বড় বড় কথা বলছেন এখন। আর বিজেপি এদের নিয়ে নাচানাচি করছে। বিজেপি নিজের দলের নেতাদের কোন গুরুত্ব দেয় না।’

একই সঙ্গে আলিপুরদুয়ারের এমপি জন বার্লাকে তুলোধোনা করে সদ্য বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেয়া গঙ্গাপ্রসাদ। তিনি অভিযোগ করেন, ‘এমপি হিসেবে বার্লা কোন কাজ করেননি। মানুষের সেন্টিমেন্টকে হাওয়া দিয়েছেন মাত্র। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নে অনেক কাজ করতে পারে বিজেপি। অনেক বিকল্প রয়েছে।’

সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত তৃণমূলের রাজ্যসভার এমপি সুখেন্দু শেখর রায় বিজেপিতে ভাঙ্গন প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিজেপির এখন দলে কপালকুণ্ডলা প্রয়োজন। যিনি বলবেন, পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ।’

অন্যদিকে তৃণমূল নেতা ব্রাত্য বসু বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, ‘একদিকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করছে, অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে ভাঙ্গনের কথা বলছে। বিজেপির আদর্শেই দ্বিচারিতা চলছে। বিজেপির বাঙালি বিরোধিতা বিচার করে দেখা হোক।’

বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তৃতীয়বারের জন্য পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করেছে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। তারপর থেকেই মুকুল রায়ের হাত ধরে বড়সড় ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে রাজ্য বিজেপি। সোমবার আলিপুরদুয়ারে বিজেপি সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদের তৃণমূলে যোগদান প্রসঙ্গে মুকুলের, শেষের শুরু মন্তব্যে বিজেপি আরও ভাঙ্গনের মুখে পড়তে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

শেয়ার করুন

ইসরায়েলি সেনার হামলার ভিডিওটি পুরনো

ইসরায়েলি সেনার হামলার ভিডিওটি পুরনো

ইসরায়েলি সেনার হামলার ঘটনা চলতি বছরের নয়, ২০১৫ সালের। ছবি: এএফপি

ব্যাপক প্রচার পাওয়া ভিডিওটির দাবিকে নাকচ করেছে এএফপির ফ্যাক্ট চেক। বার্তা সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাটি চলতি বছরের গাজার নয়। ২০১৫ সালে পশ্চিম তীরের এক গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও টুইটারে সম্প্রতি একটি ভিডিও কয়েক হাজারবার ভিউ হয়। এতে দাবি করা হয়, চলতি বছরের জুনে গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি এক শিশুকে ইসরায়েলের সেনাদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের সময় ভিডিওটি ধারণ করা হয়।

তবে এএফপির 'ফ্যাক্ট চেক' ভিডিওটির দাবিকে নাকচ করেছে। বার্তা সংস্থাটির প্রতিবেদনে রোববার বলা হয়, ঘটনাটি চলতি বছরের গাজার নয়। ২০১৫ সালে পশ্চিম তীরের এক গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে।

চলতি মাসের ১৪ তারিখ ইনস্টাগ্রামে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। দুই হাজারবারের বেশি এটি মানুষ দেখে।

ভিডিওর শিরোনামে লেখা, ‘ফিলিস্তিনি এক শিশুর গায়ে বসে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছেন অস্ত্রধারী এক ইসরায়েলি সেনা।

‘শিশুটির শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, যন্ত্রণায় সে কাঁদছে, ভাঙা হাতে ব্যথা পাচ্ছে। তারপরও কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই ওই সেনার। পরে শিশুটির পরিবার সেনার হাত থেকে তাকে মুক্ত করে।’

শিরোনামে ‘হ্যাশট্যাগ সেইভশেখজারাহ’, ‘হ্যাশট্যাগ গাজা’ ও ‘হ্যাশট্যাগ গাজাআন্ডারঅ্যাটাক’ও উল্লেখ রয়েছে।

ইসরায়েল অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের শেখ জারাহ এলাকায় সম্প্রতি সহিংসতা দানা বাঁধে। ফিলিস্তিনি কয়েকটি পরিবারকে শেখ জারাহ থেকে উচ্ছেদের তৎপরতাকে ঘিরে ওই সহিংসতার সূত্রপাত ঘটে।

এপ্রিলে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে পূর্বপুরুষের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদে ইসরায়েলি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা মুসলমানদের পবিত্র স্থান আল-আকসা মসজিদ এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ দমনে আন্দোলনকারীদের ওপর ব্যাপক হামলা চালায় ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনী।

এরই জেরে একপর্যায়ে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস ও ইসরায়েল পাল্টাপাল্টি বিমান হামলা শুরু করে, যা চলে টানা ১১ দিন। বিমান হামলায় শিশুসহ ফিলিস্তিনের আড়াই শতাধিক মানুষ নিহত হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির দীর্ঘ সংস্করণ ২০১৫ সালের ২৯ আগস্ট ইউটিউবে প্রকাশ করা হয়েছিল।

ইউটিউবের ভিডিওর শিরোনামে লেখা, ‘নবী সালেহ ২৮/৮/২০১৫’। ভিডিওটির ৫ মিনিট ৯ সেকেন্ড থেকে সাম্প্রতিককালের ভিডিওটির মিল পাওয়া গেছে।

২০১৫ সালের ২৮ আগস্ট নবী সালেহ গ্রামে একই ঘটনা ধারণ করেন এএফপির ফটোগ্রাফার।

ওই সময়ের ভিডিওর শিরোনামে বলা হয়, ‘ফিলিস্তিনি মেয়ে আহেদ তামিমি পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে ইসরায়েলের সেনার হাত থেকে এক ফিলিস্তিনি ছেলেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে।

‘পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ শহরের নবী সালেহ গ্রামে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনী ও ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের সময় ওই ঘটনা ঘটে।’

শেয়ার করুন

হাতসাফাইয়ের নেশা থেকে গ্র্যাজুয়েট শেষে পেশা চুরি

হাতসাফাইয়ের নেশা থেকে গ্র্যাজুয়েট শেষে পেশা চুরি

সৌমাল্যের বরাতে পুলিশ জানায়, স্নাতকোত্তর করেও মনমতো চাকরি পাননি তিনি। সে জন্যই চুরিকে পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি।

একের পর এক চুরির ঘটনার কূলকিনারা করতে পারছিল না ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গোয়েন্দা পুলিশ। হাওড়া সাঁকরাইলের একটি চুরির ঘটনার অভিযোগের পর ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর সৌমাল্য চৌধুরী ও তার সাগরেদদের রোববার মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া থেকে গ্রেপ্তার করে হাওড়া সিটি পুলিশ।

ছোটবেলা থেকে হাতসাফাইয়ের অভ্যাস ছিল। নিজের বাড়ি, পাশের বাড়ি, প্রতিবেশী। এভাবেই নেশা হয়ে দাঁড়ায় চুরি। প্রতিবেশীর ছোটখাট জিনিস চুরি করার সেই ছোটবেলার অভ্যাসকে, ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর শেষে পেশা বানিয়ে ফেলেন সৌমাল্য।

সৌমাল্যের বরাতে পুলিশ জানায়, স্নাতকোত্তর করেও মনমতো চাকরি পাননি তিনি। সে জন্যই চুরিকে পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি।

তিন বছরে আসানসোল হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুরে ১৬০টি চুরির ঘটনায় সৌমাল্য চৌধুরী যুক্ত বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

৯ জুন হাওড়া আন্দুলের বাসিন্দা অভিজ্ঞান ঘোষ নামের এক ব্যক্তির বাড়ির আলমারি থেকে ১০ ভরি সোনার গয়না চুরি যায়। আলমারির চাবি যথাস্থানেই আছে। কিন্তু সোনাদানা নেই।

অভিজ্ঞানের মা তাকে জানান, দিন কয়েক আগে এক অপরিচিত যুবক স্কুটি নিয়ে পানি খেতে বাড়িতে এসেছিলেন। যুবকের চেহারার বর্ণনা দেন তার মা।

এরপর অভিজ্ঞান ঘোষ হাওড়া নাজিরগঞ্জ থানায় যান চুরির অভিযোগ জানাতে। তখন স্কুটি নিয়ে ওই থানার বাইরেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন এক যুবককে। যার সঙ্গে তার মার দেয়া বর্ণনার যুবকের মিল পান। বুদ্ধি করে সে সময় অভিজ্ঞান যুবকের স্কুটির নম্বর টুকে নেন বলে জানায় পুলিশ।

অভিজ্ঞান এরপর নিজের কিছু সূত্র কাজে লাগিয়ে জানতে পারেন ওই স্কুটি আসানসোলে নথিভুক্ত। আসানসোল পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে জহানতে পারেন সউকটির মালিকের নাম সৌমাল্য চৌধুরী।

অভিজ্ঞানকে আসানসোল পুলিশ জানায়, এই সৌমাল্য চৌধুরীর বিরুদ্ধে অসংখ্য চুরির অভিযোগ আছে।

অভিজ্ঞান বিস্তারিত জানান হাওড়া নাজিরগঞ্জ থানাকে। তদন্তে নেমে হাওড়া সিটি পুলিশ বিভিন্ন রাস্তা, টোল প্লাজার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে, সৌমাল্য চৌধুরীকে চিহ্নিত করে পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া থেকে দুই সঙ্গীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, নিজের স্কুটি নিয়ে আসানসোল, হাওড়া, হুগলি এলাকায় ঘুরে ঘুরে চুরির উদ্দেশ্যে রেকি করতেন। কোন বাড়ির অবস্থা কি, বাড়ির লোকজন কখন থাকে, কখন থাকে না সবকিছু বুঝে নিয়ে তারপর চুরি করতেন তিনি।

হাওড়া সিটি পুলিশের ডিসি সাউথ প্রতীক্ষা ঝারখরিয়া জানান, ‘গত কয়েকমাসে শুধুমাত্র হাওড়াতে ছয়টি চুরির অভিযোগ রয়েছে সৌমাল্যর বিরুদ্ধে। এ ছাড়া আসানসোলে ১৬টি অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ আছে চন্দননগর পুলিশ কমিশনের এলাকাতেও।

‘বাবা সরকারি কর্মকর্তা, মা ছিলেন শিক্ষিকা। ছেলের কীর্তিতে বাবা-মা দুজনেই ছিলেন তিতিবিরক্ত।

এমনকি ছেলের এমন কাজকর্মের জন্য লজ্জায় আত্মহত্যা করেছেন সৌমাল্য চৌধুরীর মা।’

শেয়ার করুন

বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অ্যাপল ডেইলি

বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অ্যাপল ডেইলি

কয়েক দিনের মধ্যে বন্ধ হয়ে যেতে পারে হংকংয়ের জনপ্রিয় ট্যাবলয়েড অ্যাপল ডেইলি। ছবি: এএফপি

পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা জিমি লাইয়ের উপদেষ্টা মার্ক সাইমন বলেন, ‘পত্রিকার দোকানে এখনও অ্যাপল ডেইলি পাওয়া যাচ্ছে। তবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ওপর স্থগিতাদেশ না তোলা হলে কয়েক দিন পর ওই সব দোকানে অ্যাপল ডেইলি পাওয়া যাবে না।’

আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বন্ধ হয়ে যেতে পারে হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থিদের কাছে জনপ্রিয় ট্যাবলয়েড পত্রিকা অ্যাপল ডেইলি।

পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ‘মিডিয়া মোগল’ জিমি লাইয়ের এক উপদেষ্টা সোমবার এমনটাই বলেছেন বলে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

গত সপ্তাহে অ্যাপল ডেইলির সঙ্গে যুক্ত তিনটি প্রতিষ্ঠানের ২৩ লাখ ডলার মূল্যের সম্পদ স্থগিত করে হংকং কর্তৃপক্ষ।

কারাবন্দি জিমি লাইয়ের উপদেষ্টা মার্ক সাইমন বিবিসিকে বলেন, কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সক্রিয় নেই। এ অবস্থায় পত্রিকাটি কিছুই করতে পারছে না।

সাইমন বলেন, ‘হাতে টাকা না থাকলে কোনো কিছু করা দুরূহ হয়ে পড়ে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, অর্থ সংকটের সময় কর্মীদের বেতন দেয়ার অঙ্গীকার করা যায় না। হংকংয়ে এটি বেআইনি।’

তিনি বলেন, ‘পত্রিকার দোকানে এখনও অ্যাপল ডেইলি পাওয়া যাচ্ছে। তবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ওপর স্থগিতাদেশ না তোলা হলে কয়েক দিন পর ওই সব দোকানে অ্যাপল ডেইলি পাওয়া যাবে না।’

পত্রিকার ভবিষ্যৎ নিয়ে সোমবার বোর্ড মিটিংয়ে বসছে এটির প্রকাশক নেক্সট ডিজিটাল।

জনপ্রিয় পত্রিকা অ্যাপল ডেইলি প্রায়ই হংকং ও চীনের নেতৃত্বের সমালোচনমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

গত বৃহস্পতিবার হংকংয়ে অ্যাপল ডেইলির অফিসে অভিযান চালায় প্রায় ৫০০ পুলিশ। তাদের ভাষ্য ছিল, পত্রিকার প্রতিবেদনগুলো জাতীয় নিরাপত্তা আইন ভঙ্গ করেছে।

ওই সময় পত্রিকার সম্পাদকসহ পাঁচ নির্বাহীকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই সঙ্গে অ্যাপল ডেইলি লিমিটেড, অ্যাপল ডেইলি প্রিন্টিং লিমিটেড ও এডি ইন্টারনেট লিমিটেড নামে অ্যাপল ডেইলি পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত তিন প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ফ্রিজ করা হয়।

অনলাইনে অ্যাপল ডেইলির প্রকাশ করা ছবিতে দেখা যায়, পত্রিকা অফিসে প্রতিবেদকদের ব্যবহার করা কম্পিউটার ঘাঁটাঘাঁটি করছে পুলিশ।

পুলিশের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়, তল্লাশি ও সাংবাদিকতা-সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা ওয়ারেন্টে উল্লেখ রয়েছে।

পরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, ২০১৯ সাল থেকে বিভিন্ন দেশের প্রতি হংকং ও চীনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান-সংক্রান্ত ৩০টির বেশি নিবন্ধ ছাপিয়েছে অ্যাপল ডেইলি।

পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাতা জিমি লাই সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশে যোগদানসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগে এ মুহূর্তে জেল খাটছেন।

শেয়ার করুন