যেসব কারণে জিততে পারেন ট্রাম্প

যেসব কারণে জিততে পারেন ট্রাম্প

২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের থেকে বেশ পিছিয়ে ছিলেন ট্রাম্প। ভোটও পেয়েছিলেন প্রায় ৩০ লাখ কম। তবে শেষ পর্যন্ত ইলেক্টোরাল ভোটের হিসাব-নিকাশে জয়ী হন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রে ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এখন পর্যন্ত সব সূচক ও জরিপে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে আছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন।

তবে এরপরেও গতবারের মতো পাশার দান উল্টে ফের আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখা যেতে পারে রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পকে।

২০১৬ সালের নির্বাচনের আগেও জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের থেকে বেশ পিছিয়ে ছিলেন ট্রাম্প। ভোটও পেয়েছিলেন প্রায় ৩০ লাখ কম। তবে শেষ পর্যন্ত ইলেক্টোরাল ভোটের হিসাব-নিকাশে জয়ী হন ট্রাম্প।

এ বছরও তেমন কিছু ঘটবে না তার নিশ্চয়তা নেই। বিবিসির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এমনই কিছু ফ্যাক্টর। এবারের নির্বাচনে যেগুলো হতে পারে ট্রাম্পের ট্রাম্প কার্ড।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ‘অক্টোবর সারপ্রাইজ’ বহুল পরিচিত। নভেম্বরে নির্বাচনের আগের মাসটিতে সাধারণত কোনো প্রার্থীর অনাকাঙ্ক্ষিত এমন কোনো বিষয় প্রকাশ পায় যা অন্য প্রার্থীর জয়ে অভাবিত ভূমিকা রাখে।

চার বছর আগে নির্বাচনের মাত্র ১১ দিন আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকার সময়ে হিলারি ক্লিনটনের সরকারি ই-মেইল ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ তদন্তের ঘোষণা দিয়েছিলেন সে সময়ের এফবিআই প্রধান। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারির বিপক্ষে এর প্রভাব ছিল মারাত্মক।

এবারের অক্টোবরে এখন পর্যন্ত বড় ঘটনা হলো, ট্রাম্পের ট্যাক্স রিটার্ন প্রকাশ ও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। তবে অক্টোবর মাসের এখনও অর্ধেক বাকি।

অন্যদিকে, নিউ ইয়র্ক পোস্টের একটি প্রতিবেদনে রহস্যময় এক ল্যাপটপের কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেয়া হয়, ল্যাপটপটিতে একটি ই-মেইল রয়েছে, যেটি ইউক্রেনের এক গ্যাস কোম্পানির জন্য বাইডেনের ছেলের লবির সঙ্গে সম্পর্কিত। বিষয়টি নিয়ে রিপাবলিকানরা নির্বাচনের মাঠ গরমের চেষ্টা করলেও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণের অভাবে সেটি ভোটারদের তেমন প্রভাবিত করতে পারেনি।

ট্রাম্প অবশ্য বলছেন, বাইডেনের ‘অনিয়ম’ প্রকাশের এটা কেবল শুরু। ওবামার সময়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকার সময়ে আরো বড় অন্যায়ে তিনি জড়িত। ট্রাম্পের দাবি সত্যি হলে, অবাক হওয়ার মতো বেশকিছু ঘটনা আসতে পারে সামনে।

জো বাইডেন ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে প্রায় সব জনমত জরিপে ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে আছেন। এমনকি নির্বাচনের ফলে যে সব রাজ্য বড় ধরনের প্রভাব ফেলে, সেখানেও বাইডেনের অবস্থান ধারাবাহিকভাবে ভালো।

তবে ২০১৬ সালেও ছিল একই চিত্র। জনমত জরিপে ট্রাম্পের চেয়ে হিলারি ক্লিনটন এগিয়ে থাকলেও ভোটের ফল ছিল আলাদা। এবারও তেমন ঘটনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না।

জরিপের উল্টো যে চিত্র ভোটে দেখা যেতে পারে, তা হলো- জরিপের বাইরে থাকা অনেক শেতাঙ্গ ও কম শিক্ষিত ভোটারের সমর্থনে জয়ের মুকুট পরবেন ট্রাম্প।

যে কোনো নির্বাচনে ভোটারদের বড় একটি অংশ শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেয়। এই ভোটারও ট্রাম্পের জয়ে ভূমিকা রাখতে পারেন।

করোনার কারণে এবার যুক্তরাষ্ট্রে ডাকে ভোট দেয়ার সব রেকর্ড ভেঙে গেছে। ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেড় কোটির বেশি মানুষ ডাকভোট দিয়েছেন।

ডাকভোটে ‘ব্যাপক জালিয়াতি’র সুযোগ রয়েছে বলে শুরু থেকেই প্রচার চালাচ্ছেন ট্রাম্প ও তার দল। ডাকভোট যারা দিচ্ছেন তাদের বড় অংশই ডেমোক্র্যাট সমর্থক বলে ধারণা করা হয়। এ ধরনের ভোটের সমস্যা হলো, ভোটাররা ভুলভাবে ফর্ম পূরণ করলে বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাঠাতে ব্যর্থ হলে ভোট বাতিল হবে। সেক্ষেত্রে এগিয়ে যাবেন ট্রাম্প।

দুই সপ্তাহ আগে বাইডেনের সঙ্গে প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কে আক্রমণাত্মক আচরণ ও বারবার বাধা দেওয়ার জন্য ট্রাম্প ব্যাপক সমালোচিত হয়েছেন। একগুয়ে আচরণের কারণে অনেক ভোট হারাতে পারেন ট্রাম্প। এ ছাড়া ট্রাম্প করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় ১৫ তারিখে দ্বিতীয় বিতর্কটিও সরাসরি হয়নি। তবে আগামী মঙ্গলবার শেষ বিতর্কে যদি বাইডেন নিয়ন্ত্রণ হারান এবং ট্রাম্প প্রেসিডেন্টসুলভ আচরণ করেন তাহলে এগিয়ে যাবেন।

দোদুল্যমান রাজ্যগুলো ট্রাম্পের জন্য আরেক সুযোগ হতে পারে। জরিপে বাইডেন এগিয়ে থাকলেও অনেক রাজ্যে ট্রাম্প সামান্য ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছেন। যদি শেষ মুহূর্তে ভোটাররা মত বদলে ফেলেন তবে ইলেক্টোরাল ভোটের মারপ্যাঁচে ওয়াশিংটনের মসনদে আবার বসতে পারেন ট্রাম্প।

গত নির্বাচনেও ট্রাম্পের জয়ে বড় অবদান রেখেছিল পেনিসেলভানিয়া, ফ্লোরিডার মতো দোদুল্যমান ভোটারদের রাজ্যগুলো।

সবশেষ সম্ভাবনা হলো, বাইডেন নিজেই নিজের পায়ে কুড়াল মারতে পারেন। এ বছর করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বেশি জনসম্মুখে আসতে পারেননি বাইডেন। কিন্তু নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ততই জনসংশ্লিষ্টতা বাড়বে। এখন পর্যন্ত সুপরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত প্রচার চালানো বাইডেন সেক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারেন। আর তা হবে ট্রাম্পের জন্য শাপেবর।

সূত্র: বিবিসি

শেয়ার করুন

মন্তব্য