বিশ্বনেতাদের যারা করোনায় আক্রান্ত

বিশ্বনেতাদের যারা করোনায় আক্রান্ত

করোনায় মারা গেছেন প্রণব মুখার্জি। বরিস জনসন আক্রান্ত হয়ে আইসিইউতে ভর্তি হন। স্ত্রী সোফিয়া আক্রান্ত হলে জাস্টিন ট্রুডো কোয়ারেন্টিনে ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন অনেক বিশ্বনেতা। আক্রান্তদের মধ্যে অনেকে সুস্থ হয়েছেন। কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করেছেন।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি মারা গেছেন। ১০ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তির আগে প্রণব মুখার্জি নিজেই টুইট করে জানান, তার করোনা পজিটিভ৷ ৩১ আগস্ট দিল্লির সেনা হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৫০ বছরেরও বেশি সময় রাজনীতিতে সক্রিয় এই নেতা৷

অনেকটা মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। মহামারির শুরুতেই ২৬ মার্চ জনসনের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয়। অবস্থার অবনতি হলে ৫৫ বছর বয়সী জনসনকে লন্ডনের সেইন্ট টমাস হাসপাতালে আইসিইউতে নেয়া হয়। সেখানে তাকে অক্সিজেন দেয়া হয়। ধীরে ধীরে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন ব্রিটিশ সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্স চার্লসও। মার্চে ৭১ বছর বয়সী যুবরাজের দেহে উপসর্গ দেখা দেয়। তবে তার স্বাস্থ্যের অন্য কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। তার স্ত্রী ক্যামিলারও পরীক্ষা হয়। তবে তার দেহে করোনাভাইরাস ধরা পড়েনি। চার্লস ও ক্যামিলা দুজনই ব্যালমোরাল প্রাসাদে স্বেচ্ছায় জনবিচ্ছিন্ন দিন কাটান।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর স্ত্রী সোফিয়া করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তখন কোয়ারেন্টিনে ছিলেন ট্রুডো। স্পেনের উপপ্রধানমন্ত্রী কারমেন ক্যালভোর শরীরেও করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে।

করোনা মহামারীর শুরুর দিকে আক্রান্ত হন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান নেগোশিয়েটর মিশেল বার্নিয়ের। মার্চের প্রথম সপ্তাহে ফ্রান্সে নিজের ঘর থেকে এক ভিডিও বার্তায় তিনি আক্রান্ত হওয়ার খবর দেন। ফ্রান্সে কয়েকজন এমপি ও মন্ত্রী আক্রান্ত হয়েছেন।

করোনা আক্রান্ত বিশ্বনেতাদের মধ্যে রয়েছেন ইতালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনি। মার্চের শুরুতে তিনি তার দুই সন্তানসহ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। বাসায় আইসোলেশনে থাকার পর তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মার্চে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার ডুটন। কুইন্সল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি।

মালয়েশিয়ার রাজপ্রাসাদের সাতজন কর্মী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর দেশটির রাজা ও রানি কোয়ারেন্টিনে গেছেন।

এশিয়ায় করোনা ভাইরাসে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইরান। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বর্তমান উপদেষ্টা ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আলি আকবর বেলাইয়াতি এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

সম্প্রতি খামেনির এক সাবেক উপদেষ্টা করোনায় মারা গেছেন। ইরানের ২৯০ সদস্যের পার্লামেন্টের ২৩ জন করোনায় সংক্রমিত হন। দুই এমপি মারা গেছেন। কয়েকজন ভাইস প্রেসিডেন্ট আক্রান্ত হন।

সূত্র: বিবিসি, সিএনএন

শেয়ার করুন