20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
ট্রাম্পের ঝুঁকি বয়স ও স্থুলতা

ট্রাম্পের ঝুঁকি বয়স ও স্থুলতা

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় ঝুঁকি তার বয়স ও স্থুলতা। সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আক্রান্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত মৃদু উপসর্গ থাকলেও আগামী দুই সপ্তাহ তার জন্য অনেক ঝুঁকিপূর্ণ।

সত্তরের কোটায় থাকা অনেক পুরুষের মতো ট্রাম্পেরও হালকা হৃদরোগ রয়েছে। এ ছাড়া উচ্চ কোলেস্টেরল কমানোর জন্য একটি বিশেষ ওষুধ এবং হার্ট অ্যাটাক ঠেকাতে নিয়মিত অ্যাসপিরিন খান তিনি।

জুনে প্রকাশিত স্বাস্থ্য প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের ওজন ১১০ কেজি । এই অতিরিক্ত ওজন তার জন্য আরও সমস্যা বয়ে আনতে পারে।

এ বিষয়ে ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ উইলিয়াম শ্যাফনার বলেন, ‘ট্রাম্পের বয়স ৭৪ বছর, এ ছাড়া তিনি স্থুল এবং পুরুষ। এই তিনটি বিষয়ই তাকে গুরুতর সংক্রমণের ঝুঁকিতে ফেলেছে।’

শ্যাফনার আরও বলেন, ‘যদিও তাকে সর্বোচ্চ নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং কিছুদিন ভালো অবস্থায়ও থাকতে পারেন কিন্তু কোনভাবেই ঝুঁকিমুক্ত নন। কারণ এ ধরণের মানুষ যে কোনো সময় মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। কেননা এটি খুবই স্পর্শকাতর ভাইরাস।’

ট্রাম্পকে শুক্রবার সন্ধ্যায় দেশের প্রধান সামরিক হাসপাতাল ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবারই ট্রাম্পকে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া একটি অ্যান্টিবডি ককটেল দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া তিনি ভিটামিন ডি, জিঙ্ক, মেলাটোনিন, ফ্যামোটিডিন ও প্রতিদিন অ্যাসপিরিন গ্রহণ করছেন বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসক সিন পি. কনলে।

হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যালেইফ ম্যাককেইনি জানিয়েছেন, ট্রাম্প পরবর্তী কয়েকদিন সেখানে থাকবেন। ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী সেখানে তার পরিচর্যা চলবে। হাসপাতালের প্রেসিডেনশিয়াল স্যুট থেকেই তিনি কাজ করবেন।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি এস. ফাউসি বলেছেন, ট্রাম্পের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। কারণ প্রত্যেক রোগীই আলাদা এবং তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও আলাদা। কিন্তু এই বিষয়গুলো আমাদের বলছে, তার ব্যাপারে ন্যূনতম ঝুঁকি নেওয়া ঠিক হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রগুলোর তথ্যে দেখা গেছে, ট্রাম্পের বয়সী ৬৪ দশমিক ৭ শতাংশ রোগীকেই হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ৩১ দশমিক ৭ শতাংশ।

মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ গবেষণা কেন্দ্রের নির্দেশক মহামারী বিশেষজ্ঞ মাইকেল টি. অস্টারহোম বলেছেন, বয়স্ক পুরুষদের জীবনঘাতী ও অন্যান্য রোগে মারা যাওয়ার দ্বিগুণ ঝুঁকি থাকে। স্থুলতা এটিকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস

শেয়ার করুন