20201002104319.jpg
ধর্ষণ: চুনোপুঁটি ধরে লাভ কী, প্রশ্ন প্রিয়াঙ্কার

ধর্ষণ: চুনোপুঁটি ধরে লাভ কী, প্রশ্ন প্রিয়াঙ্কার

ভারতের উত্তর প্রদেশে দলিত নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের পদত্যাগ দাবি করেছেন কংগ্রেসনেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র।   

শুক্রবার এক টুইটবার্তায় তিনি এ দাবি জানান।

ধর্ষণের জেরে রাজ্যের হাথরাস জেলার এসপি ও চার পুলিশকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে টুইটে প্রিয়াঙ্কা বলেন, 'কিছু চুনোপুঁটি'কে বরখাস্ত করে লাভ নেই।

আদিত্যনাথকে ট্যাগ করে প্রিয়াঙ্কা জিজ্ঞেস করেন, 'কিছু চুনোপুঁটি বরখাস্ত করে কী হবে? কাদের নির্দেশে হাথরাসের ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে ভুগতে হয়েছে? হাথরাসের জেলা প্রশাসক (ডিএম) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) ফোন রেকর্ড প্রকাশ্যে আনতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী তার দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না।'

হিন্দিতে দেওয়া এক টুইটে পূর্ব উত্তর প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বলেন, 'সারা দেশ দেখছে। মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ, পদত্যাগপত্র জমা দিন।'

বৃহস্পতিবার প্রিয়াঙ্কা ও রাহুল গান্ধী ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান। সে সময় রাস্তায় পুলিশ তাদের বাধা দেয় ও আটক করে। পরে তারা ছাড়া পান। 

শুক্রবার আদিত্যনাথ বলেছেন, যারা নারীর সম্মানহানি করেছে, তাদের এমন শাস্তি দেওয়া হবে, যা সবার জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। উত্তর প্রদেশ সরকার রাজ্যের নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর হাথরাসের একটি গ্রামে ১৯ বছরের এক দলিত নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে চার জনের বিরুদ্ধে। 

ওই ঘটনায় অবস্থার অবনতি হলে দলিত নারীকে দিল্লির সাফদারজং হাসপাতালে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার সেখানেই তার মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার গভীর রাতে তার শেষকৃত্য হয়। 

পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় পুলিশ জোর করে গভীর রাতে ওই নারীর শেষকৃত্য করায়। কিন্তু পুলিশ বলছে, 'পরিবারের ইচ্ছায়' তাকে দাহ করা হয়েছে।

শুক্রবার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক দলের সদস্য ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ধর্ষণের ঘটনার বিচার চেয়ে দিল্লির জন্তর মন্তরে সমবেত হন। 

তাদের বিক্ষোভে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল যোগ দিয়ে বলেন, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার টুইটার বার্তায় বলেন, 'হাথরাসের  দলিত তরুণীর ওপর বর্বর ও লজ্জাকর ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। তার পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। আরও লজ্জাজনক বিষয় হলো পরিবারের উপস্থিতি বা সম্মতি ছাড়াই জোরপূর্বক দাহ। এভাবে যারা ভোটের জন্য স্লোগান ও বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেয়, তাদের মুখোশ উন্মোচিত হয়ে যাচ্ছে।'

অধিকারকর্মী ও আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বলেন, 'উত্তর প্রদেশে যা হচ্ছে, তা হলো গুণ্ডাতন্ত্র। পুলিশ গ্রামটি ঘিরে রেখেছে। বিরোধীদলীয় নেতা ও গণমাধ্যমকর্মীদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ভুক্তভোগীর পরিবারের সবার মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়েছে।'

সূত্র: এনডিটিভি, দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, হিন্দুস্তান টাইমস

শেয়ার করুন