20201002104319.jpg
কৃষকদের সঙ্গে কাধ মিলিয়ে বিক্ষোভের ঘোষণা সোনিয়ার

কৃষকদের সঙ্গে কাধ মিলিয়ে বিক্ষোভের ঘোষণা সোনিয়ার

নতুন কৃষি আইনের প্রতিবাদ

কৃষক–শ্রমিকদের সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ করার ঘোষণা দিয়েছেন কংগ্রেস সমর্থকরা। বিজেপি সরকারের নতুন কৃষি আইনের প্রতিবাদ করে কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী এ কথা বলেন।

মহাত্মা গান্ধীর দেখানো পথেই কেন্দ্রে সরকারের কৃষকবিরোধী নতুন আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলবে কংগ্রেস। মহাত্মা গান্ধীর  জন্মদিনে বলেন সোনিয়া। আরও বলেন, ‘‌কৃষক–শ্রমিকদের প্রতি বরাবর সহানুভূতিশীল ছিলেন বাপু।’

সম্প্রতি শেষ হওয়া সংসদের বাদল অধিবেশনে কেন্দ্রীয় সরকার তিনটি কৃষি বিল পাস করিয়ে নেয় বিরোধীদলগুলোর আপত্তি থাকা সত্বেও। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ সংসদে গৃহীত তিনটি বিলেই স্বাক্ষর করেছেন। দেশের প্রায় সব বিরোধীদল ওই তিনটি কৃষি আইনকে ‘কালো আইন’ বলে চিহ্নিত করেছে।

এই আইনের মাধ্যমে কৃষিপণ্য বিক্রয়, মূল্য নির্ধারণ ও গুদামজাতকরণের নিয়মে পরিবর্তন আসবে। যে নিয়ম ভারতের কৃষকদের গত কয়েক দশক ধরে মুক্ত বাজার থেকে রক্ষা করেছে।

কৃষকরা চাইলে যে কারও কাছে তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। আগে যা কেবল সরকার অনুমোদিত এজেন্টদের কাছেই বিক্রি করতে হতো।

বড় পরিবর্তনগুলো হচ্ছে- কৃষকরা তাদের পণ্য বাজার মূল্যে কৃষি ব্যবসায়ী, সুপারমার্কেট চেইন এবং অনলাইন ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করার অনুমতি পাবেন।

বর্তমানে বেশিরভাগ ভারতীয় কৃষক তাদের উৎপাদিত পণ্য সরকার নিয়ন্ত্রিত পাইকারি বাজারে নির্ধারিত দামে বিক্রি করে থাকেন। এই বাজারগুলো কৃষকদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সাধারণত এসব কমিটিতে বেশি জমির মালিক ও ব্যবসায়ী বা ‘কমিশন এজেন্ট’রা থাকেন। এই এজেন্টরা পণ্য গুদামজাত, অর্থায়ন এবং পরিবহনের দায়িত্বে থাকেন।

এ পর্যন্ত বিষয়টি দেখতে কৃষকদের জন্য খুবই ভালো বলে মনে হলেও কৃষকদের ভয় এই পদ্ধতির ফলে তাদের বর্তমান পাইকারি বাজার বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং সরকার নির্ধারিত দাম পাওয়ার ক্ষেত্রে তা অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন কংগ্রেসের নেতা কর্মীরা।

শুক্রবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের এমন কৃষি আইনের সমালোচনা করে সোনিয়া গান্ধী বলেন, ‘‌আজ মোদী সরকারের নীতির জন্য কৃষকদের চোখ থেকে রক্ত ঝরছে। তবুও তাঁরা গোটা দেশের জন্য ফসল ফলিয়ে যাচ্ছেন। কংগ্রেস বরাবর মানুষের স্বার্থ দেখে আইন প্রণয়ন করেছে। কিন্তু মোদী সরকার কি এসবে বিশ্বাস করে?‌ যদি বিশ্বাস করত, তাহলে কৃষকদের স্বার্থে অধ্যাদেশ জারি করে আইনে বদল ঘটিয়ে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের অধিকার নিশ্চিত করতো।‘

এই আইন প্রণয়নের ব্যাপারে কৃষকদের কথা শোনা হচ্ছে না এমন মনে করেন সোনিয়া গান্ধী। তিনি নতুন কৃষি আইনকে অগণতান্ত্রিক আখ্যায়িত করেন। সেই সাথে বিরোধী শিবির থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।  

দুদিন আগেই সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্য সরকারগুলোকে নতুন কৃষি আইন প্রণয়ন করে তা কার্যকর করতে বলেছেন। এই নতুন কৃষি আইন কী রকম হবে তার একটা খসড়াও তৈরি করেছেন রাজ্যসভার সদস্য ও বিশিষ্ট আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। ওই খসড়া কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রীদের পাশাপাশি অন্যান্য বিজেপি বিরোধী রাজ্য সরকারগুলোর কাছেও পাঠানো হবে বিবেচনার জন্য।

 

শেয়ার করুন