পশ্চিমবঙ্গে করোনা আক্রান্তের নতুন রেকর্ড

পশ্চিমবঙ্গে করোনা আক্রান্তের নতুন রেকর্ড

পশ্চিমবঙ্গের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার শিলিগুড়িতে প্রশাসনিক বৈঠকে বক্তব্য দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে করোনাভাইরাসজনিত রোগে (কোভিড-১৯) এক দিনে সর্বোচ্চ তিন হাজার ২৮১ জন আক্রান্ত হয়েছে।

বুধবার রাতের বুলেটিনে রাজ্য সরকার এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে ২৩ আগস্ট একদিনে আক্রান্ত হয়েছিল তিন হাজার ২৭৪ জন।

বুলেটিন অনুযায়ী, রাজ্যে সুস্থতার হার একই রয়েছে। কমেছে মৃত্যুর গড়ও।

বুধবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে করোনায় আক্রান্ত হয় দুই লাখ ৫৭ হাজার ৪৯ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন দুই লাখ ২৫ হাজার ৭৫৯ জন। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২৬ হাজার ৩৩২ জন।

পশ্চিমবঙ্গে সুস্থতার হার ৮৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ। রাজ্যে মৃত্যু হয়েছে চার হাজার ৯৫৮ জনের।

করোনা সংক্রমণের এ পরিস্থিতির মধ্যে উত্তরবঙ্গ সফর করছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বুধবার তিনি বলেন, ‘কোভিড নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। রাজ্য সরকার সব রকম চেষ্টা করছে।’

তবে বিরোধীরা মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাস শুনতে রাজি নন। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন, ‘কোভিড মোকাবিলায় রাজ্য সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ। ভারত সরকার টাকা দিলেও মানুষ কোনো সুবিধা পাচ্ছে না। চলছে দুর্নীতি।’

ওয়ার্ল্ডোমিটার্সের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৬৩ লাখ ১২ হাজার ৫৮৪ জন। রোগে মৃত্যু হয়েছে ৯৮ হাজার ৭০৮ জনের। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ৫২ লাখ ৭৩ হাজার ২০১ জন।

এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে গোটা দেশে আনলক-৫। আরও শিথিল হচ্ছে লকডাউন। খুলে যাচ্ছে সিনেমা হল, সুইমিং পুল।

তবে দেশটিতে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বন্ধ থাকছে। ট্রেন চলাচল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থাকছে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা।

পশ্চিমবঙ্গে লকডাউন চললেও অনেকেই মানছে না শারীরিক দূরত্ব। বিশেষ করে হাটবাজার বা গণপরিবহণে ভিড় নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশকে।

শেয়ার করুন

ওমিক্রনের জন্য এখনই লকডাউন নয়: বাইডেন

ওমিক্রনের জন্য এখনই লকডাউন নয়: বাইডেন

হোয়াইট হাউজে সোমবার ওমিক্রন ইস্যুতে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ছবি: এএফপি

গত সপ্তাহেই সাউথ আফ্রিকা, বতসোয়ানা, জিম্বাবুয়ে, নামিবিয়া, লেসোথো, ইসওয়াতিনি, মোজাম্বিক ও মালাউই- আট দেশের সঙ্গে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। বাইডেন জানান, ফ্লাইট নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে যতটুকু সময় মিলবে, সে সময়ে করোনার নতুন ধরনটি সম্পর্কে আরও জানার চেষ্টা করবে যুক্তরাষ্ট্র।

করোনাভাইরাসের রূপ পরিবর্তিত নতুন ধরন ওমিক্রন ‘উদ্বেগের কারণ হলেও আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন জো বাইডেন। উত্তর আমেরিকার মধ্যে প্রতিবেশী কানাডায় ভাইরাসটি শনাক্ত হওয়ার একদিন পর একথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।

টিকা নেয়া থাকলে এবং মাস্ক পরলে ‘আপাতত’ লকডাউন আরোপের কোনো প্রয়োজন নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, টিকাদান কার্যক্রম গতিশীল থাকা এবং ভাইরাসকে ‘আটকে দিতে’ বাইডেন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও গত বছরের চেয়ে চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় প্রাণহানি বেশি হচ্ছে।

হোয়াইট হাউজে সোমবার ওমিক্রনকে ‘এড়ানোর সবচেয়ে অনুপযোগী’ আখ্যা দেন বাইডেন।

তিনি বলেন, ‘কোনো না কোনো সময়ে যুক্তরাষ্ট্রেও এটি শনাক্ত হবে। প্রয়োজনে নতুন টিকা উদ্ভাবনে বিকল্প পরিকল্পনা কাজে লাগাতে তৎপরতা শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।’

গত সপ্তাহেই সাউথ আফ্রিকা, বতসোয়ানা, জিম্বাবুয়ে, নামিবিয়া, লেসোথো, ইসওয়াতিনি, মোজাম্বিক ও মালাউই- আট দেশের সঙ্গে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। কানাডা, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোও পরে একই সিদ্ধান্ত নেয়।

বাইডেন জানান, ফ্লাইট নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে যতটুকু সময় মিলবে, সে সময়ে করোনার নতুন ধরনটি সম্পর্কে আরও জানার চেষ্টা করবে যুক্তরাষ্ট্র।

ওমিক্রনকে উদ্বেগজনক ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ঘোষণা করলেও ভাইরাসটি অধিকা সংক্রামক কি না বা টিকার কার্যক্ষমতা ভাঙতে সক্ষম কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন

১৬ দেশে ওমিক্রনের হানা

১৬ দেশে ওমিক্রনের হানা

নাইজেরিয়া ভ্রমণ করে কানাডায় পৌঁছানো দুই ব্যক্তি ওমিক্রনে আক্রান্ত। ছবি: সিবিসি নিউজ

আফ্রিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আমেরিকায় পৌঁছে গেলেও এখনও এশিয়ার কোনো দেশে ভাইরাসটি শনাক্ত করা হয়নি। শনাক্তদের বেশির ভাগই সম্প্রতি সাউথ আফ্রিকা, মোজাম্বিক, বতসোয়ানা, মালাউয়ি বা আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণের কোনো না কোনো দেশ ভ্রমণ করেছেন।

করোনাভাইরাসের রূপ পরিবর্তিত নতুন ধরন ওমিক্রনকে উদ্বেগজনক ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ আখ্যা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সম্ভাব্য অধিক সংক্রামক করোনার এই ধরনটি প্রথম চিহ্নিত করে সাউথ আফ্রিকা।

এরপর গত কয়েক দিনে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের কমপক্ষে ১৬টি দেশে ওমিক্রন নিশ্চিত শনাক্ত হয়েছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, এখন পর্যন্ত ওমিক্রন শনাক্ত করা দেশগুলো হলো অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, বতসোয়ানা, কানাডা, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, জার্মানি, হংকং, ইসরায়েল, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, সাউথ আফ্রিকা, স্পেন ও যুক্তরাজ্য।

সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছে সাউথ আফ্রিকায়, ৭৭ জনের দেহে। বতসোয়ানায় ১৯ জন এবং নেদারল্যান্ডস ও পর্তুগালে ১৩ জন করে মানুষের দেহে ওমিক্রনের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে।

শনাক্তদের বেশির ভাগই সম্প্রতি সাউথ আফ্রিকা, মোজাম্বিক, বতসোয়ানা, মালাউয়ি বা আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণের কোনো না কোনো দেশ ভ্রমণ করেছেন।

আফ্রিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আমেরিকায় পৌঁছে গেলেও এখনও এশিয়ার কোনো দেশে ভাইরাসটি শনাক্ত করা হয়নি।

যদিও সম্প্রতি সাউথ আফ্রিকা ভ্রমণ করে ভারতে পা রাখা ৩৯ বছর বয়স্ক এক ব্যক্তি চন্ডিগড়ে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। তার সংস্পর্শে আসা দুই ব্যক্তিও করোনা পজিটিভ। তারা ওমিক্রনে আক্রান্ত কি না, তা নিশ্চিতে তাদের দেহ থেকে সংগৃহীত নমুনা জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য পাঠানো হবে।

ওমিক্রনের বিস্তার ঠেকাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ নীতিমালা কঠোর করাসহ নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। এরই মধ্যে আফ্রিকার দক্ষিণের দেশগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ।

২০১৯ সালে চীনের উহানে প্রথম শনাক্ত কোভিড নাইনটিনের চেয়ে অনেকটাই আলাদা ওমিক্রন কোভিড ও কোভিডের অন্যান্য ধরনের চেয়ে অধিক সংক্রামক কি না, গুরুতর অসুস্থতা কারণ কি না, করোনা প্রতিরোধী বিদ্যমান টিকা ওমিক্রনের ওপর কার্যকর কি না, শনাক্তের উপায় ও সম্ভাব্য চিকিৎসা কী ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর পেতে লেগে যেতে পারে কয়েক সপ্তাহ বা আরও বেশি সময়।

শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধে মোদিকে অনুরোধ কেজরিওয়ালের

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধে মোদিকে অনুরোধ কেজরিওয়ালের

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ফাইল ছবি/এএফপি

পোস্টের সঙ্গে বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের একটি খবরও যুক্ত করে দেন দিল্লি মুখ্যমন্ত্রী। খবরে বলা হয়, সম্প্রতি সাউথ আফ্রিকা ভ্রমণ করে ভারতে পা রাখা ৩৯ বছর বয়স্ক এক ব্যক্তি চন্ডিগড়ে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। তার সংস্পর্শের আসা দুই ব্যক্তিও করোনা পজিটিভ। তারা ওমিক্রনে আক্রান্ত কি না, তা নিশ্চিতে তাদের দেহ থেকে সংগৃহীত নমুনা জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য পাঠানো হবে।

ভারতকে সব দেশের সঙ্গে ফ্লাইট যোগাযোগ বন্ধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। করোনাভাইরাসের রূপ পরিবর্তিত নতুন ধরন ওমিক্রনের বিস্তার রুখতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল স্থগিতের আহ্বান জানান তিনি।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মোদিকে এ ধরনের অনুরোধ আগেও করেছেন কেজরিওয়াল। দুইদিন আগেই মোদির উদ্দেশ্যে লেখা একটি চিঠিতে ওমিক্রন শনাক্ত হওয়া দেশগুলো থেকে ‘অবিলম্বে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধের’ আহ্বান জানান তিনি। টুইটারে চিঠির ছবি প্রকাশ করে লেখেন, ‘সামান্য বিলম্বের পরিণতিও মারাত্মক হতে পারে’।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তিনি লেখেন, গত বছরও করোনাভাইরাস মহামারির প্রথম ধাক্কা আঘাত হানা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেছিল মোদি সরকার। ওমিক্রন আতঙ্কে সব দেশ যখন এ সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করছে, ভারত তখন দর্শকের ভূমিকায়।

এখন পর্যন্ত আফ্রিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আমেরিকার কমপক্ষে ১৩টি দেশে ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। সোমবারই করোনার নতুন এ প্রজাতিটি ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

এমন পরিস্থিতিতে ওমিক্রনের বিস্তার ঠেকাতে কঠোর আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইসরায়েল ও জাপান।

এ অবস্থায় কেজরিওয়াল হিন্দি ভাষায় লেখা টুইটে মোদির প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ওমিক্রন শনাক্ত দেশগুলো থেকে ফ্লাইট আসা বন্ধ করে দিয়েছে বেশ কয়েকটি দেশ। আমরা কেন অপেক্ষা করছি?

‘মহামারির প্রথম ধাক্কার সময়েও ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে আমরা দেরি করেছিলাম। ভারতে আগত বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটই দিল্লিতে অবতরণ করে… সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্তও তাই দিল্লিই হয়। প্রধানমন্ত্রী, দয়া করে ফ্লাইট বন্ধ করুন।’

পোস্টের সঙ্গে বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের একটি খবরও যুক্ত করে দেন দিল্লি মুখ্যমন্ত্রী। খবরে বলা হয়, সম্প্রতি সাউথ আফ্রিকা ভ্রমণ করে ভারতে পা রাখা ৩৯ বছর বয়স্ক এক ব্যক্তি চন্ডিগড়ে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। তার সংস্পর্শের আসা দুই ব্যক্তিও করোনা পজিটিভ।

তারা ওমিক্রনে আক্রান্ত কি না, তা নিশ্চিতে তাদের দেহ থেকে সংগৃহীত নমুনা জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য পাঠানো হবে।

ওমিক্রন আতঙ্কে দিল্লি মহামারির নতুন ধাক্কার জন্য কতটা প্রস্তুত, সে বিষয়ে জরুরি পর্যালোচনা বৈঠক করবেন কেজরিওয়াল।

মহারাষ্ট্রে উদ্ধাভ ঠাকরের সরকারও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি একই অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শেয়ার করুন

ডিসেম্বরে জেলা সফরে যাচ্ছেন মমতা

ডিসেম্বরে জেলা সফরে যাচ্ছেন মমতা

সফরের প্রথম দিন উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে প্রশাসনিক বৈঠক করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: হিন্দুস্থান টাইমস

ভারতের উত্তরের জেলাগুলোতে সফরকালে জেলাশাসক, বিডিও ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারের জনমুখী প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন খতিয়ে দেখে বৈঠকে সরাসরি সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি।

ফের ভারতের উত্তরের পাঁচ জেলা সফরে যাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ডিসেম্বরের ৭ তারিখে সফরের প্রথম দিনে তিনি উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে প্রশাসনিক বৈঠক করবেন।

পশ্চিমবঙ্গ মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক কার্যালয় নবান্ন সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

রাজ্যে তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনের পর উত্তরের জেলা দিয়ে মমতা প্রশাসনিক বৈঠক শুরু করেন। গত অক্টোবরে উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে তিনি এ ধরনের বৈঠক করেছিলেন।

তবে এবার সফরকালে উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে প্রথমে গঙ্গারামপুরে ও পরে রায়গঞ্জে বৈঠক করবেন। মুর্শিদাবাদ ও নদিয়াতেও বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা।

সরকার প্রকল্পের আদর্শ মেনে নাগরিকদের আর সরকারের কাছে আসতে হবে না। সরকারই পৌঁছে যাবে জনগণের কাছে। এ সময় জেলাশাসক, বিডিও ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলবেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের জনমুখী প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন খতিয়ে দেখে বৈঠকে সরাসরি সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি।

এদিকে আগামী বছর এপ্রিল মাসে রাজ্যের বাকি পৌরসভাগুলোতে ভোট গ্রহণের কথা রাজ্য সরকার আদালতে জানিয়েছে। তাই মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরে পৌর ভোটের বিষয়টিও থাকছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

শেয়ার করুন

বিজেপিকে রুখতে তৃণমূলে সংবিধান বদলের সিদ্ধান্ত

বিজেপিকে রুখতে তৃণমূলে সংবিধান বদলের সিদ্ধান্ত

কালীঘাটের বাড়িতে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত

বৈঠক শেষে তৃণমূল নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, ‘দল বড় হচ্ছে। ২০২৪ সালে সমগ্র দেশকে পথ দেখাবে তৃণমূল। সর্বভারতীয় স্তরে শক্তি বাড়ানোর কাজ এখন থেকেই শুরু হবে। বর্তমানে ওয়ার্কিং কমিটির ২১ জন সদস্য রয়েছেন। বাংলার বাইরের বেশ কয়েকজন নেতাকে এই কমিটিতে নেয়া হবে। মেঘালয়, হরিয়ানাসহ অন্যান্য রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো হবে। এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’

২০২৪ সালে ভারতের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে টক্কর দিতে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সংবিধান বদলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরোধিতায় একলা চলো নীতিতেই আস্থা রাখছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে কংগ্রেস তৃণমূলের সঙ্গে আসতে চাইলে স্বাগত জানাবে দল।

সোমবার সন্ধ্যায় নেত্রীর কালীঘাটের বাড়িতে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিজেপি-বিরোধিতায় নিজেদের শক্তি বাড়ানোর ওপর জোর দেয়া হয়।

বৈঠক শেষে তৃণমূল নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, ‘দল বড় হচ্ছে। ২০২৪ সালে সমগ্র দেশকে পথ দেখাবে তৃণমূল। সর্বভারতীয় স্তরে শক্তি বাড়ানোর কাজ এখন থেকেই শুরু হবে।’

তৃণমূল কংগ্রেসের সংবিধানে কিছু পরিবর্তন হবে জানিয়ে ডেরেক বলেন, ‘বর্তমানে ওয়ার্কিং কমিটির ২১ জন সদস্য রয়েছেন। বাংলার বাইরের বেশ কয়েকজন নেতাকে এই কমিটিতে নেয়া হবে। মেঘালয়, হরিয়ানাসহ অন্যান্য রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো হবে। আর সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’

তিনি বলেন, ‘মমতাদির লড়াই, ‘কর্মীদের মৃত্যু গোটা দেশে পৌঁছে যাচ্ছে। তবে তৃণমূলের ডিএনএ পরিবর্তন হচ্ছে না, শুধু দলের সংবিধান পরিবর্তন করা হচ্ছে।’

জেডিইউ ছেড়ে সদ্য তৃণমূলে আসা পবন বর্মা বলেন, ‘আজ দেশের যে অবস্থা তাতে এটা স্পষ্ট যে সারা দেশে বিজেপির বিরুদ্ধে সবাইকে আন্দোলনে নামতে হবে। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই দায়িত্ব নিতে হবে।’

বৈঠকে ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা, মেঘালয়, উত্তরপ্রদেশের তৃণমূল নেতারা। ছিলেন অটল বিহারি বাজপেয়ি মন্ত্রিসভার অর্থমন্ত্রী, তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্য যশবন্ত সিনহা। তৃণমূলের পরবর্তী ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক বসবে দিল্লিতে।

শেয়ার করুন

স্যোশাল মিডিয়ায় ট্রল বন্ধে কঠোর আইনের পথে অস্ট্রেলিয়া

স্যোশাল মিডিয়ায় ট্রল বন্ধে কঠোর আইনের পথে অস্ট্রেলিয়া

প্রতীকী ছবি

নতুন আইনে মানহানিকর কোনো পোস্ট সরিয়ে নেয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে অনুরোধ করা যাবে। তারা তা না সরালে পোস্টকারী ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করতে হবে এবং সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও করা যাবে।

অনলাইনে বেনামে ট্রল ও মানহানিকর পোস্ট দেয়া ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে বাধ্য করতে নতুন আইন করছে অস্ট্রেলিয়া।

এক বিবৃতিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন জানিয়েছেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো প্রায়ই কাপুরুষদের প্রাসাদে রূপ নেয়, যেখানে নাম প্রকাশ না করে, কোনো পরিণাম ভোগ না করে অন্যকে হুমকি, হয়রানি এমনকি ধ্বংসও করে দেয়া যায়।’

নতুন আইনে মানহানিকর কোনো পোস্ট সরিয়ে নেয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে অনুরোধ করা যাবে। তারা তা না সরালে পোস্টকারী ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করতে হবে এবং সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও করা যাবে।

মরিসন বলেছেন, ‘নতুন আইনে সোশ্যাল মিডিয়াকে প্রকাশক ধরে নিয়ে সেই প্রকাশনার দায়িত্ব তাদের নেয়ার কথা বলা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলছেন, ‘এই জায়গাটি তারা (সোশ্যাল মিডিয়া) তৈরি করেছে। এটিকে নিরাপদ রাখার দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে। তারা তা না নিলে আমরাই সে দায়িত্ব নেব।’

আইনটি এখনও পাস হয়নি। এখনও প্রস্তাব আকারে রয়েছে। পাশ করার আগে এটি জনগণের মতের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

শেয়ার করুন

ওমিক্রন ঠেকাতে ঐক্যবদ্ধের আহ্বান ডব্লিউএইচও প্রধানের

ওমিক্রন ঠেকাতে ঐক্যবদ্ধের আহ্বান ডব্লিউএইচও প্রধানের

ফাইল ছবি

ডব্লিউএইচও মহাসচিব টেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসিস শঙ্কা প্রকাশ করেন, ‘নতুন এই ধরন ওমিক্রন বিশ্বের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি ছড়িয়ে দিতে পারে। যদিও এখন পর্যন্ত ওমিক্রনে আক্রান্ত কেউ মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। যদি ওমিক্রনের উপসর্গ ভয়াবহতার মাত্রাকে ছাড়িয়ে না যায় তবে নতুন ধরনটির বিরুদ্ধে অনুমোদিত কোভিড টিকা কার্যকর হতে পারে।’

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণের ঢেউ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে যেতে পারে। এমন সতর্কতা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

সোমবার জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থাটির ১৯৪ সদস্য দেশকে উদ্দেশ করে মহাসচিব টেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসিস বলেন, যদি সংক্রমণের ঢেউ তীব্রভাবে ছড়িয়ে পড়ে তবে পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত ওমিক্রনে আক্রান্ত কোন রোগীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

জাতিসংঘের সদরদপ্তর জেনেভায় আয়োজিত সদস্য দেশগুলোর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে মহাসচিব বলেন, ওমিক্রনের ভয়াবহতা ঠেকাতে সব দেশকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

ডব্লিউএইচও মহাসচিব শঙ্কা প্রকাশ করেন, ‘নতুন এই ধরন ওমিক্রন বিশ্বের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি ছড়িয়ে দিতে পারে। যদিও এখন পর্যন্ত ওমিক্রনে আক্রান্ত কেউ মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। যদি ওমিক্রনের উপসর্গ ভয়াবহতার মাত্রাকে ছাড়িয়ে না যায় তবে নতুন ধরনটির বিরুদ্ধে অনুমোদিত কোভিড টিকা কার্যকর হতে পারে।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরও জানিয়েছে, ওমিক্রনে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি এবং রোগের ভয়াবহতা বেড়ে গিয়ে তা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

করোনার সবচেয়ে মারাত্মক ধরন ওমিক্রন নিয়ে বিশ্বজুড়ে এরই মধ্যে নতুন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ধরনটি প্রথম শনাক্ত হয়েছে সাউথ আফ্রিকায়। এমনই সময়ে সাউথ আফ্রিকার দুই নাগরিকের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর আতঙ্ক ছড়িয়েছে ভারতের তথ্য-প্রযুক্তি শহর বেঙ্গালুরুতে।

শনিবার বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই আফ্রিকানের কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ হওয়ার পর প্রশাসনিক স্তরেও উদ্বেগ দেখা দেয়। তাদের শরীরে ওমিক্রন মিলেছে কিনা তা নিয়ে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চল থেকে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের নতুন ধরন বি.১.১.৫২৯ নাম দিয়েছে ডব্লিউএইচও। এখন থেকে এই ধরনটিকে ওমিক্রন নামে ডাকা হবে। বলা হচ্ছে, করোনার এই ধরনটি খুবই উদ্বেগের।

এই ধরন কতটা প্রাণঘাতী ও সংক্রামক সেসব জানতে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। অথচ এর আগেই আফ্রিকার দেশগুলোর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বসে আছে পশ্চিমা দেশগুলো।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯-এর এখন পর্যন্ত যতগুলো ধরন আছে তার মধ্যে ওমিক্রন সবচেয়ে জটিল। বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছড়ানো ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের মতোই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাতে বিবিসি লিখেছে, ওমিক্রনের অনেকবার মিউটেশন ঘটেছে। এই ভ্যারিয়েন্টে বারংবার আক্রান্ত হওয়ারও ঝুঁকি রয়েছে।

নতুন ধরনটি সাউথ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত হয় বলে ২৪ নভেম্বর জানায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বতসোয়ানা, বেলজিয়াম, হংকং ও ইসরায়েলেও এই ধরন শনাক্তের তথ্য পাওয়া গেছে।

ওমিক্রনের ভয়াবহতার শঙ্কায় আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশগুলোর সঙ্গে এরই মধ্যে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে অনেক দেশ।

সাউথ আফ্রিকা, নামিবিয়া, জিম্বাবুয়ে, বতসোয়ানা, লেসেথোর মতো দেশগুলোর নাগরিকের ওপর ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। তবে যুক্তরাজ্য বা আয়ারল্যান্ডের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না।

কীভাবে শনাক্ত হলো ওমিক্রন, উপসর্গ কী

রোগীদের মধ্যে ওমিক্রনকে করোনাভাইরাসের রূপ পরিবর্তিত নতুন বৈশিষ্ট্য হিসেবে শনাক্ত করা প্রথম চিকিৎসকদের একজন সাউথ আফ্রিকার ড. অ্যাঞ্জেলিক কোয়েৎজি। নতুন ধরনের ভাইরাসটির উপসর্গ এখন পর্যন্ত বেশ মৃদু এবং বাড়িতে থেকেই এর চিকিৎসা নেয়া সম্ভব বলে মত তার।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সাউথ আফ্রিকায় করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ডেল্টা বেশি সংক্রমিত। কিন্তু ড. কোয়েৎজি গত ১৮ নভেম্বর নিজের ক্লিনিকে সাতজন রোগীর মধ্যে ডেল্টা উপসর্গের চেয়ে কিছু ভিন্ন উপসর্গ লক্ষ্য করে সতর্ক হন, যদিও সেসব উপসর্গ ছিল অত্যন্ত মৃদু।

সাউথ আফ্রিকান চিকিৎসক সমিতির প্রধান ড. কোয়েৎজি জানান, ওই রোগীরা দুই দিন ধরে ‘অতিরিক্ত ক্লান্তিতে ভুগছিলেন’। সঙ্গে মাথা ও শরীর ব্যথা তো ছিলই।

তিনি বলেন, ‘এই পর্যায়ের উপসর্গ সাধারণ ভাইরাস সংক্রমণের মতোই। কিন্তু গত ৮ থেকে ১০ সপ্তাহ কোনো কোভিড রোগী পাইনি বলে আমরা তাদের পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নিই।’

পরীক্ষায় এক পরিবারের সব সদস্য করোনা পজিটিভ শনাক্ত হন।

একই দিন কাছাকাছি উপসর্গ নিয়ে আরও রোগী আসতে শুরু করলে নড়ে বসেন ড. কোয়েৎজি। কারণ এর আগ পর্যন্ত দিনে বড়জোর দুই থেকে তিনজন রোগী দেখছিলেন তিনি।

কোয়েৎজি বলেন, ‘মহামারির তৃতীয় ধাক্কার সময় ডেল্টায় আক্রান্ত অসংখ্য রোগী আমরা পেয়েছি। নিজেদের অভিজ্ঞতা দিয়ে যাচাই করে বুঝতে পারি যে তখনকার দৃশ্যপটের তুলনায় এখনকার দৃশ্যপটের পার্থক্য আছে।’

নমুনা পরীক্ষার ফল সেদিনই সাউথ আফ্রিকার জাতীয় সংক্রামক রোগ ইনস্টিটিউটে (এনআইসিডি) জমা দেন কোয়েৎজি।

তিনি বলেন, ‘যারা ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছেন, তাদের বেশির ভাগের মধ্যেই খুব মৃদু উপসর্গ ছিল এবং কাউকেই হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়নি। তাদের বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিতে বলেছিলাম আমরা। সেভাবে চিকিৎসা নিয়ে তারা সুস্থ আছেন।’

সাউথ আফ্রিকায় করোনার টিকাবিষয়ক মন্ত্রীপর্যায়ের উপদেষ্টা কমিটির অন্যতম সদস্য ড. কোয়েৎজি। তার মতে, ডেল্টার মতো ওমিক্রনে আক্রান্ত হলে স্বাদ-ঘ্রাণ হারানো কিংবা অক্সিজেনের লেভেল বড় ব্যবধানে কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ এখনও দেখা যায়নি।

কোয়েৎজির অভিজ্ঞতা বলছে, ওমিক্রনে আক্রান্তরা সবাই ৪০ বছরের কম বয়সী বা তরুণ। আক্রান্ত যাদের তিনি চিকিৎসা দিয়েছিলেন, তাদের প্রায় অর্ধেকের করোনা প্রতিরোধী টিকা নেয়া ছিল না।

শেয়ার করুন