দেশে হেপাটাইটিস বি ভাইরাস নতুন কোনো বিষয় নয়। অনেকেই এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হওয়ার কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার এক ভিডিওতে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হেপাটোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হোসাইন মোহাম্মদ শাহেদ। তথ্যগুলো তার ভাষায় উপস্থাপন করা হলো পাঠকদের সামনে।
১. আমাদের দেশে বি ভাইরাসটা (হেপাটাইটিস বি) খুব কমন। আমাদের দেশের ইনসিডেন্ট প্রিভেলেন্স (আক্রান্তের সংখ্যা) হচ্ছে এইট টু টেন পারসেন্ট। এতসংখ্যক মানুষের মধ্যে বি ভাইরাসটা আমাদের দেশে পজিটিভ, কিন্তু অনেক মানুষ জানে না শরীরে এইচবিএসএজি আছে, যেটা টেস্ট করা হয়নি। বি ভাইরাসটা (সম্বন্ধে জানা) আমাদের জন্য খুব ইম্পরট্যান্ট। কারণ আমরা আসলে জানি না আমাদের কাদের বি ভাইরাস আছে। না জানার জন্য বি ভাইরাস থেকে অনেক সময় লিভার সিরোসিস, লিভার ক্যানসার হয়ে যায়। যে রোগটা আগে থেকে চিকিৎসা করলে ভালো হয়ে যেত, ওইটা এমন একটা অবস্থায় নিয়ে আসে যখন আমাদের আর কিছু করার থাকে না। এ জন্য আমি বলব, বি ভাইরাস সম্বন্ধে যা বলি তা শুনবেন এবং এই অনুসারে চিকিৎসা করবেন। ইনশাল্লাহ ভালো হয়ে যাবে। এটা একটা প্রিভেন্টেবল ডিজিজ (প্রতিরোধযোগ্য রোগ)। এটার চিকিৎসা করলে ভালো হয়ে যায়।
২. অনেক মানুষ আছে যারা এইচবিএসএজি পজিটিভ নিয়ে আমাদের কাছে আসে। হঠাৎ করে ধরা পড়েছে বা শরীরে আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গিয়ে অনেক সময় বি ভাইরাস ধরা পড়ে। দেখা যায় যে, কারও ব্লাডের কোনো রোগ হইছে, হেমাটোলজিস্ট পরীক্ষা করে দেখেন বি ভাইরাস। তখন আমাদের কাছে পাঠান। এমনও হতে পারে কোনো ক্যানসার রোগী ক্যানসারের ডাক্তারের কাছে গেছে, তো উনি ক্যানসারের ওষুধ দেয়ার আগে বি ভাইরাস পরীক্ষা করে দেখেন যে, পজিটিভ। তখন আমাদের কাছে পাঠিয়ে দেন।
৩. অনেক সময় দেখা যায় যে, কিডনি রোগী ডায়ালাইসিস করবে। ডায়ালাইসিস শুরু করার আগে অনেক সময় বি ভাইরাস, সি ভাইরাস টেস্ট করা হয়। পজিটিভ হলে আমাদের কাছে আসে। এ ছাড়া এমনিতেই অনেক রোগী জন্ডিস নিয়ে আমাদের কাছে আসে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বি ভাইরাস ধরা পড়ে।
৪. অধিকাংশ মানুষের বি ভাইরাস থাকলে শরীরে কোনো সিম্পটম (লক্ষণ) থাকে না; অ্যাসিম্পটমিক (উপসর্গবিহীন)। হয়তো দেখা গেল বিদেশে যাওয়ার জন্য পরীক্ষা করেছে। বি ভাইরাস ধরা পড়েছে অথবা টিকা নিতে যাবে; ওখানে পরীক্ষা করতে গেছে টিকা দেওয়ার জন্য, বি ভাইরাস ধরা পড়েছে। এভাবে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বি ভাইরাসটা শরীরে ধরা পড়ে।
৫. বি ভাইরাসটা অধিকাংশ ক্ষেত্রে কেরিয়ার (বাহক) হিসেবে থাকে। শুধু এইচবিএসএজি পজিটিভ। অন্য কোনো অসুবিধা থাকে না, কিন্তু এটা অনেক সময় অ্যাকিউট হেপাটাইটিস করে, পরবর্তী পর্যায়ে ক্রনিক হেপাটাইটিস করে। এর পরবর্তী পর্যায়ে লিভার সিরোসিস এবং লিভার ক্যানসার করে।
৬. বি ভাইরাস নিয়ে আমাদের কাছে যখন কোনো রোগী আসে, আমরা তখন কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখি বি ভাইরাসটা শরীরে অ্যাকটিভ নাকি ইনঅ্যাকটিভ অবস্থায় আছে। ভাইরাসটা শরীরে কীভাবে থাকে? একটা ইনঅ্যাকটিভ, আরেকটা অ্যাকটিভ। যদি অ্যাকটিভ অবস্থায় থাকে, তাহলে এটার চিকিৎসা করলে ইনশাল্লাহ ভালো হয়ে যাবে। আর ইনঅ্যাকটিভ অবস্থার আরেকটা নাম হচ্ছে কেরিয়াস্টিকস। যদি কেরিয়ার (বাহক) অবস্থায় থাকে, শুধু এটার ফলোআপ করতে হয় তিন মাস পরপর। ফলোআপ করে করে এটা দেখতে হয়। যদি কোনো সময় ফলোআপের মধ্যে অ্যাকটিভ পাওয়া যায়, তখন এটার চিকিৎসা দেওয়া হয়।
৭. অ্যাকটিভ আমরা কীভাবে বুঝব? আমরা যখন কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এর মধ্যে এইচবিএসএজি যদি পজিটিভ থাকে, সাথে এইচবিইএজি, এসজিপিটি, অ্যান্টিএইচবিই, আলট্রাসনোগ্রাম, এইচবিপিটিএনের মতো পরীক্ষাগুলো করা হয়। পরীক্ষা করে এইচবিএসএজি কারও পজিটিভ থাকে, কারও নেগেটিভ থাকে। এটা যদি নেগেটিভ থাকে, এটাকে বলে মিউট্যান্ট ভ্যারাইটি। এটা খুব খারাপ একটা ভ্যারিয়েন্ট, যা থেকে লিভার রোগ খুব বেশি তাড়াতাড়ি হয়। ক্যানসার বা লিভার সিরোসিস, এগুলো খুব দ্রুত হয়ে যায়। এ জন্য এইচবিএসএজি খুব মারাত্মক। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসাটা অনেক বেশি দিন দেয়া লাগে।
৮. এরপরে আমরা দেখি এসজিপিটি। নরমালও থাকতে পারে, ওয়ান টাইম বা টু টাইমস বেশি থাকতে পারে। আর অ্যান্টি এইচবিই এটা করা হয়। এটা পজিটিভ থাকলে ধরা হয় শরীরে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।
৯. এরপরে ডিএনএ করা হয়। ডিএনএ নেগেটিভ থাকতে পারে। পজিটিভ থাকলেও চিকিৎসা লাগে না যদি এর পরিমাণ একটা লেভেল পর্যন্ত থাকে। সেই লেভেল পর্যন্ত থাকলে আমরা চিকিৎসা করি। লো লেভেল থাকলে সাধারণত চিকিৎসা লাগে না।
১০. তাইলে আমরা বলছিলাম একটা অ্যাকটিভ, একটা ইনঅ্যাকটিভ। অ্যাকটিভ হলো যাদের এইচবিএসএজি পজিটিভ অথবা নেগেটিভ, যেকোনো একটা থাকতে পারে অ্যাকটিভে। এসজিপিটি রেইজ (বাড়া) থাকতে পারে ওয়ান টাইম বা টু টাইম বা এর বেশি এবং ডিএনএ পজিটিভ থাকবে। এগুলো যদি থাকে, আমরা বলি অ্যাকটিভ স্ক্রিনস। যদি অ্যাকটিভ ভাইরাস থাকে, এটা অবশ্যই চিকিৎসা করতে হয়। না হলে এ থেকে ক্রনিক হেপাটাইটিস হয়। সেখান থেকে লিভার সিরোসিস হয়। লিভার সিরোসিস পরে লিভার ক্যানসারে টার্ন করে। আর ইনঅ্যাকটিভ স্টেজ যদি হয়, তখন দেখা যায় যে, এইচবিএসএজি নেগেটিভ, এসজিপিটি নরমাল, ডিএনএ নেগেটিভ। এটা হলে ইনঅ্যাকটিভ স্টেজ। এটার কোনো চিকিৎসা লাগে না; শুধু তিন মাস পরপর ফলোআপ করতে হয়।
ফলোআপের মধ্যে যদি এগুলো নেগেটিভ থাকে, তাহলে এটাকে বলা হয় কেরিয়াস্টিকস। কেরিয়াস্টিকের কোনো চিকিৎসা লাগে না, কিন্তু ফলোআপে রাখতে হয়। কারণ ফলোআপের মধ্যে দেখা যায়, অনেক সময় এটা অ্যাকটিভে টার্ন করে।
১১. ভাইরাসটা শরীরের ইমিউনিটির ওপর ভিত্তি করে অ্যাকটিভ ইনঅ্যাকটিভ হয়। যদি ইমিউনিটি ভালো থাকে, তাইলে এটা ইনঅ্যাকটিভ স্টেজে থাকে। আর কোনো সময় ইমিউনিটি যদি শরীরে কমে যায়, তখন ভাইরাসটা ইনঅ্যাকটিভ থেকে অ্যাকটিভে টার্ন করে।
অ্যাকটিভ মানে এটা লিভার ড্যামেজ করে। লিভার ড্যামেজ করা মানে এটা ক্রনিক হেপাটাইটিস, লিভার সিরোসিস।
১২. এখন চিকিৎসা। যদি অ্যাকটিভ স্টেজে থাকে, তাহলে আমরা বিভিন্ন রকম অ্যান্টিভাইরাল এজেন্ট দিয়ে থাকি। এর মধ্যে লেমিভুডিন, যেটা আমরা আগে ইউজ করতাম। এখন করি না। এন্টাকাভির বর্তমানে ইউজ করা হয়। টেলবিভুডিন বর্তমানে ইউজ করা হয়।
বর্তমানে আমরা অ্যান্টিভাইরালগুলো বিভিন্ন মেয়াদে দিয়ে থাকি। যাদের এইচবিএসএজি ওদেরকে এক বছর চিকিৎসা দেয়া হয়। যাদের এইচবিএসএজি নেগেটিভ, তাদের তিন বছর চিকিৎসা দেয়া হয়, তবে একটা ট্রেন্ড বর্তমানে আমরা বিভিন্ন পাবলিকেশনে দেখতেছি। সেটা হলো আমরা নির্দিষ্ট সময়ে অ্যান্টিভাইরাল দেয়ার পরে ভাইরাসটা আবার ফলোআপ করতে হয়।
অ্যান্টিভাইরাল বন্ধ করার তিন মাস/ছয় মাস পরপর ডিএনএটা পরীক্ষা করা হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, নেগেটিভই থাকে, তবে কারও কারও আবার পজিটিভও হয়। এ জন্য আবার অ্যান্টিভাইরাল শুরু করতে হয়, কিন্তু কিছু কিছু পাবলিকেশনে দেখা যাচ্ছে যে, অ্যান্টিভাইরালটা বন্ধ করলে ভাইরাসটার যেহেতু পুনরায় আবির্ভাব ঘটে, সেহেতু অ্যান্টিভাইরাল বন্ধ না করাই শ্রেয়। এটা সবসময় চালু থাকলে, ভাইরাসটা ইনঅ্যাকটিভ থাকলে লিভারটা সুরক্ষিত থাকে এবং লিভার সিরোসিস, লিভার ক্যানসার থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।
‘মথ’ নামের এক ধরনের ডালে ক্ষতিকর রঙ মিশিয়ে তা ‘মুগ’ ডাল হিসেবে বাজারজাত করা হচ্ছে— এমন তথ্যের ভিত্তিতে সতর্ক করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বিএফএসএ জানায়, ’মথ’ ডাল নামক ডালের সঙ্গে হলুদ রঙ মিশিয়ে মুগ ডাল নামে বাজারে বিক্রির প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এই রঙ খাদ্যে ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত নয় এবং এটি মানবদেহের জন্য বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।”
সংস্থাটি জানায়, গত অর্থবছরে দেশে মুগ ডালের তুলনায় দ্বিগুণ পরিমাণ মথ ডাল আমদানি করা হয়েছে। কিন্তু বাজারে ‘মথ ডাল’ নামে কোনো পণ্য দেখা যায়নি। বরং স্থানীয় বাজার থেকে সংগৃহীত ‘মুগ ডাল’-এর নমুনার অর্ধেকের বেশি রঙ মিশ্রিত পাওয়া গেছে।
বিএফএসএ আরও জানায়, অননুমোদিতভাবে কোনো রঙ খাদ্যে ব্যবহার, সংযোজন, আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, সরবরাহ বা বিক্রয় করা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ২৭ ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের রঙযুক্ত ডাল আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, সরবরাহ ও বিক্রি থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে সাধারণ ক্রেতাদেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে মুগ ডাল কেনার সময় এর বিশুদ্ধতা যাচাই করতে এবং সন্দেহজনকভাবে উজ্জ্বল রঙ বা অস্বাভাবিক আভাযুক্ত ডাল না কেনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১১ জুন) সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় এসব মৃত্যু হয়। আর এই সময়ের মধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৫৯ জন।
আজ শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ অ্যান্ড ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত রোগটিতে বরিশাল বিভাগে মারা গেছেন চারজন। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মারা গেছেন একজন।
বিজ্ঞপ্তি থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ভর্তি হয়েছেন ১৫৯ জন। নতুন আক্রান্তের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৫ জন। আর ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১৪৪ জন।
বিজ্ঞপ্তি থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, চলতি বছর আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৪৩ দশমিক ৫ শতাংশ নারী।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ জুন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৫ হাজার ৫৭০ জন। এর মধ্যে ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৪০ দশমিক ৫ শতাংশ নারী। আর মারা যাওয়া রোগীদের মধ্যে ৫৩ দশমিক ৬ শতাংশ পুরুষ ও ৪৬ দশমিক ৪ শতাংশ নারী।
এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার (১০ জুন) সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। এ সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৮৮ জন।
বুধবার (১১ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ অ্যান্ড ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বিজ্ঞপ্তি থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ভর্তি হয়েছেন ২৮৮ জন। নতুন আক্রান্তের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৫ জন। আর ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ২৭৩ জন।
বিজ্ঞপ্তি থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, চলতি বছর আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৪৩ দশমিক ৫ শতাংশ নারী।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৫ হাজার ৩০৩ জন। এর মধ্যে ৫৯ দশমিক ৭ শতাংশ পুরুষ এবং ৪০ দশমিক ৩ শতাংশ নারী।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ধানক্ষেতে কাজ করার সময় সাপের দংশনে আহত হয়েছেন মিলন আলী নামে এক কৃষক। পরে অন্য কৃষকরা তাকে উদ্ধার করে শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। এ সময় মিলন আলী সাপটিও হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
সোমবার দুপুরে শিবগঞ্জ উপজেলার পাকা ইউনিয়নের বোগলাউড়ি এলাকার একটি ধানক্ষেতে এ ঘটনা ঘটে। আহত মিলন আলী ওই এলাকার তোবজুল হকের ছেলে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মিলন আলী বলেন, ‘সাপের ধরন চিহ্নিত করতে ও সঠিক চিকিৎসার জন্য সাপটি ধরে আমার ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে আসতে বলেছিলাম। তাই সে সাপটি ব্যাগে করে নিয়ে আসে। চিকিৎসকরা সাপটি দেখে রাসেল ভাইপার বলে নিশ্চিত করেছেন।’
শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মামুন কবির জানান, আক্রান্ত ব্যক্তি একটি সাপের বাচ্চাসহ হাসপাতালে আসেন। তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে তিনিশঙ্কামুক্ত। তারপরও আমরা ২৪ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছি।’
শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি: নিউজবাংলা
মাদারীপুরের শিবচরে একই দিনে তিনজনকে সাপে দংশন করেছে। তাদের মধ্যে দুজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। অপরজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে শিবচর উপজেলার চর বাচামারা গ্রামের লোকমান খান বাড়ির পাশে বাদাম ক্ষেতে রাখা ঝাকার নিচ থেকে হাতে কাঁচি তুলছিলেন। এ সময় একটি সাপ তার হাতে দংশন করে। পরিবারের লোকজন তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন যে তাকে বিষধর সাপে দংশন করেছে। চিকিৎসকরা তাকে এন্টিভেনম দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বজনদের অনুমতিপত্রে স্বাক্ষর করতে বললে তারা অস্বীকার করেন। এজন্য স্বজনদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোগীকে ঢাকায় রেফার করা হয়।
অপরদিকে একই দিন দুপুরে উপজেলার মাদবরচর ইউনিয়নের আলেপখাঁর খাঁড়াকান্দি গ্রামের শাহাবুদ্দিন হাওলাদার বাড়িতে পালা থেকে গরুর জন্য খড় বের করার সময় একটি সাপ তাকে দংশন করে। পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
একই দিন সকালে উপজেলার সন্নাসীরচর ইউনিয়নের খাসচর বাচামারা গ্রামের মোসলেম কাজী বাড়ি সংলগ্ন খালের পানিতে পাট জাগ দিচ্ছিলেন। এসময় তাকে একটি সাপে দংশন করে। তার চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা এসে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. ফারজানা সুলতানা বলেন, সাপের দংশনে আহত তিনজন রোগী হাসপাতালে এসেছেন। আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি দুজনকে বিষধর সাপে কাটেনি। তাই তাদেরকে এন্টিভেনম দেয়ার প্রয়োজন হয়নি। তবে তাদেরকে আমরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছি। অপরজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেছেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ওষুধপত্র, স্যালাইনসহ হাসপাতালে সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। ডেঙ্গু মৌসুম শুরু হলে এ বিষয়ে আরও উদ্যোগ নেয়া হবে।
রোববার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ড সফর নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। খবর বাসসের
সামন্ত লাল সেন বলেন, সম্মিলিতভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি যথেষ্ট। ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর এবং সিটি কর্পোরেশনের সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করা উচিত। শিগগিরই এ বিষয়ে আন্ত:মন্ত্রণালয় সভার আয়োজন করা হবে।
যত্রতত্র অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারণা জোরদার করা উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে নিয়মিত তদারকি করা উচিত।
জেনেভা সফর নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে ফাইলেরিয়া নির্মূল এবং বিশ্বে প্রথম কালাজ্বর নির্মূল করায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ৭৭তম সাধারণ সভায় তার বক্তব্যে বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। মহাপরিচালক বলেছেন, অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বাংলাদেশ হতে পারে একটি যথাযথ রোল মডেল।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আজিজুর রহমান, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (আর্থিক ব্যাবস্থাপনা ও অডিট অনুবিভাগ) মো. আব্দুস সামাদ প্রমুখ।
ফাইল ছবি
২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ২২ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হিসাবে এই তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এই সময়ের মধ্যে ৪৫৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
গত ২৪ ঘণ্টায় কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি। এ পর্যন্ত ২৯ হাজার ৪৯৫ জন করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন। করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ২০ লাখ ১৭ হাজার ৮৮০ জন।
মন্তব্য