× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

স্বাস্থ্য
1 death detected in Corona 32
hear-news
player
google_news print-icon

করোনায় ১ মৃত্যু, শনাক্ত ৩২

করোনায়-১-মৃত্যু-শনাক্ত-৩২
করোনা আক্রান্ত এক নারীকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। ফাইল ছবি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, সারা দেশে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৭০৬টি নমুনা পরীক্ষায় ৩২ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এই হার শূন্য দশমিক ৯৯ শতাংশ। নতুন শনাক্তদের মধ্যে ২৪ জন ঢাকার বাসিন্দা।

দেশে গত ২৪ ঘন্টায় ৩২ জনের দেহে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এ সময় করোনা শনাক্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার এসব জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, সারা দেশে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৭০৬টি নমুনা পরীক্ষায় ৩২ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এই হার শূন্য দশমিক ৯৯ শতাংশ। নতুন শনাক্তদের মধ্যে ২৪ জন ঢাকার বাসিন্দা।

দেশে এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ লাখ ৩৬ হাজার ৭১৭জন। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৪৩৬ জনের।

গত ২৪ ঘন্টায় করোনা থেকে সেরে উঠেছেন ৭১ জন। সব মিলিয়ে দেশে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৯ লাখ ৮৬ হাজার ২৮০ জন।

২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর মোট পাঁচটি ঢেউ মোকাবিলা করতে হয়েছে দেশকে। পঞ্চম ঢেউয়ে শনাক্ত ও মৃত্যু তুলনামূলক কম। বর্তমানে করোনা নিয়ন্ত্রণের পথে বলে মনে করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

স্বাস্থ্য
After Sara two others received Nanditas corneas after posthumous donation

সারার পর মরণোত্তর দেহদান নন্দিতার, কর্নিয়া পেল আরও দুজন

সারার পর মরণোত্তর দেহদান নন্দিতার, কর্নিয়া পেল আরও দুজন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অ্যানাটমি বিভাগের পক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে প্রতিষ্ঠানের উপাচার্য অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ নন্দিতা বড়ুয়ার মরণোত্তর দেহ গ্রহণ করেন। ছবি: নিউজবাংলা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন নন্দিতা বড়ুয়ার মৃত্যু হয় ৩০ জানুয়ারি রাত আড়াইটার দিকে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনিজনিত জটিল রোগে ভুগছিলেন। কিডনি রোগের পাশাপাশি এসএলই ও ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত ছিলেন। মরণোত্তর দেহদানের বিষয়ে সন্তানদের বলে গিয়েছিলেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সারা ইসলামের পর মরণোত্তর দেহ দান করেছেন ৬৯ বছর বয়সী নন্দিতা বড়ুয়া, যার কর্নিয়ায় চোখের আলো ফিরে পেয়েছেন দুজন।

তারা হলেন পিরোজপুরের কাউখালী কলেজের ব্যবস্থাপনার বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের ২৩ বছর বয়সী ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ও পটুয়াখালীর ৫০ বছর বয়সী দলিল লেখক আবদুল আজিজ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অ্যানাটমি বিভাগের পক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে প্রতিষ্ঠানের উপাচার্য অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ নন্দিতা বড়ুয়ার মরণোত্তর দেহ গ্রহণ করেন। ওই সময় তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ঢাকার বাসাবোর বাসিন্দা নন্দিতা বড়ুয়ার দেহ গ্রহণের সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএসএমএমইউর উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ হোসেন, অ্যানাটমি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক লায়লা আনজুমান বানু, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহ আলম, হৃদরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম জোয়ারদার (টিটো), কর্নিয়া বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ শীষ রহমান, কর্নিয়া বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক রাজশ্রী দাস, অ্যানাটমি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শারমিন আক্তার সুমি, নন্দিতা বড়ুয়ার দুই মেয়ে শাপলা বড়ুয়া ও সেঁজুতি বড়ুয়া. নন্দিতা বড়ুয়ার কর্নিয়াগ্রহীতা জান্নাতুল ফেরদৌস ও আবদুল আজিজসহ আরও অনেকে।

অনুষ্ঠানে নন্দিতা বড়ুয়ার দুই মেয়ে শাপলা বড়ুয়া ও সেঁজুতি বড়ুয়াও মরণোত্তর দেহদানের ইচ্ছা কথা জানান।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন নন্দিতা বড়ুয়ার মৃত্যু হয় ৩০ জানুয়ারি রাত আড়াইটার দিকে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনিজনিত জটিল রোগে ভুগছিলেন। কিডনি রোগের পাশাপাশি এসএলই ও ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত ছিলেন। মরণোত্তর দেহদানের বিষয়ে সন্তানদের বলে গিয়েছিলেন তিনি।

গত ৩১ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ শীষ রহমান আবদুল আজিজের চোখে ও অপথালমোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাজশ্রী দাস জান্নাতুল ফেরদৌসির চোখে নন্দিতা বড়ুয়ার একটি করে কর্নিয়া সফলভাবে প্রতিস্থাপন করেন।

এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি মরণোত্তর অঙ্গদান করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন ২০ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী সারা ইসলাম।

তার দুটি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয় দুই নারীর শরীরে। আর কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করা হয় আরও দুজনের চোখে।

আরও পড়ুন:
মেডিক্যালের শিক্ষার্থীদের জন্য মরণোত্তর দেহদান স্কুলশিক্ষকের

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
The disabled child was abandoned by relatives

প্রতিবন্ধী শিশুকে ঢামেকে ফেলে গেল স্বজন

প্রতিবন্ধী শিশুকে ঢামেকে ফেলে গেল স্বজন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বারান্দায় ফেলে যাওয়া হয় শিশুটিকে। ছবি: নিউজবাংলা
আনসার সদস্য জামাল উদ্দিন বলেন, ‘দুপুর থেকে শিশুটি ওখানে ট্রলিতে পড়ে থাকার দৃশ্য আমাদের নজরে আসে। পরে বুঝতে পারি প্রতিবন্ধী শিশুটিকে কেউ এখানে ফেলে চলে গেছে। পরে ঢামেক পরিচালকের নির্দেশে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করে নেয়া হয়।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে শারীরিক প্রতিবন্ধী এক শিশুকে ফেলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুর থেকে শিশুটি হাসপাতালের পুরনো ভবনের ১১০ নম্বর ওয়ার্ড নার্সিং স্টেশনের পাশে বাথরুমের বারান্দায় ট্রলিতে পড়ে ছিল।

রাতে শিশুটিকে সেখান থেকে নিয়ে আসেন হাসপাতাল ক্যাম্প পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। শিশুটির বয়স আনুমানিক ১০ বছর।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে শিশুটিকে উদ্ধার করার পর ঢামেক হাসপাতালের পরিচালকের নির্দেশে ওয়ার্ড মাস্টার জিল্লুর রহমান ২০৮ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে তার রেফারেন্সে ভর্তির ব্যবস্থা করেন।

ঢামেকে ডিউটিরত আনসার সদস্য (এপিসি) জামাল উদ্দিন বলেন, ‘দুপুর থেকে শিশুটি ওখানে ট্রলিতে পড়ে থাকার দৃশ্য আমাদের নজরে আসে। বার বার ঘুরে গিয়ে দেখি শিশুটির জন্য কেউ আসছে কী না।

পরে বুঝতে পারি প্রতিবন্ধী শিশুটিকে কেউ এখানে ফেলে চলে গেছে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিষয়টি ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ বাচ্চু মিয়াকে জানাই। ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হকের নির্দেশে পরে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি দেয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে দুজন হাসপাতালে
হালুয়া খাইয়ে ব্যবসায়ীর আড়াই লাখ টাকা নিয়ে উধাও
দুই ভবনের মাঝে ব্যক্তির মরদেহ
খিলক্ষেতে গাড়ির ধাক্কায় বাবা নিহত, শিশুসহ মা গুরুতর আহত
ইলেকট্রিক মিস্ত্রিকে মৃত ঘোষণা, ঢামেকে লেগুনা ফেলে পালান চালক

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
12 percent of corona sufferers are suffering from depression

করোনা আক্রান্তদের ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভুগছেন

করোনা আক্রান্তদের ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভুগছেন সোমবার বিএসএমএমইউ-তে ‘কিডনি ডিজিজ রিসার্চ গ্রুপ’-্এর উদ্যোগে সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
সিম্পোজিয়ামে বলা হয়, ক্রনিক কিডনি ডিজিজের রোগীদের মৃত্যু ঝুঁকি সাধারণ মানুষের চেয়ে ১০ গুণ বেশি। পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিসের রোগীদের করোনা হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট রোগীদের করোনায় মৃত্যু ঝুঁকি ৫০ ভাগ। আবার কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট রোগীদের ক্ষেত্রে করোনা টিকার কার্যকারিতা অনেক কম।

‘করোনা বিশ্বকেই পাল্টে দিয়েছে। কিডনি রোগীদের করোনা হলে ফল খুব খারাপ হয়। ডায়ালাইসিসের রোগীদের করোনা হলে ৫০ শতাংশই মারা যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর যারা সুস্থ হয়ে ওঠেন তাদেরও নানা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় ভুগতে হচ্ছে। করোনায় আক্রান্তদের ১২ শতাংশ ডিপ্রেশনে ভুগছেন।’

সোমবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) শহীদ ডা. মিলন হলে ‘কিডনি ডিজিজ রিসার্চ গ্রুপ’ আয়োজিত সিম্পোজিয়ামে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

বিএসএমএমইউ-তে করোনার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে ‘মাল্টিটিউড অফ ইস্যুস ইন রেনাল, কার্ডিয়াক অ্যান্ড মেটাবলিক ইনফ্লুয়েন্স’ ও ‘লং টার্ম হেলথ কনসিকোয়েন্সেস অ্যাজ এ পোস্ট কোভিড-১৯ সিকোয়াল ইন হেলথ কেয়ার ওয়ার্কার্স’ শীর্ষক এই সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হয়।

সিম্পোজিয়ামে বলা হয়, ক্রনিক কিডনি ডিজিজের রোগীদের মৃত্যু ঝুঁকি সাধারণ মানুষের চেয়ে ১০ গুণ বেশি। পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিসের রোগীদের করোনা হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট রোগীদের করোনায় মৃত্যু ঝুঁকি ৫০ ভাগ।

আবার কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট রোগীদের ক্ষেত্রে করোনা টিকার কার্যকারিতা অনেক কম। করোনার টিকা ডায়ালাইসিস রোগীদের কার্যকারিতা শতকরা ৮৭ ভাগ। করোনার এই টিকা আবার নেফ্রাইটিস রোগের পুনরাগমন ঘটাতে পারে।

বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘করোনায় আক্রান্তদের ১২ শতাংশ ডিপ্রেশনে ভুগছেন। এ অবস্থা থেকে চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে হবে।

‘করোনায় বাংলাদেশে পেশাজীবীদের মধ্যে চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা বেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়াও কোভিড আক্রান্ত চিকিৎসকদের ৪০ ভাগ চিকিৎসক এবং ৩৪ ভাগ নার্স লং কোভিডে ভুগছেন। করোনায় যাদের ডায়াবেটিস ছিল না তাদের ডায়াবেটিস হয়েছে। করোনায় অনেকের মায়োপ্যাথি হয়েছে।’

বিএসএমএমইউ-এর অর্থায়নে ২০২২ সালের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকায় স্বাস্থ্যসেবাদানকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৮০৪ জন চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর একটি প্রাথমিক গবেষণা করা হয়।

বিষয়টির উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব চিকিৎসককে গবেষণার কাজ করতে হবে। একবার গবেষণার কাজ করলেই হবে না। ধারাবাহিকভাবে গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ইউজিসি অধ্যাপক ডা. সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জী বলেন, ‘কোভিড শেষ হয়ে যায়নি। বিশ্বের অনেক দেশেই কোভিড রয়েছে। কোভিডের সংক্রমণের জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে।’

সিম্পোজিয়ামে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের নেফ্রোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবু সালেহ আহমেদ, বারডেমের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফারিয়া আফসানা, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের কানসালট্যান্ট মীর ইসারাকুজ্জামান একটি করে গবেষণা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে গবেষণা ফল প্রকাশ করেন অধ্যাপক মাসুদ ইকবাল।

আরও পড়ুন:
বিএসএমএমইউ গবেষণা দিবসে নানা আয়োজন
বিএসএমএমইউতে ভাঙারির নামে ‘পুকুরচুরি’
বিএসএমএমইউ-তে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফল এখন অনলাইনে
‘ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্ল্যান্টের মাধ্যমে বাঁচবে প্রাণ’
দেশে বছরে ছানি রোগী বাড়ছে ১ লাখের বেশি

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
They want a safe hospital

নিরাপদ হাসপাতাল চান তারা

নিরাপদ হাসপাতাল চান তারা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শুক্রবার মানববন্ধনে নিহাস সদস্যরা। ছবি: নিউজবাংলা
মানববন্ধনে বক্তাদের একজন বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫১ বছর পরও সব নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারিনি। অনেকে অর্থের অভাবে এখনও চিকিৎসা করাতে পারছে না। সঙ্গে ভুল ও অপচিকিৎসার শিকার তো নিত্যদিনের বিষয়। ডাক্তার থাকলে ওষুধ থাকে না; ওষুধ থাকলে ডাক্তারের দেখা মেলে না।’

সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে সুচিকিৎসাসহ পাঁচ দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে ‘নিরাপদ হাসপাতাল চাই’ নামের একটি সামাজিক সংগঠন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শুক্রবার মানববন্ধনে এ দাবি করেন তারা।

মানববন্ধনে বক্তাদের একজন বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫১ বছর পরও সব নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারিনি। অনেকে অর্থের অভাবে এখনও চিকিৎসা করাতে পারছে না। সঙ্গে ভুল ও অপচিকিৎসার শিকার তো নিত্যদিনের বিষয়। ডাক্তার থাকলে ওষুধ থাকে না; ওষুধ থাকলে ডাক্তারের দেখা মেলে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাস্তবতা হলো চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে দেশের ২৪ শতাংশ পরিবার বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে, যা প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি। প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে এ হার সবচেয়ে কম ভুটানে।’

পাঁচ দফা দাবি

১. দালালমুক্ত ও রোগীবান্ধব হাসপাতাল গড়ে তোলা।

২. জেলা সদরের হাসপাতালগুলোতে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ), করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) স্থাপনসহ সব পরীক্ষা সেবা নিশ্চিত করে আসন বাড়ানো।

৩. রোগী ও চিকিৎসকদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

৪. হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা নিশ্চিত করা।

৫. পরীক্ষা ফি ও ওষুধের মূল্য নির্ধারণ।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন নিরাপদ হাসপাতাল চাইয়ের সমন্বয়ক এফ. এ. শাহেদ, সহসমন্বয়ক শাহরিয়ার সোহাগ, সদস্য সালেকুজ্জামান রাজিব, আহসান হাবিব সবুজ, ইঞ্জিনিয়ার ফকর উদ্দিন মানিকসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
‘অস্ত্রোপচারে’ গৃহবধূর মৃত্যু, স্বজনদের ভাঙচুরের পর বন্ধ হাসপাতাল
কারাবন্দি নেতাদের চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে, দাবি বিএনপির
হাসপাতালে বিজয় দিবসের সজ্জায় কনডম-কাণ্ড তদন্তে কমিটি
শিশু মাইশার মৃত্যু: ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে তোলা হলো দেহ
নিবন্ধনহীন হাসপাতালে সেবা দিলে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Pride Major Cause of Suicide in School College Students Report

স্কুল কলেজ শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার বড় কারণ অভিমান: প্রতিবেদন

স্কুল কলেজ শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার বড় কারণ অভিমান: প্রতিবেদন প্রতীকী ছবি
আত্মহত্যার কারণ নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে মান-অভিমান থেকে সবচেয়ে বেশি আত্মহননের ঘটনা ঘটেছে। ২৭.৩৬ শতাংশ স্কুল ও কলেজশিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে অভিমান করে। তাদের বড় অংশেরই অভিমান ছিল পরিবারের সঙ্গে।

সারা দেশে ২০২২ সালে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ৪৪৬ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে জানিয়ে আঁচল ফাউন্ডেশন বলেছে, তাদের বেশির ভাগ অভিমান থেকে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে।

আত্মহত্যা নিয়ে কাজ করা সংস্থাটির ‘স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার প্রবণতা: সমাধান কোন পথে’ শীর্ষক সমীক্ষায় বিষয়টি উঠে এসেছে।

ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শুক্রবার সমীক্ষা প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে আঁচল ফাউন্ডেশন। এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক তাহমিনা ইসলাম, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট শাহরিনা ফেরদৌস এবং ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তানসেন রোজ।

আঁচল ফাউন্ডেশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের দেড় শতাধিক জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা এবং অনলাইন পোর্টাল থকে শিক্ষার্থীদের আত্মহননের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

সমীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে গত বছর স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের আত্মহত্যাকারী ৪৪৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে স্কুল ও সমমান পর্যায়ের রয়েছে ৩৪০ জন। কলেজ ও সমমান পর্যায়ে ১০৬ শিক্ষার্থী আত্মহননের পথ বেছে নেন, যাদের মধ্যে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ৫৪ জন।

এতে আরও বলা হয়, ২০২২ সালে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৮৫ ছাত্রী ও ১৬১ ছাত্র রয়েছে। একই বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৮৬ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেন।

আত্মহত্যার কারণ নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে মান-অভিমান থেকে সবচেয়ে বেশি আত্মহননের ঘটনা ঘটেছে। ২৭.৩৬ শতাংশ স্কুল ও কলেজশিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে অভিমান করে। তাদের বড় অংশেরই অভিমান ছিল পরিবারের সঙ্গে।

এর বাইরে প্রেমঘটিত কারণে ২৩.৩২ শতাংশ, পারিবারিক কলহে ৩.১৪ শতাংশ, হতাশায় ২.০১ শতাংশ, মানসিক সমস্যায় ১.৭৯ শতাংশ, আর্থিক সমস্যায় ১.৭৯ শতাংশ, উত্ত্যক্ত, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির শিকার হয়ে ৩.১৩ শতাংশ স্কুল ও কলেজশিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে বলে সমীক্ষায় উঠে আসে।

আরও পড়ুন:
স্ত্রী ছেড়ে যাওয়ায় কীটনাশক পানে ছেলের পর বাবারও মৃত্যু
নারী সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার, স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা
শিশুকে নিয়ে বাবার কীটনাশক পান, শিশুর মৃত্যু
কীটনাশক পানে সাবেক নারী ইউপি সদস্যের মৃত্যু
ভবনের কাছে নারীর মরদেহ, পাশে আহত শিশু

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Banned steroids in bodybuilding are increasing health risks

বডি বিল্ডিংয়ে নিষিদ্ধ স্টেরয়েড, বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি

বডি বিল্ডিংয়ে নিষিদ্ধ স্টেরয়েড, বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি রাজধানীসহ সারা দেশে গজিয়ে ওঠা জিমগুলোতে মাসল বানাতে স্টেরয়েডের যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীসহ দেশের বিভাগ, জেলা এমনকি উপজেলা সদর পর্যায়েও গজিয়ে উঠেছে জিম। প্রশিক্ষক ছাড়া পরিচালিত এসব জিমে যথেচ্ছ মাত্রায় ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ স্টেরয়েড। মাসলম্যান হতে গিয়ে জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে তরুণ-যুবকরা। অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পুরোপুরি অন্ধকারে।

নিয়মিত জিমে যাওয়া ও পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণসহ স্বাস্থ্য রক্ষার সব নিয়ম মানার পরও শুকিয়ে যাচ্ছিলেন আবিদ ও সেজান (ছদ্মনাম)। অথচ তাদের বয়স যথাক্রমে ২২ ও ২৫ বছর। এক পর্যায়ে চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হয়ে তারা জানতে পারলেন কারণটা।

স্বাস্থ্য রক্ষার পাশাপাশি মাসলম্যান হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নিয়মিত জিমে যাওয়াটাই তাদের জন্য কাল হয়েছে। জিমে অতিরিক্ত স্টেরয়েড ব্যবহারের কারণে তারা লিভার এনজাইম ও হরমোনাল ইমব্যালেন্স-এর মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

তাদের একজনের লিভার এনজাইমের মাত্রা অস্বাভাবিক পর্যায়ে চলে গেছে। আরেকজনের টেস্টোস্টেরন হরমোন উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। সাধারণত এই বয়সে এমন শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার কথা নয়।

জিমে গিয়ে স্টেরয়েড সঠিক মাত্রায় এবং সঠিক বয়সে না নেয়ায় তাদের আচরণে অস্বাভাবিকতা চলে আসে। পরিবারের সদস্যরাও বিষয়টি ধরতে পারেন। কারণ জিম করেও তারা শুকিয়ে যাচ্ছিলেন। অবশেষে চিকিৎসার জন্য এই দুই তরুণকে ঢাকায় আনা হয়।

রাজধানীর গ্রীন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক ডা. রায়হান শহীদুল্লাহ বলেন, এই দুই তরুণ এখনও পুরোপুরি রিকভার করে উঠতে পারেনি। আর এই শারীরিক সমস্যার চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল।

ডা. রায়হান বলেন, ‘স্টেরয়েড সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটি হলো চিকিৎসকরা বিভিন্ন রোগ বুঝে প্রেসক্রাইব করেন। আর জিমে যে স্টেরয়েড ব্যবহার করা হয় তা আর্টিফিসিয়াল বডি বিল্ডিংয়ের জন্য।

‘বাংলাদেশের ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলো এই স্টেরয়েড উৎপাদন করে না। এগুলোর বেশিরভাগই চীন থেকে আনা হয়। প্রতিবেশী ভারত থেকেও নিয়ে আসা হয়।’

তিনি বলেন, ‘এই স্টেরয়েড প্রেসক্রাইব করার কোনো অথেনটিসিটি নেই। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে জিমে সাপ্লিমেন্ট দেয়া যায়। তবে কোনো চিকিৎসকই বডি বিল্ডিংয়ের জন্য স্টেরয়েড প্রেসক্রাইব করেন না। কারণ এর কোনো অনুমোদন নেই। এগুলোর বেশিরভাগই আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রাগ।

‘কোনো ফার্মেসিতেও এটা পাবেন না। দুই-একটা পাওয়া গেলেও সেটা নির্দিষ্ট কোনো রোগ যেমন ব্রেইন ক্যান্সার, ব্রেস্ট ক্যান্সার- এসব ক্ষেত্রে হরমোন রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আর এগুলো খুবই ব্যয়বহুল। আবার চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র কোনো ফার্মেসি বিক্রিও করবে না।’

বডি বিল্ডিংয়ে নিষিদ্ধ স্টেরয়েড, বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি
জিমগুলো অবৈধভাবে সংগ্রহ করে স্টেরয়েড। ছবি: সংগৃহীত

পার্শপ্রতিক্রিয়া

স্টেরয়েডের প্রধান কাজ হলো মাসল বৃদ্ধি। জিমে নিয়মিত ব্যায়াম করে এক বছরে যেটুকু মাসল বাড়ানো যায় সেটা স্টেরয়েড ব্যবহার করে দুই বা তিন মাসেই করা সম্ভব। এর বড় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো, শরীরে প্রাকৃতিকভাবে যে হরমোন তৈরি হয় সেটা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

ছেলেদের ক্ষেত্রে দেখা গেল, টেস্টোস্টেরন হরমোন তৈরিই বন্ধ হয়ে গেল। তখন নানাভাবে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে শরীরে। যদি মেইল হরমোন অর্থাৎ ছেলেদের হরমোনই তৈরি না হয় সে ক্ষেত্রে তো ওই মানুষটি পুরুষের মতো আচরণই করবে না। তখন প্রজনন ক্ষমতার ক্ষেত্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এছাড়া পরিমাণ না বুঝে স্টেরয়েড ব্যবহারে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হার্ট ফেইলিউরও হতে পারে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে দেখা যায়, অনেক বডি বিল্ডার কম বয়সে হার্ট অ্যাটাকে মারা যাচ্ছে। স্টেরয়েডের অস্বাভাবিক ব্যবহার এর অন্যতম একটি কারণ।

তাহলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না জেনেই কি জিমে স্টেরয়েডের ব্যবহার হচ্ছে- এমন প্রশ্নে ডা. রায়হান শহীদুল্লাহ বলেন, ‘বছর দশেক আগেও মানুষ এ বিষয়ে তেমন একটা জানত না। অনেকে এগুলোকে সাপ্লিমেন্ট মনে করত। তিন/চার বছর ধরে মানুষ কিছুটা হলেও জানতে পারছে।

‘সঠিক নিয়মে জিম না করলে জয়েন্টে ইফেক্ট পড়তে পারে। লিগামেন্ট ছিঁড়ে যেতে পারে। এমনকি অপারেশন পর্যন্ত করতে হতে পারে।

‘তাই স্টেরয়েড নিলেও চার সপ্তাহ পর তা বন্ধ করে দিতে হবে। হরমোনাল ব্যালান্স আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য ‘Post Cycle Therapy’ দিতে হয়।

অলি-গলিতে জিম, নেই প্রশিক্ষক

রাজধানী ঢাকা তো বটেই, দেশের বিভাগ, জেলা এমনকি উপজেলা সদর পর্যায়েও গড়িয়ে উঠেছে জিম। এর সঠিক পরিসংখ্যান স্বাস্থ্য খাত-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও জানে না।

ফিটনেস সেন্টার হিসেবে পরিচালিত এসব জিমে নেই সার্টিফিকেটধারী কোনো প্রশিক্ষক। ফলে এসব জায়গায় স্বাস্থ্য উদ্ধারের জন্য গিয়ে অনেকেই কাঙ্ক্ষিত সেবাটা পাচ্ছেন না। উপরন্তু মাত্রাজ্ঞান ছাড়া স্টেরয়েডের ব্যবহারে তারা আক্রান্ত হচ্ছেন জটিল রোগে।

ট্রেনিং-এর বিষয়ে মিস্টার বাংলাদেশ এবং ফিটনেস কোচ সাকিব নাজমুস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি মালয়েশিয়া থেকে ছয় মাসের একটি ট্রেনিং নিয়েছি। সব জিমে ট্রেনার নেই, আবার জিম করতে করতে অভিজ্ঞতা হয়ে গেলে ট্রেনার হয়ে যায়। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা তাদের নেই। এর অবশ্য একটি বড় কারণ, জিমে ট্রেনিং দেয়ার মতো কোনো প্রতিষ্ঠানই দেশে নেই।’

তিনি বলেন, ‘স্টেরয়েড ব্যবহারে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অবশ্যই থাকে। তবে সমস্যাটা হয় এটা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার করলে। স্টেরয়েড ব্যবহার করতে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য। সর্বোচ্চ ৫ মাস এর ব্যবহার করা যেতে পারে। আর মঞ্চে পারফর্ম করার মতো কোনো বিষয় যদি না থাকে তাহলে আমি সাজেস্ট করব স্টেরয়েড ব্যবহার থেকে দূরে থাকা। এর ব্যবহারকে আমি নিরুৎসাহিত করতে চাই।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি কখনোই স্টেরয়েড ব্যবহারের সাজেস্ট করি না, যদি না সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিটি প্রতিযোগিতায় যায়।

‘এটি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য নিলে আবার রিমুভ করা যায়। এর জন্য কিছু মেডিসিন ও ইনজেকশন আছে। তবে সেটারও কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। ওজন কমানো বা বাড়ানোর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হলেও স্টেরয়েড আসলে কোনোভাবেই অনুমোদিত নয়।’

প্রতিরোধ

ডা. রায়হান বলেন ‘প্রতিটি জিমে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করা যেতে পারে। বাংলাদেশে বডি বিল্ডিংয়ের প্রচলন বেড়েছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যগত সচেতনতা সৃষ্টিতে মিডিয়ারও একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা দরকার। কারণ হুজুগে গা ভাসালে হবে না। এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কেও সবার জানা থাকা দরকার।

সবচেয়ে বড় কথা, যেহেতু স্টেরয়েডের ব্যবহার শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে, তাই জেনেশুনে কারও এটা ব্যবহার করা উচিত নয়। জিম চলবে শারীরিক সুস্থতার জন্য। মাসলম্যান বানানোটা এর উদ্দেশ্য হতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ, মিডিয়া, অভিভাবক- সবাইকে বুঝতে হবে স্টেরয়েড ব্যবহার করলেই স্বাস্থ্যবান থাকা যাবে না। বাহ্যিক দৃষ্টিতে হেলদি মনে হবে এটুকুই। তাই এটার ব্যবহার থেকে দূরে থাকাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।’

যা বলছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

দেশজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা জিমগুলোতে যথেচ্ছ ব্যবহার ও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে দেশের স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বড় কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কোনো খোঁজখবর রাখে না।

নিউজবাংলার পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এমনটা জানা গেছে। একইসঙ্গে তারা বলেছেন, এখন থেকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব আনোয়ার হোসেন হাওলাদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জিমে স্টেরয়েডের ব্যবহার হয় এটি আমি ভাবতেই পারি না। স্টেরয়েড সাধারণত চিকিৎসকরা বিশেষ কিছু রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করেন। মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য চিকিৎসককে যখন কোনো জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয় তখন রোগীকে বাঁচানোর জন্য স্টেরয়েড দেয়া হয়।

বিষয়টি জানানোর জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে স্বাস্থ্য সচিব বলেন, ‘আমি জিমে খোঁজ নেব। এটি তো হতে পারে না। বডি বিল্ড ন্যাচারালি হয়। মাসল বিল্ড একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সেটি তো হবেই, আর সেজন্য একটা নির্দিষ্ট টাইম লাগবে। তাড়াহুড়া করে বডি বিল্ড করার নামে ব্যবসা করবে, এটা তো মেনে নেয়া যাবে না। প্রপার চ্যানেলের মাধ্যমে আমি বিষয়টি দেখব।’

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Agreed to be sick on Friday

শুক্রবারে অসুস্থ হতে ‘মানা’

শুক্রবারে অসুস্থ হতে ‘মানা’ সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার ঢাকা শিশু হাসপাতালের একটি ভবনের চিত্র। ছবি: নিউজবাংলা
হাসপাতালগুলোর জরুরি বিভাগে সেবা কার্যক্রম চললেও শুক্রবার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাওয়া দায়। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া দিনটিতে চিকিৎসকরা সবাই একসঙ্গে ছুটি কাটান। বিভিন্ন ক্লিনিক ও প্রাইভেট চেম্বারেও চিকিৎসকের দেখা মেলে না।

কে কখন অসুস্থ হবে, কার জরুরি চিকিৎসা লাগবে, কখন কোন দুর্ঘটনা ঘটবে, এসব আগাম বলার বিষয় নয়, তবে বাংলাদেশের চিকিৎসা সেবা ব্যবস্থা আগাম জানিয়ে দেয়, সপ্তাহের আর ছয় দিন অসুস্থ হলে সমস্যা নেই; শুক্রবার নয়। কারণ এই দিনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা মিলবে না।

রাজধানীসহ সারা দেশের চিকিৎসা সেবা ব্যবস্থার চিত্রই মোটামুটি একই। শুক্রবার হাসপাতালগুলোর জরুরি বিভাগে সেবা কার্যক্রম চললেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাওয়া দায়। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া দিনটিতে চিকিৎসকরা সবাই একসঙ্গে ছুটি কাটান।

বিভিন্ন ক্লিনিক ও প্রাইভেট চেম্বারেও শুক্রবার চিকিৎসকের দেখা মেলে না। ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে সপ্তাহের ছয় দিন রোগী দেখার জন্য ডজন ডজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকেন, কিন্তু শুক্রবার এসব চিকিৎসা কেন্দ্রে হাতেগোনা দুই-চারজন চিকিৎসক থাকলেও বিশেষজ্ঞের দেখা পাওয়া ভার।

সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ঢাকা শিশু হাসপাতালে ঢুকতে গিয়ে দেখা গেল গেট বন্ধ। শুক্রবার বলে জরুরি বিভাগ ছাড়া অন্য কোনো বিভাগে চিকিৎসক ছিল না।

জরুরি বিভাগে ঢুকে দেখা গেল ওয়ার্ডে ভর্তি ২ বছর ৩ মাস বয়সী তানজিম। হিমোগ্লোবিন ৫ দশমিক ৫ এবং হার্টের সমস্যা নিয়ে ভর্তি হয়েছে শিশুটি।

তাকে মামীর কাছে রেখে মা কোথাও গেছেন। মামী পাপিয়া বেবি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তানজিমকে রক্ত দেয়া হবে আজ, কিন্তু আজ শুক্রবার; তাই ডাক্তার নেই। ওর হার্টেরও সমস্যা আছে। ওকে দেখছেন একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ। এখন আমরা টেনশনে পড়ে গেছি।’

অনেক সময় রক্ত দেয়ার পর পার্শপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তেমনটা হলে কী করবেন, সে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সমস্যা হতেই পারে। কী করব, কারে বলব বুঝতে পারছি না। ডাক্তার নেই।

‘অগত্যা এখানে যারা ডিউটিতে আছেন তাদের ডাকতে হবে, কিন্তু ওকে যে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখছেন, তাকে তো আজ পাওয়া যাবে না!’

তানজিমের পাশের বেডে ভর্তি করা হয় ৬ মাস বয়সের শিশু আলফিকে। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুটিকে তিন দিন আগে সাভার থেকে এখানে আনা হয়েছে।

আলফির মা যুঁথি আক্তার বলেন, ‘তিন দিন ধরে ভর্তি করছি বাচ্চাকে। এখন কোনো সিরিয়াস কিছু হলে যার আওতায় ভর্তি সেই ডাক্তার নাই। তার মোবাইল নম্বরও আমাদের কাছে নাই। আমরা চাই শুক্রবারেও প্রয়োজন হলে যেন আমরা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পাই।’

শিশু হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাবাসসুম অবশ্য চিকিৎসা সেবার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘শুক্রবার ইমারজেন্সিতে আমরা থাকি। রোগীদের যেকোনো সমস্যা আমরা দেখি। এখানে তো সবাই এমবিবিএস।

‘কেউ চিকিৎসা দিতে পারবে না এমন তো না। তা ছাড়া ফোনেও নির্দেশনা নিয়ে চিকিৎসা দিই আমরা। দরকার হলে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ থাকেন। জরুরি হলে কল দিয়েও ডাকা যায়।’

রোগীর অবস্থা সিরিয়াস হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক তো তাৎক্ষণিক আসতে পারবেন না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা তো আছিই। না হলে শনিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’

কল্যাণপুরে ইবনে সিনাতেও দেখা যায় অন্য দিনের তুলনায় রোগীর ভিড় অনেক কম। কারণ ডাক্তার নেই। রিসিপশনে জানতে চাইলে দায়িত্বরত একজন বলেন, ‘বেশির ভাগ ডাক্তারই শুক্রবার থাকেন না। সুনির্দিষ্ট কয়েকজন বাদে। যেগুলো বেশি প্রয়োজন, যেমন: মেডিসিন, হার্ট, ডায়াবেটিসসহ কিছু ডাক্তার থাকেন।’

কার্ড হোল্ডার থেকে ডাক্তারদের ভিজিটিং কার্ড সংগ্রহ করে দেখা যায়, বেশির ভাগই সপ্তাহে তিন দিন বা চার দিন বসেন। শুক্রবারে কেউ নেই বললেই চলে।

শুক্রবারে অসুস্থ হতে ‘মানা’

হাসপাতালে কথা হয় তাহেরা সুলতানার সঙ্গে, যিনি একসময় আইসিসিডিআর’বিতে চাকরি করতেন।

তিনি বলেন, ‘শুক্রবার জরুরি প্রয়োজন হলে ডাক্তার পাওয়া যায় না। এটা শুধু আমি ফেইস করেছি, তা না; সবার সমস্যা। রোগ তো আর বার বোঝে আসে না। সাপ্তাহিক ছুটিটা চিকিৎসকরা পালাক্রমে নিলে ভালো হয়।

‘ইমারজেন্সিতে যারা থাকেন, তারা তো হঠাৎ কোনো রোগীর অবস্থা সিরিয়াস হলে ওই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতো তাৎক্ষণিক সেবা দিতে পারবেন না। সেই চিকিৎসককে ফোন করে আনতেও সময় লাগবে। আমি নিজে কতবার এ রকম বিপাকে পড়েছি, ঠিক নেই।’

বেসরকারি হাসপাতালে চেম্বারের সুযোগ

একটি প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি হাসপাতালের একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, ‘বড় বড় বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের বেতন ছাড়া চেম্বার করতে দেয়া হয়। এখানে আমরা যেভাবে ইচ্ছা যেদিন ইচ্ছা ছুটি কাটাতে পারি।’

এতে হাসপাতালের লাভ কতটুকু জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের মতো চিকিৎসকদের প্রোফাইল দেখে রোগী আসে। তারা অন্য হাসপাতালে যেতে পারত, কিন্তু ভালো ডাক্তার হলে সেখানেই রোগী বেশি যায়। আর সেই হাসপাতালে ভর্তি লাগলে এবং পরীক্ষার জন্য যে অর্থ সেটা হাসপাতাল পায়।

‘বেসরকারি হাসপাতালগুলো দুই-একজন চিকিৎসককে রাখে বেতন দিয়ে। তারা সুনির্দিষ্ট সময় বেঁধে রোগী দেখেন। আর ছোট বেসরকারি হাসপাতালের বেশির ভাগই বেতন দিয়ে কোনো সিনিয়র বিশেষজ্ঞ চেম্বার করার জন্য রাখে না। যাদের রাখে, তাদের অধিকাংশই মেডিক্যাল অফিসার।’

এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
নিবন্ধনহীন হাসপাতালে সেবা দিলে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
ভুয়া চিকিৎসকদের সাজা বাড়াতে রুল
শিশু মাইশার মৃত্যু: অনুমোদন ছাড়াই চলছিল ঢাকার সেই হাসপাতাল
এক দিন রোগী ভুগিয়ে কাজে ফিরলেন চিকিৎসকরা
বেশির ভাগ সময় বন্ধ থাকে যে হাসপাতাল

মন্তব্য

p
উপরে