× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

স্বাস্থ্য
Unreasonably and unjustly hiked prices of medicines CAB
google_news print-icon

অযৌক্তিক ও অন্যায়ভাবে ওষুধের দাম বাড়ানো হয়েছে: ক্যাব

অযৌক্তিক-ও-অন্যায়ভাবে-ওষুধের-দাম-বাড়ানো-হয়েছে-ক্যাব
ক্যাব সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ‘এক সময় দুই শতাধিক ওষুধের মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব ছিল ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের। এখন ১১৭টি ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর বাইরের ওষুধগুলোর মূল্য নির্ধারণ অনেকটাই নির্ভর করে ওষুধ কোম্পানিগুলোর ওপর। এতে ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে।’

ভোক্তাদের অধিকার উপেক্ষা করে অযৌক্তিক ও অন্যায়ভাবে ওষুধের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ক্যাব)।

বুধবার ‘ওষুধের অযৌক্তিক ও অনৈতিকভাবে মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ কথা বলেছে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ক্যাব সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ‘ওষুধের মূল্য বৃদ্ধির যে প্রক্রিয়া, সেটি যুক্তি ও ন্যায়সঙ্গত কী না সন্দেহ আছে। এক সময় দুই শতাধিক ওষুধের মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব ছিল ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের। এখন ১১৭টি ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

‘এর বাইরের ওষুধগুলোর মূল্য নির্ধারণ অনেকটাই নির্ভর করে ওষুধ কোম্পানিগুলোর ওপর। এতে ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। আমরা চাই জেনেরিক নামের যে দু’শতাধিক ওষুধের মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব ঔষধ প্রশাসনের ছিল, তা পুনর্বহাল করা হোক।’

গোলাম রহমান বলেন, ‘স্বাধীনতার আগে দেশে মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ ওষুধ তৈরি হতো। এখন আমরা ৯৮ শতাংশ ওষুধই দেশে উৎপাদন করি। দেশে উৎপাদিত ১২৪টি ওষুধ রপ্তানিও হচ্ছে।

‘ওষুধ কোম্পানিগুলোকে কোনোরকম জবাবদিহিতা ছাড়া মূল্য বৃদ্ধির যে সুযোগ করে দেয়া হয়েছে, তা প্রত্যাহার করতে হবে। একইসঙ্গে বর্তমানে ঔষধ প্রশাসনের দক্ষতা, যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে যেসব প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, সেগুলো সমাধান করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি স্যালাইনের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। এটি খুবই বাজে একটি নজির। ভোক্তাদের প্রতিনিধিরা আপত্তি জানানো সত্ত্বেও তা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত বলে মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটা শুধু অনৈতিক নয়, বেআইনিও।’

লিখিত বক্তব্যে ক্যাবের কোষাধ্যক্ষ ড. মঞ্জুর-ই-খোদা তরফদার বলেন, ‘দেশে ওষুধ শিল্প বিস্তার লাভ করলেও ওষুধ তৈরির কাঁচামালের ৯৭ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এগুলোর অধিকাংশই আসে ভারত ও চীন থেকে। উন্নত বিশ্বের কয়েকটি দেশ থেকেও কিছু কাঁচামাল আসছে। ‘নিম্ন আয়ের দেশ (এলডিসি) হিসেবে বাংলাদেশ ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক সুবিধা পেয়ে আসছে, যা ২০৩২ সাল পর্যন্ত বহাল রয়েছে। তবে ২০২৬ সালে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হলে এই সুবিধা বহাল থাকবে কী না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের ওষুধ শিল্প সম্প্রসারণ করলেও সামাজ্যবাদের আগ্রাসন থেমে নেই। শুরুতে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করতো। এখনও তাদের ভূমিকা অদৃশ্যভাবে বহাল রয়েছে।

‘১৯৯৪ সালে তৎকালীন সরকার ওষুধ শিল্পের ওপর কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণ চালু করে। এক আদেশে দেশে উৎপাদিত মাত্র ১১৭টি জেনেরিক ওষুধ সরকারের নিয়ন্ত্রণে রেখে বাকি ওষুধ কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণে নেয়। যদিও দেশে ওষুধের বাজার নিয়ন্ত্রণে ওষুধ আইন ১৯৪০, ১৯৪৫ সালের ড্রাগ রুলস, ১৯৪৬ সালের দ্য বেঙ্গল ড্রাগস রুলস, ১৯৮২ সালের ড্রাগ অর্ডিন্যান্স এবং ২০১৬ সালের জাতীয় ওষুধ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এরপরও ১৯৯৪ সালের সেই আদেশ প্রত্যাহার করা হয়নি। ওই আদেশের বলে পুরো ওষুধ শিল্পের নিয়ন্ত্রণ মূলত কোম্পানিগুলোর হাতে চলে যায়।

ড. মঞ্জুর-ই-খোদা আরও বলেন, ‘ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর সম্প্রতি আইভি ফ্লুইড জাতীয় ওষুধের মূল্য বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিয়েছে। গত ২০ নভেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ওষুধের মূল্য নির্ধারণ কমিটির সভা সভায় তালিকাভুক্ত ১১৭টি ওষুধের মূল্য নির্ধারণের জন্য গঠিত টেকনিক্যাল সাব-কমিটির সভার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি ৬টি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ২১টি জেনেরিক ৫৮টি পদের কস্টিং শিট পর্যালোচনা করা হয়।

‘এসব ওষুধের মধ্যে রয়েছে কলেরা স্যালাইন, হার্টম্যান সলিউশন, সোডিয়াম ক্লোরাইড, ডেক্সট্রোজ, ডেক্সট্রোজ প্লাস সোডিয়াম ক্লোরাইড, মেট্রোভিজানল ও হিউম্যান ইনসুলিন। দেশে যখন প্রায় সব নিত্যপণ্যের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী তখন ওষুধের মতো এতো প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বাড়ানো কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। ওষুধের মার্কআপ কমিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের হস্তক্ষেপ করা উচিত।’

৫৩টি ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য পুনঃনির্ধারণ

২০ জুলাই ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ৫৩টি ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য পুনঃনির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

সরেজমিনে ফার্মেসিতে খুচরা ওষুধের তথ্য বিশ্লেষণ করে ক্যাব জানায়, এসব ওষুধের মূল্য ছয় মাসের ব্যবধানে ১০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। গত ছয় মাসের ব্যবধানে শুধু প্যারাসিটামল সিরাপের মূল্য বেড়েছে ৭৫ শতাংশ। এছাড়া গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ, এন্টিবায়োটিক, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধের মূল্য বেড়েছে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত।

শুধু গ্যাস্ট্রিকের ওষুধের মূল্য গত জুলাই মাস থেকে বেড়েছে ২০ থেকে ৪০ শতাংশ। ২০ মিলিগ্রামের একটি ওমিপ্রাজল ট্যাবলেটের মূল্য ছিল ৫ টাকা। বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৬ টাকা। আর ২০ মিলিগ্রামের রেবিপ্রাজল মূল্য ছিল ৫ টাকা। তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৭ টাকা।

এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেটের মূল্য বেড়েছে ১৭ থেকে ২০ শতাংশ। প্রতিটি ৫০০ মিলিগ্রামের সিডিউরিক জিম ট্যাবলেটের মূল্য ছিল ৫০ টাকা। বর্তমানে তা ৬০ টাকা। ২৫০ মিলিগ্রামের প্রতিটি ট্যাবলেটের মূল্য ছিল ৩০ টাকা, যা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৩৫ টাকা।

উচ্চ রক্তচাপ ও হার্টের ওষুধের মূল্য বেড়েছে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত। লুসার্টন পটাশিয়াম পাঁচ মিলিগ্রামের একটি ট্যাবলেটের মূল্য ৮ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০ টাকা। পাঁচ মিলিগ্রামের এমভোলোপিনের মূল্য ছিল ১০ টাকা। সেটি ১২ টাকা করা হয়েছে। দুই মিলিগ্রামের একটি প্রাজোসিন ট্যাবলেটের মূল্য ছিল ১০ টাকা, হয়েছে ১২ টাকা। আর ৫ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট ১৫ টাকা থেকে ১৭ টাকা করা হয়েছে।

ক্যাবের সুপারিশ

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে অনতিবিলম্বে বৃদ্ধি করা ওষুধের মূল্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত কমিটি দ্বারা রিভিউ করার দাবি জানায় ক্যাব। ওই রিভিউ না হওয়া পর্যন্ত আইভি ফ্লুইড জাতীয় ওষুধসহ অন্যান্য ওষুধের কাঁচামাল ও অন্যান্য ওষুধ আমদানিতে মার্ক-আপ কমিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

আইভি ফ্লুইড জাতীয় ওষুধের মার্ক-আপ ছিল ৩ দশমিক ৪। মার্ক-আপ কমানো গেলে ওষুধের দাম কমে আসবে। আমদানিকৃত ওষুধে মার্ক-আপও কমাতে হবে। সরকারকে ভর্তুকি দিয়ে ওষুধের দাম বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

স্যালাইন তৈরি ও বাজারজাতকরণ সরকারি প্রতিষ্ঠান যেমন জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট বা আইপিএইচ-এর মাধ্যমে করতে হবে।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লা থেকে সরকারি ওষুধ ঢাকায়, গ্রেপ্তার ১
বিনা মূল্যে ২২ কোটি টাকার চিকিৎসা পেল রাইয়ান
ভুয়া প্রেসক্রিপশনে সরকারি ওষুধ তুলে পাচার
হাটে ছালা বিছিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি
ওষুধ রপ্তানিতে ধাক্কা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

স্বাস্থ্য
For the third time in a month and a half there has been a fire at Bangabandhu Hospital in Faridpur

দেড় মাসে তৃতীয়বারের মতো আগুন ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে

দেড় মাসে তৃতীয়বারের মতো আগুন ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের স্টোর রুমে বৃহস্পতিবার সকালে ধরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। ছবি: নিউজবাংলা
ডিসি কামরুল আহসান তালুকদার বলেন, ‘গত দেড় মাসে হাসপাতালে তিনবার অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়। আমরা আতঙ্কিত ও শঙ্কিত। এটি এক হাজার বেডের হাসপাতাল। এসব স্থানে আগুন লাগলে বিপুলসংখ্যক প্রাণহানির শঙ্কা থাকে।’

ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের স্টোর রুমে আগুন লেগে ওষুধ ও যন্ত্রপাতি পুড়ে গেছে।

এ নিয়ে গত দেড় মাসে তিনবার আগুনের ঘটনা ঘটল হাসপাতালটিতে।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সকাল আটটার দিকে হাসপাতালটির দ্বিতীয় তলার স্টোর রুমে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস আধা ঘণ্টার মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণ আনে।

আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) কামরুল আহসান তালুকদার ও পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম।

এদিকে বারবার আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ২০ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ভেতরে অনেক ওষুধ ও যন্ত্রপাতি রয়েছে, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা যায়নি।’

হাসপাতালের উপপরিচালক দীপক কুমার বলেন, ‘হঠাৎ করে হাসপাতালটির দ্বিতীয় তলার স্টোর রুমে আগুন লাগে। তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ধোঁয়ায় অন্ধকার সৃষ্টি হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্টোর রুমটিতে হাসপাতালের ওষুধপত্র, যন্ত্রপাতি, ফ্রিজসহ নানা সরঞ্জাম রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি টিম এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে এখনও জানা যায়নি।’

ডিসি কামরুল আহসান তালুকদার বলেন, ‘গত দেড় মাসে হাসপাতালে তিনবার অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়। আমরা আতঙ্কিত ও শঙ্কিত। এটি এক হাজার বেডের হাসপাতাল। এসব স্থানে আগুন লাগলে বিপুলসংখ্যক প্রাণহানির শঙ্কা থাকে।’

তিনি বলেন, ‘কেন বারবার আগুন লাগছে, তার কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

‘স্টোর রুমটিতে ওষুধ ও নতুন নতুন যন্ত্রপাতি রয়েছে। তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

ডিসি আরও বলেন, ‘হাসপাতালের স্ট্রাকচারাল (কাঠামোগত) কিছু ত্রুটি রয়েছে। আগুন নির্বাপণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের বেগ পেতে হয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা সৃষ্টি করতে আমরা ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলব।’

আরও পড়ুন:
ভুল চিকিৎসায় মা ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ, হাসপাতাল ভাঙচুর
পুড়ছে সুন্দরবন
সুন্দরবনের আগুন ছড়িয়েছে ২ কিলোমিটারে
সুন্দরবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে বনরক্ষীরা, যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস
১০ একরের চারাগাছ পুড়ে যাওয়ার পর নিয়ন্ত্রণে শাল-গজারির আগুন

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Sleiman who transplanted pig kidneys has died

শূকরের কিডনি নেয়া স্লেম্যান মারা গেছেন

শূকরের কিডনি নেয়া স্লেম্যান মারা গেছেন বিশ্বে প্রথমবারের মতো শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপনকারী রিচার্ড স্লেম্যান। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে গত মার্চে রিচার্ড স্লেম্যানের দেহে শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, তার মৃত্যুর সঙ্গে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের কোনো সম্পর্ক নেই।

বিশ্বে প্রথমবারের মতো শূকরের কিডনি নেয়া ৬২ বছর বয়সী রিচার্ড স্লেম্যান মারা গেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে শনিবার এ খবর জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে গত মার্চ মাসে চার ঘণ্টার অস্ত্রপাচারের মাধ্যমে রিচার্ড স্লেম্যানের দেহে শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। অস্ত্রপাচারের দুই সপ্তাহ পর ২ এপ্রিল হাসপাতাল থেকে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, স্লেম্যানের আকস্মিকভাবে চলে যাওয়ার সঙ্গে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের কোনো সম্পর্ক নেই।

ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতাল এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ম্যাস জেনারেল ট্রান্সপ্লান্ট দল স্লেম্যানের আকস্মিক মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। সাম্প্রতিক ট্রান্সপ্লান্টের ফল তার মৃত্যুর জন্য দায়ী এমন কোনো প্রমাণ আমাদের কাছে নেই।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্লেম্যানকে বিশ্বব্যাপী অগণিত কিডনি প্রতিস্থাপন রোগীদের জন্য আশার আলোকবর্তিকা হিসেবে দেখা হবে। জেনোট্রান্সপ্লান্টেশনের জন্য তার আস্থা ও ইচ্ছার প্রতি আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আমরা স্লেম্যানের পরিবার ও তাদের প্রিয়জনদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই। আমরা একজন অসাধারণ ব্যক্তিকে স্মরণ করছি যার উদারতা সবাইকে স্পর্শ করেছে।’

স্লেম্যানের পরিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমাদের পরিবার আমাদের প্রিয় রিক-এর আকস্মিক মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। কিন্তু তিনি অনেককে অনুপ্রাণিত করেছেন ভেবে আমরা সান্ত্বনা পাই। বিশ্বব্যাপী কয়েক মিলিয়ন মানুষ রিক-এর গল্প জানতে পেরেছে। রিক কিডনি প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় থাকা রোগীদের আশাবাদী করে তুলেছেন।’

ম্যাস জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ও তার পরিচর্যা দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘আমরা ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতাল ও তার পরিচর্যাকারী দলের প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। চিকিৎসক দল রিককে দ্বিতীয় সুযোগ দেয়ার জন্য যথাসাধ্য সাহায্য করেছেন। ‘জেনোট্রান্সপ্ল্যান্ট আমাদের পরিবারকে রিকের সঙ্গে আরও সাত সপ্তাহ থাকার সুযোগ দিয়েছে। এ সময়ের মধ্যে তার সঙ্গে তৈরি হওয়া স্মৃতিগুলো আমাদের হৃদয়ে থাকবে।’

বোস্টনের ওয়েইমাউথের বাসিন্দা স্লেম্যান অনেক বছর ধরে টাইপ টু ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছিলেন। এছাড়া তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে ডায়ালাইসিসে ছিলেন। ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতাল ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে একজন মৃত ব্যক্তির কিডনি স্লেম্যানের দেহে প্রতিস্থাপন করেন।

তবে প্রায় পাঁচ বছর পর সেই কিডনি অকার্যকর হতে শুরু করে এবং স্লেম্যান ২০২৩ সালের মে মাস থেকে পুনরায় ডায়ালাইসিস শুরু করেন।

পরবর্তীতে বিশ্বের প্রথম মানব হিসেবে তিনি নিজ দেহে শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপন করেন। শূকরের কিডনি সরবরাহ করে কেমব্রিজের ইজেনেসিস ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি। সিআরআইএসপিআর-সিএএসনাইন প্রযুক্তির সহায়তায় জিনগত সম্পাদনার মাধ্যমে শূকরের কিডনিটি সরবরাহ করা হয়। হাসপাতালের দেয়া তথ্যমতে, স্লেম্যানের দেহে প্রতিস্থাপনের আগে শূকরের ক্ষতিকারক জিনগুলো সরিয়ে মানুষের সঙ্গে এর সামঞ্জস্য করার জন্য কিছু মানব জিন যুক্ত করা হয়।

আরও পড়ুন:
দেড় হাজার কিডনি প্রতিস্থাপন, বাংলাদেশি চিকিৎসকের রেকর্ড
‘৬৫ ভাগ রোগী জানেন না তাদের কিডনি বিকল’ 
দেশে প্রথমবারের মতো ‘ব্রেন ডেড’ রোগীর কিডনি প্রতিস্থাপন
‘ঋণ শোধে ব্যর্থ হলেই’ কিডনি বিক্রি, ৭ দালাল গ্রেপ্তার
কলকাতায় কিডনি প্রতিস্থাপন করছে রোবট

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Eight college girls in DMK hospital after eating Chinese food

‘চাইনিজ’ খেয়ে আট কলেজছাত্রী হাসপাতালে

‘চাইনিজ’ খেয়ে আট কলেজছাত্রী হাসপাতালে অসুস্থ হয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা
ঢামেক হাসপাতালে মেডিসিন বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানান, কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে এসেছেন। তবে বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা ভালো। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো কারণে প্রথমে এক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর তার অবস্থা দেখে ভয়ে অন্য অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

রাজধানীর দনিয়ায় একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়ে আট তরুণী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। দনিয়া কলেজের এই ছাত্রীদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আনা হয়েছে।

অসুস্থ হয়ে পড়া ছাত্রীরা বুধবার বিকেল ৪টা থেকে সন্ধা পর্যন্ত একে একে ঢাকা মেডিক‍্যালে আসেন। তারা হলেন- জুঁই আক্তার মিম, মারিয়া, বুশরা, ফারিয়া, সানজিদা, সাদিয়া আফরিন, ফারজানা ও রোজিনা। তাদের বয়স ১৮ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে।

অসুস্থদের সঙ্গে ঢামেক হাসপাতালে আসা শিক্ষার্থী আসমা বলেন, ‘আমরা সবাই দনিয়া কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। আজ (বুধবার) আমাদের কলেজে র‍্যাগ-ডে ছিল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আমরা প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী ধনিয়া ট্রাকস্ট্যান্ডের পাশে একটি রেস্টুরেন্টে খেতে যাই।

‘রেস্টুরেন্টে প্রথমে কেক কাটা হয়। এক পর্যায়ে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। এ সময় রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ একটা স্প্রে ব্যবহার করে। এরপর সবাই ফ্রাইড রাইস, চিকেন ও সবজি খাই। খাওয়ার কিছুক্ষণ পরে একে একে আমাদের কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়ে।’

ওই শিক্ষার্থী আরও বলেন, ‘অসুস্থ হয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসা হয়। এরপর জানতে পারি যে আরও অনেক ছাত্রী অসুস্থ হয়েছে। তাদেরকে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।’

ঢামেক হাসপাতালে মেডিসিন বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানান, কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে এসেছেন। তবে বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা ভালো। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো কারণে প্রথমে এক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর তার অবস্থা দেখে ভয়ে অন্য অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মোহাম্মদ বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকা থেকে আট শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে (ঢামেক) হাসপাতালে এসেছে। তাদেরকে ভর্তি দেয়া হয়নি, মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
রাতের খাবার খাওয়ার পর অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি মাদ্রাসার ১৬ ছাত্র
কোকাকোলা পান করার পর ৬ জন হাসপাতালে
চা পাতার বদলে কীটনাশক, ১২ জন হাসপাতালে
স্কুলে পানি খেয়ে ৬০ শিক্ষার্থী হাসপাতালে
ইফতারি খেয়ে বিচারকসহ অসুস্থ ৩০, কারাগারে ৩

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Zahid Malek in Times 100 most influential list

টাইমের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় জাহিদ মালেক

টাইমের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় জাহিদ মালেক সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। ছবি: সংগৃহীত
টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী হিসেবে জাহিদ মালেক পাঁচ বছর বিতর্কমুক্ত ছিলেন না। তবে তিনি কার্যকর টিকাদান কর্মসূচি সম্পাদন করেন, যার ফলে বাংলাদেশে মাথাপিছু মৃত্যু প্রতিবেশী ভারতের তুলনায় অর্ধেকেরও কম ছিল।

বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ অবদান রাখা ১০০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় পত্রিকা টাইম ম্যাগাজিন।

২ মে এই প্রকাশ করা এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বর্তমানে তিনি মানিকগঞ্জ-৩ (সদর ও সাটুরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য।

প্রতিবেদনে জাহিদ মালেককে নিয়ে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সোচ্চার সমর্থক হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী হিসেবে জাহিদ মালেক পাঁচ বছর বিতর্কমুক্ত ছিলেন না। তিনি দুর্নীতির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং তার প্রারম্ভিক মহামারি প্রতিক্রিয়ার জন্য তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হন।

‘তবে এরপর তিনি একটি কার্যকর টিকাদান কর্মসূচি সম্পাদন করেন, যার ফলে ঘনবসতিপূর্ণ দক্ষিণ এশীয় দেশটিতে মাথাপিছু মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিবেশী দেশ ভারতের তুলনায় অর্ধেকেরও কম ছিল। জানুয়ারিতে পদত্যাগ করা সত্ত্বেও মালেক তার সাড়ে ১৭ কোটি দেশবাসীর উন্নতির জন্য প্রশংসিত হচ্ছেন।’

কালাজ্বর (ভিসারাল লেশম্যানিয়াসিস) নির্মূলের জন্য বাংলাদেশ ২০২৩ সালে ইতিহাস তৈরি করেছিল। এটি মাছি দ্বারা সংক্রমিত একটি রোগ যার চিকিৎসা না করা হলে ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে মৃত্যু হয়।

এ ছাড়া গত বছর বাংলাদেশ (লিম্ফ্যাটিক ফাইলেরিয়াসিস) মশা দ্বারা সংক্রমিত একটি দুর্বল পরজীবী রোগ নির্মূল করতে সফল হয়েছে। এই জোড়া সাফল্যের মাধ্যমে ইতিহাসের প্রথম জাতি হিসেবে বাংলাদেশ এক বছরে দুটি অসংক্রামক রোগ নির্মূল করেছে।

শিশুমৃত্যুর হার ব্যাপকভাবে কমানোর জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এর আগে জাহিদ মালেককে সম্মানিত করে। মালেক বাংলাদেশে হলুদের মধ্যে সীসার উপাদান কমিয়ে আনার উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এই সংসদ সদস্য বর্তমান সরকারের মন্ত্রিপরিষদে নেই।

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
16 people lost their lives due to heat stroke in 15 days Department of Health

হিট স্ট্রোকে ১৫ দিনে প্রাণ হারিয়েছে ১৬ জন: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

হিট স্ট্রোকে ১৫ দিনে প্রাণ হারিয়েছে ১৬ জন: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রতীকী ছবি।
এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে প্রায় এক মাস ধরে দেশে মৃদু থেকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। এই সময়কালে দেশের বিভিন্ন স্থানে গরমে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২২ এপ্রিল থেকে হিট স্ট্রোকে মৃত্যুর রেকর্ড রাখা শুরু করেছে।

দেশজুড়ে দীর্ঘ সময় ধরে তাপপ্রবাহ চলাকালে হিট স্ট্রোকে ১৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে রোববার পর্যন্ত ১৪ দিনে হিট স্ট্রোকে মারা গেছেন কমপক্ষে ১৫ জন। সোমবার সকাল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও একজন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম (এইচইওসি/সিআর) সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে।

এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে প্রায় এক মাস ধরে দেশে মৃদু থেকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে বৃষ্টি হওয়ায় সারাদেশে তাপমাত্রা কমতে শুরু করে। তাপপ্রবাহের এই সময়কালে দেশের বিভিন্ন স্থানে গরমে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২২ এপ্রিল থেকে হিট স্ট্রোকের কারণে মৃত্যুর রেকর্ড রাখা শুরু করেছে।

তাপপ্রবাহের কারণে ২ মে পর্যন্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ এবং মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। রোববার থেকে তা পুনরায় শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন:
তিন জেলায় ‘হিট স্ট্রোকে’ ৯ জনের মৃত্যুর খবর
হিটস্ট্রোকে মাদারীপুরে ভাঙারি ব্যবসায়ী ও কৃষকের মৃত্যু
মুন্সীগঞ্জে হিটস্ট্রোকে প্রাণ গেল প্রাণ-আরএফএলের মাঠকর্মীর

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
National guidelines to avoid heat related health risks are being launched on Sunday

তাপজনিত স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে জাতীয় নির্দেশিকা আসছে

তাপজনিত স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে জাতীয় নির্দেশিকা আসছে ফাইল ছবি।
স্বাস্থ্য ও অন্যান্য খাতের বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় তৈরি জাতীয় নির্দেশিকায় তাপ-সম্পর্কিত স্বাস্থ্য ঝুঁকি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে বিস্তৃত নির্দেশনা থাকবে।

অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে তাপজনিত স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে রক্ষায় জাতীয় নির্দেশিকা চালু হচ্ছে। রোববার (৫ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে এই নির্দেশিকা উদ্বোধন করা হবে।

ইউনিসেফের সহায়তায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস) এই জাতীয় গাইডলাইন চালু করছে।

স্বাস্থ্য ও অন্যান্য খাতের বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় তৈরি জাতীয় নির্দেশিকায় তাপ-সম্পর্কিত স্বাস্থ্য ঝুঁকি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে বিস্তৃত নির্দেশনা থাকবে।

এই গাইডলাইনের উন্নয়ন এবং হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে ইউনিসেফ।

শনিবার ইউনিসেফ জানায়, সর্বজনীন স্বাস্থ্য কর্মসূচি অর্জন এবং নাগরিকদের বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী ও গর্ভের সন্তানের কল্যাণ নিশ্চিত করতে এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

তাপজনিত অসুস্থতাবিষয়ক জাতীয় নির্দেশিকার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানা।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে যোগ দেবেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব জাহাঙ্গীর আলম, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি এমা ব্রিগহাম এবং অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।

আরও পড়ুন:
যশোরে রেকর্ড সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস
ঢাকার তাপমাত্রা উঠেছে ৪০.৫ ডিগ্রিতে, মঙ্গলবার আরও বাড়বে
গরমে ডাবের দামে পিপাসা আরও বাড়ছে
ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতায় রক্ষা পেল রিকশাচালকের প্রাণ
দেশে উচ্চ তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড হতে পারে মে মাসে

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
3 more deaths due to dengue 9 people admitted to hospital

ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৯ জন

ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৯ জন ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশা। ফাইল ছবি
সবশেষ তিনজনসহ চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ২৭ জন মারা গেলেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ১৩ ও নারী ১৪ জন।

এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এই সময়ের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৯ জন।

সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। আর ঢাকার বাইরের হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৬ জন রোগী।

সবশেষ তিনজনসহ চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ২৭ জন মারা গেলেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ১৩ ও নারী ১৪ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩ মে পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন মোট দু’হাজার ২৪৮ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৩৭৮ ও নারী ৮৭০ জন।

আরও পড়ুন:
ডেঙ্গু রোধে ডাবের খোসা-চিপসের প্যাকেট কিনে নেবে ডিএনসিসি
২৩ বছরে মোট রোগীর চেয়ে ২০২৩ সালে ডেঙ্গু রোগী বেশি ছিল
ডেঙ্গুতে আরও দুজনের মৃত্যু
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ২ মৃত্যু

মন্তব্য

p
উপরে