× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

স্বাস্থ্য
The people of the country are leaning from the pan to the high commode
hear-news
player
google_news print-icon

প্যান থেকে হাই কমোডে ঝুঁকছে দেশের মানুষ

প্যান-থেকে-হাই-কমোডে-ঝুঁকছে-দেশের-মানুষ
প্রতীকী ছবি
এখন মানুষ বাড়ি তৈরিতে সবচেয়ে বেশি খরচ করে টয়লেটে। আগে যেখানে কয়েকটি পরিবারের জন্য একটি টয়লেট ছিল, এখন সেখানে প্রতিটা ফ্ল্যাটেই ২-৩টা টয়লেট থাকে। এর বেশিও থাকে।

দেশে লো কমোড বা প্যান কমোডকে সরিয়ে দিন দিন বাড়ছে হাই কমোডের ব্যবহার। মানুষের আর্থিক সামর্থ্য এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে উঁচু কমোড। তবে গ্রামে এখনও লো কমোডের প্রচলন বেশি।

টয়লেট এবং টাইলস সামগ্রী বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা বলছেন, লোকে এখন বাড়ি তৈরি করলে বাজেটের একটা বড় অংশ টয়লেটের পেছনে ব্যয় করে। আর প্রতিটি ফ্ল্যাটবাড়িতে একটির জায়গায় এখন দুই থেকে তিনটি টয়লেট থাকে, যেগুলোর বেশির ভাগে হাই কমোড যুক্ত করা হয়।

হাই ও লো কমোডের মধ্যে কোনটি বেশি স্বাস্থ্যসম্মত– এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়াটারএইড বাংলাদেশের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার তাহমিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, টয়লেটের প্যান অথবা কমোড দুটোই স্বাস্থ্যসম্মত। আসলে টয়লেটের যেটাতে পানি আটকে থাকে, সেটাই স্বাস্থ্যসম্মত। কারণ পোকামাকড়, মাছি এই পানিতে থাকা টয়লেট বর্জ্যের ওপর বসতে পারে না।

আজ ‘বিশ্ব টয়লেট দিবস’। ২০০১ সালে বিশ্বে টয়লেট ব্যবহার ও স্যানিটাইজেশন সম্পর্কে ক্যাম্পেইন শুরু করে ওয়ার্ল্ড টয়লেট অরগানাইজেশন (ডব্লিউটিও)। এরপর থেকে প্রতিবছর ১৯ নভেম্বর পালিত হয়ে আসছে বিশ্ব টয়লেট দিবস। ২০১৩ সাল থেকে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে এই দিবসের স্বীকৃতি দেয়। দিনটির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার ব্যবহারে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য শৌচাগারের সুবিধা নিশ্চিত করা।

শতভাগ টয়লেট সুবিধা নিশ্চিতকরণের বিষয়টি মাথায় রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ দিবসটি পালন করে থাকে। বাংলাদেশেও আজ দিবসটি পালিত হচ্ছে।

টয়লেট বা স্যানিটেশনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে বেশি। ভারতে যেখানে প্রায় অর্ধশত কোটি মানুষের টয়লেট নেই, সেখানে বাংলাদেশের প্রায় ৯৯ শতাংশ বাড়িতেই টয়লেট রয়েছে।

টয়লেট এখন দ্রুত বিকাশমান শিল্প

একসময় দেশে আধুনিক টয়লেট তো দূরের কথা, সাধারণ মানের টয়লেটও মানুষ ব্যবহার করত না। সেই দিন এখন পাল্টেছে। দেশে এখন ৭০ শতাংশ মানুষ মোটামুটি ভালো মানের টয়লেট ব্যবহার করে।

দেশে টয়লেট সামগ্রীর শিল্প এখন ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে। আগে এটি আমদানিনির্ভর থাকলেও এখন পুরোপুরি স্বনির্ভর। বাংলাদেশ এখন টয়লেট সামগ্রী রপ্তানিও করছে।

রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত টয়লেট সামগ্রীর দোকান কেলিফ সিরামিক। এর ম্যানেজার ওয়াদুদ বিশ্বাস নিউজবাংলাকে বলেন, দেশে এই ব্যবসা দিন দিন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেশির ভাগ পণ্য এখন দেশেই উৎপাদন হয়।

তিনি আরও বলেন, দেশে লো কমোডের দাম দুই-তিন হাজার থেকে শুরু হয়। আর হাই কমোডের দাম ছয়-সাত হাজার থেকে শুরু করে এক-দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। তবে ১৫-২০ হাজারের মধ্যেই মানুষ বেশি কেনে।

বাংলাদেশ টাইলস ডিলারস অ্যান্ড ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এম ইউ গোলাম রাসুল বেলাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্বাধীনতার পরে দেশের বেশির ভাগ মানুষ কোনো টয়লেটই ব্যবহার করত না। আর যারা ব্যবহার করত, তারা সিমেন্টের তৈরি লো কমোড ব্যবহার করত। কবে থেকে সিরামিকের কমোড দেশে ব্যবহার শুরু হয়, সেটা আমি বলতে পারব না। তবে আমার ধারণা ৯০ দশকের পর থেকে দেশে হাই কমোড ব্যবহার শুরু হয়। সে সময় দেশের ধনীরা বিদেশ থেকে এই কমোড আমদানি করে ব্যবহার করত। কিন্তু তখন এর চাহিদা ছিল খুবই কম।

‘সেই দিন আর নেই। এখন মানুষ বাড়ি তৈরিতে সবচেয়ে বেশি খরচ করে টয়লেটে। আগে যেখানে কয়েকটি পরিবারের জন্য একটি টয়লেট ছিল, এখন সেখানে প্রতিটা ফ্ল্যাটেই ২-৩টা টয়লেট থাকে। এর বেশিও থাকে।’

তিনি আরো জানান, শহরগুলোতে এখন লো-কমোডের ব্যবহার কমছে। হাই কমোডের ব্যবহার বেশি। শহরের একটা ফ্ল্যাটে তিনটা টয়লেট থাকলে দুটা থাকে হাই কমোড। আর একটা হয় লো কমোড। অনেক সময় তিনটাই হাই কমোড হয়। গ্রামে লো কমোডের ব্যবহার বেশি।

তিনি আরও জানান, টয়লেট পণ্যের বাজার দিন দিন বড় হচ্ছে। মানুষের রুচিও বাড়ছে। এখন মানুষ দোকানে এসে ভালো মানের কমোড কিনতে চায়। আগে যেখানে কোনো রকম একটা কমোড হলেই হতো, সেখানে এখন মানুষ দৃষ্টিনন্দন পণ্য খোঁজে। আগে যেখানে জেলা শহরে এক-দুইটা টয়লেট পণ্যের দোকান ছিল, এখন সেখানে শতাধিক দোকান।

স্যানিটেশনে বিপ্লব

খোলা জায়গায় মলত্যাগের হার দুই দশক ধরে বাংলাদেশে কমেছে। ২০২২ সালে প্রকাশিত জনশুমারি ও গৃহগণনা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের ১ দশমিক ২৩ শতাংশ মানুষ এখনও খোলা জায়গায় মলত্যাগ করে। দেশের আট বিভাগের মধ্যে রংপুর বিভাগে খোলা জায়গায় মলত্যাগের হার সবচেয়ে বেশি ৪ দশমিক ৩১ শতাংশ। সবচেয়ে কম ঢাকা বিভাগে, শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ।

আগের তুলনায় উন্মুক্ত স্থানে মলত্যাগ বন্ধ হলেও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখন স্যানিটেশনের নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

ওয়াটারএইড বাংলাদেশের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার তাহমিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, দেশে শতভাগ স্যানিটেশন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রথম চ্যালেঞ্জ হলো যাদের যথাযথ টয়লেট নাই, তাদের টয়লেটের ব্যবস্থা করা। এরপর আসবে গ্রাম আর শহরে টয়লেট বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা। টয়লেট ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো। কিন্তু টয়লেট ব্যবহার করেও যদি সেই বর্জ্য খাল, নদী ও পরিবেশে মিশে গিয়ে দূষণ সৃষ্টি করে, তাহলে সেই টয়লেট ব্যবহার সুফল বয়ে আনে না। তাই নিরাপদ স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা আরেকটি চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, ‘এটা করতে গেলে শহরাঞ্চলে দুটো জিনিস লাগবে। একটা হলো নিরাপদ স্যানিটেশনের জন্য মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা। যেখানে একটি টয়লেটের সাথে যথোপযুক্ত একটা কনটেইনমেন্ট ব্যবস্থা থাকবে। অর্থ্যাৎ সেফটিক ট্যাংক বা পিট থাকবে। আর দ্বিতীয় হলো শহরে একটা বর্জ্য ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টসহ সঠিক ব্যবস্থাপনা থাকবে। বর্তমানে বাংলাদেশের হাতে গোনা কয়েকটি শহরে এ ধরনের ব্যবস্থা আছে। সরকারি পরিকল্পনায় এক শর ওপরে শহরে শিগগিরই বর্জ্য ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট চালু হবে। সে ক্ষেত্রে লক্ষ রাখতে হবে পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনগুলোয় কনটেইনমেন্ট থেকে প্ল্যান্টে আসা পর্যন্ত সঠিক ব্যবস্থাপনা আছে।

‘এখনও অসংখ্য শহর এই ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের বাইরেই রয়ে গেছে। এইগুলো যতক্ষণ আমরা করতে পারব না, ততক্ষণ আমাদের চ্যালেঞ্জটা রয়েই যায়। সুতরাং যত দ্রুত সম্ভব আমাদের ৩৩৭টি শহরেই এ ব্যবস্থাপনা করা দরকার।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

স্বাস্থ্য
Pre birthday celebration of Jesus Christ in Jabi

জবিতে যিশুখ্রিষ্টের প্রাক-জন্মদিন উদযাপন

জবিতে যিশুখ্রিষ্টের প্রাক-জন্মদিন উদযাপন
জবি উপাচার্য বলেন, ‘বাঙালির ঐতিহ্যের সঙ্গে ধর্মীয় সংস্কৃতি মিশে আছে। কোনো ধর্মই মাদক নিতে বলে না, মিথ্যা বলা শেখায় না, কারোর কোনো ক্ষতি করতে বলে না। প্রত্যেকে প্রত্যেক ধর্মের বাণীগুলো মেনে চললে কেউই পথভ্রষ্ট হবে না।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) অধ্যয়নরত খ্রিষ্টান শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে যিশুখ্রিষ্টের জন্মদিন উপলক্ষে প্রাক-বড়দিন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সম্মেলনকক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেলে এই আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। আলোচনা সভা শেষে কাটা হয় কেক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জগেশ রায়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক।

উপাচার্য বলেন, ‘বাঙালির ঐতিহ্যের সঙ্গে ধর্মীয় সংস্কৃতি মিশে আছে। কোনো ধর্মই মাদক নিতে বলে না, মিথ্যা বলা শেখায় না, কারোর কোনো ক্ষতি করতে বলে না। প্রত্যেকে প্রত্যেক ধর্মের বাণীগুলো মেনে চললে কেউই পথভ্রষ্ট হবে না।

‘বর্তমানে ধর্মের নামে হানাহানি চলে। বড় বড় রাষ্ট্রে এখন দেখা যায় ধর্মীয় ছোট ছোট বিষয় নিয়ে বিশ্বকে অস্থিতিশীল করে তোলা হয়। আমাদের প্রত্যেকের সব ধর্মকে শ্রদ্ধা করা উচিত।’

নতুন ক্যাম্পাসের মাস্টারপ্ল্যান হয়ে গেছে জানিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘সেখানে মসজিদ, মন্দির, গির্জা সবই হবে। সব শিক্ষার্থী তাদের নিজ ধর্ম পালন করে সহাবস্থান তৈরি করবে সেখানে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. লুৎফর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল, সহকারী প্রক্টর ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ডেঙ্গুতে জবি ছাত্রদল নেতার মৃত্যু
‘গোল্ড মেডেল’ পেলেন জবির চার শিক্ষার্থী
‘ডিন্‌স অ্যাওয়ার্ড’ পাবেন জবি শিক্ষার্থীরা
পাঠশালা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ প্রবর্তন

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
The spirit of liberation war must be spread to build a prosperous country DU Vice Chancellor

সমৃদ্ধ দেশ গড়তে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে হবে: ঢাবি উপাচার্য

সমৃদ্ধ দেশ গড়তে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে হবে: ঢাবি উপাচার্য মহান বিজয় দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিজয় শোভাযাত্রা বের হয়। ছবি: নিউজবাংলা
‘মহান বিজয়ের মাস গৌরবের মাস। উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধের চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে সর্বদা জাগ্রত রাখতে হবে।’

উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থীসহ সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার মহান বিজয় দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে বিজয় শোভাযাত্রা শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এই আহ্বান জানান।

উপাচার্য বলেন, ‘মহান বিজয়ের মাস গৌরবের মাস। উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধের চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। এই চেতনা তাদের মধ্যে সর্বদা জাগ্রত রাখতে হবে।’

বক্তব্যের শুরুতে উপাচার্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী শহীদ, মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত মা-বোনসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু-কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।’

অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বেলুন উড়িয়ে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন উপাচার্য। সেটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংগীত ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন।

শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য, রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রাধ্যক্ষ, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান, প্রক্টর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির প্রতিনিধি ও শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

আরও পড়ুন:
সমাবর্তনে ভুল: বিদেশিদের কাছে সম্মানহানির শঙ্কায় ঢাবি উপাচার্য
ঢাবিতে ঢুকলে জাবি অধ্যাপককে জীবন বিপন্নের হুমকি
৫২ ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীরা মুক্ত করল ভাসানীর অবরুদ্ধ ভিসিকে
গবেষণার কল্যাণে দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ : শিল্পমন্ত্রী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশনা মেলা ২২-২৩ অক্টোবর

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Calcutta Book Fair starts on January 30

কলকাতা বইমেলা শুরু ৩০ জানুয়ারি

কলকাতা বইমেলা শুরু ৩০ জানুয়ারি পাঁচতারকা হোটেলে বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের পক্ষে সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় এবং সভাপতি সুধাংশু শেখর দে বইমেলার সূচি ঘোষণা করেন। ছবি: নিউজবাংলা
গিল্ডের পক্ষে সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘২০২২ সালে সল্টলেকের করুণাময়ীর সেন্ট্রাল পার্কে অনুষ্ঠিত কলকাতা বইমেলায় প্রায় ২২ লাখ বইপ্রেমী অংশ নিয়েছিলেন। মেলার বিভিন্ন স্টল থেকে প্রায় ২৩ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। এবার আরও বেশি সাড়া পাব বলে আশা করছি।’ 

২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ৪৬তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা। মেলা চলবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এবার কলকাতা বইমেলার থিম ‘কান্ট্রি স্পেন’। প্রতিবছরের মতো মেলা উদ্বোধন করবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কলকাতার একটি পাঁচতারকা হোটেলে বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের পক্ষে সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় এবং সভাপতি সুধাংশু শেখর দে বইমেলার সূচি ঘোষণা করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভারতে নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত যোসে মারিয়া রিদাও দোমিনিগেজ।

স্পেন ছাড়াও ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া, বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশ এবারের বইমেলায় তাদের বইয়ের সম্ভার নিয়ে উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছে গিল্ড কর্তৃপক্ষ।

২০০৬ সালেও স্পেনকে কলকাতা বইমেলার থিম কান্ট্রি হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছিল। ফের বইমেলার থিম কান্ট্রি হিসেবে মনোনীত হওয়ায় উচ্ছ্বসিত স্পেনের রাষ্ট্রদূত যোসে মারিয়া রিদাও দোমিনিগেজ।

তিনি বলেন, ‘বইমেলায় স্পেনের এই অংশগ্রহণের ফলে দুই দেশের সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও দৃঢ় হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

‘থিম কান্ট্রি হিসেবে কলকাতা বইমেলায় স্পেনের যে প্যাভিলিয়ন হবে, তা সম্পূর্ণ ভারতীয় উপকরণ তৈরি হবে।’

কলকাতা বইমেলার অন্যতম আকর্ষণ লিটারেচার ফেস্টিভ্যাল চলবে ৯ থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

গিল্ডের পক্ষে সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘২০২২ সালে সল্টলেকের করুণাময়ীর সেন্ট্রাল পার্কে অনুষ্ঠিত কলকাতা বইমেলায় প্রায় ২২ লাখ বইপ্রেমী অংশ নিয়েছিলেন। মেলার বিভিন্ন স্টল থেকে প্রায় ২৩ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। এবার আরও বেশি সাড়া পাব বলে আশা করছি।’

আরও পড়ুন:
হেমন্তে কলকাতায় শীতের আমেজ
কলকাতায় শুরু চতুর্থ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব
‘হাওয়া’ দেখতে দীর্ঘ লাইন কলকাতায়  
কলকাতায় আমরণ অনশনে চাকরিপ্রার্থীরা
ডেঙ্গু বাড়ছে কলকাতাতেও

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Maradona would have been very happy with this win Messi

এ জয়ে ম্যারাডোনা অনেক খুশি হতেন: মেসি

এ জয়ে ম্যারাডোনা অনেক খুশি হতেন: মেসি কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গে আর্জেন্টিনার মহাতারকা ফুটবলার লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত
মেসি বলেন, ‘আমি এই রেকর্ডের বিষয়টি সম্প্রতি জানতে পেরেছি। এই ধরনের সফলতার রেকর্ড অর্জন করতে পারায় আমি আনন্দিত। আজ বেঁচে থাকলে ম্যারাডোনা অনেক বেশি আনন্দিত হতেন। কারণ তিনি আমাকে অনেক স্নেহ করতেন। আমার ভালো ও মঙ্গলে তিনি অত্যন্ত খুশি হতেন।’

পোল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে সফল নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নিয়ে আসতে পারায় লিওনেল মেসির ওপর অত্যন্ত খুশি হতেন দিয়েগো ম্যারাডোনা।

কাতার বিশ্বকাপে বুধবার রাতে গ্রুপপর্বে পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাঁচা-মরার এই ম্যাচে ২-০ গোলে জয়ের পর প্রতিক্রিয়ায় এমনটি জানিয়েছেন দেশটির মহাতারকা ফুটবলার লিওনেল মেসি।

বিশ্বকাপে ২২তম ম্যাচ খেলার মধ্য দিয়ে মেসি তার দেশের কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনাকে টপকে যান। দুই বছর আগে এই কিংবদন্তি ফুটবলারের মৃত্যু হয়।

মেসি বলেন, ‘আমি এই রেকর্ডের বিষয়টি সম্প্রতি জানতে পেরেছি। এই ধরনের সফলতার রেকর্ড অর্জন করতে পারায় আমি আনন্দিত। আজ বেঁচে থাকলে ম্যারাডোনা অনেক বেশি আনন্দিত হতেন। কারণ তিনি আমাকে অনেক স্নেহ করতেন। আমার ভালো ও মঙ্গলে তিনি অত্যন্ত খুশি হতেন।’

পেনাল্টি মিসের পর এই ম্যাচ জয়ে অনেক বেশি স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এই আর্জেন্টাইন ক্যাপ্টেন। এটি তার ক্যারিয়ারে ৩৯তম পেনাল্টি মিসের ঘটনা ছিল।

মেসি বলেন, ‘গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে ২-০ গোলের বেদনাদায়ক পরাজয়ের পর এই ম্যাচে জয়ের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের প্রধান লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছি। আমরা গ্রুপপর্ব টপকে নকআউটে এসেছি।’

বুধবার দলের শেষ গ্রুপ ম্যাচে পেনাল্টি মিস করেন লিওনেল মেসি। তার পেনাল্টি ঠেকিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি পোল্যান্ডের গোলকিপার ভইচেক শেজনি ও তার দলের।

পোল্যান্ডকে গুড়িয়ে দিয়ে ২-০ গোলে ম্যাচ জিতে সি-গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে পৌঁছে যায় আর্জেন্টিনা। শেষ ষোলোতে তারা খেলবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।

সৌদি আরবের বিপক্ষে অনাকাঙ্খিত হার দিয়ে শুরু করা আর্জেন্টিনা নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচে খেলেছে বিশ্বসেরা দলের মতোই।

কঠিন সমীকরণে আটকে থেকে বিশ্বকাপে টিকে থাকার ম্যাচে বুধবার রাতে পোল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামে আর্জেন্টিনা।

গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে জয় বাগিয়ে নিতে ব্যর্থ হলে শেষ ষোলোতে খেলা অনিশ্চিত হয়ে যেত দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।

আরও পড়ুন:
পেনাল্টি মিসকেই শাপে বর মনে করছেন মেসি
মেক্সিকোর বিপক্ষে সৌদির গোলে নকআউটে পোল্যান্ড
মেসির পেনাল্টি মিসের পরও হেসেখেলে নকআউটে আর্জেন্টিনা

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
This years cup will be picked up by Messi

‘আশা করছি এবারের কাপটা মেসির হাতেই উঠবে’

‘আশা করছি এবারের কাপটা মেসির হাতেই উঠবে’ আর্জেন্টিনার দুটি গোলে উল্লাসে মেতে ওঠেন শেরপুরের সমর্থকরা। ছবি: নিউজবাংলা
আর্জেন্টিনার সমর্থক শেরপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও ক্রীড়া সংগঠক মো. মেরাজ উদ্দিন বলেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে প্রথম ম্যাচ হারার পর অনেকেই মনে করেছিল আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয়েছে। এমন অনেক খেলোয়াড় আছেন, যাদের একজনকে আটকালে অন্যরা জ্বলে ওঠেন। আমরা আশা করছি, এবারের কাপটা মেসির হাতেই উঠবে।’

কাতার বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হারের পর মেক্সিকোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনা বড় জয় পেলেও স্বস্তিতে ছিল না সমর্থকরা। কঠিন সমীকরণে আটকে যাওয়ার পর পোল্যান্ডের বিপক্ষেও জ্বলে ওঠেন দলের খেলোয়াড়রা।

মেসির পেনাল্টি মিসের পর সমর্থকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়লেও পরবর্তী সময়ে দুটি গোলে উল্লাসে মেতে ওঠেন শেরপুরের সমর্থকরা। আর্জেন্টিনার পতাকা নিয়ে স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয় শেরপুরের বিভিন্ন এলাকা। এ ছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় বড় পর্দায় দেখানো হয় খেলা।

ভক্তরা আশা করছেন এবারের বিশ্বকাপটা মেসির হাতেই উঠবে। সামনে আরও ভালো খেলবে প্রিয় দল আর্জেন্টিনা- এ আশায় বুক বাঁধছেন মেসি ভক্তরা।

আর্জেন্টিনার সমর্থক শেরপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও ক্রীড়া সংগঠক মো. মেরাজ উদ্দিন বলেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে প্রথম ম্যাচ হারার পর অনেকেই মনে করেছিল আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয়েছে। কিন্তু আর্জেন্টিনার দলে মেসি, দিবালা, ডি মারিয়া, আলবারেস, মার্টিনেস, ডিপলসহ এমন সব খেলোয়াড় আছেন, যাদের একজনকে আটকালে অন্যরা জ্বলে ওঠেন। আমরা আশা করছি, এবারের কাপটা মেসির হাতেই উঠবে।’

অপর সমর্থক হাসানুর রহমান আলাল বলেন, ‘আমরা এবার আর্জেন্টিনা কাপ পাব- এটাই আশা করছি।’

সমর্থক শাহিন বলেন, ‘সৌদির কাছে হঠাৎ হেরে গিয়ে আর্জেন্টিনা আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। কাজেই বিশ্বকাপ এবার মেসির হাতেই উঠবে।’

আরও পড়ুন:
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের মাটিতে নামাল তিউনিসিয়া
‘হ্যান্ড অফ গডের’ পর এবারে ‘হেয়ার অফ গড’
মেসিকে থামানোর উপায় জানেন না পোল্যান্ডের কোচ
স্বাগতিক হিসেবে সবচেয়ে বাজে রেকর্ড কাতারের
সৌদির কপাল খুলতে দরকার কঠিন হিসাব-নিকাশ

মন্তব্য

পেনাল্টি মিসকেই শাপে বর মনে করছেন মেসি

পেনাল্টি মিসকেই শাপে বর মনে করছেন মেসি আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসি। ছবি: এএফপি
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মেসি বলেন, ‘পেনাল্টি মিসের পর নিজের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম, কিন্তু আমার ভুলের পর দল আরও শক্তিশালী হয়ে উঠে। আমরা জানতাম প্রথমে একটা গোল হয়ে গেলে খেলা বদলে যাবে।’

সৌদি আরবের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ হারের পর আর্জেন্টিনার শেষ ষোলোতে ওঠা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন অনেকে। সে শঙ্কা কিছুটা কাটে মেক্সিকোর বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে, কিন্তু এরপরও পোল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচের আগে নানা সমীকরণ নিয়ে মাঠে নামতে হয়েছিল মেসিদের। সেসব সমীকরণকে অতীত করে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে লিওলেন স্কালোনির দল।

হাই ভোল্টেজ ম্যাচ শেষে তৃপ্তির হাসি নিয়ে সাজঘরে ফিরলেও শুরুটা সাদামাটা ছিল টিম আর্জেন্টিনার। প্রথমার্ধে বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও জাল খুঁজে পাচ্ছিল না শটগুলো।

মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়ায় মেসির পেনাল্টি কিক মিস, তবে সে মুহূর্তটাকেই শাপে বর মনে করছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। তার মতে, পেনাল্টিতে গোল না পাওয়ায় মরিয়া হয়ে ওঠে দল।

প্রথমার্ধে কোনো গোল না করে বিরতিতে যাওয়া আর্জেন্টিনা দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ডেডলক ভাঙে। ম্যাচের ৪৬তম মিনিটে আলেক্সিস ম্যাকঅ্যালিস্টারের গোলে এগিয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা। পরে ৬৭তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হুলিয়ান আলভারেস।

এ দুজনের গোলে মেসির স্বপ্নজয়ের সম্ভাবনা বাড়িয়ে সুপার সিক্সটিনে পৌঁছে যায় আর্জেন্টিনা।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক বলেন, ‘পেনাল্টি মিসের পর নিজের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম, কিন্তু আমার ভুলের পর দল আরও শক্তিশালী হয়ে উঠে। আমরা জানতাম প্রথমে একটা গোল হয়ে গেলে খেলা বদলে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগের ম্যাচ থেকে আমরা আত্মবিশ্বাস পেয়েছি। তা ছাড়া আগেই আমাদের জানা ছিল এ ম্যাচ আমাদের জিততে হবে।’

আগামী শনিবার বাংলাদেশ সময়ে রাত ১টায় নকআউট পর্বে আস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। একে সামনে রেখে মেসি বলেন, এবারের বিশ্বকাপে যেকোনো দল যে কাউকেই হারাতে পারে।

সবাইকে সমানভাবেই দেখছেন সাতবারের ব্যালন ডরজয়ী এ তারকা। তার ভাষ্য, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটা খুব কঠিন হতে চলেছে। যে কেউ অন্যকে হারাতে পারে; সবই সমান, তবে আমরা সবসময়ের মতোই প্রস্তুতি নিয়ে তাদের মুখোমুখি হব।

‘আমাদের শান্ত থাকতে হবে। তা ছাড়া ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলা উচিত। এখন আরেকটি বিশ্বকাপ শুরু হলো। আজ আমরা যা করেছি, আশা করছি তা ধরে রাখতে পারব।’

আরও পড়ুন:
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের মাটিতে নামাল তিউনিসিয়া
‘হ্যান্ড অফ গডের’ পর এবারে ‘হেয়ার অফ গড’
মেসিকে থামানোর উপায় জানেন না পোল্যান্ডের কোচ
স্বাগতিক হিসেবে সবচেয়ে বাজে রেকর্ড কাতারের
সৌদির কপাল খুলতে দরকার কঠিন হিসাব-নিকাশ

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Relief at Messis awakening in DU

মেসিদের জাগরণে স্বস্তি ঢাবিতে

মেসিদের জাগরণে স্বস্তি ঢাবিতে মাঠে উদযাপনে টিম আর্জেন্টিনা। ছবি: এএফপি
আমজাদ হোসেন হৃদয় নামের এক ছাত্র বলেন, ‘আজকের খেলায় মেসির কাছে আমাদের প্রত্যাশা ছিল। নিজে গোল দেয়া এবং ফার্নান্দেসকে দিয়ে করানো গোলটা দেখে কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছি। মার্টিনেজের সেভটাও দেখার মতো ছিল।’

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের সঙ্গে হেরে খাদের কিনারায় চলে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেখান থেকে উঠে আসতে বিকল্প ছিল না জয়ের।

কাতারের লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে অধরা সেই জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছিলেন মেসি, ফার্নান্দেসরা, কিন্তু বাংলাদেশ সময় শনিবার মধ্যরাতের ম্যাচের প্রথমার্ধ পর্যন্ত বুক চিনচিন করছিল দর্শকদের। তীর্থের কাকের মতো গোলের অপেক্ষায় ছিলেন তারা।

সে অপেক্ষার অবসান হয় দ্বিতীয়ার্ধে। দলপতি লিওনেল মেসির নীরবতা ভাঙানো গোলে প্রাণ ফেরে দর্শকদের। এরপর এনজো ফার্নান্দেসের দ্বিতীয় গোলে আসে স্বস্তি, যা বহাল ছিল রেফারির শেষ বাঁশি পর্যন্ত।

মেক্সিকোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার গুরুত্বপূর্ণ এ জয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শকদের মতো প্রাণ ফেরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি, মুহসীন হলের মাঠে বড় পর্দায় খেলা দেখা দর্শকদের। গভীর রাতে তাদের মুখ থেকে বের হয় চাপা অভিমান আর আনন্দের কথা।

বাঁশি বাজিয়ে, মোটরসাইকেলে শোডাউন করে, আর্জেন্টিনার পতাকা গায়ে প্যাঁচিয়ে, নেচে-গেয়ে মেসিদের জয় উদযাপন হয় ঢাবি ক্যাম্পাসে। অনেকে স্লোগান দিতে দিতে ফেরেন হল আর বাসায়।

মেসিদের জাগরণে স্বস্তি ঢাবিতে

এমন মুহূর্তে কথা হয় কিছু আর্জেন্টিনাপ্রেমীর সঙ্গে। তাদের একজন ঢাবি ছাত্র নাসিমুল হুদা বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা আরেকটু বেশি ছিল। তারপরও জয় পেয়েছি দেখে ভালো লাগছে।

‘প্রথমার্ধের খেলায় আমরা মোটেও সন্তুষ্ট হতে পারিনি। যখন খেলা দেখছিলাম, তখন প্রচণ্ড রাগ উঠছিল। কারণ আর্জেন্টিনা এত বাজে খেলবে, সেটা মানতে পারছিলাম না। তাদের আরও ভালো খেলা উচিত ছিল।’

আরেক ছাত্র সিদ্দিক ফারুক বলেন, ‘প্রথমার্ধে মন খারাপ থাকলেও মেক্সিকোর এত ডিফেন্সের ভেতর মেসির গোল এবং ফার্নান্দেসকে দিয়ে করানো গোলটা অসাধারণ ছিল, তবে আমাদের খেলায় আরও অনেক উন্নতি করা দরকার। এই খেলা দিয়ে আমরা ফাইনালের স্বপ্ন দেখার সাহস করতে পারি না।’

আমজাদ হোসেন হৃদয় নামের এক ছাত্র বলেন, ‘আজকের খেলায় মেসির কাছে আমাদের প্রত্যাশা ছিল। নিজে গোল দেয়া এবং ফার্নান্দেসকে দিয়ে করানো গোলটা দেখে কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছি। মার্টিনেজের সেভটাও দেখার মতো ছিল।

‘আশা করছি পোল্যান্ডের ম্যাচে আমরা জিতব। আমি অনেক বেশি করে চাইছি, কাতার বিশ্বকাপটা আর্জেন্টিনার হোক।’

এসইএস শাহিনের কাছে মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল ফাইনাল। এতে জয়ের পর তার ভাষ্য, ‘আর্জেন্টিনার সামনে দুইটা ফাইনাল ছিল। একটাতে আজ জিতেছে; আরেকটা আগামী বৃহস্পতিবার।

‘সেটাতেও জিতবে বলে আশা আছে, তবে দলের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, কেউই ফর্মে নাই। তারপরও আমি আশা ছাড়তে চাই না।’

আর্জেন্টিনার বহুল প্রতীক্ষিত এ জয়ের উচ্ছ্বাসের ঢেউ দেখা গেছে ছাত্রীদের হলে। হল গেটের ভেতর থেকে ‘মেসি মেসি’ স্লোগান দিতে দেখা যায় ছাত্রীদের।

প্রিয় দলের খেলা বড় পর্দায় দেখবে বলে অনেক ছাত্রী নির্ধারিত সময় রাত ১০টার মধ্যে হলে ঢোকেননি। খেলা শেষে তারা বাইরে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করে, আড্ডা দিয়ে রাত কাটিয়েছেন।

এমনই একজন তাসনুভা জাহান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাত ১০টায় হল বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা নেই। সবার সঙ্গে বড় পর্দায় খেলা দেখার মজাটাই অন্যরকম। আর সেটা যদি হয় প্রিয় দলের, তাহলে আনন্দটা দ্বিগুণ হয়।

‘তাই আজকে খেলা শেষে বান্ধবীদের সঙ্গে ক্যাম্পাসেই গল্প, আড্ডা করতে করতে রাত কাটাতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে মেসি জিতেছে; অনেক খুশি। এবার অন্তত বিশ্বকাপটা মেসির হোক।’

আরও পড়ুন:
চাপ সামলে জয় অস্ট্রেলিয়ার
আর্জেন্টিনার সামনে যেসব সমীকরণ
সৌদি ফুটবলারদের রোলস রয়েস পাওয়ার খবরটি ভুয়া
মুহিন-ঝিলিকের ‘ছুটছে মেসি ছুটছে নেইমার’
সেই মাঠে আবার নামছে আর্জেন্টিনা

মন্তব্য

p
উপরে