× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

স্বাস্থ্য
3 more deaths due to dengue
hear-news
player
google_news print-icon

ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু

ডেঙ্গুতে-আরও-৩-মৃত্যু
বর্তমানে সারা দেশে ২ হাজার ৯৮৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৭৬৭ ও ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে ১ হাজার ২২২ জন।

ডেঙ্গুতে এক বছরে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড আগেই হয়েছিল। এর মধ্যে চলতি মাসের ১৪ দিনে মারা গেল ৬৪ জন। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় তিনজন মিলিয়ে এই জ্বরে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ২০৫-এ। গত ২২ বছর ধরে রাখা পরিসংখ্যানে এর আগে কখনও এত বেশি মানুষ মারা যায়নি।

এই জ্বরের প্রকোপ সাধারণত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাকলেও নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ শেষ হতে চললেও প্রতিদিনই মৃত্যুর খবর আসছে, সেই সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে শত শত মানুষ। চলতি মাসে এমন একটি দিনও যায়নি যেদিন কোনো রোগী মারা যায়নি।

সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৬০ জন।

এদের মধ্যে ৪২৫ জন ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে এবং ৩৩৫ জন ভর্তি হয়েছেন ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে।

বর্তমানে সারা দেশে ২ হাজার ৯৮৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৭৬৭ ও ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে ১ হাজার ২২২ জন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৪৯ হাজার ৩০০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ৩২ হাজার ১৬৩ ও ঢাকার বাইরে সারা দেশে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ১৩৭ জন।

আরও পড়ুন:
‘ডেঙ্গু আক্রান্তরা সহজে ভালো হচ্ছেন না’
ডেঙ্গুতে মৃত্যু ছাড়াল দুই শ, ১৩ দিনেই ৬১
রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু
শুধু বাংলাদেশে নয়, পুরো এশিয়ায় ডেঙ্গু রোগী বেড়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ডেঙ্গুতে দেশে আরও ৬ মৃত্যু

মন্তব্য

আরও পড়ুন

স্বাস্থ্য
308 detected on days without dengue deaths

ডেঙ্গুতে মৃত্যুশূন্য দিনে শনাক্ত ৩০৮

ডেঙ্গুতে মৃত্যুশূন্য দিনে শনাক্ত ৩০৮ এডিস মশার বিস্তারে বাড়ছে ডেঙ্গু। ছবি: সংগৃহীত
বছরের শুরু থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫৮ হাজার ৯২৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৭ হাজার ৩৯০ জন এবং ঢাকার বাইরে সারা দেশে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ৫৩৭ জন।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩০৮ জন। এসময় ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যু হয়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার সকাল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে চলতি বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ২৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকায় ১৭২ ও ঢাকার বাইরে ১৩৬ জন রোগী আছেন। এ নিয়ে বর্তমানে সারা দেশে ১ হাজার ৩৩২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৫৩টি হাসপাতালে ৭৭৭ জন ও ঢাকার বাইরে ৫৫৫ জন।

বছরের শুরু থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫৮ হাজার ৯২৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৭ হাজার ৩৯০ জন এবং ঢাকার বাইরে সারা দেশে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ৫৩৭ জন।

অক্টোবর মাসে সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ২১ হাজার ৯৩২ জন, যা বছরের মোট আক্রান্তের ৫৭ শতাংশ। এ মাসে মোট মৃত্যু ছিল ৮৬, যা বছরের মোট মৃত্যুর ৬০ শতাংশ।

এদিকে নভেম্বরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৯ হাজার ৩৩৪ জন। আর ডিসেম্বরের প্রথম পাঁচ দিনে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৬৯ জন।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতাল থেকে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৭ হাজার ৩৩৮ জন। তাদের মধ্যে ঢাকায় ৩৬ হাজার ৪৫৬ ও ঢাকার বাইরে ২০ হাজার ৮৮২জন।

আরও পড়ুন:
মৃত্যুশূন্য এক দিন পর ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু
মৃত্যুশূন্য দিনে ডেঙ্গু শনাক্ত ৩৫১
মৃত্যুশূন্য একদিন পর ডেঙ্গুতে আবার ৩ মৃত্যু
ডেঙ্গুতে মৃত্যুশূন্য দিন, শনাক্ত ৩৬৬
ডেঙ্গুতে আরও ২ মৃত্যু, শনাক্ত ৪৬২

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Dengue deaths are high due to late arrival of patients to hospital Health Minister

রোগী হাসপাতালে দেরিতে আসায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেশি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রোগী হাসপাতালে দেরিতে আসায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেশি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। ছবি: নিউজবাংলা
মন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গু দেশে অনেক বেড়ে গিয়েছিল। মৃত্যুর হারও বেড়ে গিয়েছিল। আশেপাশের দেশেও বেড়ে গিয়েছিল। এ পর্যন্ত ৫৮ হাজার রোগী আমরা পেয়েছি৷ এরমধ্যে ৩৬ হাজার ঢাকার, সিটি করপোরেশনের মধ্যে। এখানে ড্রেনেজ সিস্টেম বেশি, পানিও জমে থাকে বেশি। এসব জায়গায় স্প্রে করা প্রয়োজন।’

মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং দেরিতে হাসপাতালে এসে চিকিৎসা শুরু করায় এ বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেশি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

সচিবালয়ে সোমবার নেপাল এবং সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবদিকদের প্রশ্নে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা স্টাডিতে দেখেছি, যারা ডেঙ্গুতে মারা গেছেন তাদের মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে আসার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে। তারা চিকিৎসা শুরু করতে দেরি করেছেন। যারা বেশি সময় হাসপাতাল থাকার সুযোগ পেয়েছেন তাদের মৃত্যুহার কম।’

দেশের অন্য এলাকার তুলনায় ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় মশার উৎপাত বেশি বলেও মন্তব্য করেন জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন, ‘বারিধারায় থাকি, এখানেও অনেক মশা। আমাদের সচেতন হতে হবে। নিজের বাড়ি পরিষ্কার রাখতে হবে। গ্রামে কিন্তু এত মশা নেই। সেখানে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কম। এটা ঢাকা শহরেই বেশি।

‘সিটি করপোরেশন থেকে বেশি নজরদারি করলে আশা করি কমে আসবে। যদিও তারা চেষ্টা করছে, স্প্রে করছে। তবে যে পরিমাণে দেয়ার কথা সে পরিমাণ হয়তো দেয়া সম্ভব হয়নি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গু দেশে অনেক বেড়ে গিয়েছিল। মৃত্যুর হারও বেড়ে গিয়েছিল। আশেপাশের দেশেও বেড়ে গিয়েছিল। এ পর্যন্ত ৫৮ হাজার রোগী আমরা পেয়েছি৷ এরমধ্যে ৩৬ হাজার ঢাকার, সিটি করপোরেশনের মধ্যে। এখানে ড্রেনেজ সিস্টেম বেশি, পানিও জমে থাকে বেশি। এসব জায়গায় স্প্রে করা প্রয়োজন।

‘আগে ১ হাজার রোগী প্রতিদিন আসতো। এখন ৪০০ করে ভর্তি হচ্ছে। মৃত্যুর হারও কমেছে। যে ট্রেন্ডটা দেখছি কমে আসবে।’

শীতের আগে আগে বছরের যে সময়ে দেশে ডেঙ্গুরোগী দেখা যায় না, সেই সময়েই এবার সবচেয়ে বেশি মৃত্যু দেখেছে মানুষ। অক্টোবর মাসও ছিল ভয়ঙ্কর, সে মাসে মৃত্যু হয় ৮৬ জনের।

সর্বশেষ রোববার তিনজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তারা জানায়, এদিন সকাল পর্যন্ত শেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ২০৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২০২ জন।

বর্তমানে সারা দেশে ১ হাজার ৪৬৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ৮৪১ ও ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে ৬২২ জন রোগী রয়েছেন। সবমিলিয়ে এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২৫৭ জন মারা গেছেন।

অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫৮ হাজার ৬১৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ৩৭ হাজার ২১৮ জন ও ঢাকার বাইরে সারা দেশে ২১ হাজার ৪০১ জন রোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
চিকিৎসকদের নিরাপত্তার বিষয়টি অর্জন করতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
মৃত্যুশূন্য এক দিন পর ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু
মৃত্যুশূন্য দিনে ডেঙ্গু শনাক্ত ৩৫১

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Corona detection is hovering around zero

করোনা শনাক্ত ঘুরছে শূন্যের কোঠায়

করোনা শনাক্ত ঘুরছে শূন্যের কোঠায় সারা দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ কমেছে। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ১৯৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে ১৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার শূন্য দশমিক ৬৮ শতাংশ। নতুন শনাক্তদের মধ্যে ১২ জন ঢাকার বাসিন্দা।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমে এসেছে। সারাদেশে ২৪ ঘন্টায় শনাক্ত হয়েছে ১৫ জন রোগী। এসময় করোনা শনাক্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি।

রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, সারা দেশে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ১৯৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে ১৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার শূন্য দশমিক ৬৮ শতাংশ। নতুন শনাক্তদের মধ্যে ১২ জন ঢাকার বাসিন্দা।

দেশে এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ লাখ ৩৬ হাজার ৬৩৭ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৪৩৪ জনের।

গত ২৪ ঘন্টায় করোনা থেকে সেরে উঠেছেন ৫৬ জন। সব মিলিয়ে দেশে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৯ লাখ ৮৬ হাজার ১০৭ জন।

২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর মোট পাঁচটি ঢেউ মোকাবিলা করতে হয়েছে দেশকে। পঞ্চম ঢেউয়ে শনাক্ত ও মৃত্যু তুলনামূলক কম। বর্তমানে করোনা নিয়ন্ত্রণের পথে বলে মনে করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

আরও পড়ুন:
করোনায় শনাক্ত ২৩
করোনা: শনাক্ত কমে ২০
করোনা শনাক্ত শূন্যের কোঠায়
করোনা শনাক্ত ঘুরছে শূন্যের কোঠায়

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Dont act in a way that compromises your own safety Health Minister to doctors

চিকিৎসকদের নিরাপত্তার বিষয়টি অর্জন করতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চিকিৎসকদের নিরাপত্তার বিষয়টি অর্জন করতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী রোববার সচিবালয়ে বিসিএসের মাধ্যমে সদ্য নিয়োগ পাওয়া ১০৬জন চিকিৎসকের কর্মক্ষেত্রে যোগদান অনুষ্ঠানে কথা বলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। ছবি: নিউজবাংলা
স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, হাসপাতালের যন্ত্রপাতি যাতে কার্যকর থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের জনবল যে পরিপূর্ণ তা বলব না। আপনি ইউরোপ-আমেরিকার মতো প্রত্যাশা করতে পারেন না, কারণ এটা বাংলাদেশ।

রোগীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার ও তাদের সেবা নিশ্চিতে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানোর পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নিরাপত্তার বিষয়টি অর্জন করতে হবে। চিকিৎসকদের কাজ খুবই স্পর্শকাতর। নিরাপত্তা অবশ্যই দরকার, কিন্তু আমরা এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারি না, যেখানে আমাদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে যাবে।’

সচিবালয়ে রোববার ৪০তম বিসিএসের মাধ্যম সদ্য নিয়োগ পাওয়া ১০৬জন চিকিৎসকের কর্মক্ষেত্রে যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেক উন্নত হয়েছে। হাসপাতালে যন্ত্রপাতি আছে, অক্সিজেন আছে। পাশাপাশি হাসপাতালের অবকাঠামোও সুন্দর হয়েছে।

‘এখন কেবল চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। ধরেন, এক ব্যক্তি তার মুমূর্ষু বাবা কিংবা মাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেন, কিন্তু গিয়ে দেখেন চিকিৎসক নেই। তখন তার মনের অবস্থা কী হবে? আর যাওয়ার পর যদি ওই মুমূর্ষু বাবা কিংবা মা মারা যান, তাহলে তার মনের অবস্থাই বা কী হবে। তখন আপনাদের (চিকিৎসকদের) আমরা কীভাবে নিরাপত্তা দেব?’

রোগীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে চিকিৎসকদের প্রতি নির্দেশনা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে। চিকিৎসকরা ভুল করলে রোগী মারা যান। অর্থাৎ চিকিৎসকরা ভুল করলে তা সংশোধনের সুযোগ নেই।’

চিকিৎসকদের হাসপাতাল পরিচালনা ও রোগী ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর হওয়ার পরামর্শ দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের ভালো প্রশাসক হতে হবে। হাসপাতালের যন্ত্রপাতি যাতে কার্যকর থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের জনবল যে পরিপূর্ণ তা বলব না। আপনি ইউরোপ-আমেরিকার মতো প্রত্যাশা করতে পারেন না, কারণ এটা বাংলাদেশ।’

সদ্য নিয়োগ পাওয়া চিকিৎসকদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কর্মস্থলে গেলে সবকিছু মনমতো হবে না। নিজের অবস্থান নিজেকেই তৈরি করতে হবে। আমরা চাই দরিদ্র মানুষ যারা আছেন, তাদের আপনারা একটু ভালো সেবা দেবেন। এর চেয়ে ভালো সেবা দেয়ার সুযোগ আর নেই। সবচেয়ে উত্তম ধর্ম, উত্তম ইবাদত হচ্ছে মানুষের সেবা। সবাই মানুষের সেবা করেন, কিন্তু চিকিৎসকদের মতো কেউ পারেন না।

‘দুই জায়গায় শপথ নিতে হয়- একটি চিকিৎসকদের, আরেকটি আইনপ্রণেতাদের। আমরা শপথ ভাঙতে চাই না।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘আপনারা খুবই ব্যয়বহুল শিক্ষা নিয়েছেন। পাশের দেশে একজনকে চিকিৎসক হতে হলে এক কোটির বেশি রুপি খরচ হয়। আপনারা যারা সরকারি কলেজে লেখাপড়া করেছেন, কত টাকা ব্যয় করেছেন? এ বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে। জনগণের টাকায় লেখাপড়া করেছেন। এখন আপনাদের তা পরিশোধের সময়। এখন আপনাদের তা বাংলাদেশকে দেয়ার সময় হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
করোনা জয় সদ্য মাতৃত্বের সুখের মতো: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি ১০০, বেসরকারিতে ৩০০
আ.লীগের লাঠি উঠলে বিএনপিকে খুঁজে পাওয়া যাবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দেশে প্রতি দিন যক্ষ্মায় ১১০ জনের মৃত্যু
চিকিৎসায় বিদেশ যেতে হবে না, আসা লাগবে না ঢাকাতেও: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
3 more deaths in dengue after a day without death

মৃত্যুশূন্য এক দিন পর ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু

মৃত্যুশূন্য এক দিন পর ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু আক্রান্তদের অনেকে। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
রোববার সকাল পর্যন্ত সারা দেশে ৪১০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত তিনজন মারা গেছেন। এতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৫৭ জন।

ডেঙ্গুতে মৃত্যুশূন্য দিন পার করার পরদিনই তিনজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। রোববার সকাল পর্যন্ত সারা দেশে ৪১০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত তিনজন মারা গেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

তাতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ২০৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২০২ জন।

বর্তমানে সারা দেশে ১ হাজার ৪৬৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ৮৪১ ও ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে ৬২২ জন রোগী রয়েছেন।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় তিন মৃত্যু নিয়ে এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২৫৭ জন মারা গেলেন।

অধিদপ্তরের তথ্যমতে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫৮ হাজার ৬১৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ৩৭ হাজার ২১৮ জন ও ঢাকার বাইরে সারা দেশে ২১ হাজার ৪০১ জন রোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এছাড়া এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু থেকে সেরে উঠেছেন ৫৬ হাজার ৮৯৯ জন। ঢাকায় ৩৬ হাজার ২২০ জন এবং ঢাকার বাইরে সুস্থ হয়েছেন ২০ হাজার ৬৭৯ জন।

আরও পড়ুন:
মশার কামড়ে ৪ সপ্তাহ কোমায়, ৩০ সার্জারি!
ডেঙ্গুর জ্বরে আক্রান্ত গৃহবধূর ‘আত্মহত্যা’
ডেঙ্গুর প্রকোপ কমছে, নভেম্বরে মৃত্যু ছাড়াল ১০০
নভেম্বরে ডেঙ্গুতে এক শ মৃত্যু

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
High blood pressure Concerns over hope for free drugs

উচ্চ রক্তচাপ: ফ্রি ওষুধে আশা, জোগান নিয়ে শঙ্কা

উচ্চ রক্তচাপ: ফ্রি ওষুধে আশা, জোগান নিয়ে শঙ্কা
সিলেট, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের ৫৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন মেলে উচ্চ রক্তচাপের ফ্রি ওষুধ। এর পাশাপাশি প্রাথমিকভাবে সিলেট জেলার চারটি উপজেলার আটটি কমিউনিটি ক্লিনিকে উচ্চ রক্তচাপের বিনা মূল্যের ওষুধ দেয়া শুরু হয়েছে। তবে রয়েছে ওষুধের সংকট।

দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার রানাপিংয়ের আফিয়া খাতুন। মাসছয়েক আগে এক প্রতিবেশীর কাছে জানতে পারেন, বিনা মূল্যে রোগের ওষুধ মিলছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এরপর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে নাম নিবন্ধন করিয়ে টাকা ছাড়াই ওষুধ পান আফিয়া।

তিনি বলেন, ‘প্রথম দুই মাস স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ওষুধ পেয়েছি। এরপর বলা হলো বাড়ির পাশের কায়স্থরাইল কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে ওষুধ নিতে। সেখান থেকে দুই মাস ফ্রি ওষুধ আনি।’

নিবন্ধনের পর প্রথম কয়েক মাস বিনা মূল্যে ওষুধ পেলেও এখন তা পাচ্ছেন না বলে জানান আফিয়া। তার ভাষ্য, হাসপাতালে গেলেই বলা হয় ওষুধ নেই।

ভিন্ন অভিজ্ঞতা জেলার বিশ্বনাথের রামপাশার দিনমজুর কয়েস আহমদের। তার ভাষ্য, ‘আমি উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে ভুগছি। এসব ওষুধ প্রতিদিন খেতে হয়, কিন্তু নিজের টাকায় উচ্চমূল্যের এসব ওষুধ কেনা সম্ভব নয়। ফলে আগে ওষুধ খেতে পারতাম না। ‘এ কারণে শারীরিক সমস্যা লেগেই থাকত, তবে গত চার মাস ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বিনা মূল্যে প্রেশার ও ডায়াবেটিসের ওষুধ দেয়া হচ্ছে। এতে অনেক উপকার পাচ্ছি।’

উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় ‘উচ্চ রক্তচাপ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং ফলোআপ’ কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৮ সালের অক্টোবরে। এতে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা রিজলভ টু সেইভ লাইভস (আরটিএসএল)।

সিলেট, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের ৫৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ (এনসিডি) কর্নারে মেলে এ সেবা। এর পাশাপাশি প্রাথমিকভাবে সিলেট জেলার চারটি উপজেলার আটটি কমিউনিটি ক্লিনিকে উচ্চ রক্তচাপের বিনা মূল্যের ওষুধ দেয়া শুরু হয়েছে।

গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুদর্শন সেন বলেন, ‘আমাদের এখানে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিকস ও হৃদরোগের ফ্রি ওষুধের জন্য প্রায় ১০ হাজার রোগী নিবন্ধন করেছেন। প্রতিদিনই পাঁচ-ছয়জন করে রোগী বাড়ছে।

‘নিবন্ধন করা রোগীদের আমরা নিয়মিত খোঁজখবর নিই। কোনো রোগী এক মাস পর আর ওষুধ নিতে না এলে আমরা নিজেরাই যোগাযোগ করে তাকে আবার আসতে বলি।’

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের সংকট রয়েছে জানিয়ে এ চিকিৎসক বলেন, ‘আগে আমরা প্রত্যেক রোগীকে এক মাসের ওষুধ একবারে দিতাম। এখন তা পারছি না। কম করে দিই, ওষুধ নেই। সবাইকে সব দেয়া সম্ভবও হচ্ছে না।’

এর কারণ হিসেবে টার্গেটের চেয়ে বেশি রোগীর কথা জানিয়ে ডা. সুদর্শন বলেন, ‘এতে ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। এখন ওষুধের সরবরাহও নেই। ফলে সব রোগীকে এখন ওষুধ দেয়া যাচ্ছে না।’

মাস দুয়েক ধরে এমন সংকট চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী বছর থেকে আশা করছি সংকট দূর হয়ে যাবে।’

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় ৭ হাজার ৩০০ রোগী নিবন্ধন করেছেন জানিয়ে এ উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা এই প্রকল্পে প্রচুর সাড়া পাচ্ছি। রোগী বেশি হওয়ায় কিছু ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। এনজিলক ও কোলেস্টেরলের একটি ওষুধ প্রায় দেড় মাস ধরে নেই। এ কারণে রোগীদের এসব ওষুধ দিতে পারছি না।’

প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ জন রোগী ফেঞ্চুগঞ্জে এই সেবা নিচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকেও অনেকে এই সেবা নিতে আসেন। ফলে আগেই ওষুধ শেষ হয়ে যায়। বছরে একবার আমাদের ওষুধ দেয়া হয়। সংকটে পড়লে আবার দেয়া হয়, তবে এ ক্ষেত্রে কিছুটা সময় লাগে।’

কীভাবে চিকিৎসা নেওয়া যায়
এ সেবা নিতে নাম নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানান ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুজ্জামান। তিনি জানান, যে কেউ ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে এসে এনসিডি কর্নারে নাম নিবন্ধন করাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে রোগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এলে প্রথমে ডাক্তাররা দেখবেন। এরপর প্রেসার, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগ থাকলে রোগীর নাম নিবন্ধন করা হয়।

ডা. কামরুজ্জামান জানান, এনসিডি কর্নার থেকে রোগীকে একসঙ্গে এক মাসের ওষুধ দেয়া হয়। এক মাস পরে এসে আবার ওষুধ নিতে পারেন তিনি।

রোগী কমিউনিটি ক্লিনিক থেকেও ওষুধ নিতে পারেন, তবে প্রথমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে নাম নিবন্ধন করাতে হয়। পরে কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে ওষুধ সংগ্রহ করা যায়।

৩১ ধরনের ওষুধ ফ্রি দেয়া হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন কিছু ওষুধ না থাকার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ওষুধ এলে সবাই আবার নিতে পারবেন।’

সিলেটের চারটি উপজেলা বিশ্বনাথ, ফেঞ্চুগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাইলট প্রকল্পের আওতায় ২০১৯ সাল থেকে এ সেবা চালু আছে বলে জানান সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে যাদের বাড়ি দূরে তাদের অনেকে ওষুধ নিতে নিয়মিত আসতে পারেন না। তাই এখন প্রতি উপজেলার দুটি করে কমিউনিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই সেবা চালু করা হয়েছে। এখন কমিউনিটি হাসপাতাল থেকেই ওষুধ নিতে পারছেন নিবন্ধন করা রোগীরা।

তিনি বলেন, ‘আগামী বছর থেকে সিলেটের সব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সব কমিউনিটি ক্লিনিকে এই সেবা শুরু করার লক্ষ্য আমাদের।’

ওষুধ সংকট সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ওষুধ ঢাকা থেকে পুরো এক বছরের জন্য কিনে পাঠানো হয়, কিন্তু যে পরিমাণ ওষুধ দেয়া হয় তার থেকে বেশি রোগী হয়ে গেছে। ফলে এক-দুই মাসের একটা গ্যাপ হয়ে যায়। এরপর সংকট দেখা দিলে আবার ওষুধ আসতে দেরি হয়ে যায়।

‘এখন আমরা চাচ্ছি ওষুধের যে সংকট তৈরি হবে, সেগুলো যাতে সিলেট থেকেই কেনা যায়, এই ব্যবস্থা করতে। আশা করছি, আগামী বছর থেকে তা সম্ভব হবে।’

সিলেট জেলায় এখন পর্যন্ত ৪৫ হাজার ৪০৪ জন নিবন্ধিত রোগী এই সেবা নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

দরকার বাজেট বাড়ানো
উচ্চ রক্তচাপ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশব্যাপী এ বিষয়ে গণসচেতনতা তৈরি এবং সব কমিউনিটি ক্লিনিকে রক্তচাপ পরীক্ষা ও উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে এ খাতে সরকারের বাজেট বাড়ানো দরকার বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

তারা বলছেন, এ কর্মসূচি দেশব্যাপী সম্প্রসারণের মাধ্যমে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকির প্রধান কারণ উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিউনিটি বেইজড হেলথ কেয়ারের (সিবিএইচসি) লাইন ডিরেক্টর ডা. মাসুদ রেজা কবির বলেন, ‘ইতোমধ্যে কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যায়ে উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসাসেবা শুরু হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে দেশের সব কমিউনিটি ক্লিনিকে এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রাইমারি হেলথ কেয়ার অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড থানা হেলথ কমপ্লেক্সের পরিচালক ডা. তাহমিনা সুলতানা জানান, সীমিত পর্যায়ে কিছু কিছু কমিউনিটি ক্লিনিকে উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে, যা পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া হবে। প্রকল্পটি সম্প্রসারণ করা হলে অল্প ব্যয়ে অনেক জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে।

উচ্চ রক্তচাপ কী
রক্তচাপ যদি স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে অনেক বেড়ে যায়, তাহলেই তা উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন। একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষের রক্তচাপ থাকে ১২০/৮০ মিলিমিটার পারদচাপ। রক্তচাপের মাত্রা দুটি ভিন্ন দিনে ১৪০/৯০ মিলিমিটার পারদচাপ বা তার বেশি হলে বুঝতে হবে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে, তবে বয়সভেদে রক্তচাপ কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে।

গবেষণা কী বলছে
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে ১২৮ কোটি মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে, যার দুই-তৃতীয়াংশ বাস করে বাংলাদেশসহ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে।

২০১৮ সালে করা বাংলাদেশ এনসিডি স্টেপস সার্ভের তথ্য বলছে, দেশে প্রাপ্তবয়স্ক প্রতি পাঁচজনের একজন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে জনগোষ্ঠীর ২১ শতাংশই উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। এদের মধ্যে ওষুধ খেয়ে রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছেন প্রতি সাতজনে একজনেরও কম।

২০১৯ সালে করা গ্লোবাল বারডেন অফ ডিজিজ স্টাডির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের প্রধান তিনটি কারণের একটি উচ্চ রক্তচাপ। এখানে বছরে ২ লাখ ৭৭ হাজার মানুষ হৃদরোগজনিত সমস্যায় মারা যান, যার অন্যতম কারণ উচ্চ রক্তচাপ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ অসংক্রামক রোগে মারা যায়, যার অর্ধেক হৃদরোগজনিত।

আরও পড়ুন:
দেশে ৫ জনের ১ জন উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত
‘জনসংখ্যার ২১ শতাংশ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে’
ওষুধ বন্ধ করে ঝুঁকিতে উচ্চ রক্তচাপের রোগী
লবণ কম খেলে ‘অর্ধেকে নামবে’ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গাজর খান

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
25 children died in Mymensingh Medical in two days

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে দুই দিনে ২৫ শিশুর মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে দুই দিনে ২৫ শিশুর মৃত্যু ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বাড়ছে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা। ছবি: নিউজবাংলা
ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. ওয়ায়েজ উদ্দিন ফরাজি বলেন, হাসপাতালের শিশু ও নবজাতক ওয়ার্ডে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ১১ নবজাতক এবং পরের ২৪ ঘণ্টায় ১৪ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। সব শিশুই শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিল।

শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দুইদিনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত শিশু ওয়ার্ডে মারা যাওয়া শিশুগুলোর বয়স ১ থেকে ২৮ দিন।

হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. ওয়ায়েজ উদ্দিন ফরাজি নিউজবাংলাকে বলেন, হাসপাতালের শিশু ও নবজাতক ওয়ার্ডে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ১১ নবজাতক এবং পরের ২৪ ঘণ্টায় ১৪ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। সব শিশুই শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিল।

তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন হাসপাতালের ওয়ার্ডে শীতজনিত শ্বাসকষ্ট এবং নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে ওয়ার্ডটিতে ৬২৩ নবজাতক ও শিশু ভর্তি আছে। বেশিরভাগই শীতজনিত সমস্যায় ভুগছে। নবজাতক ও শিশুর সুচিকিৎসায় চিকিৎসক-নার্স এবং অন্য কর্মচারীরা তৎপর রয়েছেন।

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, এ সময়টাতে প্রতিবছরই শিশু ও নবজাতকরা শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়। প্রতিদিনই ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আমরাও যথাসম্ভব সেবা দিচ্ছি।

শীতকালে বাড়িতে শিশুদের বাড়তি যত্ন নেয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
নিউমোনিয়া: শিশু ও বয়স্কদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি
বায়ুদূষণে বাড়ছে নিউমোনিয়ার ঝুঁকি
নিউমোনিয়া: এক সপ্তাহে রোগী সহস্রাধিক শিশু
বাগেরহাটে এক মাসে হাসপাতালে ১০ হাজার শিশু
শীতের বিদায়বেলায় শিশুদের নিউমোনিয়ার প্রকোপ

মন্তব্য

p
উপরে