× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

স্বাস্থ্য
Blood donation is still in big shortfall Postmortem eye donation is fragile
hear-news
player
google_news print-icon

রক্তদানে এখনও বড় ঘাটতি, মরণোত্তর চক্ষুদান নাজুক

রক্তদানে-এখনও-বড়-ঘাটতি-মরণোত্তর-চক্ষুদান-নাজুক
দেশে রক্তদান ও চক্ষুদানে ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
দেশে বছরে প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়। বিপরীতে সংগৃহ হয় ৬ থেকে সাড়ে ৬ লাখ ব্যাগ। অন্যদিকে নাজুক পর্যায়ে রয়েছে মরণোত্তর চক্ষুদান। দেশে বর্তমানে অন্ধত্বের শিকার ব্যক্তির সংখ্যা ৫ লাখ। বিপরীতে প্রতি বছর জোগান মাত্র ২০ থেকে ৩০টি কর্নিয়া।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের একজন শিক্ষার্থীর বাবার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনে ১৯৭৭ সালের ২ নভেম্বর স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অধ্যাপক ডা. আবদুল কাদেরের সহযোগিতা এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সন্ধানীর উদ্যোগে সে কর্মসূচিতে রক্তদান করেন মেডিক্যাল কলেজের ২৭ শিক্ষার্থী।

সন্ধানীর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ইদ্রিস আলী মঞ্জু সর্বপ্রথম রক্তদান করেন। আর নারীদের মধ্যে প্রথম রক্ত দেন মেডিক্যালের তৃতীয় বর্ষের হোসনে আরা লাকী। স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির শুরু সেই থেকে; দেশজুড়ে এখন যার বিস্তৃতি।

দিনটি স্মরণে প্রতি বছরের ২ নভেম্বর জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্ত ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস পালন করা হচ্ছে। ১৯৯৬ সাল থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে দিনটি উদযাপন করা হচ্ছে।

স্বেচ্ছায় রক্তদান জোরদার হওয়ার পরও সংকট

দেশে বছরে প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন। বিপরীতে সংগৃহীত হয় ৬ থেকে সাড়ে ৬ লাখ ব্যাগ। বর্তমানে সন্ধানী, বাঁধনের মতো বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রক্ত সংগ্রহ কার্যক্রম চালালেও বছরে প্রায় তিন লাখ ব্যাগ রক্তের ঘাটতি থাকে।

সংগৃহীত রক্তের ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ আসে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের কাছ থেকে। একজন রক্তদাতা রক্ত দেয়ার মাত্র দুই-এক দিনের মধ্যেই ঘাটতি পূরণ হয়ে যায়। একবার রক্ত দিলে শরীর থেকে যে আয়রনের ঘাটতি হয়, সেটিও পূরণ হয়ে যায় কয়েক দিনের মধ্যে।

সন্ধানী কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতি হাসিবুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতিদিনই আমাদের রক্তদান কর্মসূচি চলছে। আমরা পাঁচটি পরীক্ষা—সিফিলিস, হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, ম্যালেরিয়া এবং এইচআইভি টেস্ট করে সব ঠিক থাকলে সেই রক্ত সংগ্রহ করি। এই টেস্ট ছাড়া কারও রক্ত নেয়া হয় না।’

তিনি জানান, সারা দেশে সন্ধানীর ৩৪টি ইউনিট রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রতিটি ইউনিটে ২০ থেকে ৩০ জন রক্তদান করেন।

হাসিবুল হক বলেন, ‘আমরা যে রক্ত সংগ্রহ করি, চাহিদা তার চেয়ে অনেক বেশি। প্রতিটি হাসপাতালে প্রতিদিন সার্জারি হচ্ছে। প্রায় সব সার্জারিতেই রক্ত লাগে। আবার প্রায় সব থ্যালাসেমিয়া রোগীকে প্রতি মাসে রক্ত দিতে হয়। তারা সন্ধানীর দিকে তাকিয়ে থাকে।

‘বিশেষ করে যে গ্রুপগুলো অর্থাৎ নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত কম পাওয়া যায়। রক্তদানে মানুষের আগ্রহ রয়েছে, তবে চাহিদা অনুযায়ী রক্ত পাওয়ার সংখ্যা অনেক কম।’

বাঁধনের সভাপতি মো. নাহিদুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ২৫ বছর ধরে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছি। এ পর্যন্ত ১০ লাখ মানুষের স্বেচ্ছায় দেয়া রক্ত সংগ্রহ করেছি এবং ২১ লাখ মানুষকে বিনা মূল্যে রক্তের গ্রুপ জানিয়ে দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘দেশের ৫৩টি জেলায় সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমাদের ১৪২টি ইউনিট আছে। প্রতিটি ইউনিটে গড়ে প্রায় ২০০ জন স্বেচ্ছায় রক্ত দিচ্ছেন, তবে আমরা এখনও পুরোপুরি চাহিদা পূরণ করতে পারিনি।

‘নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত যাদের, তাদের একটি ডেটা আছে আমাদের কাছে। তা ছাড়া আমরা একটি অ্যাপ চালু করতে যাচ্ছি, যেখানে সব গ্রুপের তথ্য পাওয়া যাবে।’

অন্ধত্বের শিকার ৫ লাখ, বছরে কর্নিয়া মেলে ৩০টি

স্বেচ্ছায় রক্তদানে দেশ অনেকটা এগিয়ে গেলেও মরণোত্তর চক্ষুদান পরিস্থিতি নাজুক পর্যায়ে। মরণোত্তর চক্ষুদানকে উৎসাহ দিতে ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠা হয় সন্ধানী চক্ষুদান সমিতি ও সন্ধানী জাতীয় চক্ষু ব্যাংক।

সংগঠনের সাবেক মহাসচিব ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রথম মরণোত্তর চক্ষুদান কর্মসূচি শুরু করে সন্ধানী। ১৯৮৪ সালের ২৫ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার একজন ডাক্তার হার্সন সিলভা বাংলাদেশে আসেন।

‘তিনি মরণোত্তর চক্ষুদানের বিষয়ে আন্দোলন করেছিলেন। ডা. হার্সনই প্রথম রংপুরের টুনটুনি নামের একটি মেয়ের চোখে কর্নিয়া সংযোজন করেন।’

শুরুর দিকের প্রায় দেড় দশক বেওয়ারিশ মরদেহ থেকেই মূলত কর্নিয়া সংগ্রহ করা হতো জানিয়ে তিনি বলেন, এখন সেই পরিস্থিতি বদলে গেছে। ফলে তৈরি হয়েছে তীব্র সংকট।

ডা. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘মৃত্যুর ৪ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে কর্নিয়া সংগ্রহ করতে হয়। শুরুর দিকে বেওয়ারিশ লাশের দাবিদার পাওয়া যেত না। কারণ তখন প্রযুক্তি উন্নত ছিল না। এখন বেওয়ারিশ লাশ পাওয়ার সংখ্যা খুব কম।’

১৯৯৯ সালে প্রণীত ‘মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন’-এ বেওয়ারিশ মৃতদেহ ঘোষণার সময়সীমা বাড়িয়ে ২৪ ঘণ্টা করায় এ ধরনের মৃতদেহ থেকে কর্নিয়া সংগ্রহ আর সম্ভব হচ্ছে না বলেও তিনি জানান।

এই আইনের ৪ (গ) ধারায় বলা হয়, কোনো ব্যক্তির ব্রেন ডেথ ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনো দাবিদার না থাকলে ব্রেন ডেথ ঘোষণাকারী হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব পালনকারী ব্যক্তি ধারা ৫ এর বিধান সাপেক্ষে দেহ হতে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অন্য কোনো ব্যক্তির দেহে সংযোজনের উদ্দেশ্যে বিযুক্ত করতে পারবেন।

এ ধরনের অবস্থায় মরণোত্তর চক্ষুদান কার্যক্রমের ওপর জোর দিয়ে ডা. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমাদের মূল যে বিষয়ে নজর দিতে হবে সেটি হলো মরণোত্তর চক্ষুদান করা ব্যক্তির মৃতদেহ থেকে কর্নিয়া সংগ্রহ। এই বিষয়ে আইনে অনুমতি রয়েছে। মৃত ব্যক্তির পরিবারের সহযোগিতায় এটির প্রচলন বাড়ানো সম্ভব।’

দেশে বর্তমানে অন্ধত্বের শিকার ব্যক্তি ৫ লাখ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর নতুন করে ৩০ হাজার এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে। অথচ প্রতি বছর আমরা মাত্র ২০ থেকে ৩০টি কর্নিয়া পাচ্ছি। তাও এর মধ্যে অনেক বিদেশ থেকে আনা হয়।

‘চাহিদার তুলনায় এটি একেবারেই অপ্রতুল। এভাবে চলতে থাকলে দেশে অন্ধত্ব দূর করতে ১০ হাজার বছর লেগে যাবে।’

সন্ধানী ১৯৮৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজারের মতো কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করেছে বলেও জানান তিনি।

চক্ষুদানের পাশাপাশি মরণোত্তর দেহদানের ওপরও জোর দেন ডা. জয়নাল আবেদীন। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে উৎসাহিত করা গেলে একটি মানুষের শরীরের বিভিন্ন অরগান নিয়ে আটজন মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।’

চোখে কর্নিয়া সংযোজন পরিস্থিতি জানতে চাইলে ধানমন্ডির বাংলাদেশ আই হসপিটালের সহযোগী অধ্যাপক আমিরুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশের মধ্যে আমাদের হাসপাতালেই সবচেয়ে বেশি কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করা হয়। যেমন: আজই পাঁচটি করা হবে, তবে এগুলোর সবই আমেরিকা থেকে আনা।’

একটি কর্নিয়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনতে প্রায় এক হাজার ডলার বা প্রায় এক লাখ টাকা লাগে বলে জানান ডা. আমিরুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের খরচসহ প্রায় দেড় লাখ টাকায় পুরো সংযোজন প্রক্রিয়া শেষ করা যায়।’

দেশে মরণোত্তর চক্ষুদান সেভাবে কার্যকর না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেকেই চক্ষুদানের জন্য ফরম পূরণ করে যান, কিন্তু তাদের মৃত্যুর পর কেউ যোগাযোগ করে না। এখানে পরিবারের একটি আবেগ কাজ করে। আবার অনেক সময় সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর্নিয়া সংগ্রহ করাও সম্ভব হয় না।

‘এ ক্ষেত্রে একমাত্র উপায় হচ্ছে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো। যেসব সংস্থা কাজ করছে তাদের প্রচারণা বাড়ানো। মনে রাখতে হবে, একটি মৃতদেহ থেকে আরেকটি প্রাণ বাঁচতে পারে। এটাও কিন্তু একটা আবেগের জায়গা। এটা মানুষকে বোঝাতে হবে।’

আরও পড়ুন:
সংকটে ব্যাহত নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন
স্বেচ্ছায় রক্তদাতা সংগঠন ‘কণিকার’ নতুন কমিটি
মুজিববর্ষে ১ লাখ ১৩ হাজার ব্যাগ রক্তদান
স্বেচ্ছায় রক্ত দিলেন র‌্যাবের ৩২ সদস্য

মন্তব্য

আরও পড়ুন

স্বাস্থ্য
Pre birthday celebration of Jesus Christ in Jabi

জবিতে যিশুখ্রিষ্টের প্রাক-জন্মদিন উদযাপন

জবিতে যিশুখ্রিষ্টের প্রাক-জন্মদিন উদযাপন
জবি উপাচার্য বলেন, ‘বাঙালির ঐতিহ্যের সঙ্গে ধর্মীয় সংস্কৃতি মিশে আছে। কোনো ধর্মই মাদক নিতে বলে না, মিথ্যা বলা শেখায় না, কারোর কোনো ক্ষতি করতে বলে না। প্রত্যেকে প্রত্যেক ধর্মের বাণীগুলো মেনে চললে কেউই পথভ্রষ্ট হবে না।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) অধ্যয়নরত খ্রিষ্টান শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে যিশুখ্রিষ্টের জন্মদিন উপলক্ষে প্রাক-বড়দিন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সম্মেলনকক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেলে এই আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। আলোচনা সভা শেষে কাটা হয় কেক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জগেশ রায়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক।

উপাচার্য বলেন, ‘বাঙালির ঐতিহ্যের সঙ্গে ধর্মীয় সংস্কৃতি মিশে আছে। কোনো ধর্মই মাদক নিতে বলে না, মিথ্যা বলা শেখায় না, কারোর কোনো ক্ষতি করতে বলে না। প্রত্যেকে প্রত্যেক ধর্মের বাণীগুলো মেনে চললে কেউই পথভ্রষ্ট হবে না।

‘বর্তমানে ধর্মের নামে হানাহানি চলে। বড় বড় রাষ্ট্রে এখন দেখা যায় ধর্মীয় ছোট ছোট বিষয় নিয়ে বিশ্বকে অস্থিতিশীল করে তোলা হয়। আমাদের প্রত্যেকের সব ধর্মকে শ্রদ্ধা করা উচিত।’

নতুন ক্যাম্পাসের মাস্টারপ্ল্যান হয়ে গেছে জানিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘সেখানে মসজিদ, মন্দির, গির্জা সবই হবে। সব শিক্ষার্থী তাদের নিজ ধর্ম পালন করে সহাবস্থান তৈরি করবে সেখানে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. লুৎফর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল, সহকারী প্রক্টর ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ডেঙ্গুতে জবি ছাত্রদল নেতার মৃত্যু
‘গোল্ড মেডেল’ পেলেন জবির চার শিক্ষার্থী
‘ডিন্‌স অ্যাওয়ার্ড’ পাবেন জবি শিক্ষার্থীরা
পাঠশালা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ প্রবর্তন

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
The spirit of liberation war must be spread to build a prosperous country DU Vice Chancellor

সমৃদ্ধ দেশ গড়তে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে হবে: ঢাবি উপাচার্য

সমৃদ্ধ দেশ গড়তে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে হবে: ঢাবি উপাচার্য মহান বিজয় দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিজয় শোভাযাত্রা বের হয়। ছবি: নিউজবাংলা
‘মহান বিজয়ের মাস গৌরবের মাস। উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধের চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে সর্বদা জাগ্রত রাখতে হবে।’

উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থীসহ সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার মহান বিজয় দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে বিজয় শোভাযাত্রা শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এই আহ্বান জানান।

উপাচার্য বলেন, ‘মহান বিজয়ের মাস গৌরবের মাস। উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধের চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। এই চেতনা তাদের মধ্যে সর্বদা জাগ্রত রাখতে হবে।’

বক্তব্যের শুরুতে উপাচার্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী শহীদ, মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত মা-বোনসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু-কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।’

অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বেলুন উড়িয়ে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন উপাচার্য। সেটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংগীত ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন।

শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য, রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রাধ্যক্ষ, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান, প্রক্টর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির প্রতিনিধি ও শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

আরও পড়ুন:
সমাবর্তনে ভুল: বিদেশিদের কাছে সম্মানহানির শঙ্কায় ঢাবি উপাচার্য
ঢাবিতে ঢুকলে জাবি অধ্যাপককে জীবন বিপন্নের হুমকি
৫২ ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীরা মুক্ত করল ভাসানীর অবরুদ্ধ ভিসিকে
গবেষণার কল্যাণে দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ : শিল্পমন্ত্রী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশনা মেলা ২২-২৩ অক্টোবর

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Calcutta Book Fair starts on January 30

কলকাতা বইমেলা শুরু ৩০ জানুয়ারি

কলকাতা বইমেলা শুরু ৩০ জানুয়ারি পাঁচতারকা হোটেলে বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের পক্ষে সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় এবং সভাপতি সুধাংশু শেখর দে বইমেলার সূচি ঘোষণা করেন। ছবি: নিউজবাংলা
গিল্ডের পক্ষে সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘২০২২ সালে সল্টলেকের করুণাময়ীর সেন্ট্রাল পার্কে অনুষ্ঠিত কলকাতা বইমেলায় প্রায় ২২ লাখ বইপ্রেমী অংশ নিয়েছিলেন। মেলার বিভিন্ন স্টল থেকে প্রায় ২৩ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। এবার আরও বেশি সাড়া পাব বলে আশা করছি।’ 

২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ৪৬তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা। মেলা চলবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এবার কলকাতা বইমেলার থিম ‘কান্ট্রি স্পেন’। প্রতিবছরের মতো মেলা উদ্বোধন করবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কলকাতার একটি পাঁচতারকা হোটেলে বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের পক্ষে সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় এবং সভাপতি সুধাংশু শেখর দে বইমেলার সূচি ঘোষণা করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভারতে নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত যোসে মারিয়া রিদাও দোমিনিগেজ।

স্পেন ছাড়াও ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া, বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশ এবারের বইমেলায় তাদের বইয়ের সম্ভার নিয়ে উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছে গিল্ড কর্তৃপক্ষ।

২০০৬ সালেও স্পেনকে কলকাতা বইমেলার থিম কান্ট্রি হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছিল। ফের বইমেলার থিম কান্ট্রি হিসেবে মনোনীত হওয়ায় উচ্ছ্বসিত স্পেনের রাষ্ট্রদূত যোসে মারিয়া রিদাও দোমিনিগেজ।

তিনি বলেন, ‘বইমেলায় স্পেনের এই অংশগ্রহণের ফলে দুই দেশের সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও দৃঢ় হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

‘থিম কান্ট্রি হিসেবে কলকাতা বইমেলায় স্পেনের যে প্যাভিলিয়ন হবে, তা সম্পূর্ণ ভারতীয় উপকরণ তৈরি হবে।’

কলকাতা বইমেলার অন্যতম আকর্ষণ লিটারেচার ফেস্টিভ্যাল চলবে ৯ থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

গিল্ডের পক্ষে সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘২০২২ সালে সল্টলেকের করুণাময়ীর সেন্ট্রাল পার্কে অনুষ্ঠিত কলকাতা বইমেলায় প্রায় ২২ লাখ বইপ্রেমী অংশ নিয়েছিলেন। মেলার বিভিন্ন স্টল থেকে প্রায় ২৩ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। এবার আরও বেশি সাড়া পাব বলে আশা করছি।’

আরও পড়ুন:
হেমন্তে কলকাতায় শীতের আমেজ
কলকাতায় শুরু চতুর্থ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব
‘হাওয়া’ দেখতে দীর্ঘ লাইন কলকাতায়  
কলকাতায় আমরণ অনশনে চাকরিপ্রার্থীরা
ডেঙ্গু বাড়ছে কলকাতাতেও

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Maradona would have been very happy with this win Messi

এ জয়ে ম্যারাডোনা অনেক খুশি হতেন: মেসি

এ জয়ে ম্যারাডোনা অনেক খুশি হতেন: মেসি কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গে আর্জেন্টিনার মহাতারকা ফুটবলার লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত
মেসি বলেন, ‘আমি এই রেকর্ডের বিষয়টি সম্প্রতি জানতে পেরেছি। এই ধরনের সফলতার রেকর্ড অর্জন করতে পারায় আমি আনন্দিত। আজ বেঁচে থাকলে ম্যারাডোনা অনেক বেশি আনন্দিত হতেন। কারণ তিনি আমাকে অনেক স্নেহ করতেন। আমার ভালো ও মঙ্গলে তিনি অত্যন্ত খুশি হতেন।’

পোল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে সফল নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নিয়ে আসতে পারায় লিওনেল মেসির ওপর অত্যন্ত খুশি হতেন দিয়েগো ম্যারাডোনা।

কাতার বিশ্বকাপে বুধবার রাতে গ্রুপপর্বে পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাঁচা-মরার এই ম্যাচে ২-০ গোলে জয়ের পর প্রতিক্রিয়ায় এমনটি জানিয়েছেন দেশটির মহাতারকা ফুটবলার লিওনেল মেসি।

বিশ্বকাপে ২২তম ম্যাচ খেলার মধ্য দিয়ে মেসি তার দেশের কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনাকে টপকে যান। দুই বছর আগে এই কিংবদন্তি ফুটবলারের মৃত্যু হয়।

মেসি বলেন, ‘আমি এই রেকর্ডের বিষয়টি সম্প্রতি জানতে পেরেছি। এই ধরনের সফলতার রেকর্ড অর্জন করতে পারায় আমি আনন্দিত। আজ বেঁচে থাকলে ম্যারাডোনা অনেক বেশি আনন্দিত হতেন। কারণ তিনি আমাকে অনেক স্নেহ করতেন। আমার ভালো ও মঙ্গলে তিনি অত্যন্ত খুশি হতেন।’

পেনাল্টি মিসের পর এই ম্যাচ জয়ে অনেক বেশি স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এই আর্জেন্টাইন ক্যাপ্টেন। এটি তার ক্যারিয়ারে ৩৯তম পেনাল্টি মিসের ঘটনা ছিল।

মেসি বলেন, ‘গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে ২-০ গোলের বেদনাদায়ক পরাজয়ের পর এই ম্যাচে জয়ের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের প্রধান লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছি। আমরা গ্রুপপর্ব টপকে নকআউটে এসেছি।’

বুধবার দলের শেষ গ্রুপ ম্যাচে পেনাল্টি মিস করেন লিওনেল মেসি। তার পেনাল্টি ঠেকিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি পোল্যান্ডের গোলকিপার ভইচেক শেজনি ও তার দলের।

পোল্যান্ডকে গুড়িয়ে দিয়ে ২-০ গোলে ম্যাচ জিতে সি-গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে পৌঁছে যায় আর্জেন্টিনা। শেষ ষোলোতে তারা খেলবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।

সৌদি আরবের বিপক্ষে অনাকাঙ্খিত হার দিয়ে শুরু করা আর্জেন্টিনা নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচে খেলেছে বিশ্বসেরা দলের মতোই।

কঠিন সমীকরণে আটকে থেকে বিশ্বকাপে টিকে থাকার ম্যাচে বুধবার রাতে পোল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামে আর্জেন্টিনা।

গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে জয় বাগিয়ে নিতে ব্যর্থ হলে শেষ ষোলোতে খেলা অনিশ্চিত হয়ে যেত দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।

আরও পড়ুন:
পেনাল্টি মিসকেই শাপে বর মনে করছেন মেসি
মেক্সিকোর বিপক্ষে সৌদির গোলে নকআউটে পোল্যান্ড
মেসির পেনাল্টি মিসের পরও হেসেখেলে নকআউটে আর্জেন্টিনা

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
This years cup will be picked up by Messi

‘আশা করছি এবারের কাপটা মেসির হাতেই উঠবে’

‘আশা করছি এবারের কাপটা মেসির হাতেই উঠবে’ আর্জেন্টিনার দুটি গোলে উল্লাসে মেতে ওঠেন শেরপুরের সমর্থকরা। ছবি: নিউজবাংলা
আর্জেন্টিনার সমর্থক শেরপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও ক্রীড়া সংগঠক মো. মেরাজ উদ্দিন বলেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে প্রথম ম্যাচ হারার পর অনেকেই মনে করেছিল আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয়েছে। এমন অনেক খেলোয়াড় আছেন, যাদের একজনকে আটকালে অন্যরা জ্বলে ওঠেন। আমরা আশা করছি, এবারের কাপটা মেসির হাতেই উঠবে।’

কাতার বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হারের পর মেক্সিকোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনা বড় জয় পেলেও স্বস্তিতে ছিল না সমর্থকরা। কঠিন সমীকরণে আটকে যাওয়ার পর পোল্যান্ডের বিপক্ষেও জ্বলে ওঠেন দলের খেলোয়াড়রা।

মেসির পেনাল্টি মিসের পর সমর্থকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়লেও পরবর্তী সময়ে দুটি গোলে উল্লাসে মেতে ওঠেন শেরপুরের সমর্থকরা। আর্জেন্টিনার পতাকা নিয়ে স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয় শেরপুরের বিভিন্ন এলাকা। এ ছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় বড় পর্দায় দেখানো হয় খেলা।

ভক্তরা আশা করছেন এবারের বিশ্বকাপটা মেসির হাতেই উঠবে। সামনে আরও ভালো খেলবে প্রিয় দল আর্জেন্টিনা- এ আশায় বুক বাঁধছেন মেসি ভক্তরা।

আর্জেন্টিনার সমর্থক শেরপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও ক্রীড়া সংগঠক মো. মেরাজ উদ্দিন বলেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে প্রথম ম্যাচ হারার পর অনেকেই মনে করেছিল আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয়েছে। কিন্তু আর্জেন্টিনার দলে মেসি, দিবালা, ডি মারিয়া, আলবারেস, মার্টিনেস, ডিপলসহ এমন সব খেলোয়াড় আছেন, যাদের একজনকে আটকালে অন্যরা জ্বলে ওঠেন। আমরা আশা করছি, এবারের কাপটা মেসির হাতেই উঠবে।’

অপর সমর্থক হাসানুর রহমান আলাল বলেন, ‘আমরা এবার আর্জেন্টিনা কাপ পাব- এটাই আশা করছি।’

সমর্থক শাহিন বলেন, ‘সৌদির কাছে হঠাৎ হেরে গিয়ে আর্জেন্টিনা আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। কাজেই বিশ্বকাপ এবার মেসির হাতেই উঠবে।’

আরও পড়ুন:
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের মাটিতে নামাল তিউনিসিয়া
‘হ্যান্ড অফ গডের’ পর এবারে ‘হেয়ার অফ গড’
মেসিকে থামানোর উপায় জানেন না পোল্যান্ডের কোচ
স্বাগতিক হিসেবে সবচেয়ে বাজে রেকর্ড কাতারের
সৌদির কপাল খুলতে দরকার কঠিন হিসাব-নিকাশ

মন্তব্য

পেনাল্টি মিসকেই শাপে বর মনে করছেন মেসি

পেনাল্টি মিসকেই শাপে বর মনে করছেন মেসি আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসি। ছবি: এএফপি
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মেসি বলেন, ‘পেনাল্টি মিসের পর নিজের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম, কিন্তু আমার ভুলের পর দল আরও শক্তিশালী হয়ে উঠে। আমরা জানতাম প্রথমে একটা গোল হয়ে গেলে খেলা বদলে যাবে।’

সৌদি আরবের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ হারের পর আর্জেন্টিনার শেষ ষোলোতে ওঠা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন অনেকে। সে শঙ্কা কিছুটা কাটে মেক্সিকোর বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে, কিন্তু এরপরও পোল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচের আগে নানা সমীকরণ নিয়ে মাঠে নামতে হয়েছিল মেসিদের। সেসব সমীকরণকে অতীত করে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে লিওলেন স্কালোনির দল।

হাই ভোল্টেজ ম্যাচ শেষে তৃপ্তির হাসি নিয়ে সাজঘরে ফিরলেও শুরুটা সাদামাটা ছিল টিম আর্জেন্টিনার। প্রথমার্ধে বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও জাল খুঁজে পাচ্ছিল না শটগুলো।

মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়ায় মেসির পেনাল্টি কিক মিস, তবে সে মুহূর্তটাকেই শাপে বর মনে করছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। তার মতে, পেনাল্টিতে গোল না পাওয়ায় মরিয়া হয়ে ওঠে দল।

প্রথমার্ধে কোনো গোল না করে বিরতিতে যাওয়া আর্জেন্টিনা দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ডেডলক ভাঙে। ম্যাচের ৪৬তম মিনিটে আলেক্সিস ম্যাকঅ্যালিস্টারের গোলে এগিয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা। পরে ৬৭তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হুলিয়ান আলভারেস।

এ দুজনের গোলে মেসির স্বপ্নজয়ের সম্ভাবনা বাড়িয়ে সুপার সিক্সটিনে পৌঁছে যায় আর্জেন্টিনা।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক বলেন, ‘পেনাল্টি মিসের পর নিজের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম, কিন্তু আমার ভুলের পর দল আরও শক্তিশালী হয়ে উঠে। আমরা জানতাম প্রথমে একটা গোল হয়ে গেলে খেলা বদলে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগের ম্যাচ থেকে আমরা আত্মবিশ্বাস পেয়েছি। তা ছাড়া আগেই আমাদের জানা ছিল এ ম্যাচ আমাদের জিততে হবে।’

আগামী শনিবার বাংলাদেশ সময়ে রাত ১টায় নকআউট পর্বে আস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। একে সামনে রেখে মেসি বলেন, এবারের বিশ্বকাপে যেকোনো দল যে কাউকেই হারাতে পারে।

সবাইকে সমানভাবেই দেখছেন সাতবারের ব্যালন ডরজয়ী এ তারকা। তার ভাষ্য, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটা খুব কঠিন হতে চলেছে। যে কেউ অন্যকে হারাতে পারে; সবই সমান, তবে আমরা সবসময়ের মতোই প্রস্তুতি নিয়ে তাদের মুখোমুখি হব।

‘আমাদের শান্ত থাকতে হবে। তা ছাড়া ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলা উচিত। এখন আরেকটি বিশ্বকাপ শুরু হলো। আজ আমরা যা করেছি, আশা করছি তা ধরে রাখতে পারব।’

আরও পড়ুন:
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের মাটিতে নামাল তিউনিসিয়া
‘হ্যান্ড অফ গডের’ পর এবারে ‘হেয়ার অফ গড’
মেসিকে থামানোর উপায় জানেন না পোল্যান্ডের কোচ
স্বাগতিক হিসেবে সবচেয়ে বাজে রেকর্ড কাতারের
সৌদির কপাল খুলতে দরকার কঠিন হিসাব-নিকাশ

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Relief at Messis awakening in DU

মেসিদের জাগরণে স্বস্তি ঢাবিতে

মেসিদের জাগরণে স্বস্তি ঢাবিতে মাঠে উদযাপনে টিম আর্জেন্টিনা। ছবি: এএফপি
আমজাদ হোসেন হৃদয় নামের এক ছাত্র বলেন, ‘আজকের খেলায় মেসির কাছে আমাদের প্রত্যাশা ছিল। নিজে গোল দেয়া এবং ফার্নান্দেসকে দিয়ে করানো গোলটা দেখে কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছি। মার্টিনেজের সেভটাও দেখার মতো ছিল।’

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের সঙ্গে হেরে খাদের কিনারায় চলে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেখান থেকে উঠে আসতে বিকল্প ছিল না জয়ের।

কাতারের লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে অধরা সেই জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছিলেন মেসি, ফার্নান্দেসরা, কিন্তু বাংলাদেশ সময় শনিবার মধ্যরাতের ম্যাচের প্রথমার্ধ পর্যন্ত বুক চিনচিন করছিল দর্শকদের। তীর্থের কাকের মতো গোলের অপেক্ষায় ছিলেন তারা।

সে অপেক্ষার অবসান হয় দ্বিতীয়ার্ধে। দলপতি লিওনেল মেসির নীরবতা ভাঙানো গোলে প্রাণ ফেরে দর্শকদের। এরপর এনজো ফার্নান্দেসের দ্বিতীয় গোলে আসে স্বস্তি, যা বহাল ছিল রেফারির শেষ বাঁশি পর্যন্ত।

মেক্সিকোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার গুরুত্বপূর্ণ এ জয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শকদের মতো প্রাণ ফেরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি, মুহসীন হলের মাঠে বড় পর্দায় খেলা দেখা দর্শকদের। গভীর রাতে তাদের মুখ থেকে বের হয় চাপা অভিমান আর আনন্দের কথা।

বাঁশি বাজিয়ে, মোটরসাইকেলে শোডাউন করে, আর্জেন্টিনার পতাকা গায়ে প্যাঁচিয়ে, নেচে-গেয়ে মেসিদের জয় উদযাপন হয় ঢাবি ক্যাম্পাসে। অনেকে স্লোগান দিতে দিতে ফেরেন হল আর বাসায়।

মেসিদের জাগরণে স্বস্তি ঢাবিতে

এমন মুহূর্তে কথা হয় কিছু আর্জেন্টিনাপ্রেমীর সঙ্গে। তাদের একজন ঢাবি ছাত্র নাসিমুল হুদা বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা আরেকটু বেশি ছিল। তারপরও জয় পেয়েছি দেখে ভালো লাগছে।

‘প্রথমার্ধের খেলায় আমরা মোটেও সন্তুষ্ট হতে পারিনি। যখন খেলা দেখছিলাম, তখন প্রচণ্ড রাগ উঠছিল। কারণ আর্জেন্টিনা এত বাজে খেলবে, সেটা মানতে পারছিলাম না। তাদের আরও ভালো খেলা উচিত ছিল।’

আরেক ছাত্র সিদ্দিক ফারুক বলেন, ‘প্রথমার্ধে মন খারাপ থাকলেও মেক্সিকোর এত ডিফেন্সের ভেতর মেসির গোল এবং ফার্নান্দেসকে দিয়ে করানো গোলটা অসাধারণ ছিল, তবে আমাদের খেলায় আরও অনেক উন্নতি করা দরকার। এই খেলা দিয়ে আমরা ফাইনালের স্বপ্ন দেখার সাহস করতে পারি না।’

আমজাদ হোসেন হৃদয় নামের এক ছাত্র বলেন, ‘আজকের খেলায় মেসির কাছে আমাদের প্রত্যাশা ছিল। নিজে গোল দেয়া এবং ফার্নান্দেসকে দিয়ে করানো গোলটা দেখে কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছি। মার্টিনেজের সেভটাও দেখার মতো ছিল।

‘আশা করছি পোল্যান্ডের ম্যাচে আমরা জিতব। আমি অনেক বেশি করে চাইছি, কাতার বিশ্বকাপটা আর্জেন্টিনার হোক।’

এসইএস শাহিনের কাছে মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল ফাইনাল। এতে জয়ের পর তার ভাষ্য, ‘আর্জেন্টিনার সামনে দুইটা ফাইনাল ছিল। একটাতে আজ জিতেছে; আরেকটা আগামী বৃহস্পতিবার।

‘সেটাতেও জিতবে বলে আশা আছে, তবে দলের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, কেউই ফর্মে নাই। তারপরও আমি আশা ছাড়তে চাই না।’

আর্জেন্টিনার বহুল প্রতীক্ষিত এ জয়ের উচ্ছ্বাসের ঢেউ দেখা গেছে ছাত্রীদের হলে। হল গেটের ভেতর থেকে ‘মেসি মেসি’ স্লোগান দিতে দেখা যায় ছাত্রীদের।

প্রিয় দলের খেলা বড় পর্দায় দেখবে বলে অনেক ছাত্রী নির্ধারিত সময় রাত ১০টার মধ্যে হলে ঢোকেননি। খেলা শেষে তারা বাইরে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করে, আড্ডা দিয়ে রাত কাটিয়েছেন।

এমনই একজন তাসনুভা জাহান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাত ১০টায় হল বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা নেই। সবার সঙ্গে বড় পর্দায় খেলা দেখার মজাটাই অন্যরকম। আর সেটা যদি হয় প্রিয় দলের, তাহলে আনন্দটা দ্বিগুণ হয়।

‘তাই আজকে খেলা শেষে বান্ধবীদের সঙ্গে ক্যাম্পাসেই গল্প, আড্ডা করতে করতে রাত কাটাতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে মেসি জিতেছে; অনেক খুশি। এবার অন্তত বিশ্বকাপটা মেসির হোক।’

আরও পড়ুন:
চাপ সামলে জয় অস্ট্রেলিয়ার
আর্জেন্টিনার সামনে যেসব সমীকরণ
সৌদি ফুটবলারদের রোলস রয়েস পাওয়ার খবরটি ভুয়া
মুহিন-ঝিলিকের ‘ছুটছে মেসি ছুটছে নেইমার’
সেই মাঠে আবার নামছে আর্জেন্টিনা

মন্তব্য

p
উপরে