× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

স্বাস্থ্য
Aedes mosquito came from abroad Local government minister
google_news print-icon

এডিস মশা বিদেশি: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

এডিস-মশা-বিদেশি-স্থানীয়-সরকারমন্ত্রী
ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা। ছবি: সিডিসি
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এখানে তো এডিস মশা ছিল না, ডেঙ্গু রোগ ছিল না। এটা তো বাইর থেকে আসছে। ফ্লাইটে করে প্যাসেঞ্জার আসছিল অথবা দুটি মশা আসছে। দুটি মশা এখানে এসে কোনো না কোনো বাহিত (ডেঙ্গু) ছিল, সে আরও মশা প্রজনন করেছে।’

ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা বিদেশ থেকে এসেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

সচিবালয়ে রোববার সারা দেশে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সিটি করপোরেশন ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থার কার্যক্রম পর্যালোচনা-সংক্রান্ত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় তিনি এমন দাবি করেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এখানে তো এডিস মশা ছিল না, ডেঙ্গু রোগ ছিল না। এটা তো বাইর থেকে আসছে। ফ্লাইটে করে প্যাসেঞ্জার আসছিল অথবা দুটি মশা আসছে। দুটি মশা এখানে এসে কোনো না কোনো বাহিত (ডেঙ্গু) ছিল, সে আরও মশা প্রজনন করেছে।

‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে বলেই তো অবস্থাটা অন্য দেশের তুলনায় এ রকম ভালো। তাদের দেশেও তো ছিল না। এটা ইউরোপে ছিল। ফ্রান্সে দেখা গেছে যে, এক দিনে সাত থেকে আট হাজার লোক মারা গেছে৷ এ রকম তথ্য আছে আমাদের কাছে।’

করোনার পর এ বছর স্বাস্থ্য খাতে উদ্বেগ তৈরি করেছে ডেঙ্গু জ্বর। শনিবার পর্যন্ত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৩৪ জন।

এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩৬ হাজার ১৩১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।

ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে রোগী ভর্তি হয়েছেন ২৪ হাজার ৮৫৩ জন। ঢাকার বাইরে সারা দেশে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ২৭৮ জন।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৯ সালের আগে আমাদের দেশে ডেঙ্গু রোগের তীব্রতা পরিলক্ষিত হয়নি, যে কারণে এ বিষয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা খুব বেশি ছিল না। সে অভিজ্ঞতা আমরা সংগ্রহ করেছি এবং কী কী খাতে আমাদের কী কী ইন্টারভেনশন দরকার বা কী কী আউটপুট দরকার, সে বিষয়ে কাজ করতে গিয়ে ২০২০ সালে আমরা মোটামুটি সফলতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছিলাম।

‘২০২১ সালে ২০ হাজারের মতো আক্রান্ত হয়, কিছু মৃত্যু হয়। সেটা আমাদের জন্য স্বস্তিদায়ক ছিল। এখন ২০২২ সাল। এই ২০২২ সালে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগের তীব্রতা আমাদের সমসাময়িক দেশগুলোতে মারাত্মকভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। বাংলাদেশও তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।’

তিনি বলেন, ‘সাধারণত সেপ্টেম্বরের পর থেকে এর নিম্নগামী আমরা লক্ষ্য করেছি। প্রতিটি দেশে ক্লাইমেট চেঞ্জের কারণে এই রোগের একটা সম্পৃক্ততা আমরা লক্ষ্য করেছি, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এ বছর অক্টোবর মাস শেষ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এখনও এটা নিম্নগামী অবস্থা না আমাদের কাছে।

‘বাংলাদেশের অবস্থার থেকে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর অনেকের অবস্থা অনেক ভয়াবহ। ভারতে গতকাল পর্যন্ত প্রায় দুই লাখের মতো আক্রান্ত। বিশেষ করে কলকাতায় অসংখ্য এবং মৃত্যুর হার সেখানে বেশি।’

বিভিন্ন দেশের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘১ অক্টোবর পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে ২৮ হাজার ১৯৬ জন আক্রান্ত। আমার মনে হয় এই সংখ্যাটা এখন অনেক বেড়েছে। মালয়েশিয়াতে ৩৭ হাজার ৯৫০ জন। ইন্দোনেশিয়াতে ৯৪ হাজার ৩৫৫ জন। ফিলিপাইনে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬৫০ জন। বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত (২৬ অক্টোবর) ৩৩ হাজার ৯২৩ জন।

‘এটা আমাদের কাছে স্বস্তিদায়ক না। অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে যেমন সিঙ্গাপুরে মানুষের সংখ্যা ৫০ লাখের মতো। সেই প্রেক্ষিতে এবং মালয়শিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইনের থেকে আমাদের দেশে জনসংখ্যার পরিমাণ বেশি। তা সত্ত্বেও এবং আমাদের জনসংখ্যার ঘনত্ব ভাইরাস ছড়ানোর জন্য বড় কারণ। এটা তো মশাবাহিত ভাইরাস। সে কারণে যদি ওই ফিগার দেখি তাহলে আমাদেরকে সফল বলতে হবে, কিন্তু আমি এটাকে সফল বলব না।

‘আমাদের টার্গেট ছিল ২০২০ সালে যে দুই হাজার হয়েছিল, তার থেকে আরও নিচে নামিয়ে আনার। এখানে আমাদের মেয়র সাহেবরা কাজ করেনি অথবা আমরা অনুপস্থিত ছিলাম মনিটরিং করতে বিষয়টি তেমন না।’

তিনি বলেন, ‘মশা নিধনের জন্য যেসব উপকরণ লাগবে, মশা মারার জন্য যে ওষুধ লাগবে, তা বছরের শুরুতে সংগ্রহ করা হয়। তারপর যে মেশিন লাগবে উনারা (মেয়ররা) সংগ্রহ করেন। তারপর লোকবল লাগবে ৩ হাজার করে। উনাদের লোকবল দেয়া হয়েছে এবং এ জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। দুই কোটি, পাঁচ কোটি করে আমি অর্থ বরাদ্দ দিয়েছি।

‘মশার ওষুধ আমদানির ক্ষেত্রে এক ধরনের মনোপলি (একচেটিয়াত্ব) ছিল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা মনোপলি ভেঙেছি। আমাদের যে সমস্ত প্রক্রিয়া হাতে আছে, সেগুলো আমরা করেছি। কিছুদিন আগে অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ ইউনিভার্সিটি এডিস মশার ওপর একটা স্টাডি করে অবিষ্কার করেছে, একজাতীয় মশা যখন এডিস মশার সঙ্গে ক্রস হবে, তখন এডিস মশার জীবাণু বহন করতে পারবে না। আমরা তাদেরকে ওয়েলকাম করেছি।’

আরও পড়ুন:
ডেঙ্গুর মৃত্যুতে কি রেকর্ড হতে যাচ্ছে?
ডেঙ্গুতে আরও ৫ মৃত্যু, হাসপাতালে ৯০৩
এক দিনে সর্বোচ্চ ডেঙ্গু রোগী
বরিশাল বিভাগে আরও ৮২ ডেঙ্গু রোগী
হাসপাতালে রেকর্ড ৯২২ ডেঙ্গু রোগী

মন্তব্য

আরও পড়ুন

স্বাস্থ্য
5 officials of Transcom Group got bail
প্রয়াত চেয়ারম্যানের মেয়ের ৩ মামলা

জামিন পেলেন ট্রান্সকম গ্রুপের ৫ কর্মকর্তা

জামিন পেলেন ট্রান্সকম গ্রুপের ৫ কর্মকর্তা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট, ঢাকা। ফাইল ছবি
ট্রান্সকম গ্রুপের প্রয়াত চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের ছোট মেয়ে শাযরেহ হক অর্থ আত্মসাৎ, সম্পত্তি দখল ও কোম্পানির শেয়ার অবৈধভাবে হস্তান্তরের অভিযোগে এসব মামলা করেন।

ট্রান্সকম গ্রুপের প্রয়াত চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের ছোট মেয়ে শাযরেহ হকের দায়ের করা পৃথক তিন মামলায় জামিন পেয়েছেন গ্রুপটির ৫ কর্মকর্তা। অর্থ আত্মসাৎ, সম্পত্তি দখল ও কোম্পানির শেয়ার অবৈধভাবে হস্তান্তরের অভিযোগে এসব মামলা করা হয়।

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, সিমিন ও তার সহযোগীরা জাল দলিল ব্যবহার করে বাদীর বাবার প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ অবৈধভাবে আত্মসাতের চেষ্টা করেছেন।

এসব মামলায় বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাসা ও কার্যালয় থেকে ওই কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

শুক্রবার বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম শান্তা আক্তারের আদালত তিন হাজার টাকা মুচলেকায় তাদের জামিন দেন।

জামিনপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন- ট্রান্সকম গ্রুপের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ল-এর নির্বাহী পরিচালক মো. ফখরুজ্জামান ভূঁইয়া, করপোরেট ফাইন্যান্স-এর পরিচালক কামরুল হাসান ও আবদুল্লাহ আল মামুন, সহকারী কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ মোসাদ্দেক এবং ব্যবস্থাপক (কোম্পানি সচিব) আবু ইউসুফ মো. সিদ্দিক।

মামলার তদন্ত সংস্থা পিবিআই গ্রেপ্তার পাঁচজনকে আদালতে হাজির করে আবদুল্লাহ আল মামুনের পাঁচ দিন এবং বাকি চারজনের প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে।

আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত প্রত্যেককে জামিন দেন।

শাযরেহ হক ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও তার বড় বোন সিমিন রহমান, গ্রুপটির বর্তমান চেয়ারম্যান ও তার মা শাহনাজ রহমান এবং সিমিন রহমানের ছেলে ও ট্রান্সকম-এর ট্রান্সফরমেশন প্রধান জারিফ আয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি মূল্যের সম্পত্তি এবং কোম্পানির শেয়ার নিয়ে বিরোধের জেরে মামলা করেন।

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, সিমিন ও তার সহযোগীরা জাল দলিল ব্যবহার করে তার বাবা লতিফুর রহমানের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ অবৈধভাবে আত্মসাতের চেষ্টা করেছেন।

বাদী তার মা ও বোনের বিরুদ্ধে অসমভাবে এফডিআর বণ্টনের অভিযোগ করেছেন। বাকিদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতে সহায়তা করার অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার নথিতে আরও বলা হয়েছে, বাদীকে জানানো হয়েছিল তার বাবা তাকে চার হাজার ২৭০টি শেয়ার, তার ভাই আরশাদ ওয়ালিউর রহমানকে চার হাজার ২৭০টি শেয়ার এবং তার বড় বোন সিমিনককে ১৪ হাজার ১৬০টি শেয়ার হস্তান্তর করেছেন।

কিন্তু বাদী কখনোই হস্তান্তর দলিলে স্বাক্ষর করেননি বলে দাবি করেছেন। তার বাবাও জীবিত অবস্থায় কখনও হস্তান্তর দলিলে স্বাক্ষর করেননি বলে দাবি তার।

বাদী শাযরেহ হক আরও অভিযোগ করেন, আসামিরা এসব নথি জাল করেছেন।

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
DNCC is demolishing a 10 story building to save Lautla and Ramchandrapur canals

লাউতলা ও রামচন্দ্রপুর খাল উদ্ধারে ডিএনসিসি, ভাঙা হচ্ছে ১০ তলা ভবনও

লাউতলা ও রামচন্দ্রপুর খাল উদ্ধারে ডিএনসিসি, ভাঙা হচ্ছে ১০ তলা ভবনও ডিএনসিসি শুক্রবার মোহাম্মদপুরে খালের জমি দখল করে গড়ে তোলা ১০ তলাবিশিষ্ট ভবনের বড় অংশই ভেঙে দেয়। ছবি: ফোকাস বাংলা
মোহাম্মদপুরের লাউতলা ও রামচন্দ্রপুর খালের আবর্জনা পরিষ্কার করার কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের ১৫ শতাধিক কর্মী। আর খালের জায়গা দখল করে গড়ে তোলা স্থাপনা ভাঙার কাজে ব্যবহার করা হয় ছয়টি বিশেষ বুলডোজার, এক্সকাভেটরসহ বিভিন্ন গাড়ি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) থেকে ঘোষণটা আগেই দেয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী মোহাম্মদপুরের লাউতলা ও রামচন্দ্রপুর খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভেঙে ফেলা হচ্ছে খালের বড় অংশ দখল করে গড়ে তোলা ১০ তলাবিশিষ্ট পাকা ভবনও।

ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলামের উপস্থিতিতে শুক্রবার শুরু হওয়া এই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও খাল পরিষ্কার করার কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের ১৫ শতাধিক কর্মী। এ সময় মেয়র নিজেও সক্রিয়ভাবে খাল পরিষ্কার করার কাজে অংশ নেন।

লাউতলা ও রামচন্দ্রপুর খাল উদ্ধারে ডিএনসিসি, ভাঙা হচ্ছে ১০ তলা ভবনও
ডিএনসিসি মেয়রের নেতৃত্বে শুক্রবার খাল উদ্ধারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

শুক্রবার সকালে শুরু হওয়া এই অভিযানে ব্যবহার করা হয় ছয়টি বিশেষ বুলডোজার, এক্সকাভেটরসহ বিভিন্ন গাড়ি।

খাল দুটি পরিষ্কার করার সঙ্গে সঙোহ শুরু হয় খালের অংশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনা ভাঙার কাজ। এ সময় একটি ১০ তলা ভবনের অবৈধভাবে নির্মাণ করা অর্ধেকের বেশি অংশও ভেঙে ফেলা হয়।

এর আগে পরিচ্ছন্নতা কর্মী, স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে মেয়র নিজেও খালে গ্লাভস হাতে খাল পরিষ্কারে অভিযানে নামার আগে বসিলার পুলিশ লাইন মাঠে বিডি ক্লিনের ১৫ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবীকে শপথ পাঠ করান মেয়র আতিকুল ইসলাম।

এ সময় তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের খালের জায়গায় কোনো অবৈধ স্থাপনা থাকতে পারবে না। অবৈধভাবে খালের জমি দখলকারীরা যত ক্ষমতাধরই হোক না কেন ছাড় নেই। খালের জায়গায় গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনাগুলো আমরা উচ্ছেদ করবই।’

খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলে যারা খালের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করেন তাদেরও সমালোচনা করেন মেয়র আতিক। তিনি বলেন, ‘যারা খালে ময়লা ফেলে তাদের মস্তিষ্কে ময়লা আছে। তাদের মনে ময়লা আছে বলেই এভাবে খালে ময়লা ফেলতে পারে।’

মেয়র আরও বলেন, ‘ময়লা ও দখলমুক্ত করে রাজধানীর খালগুলো আগের রূপে ফেরানো হবে। পরিবেশকে আমরা ধ্বংস করে ফেলেছি। পরিবেশ এখন প্রতিশোধ নিচ্ছে। একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, রাস্তাঘাট ডুবে যায়। কারণ খাল দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে পারে না। ময়লা ফেলে খালগুলোকে ধ্বংস করে ফেলেছে। খাল পুনরুদ্ধারে আমরা এলাকাবাসীর সহযোগিতা চাই।’

আরও পড়ুন:
রাজধানীর ‘খাল’ আধুনিকায়নে ডিএনসিসির সঙ্গে কাজ করবে নৌবাহিনী
ঢাকার লেকে মাছের বদলে মশার চাষ হচ্ছে
‘ব্যাঙের ছাতার মতো’ পুলিশ বক্স নিয়ে অসন্তোষ মেয়র আতিক
ট্রেড লাইসেন্সে অন্যান্য ফি নেয়া বন্ধে ডিএনসিসিকে নোটিশ
কৃষি মার্কেটে আগুনে ২১৭ দোকান ক্ষতিগ্রস্ত: ডিএনসিসি

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Government change must happen Nazrul

সরকার পরিবর্তন অবশ্যই হবে: নজরুল

সরকার পরিবর্তন অবশ্যই হবে: নজরুল বিএনপি নেতা ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত করেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। ছবি: নিউজবাংলা
নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে যেন অত্যাচার-নিপীড়ন থেকে মুক্তি পায়। সরকার যেন সহায়তা করে, পুলিশ যেন জনগণের সেবা করে সে রকম একটা সমাজ আমরা প্রতিষ্ঠা করব।’

গণতন্ত্র ফেরানোর আন্দোলনে ‘সরকার পরিবর্তন অবশ্যই হবে’ বলে প্রত্যাশা করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

রাজধানীর গোপীবাগে কারাবন্দি অবস্থায় মৃত্যু হওয়া ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের এ প্রত্যাশার কথা জানান তিনি।

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা পরিবর্তন চাই এবং বিশ্বাস করি এ পরিবর্তন অবশ্যই হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা অনেক আন্দোলনে বিজয়ী হয়েছি, স্বৈরাচারী এরশাদ পতনের আন্দোলনে আমরা বিজয়ী হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য চেষ্টা করছি। এ বিএনপি বাকশালের (একদলীয় শাসন ব্যবস্থা) গোরস্তানের ওপর বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে, এ বিএনপি সামরিক স্বৈরশাসনের অবসানে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। কাজেই এ বিএনপি ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে আবারও বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবে।’

সরকার পরিবর্তনের একদফার যুগপৎ আন্দোলন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা যুগপৎ আন্দোলন করছি, সেই যুগপৎ আন্দোলন এখনও চলছে। তারা আমাদেরকে অভিযুক্ত করে যে, আমরা আন্দোলনে আর পারতেছি না… কয় বছর হয়েছে?

‘বিএনপি ক্ষমতার বাইরে ১৭ বছর। যাদের ২১ বছর লাগে ক্ষমতায় আসতে তাদের এই অভিযোগ করার কোনো অধিকার নাই যে, বিএনপি পারে না।’

বিরোধী নেতা-কর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আপনি যেকোনো সময়ে না জানিয়ে কাউকে উঠিয়ে নিয়ে যাবেন, যেখানে সেখানে ফেলে রাখবেন, চিকিৎসা দেবেন না, অসুস্থ মানুষ বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে এটা কোনো রাষ্ট্রের নীতি হতে পারে না।’

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘অত্যাচার-নিপীড়ন যদি এভাবে চলত, তাহলে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হতো না। যদি অত্যাচারিরা চিরদিন অত্যাচার করতে পারত, তাহলে ফেরাউন-নসরুদের পতন হতো না, হিটলার-মুসলিনের পতন হতো না। আমরা তাদের রক্তের বিনিময়, তাদের প্রাণের বিনিময় এ দেশে গণতন্ত্র পুনরায় প্রতিষ্ঠা করব ইনশাআল্লাহ।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে যেন অত্যাচার-নিপীড়ন থেকে মুক্তি পায়। সরকার যেন সহায়তা করে, পুলিশ যেন জনগণের সেবা করে সে রকম একটা সমাজ আমরা প্রতিষ্ঠা করব।’

নজরুল ইসলাম জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে তারা বুলবুলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছেন। বিএনপি তার পরিবারের পাশে থাকবে বলেও জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।

গত ২১ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার হওয়া বুলবুল কাশিমপুর ২৪ নভেম্বর কাশিমপুরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে সোহরাওয়ার্দি হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে নেয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান।

আরও পড়ুন:
সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি ছাড়লেন সাভারের এক নেতা
দখলদারত্বে নতুন নজির গড়েছে আ. লীগ সরকার: বিএনপি
ফখরুল-খসরু জামিনে মুক্তি পেতে পারেন বিকেলে
খালেদার ১১ মামলার শুনানি ২২ এপ্রিল
জামিন আবেদন নাকচ, চাঁদের ঠিকানা শেরপুর কারাগার

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
The death of the worker fell from the seventh floor of the building under construction

নির্মাণাধীন ভবনের সাত তলা থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

নির্মাণাধীন ভবনের সাত তলা থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ফটক। ছবি: নিউজবাংলা
নান্নুকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া তার সহকর্মী রাজু মিয়া জানান, নান্নু রাজমিস্ত্রির সহকারী ছিলেন। আজ সকালের দিকে নির্মাণাধীন ভবনের সাত তলায় শাটারিংয়ের কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে যান তিনি। পরে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নেয়া হলে আগেই তার মৃত্যু হয় বলে জানান চিকিৎসক।

রাজধানীর মাতুয়াইলে একটি নির্মাণাধীন ভবনের সাত তলা থেকে পড়ে মো. নান্নু মন্ডল নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

শহরপল্লী এলাকার ভবনটি থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পড়ে যান ৬০ বছর বয়সী নান্নু।

গুরুতর আহত অবস্থায় নির্মাণশ্রমিককে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান।

ওই শ্রমিকের গ্রামের বাড়ি পাবনার সাঁথিয়া থানার সোনাতলা গ্রামে, যিনি নির্মাণাধীন ভবনটিতে থাকতেন।

নান্নুকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া তার সহকর্মী রাজু মিয়া জানান, নান্নু রাজমিস্ত্রির সহকারী ছিলেন। আজ সকালের দিকে নির্মাণাধীন ভবনের সাত তলায় শাটারিংয়ের কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে যান তিনি। পরে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নেয়া হলে আগেই তার মৃত্যু হয় বলে জানান চিকিৎসক।

ঢামেকে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
একুশে ফেব্রুয়ারিতে পতাকা টানাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু
জেএস ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
কারাগার থেকে সাংবাদিক হত্যা মামলার আসামির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীতে খতনা করাতে গিয়ে ফের শিশুর মৃত্যু, ২ চিকিৎসককে রিমান্ডে চায় পুলিশ
ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক ও তার স্ত্রী জামিন পাননি

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Dhakas air is still unhealthy despite the improvement in the list

তালিকায় উন্নতি, তবু অস্বাস্থ্যকর ঢাকার বাতাস

তালিকায় উন্নতি, তবু অস্বাস্থ্যকর ঢাকার বাতাস মানে সামান্য হেরফের হলেও অস্বাস্থ্যকর বাতাসের চক্রে ঘুরপাক খাচ্ছে ঢাকা। ছবি: পনির হোসেন/রয়টার্স
আজ দুপুর ১২টা ৫৬ মিনিটে ঢাকার বাতাসের স্কোর ছিল ১৫৫। এর মানে হলো ওই সময়টাতে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বাতাসের মধ্যে বসবাস করতে হয় রাজধানীবাসীকে।

বাতাসের নিম্ন মানের দিক থেকে আইকিউ এয়ারের তালিকায় নিয়মিত ওপরে থাকা ঢাকা শীর্ষে না থাকলেও রয়েছে প্রথম দশে।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বাতাসের মানবিষয়ক প্রযুক্তি কোম্পানিটির র‌্যাঙ্কিংয়ে শুক্রবার দুপুর ১২টা ৫৬ মিনিটে ১৫৫ স্কোর নিয়ে বায়ুর নিম্ন মানে ১০০টি শহরের মধ্যে সপ্তম অবস্থানে ছিল ঢাকা।

একই সময় এ তালিকায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে ছিল ইরাকের বাগদাদ, কাজাখস্তানের আস্তানা ও পাকিস্তানের করাচি।

আগের দিন বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১১টায় ১৫৫ স্কোর নিয়ে বায়ুর নিম্ন মানে ১০০টি শহরের মধ্যে পঞ্চম অবস্থানে ছিল ঢাকা।

আইকিউ এয়ারের ডেটা অনুযায়ী, সরকারি ছুটির দিন শুক্রবারের ওই সময়ে ঢাকার বাতাসে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অতি ক্ষুদ্র কণা পিএম২.৫-এর উপস্থিতি ছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আদর্শ মাত্রার চেয়ে ১২ দশমিক ৬ গুণ বেশি।

নির্দিষ্ট স্কোরের ভিত্তিতে কোনো শহরের বাতাসের ক্যাটাগরি নির্ধারণের পাশাপাশি সেটি জনস্বাস্থ্যের জন্য ভালো নাকি ক্ষতিকর, তা জানায় আইকিউএয়ার।

কোম্পানিটি শূন্য থেকে ৫০ স্কোরে থাকা শহরগুলোর বাতাসকে ‘ভালো’ ক্যাটাগরিতে রাখে। অর্থাৎ এ ক্যাটাগরিতে থাকা শহরের বাতাস জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়।

৫১ থেকে ১০০ স্কোরে থাকা শহরগুলোর বাতাসকে ‘মধ্যম মানের বা সহনীয়’ হিসেবে বিবেচনা করে কোম্পানিটি।

আইকিউ এয়ারের র‌্যাঙ্কিংয়ে ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরে থাকা শহরগুলোর বাতাসকে ‘সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ ক্যাটাগরিতে ধরা হয়।

১৫১ থেকে ২০০ স্কোরে থাকা শহরের বাতাসকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ ক্যাটাগরির বিবেচনা করা হয়।

র‌্যাঙ্কিংয়ে ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরে থাকা শহরগুলোর বাতাসকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়।

তিন শর বেশি স্কোর পাওয়া শহরের বাতাসকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচনা করে আইকিউএয়ার।

আজ দিনের ওই সময়ে ঢাকার বাতাসের স্কোর ছিল ১৫৫। এর মানে হলো ওই সময়টাতে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বাতাসের মধ্যে বসবাস করতে হয় রাজধানীবাসীকে।

আরও পড়ুন:
ঢাকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর, নিম্ন মানে পঞ্চম
আজও ঢাকার বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’
অস্বাস্থ্যকর বাতাসের চক্রে ঢাকা
ঢাকার বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’, নিম্ন মানে চতুর্থ
ছুটির দিনে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ ঢাকার বাতাস

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Rain attack at book fair

বইমেলায় বৃষ্টির হানা

বইমেলায় বৃষ্টির হানা হঠাৎ বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েন বইমেলার বিক্রেতা ও দর্শনার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
মেলার প্রথম দিন থেকেই লেখকবৃন্দ বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে প্রকাশ হওয়া তাদের বইয়ের মোড়ক উম্মোচন করে চলছেন। বৃহস্পতিবার ২২তম দিন পর্যন্ত মেলায় নতুন বই এসেছে ২ হাজার ৪০৭টি। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছে কবিতা, উপন্যাস আর গল্পের বই।

বসন্তের শুরুতেই রাজধানীতে হয়েছে ঝুম বৃষ্টি। এর প্রভাব পড়েছে বইমেলায়ও। অবশ্য বৃষ্টি বেশিক্ষণ স্থায়ী না হওয়ায় তেমন ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি প্রকাশক এবং পাঠকদের।

অল্প সময়ের বৃষ্টিতে মেলায় বেশ কিছু জায়গায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলেও বইয়ের উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষতি হয়নি।

ঐতিহ্য প্রকাশনীর বিক্রয় প্রতিনিধি কায়সার হোসেন মামুন বলেন, ‘বৃষ্টি হয়েছে একবার, কিন্তু আমাদের বই গুটিয়ে ফেলতে হয়েছে দুইবার। মেঘ এমনভাবে জমেছে যেন মনে হচ্ছে তখনই বৃষ্টি চলে আসবে। এই মেঘ দেখে একবার, আরেকবার বৃষ্টি শুরু হলে বই গুটিয়ে ফেলতে হয়েছে। তবে বইগুলোর কভার ভালো হওয়াতে বৃষ্টির কারণে কোনো বইয়ের ক্ষতি হয়নি।’

বৃষ্টি সময় মেলা ঘুরে বেশ কয়েকটি স্টলের বিক্রয় প্রতিনিধিদের বই গুটিয়ে ভেতরে বসে থাকতে দেখা যায়। কথা হলে তারা জানান, স্টল যিনি তৈরি করেছেন, তিনি ভালো করে করেননি। বৃষ্টির পর ছাদ চুইয়ে পানি নিচে পড়ছে। তাই বাধ্য হয়েই বই গুটিয়ে তাদের বসে থাকতে হচ্ছে।

মেলার ২২তম দিনে নতুন বই ৭৮টি

বৃহস্পতিবার মেলা শুরু হয় বিকেল তিনটায় এবং চলে রাত নয়টা পর্যন্ত। এদিন নতুন বই এসেছে ৭৮টি।

বিকেল চারটায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্মরণ: আসাদ চৌধুরী’ এবং ‘স্মরণ: জাহিদুল হক’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান।

এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যথাক্রমে মাহমুদা আকতার এবং কামরুল হাসান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন দিলারা হাফিজ, বায়তুল্লাহ কাদেরী এবং মনি হায়দার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. মুহম্মদ সামাদ।

প্রাবন্ধিকরা বলেন, কবি আসাদ চৌধুরী ষাটের দশকের বাস্তবতায় একজন ঐতিহ্যমগ্ন কবি। তার কবিতায় জাতীয়তা, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধিকার-চেতনা নান্দনিক সৌকর্যে প্রতিভাত হয়েছে। যার ফলে তার কবিতার মাঝে শৈল্পিক বোধের সঙ্গে স্বজাতির প্রতি সুগভীর ভালোবাসা মূর্ত হয়ে উঠেছে।

বইমেলায় বৃষ্টির হানা
বৃষ্টিতে জবুথবু বইমেলার একটি স্টল। ছবি: নিউজবাংলা

আলোচকবৃন্দ বলেন, সদাবিনয়ী, মিষ্টভাষী কবি আসাদ চৌধুরী গণমানুষের কবি। বাহান্নর চেতনাকে বুকে ধারণ করে স্বদেশের প্রেমে উজ্জীবিত হয়ে তিনি দেশ, সমাজ ও সংস্কৃতিকে চিত্রিত করেছেন তার কবিতায়।

সভাপতির বক্তব্যে ড. মুহম্মদ সামাদ বলেন, ‘কবি আসাদ চৌধুরী ও জাহিদুল হক তাদের কবিতার মধ্য দিয়ে মানুষের প্রতি, দেশের প্রতি, ভাষার প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। তাই তাদের কবিতা গণমানুষের ভাষ্য হয়ে উঠেছে।’

এদিন ‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কবি শিহাব সরকার, শিশুসাহিত্যিক তপংকর চক্রবর্তী, গবেষক হোসনে আরা এবং কথাসাহিত্যিক মিলটন রহমান।

মেলায় নতুন কবিতা, গল্প ও উপন্যাসের সংখ্যা বেশি

মেলার প্রথম দিন থেকেই লেখকবৃন্দ বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে প্রকাশ হওয়া তাদের বইয়ের মোড়ক উম্মোচন করে চলছেন। বৃহস্পতিবার ২২তম দিন পর্যন্ত মেলায় নতুন বই এসেছে ২ হাজার ৪০৭টি। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছে কবিতা, উপন্যাস আর গল্পের বই।

বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্র থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মেলার দ্বিতীয় দিন থেকে ২২তম দিন পর্যন্ত কবিতার বই এসেছে ৭০৪টি, উপন্যাসের বই এসেছে ৩৬৪টি এবং গল্পের বই এসেছে ২৯৬টি।

বেশ কিছু প্রবন্ধ, ভ্রমণের বই, অনুবাদগ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া ইতিহাসের, মুক্তিযুদ্ধ, গবেষণাধর্মী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, রাজনীতি, রচনাসমগ্র, শিশুসাহিত্য আর ধর্মের ওপর বই তো আছেই।

কবিতা, উপন্যাস ও গল্পের বই বেশি হওয়ার কারণ সম্পর্কে অন্বেষা প্রকাশনীর প্রকাশক শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘নতুন লেখকরা তাদের লেখালেখি শুরুই করেন মূলত কবিতা, গল্প আর উপন্যাস দিয়ে। এটি এসব বই বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ।

‘তবে আমি এই বছর বুঝেছি, বিষয়ভিত্তিক বইগুলোর ভালো চাহিদা। তাই তরুণ লেখকদের জন্য আমাদের পরামর্শ থাকবে, তারা যেন এসব বই নিয়েও লিখেন।’

বইমেলায় বৃষ্টির হানা
ছবি: ফোকাস বাংলা

উপন্যাসের ওপর উল্লেখযোগ্য বইসমূহ হলো- সাব্বির জাদিদ লিখিত আজাদীর সন্তান, বইটি প্রকাশ করেছে ঐতিহ্য প্রকাশনী। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লিখিত পরিণীতা, দেবদাস এবং পল্লিসমাজ, বই তিনটি পুনরায় প্রকাশ করেছে মিজান পাবলিশার্স। সাদাত হোসাইন লিখিত আগুনডানা মেয়ে, বইটি প্রকাশ করেছ অন্যপ্রকাশ।

প্রবন্ধের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- বাংলা একাডেমি প্রকাশিত মোহাম্মদ নুরুল হুদা লিখিত সংস্কৃতি ও সদাচার, পাঠক সমাবেশ প্রকাশিত স্বকৃত নোমান লিখিত বাংলায় ইসলাম: সহজিয়া ও রক্ষণশীল ধারা, অন্যপ্রকাশ প্রকাশিত আবুল কাসেম লিখিত বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক অর্থনীতি।

কবিতার উল্লেখযোগ্য বইসমূহ হলো- আগামী প্রকাশনী প্রকাশিত শামসুর রাহমানের প্রেমের কবিতা, ইত্যাদি গ্রন্থপ্রকাশ প্রকাশিত তানজীনা ফেরদৌস লিখিত প্রেমের হুলিয়া জারি হোক তোমার নামে, আসাদ চৌধুরী লিখিত ঐতিহ্য থেকে প্রকাশিত একাত্তরের ৭১ কবিতা।

মুক্তিযুদ্ধের ওপর উল্লেখযোগ্য বইগুলো হলো- সুজন বড়ুয়া লিখিত মুক্তিযুদ্ধের কিশোর উপন্যাসসমগ্র, রফিকুর রশীদ লিখিত মুক্তিযুদ্ধের গল্পসমগ্র, আরেফিন বাদল লিখিত এই যুদ্ধ সেই যুদ্ধ: মুক্তিযুদ্ধের গল্প এবং ড. মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম লিখিত মুক্তিযুদ্ধে বৃহত্তর বগুড়া। ড. নুসরাত রাব্বি অনূদিত War Heroines Speak বইটি প্রকাশ করেছে শ্রাবণ প্রকাশনী।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে আজিজুর রহমান আজিজের লিখা অন্তরে বঙ্গবন্ধু বইটিও প্রকাশ করেছে আগামী প্রকাশনী।

ভাষা আন্দোলনের ওপর পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত লেখক-গবেষক বদরুদ্দোজা হারুনের লেখা ‘ভাষাশহিদ আবুল বরকত: নেপথ্যকথা’, প্রয়াত কবি বেলাল চৌধুরীর অমর একুশ বিষয়ক স্মৃতি ও ভাবনার সংকলন ‘একুশের স্মৃতি ও ভাবনা’, প্রথমা থেকে প্রকাশিত ভাষা সৈনিক মর্তুজা বশীরের লেখা ‘একুশের লেখা, একুশের আঁকা’ এবং ঝিঙেফুল থেকে প্রকাশিত গাজী হানিফের ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ বইগুলো উল্লেখযোগ্য।

জীবনীগ্রন্থের মধ্যে শাহ্ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান লিখিত বিজয় প্রকাশ থেকে প্রকাশিত কাজী নজরুলের কারাজীবন, অনুপম প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত আবদুল্লাহ আল-মুতীর স্মৃতিকথা ও সাগরপারের চিঠি, পাঠক সমাবেশ থেকে প্রকাশিত আবদুল মমিন চৌধুরী/সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ শত মনীষীর জীবনী।

বইমেলায় বৃষ্টির হানা
ছবি: ফেকাস বাংলা

ইতিহাসের মধ্যে কথাপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত জাহীদ রেজা নূরের ৬ দফা থেকে স্বাধিকার, জ্যোতি প্রকাশ থেকে প্রকাশিত মো. রফিকুল হক আখন্দের বিশ্বজুড়ে আখন্দ বংশ। আগামী প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত ড. মুকিদ চৌধুরীর জার্মানি: অতীত ও বর্তমান উল্লেখযোগ্য।

রাজনীতি নিয়ে উল্লেখযোগ্য বই পুথিনিলয় প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত আতিউর রহমানের বাংলাদেশ নেতৃত্বের পরম্পরা ও উন্নয়ন। ভ্রমণবিষয়ক উল্লেখযোগ্য বই অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত হাসনাত আবদুল হাইয়ের একদা সোভিয়েত ইউনিয়নে, ঐতিহ্য থেকে প্রকাশিত আশির আহমেদের জাপান কাহিনি (দশম খণ্ড)।

গবেষণাধর্মী বইয়ের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের দৈনিক ঘটনালিপির ওপর লিখা বই ‘একাত্তরের দিনপঞ্জি’, বিরূপাক্ষ পালের ‘বাংলাদেশের অর্থ খাত ও নীতি-অনীতির দ্বন্দ’, আনু মুহাম্মদের ‘অর্থশাস্ত্র’ উল্লেখযোগ্য।

অনুবাদগ্রন্থের মধ্যে ঐতিহ্য থেকে প্রকাশিত মুমিত আল রশিদের মাজার শরিফ-এর আর্তনাদ এবং কিংডম অফ সোলায়মান উল্লেখযোগ্য। এছাড়া, বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত কবি সুফিয়া কামালের স্মৃতিকথার অনুবাদ 1971: A Dairy, রিজিয়া রহমানের উপন্যাসের অনুবাদ An Untold Story এবং সেলিনা হোসেনের উপন্যাসের অনুবাদ The Glorious Afternoon উল্লেখযোগ্য।

শুক্রবারের আয়োজন

শুক্রবার মেলা শুরু হবে সকাল এগারোটায় এবং চলবে রাত নয়টা পর্যন্ত। সকাল এগারোটা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত চলবে শিশুপ্রহর।

সকাল সাড়ে দশটায় বইমেলার মূলমঞ্চে রয়েছে অমর একুশে উদযাপন উপলক্ষে বাংলা একাডেমি আয়োজিত শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান।

এ অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নজরুল ইন্সটিটিউটের নির্বাহী পরিচালক এ এফ এম হায়াতুল্লাহ।

বিকেল চারটায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘স্মরণ: আখতারুজ্জামান ইলিয়াস’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান।

এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মামুন হুসাইন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন ওয়াসি আহমেদ এবং জাফর আহমদ রাশেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক খালিকুজ্জামান ইলিয়াস।

আরও পড়ুন:
একুশের চেতনায় উজ্জীবিত বইমেলায় জনস্রোত

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Want to challenge disinformation with true information Minister of State for Information

সত্য তথ্য দিয়ে অপতথ্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চাই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

সত্য তথ্য দিয়ে অপতথ্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চাই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আরাফাত। ছবি: নিউজবাংলা
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাঝে মাঝে কিছু মানুষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে খারাপ উদ্দেশ্যে সরকারের কাজের সমালোচনা করে। বর্তমান সরকার গঠনমূলক সমালোচনা স্বাগত জানায়। আমরা শুধু অপতথ্য ও ভুল তথ্য প্রতিরোধ করতে চাই।

সত্য তথ্য দিয়ে অপতথ্য ও ভুল তথ্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চান বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আরাফাত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিজ দপ্তর কক্ষে বাংলাদেশ সফররত জার্মানির বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার দেয়ার সময় তিনি এ কথা জানান।

জার্মানির বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক রিচার্ড বাইল, মাইকেল স্ট্যাং, সুসান ক্রুটজম্যান, আলজোসা হার্টম্যান, জুলিয়া থেরাস হেল্ড, নাটালি মেরোথ, বেঞ্জামিন বার্ন্ড থমাস এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

রিপোর্টার্স উইদাইট বর্ডারস (আরএসএফ) প্রকাশিত ২০২৩ সালের প্রতিবেদন ও র‌্যাংকিং এর জবাব সংক্রান্ত জার্মান সাংবাদিকদের প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি আমি আরএসএফ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও র‌্যাংকিং এর ব্যাপারে সমালোচনা নয় বরং প্রকৃত তথ্য তুলে ধরেছি। কারণ ২০২৪ সালেও এটি তাদের ওয়েবসাইটে আছে। আরএসএফ এর প্রতিবেদনে অনেক ভুল তথ্য আছে এবং এর বিপরীতে প্রকৃত সত্য আমি তথ্য-প্রমাণসহ গণমাধ্যমে তুলে ধরেছি এবং এ সংক্রান্ত একটা চিঠি আরএসএফ-কে পাঠিয়েছি। আমাদের উদ্দেশ্য আরএসএফ এর কাছে সত্য তুলে ধরা এবং আমাদের নিয়ে করা র‌্যাংকিং পুনর্মূল্যায়ন করা।

তিনি আরও বলেন, মাঝে মাঝে কিছু মানুষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে খারাপ উদ্দেশ্যে সরকারের কাজের সমালোচনা করে। বর্তমান সরকার গঠনমূলক সমালোচনা স্বাগত জানায়। আমরা শুধু অপতথ্য ও ভুল তথ্য প্রতিরোধ করতে চাই। গণমাধ্যম সঠিক তথ্য-প্রমাণসহ সরকারের সমালোচনা করলে সেটি সরকারকে সহযোগিতা করে। কিন্ত ভুল তথ্য দিয়ে কোনকিছুর সমালোচনা করলে সেটা কাউকে সহযোগিতা করে না।

সাক্ষাৎকার দেয়ার সময় প্রতিমন্ত্রী আরও যোগ করেন, ডিজিটাল দুনিয়া থেকে জনগণকে নিরাপদ রাখার জন্য সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করেছে। এর অপব্যবহার নিয়ে সমালোচনা হওয়ায় সরকার এটি পরিবর্তন করে সাইবার নিরাপত্তা আইন করেছে। এটিই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সৌন্দর্য। তার সরকার সবসময় চাহিদার নিরিখে সবকিছুর সমন্বয় করে, পরিবর্তন করে।

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত এক প্রশ্নে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। বাংলাদেশ ডেল্টাকে রক্ষার জন্য বাংলাদেশ ১০০ বছরের ডেল্টা প্ল্যান প্রণয়ন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য গৃহ নির্মাণ করে দিচ্ছে। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আরও গবেষণা করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সব সময় আন্তর্জাতিক ফোরামে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরে আসছে। জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সহযোগিতা ও বাস্তবসম্মত সমাধানে আসা প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের নিয়ে প্রশ্নে আলী আরাফাত বলেন, রোহাঙ্গিদের প্রতি বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সহানুভূতি দেখিয়েছে। বর্তমানে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকরা বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশের জন্য বড় ধরণের চাপের কারণ। বাংলাদেশ চায় রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশে সম্মানজনকভাবে ফিরে যাক। গোটা বিশ্বের রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের নিয়ে দায়িত্ব রয়েছে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে উন্নত রাষ্ট্রসমূহের ভূমিকা নেয়া উচিত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এ বিষয়ে মিয়ানমারের উপর চাপ অব্যাহত রাখা। তাছাড়া যেসব দেশের সামর্থ্য আছে তারা নিজ নিজ দেশে নিয়ে গিয়ে রোহিঙ্গাদের উন্নত জীবনযাপনে সহযোগিতা দিতে পারে।

মন্তব্য

p
উপরে