× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

স্বাস্থ্য
The image of Rangpur Medical changed after the doctor suffered
hear-news
player
google_news print-icon

ডাক্তার ভোগার পর পাল্টাল রংপুর মেডিক্যালের চিত্র

ডাক্তার-ভোগার-পর-পাল্টাল-রংপুর-মেডিক্যালের-চিত্র
এক চিকিৎসক মাকে ভর্তি করাতে যাওয়ার পর পদে পদে টাকা আর কর্মীদের হুমকি-ধমকি দেয়ার পর অন্য চিকিৎসকরা সোচ্চার হন। তাদের হুঁশিয়ারির মুখে কর্তৃপক্ষ হয় তৎপর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নেয় ব্যবস্থা, বদলি করা হয় ১৭ কর্মচারীকে। চুক্তিভিত্তিক দুই জনকে করা হয় বরখাস্ত। এখন রোগী ভর্তি করতে এলে কাউকে বাড়তি টাকা দিতে হয় না। হাসপাতালের পরিবেশও পরিচ্ছন্ন, ছিমছাম।

২১ সেপ্টেম্বরের ঘটনা। গাইবান্ধা সদর উপজেলার বড় দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা ইশরাত জাহান ইতি কিডনি রোগে আক্রান্ত মাকে ভর্তি করান রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগে। সেদিন জরুরি বিভাগে ভর্তি বাবদ ২০০ টাকা, ট্রলি বাবদ ২৫০ আর বেড পরিষ্কারের জন্য দিতে হয়েছে ৫০ টাকা। কিছুটা সুস্থ হয়ে মাকে নিয়ে বাড়ি ফিরে যান তিনি।

ঠিক ১০ দিন পর ১ অক্টোবর দুপুরে মাকে নিয়ে ফের হাসপাতালে আসেন ইতি। কিন্তু জরুরি বিভাগে এবার ট্রলির জন্য টাকা চায়নি কেউ, ভর্তি বাবদ ২০০ টাকার বদলে লেগেছে ২৫ টাকা। শয্যা পরিষ্কারের জন্যও কেউ টাকা চেয়ে বিরক্ত করেনি।

হাসপাতালে এমন পরিবর্তন দেখে নিজেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না ইতি। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘মার দুই কিডনিতেই পাথর ছিল। এর আগে একটার চিকিৎসা করা হয়েছে। এবার অন্যটির চিকিৎসার জন্য ভর্তি করলাম। কিন্তু কেউ আমার কাছে টাকা চায়নি। ভর্তি বাবদ ২৫ টাকা নিয়েছে, রিসিটও দিয়েছে। আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি প্রশাসন এখন এত শক্ত।’

ইতির কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় বন্ধ হয়েছে এই হাসপাতালেরই এক চিকিৎসক তার মাকে ভর্তি করে এসে ভুক্তভোগী হওয়ার পর। সেই চিকিৎসকের কাছ থেকেও পদে পদে আদায় করা হয়েছে বাড়তি টাকা। পরিস্থিতি এমন ছিল যে, নিজের কর্মস্থল থেকে মাকে তিনি নিয়ে গেছেন এই ভয়ে যে, এখানে থাকলে তার মায়ের চিকিৎসা হবে না।

সেই চিকিৎসক হাসপাতাল পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করলে তোলপাড় হয়ে যায়। এতদিন সব দেখেও না দেখার ভান করা কর্তৃপক্ষ আর বসে থাকেনি। চিকিৎসক ভোগার পর তারা ব্যবস্থা নেয়ায় আমূল পাল্টে গেছে হাসপাতালের চিত্র। এখন দালালের অত্যাচার নেই, রোগী ভর্তির সঙ্গে সঙ্গে ট্রলি ধরার প্রতিযোগিতা নেই, স্বজনের কাছে বকশিশ চাওয়ার অত্যাচার নেই, নির্ধারিত ভর্তি ফির বাইরে কোনো টাকা দিতে হচ্ছে না।

নোংরা পরিবেশের যে সমস্যায় এতকাল মানুষ ভুগেছে, সেটিও আর নেই। হাসপাতালের ওয়ার্ড, মেঝেতে নেই ময়লা-আবর্জনা। পুরো হাসপাতাল এখন ঝকঝকে চকচকে।

ডাক্তার ভোগার পর পাল্টাল রংপুর মেডিক্যালের চিত্র

পরিস্থিতির এই চিত্র দেখে বিশ্বাস হচ্ছে না রোগী ও তার স্বজনদের। এদের একজন কুড়িগ্রামের উলিপুরের চাচিনা বেগম। গত চার দিন থেকে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ছোট ভাইয়ের অসুস্থ স্ত্রীর সঙ্গে আছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এর আগেও হাসপাতালে ছিলাম আমি। কিন্তু এত ভালো ব্যবহার কেউ করেনি। ডাক্তার, নার্স ও আয়া সবাই যেন বাড়ির লোক। কেউ কখনও খারাপ ব্যবহার করেনি। ভর্তির সময় কেউ কোনো টাকা-পয়সা চায় নাই। শুনছি এদিক-সেদিক টাকা নেয়। কিন্তু কেউ চায় নাই।’

পরিবর্তনের নেপথ্যে

গত ১৭ সেপ্টেম্বর মায়ের চিকিৎসা করাতে অর্থোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক এ বি এম রাশেদুল আমীরের মাকে ভর্তি করানো হয়।

হাসপাতালে ভর্তি ফি ২৫ টাকা হলেও ১০ গুণ ২৫০ টাকা চাওয়া হয়। স্বজনরা চিকিৎসকের পরিচয় জানালে তো নেমে আসে ৫০ টাকায়, তবু তা ছিল নির্ধারিত ফির দ্বিগুণ।

ভর্তির পর রোগীকে করোনারি কেয়ার ইউনিট বা সিসিইউতে পাঠানো হলে সেখানেও দিতে হয় ২০০ টাকা। সেখানে স্বজনরা চিকিৎসকের পরিচয় দেয়ার পর তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়।

এর মধ্যে সেই চিকিৎসক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভিডিও করেন। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমার মাকে ভর্তি করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্টেপে টাকার জন্য চাপ দেয়া হয়েছে। ওই কর্মচারী নিজে মাসুদ নামে পরিচয় দেয়। আমি বিষয়টি একসময় ভিডিও করি। সেটি আমার ফেসবুকে পোস্ট করি।’

পরে সেই ভিডিও ফেসবুক থেকে ডিলিট করে দেন চিকিৎসক রাশেদুল আর লিখিত অভিযোগ দেন হাসপাতাল পরিচালকের কাছে।

এসব ঘটনায় যে হাসপাতালে নিজে চাকরি করেন, সেখানে মায়ের চিকিৎসা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে রিলিজ নিয়ে নেন তিনি। রোগী নিয়ে আসার সময় আবার চাওয়া হয়েছে টাকা, এবার আরও বেশি।

নিউজবাংলাকে রাশেদুল বলেন, ‘হয়তো আমার অভিযোগ অনেকে নানাভাবে নিতে পারে। সর্বশেষ গতকাল সোমবার যখন আমার মাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে চলে আসি তখনও ময়লা পরিষ্কার বাবদ আমার কাছে ৩ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে। এটা দুঃখজনক।’

হাসপাতালের এই চিত্র নতুন কোনো কিছু নয়। কিন্তু চিকিৎসকরা ছিলেন নির্বিকার। নিজেদের পেশার একজন ভোগার পর অবশেষে তারা সোচ্চার হন। অব্যবস্থাপনা বন্ধের দাবিতে ২৬ সেপ্টেম্বর আন্দোলনে নামেন ‘সম্মিলিত চিকিৎসক সমাজ’।

এরপর কঠোর হয় মন্ত্রণালয়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর রংপুর মেডিক্যালের ১৬ কর্মচারীকে দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে বদলি করা হয়। এরপর কর্মচারীদের আচরণে আসে পরিবর্তন।

ডাক্তার ভোগার পর পাল্টাল রংপুর মেডিক্যালের চিত্র

এর পাশাপাশি চিকিৎসক রাশেদুল আমীরের স্বজনদের অশোভন আচরণ ও টাকা নেয়ার দায়ে চুক্তিভিত্তিক দুই কর্মচারী মাসুদ ও ঝর্ণাকে চাকরি থেকে বরখাস্তও করা হয়। এতে চুক্তিভিত্তিক অন্য কর্মচারীদের মধ্যেও ভয় ঢুকেছে।

‘চিকিৎসকরা আগে উদ্যোগী হলে আমাদের ভুগতে হতো না’

হাসপাতালের চিত্র পাল্টানোয় খুশি মাকে ভর্তি করতে এসে হয়রানির শিকার হওয়া চিকিৎসক এ বি এম রাশেদুল আমীর। তিনি জোর দিয়েছেন এই পরিবর্তন ধরে রাখার ওপর।

নিউজবাংলাকে রাশেদুল আমীর বলেন, ‘অ্যাজ এ ম্যান অফ রংপুর, আমি সব সময় চাই রংপুরের মানুষ এখান থেকে সবচেয়ে ভালো সেবা পাক। আমরা রংপুরবাসী যদি সবাই এক হই তাহলে এটা ধরে রাখা যাবে। এই যে বদলে গেছে এটাকে ধরে রাখতে হবে।’

স্বস্তিতে স্বজনরা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা চান মিয়া বলেন, ‘আমি এক মাস আগেও এখানে ভর্তি ছিলাম। তখন ট্রলিতে টাকা নিয়েছে, ভর্তিতে নিয়েছে। ওয়ার্ডে টাকা নিয়েছে। কিন্তু আইজ আমার ছোট ভাইকে নিয়ে হাসপাতালে আছি। কেউ টাকা চায় নাই।’

গাইবান্ধার নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কী বলব আপনাদের? দেখেন হাসপাতাল কত পরিষ্কার। কোথাও কোনো কাগজটাগজ নাই। ময়লা নাই, বাদামের খোল্ডা (খোসা) নাই। বিচনে (বেড) রুম সব পরিষ্কার। নিচতলা থেকে ওপরতলা কেউ টাকাটোকা চাইছে না। এমন পরিবেশ থাকলে তো ভালো হয়।’

কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছের বাসিন্দা বেলায়েত হোসেন লিটু সরকার বলেন, ‘আমার ভাই হৃদরোগে আক্রান্ত ছিল। ছিল সিসিইউতে। এখনকার পরিবেশ অনেক ভালো। এবার সেবা অনেক ভালো পাইছি।’

রাশেদুল মনির নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘আগেই এই হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে বহু অভিযোগ ছিল। তখন কোনো চিকিৎসকই এভাবে প্রতিবাদ করে এগিয়ে আসেনি। যদি এভাবে চিকিৎসকরা এগিয়ে আসত, তাহলে এই হাসপাতাল বহু আগেই দালালমুক্ত হতো। মানুষ এত হয়রানি হতো না।’

কর্তৃপক্ষ যা বলছে

রংপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ বিমল চন্দ্র রায় জানান, ‘আমাদের আন্দোলনের কারণে এমনটা হয়েছে কি না, জানি না। আমরা চাই এই হাসপাতালে এসে কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন। যে স্টেপটা নেয়া হয়েছে তাতে যেন হাসপাতালটা ভালো চলে- এই কারণে এই উদ্যোগ। এখন সবাই হেল্প করতেছে- এটা যেন অব্যাহত থাকে। তাহলে মানুষের আস্থার জায়গা থাকবে।'

ডাক্তার ভোগার পর পাল্টাল রংপুর মেডিক্যালের চিত্র

হাসপাতালের পরিচালক শরীফুল হাসান বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে পরিকল্পনা নিচ্ছি। উন্নয়নের চাবিকাঠি হলো পরিকল্পনা। এটা আমার অবদান তা কিন্তু নয়। আমি চেষ্টা করছি মাত্র।’

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি সিস্টেম ডেভেলপ করতে চেয়েছি, সেটি করছি। আমরা দেখছি জরুরি বিভাগে সমস্যা আছে, সেখানে ব্যবস্থা নিয়েছি। নিয়মতান্ত্রিকভাবে এখন সব চলবে।’

তবু অভিযোগ অস্বীকার কর্মচারীদের

হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মো. বাদল জানান, ‘আমরা সরকারি কর্মচারীরা কখনও টাকা নেই নাই। আমাদের কর্তব্য আমরা করতেছি, ট্রলি ঠেলতেছি। এখন দালালটালাল নেই। কাউকে টাকা দেয়া লাগে না।’

আপনারা থাকতে টাকা কীভাবে নিয়েছে জানতে চাইলে বাদল বলেন, ‘ওরা আউটসোর্সিংয়ের কর্মী ছিল। যে যার মতো করে নিত। আমাদের উপস্থিতিতে নিত না।’

নাম প্রকাশ না করে একজন নার্স বলেন, ‘আপনি নিজেই দেখেন সিট কত আর ভর্তি কত। একবার রাউন্ডে গেলে কতজন রোগীর কাছে যেতে কত সময় লাগে। কিন্তু অনেক রোগী চায় ডাকা মাত্রই তাদের কাছে যেতে হবে। কিন্তু যার কাছে আছি বা যে রোগীর কাছে আছি তিনি কী অপরাধ করলেন? মূলত ভুল বোঝার কারণে তারা অভিযোগগুলো করে।’

আরও পড়ুন:
নিজ হাসপাতালে চিকিৎসকের হয়রানিতে ১৬ কর্মচারীকে বদলি
হাসপাতালের অনিয়ম পাল্টায়নি এতটুকু
নিজ হাসপাতালে হয়রানির শিকার হয়ে বিস্মিত চিকিৎসক

মন্তব্য

আরও পড়ুন

স্বাস্থ্য
Secretaries should step down from BATB board Planning Minister

বিএটিবি পরিচালনা পর্ষদ থেকে সচিবদের সরে আসা উচিত: পরিকল্পনামন্ত্রী

বিএটিবি পরিচালনা পর্ষদ থেকে সচিবদের সরে আসা উচিত: পরিকল্পনামন্ত্রী পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে বুধবার সেমিনারে বক্তব্য দেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। ছবি: নিউজবাংলা
এম এ মান্নান বলেন, ‘সরকারপ্রধান দেশকে তামাকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাই আমি মনে করি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের (বিএটিবি) পরিচালনা পর্ষদে যেসব সচিব আছেন তাদের সরে আসা উচিত। এই কোম্পানিতে সরকারের যে বিনিয়োগ আছে সেখান থেকেও বের হয়ে আসা দরকার।’

বহুজাতিক সিগারেট কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের (বিএটিবি) পরিচালনা পর্ষদ থেকে সচিবদের বেরিয়ে আসা উচিত। তামাক নিয়ন্ত্রণ ও সরকারের নীতিতে যাতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না হয় সেজন্যই এমন পদক্ষেপ থাকা উচিত।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি কনফারেন্স রুমে বুধবার এক সেমিনারে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এসব কথা বলেন।

এম এ মান্নান বলেন, ‘সরকারপ্রধান দেশকে তামাকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কমিটমেন্ট মানে আমাদের সবার কমিটমেন্ট। তাই আমি মনে করি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর পরিচালনা পর্ষদে যেসব সচিব আছেন তাদের বের হয়ে আসা উচিত। সময়-সুযোগ হলে বিষয়টি আমি তুলব।’

এছাড়া ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোতে সরকারের যে বিনিয়োগ আছে সেখান থেকেও বের হয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বিএটিবিতে সরকারের একেবারেই সামান্য শেয়ার আছে। আমি এটা প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশে মানি ট্রান্সফারের বিষয়ে শুধু তামাক খাত নয়, অন্য খাতগুলোকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। নবম পঞ্চবার্ষিকীতে কীভাবে তামাক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা যায় তা নিয়ে সবাইকে ভাবতে হবে।’

‘তামাক কোম্পানির সিএসআর: মিথ ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এই সেমিনার যৌথভাবে আয়োজন করে ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট ও ইনিশিয়েটিভ ফর পাবলিক হেলথ রিসার্চ অ্যান্ড কমিউনিকেশন (আইপিএইচআরসি)।

সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন তামাক নিয়ন্ত্রণ গবেষক ও একাত্তর টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি সুশান্ত সিনহা। তিনি ‘তামাক কোম্পানির সিএসআর, মিথ ও বাস্তবতা: বিএটিবি-র ১০ বছরের আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ’ শীর্ষক গবেষণার ফল উপস্থাপন করেন।

সুশান্ত সিনহা বলেন, ‘বছরে মাত্র ৬ কোটি টাকা সিএসআর ব্যয় করে ফলাও করে প্রচার করে বিএটিবি। সরকার যখন তামাক নিয়ন্ত্রণে কোনো পদক্ষেপ নেয় তখন সিএসআরে ব্যয় বৃদ্ধি করে বিএটিবি। ইতোমধ্যে বিশ্বের ৬২টি দেশ সিএসআর নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে তামাক কোম্পানি নামে-বেনামে কৌশলে তাদের সিএসআর কার্যক্রম পরিচালনা করছে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘আমি যেসব পলিসি নিয়ে কাজ করছি সেগুলো সরকারের জন্য খুবই দরকারি হলেও এসব খাতে তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। এনবিআরের কোনো কর্মকর্তা ট্যাক্স নিয়ে কথা শুনতে চান না।’

জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল (এনটিসিসি)-এর সমন্বয়কারী (অতিরিক্ত সচিব) হোসেন আলী খোন্দকার বলেন, ‘যখন সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণে কোনো পদক্ষেপ নেয় তখন তামাক কোম্পানি সিএসআর বাড়িয়ে দেয়- এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ফাইন্ডিংস। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নে এনটিসিসি ইতোমধ্যে রোডম্যাপ প্রণয়নে কাজ শুরু করেছে। সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের উচিত প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের তামাকমুক্ত দেশ গড়ায় সহায়তা করা।’

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘তামাক কোম্পানির রাজস্ব দেয়া নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি হয়। এ খাত থেকে টাকা এলেও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া যায় না। তামাকের বিকল্প খাত থেকে রাজস্ব আয় করতে সরকারকে নতুন খাতের খোঁজ করতে হবে।’

আন্তর্জাতিক সংস্থা দ্য ইউনিয়নের কারিগরি পরামর্শক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন বলেন, ‘আমরা ট্যাক্স বাড়ানোর কথা বললে তামাক কোম্পানি নানা ধরনের তথ্য প্রচার করে। তারা সিএসআর নিয়ে প্রচার বাড়ায়। তাদের ব্যবসা প্রতিবছর বহু গুণে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
বিএটিবিসির ইপিএস ২১ নয়, ৭.১৭ টাকা
ব্যাপক মুনাফা দিল বিএটিবিসির শেয়ার
বিএটিসিবির ফ্লোর প্রাইস সমন্বয় যেভাবে
৮০০ শতাংশ লভ্যাংশেও বিএটিবিসির এমন পতন!
বিএটিবিসির শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস কত হবে

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
The super specialized hospital is starting in December

ডিসেম্বরেই চালু হচ্ছে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল

ডিসেম্বরেই চালু হচ্ছে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল বুধবার বিএসএমএমইউ-তে আয়োজিত পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। ছবি: নিউজবাংলা
পর্যালোচনা সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘চিকিৎসা সেবার প্রয়োজনে দেশের প্রথম এই সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল দ্রুত চালু করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষিত জনবল নিশ্চিত করতে হবে।’

বিজয়ের মাস ডিসেম্বরেই চালু হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) বিশ্বমানের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল। এটি যাতে বিশ্বমানের আদলে চালু করা যায় সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ভারতের এমইএস ও সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি সই হয়েছে।

বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে আয়োজিত পর্যালোচনা সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।

বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক মো. শারফুদ্দিন আহমেদ সভায় সভাপতিত্ব করেন।

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘চিকিৎসা সেবার প্রয়োজনে দেশের প্রথম এই সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল দ্রুত চালু করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষিত জনবল নিশ্চিত করতে হবে।’

উপাচার্য অধ্যাপক মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দেশের রোগীদের স্বার্থে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল দ্রত চালু করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সব কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। হাসপাতালটি যাতে বিশ্বমানের আদলে চালু করা যায় সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ভারতের এমইএস ও সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।’

উপাচার্য জানান, করোনা মহামারির কারণে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে যথাসময়ে না আসায় হাসপাতালে রোগী ভর্তি কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। তবে আশা করছি, যেভাবে কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে এই বিজয়ের মাসেই দেশের মানুষের কাঙ্ক্ষিত সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল চালু করা সম্ভব হবে।

সভায় জানানো হয়, শুরুতে দিকে ওপিডি ও ল্যাব সার্ভিস চালু করা হবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে হাসপাতালের কার্ডিওভাসকুলার ও স্ট্রোক সেন্টার, মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ সেন্টার, কিইন ডিজিজেস ও ইউরোলজি সেন্টার, হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়েটিক, লিভার ট্রান্সপ্লান্ট ও গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি সেন্টার, ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল কেয়ার ট্রমা সেন্টারসহ বিভিন্ন সেন্টার চালু করা হবে।

আরও পড়ুন:
‘শিশুদের হাতে মোবাইল দেয়া যাবে না’
বিএসএমএমইউতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধি দল
বিএসএমএমইউ গবেষণা দিবসে নানা আয়োজন
বিএসএমএমইউতে ভাঙারির নামে ‘পুকুরচুরি’
বিএসএমএমইউ-তে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফল এখন অনলাইনে

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Corona booster dose campaign started on Friday

করোনার বুস্টার ডোজ ক্যাম্পেইন শুরু শুক্রবার

করোনার বুস্টার ডোজ ক্যাম্পেইন শুরু শুক্রবার ফাইল ছবি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকা ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চতুর্থ ডোজের একটি গাইডলাইন দিয়েছে। চতুর্থ ডোজও পাইপলাইনে আছে। জাতীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে আমরা সেটা সবার সামনে তুলে ধরব।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সাত দিনব্যাপী দ্বিতীয় ও বুস্টার ডোজ ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে শুক্রবার। ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলা এই ক্যাম্পেইনে শরিক হয়ে টিকা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় টিকা সংক্রান্ত কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি।

রাজধানীর মহাখালীতে ইপিআই কার্যালয়ে বুধবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকা ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন ছিল ৭০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনতে হবে। আমরা পাঁচ বছরের ঊর্ধ্বে সবাইকে টিকা দিচ্ছি। এ পর্যন্ত দেশের মোট জনসংখ্যার ৮৭ ভাগ প্রথম ডোজ ‌ও ৭৩ ভাগ দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিয়েছে।

‘যারা প্রথম ডোজ নিয়ে দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় আছেন তাদেরকে সাত দিনব্যাপী ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে টিকা দেয়া হবে। বিজয়ের মাসকে সামনে রেখে আমরা ১ থেকে ৭ ডিসেম্বর এই টিকাদান কর্মসূচির আয়োজন করেছি।

‘সারাদেশের প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, জেলা হাসপাতাল এবং মেডিক্যাল কলেজে ক্যম্পেইন চলবে। ক্যাম্পেইনে শুধু দ্বিতীয় ও বুস্টার ডোজ দেয়া হবে।’

ডা. শামসুল হক বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ৯০ লাখ মানুষকে টিকা দেয়ার। কেন্দ্র থাকবে ১৫ হাজার ৯৮৪টি। টিম থাকবে ১৭ হাজার। ভ্যাক্সিনেটর থাকবে ৩৪ হাজার।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চতুর্থ ডোজের একটি গাইডলাইন দিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সেটা কিভাবে দেয়া তা জানিয়ে দেয়া হবে। তবে আমরা জোর গলায় বলতে পারি, চতুর্থ ডোজও পাইপলাইনে আছে। জাতীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে আমরা সেটা সবার সামনে তুলে ধরব।’

আরও পড়ুন:
করোনা জয় সদ্য মাতৃত্বের সুখের মতো: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
করোনায় ১ মৃত্যু, শনাক্ত ১১
করোনায় ফের মৃত্যুহীন দিন, শনাক্ত ৩৩
করোনায় ফের মৃত্যু, শনাক্ত তলানিতে
করোনায় শনাক্ত ১৯, মৃত্যু নেই

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Four more deaths due to dengue

ডেঙ্গুতে আরও চার মৃত্যু

ডেঙ্গুতে আরও চার মৃত্যু ফাইল ছবি
বুধবার সকাল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪২৬ জন ডেঙ্গু রোগী। তাদের মধ্যে ঢাকায় ২৩৯ ও ঢাকার বাইরে ১৮৭ জন। সবশেষ মারা যাওয়া চারজনসহ চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু হয়েছে ২৫৪ জন।

ডেঙ্গুর প্রকোপ থামছেই না। এডিস মশাবাহিত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪২৬ জন ডেঙ্গু রোগী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বুধবার সকাল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চারজন মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫৪।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকায় ২৩৯ ও ঢাকার বাইরে ১৮৭ জন রয়েছেন। এ নিয়ে সারা দেশে এক হাজার ৮০৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৫৩টি হাসপাতালে এক হাজার ৪৮ ও ঢাকার বাইরে ৭৫৫ জন।

চলতি বছরের শুরু থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫৭ হাজার ৩৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ৩৬ হাজার ৫০৭ ও ঢাকার বাইরে সারা দেশে ২০ হাজার ৮৫১ জন।

অক্টোবর মাসে সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ২১ হাজার ৯৩২ জন, যা এ বছর মোট আক্রান্তের ৫৭ শতাংশ। এ মাসে মোট মৃত্যু ছিল ৮৬, যা বছরের মোট মৃত্যুর ৬০ শতাংশ। আর চলতি নভেম্বর মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৯ হাজার ৩৩৪ জন।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির পর এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৫ হাজার ৩০১ জন। তাদের মধ্যে ঢাকায় ৩৫ হাজার ৩০৪ ও ঢাকার বাইরে ১৯ হাজার ৯৯৭ জন।

আরও পড়ুন:
মৃত্যুশূন্য একদিন পর ডেঙ্গুতে আবার ৩ মৃত্যু
মশার কামড়ে ৪ সপ্তাহ কোমায়, ৩০ সার্জারি!
ডেঙ্গুতে মৃত্যুশূন্য দিন, শনাক্ত ৩৬৬
ডেঙ্গুতে ৩ মৃত্যু, আক্রান্ত ৫২৩ জন
ডেঙ্গুর জ্বরে আক্রান্ত গৃহবধূর ‘আত্মহত্যা’

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
All wards will have gymnasiums Mayor Tapas

সব ওয়ার্ডে হবে ব্যায়ামাগার: মেয়র তাপস

সব ওয়ার্ডে হবে ব্যায়ামাগার: মেয়র তাপস ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। ছবি: নিউজবাংলা
‘৭৫টি ওয়ার্ডে মাত্র ১৭টি শরীরচর্চা কেন্দ্র আছে। আমরা প্রত্যেকটা ওয়ার্ডে সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্রের সঙ্গে একটি শরীরচর্চা কেন্দ্র রাখতে চাই। সেজন্য নতুন প্রকল্প নিচ্ছি। নতুন ৩৬টি সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। প্রত্যেকটা ওয়ার্ডেই জনগণের জন্য ব্যায়ামাগার সেবা নিশ্চিত করতে চাই।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন প্রতিটি ওয়ার্ডে ব্যায়ামাগার নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

মঙ্গলবার দুপুরে ডিএসসিসির প্রধান কার্যালয় নগর ভবনে করপোরেশনের দ্বিতীয় পরিষদের সপ্তদশ বোর্ড সভা হয়। সেখানে ডিএসসিসির আওতাধীন ব্যায়ামাগারসমূহ পরিচালনা নীতিমালা-২০২২ অনুমোদন দেয়া হয়।

মেয়র তাপস বলেন, ‘আমাদের ৭৫টি ওয়ার্ডে মাত্র ১৭টি শরীরচর্চা কেন্দ্র আছে। আমরা প্রত্যেকটা ওয়ার্ডে সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্রের সঙ্গে একটি শরীরচর্চা কেন্দ্র রাখতে চাই। সেজন্য নতুন প্রকল্প নিচ্ছি। নতুন ৩৬টি সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। প্রত্যেকটা ওয়ার্ডেই জনগণের জন্য ব্যায়ামাগার সেবা নিশ্চিত করতে চাই।

‘ব্যামাগারের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে নীতিমালা করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশের আলোকে এলাকাভেদে ব্যায়ামাগারগুলোর ভাড়া নির্ধারণ করা হবে। বিদ্যমান আয়তন, সুবিধাদি ও যন্ত্রপাতি বিবেচনা করে ব্যায়ামাগারগুলোকে ক, খ ও গ তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। যারা ব্যায়ামাগার পরিচালনা করবেন তাদের অবশ্যই ট্রেড লাইসেন্স থাকতে হবে।’

সভায় করপোরেশনের কাউন্সিলরা ছাড়াও ডিএসসিসির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব আকরামুজ্জামান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর সিতওয়াত নাঈম, প্রধান প্রকৌশলী সালেহ আহম্মেদ, পরিবহন মহাব্যবস্থাপক মো. হায়দর আলী, ভারপ্রাপ্ত প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলে শামসুল কবির, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল হকসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরের চেয়ে বাংলাদেশের উন্নতি দ্রুত: তাপস
মেয়র তাপসকে নিয়ে গুজব ছড়ানোর মামলার প্রতিবেদন পেছাল
ঢাকা এখন আর বর্জ্যের শহর নয়: মেয়র তাপস
ফার্মেসি খোলা ২৪ ঘণ্টা, তাপসের নির্দেশ নাকচ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
মেয়র তাপসের মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন জমার সময় পেছাল

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Got a new taste of motherhood after winning Corona Health Minister

করোনা জয় সদ্য মাতৃত্বের সুখের মতো: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

করোনা জয় সদ্য মাতৃত্বের সুখের মতো: স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন। ছবি: সংগৃহীত
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন বলেন, ‘অনেক কষ্টের পর সন্তান জন্ম দিয়ে মা যে আনন্দ পান, করোনার মোকাবিলায় আমাদের জয়লাভ সেরকমই আনন্দের।’

কষ্টের পর সন্তান জন্মদানের পর মায়ের যে আনন্দ, করোনা জয়ের আনন্দ ঠিক তেমন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন।

রাজধানীর হোটেল রেডিসনে কোভিড যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘কোভিডের সময় অনেক ডাক্তার, নার্স নিয়োগ দিতে হয়েছে। সেন্ট্রাল আইসিইউ-র ব্যবস্থা করতে হয়েছে। শুরুতে শুধু একটা ল্যাব ছিল। এখন সরকারি ও বেসরকারিভাবে ৮০০টি ল্যাব রয়েছে। সমালোচনা সহ্য করে কোভিড যোদ্ধারা নিরলস কাজ করে গেছেন। এ জন্যই আমরা জয় পেয়েছি।

‘অনেক কষ্টের পর সন্তান জন্ম দিয়ে মা যে আনন্দ পান, করোনার মোকাবিলায় আমাদের জয়লাভ সে রকমই আনন্দের।’

করোনা জয় সদ্য মাতৃত্বের সুখের মতো: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রায় নয় বছর কাজ করছেন জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমাদের কোভিড যুদ্ধের মোকাবিলা করতে হয়েছে। সে সময় অনেক ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়েছে। অনেক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। অথচ আমরা তখন জানতামই না কীভাবে এর চিকিৎসা করতে হয়।

‘একটা সময় এমন গেছে যে আমরা ভ্যাকসিন পাইনি। তখন প্রধানমন্ত্রীকে বললাম আমাদের সিরিঞ্জ নেই। সেগুলো আনতে প্লেন লাগবে। তিনি সেটার ব্যবস্থা করে দিলেন। কোনো কোনো জায়গায় নৌকায় করে ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। পাহাড়ি রাস্তায় পায়ে হেঁটেও পৌঁছে দেয়া হয়েছে ভ্যাকসিন। তারপরও কার্যক্রম বন্ধ ছিল না।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিভিন্ন অংশীদার, আমেরিকাসহ কয়েকটি দেশ আমাদের ভ্যাকসিন দিয়েছে। জাতিসংঘ আমাদের সহায়তা করেছে। অনেক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসেছে। সবার সহযোগিতায় আমরা কাজ করেছি।’

করোনার মধ্যেও স্বাস্থ্যের অন্যান্য কাজ চলমান রাখা হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। আমরা এই খাতকে আরও উন্নত করতে চাই।’

আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ইমেরিটাস অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহ।

তিনি বলেন, ‘কোভিডে আমি আমার স্ত্রীকে হারিয়েছি। অনেকের অনেক ত্যাগের পর আমরা কোভিড মোকাবিলায় আজ সফল। আমেরিকার ফ্লোরিডাতে এক ডাক্তার আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, বাংলাদেশে এত সুন্দরভাবে কীভাবে মোকাবিলা করলো। আমার উত্তর ছিল মহান আল্লাহই বাঁচিয়েছেন। আর সায়েন্টিফিক্যালি বলতে গেলে প্রত্যেক কাজের ক্ষেত্রে সৈন্যদের গাইড করার জন্য একজন প্রধান থাকেন। তিনি আমাদের প্রধানমন্ত্রী। তার নির্দেশনা এবং পরিকল্পনায় আমরা সফল হতে পেরেছি।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক খুরশিদ আলম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শরফুদ্দিন আহমেদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের সচিব আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, স্বাধিনতা চিকিৎসা পরিষদের (স্বাচিপ) সদস্যারা, (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

আরও পড়ুন:
১০ দিন পর করোনায় আবার মৃত্যু
করোনা শনাক্ত কমে ৪৮
করোনায় মৃত্যুহীন দিন, শনাক্ত ৫৪
সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি ১০০, বেসরকারিতে ৩০০
আ.লীগের লাঠি উঠলে বিএনপিকে খুঁজে পাওয়া যাবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
3 more deaths in dengue after a day without death

মৃত্যুশূন্য একদিন পর ডেঙ্গুতে আবার ৩ মৃত্যু

মৃত্যুশূন্য একদিন পর ডেঙ্গুতে আবার ৩ মৃত্যু ফাইল ছবি
নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকায় ২৫৩ ও ঢাকার বাইরে ১৮৩ জন রোগী রয়েছেন। এ নিয়ে বর্তমানে সারা দেশে ১ হাজার ৮২৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৫৩টি হাসপাতালে ১ হাজার ৬৭ ও ঢাকার বাইরে ৭৬০ জন।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৩৬ জন। এ সময় ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক বিবৃতিতে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টার এ হিসাব জানানো হয়েছে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবশেষ তিনজনের মৃত্যু নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ২৫০ জনের মৃত্যু হলো।

নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকায় ২৫৩ ও ঢাকার বাইরে ১৮৩ জন রোগী রয়েছেন। এ নিয়ে বর্তমানে সারা দেশে ১ হাজার ৮২৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৫৩টি হাসপাতালে ১ হাজার ৬৭ ও ঢাকার বাইরে ৭৬০ জন।

বছরের শুরু থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫৬ হাজার ৯৩২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ৩৬ হাজার ২৬৮ ও ঢাকার বাইরে সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে ২০ হাজার ৬৬৪ জন।

অক্টোবর মাসে সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ২১ হাজার ৯৩২ জন, যা চলতি বছরে মোট আক্রান্তের ৫৭ শতাংশ। এ মাসে মোট মৃত্যু ছিল ৮৬জন, যা বছরের মোট মৃত্যুর ৬০ শতাংশ।

এদিকে নভেম্বরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৮ হাজার ৯০৮ জন।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতাল থেকে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৪ হাজার ৮৫৫ জন। তাদের মধ্যে ঢাকায় ৩৫ হাজার ৫০ ও ঢাকার বাইরে ১৯ হাজার ৮০৫ জন।

আরও পড়ুন:
মশার কামড়ে ৪ সপ্তাহ কোমায়, ৩০ সার্জারি!
ডেঙ্গুতে মৃত্যুশূন্য দিন, শনাক্ত ৩৬৬
ডেঙ্গুতে ৩ মৃত্যু, আক্রান্ত ৫২৩ জন
ডেঙ্গুর জ্বরে আক্রান্ত গৃহবধূর ‘আত্মহত্যা’
ডেঙ্গুতে আরও ২ মৃত্যু, শনাক্ত ৪৬২

মন্তব্য

p
উপরে