× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

স্বাস্থ্য
Awareness of the main herbs of high blood pressure
hear-news
player
google_news print-icon

উচ্চ রক্তচাপের মূল বটিকা সচেতনতা

উচ্চ-রক্তচাপের-মূল-বটিকা-সচেতনতা
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, উচ্চ রক্তচাপের কারণে হৃদরোগ, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। কিন্তু এসব রোগের অন্যতম কারণ যে উচ্চ রক্তচাপ, এদিকেই আমাদের নজর কম। শুধু বড় বড় হাসপাতাল দিয়ে হৃদরোগ, কিডনি, ডায়াবেটিস সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রতিরোধই এসব রোগ থেকে মুক্ত থাকার উপযুক্ত উপায়।

বিশ্বে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, ক্যানসার, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা অসংক্রামক রোগ বাড়ছে। বাংলাদেশও উচ্চ রক্তচাপের নীরব মহামারির মধ্যে রয়েছে। এ রোগ নিয়ন্ত্রণে শুধু ওষুধই যথেষ্ট নয়, পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে গুরুত্ব দিতে হবে। আর এ জন্য প্রয়োজন নগর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত জনসচেতনতা।

রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ প্ল্যানার্স কনফারেন্স রুমে বুধবার শেষ হওয়া দুই দিনব্যাপী কর্মশালায় এমন তথ্য জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-এর সহায়তায় গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এই কর্মশালার আয়োজন করে।

কর্মশালায় আলোচকরা বলেছেন, উচ্চ রক্তচাপ বিষয়ে জনসচেতনতা ও চিকিৎসাসেবা বৃদ্ধির জন্য দেশের সব কমিউনিটি ক্লিনিকে রক্তচাপ পরীক্ষা ও উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

উচ্চ রক্তচাপ কী
রক্তচাপ যদি স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে অনেক বেড়ে যায় তাহলেই তা উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন। একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষের রক্তচাপ থাকে ১২০/৮০ মি.মি. পারদচাপ। রক্তচাপের মাত্রা দুটি ভিন্ন দিনে ১৪০/৯০ মি.মি. পারদচাপ বা তার বেশি হলে বুঝতে হবে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে। তবে বয়সভেদে রক্তচাপ কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে।

নীরব ঘাতক
বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টিকারী উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। অথচ তারা জানেন না যে এই নীরব ঘাতক দেহে বাসা বেঁধেছে। উচ্চ রক্তচাপ অগোচরেই শরীরের বিভিন্ন অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

অধিকাংশ সময় উচ্চ রক্তচাপের নির্দিষ্ট কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ থাকে না। উচ্চ রক্তচাপের কারণে বুকে ব্যথা বা অ্যানজাইনা, হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইল এবং হার্ট বিট অনিয়মিত হওয়ার পাশাপাশি স্ট্রোক হতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপের মূল বটিকা সচেতনতা
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ প্ল্যানার্স কনফারেন্স রুমে দুই দিনব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

গবেষণা কী বলছে
বাংলাদেশ এনসিডি স্টেপস সার্ভে ২০১৮-এর তথ্য বলছে, দেশে প্রাপ্তবয়স্ক প্রতি পাঁচজনের একজন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে জনগোষ্ঠীর ২১ শতাংশই উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। এদের মধ্যে ওষুধ খেয়ে রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছেন প্রতি সাতজনে একজনেরও কম।

গ্লোবাল বারডেন অফ ডিজিজ স্টাডি ২০১৯-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের প্রধান তিনটি কারণের একটি উচ্চ রক্তচাপ। এখানে বছরে ২ লাখ ৭৭ হাজার মানুষ হৃদরোগজনিত সমস্যায় মারা যান, যার অন্যতম কারণ উচ্চ রক্তচাপ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যমতে, বাংলাদেশে প্রতি বছর পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ অসংক্রামক রোগে মারা যায়, যার অর্ধেক হৃদরোগজনিত।

সবার আগে চাই সচেতনতা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বিশ্বে প্রতি বছর এক কোটির বেশি মানুষ উচ্চ রক্তচাপের কারণে মারা যায়। এই সংখ্যা সব সংক্রামক রোগে মোট মৃত্যুর চেয়েও বেশি।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, উচ্চ রক্তচাপের কারণে হৃদরোগ, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। কিন্তু এসব রোগের অন্যতম কারণ যে উচ্চ রক্তচাপ, এদিকেই আমাদের নজর কম। শুধু বড় বড় হাসপাতাল দিয়ে হৃদরোগ, কিডনি, ডায়াবেটিস সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রতিরোধই এসব রোগ থেকে মুক্ত থাকার উপযুক্ত উপায়।

উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞরা স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তারা বলছেন- অতিরিক্ত লবণ না খাওয়া, ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা, তামাক ও মদ না খাওয়া, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিয়মিত ব্যায়াম ও শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার বিষয়ে সবাইকে সচেতন করতে হবে।

সরকারের পদক্ষেপ
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সরকার বেশ কিছু নীতি ও কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে। তবে এ বিষয়ে দেশব্যাপী উল্লেখযোগ্য কোনো কর্মসূচি নেই বলে উল্লেখ করেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলেন, বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা অনুসরণ করে সরকার দেশে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ২০২৫ সালের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলকভাবে ২৫ শতাংশ কমানোর জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে সঠিক নিয়মে উচ্চ রক্তচাপ পরীক্ষা, চিকিৎসাসেবা গ্রহণ এবং উচ্চ রক্তচাপজনিত হৃদরোগ ও অন্যান্য অসংক্রামক রোগের ঝুঁকির বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে।

সব হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যায়ে উচ্চ রক্তচাপ চিকিৎসা এবং ওষুধ প্রদান নিশ্চিত করতে এই খাতে সরকারের বাজেট বরাদ্দ বাড়াতে হবে বলেও জানান তারা।

কর্মশালায় আলোচক ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশের ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার (এনসিডি) ডা. সৈয়দ মাহফুজুল হক, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের রোগতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এস এম মোস্তফা জামান, ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্টস স্কুল অফ পাবলিক হেলথের সেন্টার ফর নন কমিউনিক্যাবল ডিজিজ অ্যান্ড নিউট্রিশন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মলয় কান্তি মৃধা, জিএইচএআই বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মো. রূহুল কুদ্দুস, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মাহফুজুর রহমান ভূঁইয়া এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের।

আরও পড়ুন:
দেশে ৫ জনের ১ জন উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত
‘জনসংখ্যার ২১ শতাংশ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে’
ওষুধ বন্ধ করে ঝুঁকিতে উচ্চ রক্তচাপের রোগী
লবণ কম খেলে ‘অর্ধেকে নামবে’ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গাজর খান

মন্তব্য

আরও পড়ুন

স্বাস্থ্য
He died under the train on the railway line with his headphones on

হেডফোন কানে রেললাইনে, ট্রেনের নিচে গেল প্রাণ

হেডফোন কানে রেললাইনে, ট্রেনের নিচে গেল প্রাণ এই রেললাইনে ঘটেছে ট্রেন দুর্ঘটনা। ছবি: নিউজবাংলা
বিমানবন্দর রেলস্টেশনের পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক কামরুল হাসান বলেন, ‘কানে হেডফোন লাগিয়ে কসাইবাড়ী রেললাইন দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় কসাইবাড়ী রেল গেটের সামনে একটি ট্রেনে কাটা পড়েন ওই শিক্ষার্থী। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।’

রাজধানীর দক্ষিণখানে ট্রেনে কাটা পড়ে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার দুপুর ২টার দিকে কসাইবাড়ী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

১৯ বছর বয়সী রাফিন আহমেদ উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর মিয়াবাড়ী গ্রামের সোহেল আহমেদের ছেলে।

বিমানবন্দর রেলস্টেশনের পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুল হাসান বলেন, ‘কানে হেডফোন লাগিয়ে কসাইবাড়ী রেললাইন দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় কসাইবাড়ী রেল গেটের সামনে একটি ট্রেনে কাটা পড়েন ওই শিক্ষার্থী। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

‘কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
বাবার সামনে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রের
ট্রেনে কাটা পড়ে পথচারীর মৃত্যু
ট্রেনে কাটা পড়ল শিশুর হাত, মায়ের পা

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Cafeteria for rent in Bahadur Shah Park

বাহাদুর শাহ পার্কে ইজারায় ক্যাফেটেরিয়া!

বাহাদুর শাহ পার্কে ইজারায় ক্যাফেটেরিয়া!
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) বলছে, তারা পার্ক পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের স্বার্থে এটি ইজারা দিয়েছে। সেই সঙ্গে পার্কের মাঝখানে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে ক্যাফেটেরিয়া তৈরির অনুমতি দেয়া হয়েছে।

পুরান ঢাকায় কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বাহাদুরশাহ পার্ক ইজারা দেয়া হয়েছে। ইজারা পেয়ে সেখানে নির্মাণ করা হচ্ছে ক্যাফেটেরিয়া। হাঁটাচলার জায়গায় এই পার্কের ভেতরে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান করায় প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী। তারা এটি বন্ধে গণস্বাক্ষর অভিযান শুরু করেছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) বলছে, তারা পার্ক পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের স্বার্থে এটি ইজারা দিয়েছে। সেই সঙ্গে পার্কের মাঝখানে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে ক্যাফেটেরিয়া তৈরির অনুমতি দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে এলাকাবাসী ক্যাফেটেরিয়া তৈরির কাজ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে। নির্মীয়মান ক্যাফের মূল কাঠামোটি তারা ভেঙে দেয়। এ ছাড়া শুক্রবার সকালে পার্ক ঘিরে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে বাহাদুর শাহ পার্ক সংরক্ষণ পরিষদ নামের একটি সংগঠন। ঐতিহাসিক এ স্থাপনার মধ্যে স্থায়ীভাবে খাবারের দোকান নির্মাণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে সমালোচনা করছেন।

বাহাদুর শাহ পার্কের অবস্থান সদরঘাট ও লক্ষ্মীবাজারের ঠিক মাথায় পুরান ঢাকার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে। এর চারপাশ ঘিরে সাতটি রাস্তার প্রবেশপথ। চারপাশে রয়েছে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সেন্ট থমাস চার্চ ও ঢাকায় প্রথম পানি সরবরাহ করার জন্য তৈরি ট্যাংক।

এর দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তর-পশ্চিম দিকে ঢাকার জজকোর্ট। আরও অনেক জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যমণি হয়ে থাকা এ পার্ক ধারণ করে আছে বাংলার স্বাধীনতা আন্দোলনের সমৃদ্ধ ইতিহাস। ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহের সময় শত শত সিপাহি এবং তাদের বেসামরিক সহযোগীদের এই পার্কে জনসমক্ষে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়।

বাহাদুর শাহ পার্কে ইজারায় ক্যাফেটেরিয়া!

২০২০ সালের এপ্রিল মাসে পার্কটি আধুনিকায়ন করে নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ঐতিহ্যবাহী এই পার্কে পথচারীদের জন্য হাঁটার পথ, গণশৌচাগার, বেঞ্চ, সবুজ উদ্যান, অ্যাম্ফিথিয়েটার গ্যালারি, পার্কিং নির্মাণ করা হয়। নাগরিকরা যাতে ২৪ ঘণ্টা পার্কটি ব্যবহার করতে পারে, এ জন্য আলোর ব্যবস্থা করা হয়। বৃষ্টির পানি অপসারণে পার্কের চারপাশে চার ফুট গভীর ড্রেন করা হয়। পার্কের মেঝেতে বিছানো হয় নুড়িপাথর। ৮৫ দশমিক ৩ কাঠা আয়তনের এই পার্ক সংস্কারে ডিএসসিসির ব্যয় হয় ৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

ব্যস্ত শহরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে আশপাশের অনেকেই এখানে নিয়মিত আসে। অনেকে সকাল-বিকাল-রাতের বেলা নিয়ম করে হাঁটে এখানে। শতাধিক লোককে পার্কে শরীরচর্চা করতে দেখা যায়।

এমনিতেই পার্কের নিরাপত্তা নিয়ে এলাকাবাসীর সংশয় আছে। আগে লোহার গ্রিল দিয়ে পুরো পার্ক আটকানো থাকলেও এখন পুরোটা খোলা। ফলে পার্কে আসা মানুষদের প্রায়ই পড়তে হয় ছিনতাইকারীদের কবলে। সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পর থেকে পার্কে বেড়েছে নানা ধরনের অপরাধ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্মৃতিসৌধের ওপরে চলে মাদকের আড্ডা।

বর্তমানে আশপাশে ভ্রাম্যমাণ হকার খাবারের পসরা সাজিয়ে বসায় এমনিতেই পার্কের চারপাশের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পথে। নিয়মিত পার্কে আসা লোকজন বলছে, স্থায়ীভাবে এখানে খাবারের দোকান হলে পার্কের সৌন্দর্য পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে। তখন মানুষের হাঁটাচলা করার সুযোগও আর থাকবে না। দোকান হলে পার্কের গাছগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পার্কে প্রতিদিন সকালে হাঁটতে আসেন লক্ষ্মীবাজারের স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাক হাসান কনক। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই আমার ডায়াবেটিস। ৪০ বছর হলো এ পার্কে হাঁটাহাঁটি করি। এ পার্ক ছাড়া আশপাশে আর কোনো ফাঁকা জায়গা নাই। আমরা কোনোভাবে এ পার্কে ক্যাফে বা দোকান তুলতে দেব না।’

আফরোজা বেগম নামের আরেক এলাকাবাসী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুরান ঢাকার অলিগলিতে হাঁটা যায় না। তাই প্রতিদিন সকালে এখানে আসি। নিয়মিত হাঁটা লাগে। যা অবস্থা তাতে মনে হচ্ছে বেশি দিন আর এখানে হাঁটাচলার পরিবেশ থাকবে না। এটা কোনোভাবেই নাগরিক সেবা হতে পারে না। এখানে ক্যাফে তৈরির কোনো প্রয়োজনই নেই।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইউছুব ওসমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুরান ঢাকার বুক চিতিয়ে থাকা এই পার্কটিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। পার্কের মাঝে রাতের আঁধারে চালাচ্ছে দোকান নির্মাণের কাজ। এখনও যে মানুষজন এখানে এসে একটু শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়, কয়েক দিন পর আর তার সুযোগও থাকবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিটি করপোরেশন এখন আর জনগণের জন্য কাজ করে না। সামাজিক সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব পালন না করে ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে এটি।’

এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. রাসেল সাবরিন বলেন, ‘আমরা আমাদের সব পার্ক সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার জন্য ইজারার আওতায় নিয়ে আসছি, যাতে পার্কগুলো ভালোভাবে পরিচালনা করা যায়। তারই ধারাবাহিকতায় বাহাদুর শাহ পার্ক ইজারা দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পার্কের মাঝখানে একটি ফুড ব্যান্ড থাকবে। তারা খাবার বিক্রি করবে এবং পার্কের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে। এতে করে পার্কটি সঠিকভাবে পরিচালনা করা যাবে।’

আরও পড়ুন:
১১ জেব্রার মৃত্যুতে মামলা
উৎপাদনে যাওয়ার অপেক্ষায় ওষুধ শিল্প পার্ক
সাফারি পার্কে এবার আফ্রিকান লেমুরের মৃত্যু
ঘাসে অতিরিক্ত নাইট্রেটের প্রভাবে গাজীপুরে জেব্রার মৃত্যু
সাফারি পার্কে ১১ জেব্রার মৃত্যু: হচ্ছে ফৌজদারি মামলা

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
I bought 11 packets of food from the line for two and a half hours

‘আড়াই ঘণ্টা লাইনে থেকে ১১ প্যাকেট খাবার কিনছি’

‘আড়াই ঘণ্টা লাইনে থেকে ১১ প্যাকেট খাবার কিনছি’ বাড্ডা-গুলশান লিঙ্ক রোডে নয়ন বিরিয়ানির দোকানে খাবার কিনতে মানুষের ভিড়। ছবি: নিউজবাংলা
মা বিরিয়ানি হাউসের কর্মচারী রুবেল বলেন, ‘সারা দিন এই এলাকায় গ্যাস নাই, এজন্য দোকানে ভিড়। আমরা খাবার প্যাকেট করে সারতে পারছি না, তার আগেই থাবাথাবি। এত ভিড় আগে কখনো দেখিনি। রান্না করে আনতে না আনতে শেষ হয়ে যাচ্ছে খাবার।’

মহাখালীর বাসিন্দা হাবিবুর রহমান। সকাল ৬টা থেকে গ্যাস না থাকায় বাসায় রান্না হয়নি। গতকাল শুক্রবারের রান্না দিয়ে দুপুরে কোনো রকম সারলেও রাতের খাবারের জন্য হোটেলই ভরসা ছিল বলে তিনি জানান।

এ জন্য রাতের খাবার নিতে আড়াই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার কিনতে হয়েছে তাকে।

হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সকাল ৬টা থেকে গ্যাস নাই। বাসায় রান্নাবান্না হয়নি। বাধ্য হয়ে হোটেল থেকে খাবার কিনতে এসেছি। ১৪ শ টাকা দিয়ে ১১ প্যাকেট খাবার নিতে পারছি।’

বাড্ডার হোসেন মার্কেট এলাকার বাসিন্দা লিটন জানান, অনেকগুলো হোটেল ঘুরে তিনি গুদারাঘাট এলাকায় গিয়ে খাবার পেয়েছেন।

বলেন, ‘এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ৫ প্যাকেট খাবার কিনছি। ঘরে বউ-বাচ্চা না খেয়ে আছে। সারাদিন রান্না হয়নি, বাসায় গ্যাস না থাকায়। কি করব, বাধ্য হয়ে কষ্ট হলেও লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার কিনতে হয়েছে।’

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার মহাখালী, বনানী, তেজগাঁও, গুলশান, নতুন বাজার ও বাড্ডা এলাকায় দুপুর ২টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত ১১ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না।

এ দিন সন্ধ্যায় সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, খাবারের দোকানে মানুষের উপচে পড়া ভিড়।

গুলশান বাড্ডার গুদারাঘাট এলাকার নয়ন বিরিয়ানী, বাড্ডার মা বিরিয়ানি, উত্তর বাড্ডার কামরুল হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে ক্রেতাদের ভিড় ছিল অনেকটা উপচে পড়া।

অনেক দোকানে দেখা গেছে খাবার কিনতে অনেকে লাইনে দাঁড়িয়েছেন।

খাবার কিনতে আসা সায়েম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সারাদিন গ্যাস নাই। অফিস শেষ করে দোকান থেকে খাবার নিয়ে বাসায় যাব বলে জানিয়েছি। কিন্তু খাবার দোকানের অবস্থা দেখে তো খাবার কেনার আগ্রহই শেষ। পেটতো আর তা শুনবে না।’

মা বিরিয়ানি হাউসের কর্মচারী রুবেল বলেন, ‘সারা দিন এই এলাকায় গ্যাস নাই, এজন্য দোকানে ভিড়। আমরা খাবার প্যাকেট করে সারতে পারছি না, তার আগেই থাবাথাবি। এত ভিড় আগে কখনো দেখিনি। রান্না করে আনতে না আনতে শেষ হয়ে যাচ্ছে খাবার।’

গ্যাস পাইপ লাইনের জরুরি কাজের জন্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ১১ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে জানায় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি।

এ ছাড়া উল্লেখ করা এলাকার পাশের এলাকাগুলোতে গ্যাসের স্বল্প চাপ থাকবে বলে জানায় তিতাস।

আরও পড়ুন:
বিদ্যুৎ গ্যাস পানি এখন রাজনৈতিক পণ্য: আমীর খসরু
এবার লাটভিয়ায় গ্যাস বন্ধ রাশিয়ার
গ্যাস-বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার আইন বাতিল চান ব্যবসায়ীরা
ইউরোপে রুশ গ্যাস পাওয়া নিয়ে নতুন শঙ্কা
ইউরোপে ফের গ্যাস দিচ্ছে রাশিয়া

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Mutilated body in locked room

তালাবদ্ধ ঘরে পুরুষাঙ্গ কাটা মরদেহ

তালাবদ্ধ ঘরে পুরুষাঙ্গ কাটা মরদেহ প্রতীকী ছবি
দুই হাত না থাকা ফজল মিয়া রাজধানীতে ভিক্ষা করতেন। তিনি দুই বিয়ে করেছেন। একটা ছেলেসন্তান নিয়ে প্রথম স্ত্রী গ্রামে থাকেন। ঢাকায় তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী নিয়ে থাকতেন। পুরুষাঙ্গ কাটা মরদেহ উদ্ধারের পর ফজলের দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্ধান মিলছে না। পুলিশ তাকে খুঁজছে।

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে একটি তালাবদ্ধ ঘর থেকে ফজল মিয়া নামে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গলায় গামছা প্যাঁচানোর পাশাপাশি পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সী ফজলের পুরুষাঙ্গ কাটা অবস্থায় পাওয়া যায়।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কামরাঙ্গীরচর ভান্ডারি মোড়ের ভাড়া বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য তা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

কামরাঙ্গীরচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনিরুদ্ধ রায় বলেন, ‘বাড়িটির দ্বিতীয় তলার একটি ঘর থেকে পচা গন্ধ পেয়ে লোকজন থানায় খবর দেন। গলায় গামছা প্যাঁচানো ও পুরুষাঙ্গ কাটা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়। দুই-তিন দিন আগে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

‘মাত্র গত সপ্তাহে ফজল মিয়া এ বাড়িতে আসেন বলে অন্য ভাড়াটিয়ারা জানান। তার দুই হাত ছিল না বলে ভিক্ষাবৃত্তি করতেন বলেও শোনা গেছে। তাকে কে এবং কেন হত্যা করেছে, সে ব্যাপারে ধারণা পাওয়া যায়নি।’

ফজল মিয়ার ভাই সাজু মিয়া বলেন, ‘আমার ভাই দুই বিয়ে করেছেন। একটা ছেলেসন্তান নিয়ে প্রথম স্ত্রী গ্রামে থাকেন। ঢাকায় দ্বিতীয় স্ত্রী নিয়ে থাকতেন। শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও আমার ভাই দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় ভিক্ষাবৃত্তি করেন এবং দুই সংসারে খরচ দেন।

‘দ্বিতীয় স্ত্রীর আরেকটি বিয়ে হয়েছিল আগে, সেই স্বামীর দুটি সন্তান নিয়ে বিয়ে করেন ফজলকে। মরদেহ উদ্ধারের পর ফজলের দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্ধান মিলছে না। পুলিশ তাকে খুঁজছে।’

নিহত ফজলের বাড়ি রংপুর জেলার কাউনিয়া থানায়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেয়া হবে বলে জানান স্বজনরা।

পুলিশ জানায়, ফজল হত্যার ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। তার কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীকে খোঁজা হচ্ছে। তার মাধ্যমেই পুরুষাঙ্গ কর্তন ও হত্যার রহস্য জানা যাবে বলে মনে করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন:
লিঙ্গ কাটায় আটক স্ত্রী
মাদ্রাসাশিক্ষকের পুরুষাঙ্গ কর্তন, ছাত্র আটক
পুরুষাঙ্গ কেটে নিলেন ভাবি
‘প্রেমিকের’ পুরুষাঙ্গ কর্তন, আটক তরুণী

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Journalist Toab Khan was laid to rest at Banani graveyard on Monday

সাংবাদিক তোয়াব খানের অন্তিম শয্যা সোমবার বনানী কবরস্থানে

সাংবাদিক তোয়াব খানের অন্তিম শয্যা সোমবার বনানী কবরস্থানে সাংবাদিক তোয়াব খান। ফাইল ছবি
সাংবাদিক তোয়াব খানের ছোট ভাই ওবায়দুল কবির নিউজবাংলাকে জানান, তার একমাত্র মেয়ে তানিয়া খান রোববার বিকেলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকায় পৌঁছাবেন। পরদিন বাদ আসর গুলশান আজাদ মসজিদে জানাজা শেষে সর্বজনশ্রদ্ধেয় এই সাংবাদিককে দাফন করা হবে বনানী কবরস্থানে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম ও দৈনিক বাংলার সম্পাদক, একুশে পদকপ্রাপ্ত বর্ষীয়ান সাংবাদিক তোয়াব খানের দাফন হবে সোমবার। রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

বার্ধক্যজনিত জটিলতায় অসুস্থতার পর তোয়াব খানকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

তোয়াব খানের ছোট ভাই ওবায়দুল কবির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তার একমাত্র মেয়ে তানিয়া খান রোববার বিকেলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকায় পৌঁছাবেন।

‘তোয়াব খানের মরদেহ সোমবার সকাল ১০টায় তেজগাঁওয়ে নিউজবাংলা ও দৈনিক বাংলা কার্যালয়ে নেয়ার পর সেখানে প্রথম জানাজা হবে। এরপর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কফিন রাখা হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যবস্থাপনায় শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘তোয়াব খানের মরদেহ সোমবার বেলা ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত জাতীয় প্রেস ক্লাবে রাখা হবে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে মরদেহ নেয়া হবে গুলশানে তার নিজ বাসভবনে।’

বাদ আসর গুলশান আজাদ মসজিদে জানাজা শেষে সর্বজনশ্রদ্ধেয় এই সাংবাদিককে দাফন করা হবে বনানী কবরস্থানে।

নিউজবাংলার সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি চৌধুরী নাফিজ সরাফাত ও উপদেষ্টা সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার সাংবাদিক তোয়াব খানের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন। সম্পাদকের মৃত্যুতে নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সব অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।

১৯৩৪ সালের ২৪ এপ্রিল সাতক্ষীরা জেলার রসুলপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোয়াব খান। সাংবাদিক হিসেবে সুদীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবন রয়েছে তার।

২০১৬ সালে একুশে পদক পান তোয়াব খান। একই বছর তাকে সম্মানীত ফেলো নির্বাচন করে বাংলা একাডেমি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রেস সেক্রেটারি ছিলেন তোয়াব খান। পরে রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ এবং প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা সাহাবুদ্দীন আহমদের প্রেস সচিবের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

ছাত্রজীবন থেকেই তোয়াব খান বিভিন্ন পত্রিকায় সমকালীন ইস্যু নিয়ে লেখালেখি করতেন। ১৯৫৩ সালে সাপ্তাহিক জনতার মাধ্যমে তার সাংবাদিকতা জীবনের শুরু। ১৯৫৫ সালে তিনি যোগ দেন দৈনিক সংবাদে।

১৯৬১ সালে দৈনিক সংবাদের বার্তা সম্পাদক হন। ১৯৬৪ সালে তিনি যোগ দেন দৈনিক পাকিস্তানে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে শব্দসৈনিকের ভূমিকা পালন করেন তোয়াব খান। সে সময় তার আকর্ষণীয় উপস্থাপনায় নিয়মিত প্রচার হয় ‘পিণ্ডির প্রলাপ’ নামের অনুষ্ঠান।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দৈনিক পাকিস্তান থেকে বদলে যাওয়া দৈনিক বাংলার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তোয়াব খান। ১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রেস সচিব ছিলেন তোয়াব খান। দেশের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ও প্রেস ইনস্টিটিউট অফ বাংলাদেশের মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন যশস্বী এ সাংবাদিক।

নিউজবাংলা ও দৈনিক বাংলার সম্পাদক হিসেবে যোগ দেয়ার আগে সর্বশেষ তিনি দৈনিক জনকণ্ঠের উপদেষ্টা সম্পাদক ছিলেন।

আরও পড়ুন:
বর্ষীয়ান সাংবাদিক তোয়াব খানের প্রয়াণে বিশিষ্টজনদের শোক
স্বীয় কর্মে স্মরণীয় থাকবেন তোয়াব খান: প্রধানমন্ত্রী
বর্ষীয়ান সাংবাদিক তোয়াব খানের প্রয়াণ
নতুন রূপে আসছে দৈনিক বাংলা, সম্পাদক তোয়াব খান
গুরুতর অসুস্থ সাংবাদিক তোয়াব খান

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Child dies after falling into bucket water in Kajla

কাজলায় বালতির পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু

কাজলায় বালতির পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু
শিশুটির বাবা মো. শাকিব জানান, তার স্ত্রী বাসায় অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন। কোনো এক ফাঁকে তাদের একমাত্র সন্তান আবদুর রহমান বাথরুমে ঢুকে বালতির পানিতে উপুড় হয়ে পড়ে যায়। সেখান থেকে শিশুটি আর উঠতে পারেনি।

রাজধানীতে বালতির পানিতে পড়ে আবদুর রহমান নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে যাত্রাবাড়ীর কাজলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

তিন বছর বয়সী আবদুর রহমান বাসার বাথরুমে রাখা পানি বোঝাই বালতিতে পড়ে যায়। শিশুটির বাবা মো. শাবিক সেখান থেকে উদ্ধার করে সন্তানকে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। এখানে বেলা পৌনে ২টার দিকে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

মো. শাকিবের বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্ধারে। তিনি জানান, তার স্ত্রী বাসায় অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন। কোনো এক ফাঁকে তাদের একমাত্র সন্তান আবদুর রহমান বাথ রুম ঢুকে বালতির পানিতে উপুড় হয়ে পড়ে যায়। সেখান থেকে শিশুটি আর উঠতে পারেনি।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া জানান, ময়নাতদন্ত ছাড়াই শিশুটির মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
যাত্রাবাড়ীতে অটোরিকশা থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু
বরুড়ায় পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু
গাছের গুঁড়ির চাপায় শিশুর মৃত্যু
খেলতে গিয়ে ছাদ থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু
কেরানীগঞ্জে ছাদ থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Whip Swajan apologized for the drivers excesses at the airport

বিমানবন্দরে চালকের বাড়াবাড়ি, ক্ষমা চাইলেন হুইপ স্বপন

বিমানবন্দরে চালকের বাড়াবাড়ি, ক্ষমা চাইলেন হুইপ স্বপন জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। ফাইল ছবি
শুক্রবার দেয়া স্ট্যাটাসে হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন লিখেছেন, ‘আমার অনুপস্থিতিতে গাড়ি রাখা নিয়ে আমার অফিসিয়াল ড্রাইভারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচিত হয়েছে। আমি আমার অনুপস্থিতিতে আমার ড্রাইভারের ত্রুটির জন্য একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজেই ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনকে নিতে আসা গাড়ির চালকের বাড়াবাড়ি ও রাস্তা আটকে রাখার ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছেন তিনি নিজে।

গত বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় হুইপের গাড়ির কারণে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন বিমানবন্দরে আসা যাত্রীরা। তখন গাড়িতে ছিলেন না স্বপন।

এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, অভ্যন্তরীণ একটি ফ্লাইটে আসা হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনকে নিতে বৃহস্পতিবার রাতে শাহজালাল বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন তার গাড়ির চালক।

এ সময় বিমানবন্দরে যানবাহনের চাপ থাকায় চালককে গাড়িটি সরিয়ে নিতে অনুরোধ জানান নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এপিবিএন সদস্যরা। বারবার অনুরোধ করার পরেও হুইপের গাড়ি চালক তা সরাতে অনীহা প্রকাশ করেন। এপিবিএন সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়াতেও দেখা যায় চালককে।

বিমানবন্দরে চালকের বাড়াবাড়ি, ক্ষমা চাইলেন হুইপ স্বপন

ঘটনার একদিন পর এর জন্য নিজের ফেসবুক পেজে ক্ষমা চেয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপন।

শুক্রবার দেয়া এই স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘আমার অনুপস্থিতিতে গাড়ি রাখা নিয়ে আমার অফিসিয়াল ড্রাইভারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচিত হয়েছে। ঘটনাস্থলে আমি উপস্থিত ছিলাম না, ঘটনাটি আমার কোনো রাজনৈতিক সহকর্মী বা সহকারী করেননি।

‘একজন ড্রাইভারের সঙ্গে সংঘটিত হয়েছে। সরকারি এই ড্রাইভার রাজনৈতিক নেতার ডিউটি না করলে সমস্যা হতো না। যেহেতু রাজনৈতিক নেতার ডিউটি করেন, সেহেতু সমালোচনার ঝড় ওঠা স্বাভাবিক।’

বিমানবন্দরে চালকের বাড়াবাড়ি, ক্ষমা চাইলেন হুইপ স্বপন
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ফাইল ছবি

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমি যুক্ত না থাকলেও আমার নাম ব্যবহৃত হওয়ায় আমি প্রশ্নবিদ্ধ ও অভিযুক্ত হয়েছি। আমি ক্ষমতা প্রদর্শনের অপসংস্কৃতিতে আক্রান্ত নই। বরং বরাবরই জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মচারীরা যে জনগণ নিযুক্ত এবং কোনোভাবেই আমাদের মর্যাদা জনগণের ওপর নয়, সে বিষয়ে আমি সরব ভূমিকা পালন করে আসছি এবং নিজেও প্রতিপালন করি।

‘সুতরাং আমি আমার অনুপস্থিতিতে আমার ড্রাইভারের ত্রুটির জন্য একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজেই ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’

আরও পড়ুন:
যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বান

মন্তব্য

p
উপরে