× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

স্বাস্থ্য
Once again the rate of detection of corona has dropped to 10 and the death rate is 2
hear-news
player
google_news print-icon

আবারও ১০ ছাড়াল করোনা শনাক্তের হার, মৃত্যু ২

আবারও-১০-ছাড়াল-করোনা-শনাক্তের-হার-মৃত্যু-২
ফাইল ছবি
দেশে করোনার চতুর্থ ঢেউ শুরুর পর ১১ আগস্ট প্রথমবারের মতো শনাক্ত হার ৫ শতাংশের নিচে নামে। ওইদিন ৪ হাজার ৮০৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ছিল ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ। তার পর থেকে এই হার ওঠানামা করলেও তা ৫ শতাংশ ছাড়ায়নি। কিন্তু ৫ সেপ্টেম্বর থেকে তা বাড়তে বাড়তে মঙ্গলবার ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশে উঠে যায়। শুক্রবার তা ছাপিয়ে হলো ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

এক দিনের ব্যবধানে করোনা শনাক্ত বেড়েছে প্রায় ২ শতাংশ। টানা ৯ দিন ক্রমাগত বৃদ্ধির পর বুধবার এসে শনাক্তের হার কমে হয় ৮ দশমিক ৪১ শতাংশ। কিন্তু আবারও তা বেড়েই চলছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শুক্রবার জানায়, এদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাস শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এই সময়ে ভাইরাসটির সংক্রমণে মারা গেছেন দুজন।

আগের দিন শনাক্তের হার ছিল ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ। অর্থাৎ এক দিনে বেড়েছে ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

যে দুজন মারা গেছেন তাদের একজন পুরুষ, অন্যজন নারী। তাদের একজন ঢাকার, অন্যজন গাজীপুরের বাসিন্দা। দুজনেই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলা যায়।

দেশে করোনার চতুর্থ ঢেউ শুরুর পর ১১ আগস্ট প্রথমবারের মতো শনাক্ত হার ৫ শতাংশের নিচে নামে। ওইদিন ৪ হাজার ৮০৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ছিল ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ। তার পর থেকে এই হার ওঠানামা করলেও তা ৫ শতাংশ ছাড়ায়নি।

কিন্তু ৫ সেপ্টেম্বর থেকে তা বাড়তে বাড়তে মঙ্গলবার ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশে উঠে যায়। শুক্রবার তা ছাপিয়ে হলো ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৩৪০টি নমুনা পরীক্ষা করে ৩৬৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। নতুন শনাক্তদের ২৬৮ জনই রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা।

নতুন শনাক্ত রোগীদের নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ লাখ ১৬ হাজার ৯৪৬ জন। আর সর্বশেষ দুজনসহ মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৩৩৯ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সেরে উঠেছেন ২৬০ জন। সব মিলিয়ে দেশে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৯ লাখ ৬০ হাজার ৪৭ জন।
২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর ২০২১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তা নিয়ন্ত্রণে আসে। মার্চের শেষে আবার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানে। সেটি নিয়ন্ত্রণে আসে ওই বছরের ৪ অক্টোবর।

গত ২১ জানুয়ারি দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ দেখা দেয়। প্রায় তিন মাস পর ১১ মার্চ তা নিয়ন্ত্রণে আসে। তিন মাস করোনা স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতিতে ছিল। এরপর ধারাবাহিকভাবে বাড়তে শুরু করে সংক্রমণ।

আরও পড়ুন:
করোনা: আবারও বেড়েছে শনাক্ত, মৃত্যু ১
করোনা মহামারির শেষ দেখছে ডব্লিউএইচও
করোনা: কমছে শনাক্তের হার

মন্তব্য

আরও পড়ুন

স্বাস্থ্য
635 dengue patients admitted to hospital in one day

এক দিনে ৬৩৫ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে 

এক দিনে ৬৩৫ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে  ডেঙ্গু আক্রান্ত সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে এক মা। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যা এখন ২ হাজার ১৫৮ জন। এর মধ্যে ঢাকার ৫০টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছে ১ হাজার ৬৫৮ জন এবং বিভিন্ন জেলার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৫০০ জন।

চলতি বছরে এক দিনে সবচেয়ে বেশি রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে শনিবার। সারা দেশে এ সময় ৬৩৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এ নিয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যা এখন ২ হাজার ১৫৮ জন। এর মধ্যে ঢাকার ৫০টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছে ১ হাজার ৬৫৮ জন এবং বিভিন্ন জেলার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৫০০ জন।

ডেঙ্গু নিরসনে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তারপরও বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল জোবায়দুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ডেঙ্গু নিরসনে কাজ করছি। পরিস্থিতি এখনো আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে।’

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই কীভাবে এক দিনে এতো রোগী পাওয়া গেল এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। এমন তো নয় যে লাগামহীনভাবে বেড়েছে। একদিনে বেড়েছে বলে অস্থিরতা বাড়ানো যাবে না। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড এসব দেশের পরিস্থিতি আরও খারাপ। আমাদেরকে পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনা করতে হবে। অক্টোবরের মাঝামাঝিতে আমরা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসব।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ইমিরেটাস অধ্যাপক এবং প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবিএম আবদুল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার কারণ এবার থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়া। যার কারণে পানি জমেছে বেশি।

‘সিটি করপোরেশন বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাজ ঘরের বাইরে। কিন্তু ঘরে আমাদের সচেতন হতে হবে। বাচ্চারা দিনের বেলায় ঘুমালে মশারি দিতে হবে। পাতলা ফুলহাতা পোশাক এবং মশার কামড় নিরোধক ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। আর কোনোভাবেই পানি জমতে দেয়া যাবে না। এতে হয়তো ডেঙ্গু নির্মুল করা সম্ভব নয়, তবে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, ‘আমরা আগেই বলেছি, আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়বে। আমাদের প্রেডিকশন মডেল অনুযায়ী সেটাই হচ্ছে।

‘আমরা হটস্পট ম্যানেজমেন্ট চালু করার কথা বলেছি। হটস্পট ম্যানেজমেন্ট বলতে যেসব হাসপাতালে রোগী ভর্তি আছে, সেখান থেকে রোগীর বাসার ঠিকানা সংগ্রহ করে তাদের বাড়ির আশপাশে ৫০০ গজের মধ্যে ফগিং করে উড়ন্ত মশাগুলোকে মেরে ফেলা। সেটিও পুরোপুরি হচ্ছে না। এটা শুধু ঢাকায় না, যেসব জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ রয়েছে সবগুলোতেই চালু করতে হবে।’

গত সেপ্টেম্বরে দেশে সর্বমোট ৯ হাজার ৯১১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। যার মধ্যে মারা গেছে ৩৪ জন রোগী।

আর জানুয়ারি থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ১৬ হাজার ৭২৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছে ১৪ হাজার ৫১৩ জন রোগী।

আরও পড়ুন:
ডেঙ্গুতে ২ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৩৭
ডেঙ্গুতে ১ মৃত্যু, কমেছে হাসপাতালে ভর্তি
ডেঙ্গু তো আমরাই লালন-পালন করছি: স্বাস্থ্যসচিব
হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির রেকর্ড
চুয়াডাঙ্গায় ৬ ডেঙ্গু রোগী

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
The rate of detection of five deaths in Corona has dropped to 15

করোনায় পাঁচ মৃত্যু, শনাক্তের হার ১৫ ছাড়াল

করোনায় পাঁচ মৃত্যু, শনাক্তের হার ১৫ ছাড়াল করোনা আক্রান্ত রোগীকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল থেকে ২৪ ঘণ্টা সারা দেশে ৩ হাজার ১২১ নমুনা পরীক্ষায় ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে ৪৮০ জনের দেহে।

করোনার পঞ্চম ঢেউয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজনর মৃত্যু হয়েছে। পরীক্ষার বিপরীতে এ সময় শনাক্তের হার ১৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে।

শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল থেকে ২৪ ঘণ্টা সারা দেশে ৩ হাজার ১২১ নমুনা পরীক্ষায় ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে ৪৮০ জনের দেহে।

এতে শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ২৮ শতাংশে।

করোনার আগের চারটি ঢেউয়ের মতো এবারও রোগী বেশি পাওয়া যাচ্ছে রাজধানীতে। নতুন করে যারা শনাক্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে ৩৯৭ জনই ঢাকার বাসিন্দা।

২০২০ সালের মার্চে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্তের পর মোট চারটি ঢেউ পাড়ি দিয়ে দেশ এখন পঞ্চম ঢেউয়ে। তবে চতুর্থ ঢেউ থেকেই দেখা যাচ্ছে দেশবাসীর মধ্যে এই ভাইরাস আগের মতো আর আতঙ্ক তৈরি করছে না। আর পঞ্চম ঢেউয়ে মৃত্যু তুলনামূলক কম।

নতুন শনাক্ত রোগীদের নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ লাখ ২৫ হাজার ৬৭৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সেরে উঠেছেন ৪৪৩ জন। সব মিলিয়ে দেশে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৯ লাখ ৬৫ হাজার ৬৩১ জন মানুষ।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর ২০২১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তা নিয়ন্ত্রণে আসে। মার্চের শেষে আবার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানে। সেটি নিয়ন্ত্রণে আসে ওই বছরের ৪ অক্টোবর।

গত ২১ জানুয়ারি দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ দেখা দেয়। প্রায় তিন মাস পর ১১ মার্চ তা নিয়ন্ত্রণে আসে। তিন মাস করোনা স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতিতে ছিল। এরপর ধারাবাহিকভাবে বাড়তে শুরু করে সংক্রমণ। তারপর চতুর্থ ঢেউ শেষে এখন পঞ্চম ঢেউ আঘাত হেনেছে।

আরও পড়ুন:
করোনায় মৃত্যু ২, শনাক্ত ৫৭২
করোনায় ৪ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৫০
করোনায় শনাক্তের হার ছাড়াল ১৫ শতাংশ
করোনায় মৃত্যু ১, শনাক্ত  ৬৭৮
করোনার পঞ্চম ঢেউয়ে সর্বোচ্চ শনাক্তের হার

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
700 corona patients left in 24 hours

২৪ ঘণ্টায় করোনা রোগী ছাড়াল ৭০০

২৪ ঘণ্টায় করোনা রোগী ছাড়াল ৭০০ ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
২০২২ সালের মার্চে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্তের পর মোট চারটি ঢেউ পাড়ি দিয়ে দেশ এখন পঞ্চম ঢেউয়ে। তবে চতুর্থ ঢেউ থেকেই দেখা যাচ্ছে দেশবাসীর মধ্যে এই ভাইরাস আগের মতো আর আতঙ্ক তৈরি করছে না। আর পঞ্চম ঢেউয়ে মৃত্যু তুলনামূলক কম।

করোনার পঞ্চম ঢেউয়ে ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৭০০ জন। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১৫ ছুঁইছুঁই। এই সময়ে মৃত্যু হয়েছে একজনের।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ২৪ ঘণ্টা সারা দেশে ৪ হাজার ৮২৮ নমুনা পরীক্ষায় ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে ৭০৮ জনের দেহে।

করোনার আগের চারটি ঢেউয়ের মতো এবারও রোগী বেশি পাওয়া যাচ্ছে রাজধানীতে। নতুন করে যারা শনাক্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে ৫১৬ জনই দেশের প্রধান শহরের বাসিন্দা।

২০২০ সালের মার্চে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্তের পর মোট চারটি ঢেউ পাড়ি দিয়ে দেশ এখন পঞ্চম ঢেউয়ে। তবে চতুর্থ ঢেউ থেকেই দেখা যাচ্ছে দেশবাসীর মধ্যে এই ভাইরাস আগের মতো আর আতঙ্ক তৈরি করছে না। আর পঞ্চম ঢেউয়ে মৃত্যু তুলনামূলক কম।

নতুন শনাক্ত রোগীদের নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ লাখ ২৫ হাজার ১৯৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সেরে উঠেছেন ৬৮৬ জন। সব মিলিয়ে দেশে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৯ লাখ ৬৫ হাজার ১৮৮ মানুষ।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর ২০২১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তা নিয়ন্ত্রণে আসে। মার্চের শেষে আবার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানে। সেটি নিয়ন্ত্রণে আসে ওই বছরের ৪ অক্টোবর।

গত ২১ জানুয়ারি দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ দেখা দেয়। প্রায় তিন মাস পর ১১ মার্চ তা নিয়ন্ত্রণে আসে। তিন মাস করোনা স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতিতে ছিল। এরপর ধারাবাহিকভাবে বাড়তে শুরু করে সংক্রমণ। তারপর চতুর্থ ঢেউ শেষে এখন পঞ্চম ঢেউ আঘাত হেনেছে।

আরও পড়ুন:
করোনায় ২ মৃত্যু, শনাক্ত বেশি ঢাকায়
করোনায় মৃত্যুহীন দিনে শনাক্ত ৬৬৫
করোনায় ১ মৃত্যু, বেড়েছে শনাক্ত

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Dengue outbreak lasts until mid October

ডেঙ্গুর প্রকোপ ‘অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত’

ডেঙ্গুর প্রকোপ ‘অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত’ ফাইল ছবি
বর্ষায় পানি জমলে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বংশবিস্তারের সমস্যা এবার হওয়ার কথা ছিল না। কারণ এবার বৃষ্টি ঝরেনি সেভাবে, জল জমাটের সমস্যাও ছিল না এ কারণে যে, যতখানি পানি ছিল, তা তীব্র রোদে শুকিয়ে গেছে অনায়াসে। এমন আবহাওয়াতেও ডেঙ্গুর বিস্তার কিন্তু থেমে নেই। বর্ষা শেষে শরতের দ্বিতীয় মাস আশ্বিনেও প্রতি দিন রোগীর চাপ হাসপাতালে, মৃত্যুও কম নয়।

দুই সপ্তাহ আগে রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা জাকিয়া রহমান আক্রান্ত হন ডেঙ্গুতে। হাসপাতালে ছিলেন ছয় দিন। এখন সুস্থ, তবে ধকল রয়ে গেছে গায়ে।

নিউজবাংলাকে এই নারী বলেন, ‘বাসায় ছোট বাচ্চা থাকায় গাছ বা পানি জমে থাকার মতো কিছু ঘরে রাখি না। তবুও কীভাবে আক্রান্ত হলাম জানি না। খুব ভুগিয়েছে এবার। জ্বর, বমি থেকে শুরু করে প্লাটিলেট কমে প্রায় ২০ হাজার হয়ে যায়। অনেক কষ্টের পর সুস্থ হয়েছি।’

জাকিয়া সুস্থ হয়ে ফিরলেও অন্তত ৫০ জনের আর হাসপাতাল থেকে ফেরা হয়নি। প্রায় দিনই মৃত্যুর তথ্য আসছে, এর মধ্যে এক দিনে পাঁচজনের প্রাণও গেছে।

বর্ষায় পানি জমলে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বংশবিস্তারের সমস্যা এবার হওয়ার কথা ছিল না। কারণ এবার বৃষ্টি ঝরেনি সেভাবে, জল জমাটের সমস্যাও ছিল না এ কারণে যে যতখানি পানি ছিল, তা তীব্র রোদে শুকিয়ে গেছে অনায়াসে।

এমন আবহাওয়ায়ও ডেঙ্গুর বিস্তার কিন্তু থেমে নেই। বর্ষা শেষে শরতের দ্বিতীয় মাস আশ্বিনেও প্রতি দিন রোগীর চাপ হাসপাতালে, মৃত্যুও কম নয়।
ডেঙ্গু নিয়ে কাজ করছেন- এমন একজন কীটতত্ত্ববিদ আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি আরও তিন সপ্তাহ থাকতে পারে।

কত রোগী

শনি থেকে রোববার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৪০ জন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩০৯ জন এবং রাজধানীর বাইরের ১৩১ জন।

এই এক দিনে কোনো মৃত্যু না হলেও চলতি বছর প্রাণ হারিয়েছে ৫০ জন। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এখনও ভর্তি ১ হাজার ৬৫০ জন। এর মধ্যে ঢাকাতেই সংখ্যাটি ১ হাজার ২৯৬।

চলতি বছর ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৮৮০ জন, এর মধ্যে রাজধানীর ১০ হাজার ৭৪৩ জন।

চলতি বছর কেবল মুগদা জেনারেল হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা ১ হাজার ৪৪৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ১৮ জন।

দেশের অন্য কোনো হাসপাতালে এত রোগী ভর্তি হয়নি। তবে মুগদা এলাকায় স্বাস্থ্য বিভাগ বা সিটি করপোরেশনের বিশেষ কোনো পদক্ষেপের কথা জানা যায়নি।

বরাবরের মতোই আক্রান্তদের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আছে শিশু। রাজধানীর শিশু হাসপাতালের চিকিৎসক মাহফুজ হাসান আল মামুন জানান, প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ জন ডেঙ্গু রোগী আসছে তাদের হাসপাতালে। সবার ভর্তি দরকার পড়ে না।

অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের হিসাব বলছে, এবার মোট ৪৫টি জেলায় রোগী পাওয়া গেছে। গত বছর সংখ্যাটি ছিল ৫৮, তার আগের বছর ৬৪ জেলার প্রতিটিতে ছড়ায় রোগী। সে বছর সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়।

ঢাকার পর এবার রোগী বেশি কক্সবাজারে। এই পরিস্থিতির জন্য ঘনবসতিপূর্ণ রোহিঙ্গা শিবির ও তাদের অসচেতনতাকে দায়ী করা হচ্ছে।

প্রকোপ আর কত দিন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ে কাজ করছেন গত কয়েক বছর ধরে। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, 'আমরা আগেই বলেছিলাম আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়বে। এখন মনে হচ্ছে এটি আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত থাকতে পারে।’

তিনি জানান, তাপমাত্রা, লেগরেইন ফল, (১৫ দিনের বৃষ্টি) আর্দ্রতা, ডেঙ্গু রোগীর ঘনত্বসহ কয়েকটি বিষয় বিশ্লেষণ করে একটি মডেলিং করে ডেঙ্গুর বিস্তার সম্পর্কে পূর্বানুমান করেন তারা।

অধ্যাপক কবিরুল বলেন, ‘পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, যদি হটস্পট ম্যানেজমেন্ট চালু করতে না পারি। হটস্পট ম্যানেজমেন্ট বলতে যেসব হাসপাতালে রোগী ভর্তি আছে সেখান থেকে রোগীর বাসার ঠিকানা সংগ্রহ করে তাদের বাড়ির আশপাশে ৫০০ গজের মধ্যে ফগিং করে উড়ন্ত মশাগুলোকে মেরে ফেলা। এতে যারা সুস্থ আছে তাদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমবে।’

বৃষ্টি কম থাকার পরও এবার প্রকোপ কেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এডিস মশার জন্য বৃষ্টি বা বর্ষা হতে হবে- এমন কথা নাই। মাত্র দুই সেন্টিমিটার পানি সাত দিন জমে থাকলেই সেখানে লার্ভা জন্মাতে পারে।’

কী করছে নগর কর্তৃপক্ষ

এডিস মশার যে প্রকৃতি, তাতে এগুলোর জন্ম ও বংশবিস্তার প্রধানত মানুষের বাড়িঘর বা কার্নিশ অথবা ছাদে হয়ে থাকে। নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদে জমে থাকা পানিও একটি বড় সমস্যা তৈরি করছে এ কারণে যে প্রায়ই নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা একটি বড় সময় ধরে কর্মস্থলে থাকে না। এই সময় এডিস মশা জন্ম নেয়।

নগর কর্তৃপক্ষ গত কয়েক বছর ধরে নগরবাসীকে সচেতন করার পাশাপাশি শাস্তির ব্যবস্থাও করছে। শাস্তি হিসেবে প্রধানত জরিমানা করা হচ্ছে, কোথাও কোথাও গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জোবায়দুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা গত সপ্তাহে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়েছি। এর মধ্যে আমরা ড্রোনের মাধ্যমে ছাদবাগানগুলো দেখছি। সেখানে পানি জমে থাকলে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

ভবনের বাইরের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ড্রেন ও পানিতে নোভাল নিউরন ট্যাবলেট দিচ্ছি, যেটা তিন মাস পর্যন্ত এডিস লার্ভা জমতে দেয় না। এ ছাড়া গাপ্পি মাছ ছাড়া হচ্ছে, যেগুলো লার্ভা খেয়ে ফেলে। এ ছাড়া জনসচেতনতামূলক প্রচারণার জন্য মাঠে আমাদের লোক রয়েছে।’

এই কর্মকর্তার মূল্যায়ন হচ্ছে, ডেঙ্গুর প্রকোপ এবার বেশ কম। তিনি বলেন, ‘গত বছর এই সময়ে সারা দেশে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিল ২৮ হাজার। এ বছর সেই সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার।’

‘তবে এবার এই পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। তাই সচেতনতা আরও বাড়াতে হবে। কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে কাজ করছি। কেউই বসে নেই।’

আরও পড়ুন:
হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির রেকর্ড
ডেঙ্গুতে ২ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৩৭
ডেঙ্গুতে ১ মৃত্যু, কমেছে হাসপাতালে ভর্তি

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
AMR can cause loss of lakhs of lives Sheikh Hasina

লাখো প্রাণহানি ঘটাতে পারে এএমআর: শেখ হাসিনা

লাখো প্রাণহানি ঘটাতে পারে এএমআর: শেখ হাসিনা নিউ ইয়র্কে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে ‘অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল রেজিট্যান্স’ বিষয়ক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: বাসস
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে ল্যাক্সিংটন হোটেলে ‘অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল রেজিট্যান্স’ বিষয়ক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল রেজিট্যান্স সমস্যাটি সংকটে পরিণত হতে পারে। এটি সারা বিশ্বে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটাতে পারে। এই সংকট থেকে বাঁচতে টেকসই রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও পদক্ষেপ নেয়া দরকার।’

অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের (এএমআর) কারণে ভবিষ্যতে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করে এ জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও গবেষণার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে ল্যাক্সিংটন হোটেলে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে ‘অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল রেজিট্যান্স’ বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে এমন আশঙ্কার কথা জানান সরকারপ্রধান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স সমস্যাটি সংকটে পরিণত হতে পারে। এটি সারা বিশ্বে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটাতে পারে। এই সংকট থেকে বাঁচতে টেকসই রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও পদক্ষেপ নেয়া দরকার।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, সময়ের সঙ্গে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ফাঙ্গাস, প্যারাসাইটগুলো যখন নিজের ভেতরে পরিবর্তন নিয়ে আসে এবং এদের বিরুদ্ধে ওষুধ প্রয়োগেও কোনো কাজ হয় না, তখন সেই অবস্থাকে অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বলে।

এএমআর-এর কারণে ইনফেকশন চিকিৎসা কঠিন হয়ে পড়ে এবং রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বেড়ে যায় মৃত্যুর ঝুঁকি। অন্য অনেক কারণের পাশাপাশি অ্যান্টিবায়েটিক ওষুধের অতিরিক্ত ও ভুল ব্যবহারে অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়।

এ ইস্যুতে আরও বেশি কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইস্যুটিকে সবার নজরে আনার জন্য গ্লোবাল লিডারশিপ গ্রুপ থেকে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এটা স্পষ্ট যে এই ইস্যুতে আরও বেশি কিছু করা দরকার। কৌশলগত অগ্রাধিকারগুলো ভালভাবে চিহ্নিত হয়েছে। আমাদের সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।’

এএমআর ঝুঁকি মোকাবিলায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর ওপর জোর দেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে প্রায় ১৫০টি দেশের এএমআর নিয়ে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে এগুলো বাস্তবায়নের জন্য অর্থপূর্ণ সহায়তা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতায় এএমআর গুরুত্ব পাওয়া উচিত।’

বৈশ্বিক ও জাতীয় পর্যায়েও এএমআর মোকাবিলায় শক্তিশালী বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে মনে করেন সরকারপ্রধান।

এএমআর পরিস্থিতির ওপর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মনিটরিং হলো এএমআর-এর বোঝা অনুধাবন ও মোকাবিলার চাবিকাঠি। ২০১৯ সাল থেকে বাংলাদেশ জিএলএএসএস প্লাটফর্মে রিপোর্ট করছে। এ বিষয়ে সব অংশীজন সম্পৃক্ত থাকা আবশ্যক। প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা পদ্ধতির মাধ্যমে শুরুতে রোগ নির্ণয় নিশ্চিত করা যেতে পারে।’

গবেষণা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে টানা তিন মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এএমআর নিয়ে উদ্বেগের প্রধান কারণ হলো, নতুন এএমআর ভ্যাকসিন এবং অন্যান্য চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা ‌ও উদ্ভাবনের অভাব। এজন্য বেসরকারি খাতের প্রণোদনা প্রয়োজন। কিছুট জটিল জীবাণুর জন্য অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

‘এএমআর বিষয়ে গণসচেতনতা সৃষ্টির বিকল্প নেই। সে ক্ষেত্রে নভেম্বর মাসে বার্ষিক বৈশ্বিক সচেতনতা সপ্তাহ একটি উপযুক্ত উপলক্ষ হতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি এএমআর সূচক তৈরি করা হয়েছে। ওই সূচকগুলোর ওপর প্রতিবেদন তৈরি করে মানুষের স্বাস্থ্য, পশু স্বাস্থ্য, খাদ্যব্যবস্থা এবং পরিবেশকে প্রভাবিত করে এমন এএমআর নীতিগুলো উন্নত করা যেতে পারে।’

এএমআর ইস্যুতে সম্মিলিত কাজের জন্য ডব্লিউএইচও, এফএও, ওআইই এবং ইউএনইপি-কে ধন্যবাদ দেন শেখ হাসিনা।

আরও পড়ুন:
নারী নেতৃত্ব এগিয়ে নিতে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ৩ প্রস্তাব
বাংলাদেশের শিশুরা বিশ্ব নাগরিক হয়ে উঠবে, আশা প্রধানমন্ত্রীর
নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রীকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানালেন শাহবাজ
রানি এলিজাবেথের শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Dengue is being nurtured by us Health Secretary

ডেঙ্গু তো আমরাই লালন-পালন করছি: স্বাস্থ্যসচিব

ডেঙ্গু তো আমরাই লালন-পালন করছি: স্বাস্থ্যসচিব কর্মশালায় অতিথিরা। ছবি: নিউজবাংলা
স্বাস্থ্যসচিব বলেন, ‘ডেঙ্গু তো আমরাই লালন-পালন করছি। প্লাস্টিক তো আছেই, তা ছাড়া যেখানে-সেখানে কনটেইনার, পানির বোতল ফেলে রাখি। পানি জমে থাকে। পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে আমাদের সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।’

নগরবাসীর অসচেতনতায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার।

বুধবার ডিরেক্টরি জেনারেল অফ হেলথ সার্ভিসের (ডিজিএইচএস) সভাকক্ষে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

স্বাস্থ্যসচিব বলেন, ‘ডেঙ্গু তো আমরাই লালন-পালন করছি। প্লাস্টিক তো আছেই, তা ছাড়া যেখানে-সেখানে কনটেইনার, পানির বোতল ফেলে রাখি। পানি জমে থাকে। পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে আমাদের সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘অনেকেই বলে থাকেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ডেঙ্গু নিরসনে কী করছে? কিন্তু এটা তো একা শুধু আমাদের কাজ না। আমরা স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকি। ডেঙ্গুর বিস্তার কমাতে আমদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা তো একটা প্রতিষ্ঠান দেয়। আমরা সেটাই দিচ্ছি। ডেঙ্গু নিরসনে সিটি করপোরেশন কাজ করছে। আমাদের নির্দেশনা রয়েছে। আমরা তো হাত গুটিয়ে বসে নেই। তবে সেই সঙ্গে পরিবেশ মন্ত্রণালয়েরও ভূমিকা রয়েছে। জনসাধারণের সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে। একা কারও পক্ষে এর সমাধান সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘জ্বর হলেই হাসপাতালে যেতে হবে এমন নয়। প্রাথমিকভাবে জ্বর হলেই প্রচুর ফ্লুইড এবং প্যারাসিটামল খেলেই হবে। যদি গুরুতর কোনো লক্ষ্মণ দেখা দেয় বা কারও আগে থেকে কোনো জটিল রোগ থাকে সে ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। তাছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে।’

এ সময় সিটি করপোরেশনের সদস্যরা এবং উপস্থিত চিকিৎসকরা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একজন প্রতিনিধি তাদের ভূমিকা নিয়ে বলেন, ‘আমরা একটি কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে কাজ করছি। জনসচেতনতা নেই। যেখানেই দেখি ছাদবাগান, সেখানেই লার্ভা।’

সাংবাদিকদের তিনি কলম ও ক্যামেরার শক্তি ব্যবহার করে জনসচেতনতা বাড়ানোর অনুরোধ জানান।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আহমেদুল কবির, অধ্যাপক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, ড. রবিদ আমিন প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির রেকর্ড
চুয়াডাঙ্গায় ৬ ডেঙ্গু রোগী
নগরে এডিস মশার লার্ভা, দেড় লাখ টাকা জরিমানা

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
There was no fear about the burnt actor Roni

দগ্ধ অভিনেতা রনিকে নিয়ে শঙ্কা কাটেনি

দগ্ধ অভিনেতা রনিকে নিয়ে শঙ্কা কাটেনি পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় টিভি শো মীরাক্কেলখ্যাত বাংলাদেশি কৌতুক অভিনেতা আবু হেনা রনি। ছবি: সংগৃহীত
‘আবু হেনা রনির শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত। তার রক্ত পরীক্ষায় কিছু ত্রুটি পাওয়া গেছে। এসব ত্রুটির কারণ নির্ধারণ সম্ভব হয়নি। সোমবার আরও কিছু পরীক্ষা করা হবে।’

গ্যাস বেলুন বিস্ফোরণে দগ্ধ কৌতুক অভিনেতা আবু হেনা রনির চিকিৎসায় বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন হয়েছে। রোববার তার রক্ত পরীক্ষায় বেশ কিছু ত্রুটি পাওয়া গেছে, তিনি এখনও আশঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আবু হেনা রনির শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত। তার রক্ত পরীক্ষায় কিছু ত্রুটি পাওয়া গেছে। এসব ত্রুটির কারণ নির্ধারণ সম্ভব হয়নি। সোমবার আরও কিছু পরীক্ষা করা হবে।

‘কী ধরনের গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ হয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। জানলে চিকিৎসা কিছুটা সহজ হতো।’

শুক্রবার বিকেলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) চতুর্থ বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে গ্যাস বেলুন বিস্ফোরণে দগ্ধ হন কৌতুক অভিনেতা আবু হেনা রনিসহ পাঁচজন। শুরুতে তাদের গাজীপুরের তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দগ্ধের মাত্রা বেশি হওয়ায় সেখান থেকে রাতে ঢাকায় পাঠানো হয় আবু হেনা রনি ছাড়াও জিল্লুর রহমান নামের ব্যক্তিকে।

রনির চিকিৎসায় গঠন করা ১৩ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড রোববার দুপুরে সভা করে।

সভা শেষে ডা. সামন্ত লাল সেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘রোগীরা ১৫ শতাংশ দগ্ধ হলে আমরা সিরিয়াস মনে করি। রনি ও জিল্লুর এর চেয়ে বেশি দগ্ধ। সঙ্গে ইনহেলিশন বার্ন আছে। রনির কয়েক প্রকারের রক্ত পরীক্ষা করেছি। তাতে কিছু ত্রুটি আছে। নতুন চিকিৎসা সংযোজন করা হয়েছে।

‘৪৮ ঘণ্টা পার হলেও রনির অবস্থা অপরিবর্তিত। কম বার্ন হলেও ইনহেলিশন থাকলে সে রোগীর ব্যাপারে কিছু বলা মুশকিল। যতক্ষণ পর্যন্ত রোগী হেঁটে বাড়ি না যাবে, ততক্ষণ তাকে সুস্থ বলতে পারব না।’

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘রোগীর স্বজনরা যদি মনে করেন অন্য কোথাও নিয়ে চিকিৎসা করাবেন, সেটা তাদের ব্যাপার। তবে আমাদের এখানে যথেষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আছেন। চিকিৎসার ঘটতি হবে না।’

মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রবিউল করিম খান বলেন, ‘যখন আমরা এই রোগী হাসপাতালে পেয়েছি, তখন অবস্থা খারাপ ছিল। দগ্ধ হওয়ার পর মাটিতে গড়াগড়ি খেয়েছেন, তাতে ইনফেকশনের ভয় থাকে। তবে বেলুনে কী ধরনের গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটা জানতে পারলে আমাদের চিকিৎসায় সুবিধা হতো।’

আরও পড়ুন:
গাজীপুরে গ্যাস বেলুন বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্ত কমিটি
বেলুন বিস্ফোরণ: ‘শঙ্কামুক্ত নন’ কৌতুক অভিনেতা রনি
বেলুন বিস্ফোরণে কৌতুক অভিনেতা আবু হেনা রনি দগ্ধ

মন্তব্য

p
উপরে