× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

স্বাস্থ্য
5 deaths in one day due to dengue
hear-news
player
google_news print-icon

ডেঙ্গুতে এক দিনে ৫ মৃত্যু

ডেঙ্গুতে-এক-দিনে-৫-মৃত্যু
দেশে গত বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেয়া এক রোগী। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন ৩১ রোগী। মৃত্যুর সংখ্যাতেও এখনও এগিয়ে আগস্ট। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, সেপ্টেম্বরে প্রথামর্ধ শেষ হওয়ার আগেই তা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সেপ্টেম্বর প্রথম সপ্তাহ না পেরোতেই ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১০ জন। যার মধ্যে ৫ জন মারা গেছেন গত ২৪ ঘণ্টায়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে মঙ্গলবার পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগস্টে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৫২১ জন। এ বছরের প্রথম আট মাসের মধ্যে আগস্টে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল সবেচেয়ে বেশি। আগস্টের ৩১ দিনে মোট মৃত্যু ছিল ১১। কিন্তু সেপ্টেম্বরের প্রথম ৬ দিনেই হিসাব বলছে, তা ছাড়িয়ে যেতে পারে আগস্টকে।

ফলে করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে ডেঙ্গুও চোখ রাঙাচ্ছে। আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন রাজধানীবাসী।

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৮৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। যার মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২২৪ জন। আর ঢাকার বাইরে ভর্তি হয়েছেন ৬০ জন।

এ নিয়ে দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৮৫০ রোগী। এর মধ্যে ঢাকার ৪৭টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৭১১ জন। আর ঢাকার বাইরে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১৩৯ রোগী।

কন্ট্রোল রুমের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত ৭ হাজার ৩৯৭ রোগী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬ হাজার ৪৮ জন। আর ঢাকার বাইরের রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩৪৯ জন।

বছরের শুরুতে জানুয়ারি শেষে দেখা যায়, দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১২৬ জন। তাতে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হলেও ফেব্রয়ারিতে ২০ জন, মার্চে ২০ জন ও এপ্রিলে ২৩ জন আক্রান্ত হওয়ায় খবরে স্বস্তি ফিরেছিল।

কিন্তু মে থেকে বদলে যেতে থাকে দৃশ্যপট। মে মাসে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১৬৩। যা পরের মাসে কয়েকগুণ বেড়ে তা জুনে হয় ৭৩৭। এরপর পরের দুই মাসে প্রায় দ্বিগুণ হারে বেড়েছে এ সংখ্যা।

এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন ৩১ রোগী। মৃত্যুর সংখ্যাতেও এখনও এগিয়ে আগস্ট। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, সেপ্টেম্বরে প্রথামর্ধ শেষ হওয়ার আগেই তা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বছরের মে পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। জুনে প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। জুলাইয়ে এসে মারা যায় ৯ জন। আর আগস্টে তা বেড়ে হয়েছে ১০।

এখন পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরেছেন ৬ হাজার ৫১৬ জন।

আরও পড়ুন:
ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেক বাড়তে পারে: আতিকুল
চলতি বছর ডেঙ্গুতে প্রথম মৃত্যু, হাসপাতালে ২৭ জন
ডেঙ্গু সামলাতে আমরা প্রস্তুত: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী
ঢাকায় বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী
ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে ঢাকার যেসব এলাকা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

স্বাস্থ্য
635 dengue patients admitted to hospital in one day

এক দিনে ৬৩৫ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে 

এক দিনে ৬৩৫ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে  ডেঙ্গু আক্রান্ত সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে এক মা। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যা এখন ২ হাজার ১৫৮ জন। এর মধ্যে ঢাকার ৫০টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছে ১ হাজার ৬৫৮ জন এবং বিভিন্ন জেলার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৫০০ জন।

চলতি বছরে এক দিনে সবচেয়ে বেশি রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে শনিবার। সারা দেশে এ সময় ৬৩৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এ নিয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যা এখন ২ হাজার ১৫৮ জন। এর মধ্যে ঢাকার ৫০টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছে ১ হাজার ৬৫৮ জন এবং বিভিন্ন জেলার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৫০০ জন।

ডেঙ্গু নিরসনে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তারপরও বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল জোবায়দুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ডেঙ্গু নিরসনে কাজ করছি। পরিস্থিতি এখনো আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে।’

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই কীভাবে এক দিনে এতো রোগী পাওয়া গেল এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। এমন তো নয় যে লাগামহীনভাবে বেড়েছে। একদিনে বেড়েছে বলে অস্থিরতা বাড়ানো যাবে না। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড এসব দেশের পরিস্থিতি আরও খারাপ। আমাদেরকে পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনা করতে হবে। অক্টোবরের মাঝামাঝিতে আমরা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসব।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ইমিরেটাস অধ্যাপক এবং প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবিএম আবদুল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার কারণ এবার থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়া। যার কারণে পানি জমেছে বেশি।

‘সিটি করপোরেশন বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাজ ঘরের বাইরে। কিন্তু ঘরে আমাদের সচেতন হতে হবে। বাচ্চারা দিনের বেলায় ঘুমালে মশারি দিতে হবে। পাতলা ফুলহাতা পোশাক এবং মশার কামড় নিরোধক ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। আর কোনোভাবেই পানি জমতে দেয়া যাবে না। এতে হয়তো ডেঙ্গু নির্মুল করা সম্ভব নয়, তবে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, ‘আমরা আগেই বলেছি, আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়বে। আমাদের প্রেডিকশন মডেল অনুযায়ী সেটাই হচ্ছে।

‘আমরা হটস্পট ম্যানেজমেন্ট চালু করার কথা বলেছি। হটস্পট ম্যানেজমেন্ট বলতে যেসব হাসপাতালে রোগী ভর্তি আছে, সেখান থেকে রোগীর বাসার ঠিকানা সংগ্রহ করে তাদের বাড়ির আশপাশে ৫০০ গজের মধ্যে ফগিং করে উড়ন্ত মশাগুলোকে মেরে ফেলা। সেটিও পুরোপুরি হচ্ছে না। এটা শুধু ঢাকায় না, যেসব জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ রয়েছে সবগুলোতেই চালু করতে হবে।’

গত সেপ্টেম্বরে দেশে সর্বমোট ৯ হাজার ৯১১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। যার মধ্যে মারা গেছে ৩৪ জন রোগী।

আর জানুয়ারি থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ১৬ হাজার ৭২৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছে ১৪ হাজার ৫১৩ জন রোগী।

আরও পড়ুন:
ডেঙ্গুতে ২ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৩৭
ডেঙ্গুতে ১ মৃত্যু, কমেছে হাসপাতালে ভর্তি
ডেঙ্গু তো আমরাই লালন-পালন করছি: স্বাস্থ্যসচিব
হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির রেকর্ড
চুয়াডাঙ্গায় ৬ ডেঙ্গু রোগী

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
The rate of detection of five deaths in Corona has dropped to 15

করোনায় পাঁচ মৃত্যু, শনাক্তের হার ১৫ ছাড়াল

করোনায় পাঁচ মৃত্যু, শনাক্তের হার ১৫ ছাড়াল করোনা আক্রান্ত রোগীকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল থেকে ২৪ ঘণ্টা সারা দেশে ৩ হাজার ১২১ নমুনা পরীক্ষায় ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে ৪৮০ জনের দেহে।

করোনার পঞ্চম ঢেউয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজনর মৃত্যু হয়েছে। পরীক্ষার বিপরীতে এ সময় শনাক্তের হার ১৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে।

শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল থেকে ২৪ ঘণ্টা সারা দেশে ৩ হাজার ১২১ নমুনা পরীক্ষায় ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে ৪৮০ জনের দেহে।

এতে শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ২৮ শতাংশে।

করোনার আগের চারটি ঢেউয়ের মতো এবারও রোগী বেশি পাওয়া যাচ্ছে রাজধানীতে। নতুন করে যারা শনাক্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে ৩৯৭ জনই ঢাকার বাসিন্দা।

২০২০ সালের মার্চে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্তের পর মোট চারটি ঢেউ পাড়ি দিয়ে দেশ এখন পঞ্চম ঢেউয়ে। তবে চতুর্থ ঢেউ থেকেই দেখা যাচ্ছে দেশবাসীর মধ্যে এই ভাইরাস আগের মতো আর আতঙ্ক তৈরি করছে না। আর পঞ্চম ঢেউয়ে মৃত্যু তুলনামূলক কম।

নতুন শনাক্ত রোগীদের নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ লাখ ২৫ হাজার ৬৭৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সেরে উঠেছেন ৪৪৩ জন। সব মিলিয়ে দেশে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৯ লাখ ৬৫ হাজার ৬৩১ জন মানুষ।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর ২০২১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তা নিয়ন্ত্রণে আসে। মার্চের শেষে আবার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানে। সেটি নিয়ন্ত্রণে আসে ওই বছরের ৪ অক্টোবর।

গত ২১ জানুয়ারি দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ দেখা দেয়। প্রায় তিন মাস পর ১১ মার্চ তা নিয়ন্ত্রণে আসে। তিন মাস করোনা স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতিতে ছিল। এরপর ধারাবাহিকভাবে বাড়তে শুরু করে সংক্রমণ। তারপর চতুর্থ ঢেউ শেষে এখন পঞ্চম ঢেউ আঘাত হেনেছে।

আরও পড়ুন:
করোনায় মৃত্যু ২, শনাক্ত ৫৭২
করোনায় ৪ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৫০
করোনায় শনাক্তের হার ছাড়াল ১৫ শতাংশ
করোনায় মৃত্যু ১, শনাক্ত  ৬৭৮
করোনার পঞ্চম ঢেউয়ে সর্বোচ্চ শনাক্তের হার

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
700 corona patients left in 24 hours

২৪ ঘণ্টায় করোনা রোগী ছাড়াল ৭০০

২৪ ঘণ্টায় করোনা রোগী ছাড়াল ৭০০ ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
২০২২ সালের মার্চে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্তের পর মোট চারটি ঢেউ পাড়ি দিয়ে দেশ এখন পঞ্চম ঢেউয়ে। তবে চতুর্থ ঢেউ থেকেই দেখা যাচ্ছে দেশবাসীর মধ্যে এই ভাইরাস আগের মতো আর আতঙ্ক তৈরি করছে না। আর পঞ্চম ঢেউয়ে মৃত্যু তুলনামূলক কম।

করোনার পঞ্চম ঢেউয়ে ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৭০০ জন। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১৫ ছুঁইছুঁই। এই সময়ে মৃত্যু হয়েছে একজনের।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ২৪ ঘণ্টা সারা দেশে ৪ হাজার ৮২৮ নমুনা পরীক্ষায় ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে ৭০৮ জনের দেহে।

করোনার আগের চারটি ঢেউয়ের মতো এবারও রোগী বেশি পাওয়া যাচ্ছে রাজধানীতে। নতুন করে যারা শনাক্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে ৫১৬ জনই দেশের প্রধান শহরের বাসিন্দা।

২০২০ সালের মার্চে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্তের পর মোট চারটি ঢেউ পাড়ি দিয়ে দেশ এখন পঞ্চম ঢেউয়ে। তবে চতুর্থ ঢেউ থেকেই দেখা যাচ্ছে দেশবাসীর মধ্যে এই ভাইরাস আগের মতো আর আতঙ্ক তৈরি করছে না। আর পঞ্চম ঢেউয়ে মৃত্যু তুলনামূলক কম।

নতুন শনাক্ত রোগীদের নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ লাখ ২৫ হাজার ১৯৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সেরে উঠেছেন ৬৮৬ জন। সব মিলিয়ে দেশে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৯ লাখ ৬৫ হাজার ১৮৮ মানুষ।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর ২০২১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তা নিয়ন্ত্রণে আসে। মার্চের শেষে আবার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানে। সেটি নিয়ন্ত্রণে আসে ওই বছরের ৪ অক্টোবর।

গত ২১ জানুয়ারি দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ দেখা দেয়। প্রায় তিন মাস পর ১১ মার্চ তা নিয়ন্ত্রণে আসে। তিন মাস করোনা স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতিতে ছিল। এরপর ধারাবাহিকভাবে বাড়তে শুরু করে সংক্রমণ। তারপর চতুর্থ ঢেউ শেষে এখন পঞ্চম ঢেউ আঘাত হেনেছে।

আরও পড়ুন:
করোনায় ২ মৃত্যু, শনাক্ত বেশি ঢাকায়
করোনায় মৃত্যুহীন দিনে শনাক্ত ৬৬৫
করোনায় ১ মৃত্যু, বেড়েছে শনাক্ত

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
22 deaths detected in Corona 669

করোনায় ২ মৃত্যু, শনাক্ত বেশি ঢাকায়

করোনায় ২ মৃত্যু, শনাক্ত বেশি ঢাকায় ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ উল্লেখ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, মৃত ২ জনই পুরুষ। তাদের একজন নেত্রকোণা এবং অন্যজন ময়মনসিংহে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুই মাস পর এই ভাইরাসে মৃত্যু দেখল দেশ। এসময়ে ৫ হাজার ১৭ নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬৬৯ জনের; তাদের ৫২১ জনই রাজধানীর বাসিন্দা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বৃহস্পতিবার নিয়মিত বিবৃতিতে এসব জানিয়েছে।

শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ উল্লেখ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, মৃত ২ জনই পুরুষ। তাদের একজন নেত্রকোণা এবং অন্যজন ময়মনসিংহ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

টানা ১৪ দিন ধরে করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের ওপরে থাকায়, দেশে পঞ্চম ঢেউ নিশ্চিত হয়েছে। কারণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলা যায়।

নতুন শনাক্ত রোগীদের নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ লাখ ২৪ হাজার ৪৮৯ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সেরে উঠেছেন ৩৫৪ জন। সব মিলিয়ে দেশে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৯ লাখ ৬৪ হাজার ৫০১ মানুষ।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর ২০২১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তা নিয়ন্ত্রণে আসে। মার্চের শেষে আবার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানে। সেটি নিয়ন্ত্রণে আসে ওই বছরের ৪ অক্টোবর।

গত ২১ জানুয়ারি দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ দেখা দেয়। প্রায় তিন মাস পর ১১ মার্চ তা নিয়ন্ত্রণে আসে। তিন মাস করোনা স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতিতে ছিল। এরপর ধারাবাহিকভাবে বাড়তে শুরু করে সংক্রমণ। তারপর চতুর্থ ঢেউ শেষে এখন পঞ্চম ঢেউ আঘাত হেনেছে।

আরও পড়ুন:
করোনায় শনাক্তের হার ছাড়াল ১৫ শতাংশ
করোনায় মৃত্যু ১, শনাক্ত  ৬৭৮
করোনার পঞ্চম ঢেউয়ে সর্বোচ্চ শনাক্তের হার
পঞ্চম ঢেউয়ের তৃতীয় দিনে করোনায় ৫ মৃত্যু
পঞ্চম ঢেউয়ের দ্বিতীয় দিনে কমেছে শনাক্তের হার, মৃত্যু ১

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
In 24 hours 367 people in Dhaka and 139 people outside Dhaka were admitted to hospital due to dengue

ডেঙ্গুতে শূন্য মৃত্যু, ভর্তি ৫০৬

ডেঙ্গুতে শূন্য মৃত্যু, ভর্তি ৫০৬ দেশে গত বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেয়া এক রোগী। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় ৩৬৭ জন এবং ঢাকার বাইরে ১৩৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৫০৬ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ বছরে এক দিনে এতসংখ্যক রোগী এই প্রথম।

একই সময়ে ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যু হয়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। শূন্য মৃত্যু নিয়ে আজও মৃতের সংখ্যা ৫৫ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক বিবৃতিতে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় ৩৬৭ জন এবং ঢাকার বাইরে ১৩৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বর্তমানে সারা দেশে ১ হাজার ৮৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৪২৭ জন এবং ঢাকার বাইরে ৪৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।

এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৫ হাজার ৮৫২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১২ হাজার ১৩১ জন এবং ঢাকার বাইরে সারা দেশে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ৭২১ জন।

একই সময়ে সারা দেশে ছাড়প্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৯২৩ জন। এর মধ্যে ঢাকায় বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১০ হাজার ৬৬৭ জন এবং ঢাকার বাইরে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ৩ হাজার ২৪৬ জন।

আরও পড়ুন:
ডেঙ্গুতে ১ মৃত্যু, কমেছে হাসপাতালে ভর্তি
ডেঙ্গু তো আমরাই লালন-পালন করছি: স্বাস্থ্যসচিব
হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির রেকর্ড
চুয়াডাঙ্গায় ৬ ডেঙ্গু রোগী
নগরে এডিস মশার লার্ভা, দেড় লাখ টাকা জরিমানা

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Doubts about meeting the target of reducing water rabies to zero are increasing

জলাতঙ্ক বাড়ছে, শূন্যে নামানোর লক্ষ্য পূরণে সংশয়

জলাতঙ্ক বাড়ছে, শূন্যে নামানোর লক্ষ্য পূরণে সংশয় বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস উপলক্ষে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রাম। ছবি: নিউজবাংলা
জলাতঙ্কে মারা যান ২৯ জন, পরের বছর তা বেড়ে হয় ৩৯ জনে। চলতি বছর ৯ মাসে এ সংখ্যাটি হয়েছে ৩১ জনে। এই হারে মৃত্যু হতে থাকলে তা আগের বছরের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। অথচ সরকারের লক্ষ্য আছে ২০৩০ সালের মধ্যে মৃত্যু শূন্যে নামানোর।

কয়েক বছর ধরেই জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা নিতে আসা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। প্রধানত কুকুরের কামড়ের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা থাকলেও বিড়ালের আঁচড় বা কামড়ের সংখ্যাও কম নয়।

ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে টিকা নিতে আসা মানুষের সংখ্যা এখন বছরে ৮০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এর মধ্যে এখনও সিংহভাগই আসছে কুকুরের কামড় খেয়ে। তবে এ সংখ্যাটি কমে আসছে। কিন্তু বিড়ালের আক্রমণের শিকার মানুষদের সংখ্যাটি বাড়ছে।

টিকা নিতে আসা মানুষের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি জলাতঙ্কে মৃত্যুও তিন বছর ধরে ঊর্ধ্বমুখী। এ কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে জলাতঙ্কে মৃত্যু শূন্যে নামানোর যে লক্ষ্য, সেটি পূরণ হবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।

এই পরিস্থিতিতেও দুই মাস ধরে পথকুকুরের টিকাদান বন্ধ ছিল, অথচ বছরের এই সময়টায় কুকুরের আক্রমণ বেশি থাকে।

আবার কুকুরের টিকাদান কর্মসূচি থাকলেও ঘুরে বেড়ানো বিড়ালকে টিকা দেয়ার কর্মসূচি নেই। যারা ঘরে প্রাণীটি পালেন, তারা অবশ্য নিজ উদ্যোগে টিকা দিয়ে থাকেন বিভিন্ন সেন্টারে।

কুকুরের টিকাদান কর্মসূচিতে জড়িত একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিড়ালের টিকাদানে কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। কারণ হিসেবে বলছেন, ৯৫ থেকে ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে কুকুরের আক্রমণেই রোগটা হয়ে থাক। তাই কুকুরকেই প্রধানত টিকাগুলো দেয়া হয়। আর বিড়াল ধরাও সহজ নয়।

জলাতঙ্ক প্রতিরোধ দিবসে সংক্রামক প্রতিরোধ হাসপাতালে টিকার লাইন

জলাতঙ্ক প্রতিরোধের ডাক নিয়ে বুধবার বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও জলাতঙ্ক প্রতিরোধ দিবস পালনের দিন মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাাতালে টিকা নিতে আসা মানুষের সারি দেখা যায়।

টিকা নিতে আসা মো. তপনের বাসা মিরপুর ১৩ নম্বরে। আক্রান্ত হয়েছেন পথকুকুরের দ্বারা।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘রাস্তায় হাইটা যাইতেছি। হঠাৎ একটা কুকুর আইসা পায়ে কামড় দিল।’

কুকুরটাকে দেখে ক্ষিপ্ত মনে হয়েছিল কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কিছুই টের পাই নাই। এই রকম তো অনেক কুকুর প্রতিদিন এলাকায় ঘোরাফেরা করে। তাই জলাতঙ্কের টিকা নিতে আসছি।’

সাত বছর বয়সী রিয়ামনিকেও টিকা দিতে নিয়ে এসেছেন তার মা। তাকেও বুধবার বিকেল ৫টার দিকে আচমকা কুকুর কামড় দেয় বলে জানান মা রশিদা বেগম।

বিড়ালের আক্রমণের শিকার হওয়া ১৩ বছরের মেয়েকে নিয়ে এসেছিলেন মাসাররাত হোসেন। চার দিন আগের ঘটনায় এক দফা টিকা দিয়েছেন আগেও, এবার এসেছেন দ্বিতীয় ডোজ নিতে।

মারাসাত বলেন, ‘বিড়ালটি পোষা নয়, ঘরের মধ্যেই কোথা থেকে এসে ঘোরাঘুরি করছিল। হতে পারে আশপাশের। তারপর কামড় দেয় মেয়েকে।’

আক্রান্ত, বিড়ালের আক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে

এই হাসপাতালের তথ্যমতে, ২০১১ সাল থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত ৬ লাখ ২১ হাজার ৬৪৭ জন জলাতঙ্কের টিকা নিয়েছেন।

এর মধ্যে ২০২০ সালে টিকা নেন ৬২ হাজার ২৯৩ জন। এর মধ্যে কুকুরের আক্রমণের কারণে ৪৫ হাজার ৪৪৭ জন এবং বিড়াল ও শিয়ালের আক্রমণের শিকার হন ১৬ হাজার ৮১৬ জন।

ওই বছরে জলাতঙ্কে মারা যান ২৯ জন, যারা আক্রমণের পরও টিকা নেনটি।

২০২১ সালে প্রাণীর আক্রমণ বৃদ্ধির বিষয়টি বোঝা যায় টিকার সংখ্যায়। সে বছর টিকা নেন ৭৪ হাজার ৬৬২ জন। এদের মধ্যে ৫২ হাজার ১২ জন কুকুরের কামড়ে এবং ২২ হাজার ৬৫০ জন বিড়াল বা শিয়াল দ্বারা আক্রান্ত হন।

ওই বছর জলাতঙ্কে মৃত্যু বেড়ে হয় ৩৯ জন।

চলতি বছরের ২৭ সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত টিকা নিয়েছেন ৬০ হাজার ৫০০ জন। বাকি তিন মাস এই হারে টিকা দেয়া হলে সংখ্যাটি বেড়ে ৮ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান।

এখন পর্যন্ত যত মানুষ এসেছেন, তাদের মধ্যে ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন কুকুরের এবং ২২ হাজার ৯৩৩ জন বিড়াল-শিয়াল দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন।

চলতি বছরের ৯ মাসে এখন পর্যন্ত জলাতঙ্কে মারা গেছেন ৩১ জন। একই হারে যদি পরের তিন মাসে মৃত্যু হয়, তাহলে তা আগের বছরের সংখ্যাটি ছাড়িয়ে যেতে পারে।

হাসপাতাল কর্মকর্তা মিজানুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, 'প্রাণীদের কামড় আগের থেকে বেড়েছে। কারণ মানুষ এবং প্রাণীর সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু সচেতনতা বাড়েনি।

‘এখন পর্যন্ত যারা মারা গেছেন, তাদের কেউ টিকা নেননি। আর এই টিকার কার্যকারিতা থাকে তিন মাস। তাই বুস্টার ডোজ নিতে হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল ইউনিট-সিডিসির কর্মকর্তা এস এম গোলাম কায়সার বলেন, ‘গণমাধ্যমের কাছে অনুরোধ থাকবে আপনারা সচেতনতা বাড়াতে কাজ করুন। যে মানুষগুলো মারা যাচ্ছে, তারা কেউ টিকা নেয়নি। কিন্তু জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে টিকাদানের সুযোগ আছে। কেউ আক্রান্ত হলে যেন টিকা নেন।’

গত তিন বছরে জলাতঙ্কে মৃত্যু বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরে ২০৩০ সালের মধ্যে তা শূন্যে নামানো সম্ভব হবে কি না, এমন প্রশ্নে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা আশা করছি সম্ভব। ২০২০ সালে যে মৃত্যু কম হয়েছিল, সেটি হয়েছিল ওই বছর করোনার কারণে মানুষ বাইরে বেশি না হওয়ায়। তার আগের বছরগুলোতে প্রতি বছর মৃত্যু ৪০ থেকে ৫০ জনের মধ্যে থাকত।’

২০১১ সালে বছরে ৮২ জন মানুষ জলাতঙ্কে মারা গিয়েছিলেন বলে সিডিসির তথ্যে উল্লেখ আছে।

দুই মাস কুকুরের টিকা বন্ধ

প্রাণীর আক্রমণ এবং জলাতঙ্কে মৃত্যু বাড়তে থাকলেও গত দুই মাসে পথকুকুরকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেয়া বন্ধ থাকার তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, চলতি বছর প্রায় ৯০ হাজার কুকুরকে টিকা দেয়া হয়েছে। তবে গত দুই মাস এই কর্মসূচি বন্ধ ছিল।

কেন বন্ধ- এই প্রশ্নে সেই কর্মকর্তা বলেন, ‘২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবসের প্রস্তুতির জন্য এই কর্মসূচি বন্ধ রাখা হয়। সামনে আবার কর্মসূচি শুরু হবে।’

রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল ইউনিট-সিডিসির কুকুর টিকাদান কর্মসূচির এমডিভির আওতায় পথকুকুরকে এই টিকা দেয়া হয়।

কুকুরকে দুই মাস টিকা দেয়া বন্ধ রাখার কারণ জানতে চাইলে এই বিভাগের কর্মকর্তা এস এম গোলাম কায়সার বলেন, ‘সরকারের অর্থবছর শেষ হয় জুনে। এরপর নতুন বরাদ্দ আসতে আসতে কিছু সময় লেগে যায়। সে সময় কুকুরকে টিকাদান বন্ধ রাখতে হয়।’

এই দুই মাস তাহলে ঝুঁকি তৈরি করে কি না- এমন প্রশ্নে সেই কর্মকর্তা বলেন, ‘বিষয়টি এমন না। আমাদের ক্যালেন্ডার ও হটস্পট অনুযায়ী টিকা দেয়া হয়। যেমন সামনে আমাদের টার্গেট আছে দেশের সব কুকুরকে তিন রাউন্ড টিকা দেব। আগে ঢাকায় দুই রাউন্ড এবং সারা দেশে এক রাউন্ড টিকা দেয়া হতো।’

বিড়ালকে টিকা না দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যারা এই প্রাণী পালেন, তারাই টিকা দিয়ে থাকেন। তবে ঘুরে বেড়ানো প্রাণীকে দেয়া হয় না। এগুলোকে ধরাও সহজ নয়। আর জলাতঙ্কের ক্ষেত্রে যেহেতু ৯৫ থেকে ৯৯ শতাংশ দায়ী কুকুর, তাই কুকুরকেই দেয়া হয়।

ভেট অ্যান্ড পেট কেয়ারের কনসালট্যান্ট রূপ কুমার বলেন, ‘জলাতঙ্ক সাধারণত কুকুর-শিয়ালের রোগ। আমাদের দেশে বা বিশ্বে জলাতঙ্কে আক্রান্ত প্রাণীর মধ্যে বিড়াল মাত্র ৪ শতাংশ। কুকুরের কামড় বা আঁচড় থেকে বিড়ালের শরীরে ভাইরাসটি ছড়ায়। তাই বিড়ালকেও দেয়া হয়।

‘তবে পোষ্য বিড়ালের ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন দেয়ার হার বেশি, কারণ এদের মালিকরা হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নেয়ার উদ্যোগ নেন।’

বেওয়ারিশ বিড়ালকে টিকার বাইরে রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এসব প্রাণীকে তো ধরা মুশকিল। তবে একেবারে দেয়া হয় না এমন না। আর বাজেটের অভাবও এটা সমস্যা।’

জলাতঙ্ক বাড়ছে, শূন্যে নামানোর লক্ষ্য পূরণে সংশয়
বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রামে বেওয়ারিশ বিড়ালকে জলাতঙ্কের টিকা দিচ্ছেন ডা. রূপ কুমার। ছবি: নিউজবাংলা

সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান আরও একটি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি প্রাণীদের প্রতি সহনশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বলেন, ‘অনেকেই কুকুর দেখলে তাদের আক্রমণ করে। এটা না করে আচরণ বদলাতে হবে। তাদের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে হবে।

‘আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। সেটি হলো ডেথ রিভিউ। অর্থাৎ কোন এলাকায় মৃত্যু হয়েছে, সেই এলাকায় সামাজিকভাবে বসে সব কুকুরকে টিকা নিশ্চিত করতে হবে। আর কেউ কামড়ের শিকার হলে তাকে অবশ্যই হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে টিকার জন্য।’

আরও পড়ুন:
শিশুরোগ ‘হ্যান্ড ফুট মাউথ’ নিয়ে উদ্বেগ
জীবন যেভাবে বদলে গেল পুলিশ সুপারের
কুকুরেরও ঝরে আনন্দ-অশ্রু
‘ভুল রক্ত দেয়ায়’ হাসপাতালে প্রসূতির মৃত্যু, তদন্তে কমিটি
ভাতে বিষ মিশিয়ে কুকুর হত্যায় মাসুমের শাস্তি

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
1 death due to dengue admission to hospital

ডেঙ্গুতে ১ মৃত্যু, বাড়ছে হাসপাতালে ভর্তি

ডেঙ্গুতে ১ মৃত্যু, বাড়ছে হাসপাতালে ভর্তি দেশে গত বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেয়া এক রোগী। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
বর্তমানে সারা দেশে ১ হাজার ৮২০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৩৮৮ জন এবং ঢাকার বাইরে ৪৩২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।

কমছে না ডেঙ্গুর প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৫২৪ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আগের দিন মঙ্গলবার ডেঙ্গুতে সারা দেশে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৪৬০ জন।

একই সময়ে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে মোট মৃত্যু দাঁড়াল ৫৫ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক বিবৃতিতে মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় ৩৭৩ জন এবং ঢাকার বাইরে ১৫১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বর্তমানে সারা দেশে ১ হাজার ৮২০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৩৮৮ জন এবং ঢাকার বাইরে ৪৩২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।

এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৫ হাজার ৩৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১১ হাজার ৭৬৪ জন এবং ঢাকার বাইরে সারা দেশে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ৫৮২।

একই সময়ে সারা দেশে ছাড়প্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৪৭১ জন। এর মধ্যে ঢাকায় বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১০ হাজার ৩৩৯ জন এবং ঢাকার বাইরে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ৩ হাজার ১২২ জন।

আরও পড়ুন:
ডেঙ্গু তো আমরাই লালন-পালন করছি: স্বাস্থ্যসচিব
হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির রেকর্ড
চুয়াডাঙ্গায় ৬ ডেঙ্গু রোগী
নগরে এডিস মশার লার্ভা, দেড় লাখ টাকা জরিমানা
ডেঙ্গু বাড়ছে কলকাতাতেও

মন্তব্য

p
উপরে