× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

স্বাস্থ্য
Suggestions are being made as to what the new name of Monkeypox could be
hear-news
player
google_news print-icon

মাঙ্কিপক্সের নতুন নাম আহ্বান, দিতে পারেন আপনিও

মাঙ্কিপক্সের-নতুন-নাম-আহ্বান-দিতে-পারেন-আপনিও
সম্প্রতি মাঙ্কিপক্স সংক্রমণের জন্য বানরকে দায়ী করে এই প্রাণী নিধনের খবর মিলেছে ব্রাজিলসহ অনেক দেশে। এরপরই ভাইরাসের নতুন নামকরণ নিয়ে ভাবতে শুরু করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

মাঙ্কি বা বানরের সঙ্গে মাঙ্কিপক্স ছড়িয়ে পড়ার তেমন কোনো সম্পর্ক না থাকলেও কিছু দেশে বানরকেই এ জন্য দায়ী করা হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে আর কোনো উপায় না পেয়ে এবার ভাইরাসটির নাম বদলে দিতে চায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসের অবিতর্কিত নাম বাছাইয়ের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। এ নিয়ে ওয়েবসাইটে দেয়া হচ্ছে পরামর্শ।

জেনেভায় সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র ফাদেলা চাইব- এ কথা জানিয়েছেন বলে মঙ্গলবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ফাদেলা চাইব বলেন, মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসের নামকরণ আগেই হয়েছে। এখন অমর্যাদাকর নয় এমন একটি নাম খুঁজছি আমরা।

তিনি বলেন, কোনো জাতিগত গোষ্ঠী, অঞ্চল, দেশ বা প্রাণীর প্রতি যেন কোনো অপরাধ করা না হয়, সে জন্যই ভাইরাসটির নতুন নাম খোঁজা হচ্ছে।

সম্প্রতি মাঙ্কিপক্স সংক্রমণের জন্য বানরকে দায়ী করে এই প্রাণী নিধনের খবর মিলেছে ব্রাজিলসহ অনেক দেশে। এরপরই ভাইরাসের নতুন নামকরণ নিয়ে ভাবতে শুরু করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

১৯৫৮ সালে ডেনমার্কে গবেষণার জন্য রাখা বানরের মধ্যে প্রথম শনাক্ত হয় এক ভাইরাস, যার নাম দেয়া হয় মাঙ্কিপক্স।

এত বছর ধরে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ততটা গুরুতর না হলেও করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি এই ভাইরাস নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেয়।

গত জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে মাঙ্কিপক্সকে বিশ্বজুড়ে গণস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে ডব্লিউএইচও। সবশেষ করোনাসহ ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সাতবার বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে সংস্থাটি।

চিকেন পক্সে আক্রান্ত হলে জ্বর, মাথাব্যথা, পেশিব্যথা এবং শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। চিকেন পক্স পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য। কয়েক দিনের মধ্যেই আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হয়ে যায়। বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া মাঙ্কিপক্সের সঙ্গে গুটি বসন্ত ও চিকেন পক্স উভয়েরই মিল রয়েছে।

মাঙ্কিপক্সে প্রাণহানির সংখ্যা খুবই কম। এই ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ ঘটলেও তা সীমিত। কাঠবিড়ালি, গাম্বিয়ান ইঁদুর, ডর্মিসের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির বানরসহ কিছু প্রাণীর মধ্যে মাঙ্কিপক্স পাওয়া গেছে।

তবে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়া কঠিন। এর সংক্রমণ সাধারণত ফ্লুইড ট্রান্সফার, ঘা, দূষিত পোশাক বা দীর্ঘস্থায়ী মুখোমুখি যোগাযোগ কিংবা সহাবস্থানের মাধ্যমে ঘটে, যা শ্বাসযন্ত্রের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়।

আরও পড়ুন:
মাঙ্কিপক্স: যুক্তরাষ্ট্রে গণস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা
ভারতে মাঙ্কিপক্স শনাক্ত বেড়ে ৯
‘মাঙ্কিপক্সে’ ভারতীয় যুবকের মৃত্যুতে তদন্ত শুরু

মন্তব্য

আরও পড়ুন

স্বাস্থ্য
How is Ryan Sadie nominated for the Nobel Peace Prize?

শান্তিতে নোবেলের জন্য রায়ান সাদী কীভাবে ‘মনোনীত’?

শান্তিতে নোবেলের জন্য রায়ান সাদী কীভাবে ‘মনোনীত’?
নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার এক বছর আগে ‘সুনির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন’ ব্যক্তিদের কাছ থেকে তাদের মনোনীত বা সুপারিশ করা ব্যক্তিদের নাম গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। নোবেলের ছয়টি ক্যাটাগরিতে সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত চলে এই নামগ্রহণ। ডা. রায়ান সাদী ও প্রতিষ্ঠানের নামও একই প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক সুপারিশ বা মনোনয়ন আকারে গেছে নোবেল কমিটির কাছে।

বাংলাদেশি বংশদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ডা. রায়ান সাদী ও তার কোম্পানি ‘টেভোজেন বায়ো’ ২০২৩ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

কোম্পানিটির ওয়েবসাইটের ল্যান্ডিংপেজেই এ বিষয়টির উল্লেখ রয়েছে।

ডা. সাদীর এক সময়কার সহপাঠী শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকেও বিষয়টি নিয়ে শনিবার একটি পোস্ট দেন।

বন্ধুকে অভিনন্দন জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী লিখেছেন, ‘‘আমাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজের কে-৪০ ব্যাচের বন্ধু রায়ান সাদী এমডি, এমপিএইচ, চেয়ারম্যান ও সিইও Tevogen Bio, নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। আমরা গর্বিত। সাদীর প্রতি প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। সাদী ও তার পরিবারের প্রতি নিরন্তর শুভকামনা।”

পোস্টে একটি মন্তব্যে মন্ত্রী জানান, রায়ান সাদী মনোনীত হয়েছেন ২০২৩ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য। এই পোস্টে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত রিঅ্যাক্ট করেছেন ৭ হাজার ২০০ ফেসবুক ব্যবহারকারী, শেয়ার হয়েছে ৫২৯টি।

শান্তিতে নোবেলের জন্য রায়ান সাদী কীভাবে ‘মনোনীত’?
বন্ধুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর ফেসবুক পোস্ট

শান্তিতে ২০২৩ সালে নোবেলের জন্য রায়ান সাদীর ‘মনোনীত’ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করেছে নিউজবাংলা।

এতে দেখা গেছে নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার এক বছর আগে ‘সুনির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন’ ব্যক্তিদের কাছ থেকে তাদের মনোনীত বা সুপারিশ করা ব্যক্তিদের নাম গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। নোবেলের ছয়টি ক্যাটাগরিতে সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত চলে এই নামগ্রহণ।

এরপর প্রাপ্ত নাম থেকে সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরির কাজ চলে ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত। নোবেল কমিটির পরামর্শকেরা আগস্ট মাস পর্যন্ত সেই সংক্ষিপ্ত তালিকার প্রতিটি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডের চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন। সবশেষে অক্টোবরে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় বিজয়ীর নাম।

শান্তিতে নোবেলের জন্য রায়ান সাদী কীভাবে ‘মনোনীত’?
নোবেল পুরস্কারের জন্য বিজীয় নাম চূড়ান্ত করার আগে চলে দীর্ঘ বাছাই প্রক্রিয়া

চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ৩৪৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামের সুপারিশ পেয়েছিল নোবেল কমিটি। এই তালিকা থেকে চূড়ান্ত বিজয়ীর নাম আগামী সোমবার ঘোষণা করা হবে।

ডা. রায়ান সাদী ও প্রতিষ্ঠানের নামও একই প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক সুপারিশ বা মনোনয়ন আকারে গেছে নোবেল কমিটির কাছে। ডা. সাদী ও টেভোজেন বায়োকে মনোনয়ন দিয়েছেন ইয়েল স্কুল অফ পাবলিক হেলথের অধ্যাপক এমেরিটাস কার্টিস প্যাটন। যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিষ্ঠানের জনস্বাস্থ্য বিভাগের মহামারি বিদ্যা (অণুজীব ঘটিত রোগ) বিশেষজ্ঞ প্যাটন একই সঙ্গে ‘টেভোজেন বায়ো’র পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক পদেও আছেন

‘টেভোজেন বায়ো’ কোম্পানির ওয়েবসাইটের ল্যান্ডিংপেজে লেখা আছে, ‘আমরা বিজ্ঞানকে এগিয়ে নিই।’

এরপরেই বলা হয়েছে, ‘বর্তমানে মানবতাকে জর্জরিত করে রাখা সবচেয়ে ভয়ংকর রোগগুলোর বিরুদ্ধে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়নই আমাদের লক্ষ্য। ২০২৩ সালে শান্তিতে নোবেলের জন্য মনোনীত’।

টেভোজেন বায়ো মূলত ক্যান্সার নির্মূলের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নিয়ে ২০২০ সালে যাত্রা শুরু করে। টেভোজেন বায়োর প্রতিষ্ঠাতা ডা. রায়ান সাদী বর্তমানে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

শান্তিতে নোবেলের জন্য রায়ান সাদী কীভাবে ‘মনোনীত’?
টেভোজেন বায়োর কোম্পানির ওয়েবসাইটে রয়েছে শান্তিতে নোবেলের জন্য মনোনীত হওয়ার তথ্য

শান্তিতে নোবেলের মনোনয়ন কীভাবে

নোবেল প্রাইজের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা যায়, প্রতি বছর বছর হাজারো বিশেষজ্ঞ, বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক, বিজ্ঞানী, সাবেক নোবেল বিজয়ী, পার্লেমেন্ট সদস্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিথযশা ব্যক্তিরা তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের নোবেলের ছয়টি ক্যাটাগরির জন্য মনোনয়ন দিয়ে সেগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেন।

এই মনোনয়নদাতাদের বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সংখ্যক দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়কে যুক্ত করার উপর জোর দেয় নোবেল কমিটি। সুপারিশগুলো পাওয়ার পর নোবেল পুরস্কারের জন্য চূড়ান্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বাছাই করেন চারটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

এই চার প্রতিষ্ঠান হল দ্য রয়েল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস, দ্য নোবেল অ্যাসেম্বলি অ্যাট ক্যারোলিন্সকা ইন্সটিটিউট, দ্য সুইডিশ অ্যাকাডেমি এবং দ্য নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি।

শান্তিতে নোবেলের জন্য রায়ান সাদী কীভাবে ‘মনোনীত’?

শান্তিতে নোবেলের জন্যও একই প্রক্রিয়ায় ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে মনোনয়ন দেন সারা বিশ্বের ‘যোগ্য’ ব্যক্তিরা

নোবেল প্রাইজের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘নোবেল কমিটি কখনও সুপারিশ পাওয়া বা মনোনীত ব্যক্তিদের নাম সংবাদমাধ্যম, এমনকি প্রার্থীদের কাছেও প্রকাশ করে না। পুরস্কার কে পাচ্ছেন সে সম্পর্কে আগাম জল্পনা-কল্পনার মধ্যে কিছু নাম উঠে আসে। এগুলো হয় নিছক অনুমান, নয়ত মনোনয়নের সুপারিশের পিছনে থাকা ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রকাশিত।’

শুধু চলমান সময়ের নয়, মনোনয়ন ডেটাবেসের বিগত ৫০ বছরের তথ্যও গোপন রাখা হয় বলে জানিয়েছে নোবেল কমিটি।

ডা. সাদী ও তার কোম্পানি কীভাবে ‘মনোনীত’

ডা. রায়ান সাদী ও তার কোম্পানি টেভোজেন বায়োকে কীভাবে এবং কে মনোনয়ন দিয়েছেন সে বিষয়ে জানতে চেয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে ই-মেইল পাঠায় নিউজবাংলা।

এর জবাবে টেভোজেন বায়োর পক্ষ থেকে ক্যাটলিন জয়েস লেখেন, ‘২০২৩ নোবেল শান্তি পুরস্কারের নোবেল কমিটি আমাদের বিবেচনা করায় আমরা অত্যন্ত সম্মানিত ও কৃতজ্ঞবোধ করছি।’

তিনি জানান, ইয়েল স্কুল অফ পাবলিক হেলথের অধ্যাপক এমেরিটাস কার্টিস প্যাটন গত সপ্তাহে এই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এবং সেটি গৃহীত হয়েছে।

শান্তিতে নোবেলের জন্য রায়ান সাদী কীভাবে ‘মনোনীত’?
টেভোজেন বায়ো কোম্পানির চেয়ারম্যান রায়ান সাদী এবং পরিচালক হিসেবে আছেন অধ্যাপক কার্টিস প্যাটন

এ বিষয়ে রায়ান সাদীর একটি বিবৃতিও ই-মেইলে তুলে ধরেন ক্যাটলিন জয়েস। এই বিবৃতিতে সাদী বলেন, ‘নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য টেভোজেন বায়োর মনোনয়ের খবরে আমরা সম্মানিত ও কৃতজ্ঞবোধ করছি। এই অর্জনটি আমাদের পরিচালনা নীতিকে আরও বেগবান করবে। এই নীতিটি হলো সামাজিক সমৃদ্ধি, জনগণের স্বাস্থ্য ও মঙ্গল এবং সর্বোপরি মানব জাতির শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে না পারলে টেকসই ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন অসম্ভব।’

নোবেল কমিটির তথ্য অনুযায়ী, সারা বিশ্ব থেকে পাওয়া নাম থেকে ফেব্রুয়ারিতে সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরির কাজ শুরু হবে। এছাড়া মনোনীতদের বিষয়ে নোবেল কমিটি কখনোই তথ্য প্রকাশ করে না। এরপরেও ডা. রায়ান সাদী ও তার কোম্পানি টেভোজেন বায়োকে কীভাবে ২০২৩ সালের শান্তি পুরস্কারের জন্য ‘মনোনীত’ বলা যাবে- সেই প্রশ্ন রেখে মনোনয়নদাতা অধ্যাপক কার্টিস প্যাটনকেও ই-মেইল করেছে নিউজবাংলা।

তবে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত সেই ই-মেইলের কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

শান্তিতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের যৌথ নোবেল কতবার

১৯০১ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত ২৫টি প্রতিষ্ঠান নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছে। এর মধ্যে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ইউএনএইচসিআর) দুবার এবং ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অফ রেডক্রস তিনবার এই পুরস্কার জয় করে। এর অর্থ হলো, সব মিলিয়ে ২৮ বার নোবেল শান্তি পুরস্কার গেছে কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে।

কোনো কোনো বছর ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল জয় করেছেন। যেমন ২০০৬ সালে এই পুরস্কার যৌথভাবে পান ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংক।

শান্তিতে নোবেলের জন্য রায়ান সাদী কীভাবে ‘মনোনীত’?

ড. ইউনূস ছাড়াও আরও কয়েকজন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে এই পুরস্কার পান। ২০০৭ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান অ্যালবার্ট আর্নল্ড (আল) গোর জুনিয়র ও ইন্টারগভার্মেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি)।

এর দুই বছর আগে শান্তিতে ২০০৫ সালে নোবেল জয় করে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি ও এর প্রধান মোহামেদ এলবারাদি। ২০০১ সালে যৌথভাবে পুরস্কার পায় জাতিসংঘ এবং এর তখনকার মহাসচিব কফি আনান।

এর আগে ল্যান্ডমাইনের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী জনমত তৈরির স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৭ সালে যৌথভাবে এই পুরস্কার পান জোডি উইলিয়ামস ও ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু ব্যান ল্যান্ডমাইনস (আইসিবিএল)’। এছাড়া, ১৯৯৫ সালে জোসেফ রটব্লাট ও পগওয়াশ কনফারেন্সেস অন সায়েন্স অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড অ্যাফেয়ার্স যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল জয় করে।

এর আগে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কোনো ব্যক্তি শান্তিতে নোবেল পাননি। তবে যৌথভাবে দুটি প্রতিষ্ঠানের নোবেল জয়ের নজির রয়েছে। এটি প্রথম দেয়া হয় ১৯৪৭ সালে। সেবার ফ্রেন্ডস সার্ভিস কাউন্সিল এবং আমেরিকান ফ্রেন্ডস সার্ভিস কমিটি যৌথভাবে নোবেল পায়।

আরও পড়ুন:
মানুষের আদি উৎসের সন্ধান দিলেন নোবেলজয়ী এসভান্তে পেবো
আদি পুরুষ থেকে মানুষ: জিনগত বিকাশ দেখিয়ে পেবোর নোবেল জয়
অর্থনীতিতে নোবেল যুক্তরাষ্ট্রের মিলগ্রম-উইলসনের
শান্তিতে নোবেল পেল বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি
ক্রিসপারের দুই উদ্ভাবক পেলেন রসায়নে নোবেল

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
At least 30 killed in Thailand daycare center shooting

থাইল্যান্ডে ডে-কেয়ার সেন্টারে বন্দুক হামলায় নিহত ৩৪

থাইল্যান্ডে ডে-কেয়ার সেন্টারে বন্দুক হামলায় নিহত ৩৪ থাই পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
থাইল্যান্ডে ডে-কেয়ার সেন্টারে বন্দুকধারীর গুলিতে ৩৪ জন নিহত হয়েছে। পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বন্দুক হামলাকারী একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা। স্থানীয় গণমাধ্যম বলছে, হামলাকারী আত্মহত্যা করেছেন।

থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ লং বুয়া লামফুতে শিশুদের ডে-কেয়ার সেন্টারে বৃহস্পতিবার বন্দুকধারীর গুলিতে ৩৪ জন নিহত হয়েছে।

স্থানীয় পুলিশ মুখপাত্রের বরাতে এমনটাই জানিয়েছে রয়টার্স।

নিহত ৩৪ জনের মধ্যে ২৩ জনই শিশু।

পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বন্দুক হামলাকারী একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা।

থাইল্যান্ডের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর ফেসবুক পেজে সম্ভাব্য হামলাকারী সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার নাম ‘পানিয়া খামরাব’ বলা হয়েছে এবং তার একটি ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে।

থাইল্যান্ডে ডে-কেয়ার সেন্টারে বন্দুক হামলায় নিহত ৩৪
সম্ভাব্য হামলাকারী সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা পানিয়া খামরাব

স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, তিনি হামলা চালানোর পরই আত্মহত্যা করেছেন। তবে পুলিশের বিবৃতিতে বন্দুকধারীর আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।

এর আগে একজন সরকারি মুখপাত্র বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সব সংস্থাকে ব্যবস্থা নিতে এবং অপরাধীকে গ্রেপ্তারের জন্য ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

থাইল্যান্ডে এ ধরনের ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা খুবই বিরল। তবে ২০২০ সালে সম্পত্তিসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ক্ষুব্ধ এক সৈনিক ৪টি স্থানে হত্যাযজ্ঞ চালান। তার হামলায় ২৯ জন নিহত ও ৫৭ জন আহত হয়েছিল।

আরও পড়ুন:
থাইল্যান্ডে বিদেশিদের কোয়ারেন্টিনবিহীন পর্যটন শুরু
এবার থাই নিষেধাজ্ঞায় বাংলাদেশ
ইয়টে কোয়ারেন্টিন
রাজতন্ত্রের সমালোচনা করায় ৪৩ বছরের জেল
থাইল্যান্ডে সেনা অভ্যুত্থানের গুজব

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
EU MPs shed their hair to demand freedom in Iran

ইরানে ‘জিন, জিয়ান, আজাদি’ দাবিতে ইইউ এমপির চুল বিসর্জন  

ইরানে ‘জিন, জিয়ান, আজাদি’ দাবিতে ইইউ এমপির চুল বিসর্জন

  ইরানি নারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে চুল কেটে ফেলছেন ইউরোপীয়ান পার্লামেন্টের সদস্য আবির আল-সাহলানি। ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্য আবির আল-সাহলানি বক্তব্যের শেষদিকে সবাইকে চমকে দিয়ে নিজের ঝুঁটি কেটে ফেলেন। এ সময় কুর্দি ভাষায় তিনি বলেন, ‘জিন, জিয়ান, আজাদি’; যার অর্থ- নারী, জীবন, স্বাধীনতা।

ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলা বিক্ষোভে সংহতি জানাচ্ছেন বিভিন্ন দেশের নারীরা। চলচ্চিত্র অভিনেত্রীসহ তারকা সংগীতশিল্পীরাও নিজেদের চুল কেটে ইরানি নারীদের সমর্থন দিচ্ছেন।

সবশেষ এই তালিকায় যুক্ত হলেন ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্য আবির আল-সাহলানি। ইরাকি বংশোদ্ভূত সুইডিশ এই নারী ইইউ অ্যাসেম্বলিতে বক্তৃতা শেষে নিজের ঝুঁটি কেটে ফেলছেন।

ফ্রান্সের স্ট্রাসবার্গে অধিবেশনের বৈঠকে বুধবার ইরানে নারীদের নিপীড়নের বিষয়টি উল্লেখ করেন সাহলানি। তিনি বলেন, ‘ইরান মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত, আমাদের ক্রোধ অত্যাচারীদের চেয়ে বেশি হবে। যতক্ষণ না ইরানের নারীরা মুক্ত হবে, আমরা তাদের পাশে থাকব।’

বক্তব্যের শেষদিকে সবাইকে চমকে দিয়ে নিজের ঝুঁটি কেটে ফেলেন সাহলানি। এ সময় কুর্দি ভাষায় তিনি বলেন, ‘জিন, জিয়ান, আজাদি’; যার অর্থ- নারী, জীবন, স্বাধীনতা।

ইরানে নারীদের এমন হিজাব করতে হয়, যেন তাদের চুল দেখা না যায়। কুর্দি নারী মাহসা আমিনি ১৩ সেপ্টেম্বর ইরানি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এই পোশাক কোড না মানার দায়ে। তিন দিন পর পুলিশি হেফাজতে মারা যান ২২ বছরের মাহসা।

পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও, পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়। মাহসার মৃত্যুর পর রাস্তায় বিক্ষোভের পাশাপাশি ফেসবুক টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের মধ্যেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা ইরানে।

অনেকেই হিজাব খুলে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, কেউ কেউ নিজেদের চুল কেটে ইরান সরকারের চাপিয়ে দেয়া পোশাকের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। #HairForFreedom ট্যাগে প্রতিবাদী এসব ইরানি নারীর প্রতি সংহতি জানাচ্ছেন তুরস্ক, লেবানন ও ফ্রান্সের নারীরাও। যুক্ত হচ্ছেন তারকা ও রাজনৈতিক নেত্রীরাও।

আরও পড়ুন:
আমেরিকা-ইসরায়েলের নকশায় বিক্ষোভ: খামেনি
ইরানে এক দিনেই নিহত ৪১, তেহরানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাণ্ডব
ইরানে বিক্ষোভের ঘটনায় বিদেশিদেরও গ্রেপ্তার
ইরানে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চায় অ্যামনেস্টি
নরওয়েতে ইরানবিরোধী বিক্ষোভে টিয়ার শেল, আটক ৯০

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Oscar winning actresses next to Iranian women with shaved heads

মাথার চুল কেটে ইরানি নারীদের পাশে অস্কারজয়ী অভিনেত্রীরা

মাথার চুল কেটে ইরানি নারীদের পাশে অস্কারজয়ী অভিনেত্রীরা জুলিয়েট বিনোচে (বাঁয়ে) এবং মেরিয়ন কোটিলার্ড। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও-তে দ্য ইংলিশ পেশেন্ট অভিনেত্রী বিনোচেকে নিজের এক মুঠো চুল কেটে ফেলতে দেখা গেছে। তিনি জানান, তার এই বিসর্জন ‘স্বাধীনতার জন্য’।

ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলমান বিক্ষোভে সংহতি জানিয়েছেন অস্কারজয়ী জুলিয়েট বিনোচে এবং মেরিয়ন কোটিলার্ডসহ বেশ কয়েকজন তারকা অভিনেত্রী। ইরানে বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে তারা নিজেদের চুল কেটে ফেলেছেন।

ব্রিটিশ অভিনেতা শার্লট র‌্যাম্পলিং, শার্লট গেইনসবার্গ এবং সঙ্গীতশিল্পী জেন বার্কিনও চুল কেটে ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এমন প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদের স্ত্রী জুলি গেয়েতও।

হিজাব ইস্যুতে গ্রেপ্তার কুর্দি নারী মাহসা আমিনি ১৬ সেপ্টেম্বর মারা গেলে, বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ইরানের জনগণ। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও, পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়।

মাথার চুল কেটে ইরানি নারীদের পাশে অস্কারজয়ী অভিনেত্রীরা
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যান মাহসা আমিনি

মাহসার মৃত্যুর পর রাস্তায় বিক্ষোভের পাশাপাশি ফেসবুক টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের মধ্যেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা ইরানে।

অনেকেই হিজাব খুলে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, কেউ কেউ নিজেদের চুল কেটে ইরান সরকারের চাপিয়ে দেয়া পোশাকের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। #HairForFreedom ট্যাগে প্রতিবাদী এসব ইরানি নারীর প্রতি সংহতি জানাচ্ছেন তুরস্ক, লেবানন এবং ফ্রান্সের নারীরাও।

ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও-তে দ্য ইংলিশ পেশেন্ট অভিনেত্রী বিনোচেকে নিজের এক মুঠো চুল কেটে ফেলতে দেখা গেছে। তিনি জানান, তার এই বিসর্জন ‘স্বাধীনতার জন্য’।

soutienfemmesiran নামে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ব্রিটিশ অভিনেত্রী গেইনসবার্গকে দেখা যায়, মা বির্কিনের চুল কেটে দিচ্ছেন তিনি। soutienfemmesiran (সোটিনফেমেসিরান) এর অর্থ- ইরানি নারীর প্রতি সমর্থন।

ভিডিও-র একটি পোস্টে লেখা হয়েছে, এই নারী, পুরুষরা সমর্থন চাইছে। তাদের সাহস এবং একাগ্রতায় আমরা মুগ্ধ। প্রতিবন্ধকতাগুলো ছেঁটে ফেলে আমরা তাদের সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আরও পড়ুন:
ইরানে এক দিনেই নিহত ৪১, তেহরানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাণ্ডব
ইরানে বিক্ষোভের ঘটনায় বিদেশিদেরও গ্রেপ্তার
ইরানে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চায় অ্যামনেস্টি
নরওয়েতে ইরানবিরোধী বিক্ষোভে টিয়ার শেল, আটক ৯০
ইরান সরকারের রোষানলে সাংবাদিকরাও

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Syphilis outbreak in Europe hits sex workers head on

ইউরোপে সিফিলিসের প্রকোপ, যৌনকর্মীদের মাথায় হাত

ইউরোপে সিফিলিসের প্রকোপ, যৌনকর্মীদের মাথায় হাত সিফিলিস আতঙ্কে কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের যৌনকর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত
সিফিলিস মূলত পেলিডাম দ্বারা সৃষ্ট একটি যৌনবাহিত রোগ। সংক্রমণের প্রাথমিক পথ যৌন সংস্পর্শ; এ ছাড়া রক্ত পরিসঞ্চালন, চুম্বন, চামড়ায় আঘাত এবং গর্ভাবস্থায় বা জন্মের সময় মায়ের কাছ থেকে ভ্রূণে সংক্রমিত হতে পারে।

ইউরোপে ব্যাপক মাত্রায় ছড়িয়েছে যৌনবাহিত রোগ- সিফিলিস। সংক্রমণ থেকে বাঁচতে কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের যৌনকর্মীরা। এই অবস্থায় দেশটিতে হুমকিতে পড়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো পেশাটি।

সিফিলিস মূলত পেলিডাম দ্বারা সৃষ্ট একটি যৌনবাহিত রোগ। সংক্রমণের প্রাথমিক পথ যৌন সংস্পর্শ; এ ছাড়া রক্ত পরিসঞ্চালন, চুম্বন, চামড়ায় আঘাত এবং গর্ভাবস্থায় বা জন্মের সময় মায়ের কাছ থেকে ভ্রূণে সংক্রমিত হতে পারে।

যৌনকর্মী থেকে যৌন শিক্ষাবিদ বনে যাওয়া লিয়ান ইয়ং বলেন, ‘যদিও এটা ভয়ঙ্কর, তবে এই দুর্যোগে যুক্তরাজ্যের যৌনকর্মীদের এক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাদের এখন পেশাদার আরচণ করা উচিত। সেক্স ইন্ড্রাস্টির নিরাপত্তার বিষয়গুলো নিয়ে আওয়াজ তুলতে হবে।’

ইয়াং আটজন যৌনকর্মীর সঙ্গে কথা বলেছেন এই রোগ নিয়ে, যারা সিফিলিস আতঙ্কে কাজ ছেড়ে দিয়েছেন।

ইয়াং বলেন, ‘তারা রোজগার হারাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে সবাইকে একত্রিত হতে হবে। এতেই মিলবে সমাধান।

‘কয়েক বছর ধরেই একটি ইউনিয়ন চাইছে এ পেশায় জড়িতরা। যুক্তরাজ্যে এ ধরনের একটি ইউনিয়ন গড়ে তুলতে ইউএস ইউনিয়ন দ্য অ্যাডাল্ট পারফরম্যান্স আর্টিস্ট গিল্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালানা ইভান্সের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছি।’

ঢালাও স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে পেশাদার যৌনকর্মীদের সুরক্ষা দেয়া সবচেয়ে সহজ সমাধান। আমেরিকা ও ইউরোপের যৌনকর্মীদের ৭ বা ১৪ দিন পরপর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। তবে যুক্তরাজ্যে ২৮ দিন পর পর এই পরীক্ষা হয়।

ইউরোপের দেশটিতে সিফিলিস দ্রুত ছড়িতে পড়তে পারে বলে উদ্বেগে আছেন লিয়ান ইয়ং। তিনি বলেন, ‘যৌনকর্মীরাও মানুষ। তাদের উচিত, পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড এবং পুলিশের সঙ্গে শক্ত যোগাযোগ স্থাপন করা। আর এ জন্য প্রয়োজন একটি ইউনিয়ন।’

যুক্তরাষ্ট্রের যৌনকর্মীর স্বাস্থ্যের তথ্য সংগ্রহে রাখে পাস নামে একটি সংস্থা। এটি জানায়, ইউরোপে সিফিলিসে আক্রান্ত কয়েকজন যৌনকর্মীর তথ্য পেয়েছে তারা। সেক্স ইন্ড্রাস্টির খবর ছাপানো প্রকাশনা সংস্থা Xbiz-এ গত সপ্তাহে একটি সতর্কতাও দেয়া হয়েছিল

ইউরোপে এসটিডি পরীক্ষার মান অতোটা ভালো না। অন্যদিকে পাস আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোপে কাজ করে না। এ জন্য তাদের কাছে যৌনরোগে আক্রান্তদের সঠিক হিসাব রাখা সম্ভব হয় না।

ইউনিয়ন গড়ে অবশ্য এসটিডি প্রাদুর্ভাব ঠেকানোর নিশ্চয়তা নেই। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিএসডি) সেপ্টেম্বরে জানায়, গত বছরের চেয়ে ২৬ শতাংশ বেড়েছে তাদের দেশে সিফিলিসে আক্রান্ত।

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Iran protests killed 150 schoolchildren on the streets

ইরান বিক্ষোভে ১৫০ ছাড়াল মৃত্যু, স্কুলছাত্রীরাও রাস্তায়

ইরান বিক্ষোভে ১৫০ ছাড়াল মৃত্যু, স্কুলছাত্রীরাও রাস্তায় ইরানের নেতাদের প্রতি ক্ষোভ জানাচ্ছে একদল স্কুলছাত্রী। ছবি: টুইটার
ইরানে মঙ্গলবার পর্যন্ত নিহত হয়েছেন অন্তত ১৫৪ জন। এর মধ্যে সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশের জাহেদান শহরে সবচেয়ে বেশি ৬৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পর ইরানের স্কুলছাত্রীরাও যোগ দিয়েছে প্রতিবাদে।

ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। পুলিশি হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর সঙ্গে এক পুলিশ কর্মকর্তার হাতে বালুচ কিশোরীর ধর্ষণের ঘটনা ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

মাহসার মৃত্যুর পর ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভে নিহত হয়েছেন অন্তত ১৫৪ জন। তাদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা অন্তত ৯, প্রতিবাদে অংশ নেয়া বেশ কয়েকজন নারীও প্রাণ হারিয়েছেন।

প্রতিবাদকারীদের দমনে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ব্লকসহ ইন্টারনেটে ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে এর পরও থামছে না বিক্ষোভ-সহিংসতা।

নারীর পোশাকের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার দাবিতে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পর ইরানের স্কুলছাত্রীরাও যোগ দিয়েছে প্রতিবাদে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায় স্কুলের ভেতরে ছাত্রীরা মাথার হিজাব খুলে ‘স্বৈরাচারের মৃত্যু চাই’ স্লোগান দিচ্ছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির ছবি পদদলিত করতেও দেখা গেছে। রাস্তার বিক্ষোভেও যোগ দিয়েছে স্কুলছাত্রীরা।


চলমান বিক্ষোভে অংশ নেয়া দুই কিশোরীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ইরানের নৈতিকতা পুলিশের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে ১৬ বছর বয়সী সারিনা ইসমাইলজাদেহর মাথায় লাঠির (ব্যাটন) মাথায় আঘাত করা হয়।

ইরান বিক্ষোভে ১৫০ ছাড়াল মৃত্যু, স্কুলছাত্রীরাও রাস্তায়
ইরানি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রতিবাদী গ্রাফিক ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে

অসলোভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটসের (আইএইচআর) সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ইরান বিক্ষোভে নিহত হয়েছেন অন্তত ১৫৪ জন। এর মধ্যে সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশের জাহেদান শহরে সবচেয়ে বেশি ৬৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশের চাবাহার শহরের পুলিশ প্রধানের হাতে এক কিশোরী ধর্ষণের প্রতিবাদ জানাতে জাহেদানে ৩০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার জুমার নামাজের পর শুরু হয় বিক্ষোভ। এতে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে বহু মানুষ হতাহত হন। বেলুচ অ্যাক্টিভিস্ট ক্যাম্পেইন সেদিন নিহত ৪১ জনের নাম প্রকাশ করে। তবে পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৩-তে পৌঁছায় বলে জানিয়েছে আইএইচআর।

জাহেদানে বিক্ষোভের সময় সিস্তান-বেলুচিস্তানে ইসলামী বিপ্লবি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা প্রধান আলী মুসাভিও গুলিবিদ্ধ হন। পরে হাসপাতালে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

ইরান বিক্ষোভে ১৫০ ছাড়াল মৃত্যু, স্কুলছাত্রীরাও রাস্তায়
হিজাব খুলে ইরানি স্কুলছাত্রীদের প্রতিবাদ

আইএইচআর বলছে, গত সোমবার নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে ওই প্রদেশে আরও চারজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেলেও এখনও স্বাধীনভাবে এর সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

এসব ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন আইএইচআরের পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম। তিনি বলেন, ‘ইরানে, বিশেষ করে জাহেদানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা একটি মানবতাবিরোধী অপরাধের সমান। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এটিসহ ইরানের সম্প্রতি অন্য অপরাধগুলোর তদন্ত করা।’

অসলোভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি বলছে, ইরানের ১৭টি প্রদেশে এখন পর্যন্ত প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সী রয়েছে অন্তত ৯ জন।

চলমান বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের ‘ইসরায়েলের সেনা’ হিসেবে অভিহিত করছে সরকার ও হিজাবপন্থিরা। এরই মধ্যে তারাও বিক্ষোভ করেছে এবং সেই বিক্ষোভ সরাসরি সম্প্রচার করা হয় ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে।

ইরান বিক্ষোভে ১৫০ ছাড়াল মৃত্যু, স্কুলছাত্রীরাও রাস্তায়
বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ইরানের বিভিন্ন প্রদেশে

কুর্দি নারী মাহসা আমিনিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ গ্রেপ্তার করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব করেননি।

পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসা অসুস্থ হয়ে পড়েন, এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়।

ইরান বিক্ষোভে ১৫০ ছাড়াল মৃত্যু, স্কুলছাত্রীরাও রাস্তায়
পুলিশি হেফাজতে মারা যাওয়া মাহসা আমিনি

মাহসার মৃত্যুর পর রাস্তায় বিক্ষোভের পাশাপাশি ফেসবুক ও টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ।

ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পরই নারীদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়। দেশটির ধর্মীয় শাসকদের কাছে নারীদের জন্য এটি ‘অতিক্রম-অযোগ্য সীমারেখা’। বাধ্যতামূলক এই পোশাকবিধি মুসলিম নারীসহ ইরানের সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের নারীদের জন্য প্রযোজ্য।

হিজাব আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের জন্য চলতি বছরের ৫ জুলাই ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি একটি আদেশ জারি করেন। এর মাধ্যমে ‘সঠিক নিয়মে’ পোশাকবিধি অনুসরণ না করা নারীদের সরকারি সব অফিস, ব্যাংক এবং গণপরিবহনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গত জুলাইয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #no2hijab হ্যাশট্যাগ দিয়ে শুরু হয় প্রতিবাদ। দেশটির নারী অধিকারকর্মীরা ১২ জুলাই সরকারঘোষিত জাতীয় হিজাব ও সতীত্ব দিবসে প্রকাশ্যে তাদের বোরকা ও হিজাব সরানোর ভিডিও পোস্ট করেন।

আরও পড়ুন:
ইরানে বিক্ষোভের ঘটনায় বিদেশিদেরও গ্রেপ্তার
ইরানে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চায় অ্যামনেস্টি
নরওয়েতে ইরানবিরোধী বিক্ষোভে টিয়ার শেল, আটক ৯০
ইরান সরকারের রোষানলে সাংবাদিকরাও
ইরান বিক্ষোভে সংহতি জানাতে আফগান নারীরাও রাস্তায়

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Nobel Prize in Chemistry 3 scientists

রসায়নে নতুন অধ্যায়ের ভিত্তি দিয়ে ৩ বিজ্ঞানীর নোবেল জয়

রসায়নে নতুন অধ্যায়ের ভিত্তি দিয়ে ৩ বিজ্ঞানীর   নোবেল জয় ক্লিক কেমিস্ট্রি ও বায়োঅর্থোগোনাল কেমিস্ট্রিতে গবেষণা করে এ পুরস্কার পেয়েছেন কে ব্যারি শার্পলেস, মর্টেন মেলডাল ও ক্যারোলাইন আর বারটোজ্জি। ছবি: টুইটার
নোবেল কমিটি বলেছে, রসায়নের কঠিন প্রক্রিয়াকে সহজ করতে ভূমিকা রেখেছেন এই তিন বিজ্ঞানী। কে ব্যারি শার্পলেস এবং মর্টেন মেলডাল ক্লিক কেমেস্ট্রি নামে রসায়নের একটি কার্যকর রূপের ভিত্তি দিয়েছেন। অন্যদিকে ক্যারোলাইন আর বারটোজ্জি ক্লিক কেমেস্ট্রিকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গিয়ে জীবন্ত প্রাণীতে ব্যবহার শুরু করেন।

পদার্থবিজ্ঞানের পর এবার রসায়নেও নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন বিজ্ঞানী। ‘ক্লিক কেমিস্ট্রি’ ও ‘বায়োঅর্থোগোনাল কেমিস্ট্রি’র ভিত্তি দিয়ে এ পুরস্কার জয় করেছেন আমেরিকার ক্যারোলাইন আর বারটোজ্জি, কে ব্যারি শার্পলেস এবং ডেনমার্কের মর্টেন মেলডাল।

নোবেল কমিটি বলেছে, রসায়নের কঠিন প্রক্রিয়াকে সহজ করতে ভূমিকা রেখেছেন এই তিন বিজ্ঞানী। কে ব্যারি শার্পলেস এবং মর্টেন মেলডাল ক্লিক কেমেস্ট্রি নামে রসায়নের একটি কার্যকর রূপের ভিত্তি দিয়েছেন, যেখানে আণবিক গঠনগুলো দ্রুত এবং সুদক্ষভাবে সংগঠিত হয়। অন্যদিকে ক্যারোলাইন আর বারটোজ্জি ক্লিক কেমেস্ট্রিকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গিয়ে জীবন্ত প্রাণীতে ব্যবহার শুরু করেন।

ব্যারি শার্পলেস ২০০১ সালেও রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েেছিলেন। তিনি ২০০০ সালের দিকে ‘ক্লিক কেমিস্ট্রি’র ধারণাটি তৈরি করেন। এটি একটি সহজ ও নির্ভরযোগ্য রসায়ন, যেখানে রাসায়নিক প্রক্রিয়া বেশ দ্রুত ঘটে এবং অবাঞ্ছিত উপজাতগুলো এড়ানো সম্ভব।

এর কিছুদিনের মধ্যে মর্টেন মেলডাল এবং ব্যারি শার্পলেস স্বতন্ত্রভাবে কাজ করে এমন এক প্রক্রিয়া উপস্থাপন করেন যাকে ক্লিক কেমিস্ট্রির ‘মুকুট রত্ন’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই প্রক্রিয়ার নাম দ্য কপার ক্যাটালাইজড অ্যাজাইড-অ্যালকাইন সাইক্লোঅ্যাডিশন।

মার্জিত ও দক্ষ এই রাসায়নিক প্রক্রিয়া এখন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত। ওষুধের উন্নয়ন, ডিএনএ মানচিত্রতৈরিসহ বিভিন্ন উপকরণ তৈরিতে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ক্যারোলাইন আর বারটোজ্জি ক্লিক কেমেস্ট্রিকে একটি নতুন স্তরে নিয়ে গেছেন। কোষপৃষ্ঠের গুরুত্বপূর্ণ অধচ অধরা জৈব অণু গ্লাইক্যানসের মানচিত্র তৈরিতে তিনি জীবন্ত প্রাণীর অভ্যন্তরে কাজ করতে সক্ষম ক্লিক রিঅ্যাকশন তৈরি করেন। কোষের স্বাভাবিক রসায়ন ব্যাহত না করেই তার বায়োঅর্থোগোনাল রিঅ্যাকশনটি কাজ করে।

এই রাসায়নিক প্রক্রিয়া এখন কোষের প্রকৃতি অন্বেষণ এবং জৈবিক প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত হচ্ছে। বায়োঅর্থোগোনাল রিঅ্যাকশন প্রয়োগ করে গবেষকেরা ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে ওষুধের মান উন্নয়ন করেছেন, যেগুলোর এখন ক্লিনিকাল ট্রায়াল চলছে।

নোবেল কমিটি বলছে, ক্লিক কেমেস্ট্রি এবং বায়োঅর্থোগোনাল রিঅ্যাকশন রসায়ন বিদ্যাকে কার্যকারিতার যুগে পৌঁছে দিয়েছে। এর ফলে উপকৃত হচ্ছে গোটা মানবজাতি।

রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অফ সায়েন্সেস বুধবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে এ পুরস্কার ঘোষণা করে।

জৈব-অনুঘটন বিক্রিয়া আবিষ্কারের জন্য গতবার রসায়নের নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন বেঞ্জামিন লিস্ট ও ডেভিড ডব্লিউ সি ম্যাকমিলান নামের দুই বিজ্ঞানী।

এ বছরের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা শুরু হয় সোমবার। প্রথম দিন চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল জয় করেন সুইডিশ বিজ্ঞানী এসভান্তে পেবো।

পরদিন মঙ্গলবার ঘোষণা করা হয় পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল। এ পুরস্কার পান তিন দেশের তিন বিজ্ঞানী। তারা হলেন ফ্রান্সের অ্যালাঁ আসপে, যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ ক্লাউসার ও অস্ট্রিয়ার আন্টন সেইলিংগার।

অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে ১০ অক্টোবর শেষ হবে এবারের মোট ছয়টি শাখায় নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা। আগামী ডিসেম্বরে সুইডেনের স্টকহোমে নোবেল সপ্তাহে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেয়া হবে পুরস্কারের পদক, সনদ ও অর্থ।

সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের নামে ও তার রেখে যাওয়া অর্থে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেয়া শুরু হয়। প্রতি বছর চিকিৎসা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিতে দেয়া হয় বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার।

আরও পড়ুন:
বিকেলে রসায়নে নোবেল পুরস্কার জয়ীর নাম ঘোষণা
কোয়ান্টাম গবেষণায় পদার্থবিদ্যায় ৩ বিজ্ঞানীর নোবেল জয়
পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল ঘোষণা বিকেলে

মন্তব্য

p
উপরে