× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

স্বাস্থ্য
Coronas fourth wave No more lockdown this time
hear-news
player
print-icon

করোনার চতুর্থ ঢেউ: এবার আর লকডাউন নয়

করোনার-চতুর্থ-ঢেউ-এবার-আর-লকডাউন-নয়-
করোনাভাইরাসের চতুর্থ ঢেউ ছড়িয়ে পড়া নিশ্চিত হলেও আপাতত কঠোর কোনো অবস্থানে যাচ্ছে না প্রশাসন। জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপরই আপাতত জোর দেয়া হবে। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনা ১৫ দিন আগেও অনেক কম ছিল, এক শর নিচে ছিল। এখন অনেক বেড়েছে। আমরা লাগাম টেনে ধরতে চাই। এটা শুধু আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এভাবেই কমানো সম্ভব। সংক্রমণ থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো মাস্ক পরা।’

করোনার প্রথম থেকে তৃতীয় ঢেউয়ে প্রতিবার নানা নামে লকডাউনের মতো বিধিনিষেধ দেয়া হলেও অর্থনীতির বিবেচনায় এবার আর সেই পথে হাঁটছে না সরকার।

ভাইরাসটির চতুর্থ ঢেউ ছড়িয়ে পড়া নিশ্চিত হলেও আপাতত কঠোর কোনো অবস্থানে যাচ্ছে না প্রশাসন। জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপরই আপাতত জোর দেয়া হবে।

সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এর আগে দুইবার কঠোর বিধিনিষেধের কারণে অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সে সময় মানুষের মৃত্যুর হার ও আক্রান্তদের মধ্যে জটিলতা ছিল বেশি। সে কারণে অর্থনীতির সেই ক্ষতি মেনে নিতে হয়েছে। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। রোগী বাড়লেও এবার ভাইরাসটির যে ধরন ছড়াচ্ছে, সেটি রোগীদের মধ্যে জটিলতা তৈরি করছে না সেভাবে। মৃত্যুর হারও কম।

করোনার চতুর্থ ঢেউ: এবার আর লকডাউন নয়

কঠোর কোনো অবস্থানে না গিয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপরই আপাতত জোর দিচ্ছে প্রশাসন। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

তাছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানা কারণে বিশ্ব অর্থনীতি এখন চাপে। বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির যে সমস্যা, তার বাইরে নয় বাংলাদেশও। নিত্যপণ্যের দাম দিয়েছে লাফ। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মনস্তাত্ত্বিক চাপ। এর মধ্যে দেশের পূর্বাঞ্চলে দেখা দিয়েছে বন্যা, উত্তরের কোথাও কোথাও একই সমস্যা। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন হয়ে গেছে কঠিন। এই পরিস্থিতিতে অর্থনীতির ক্ষতি হতে পারে, এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে আরও অপেক্ষা করতে চায় সরকার।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনা ১৫ দিন আগেও অনেক কম ছিল, এক শর নিচে ছিল। এখন অনেক বেড়েছে। আমরা লাগাম টেনে ধরতে চাই। এটা শুধু আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এভাবেই কমানো সম্ভব। সংক্রমণ থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো মাস্ক পরা।’

তিনি বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে আমরা নির্দেশ দিয়েছি মাস্ক পরার নিশ্চিত করার জন্য। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ একটি চিঠিও দিয়েছে। সেখানে আমাদের সুপারিশ থাকে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে মাস্ক পরানো, শাস্তি দিয়ে বা কোনো পেনাল্টি দিয়ে না। আমরা তাদের আহ্বান করব, কারণ তাদের মঙ্গলের জন্যই তো এ কাজটি করি। তারপরেও যদি সরকার দেখে যে এখানে ব্যত্যয় ঘটছে, তাহলে কোনো পদক্ষেপ নিতেই সরকার দ্বিধা করবে না। কারণ, আমাদের দেশকে তো করোনামুক্ত রাখতে হবে, সব সচল রাখতে হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও জোর দিচ্ছেন মাস্ক ব্যবহারের ওপর। তিনি বলেন, ‘কোরবানির হাট হোক, মসজিদ হোক, যেকোনো জনসমাগমে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে যে নির্দেশ দিয়েছে সেটি মেনে চলতে হবে।’

করোনা পরিস্থিতির অবনতিতে সব সরকারি চাকরিজীবীদের এরই মধ্যে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করে নির্দেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

করোনার তৃতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার পর বৃহস্পতিবার গত সাড়ে তিন মাসের মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত এক দিনে ভাইরাসটিতে মৃত্যু হয়েছে চারজনের। এর চেয়ে বেশি মৃত্যু হয় গত ১১ মার্চ। সেদিন ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়।

করোনার চতুর্থ ঢেউ: এবার আর লকডাউন নয়

সরকার আবার ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ নীতি ঘোষণা করলেও ভ্রুক্ষেপ নেই সাধারণের। মাস্ক পরছে খুব কমসংখ্যক মানুষই। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

এ নিয়ে ভাইরাসটিতে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ২৯ হাজার ১৪৯ জন।

করোনার তৃতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার পর গত ১৬ জুন প্রথমবারের মতো পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৫ শতাংশ ছাড়ায়। টানা ১৪ দিন ৫ শতাংশের বেশি শনাক্তের হার পাওয়া যাওয়ার পর দেশে চতুর্থ ঢেউ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থায় শনাক্তের হার পরপর দুই সপ্তাহ ৫ শতাংশের বেশি হলে পরবর্তী ঢেউ ছড়িয়েছে বলে ধরা হবে। সেই হিসাবে দেশে এখন করোনার চতুর্থ ঢেউ চলছে।

কঠোর ব্যবস্থা ছিল আগের ঢেউগুলোতে

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর ধীরে ধীরে সংক্রমণ বাড়তে থাকে।

ওই মাসের ২৫ তারিখে সরকার সাধারণ ছুটি নাম দিয়ে অফিস আদালত, যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। টানা ৬৬ দিন চালু থাকে এই ব্যবস্থা।

প্রথম ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে। একই বছরের মার্চে ডেল্টা ধরনের করোনায় আসে দ্বিতীয় ঢেউ। তবে ওই মাসের শেষ থেকে সংক্রমণ আবার বাড়তে থাকে।

করোনার চতুর্থ ঢেউ: এবার আর লকডাউন নয়

মাস্ক ব্যবহারের বিষয়ে জনগণের উদাসীনতা চলতে থাকলে করোনা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

এর মধ্যে ভারতে করোনার এই ধরনটি ব্যাপক প্রাণহানির কারণ হতে থাকে। আর দেশেও ভাইরাসটির উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়ার পর ৫ এপ্রিল দেশ যায় বিধিনিষেধে। শুরুতে মন্ত্রীরা লকডাউনের কথা বললেও পরে লিখিত আদেশে ‘কঠোর বিধিনিষেধ’-এর কথা বলা হয়।

এই বিধিনিষেধ পরে ধাপে ধাপে শিথিল করা হয়। তবে এর মধ্যে করোনা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয় জুলাইয়ে। একপর্যায়ে শনাক্তের হার ৩৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।

সে সময় বিধিনিষেধ আরও কঠোর করা হয়। মন্ত্রীরা শুরুতে বিধিনিষেধকে ‘শাটডাউন’ বলে আখ্যা দেন। জনগণকে ঘরে রাখতে মোতায়েন করা হয় সেনাবাহিনীও। পরে ধাপে ধাপে শাটডাউন শিথিল হতে হতে আগস্টের শেষে তা তুলে নেয়া হয়।

২০২০ সালের মার্চে বন্ধ করে দেয়া স্কুল-কলেজ তখনও খোলেনি। শাটডাউন তুলে নেয়ার পর সেপ্টেম্বর থেকে ধাপে ধাপে সশরীরে ক্লাস শুরু হতে থাকে শিক্ষাঙ্গনে।

একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণে চলে আসে করোনার দ্বিতীয় ঢেউও। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকেনি খুব বেশি। চলতি বছরের শুরুতে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন নিয়ে আসে তৃতীয় ঢেউ।

তৃতীয় ঢেউয়ের ২৮ জানুয়ারি করোনা শনাক্তের হার ৩৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ দাঁড়ায়, যা দেশে করোনা সংক্রমণ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি।

তবে তৃতীয় ঢেউয়ে আক্রান্ত বেশি হলেও মৃত্যু ছিল তুলনামূলক কম। আর আগের দুই ঢেউয়ের মতো এবার সরকার অতটা কঠোর সিদ্ধান্তে যায়নি। তবে অর্ধেক জনবলে অফিস করার পাশাপাশি টিকা কার্যক্রমের ওপর জোর দেয়া হয়।

করোনার এই ঢেউ দ্রুত নিয়ন্ত্রণেও আসে। গত ১১ মার্চ তৃতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। তৃতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মাস্ক পরা ছাড়া করোনাসংক্রান্ত সব বিধিনিষেধ তুলে দেয়া হয়। তবে জনগণের মধ্যে মাস্ক পরা নিয়ে অনীহার বিষয়টি আবার দেখা যায়। করোনা সংক্রমণ ক্রমেই বাড়তে থাকলেও এ বিষয়ে সচেতনতার অভাবের বিষয়টি এখনও স্পষ্ট।

গত ১৬ জুন পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার আবার ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার পর স্পষ্ট হতে থাকে করোনার আরও একটি ঢেউ আসছে। প্রায় প্রতিদিনই শনাক্তের হার ও শনাক্তের সংখ্যা আগের দিনকে ছাড়িয়ে এখন দিনে শনাক্ত ছাড়িয়েছে দুই হাজার।

তবে এবার মৃত্যুর সংখ্যা তৃতীয় ঢেউয়ের চেয়ে কম। গত সাড়ে তিন মাসে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে ৪ জন, যা দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় একপর্যায়ে ২০০ ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

চতুর্থ ঢেউয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ কম থাকার বিষয়টিও স্পষ্ট। সরকার আবার ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ নীতিতে ফিরলেও মানুষ খুব একটা উৎসাহ দিচ্ছে না। আর সরকার এবার আগের মতো মাস্ক নিয়ে কোনো অভিযান চালাচ্ছে না।

আরও পড়ুন:
ব্যাংকে আবারও ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’
করোনার চতুর্থ ঢেউয়ে সাড়ে তিন মাসের সর্বোচ্চ মৃত্যু
করোনার চতুর্থ ঢেউয়েও মাস্কে অনীহা
করোনার চতুর্থ ঢেউয়ে বাংলাদেশ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

স্বাস্থ্য
The circle behind Bangabandhus assassination must be identified Chief Justice

বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনের চক্রকে চিহ্নিত করতে হবে: প্রধান বিচারপতি

বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনের চক্রকে চিহ্নিত করতে হবে: প্রধান বিচারপতি বইয়ের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। ছবি: নিউজবাংলা
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ঘটনায় মনে হয়নি বাঙালিরা মানুষ হয়েছে। তার কারণ বঙ্গবন্ধুকে যারা গুলি করে হত্যা করেছে তারাও বাঙালি ছিল। এখন প্রশ্ন হচ্ছে বঙ্গবন্ধুকে যারা সামনে থেকে গুলি করেছে, যারা স্বীকার করেছে হত্যার কথা, শুধুমাত্র তারাই কি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে? এর পেছনে অনেক বড় চক্র ছিল। এখন প্রয়োজন এর পেছনে কারা ছিল সেটি বের করা।’

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যায় ‘পেছনে কারা কলকাঠি নেড়েছে’ তা চিহ্নিত করা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের অডিটোরিয়ামে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এ এন এম বসির উল্লাহ রচিত এক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ঘটনায় মনে হয়নি বাঙালিরা মানুষ হয়েছে। তার কারণ বঙ্গবন্ধুকে যারা গুলি করে হত্যা করেছে তারাও বাঙালি ছিল। এখন প্রশ্ন হচ্ছে বঙ্গবন্ধুকে যারা সামনে থেকে গুলি করেছে, যারা স্বীকার করেছে হত্যার কথা, শুধুমাত্র তারাই কি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে? এর পেছনে অনেক বড় চক্র ছিল। এখন প্রয়োজন এর পেছনে কারা ছিল সেটি বের করা।’

এসময় তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে যারা ছিল তাদের শনাক্ত করতে কমিশন গঠনের কথা উল্লেখ করে আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান ও বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের বক্তব্যকে সমর্থন করেন।

বিচার ব্যবস্থার গতি নিয়ে হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, ‘গত ছয় মাসে অধস্তন আদালতে মামলা নিষ্পত্তির সংখ্যা বেড়েছে। এটা অধস্তন আদালতের বিচারকদের প্রচণ্ড পরিশ্রমের ফল। বিচার কাজে গতি বেড়েছে, দূর্গতি কমেছে মানুষের। আসুন আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি, যাতে মানুষকে আদালতের বারান্দা থেকে দ্রুত বাড়ির বারান্দায় ফেরত পাঠাতে পারি।

‘আমার কাছে রোজ ৪০ থেকে ৫০টা চিঠি আসে। প্রত্যেকটা চিঠি আমি খুলে পড়ি। বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে আমার দায়িত্ব হচ্ছে বিচার প্রার্থীদের কষ্ট, দুঃখ দূর করা।’

বিশেষ অতিথি আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনের কুশীলবদের খুঁজে বের করতে কমিশন গঠনের বিষয়ে মত দেন।

অনুষ্ঠানে আপিল বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান, বিচারপতি বোরহান উদ্দিন, প্রফেসর ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন সহ অন্যরা।

'বিচারক জীবনের কথা মুনসেফ থেকে জেলা জজ’ নামে বইটি রচনা করেছেন বিচারপতি এ এন এম বসির উল্লাহ।

আরও পড়ুন:
বিচারপ্রার্থীরা আস্থা হারালে বিচার ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে: প্রধান বিচারপতি
বিচার বিভাগ শক্ত থাকলে শক্তিশালী হয় গণতন্ত্র: প্রধান বিচারপতি

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Jannatul went to the hotel with Rezaul

‘রেজাউলের সঙ্গেই হোটেলে যান জান্নাতুল’

‘রেজাউলের সঙ্গেই হোটেলে যান জান্নাতুল’ রেজাউল করিম ও জান্নাতুল নাঈম সিদ্দীক। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর পান্থপথের ‘ফ্যামিলি সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট’ নামের হোটেল থেকে বুধবার রাতে মরদেহটি উদ্ধার করে কলাবাগান থানা পুলিশ। ২৭ বছর বয়সী ওই চিকিৎসকের নাম জান্নাতুল নাঈম সিদ্দীক। তিনি ঢাকা কমিউনিটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস করেছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একটি কোর্সে পড়ছিলেন।

রাজধানীর পান্থপথের ফ্যামিলি সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট নামের আবাসিক হোটেলে বুধবার সকাল ৮টায় আসেন ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা রেজাউল করিম। সঙ্গে ছিলেন সদ্য এমবিবিএস পাশ করা জান্নাতুল নাঈম সিদ্দীক। হোটেলের কক্ষটি বাইরে থেকে তালা দিয়ে সাড়ে ১০টার দিকে বেরিয়ে যান রেজাউল। এরপর তিনি ফিরে আসেননি।

হোটেলটি থেকে বুধবার রাতে জান্নাতুলের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে কলাবাগান থানা পুলিশ। এরপর খোঁজ শুরু হয় রেজাউলের। অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে র‍্যাব চট্টগ্রাম মহানগরী থেকে রেজাউলকে গ্রেপ্তার করে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। তবে জান্নাতুলকে হত্যার কারণসহ রহস্যজট কাটেনি প্রাথমিক তদন্তে।

হোটেল স্টাফদের দেয়া তথ্য ও ফুটেজ বিশ্লেষনে জানা যায়, রেজাউল ও জান্নাতুল হোটেলের চতুর্থ তলার ৩০৫ নম্বর কক্ষে ছিলেন। রেজাউল বের হয়ে যাওয়ার পর কক্ষটি দীর্ঘ সময় বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। দীর্ঘসময় কক্ষ তালাবদ্ধ দেখে রাত ৯টার দিকে কলাবাগান থানা পুলিশকে খবর দেয় হোটেল কর্তৃপক্ষ। পরে পুলিশ ওই কক্ষের বিছানা থেকে গলাকাটা অবস্থায় জান্নাতুলের মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা শফিকুল আলম কলাবাগান থানায় মামলা করেছেন। আসামি করা হয়েছে রেজাউল ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের। জান্নাতুলকে কেন হত্যা করা হয়েছে, সে ব্যাপারে ধারণা দিতে পারেননি স্বজনরা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রেজাউল করিম রেজাকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে র‍্যাব জান্নাতুল হত্যার বিস্তারিত তথ্য জানাবে।

পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধারের পর ফ্যামিলি সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্টের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষন করা হয়। ওই হোটেলের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ভিকটিম ও আসামি ঘটনার আগেরদিনও স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলে যান। তারা বেলা ১টা থেকে বিকেল ৫ পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। বুধবার সকাল আটটায় তারা আবার যান সেখানে। কিন্তু দুই ঘণ্টা পর একা বেরিয়ে যান রেজাউল।

কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, বুধবার সকাল ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে নারী চিকিৎসককে হত্যা করা হয় বলে ধারণা মিলেছে। তবে কেন তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা জানা যায়নি। রেজাউলের সঙ্গে জান্নাতুল দুই দফা হোটেলটিতে যান, সে বিষয়ে প্রমাণ মিলেছে।

‘রেজাউলকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। এ দুজনের রুমে ঢোকার পর অন্য কাউকে সেখানে যেতে দেখা যায়নি। রেজাউল কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে বেরিয়ে যান।’

নিহত জান্নাতুলের গ্রামের বাড়ি নরসিংদী, রেজাউল করিমের বাড়ি কক্সবাজার। তাদের দুজনের সম্পর্ক পরিবার মেনে নেয়নি বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে জান্নাতুলের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে নেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
নারী চিকিৎসক হত্যায় যুবক আটক
রাজধানীর হোটেলে নারী চিকিৎসকের গলা কাটা দেহ

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Advance human welfare in disaster President

দুর্যোগে মানব কল্যাণে এগিয়ে আসুন: রাষ্ট্রপতি

দুর্যোগে মানব কল্যাণে এগিয়ে আসুন: রাষ্ট্রপতি
রোটারি ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট জেনিফার ই জোনস বঙ্গভবনে সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ গোটা বিশ্বকে অনেক বেশি অসহনীয় করে তুলছে। সংকট মোকাবিলায় রোটারিয়ানরা আরও বেশি অবদান রাখতে পারেন।

করোনার মতো মহামারিসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কল্যাণে রোটারিসহ মানবিক সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

বাংলাদেশ সফররত রোটারি ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট জেনিফার ই জোনস বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে সাক্ষাৎ করতে এলে রাষ্ট্রপতি এই আহ্বান জানান।

জেনিফার ই জোনস এ সময় রোটারি ইন্টারন্যাশনালের কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশে রোটারি ইন্টারন্যাশনালের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। করোনা মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত কর্মসূচিরও প্রশংসা করেন তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ গোটা বিশ্বকে অনেক বেশি অসহনীয় করে তুলছে বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। সংকট মোকাবিলায় রোটারিয়ানদের আরও বেশি অবদান রাখার আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন দেশের সরকার ও নাগরিকদের মধ্যে অংশীদারত্ব বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি। স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকারের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে সমাজের বিত্তবানদের উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেন রাষ্ট্রপ্রধান।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহ উদ্দিন ইসলাম, প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন এবং সচিব সংযুক্ত মো. ওয়াহিদুল ইসলাম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
মানবাধিকার রক্ষায় জাতীয় কমিশনকে নির্দেশ রাষ্ট্রপতির
ভারতের নতুন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়
বিচারকদের আরও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
সামরিক জাদুঘর পরিদর্শন করলেন রাষ্ট্রপতি
সৌদির সঙ্গে বাণিজ্যের যথেষ্ট সুযোগ আছে: রাষ্ট্রপতি

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Demand exemplary punishment for those involved in beating journalists

সাংবাদিক মারধরে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি

সাংবাদিক মারধরে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার কারওয়ান বাজারে সার্ক ফোয়ারায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন সংবাদকর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সার্ক ফোয়ারায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে গণমাধ্যমকর্মীরা বলেন, ‘দুর্নীতিবাজরা বার বার সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়ে ও মামলা করে তাদের দমিয়ে রাখতে চায়। সরকার গণমাধ্যম-বান্ধব হলেও নির্যাতনকারীদের বিচারের ব্যাপারে আন্তরিক নয়।’

সংবাদ সংগ্রহ করার সময় রাজধানীর কামরাঙ্গীর চরে ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের দুই সাংবাদিকের ওপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে কারওয়ান বাজার সার্ক ফোয়ারায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়েছে।

বিক্ষোভ সমাবেশে গণমাধ্যমকর্মীরা বলেন, কামরাঙ্গীরচরে ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহের জন্য যাওয়া সাংবাদিক হাসান মিসবাহ ও সাজু মিয়াকে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছে। তাদের টুঁটি চেপে ধরা মানে সাংবাদিকতার টুঁটি চেপে ধরা। জড়িতদের শাস্তি না হলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতেই থাকবে।

বক্তারা বলেন, দুর্নীতিবাজরা বার বার সাংবাদিকদের ওপর হামলা-মামলা করে তাদের দমিয়ে রাখতে চায়। সরকার গণমাধ্যম-বান্ধব হলেও নির্যাতনকারীদের বিচারের বিষয়ে আন্তরিক নয়।

হাসান মিসবাহ ও সাজু মিয়ার ওপর হামলাকারী পুলিশ সদস্য এসআই মিলনকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার পাশাপাশি গ্রেপ্তারেরও দাবি জানানো হয় মানববন্ধনে।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার দুপুরে কামরাঙ্গীরচরে এসপিএ রিভারসাইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালে ভুয়া ডাক্তারের বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহের সময় হামলার শিকার হন ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সিনিয়র সাংবাদিক হাসান মিসবাহ ও ক্যামেরাপারসন সাজু মিয়া। এ ঘটনায় পরদিন হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়। ওই মামলায় এসপিএ হাসপাতালের মালিক উসমানি ও জাহিদসহ গ্রেপ্তার চারজনকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
দুই সাংবাদিককে ক্লিনিক মালিক ও পুলিশের মারধর
ফরিদপুরে সাংবাদিককে মারধর: গ্রেপ্তার মেয়রের ভাই
ডিবিসির সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৮
ডিবিসির সাংবাদিকের ওপর হামলা
ফরিদপুরে সাংবাদিক পেটানোর ঘটনায় মামলা

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Young man arrested for murdering female doctor

নারী চিকিৎসক হত্যায় যুবক আটক

নারী চিকিৎসক হত্যায় যুবক আটক হোটেল থেকে উদ্ধার হওয়া নারী চিকিৎসকের মরদেহ রাখা হয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে। ছবি: নিউজবাংলা
রাজধানীর পান্থপথের ‘ফ্যামিলি সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট’ নামের হোটেল থেকে বুধবার রাতে মরদেহটি উদ্ধার করে কলাবাগান থানা পুলিশ। ২৭ বছর বয়সী ওই চিকিৎসকের নাম জান্নাতুল নাঈম সিদ্দীক। তিনি ঢাকা কমিউনিটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস করেছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একটি কোর্সে পড়ছিলেন।

রাজধানীর পান্থপথের একটি আবাসিক হোটেল থেকে নারী চিকিৎসকের গলা কাটা দেহ উদ্ধারের ঘটনায় এক যুবককে আটক করেছে র‍্যাব।

রেজাউল করিম নামের যুবককে চট্টগ্রাম মহানগরী থেকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

রাজধানীর পান্থপথের ‘ফ্যামিলি সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট’ নামের হোটেল থেকে বুধবার রাতে মরদেহটি উদ্ধার করে কলাবাগান থানা পুলিশ।

পরে পুলিশ জানায়, ২৭ বছর বয়সী ওই চিকিৎসকের নাম জান্নাতুল নাঈম সিদ্দীক। তিনি ঢাকা কমিউনিটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস করেছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একটি কোর্সে পড়ছিলেন।

কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ওই হোটেলে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে রেজাউল নামের একজনের সঙ্গে উঠেছিলেন জান্নাতুল। হোটেলটির চতুর্থ তলার ৩০৫ নম্বর কক্ষের বিছানার ওপর থেকে জান্নাতুলের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় র‍্যাব জানায়, সন্দেহভাজন যুবক রেজাউলকে আটক করা হয়েছে। তাকে জান্নাতুল হত্যার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

আরও পড়ুন:
রাজধানীর হোটেলে নারী চিকিৎসকের গলা কাটা দেহ

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Swiss Ambassador Lied Foreign Minister

সুইস রাষ্ট্রদূত মিথ্যা বলেছেন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সুইস রাষ্ট্রদূত মিথ্যা বলেছেন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
‘আজকেও আমি বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের সঙ্গে এটা নিয়ে কথা বলেছি। উনি আগে ফাইন্যান্স সেক্রেটারিও ছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, আমরা আগে তথ্য চেয়েছি, তারা কোনো রেসপন্স করেননি। তখন আমি বলেছি, এটা আপনি সবাইকে জানিয়ে দিন। বিকজ এভাবে মিথ্যা বলে পার পাওয়া উচিত নয়।’

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা জমা রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ কখনও সুইজারল্যান্ডের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য চায়নি বলে দেশটির রাষ্ট্রদূতের যে বক্তব্য রেখেছেন, তাকে সরাসরি মিথ্যা বলেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বক্তব্য দেবে জানিয়ে মন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসার পর তার মন্ত্রণালয় সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলবে। বলেছেন, ‘মিথ্যা বলে কারও পার পাওয়া উচিত নয়।’

বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য বলেন।

তিনি বলেন, ‘সেটা তারা মিথ্যা বলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও ফিন্যান্স সেক্রেটারি আমাকে আগে জানিয়েছিলেন, তারা তথ্য চেয়েছিলেন, তারা (সুইস ব্যাংক) উত্তর দেননি।’

সুইস রাষ্ট্রদূত যা বলেছিলেন

দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিকাব) আয়োজিত ‘ডিকাব টক’ অনুষ্ঠানে ঢাকায় সুইস রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ড জানান, তার দেশের কাছে বাংলাদেশ কারও বিষয়ে তথ্য জানতে চায়নি।

তিনি বলেন, ‘তথ্য পেতে হলে কী করতে হবে, সে সম্পর্কে আমরা সরকারকে জানিয়েছি, কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো তথ্যের জন্য আমাদের কাছে অনুরোধ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক মান অনুসারে আমরা যেকোনো ধরনের তথ্য আদান-প্রদানের জন্য কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম ও চুক্তি করতে পারি। ইতোম‌ধ্যে আমরা বাংলাদেশ সরকারকে এ বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে সব তথ্য সরবরাহ করে‌ছি।’

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের কত টাকা

সুইস ব্যাংক বলতে সুইজারল্যান্ডের কোনো একক ব্যাংককে বোঝায় না। সুইস নাশনাল ব্যাংক বলতে যে প্রতিষ্ঠানটি আছে, সেটি দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশটির যেকোনো ব্যাংকে রাখা টাকাই সুইস ব্যাংকের টাকা হিসেবে আলোচনায় আসে।

গত জুনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী সুইস ব্যাংকগুলোতে এখন বাংলাদেশিদের অর্থের পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮ হাজার ২৭৫ কোটি টাকার বেশি। টাকার অবমূল্যায়নে এই অঙ্ক এখন ৯ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে গত ১২ মাসে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ জমা হয়েছে।

এই অর্থ জমা নিয়ে বরাবর তুমুল বিতর্ক হয় বাংলাদেশে। সমালোচকরা বলে আসছেন, বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ এটি।

অবশ্য বাংলাদেশ থেকে নানাভাবে অবৈধ উপায়ে পাচার হওয়া অর্থ যেমন সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে জমা হয়, তেমনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাও দেশটিতে অর্থ জমা রাখেন। তাই সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশিদের মোট অর্থের মধ্যে বৈধ-অবৈধ সব অর্থই রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে অনেক প্রশ্নের জবাব মেলে না এ কারণে যে, সাধারণত সুইস ব্যাংক অর্থের উৎস গোপন রাখে। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা দেশটির বিভিন্ন ব্যাংকে অর্থ জমা রাখেন।

এই হিসাব প্রকাশের আগের বছর সুইস ব্যাংক থেকে বাংলাদেশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অর্থ ফেরত আনার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। এরপর সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে (সুইস ব্যাংক) সঞ্চয়কারী বাংলাদেশিদের নামের তালিকা চায় হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এসব ব্যাংকে টাকা জমাকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, জানাতে বলা হয়। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে দেয়া হয়নি।

সুইস ব্যাংকে অবৈধ ও কালো টাকা রাখা যায় না: রাষ্ট্রদূত

সুইস রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘সুইজারল্যান্ড কালো টাকা রাখার স্বর্গরাজ্য নয়। এই বিষয়ে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। সুইস ব্যাংক অবৈধ অর্থকে কোনোভাবেই উৎসাহিত করে না। সুইজ ব্যাংক বিশ্বের একটি অন্যতম ব্যাংকিং ব্যবস্থা, আমাদের জিডিপির অন্যতম একটি বড় অংশ। সুইজ জাতীয় ব্যাংক প্রতি বছর বাংলাদেশি গ্রাহকদের বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করে। এই তালিকায় ব্যক্তিগত টাকা সংরক্ষণ হার বাড়ছে না, বরং কমছে।’

সুইস রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য বাংলাদেশে আলোড়ন তুলেছে। বিএনপি অভিযোগ করছে, অর্থপাচারে সরকারদলীয় লোকেরা। তাই সরকার কারও নাম জানতে চায় না। কেন সরকার কারও নাম জানতে চায়নি, সেই প্রশ্ন রেখেছে হাই কোর্টও।

মিথ্যা বলে পার পাওয়া উচিত নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আজকেও আমি বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের সঙ্গে এটা নিয়ে কথা বলেছি। উনি আগে ফাইন্যান্স সেক্রেটারিও ছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, আমরা আগে তথ্য চেয়েছি, তারা কোনো রেসপন্স করেননি।

‘তখন আমি বলেছি, এটা আপনি সবাইকে জানিয়ে দিন। বিকজ এভাবে মিথ্যা বলে পার পাওয়া উচিত নয়।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেবে-বলেন এ কে আব্দুল মোমেন। বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক আগে স্টেটমেন্ট দিক, বা ফিন্যান্স মিনিস্ট্রি আগে দিক, তারপর আমরা সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে কথা বলব। কারণ, আমরা তো তাদের (সুইস ব্যাংক) কাছে কাউকে পাঠাই না।’

আরও পড়ুন:
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রক্তের, প্রভাব পড়বে না: তথ্যমন্ত্রী
চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায়, ৫ এমওইউ সইয়ের সম্ভাবনা
নমপেনে মোমেনের সঙ্গে বিলাওয়ালের সৌজন্য সাক্ষাৎ
ডি-৮ দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে ঢাকার আহ্বান
পদ্মা সেতু আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতা গড়ার সেতু: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Dhakas lifestyle will change Mayor Atiqul

বদলে যাবে ঢাকার জীবনযাত্রা: মেয়র আতিকুল

বদলে যাবে ঢাকার জীবনযাত্রা: মেয়র আতিকুল সমন্বয় সভায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা
মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন,‘মেট্রোরেল, বিআরটি চালু হলে এর নিচের রাস্তা, ড্রেন, শাখা রোড, রাস্তার লাইট, পরিবেশ এগুলোর সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। ফুটপাতে মেট্রোরেল ও বিআরটির ল্যান্ডিং স্টেশন করা যাবে না। চলাচলের জন্য ফুটপাত সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত থাকবে।’

রাজধানীতে মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম। আর তার প্রভাবে বদলে যাবে মানুষের জীবনযাত্রা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএনসিসির কার্যালয় নগর ভবনে এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।

চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে সমন্বয় সভায় মেয়র আতিকুল বলেন, ‘চলমান প্রকল্পগুলো শেষ হলে ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। এর ফলে যে অর্থনৈতিক বলয় গড়ে উঠবে তার সঠিক পরিকল্পনা নিতে হবে।

‘মেট্রোরেল, বিআরটি চালু হলে এর নিচের রাস্তা, ড্রেন, শাখা রোড, রাস্তার লাইট, পরিবেশ এগুলোর সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। ফুটপাত যথেষ্ট প্রশস্ত হতে হবে। ফুটপাতে মেট্রোরেল ও বিআরটির ল্যান্ডিং স্টেশন করা যাবে না। চলাচলের জন্য ফুটপাত সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত থাকবে।’

সভায় ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহ. আমিরুল ইসলাম, ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন সিদ্দিক, এমআরটি লাইন ১, ৫ ও ৬, বাস রুট ট্রানজিট ও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ, ডিটিসিএ ও ট্রাফিক বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
মন্ত্রীর পদমর্যাদা পাচ্ছেন ঢাকার দুই মেয়র
ড্রোনে সোয়া লাখ বাড়ির ছাদে এডিসের উৎস খুঁজেছে ডিএনসিসি
দুই লাখ রিকশার নিবন্ধন দেবে ডিএনসিসি

মন্তব্য

p
উপরে