× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

স্বাস্থ্য
Crisis disrupts safe blood circulation
hear-news
player
print-icon
বিশ্ব রক্তদাতা দিবস

সংকটে ব্যাহত নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন

সংকটে-ব্যাহত-নিরাপদ-রক্ত-পরিসঞ্চালন
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন কর্মসূচির মাধ্যমে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ৯৯টি ব্লাড ব্যাংক পরিচালনা করা হয়। ছবি: রেডক্রস
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক‍্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘দেশব্যাপী ব্লাড ব্যাগ, কিটস ও রি-এজেন্ট সংকটের কারণে রক্তের গ্রাহকরা নিজের অর্থায়নে ব্যাগ ও কিট কিনে নিচ্ছেন। রক্তদানের আগে যে ৫ ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কথা সেটাও অধিকাংশ সেন্টারে করা হচ্ছে না। ফলে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।’

জরুরি মুহূর্তে নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন অনেক জীবন বাঁচায়। রক্তের চাহিদা চিরন্তন। তবে তদারকির অভাব ও এ খাতে অর্থ বরাদ্দ না থাকায় উপকরণ সংকটে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই চলছে রক্ত পরিসঞ্চালন। এতে ঝুঁকি বেড়েছে নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন ব্যবস্থাপনায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রক্তগ্রহীতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রক্তদানের আগে অত্যাবশ্যকীয় পাঁচটি পরীক্ষার বিধান রেখেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়ন নেই। স্বল্প পরিসরে যতটুকু নিরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে তাকে গত তিন বছরে দেশে ১৩৯ জনের দেহে প্রাণঘাতী এইচআইভি এইডস শনাক্ত হয়েছে। ফলে পরীক্ষা ছাড়া রক্ত গ্রহণে হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, এইচআইভিসহ প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন কর্মসূচির মাধ্যমে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ৯৯টি এবং ইউএইচসি তথা উপজেলা হেলথ কেয়ার কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারিভাবে ১২৪টি ব্লাড ব্যাংক পরিচালনা করা হয়। তবে করোনাকালে কেন্দ্রীয়ভাবে অর্থ বরাদ্দ না থাকায় ব্লাড ব্যাংক ও পরিসঞ্চালন কেন্দ্রে রক্তের ব্যাগ, রি-এজেন্টসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারেনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অর্থের জোগান না থাকাকে উপকরণ সংকটের মূল কারণ বলছে অধিদপ্তর।

সংকটে ব্যাহত নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন

রক্তদান ও গ্রহণে জনসচেতনতা তৈরিতে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও আজ মঙ্গলবার, ১৪ জুন পালিত হচ্ছে বিশ্ব রক্তদাতা দিবস-২০২২। ছবি: সংগৃহীত

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রক্তদান ও গ্রহণে জনসচেতনতা তৈরিতে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও আজ মঙ্গলবার, ১৪ জুন পালিত হচ্ছে বিশ্ব রক্তদাতা দিবস-২০২২। দিবসটি পালনে সরকারি-বেসরকারিভাবে নানা কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে এ বিষয়ে আলোচনা সভা ও শোভাযাত্রা আয়োজনের কথা রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ বছর দিবসটির স্লোগান নির্ধারণ করেছে- ‘ডোনেটিং ব্লাড ইজ অ্যান অ্যাক্ট অফ সলিডারিটি, জয়েন দ্য ইফোর্ট অ্যান্ড সেভ লাইভ’ অর্থাৎ ‘সংহতির উদ্দেশ্যে রক্ত দিন, এই উদ্যোগে জড়িত হোন এবং জীবন বাঁচান’।

নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন বিধিমালায় বলা আছে, ‘রক্তবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত ব্লাড ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগে প্রতি বছর রক্তের অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রক্ত সংরক্ষণ ইত্যাদি কাজের জন্য প্রয়োজনীয় রি-এজেন্ট, কিটস, ফিজার রক্তের ব্যাগ সরবরাহ করবে সরকার। এ জন্য আলাদা বরাদ্দ থাকার কথা। তবে গত বছর এই খাতে বরাদ্দ রাখা হয়নি। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হলেও সঠিক পরিমাণ জানাতে পারেনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সেফ ব্লাড ট্রান্সফিউশন অ্যান্ড থেলাসেমিয়া ম্যানেজমেন্ট শাখার ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. আতাউল করিম বলেন, ‘এ বছর যে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা মন্ত্রণালয় থেকে এখনও ছাড় করা হয়নি। তবে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে হাসপাতালে এসব উপকরণ সরবরাহ করতে আগামী মাস পর্যন্ত লাগবে। এই সময়ের মধ্যেই উপকরণ সারা দেশে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে।’

সংকটে ব্যাহত নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ বছর বিশ্ব রক্তদাতা দিবসের স্লোগান নির্ধারণ করেছে ‘সংহতির উদ্দেশ্যে রক্ত দিন, এই উদ্যোগে জড়িত হোন এবং জীবন বাঁচান’। ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশে চিকিৎসাব্যবস্থায় বছরে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ ব্যাগ রক্ত দরকার হয়। সারা দেশে সরকারিভাবে ২২৩টি ব্লাড ব্যাংক বা রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন কর্মসূচির মাধ্যমে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ৯৯টি এবং ইউএইচসি তথা উপজেলা হেলথ কেয়ারের কর্মসূচির মাধ্যমে ১২৪টি সরকারি ব্লাড ব্যাংক রয়েছে।

এর মধ্যে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ের মেডিক্যাল কলেজ, হাসপাতাল ও বিশেষায়িত ব্লাড ব্যাংকে রক্তদাতাদের স্ক্রিনিং করে ২০১৯ সালে ৬৪, ২০২০ সালে ৪৭ ও ২০২১ সালে ২৮ জনের এইডস শনাক্ত হয়। একই সময়ে ১৬ হাজার ৯১০ জন স্বেচ্ছা রক্তদাতার শরীরে হেপাটাইটিস-বি ও ৮৪৭ জনের হেপাইটিস-সি ভাইরাস শনাক্ত হয়। এ ছাড়া ২০১৯ ও ২০২০ সালে ২ হাজার ২১২ জনের যৌনবাহিত সিফিলিস রোগ ধরা পড়ে।

নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন নিশ্চিতে যথাযথ বরাদ্দ এবং ব্লাড ব্যাংকগুলোতে তদারকি জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক‍্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘দেশব্যাপী ব্লাড ব্যাগ, কিটস ও রি-এজেন্ট সংকটের কারণে রক্তের গ্রাহকরা নিজের অর্থায়নে ব্যাগ ও কিট কিনে নিচ্ছেন। রক্তদানের আগে যে ৫ ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কথা, সেটাও অধিকাংশ সেন্টারে করা হচ্ছে না। ফলে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

‘এই সংকট নিরসনে মনিটরিং জোরদার করতে হবে। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লাড ব্যাংক বিভিন্ন সময় বিদেশি সংস্থার মান বাচাই করা হয়। বিভিন্ন দেশে নমুনা পাঠিয়েও মান যাচাই করা হয়। তবে অন্যান্য ব্লাড ব্যাংকে এমন কোনো ব্যবস্থা নেই।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সেফ ব্লাড ট্রান্সফিউশন অ্যান্ড থেলাসেমিয়া ম্যানেজমেন্ট শাখার ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. আতাউল করিম বলেন, ‘কেন্দ্রীয়ভাবে সরকারি কেনাকাটা এক বছর বন্ধ থাকায় ওই সময়কালে নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন খাতে বরাদ্দ আসেনি। এ কারণে কিছু কিছু জায়গায় ব্লাড ব্যাংক ও পরিসঞ্চালন কেন্দ্রে রক্তের ব্যাগ, রি-এজেন্ট ও কিটসসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সংকটে ব্যাহত হতে পারে নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন।’

তবে এ বছর এই খাতে কত টাকার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা জানাতে পারেননি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

স্বাস্থ্য
Loadshedding in South Africa for up to six hours a day

লোডশেডিংয়ে নাকাল সাউথ আফ্রিকা

লোডশেডিংয়ে নাকাল সাউথ আফ্রিকা সাউথ আফ্রিকার বিদ্যুৎ সরবরাহকারী এসকম এবং কয়লাচালিত প্ল্যান্ট। ছবি: সংগৃহীত
গত বছরে দেশটির জাতীয় গ্রিডে চাহিদার চেয়ে ২৫২১ গিগাওয়াট ঘণ্টা কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। আর এ বছরের কেবল জুলাই মাসেই এসকম জাতীয় গ্রিডে ২২৭৬ গিগাওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ কম বিদ্যুৎ দিয়েছে। 

সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ সংকটের মুখোমুখি হয়েছে সাউথ আফ্রিকা। দিনে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন, দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ।

তীব্র শীতের মধ্যে অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহে নাকাল দেশটির মানুষ। রুম হিটার চালু, রাতের খাবার রান্না এমনকি ফোন চার্জ করতেও সমস্যা হচ্ছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ কোম্পানি ‘এসকম’ একে বলছে স্টেজ সিক্স লোডশেডিং। বিদ্যুৎ না থাকায় অচল ট্রাফিক সিগনাল লাইট। এতে রাস্তায় তৈরি হচ্ছে যানজট। কর্মক্ষেত্র এবং বাড়িতেও তৈরি হয়েছে দুর্বিষহ অবস্থা।

এমন পরিস্থিতিতে রীতিমতো বিরক্ত সাউথ আফ্রিকার প্রধান শহর জোহানেসবার্গের বাসিন্দা জর্জ ল্যান্ডন। দেশ ছাড়ার ইচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘লন্ডনে আমার একটি চাকরির ইন্টারভিউ রয়েছে। আমি আগামীকাল ফ্লাইট বুক করছি। আমি আমার দেশকে ভালোবাসি, তবে দেশকেও তো আমাদের ভালোবাসতে হবে।’

এসকম-এর দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতির জন্য সাউথ আফ্রিকায় দিন দিন বিদ্যুৎ পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে।

গত বছরে দেশটির জাতীয় গ্রিডে চাহিদার চেয়ে ২৫২১ গিগাওয়াট ঘণ্টা কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। আর এ বছরের কেবল জুলাই মাসেই এসকম জাতীয় গ্রিডে ২২৭৬ গিগাওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ কম বিদ্যুৎ দিয়েছে।

দিনে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন রাখার ব্যপারে এসকম বলছে, কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে কোনো এলাকা বাছাই করা হচ্ছে না। যে কোনো এলাকায় যে কোনো সময়ে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হতে পারে।

আরও পড়ুন:
বামপন্থিদের কথা শুনলে বিদ্যুতের এই দশা হতো না: সিপিবি
লোডশেডিংয়ে নাজেহাল হাসপাতালের রোগীরা
‘বিদ্যুৎ এলে ২০ মিনিট পর আবার চলে যাচ্ছে’
লোডশেডিংয়ের এলাকাভিত্তিক সূচি তৈরির নির্দেশ
বন্যার মধ্যে লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগ দ্বিগুণ

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Arrested for selling meat in a newspaper with pictures of Devdevi

ভারতে দেবদেবীর ছবিযুক্ত কাগজে মুরগির মাংসের খাবার বিক্রি, গ্রেপ্তার

ভারতে দেবদেবীর ছবিযুক্ত কাগজে মুরগির মাংসের খাবার বিক্রি, গ্রেপ্তার গ্রেপ্তার রেস্তোরাঁ মালিক মহম্মদ তালেব। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের উত্তরপ্রদেশের এ ঘটনায় পুলিশ রেস্তোরাঁ মালিক তালেবকে গ্রেপ্তার করেছে। আদালতের নির্দেশে তাকে রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।

ভারতের উত্তরপ্রদেশে হিন্দু দেবদেবীর ছবি ছাপা ছিল এমন খবরের কাগজে মুড়ে মুরগির মাংসের খাবার বিক্রির অভিযোগে এক রেস্তোরাঁ মালিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেস্তোরাঁ মালিক মহম্মদ তালেবের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানো ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।

দেবদেবীর ছবিযুক্ত কাগজে খাবার বিক্রি করে হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগ তুলে তালেবের দোকানের সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। রাজ্যটির উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘হিন্দু জাগরণ মঞ্চ’ এই বিক্ষোভ করে।

পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

যেভাবে ঘটনার শুরু
উত্তরপ্রদেশের সম্ভল শহরে তালেবের রেস্তোঁরাটির নাম ‘মেহেক’। বেশ পুরনো এই রেস্তোরাঁ থেকে অনেকেই মাটন কাবাব, চিকেন তান্দুরির মতো খাবার পার্সেল করে নিয়ে যায়।

গত ১ জুলাই থেকে ভারতে পলিথিনের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে দোকানিরা বাধ্য হয়ে কাগজের ব্যাগ বা খবরের কাগজের ঠোঙাতেই ক্রেতাদের হাতে জিনিসপত্র তুলে দিতে শুরু করেছেন। তালেব দোকানে ব্যবহার করছিলেন পুরনো খবরের কাগজ। আর হিন্দুদের নবরাত্রি উৎসবের সময় প্রকাশিত সেই কাগজগুলোতে ছিল নানা হিন্দু দেবদেবীর ছবি।

সেই কাগজে মুড়ে মুরগির মাংস দিয়ে তৈরি খাবার বিক্রি করা হচ্ছে বলে রোববার খেয়াল করেন হিন্দু জাগরণ মঞ্চের নেতাকর্মীরা। তারা রেস্তোরাঁটির সামনে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন।

হিন্দু জাগরণ মঞ্চের জেলা সভাপতি কৈলাস গুপ্তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তালেব ও তার দোকানের কর্মীরা।

রাজ্য পুলিশ যা বলছে
সম্ভলের পুলিশ সুপার চক্রেশ মিশ্রা মঙ্গলবার টুইটারে জানান, রেস্তোরাঁয় হিন্দু দেবদেবীদের ছবি সংবলিত কাগজে মুড়ে মাংস বিক্রি করার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ দোকানের মালিক তালেব ও কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে তাদের ওপর ছুরি-চাকু নিয়ে হামলার চেষ্টা চালানো হয়।

তিনি বলেন, ‘পুলিশ এরপর তালেবকে গ্রেপ্তার করে। আদালতের নির্দেশে তাকে রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।

‘এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে। কেউ যাতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়াতে না পারে সে ব্যাপারেও পুলিশ সতর্ক রয়েছে।’

তালেবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়ানো এবং ইচ্ছাকৃতভাবে কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

‘সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত’
এদিকে রেস্তোরাঁটির একজন কর্মী জানিয়েছেন, তাদের মালিক কাবাডি বা পুরনো জিনিসপত্রের দোকান থেকেই ওই খবরের কাগজগুলো ঠোঙা বানাতে কিনে এনেছিলেন। তারা কেউ খেয়াল করেননি যে তাতে হিন্দু দেবদেবীর ছবি আছে।

এই ঘটনা সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত বলে তিনি দাবি করেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়
ভারতে সোশ্যাল মিডিয়াতে এ ঘটনা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। একদল বলছেন, হিন্দু দেবদেবীদের যারা এভাবে অপমান করার সাহস পায় তাদের এ ধরনের শাস্তিই প্রাপ্য।

আরেক দল বলছে, তালেব যদি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে গ্রেপ্তার হন তাহলে বিজেপির সাবেক মুখপাত্র নূপুর শর্মা এখনও জেলের বাইরে কেন?

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Bank loans are not for importing luxury goods

বিলাস পণ্য আমদানিতে ব্যাংকঋণ নয়

বিলাস পণ্য আমদানিতে ব্যাংকঋণ নয় গাড়িসহ বিলাসজাতীয় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ঋণ দিতে পারবে না ব্যাংক। ফাইল ছবি
সব ধরনের মোটরকার, হোম অ্যাপ্লায়েন্স হিসেবে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, প্রসাধনী, স্বর্ণালংকার, তৈরি পোশাক, গৃহস্থালি বৈদ্যুতিক সামগ্রী বা হোম অ্যাপ্লায়েন্স, পানীয়সহ বেশকিছু পণ্য আমদানিতে এখন থেকে ব্যাংক থেকে কোনো ধরনের ঋণসুবিধা পাবেন না আমদানিকারকরা।

অর্থনীতিতে আমদানি ব্যয়ের চাপ কমাতে এবং বিলাস পণ্য আমদানির লাগাম টেনে ধরতে আরও কড়াকড়ি আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সব ধরনের মোটরকার, হোম অ্যাপ্লায়েন্স হিসেবে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, প্রসাধনী, স্বর্ণালংকার, তৈরি পোশাক, গৃহস্থালি বৈদ্যুতিক সামগ্রী বা হোম অ্যাপ্লায়েন্স, পানীয়সহ বেশকিছু পণ্য আমদানিতে এখন থেকে ব্যাংক থেকে কোনো ধরনের ঋণসুবিধা পাবেন না আমদানিকারকরা।

এসব পণ্যের আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে শতভাগ নগদ মার্জিন সংরক্ষণ করতে হবে। এর আগে যা ছিল ৭৫ শতাংশ।

অর্থাৎ এসব বিলাসজাতীয় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে পণ্যের পুরো আমদানিমূল্য ব্যাংকে জমা দিতে হবে আমদানিকারকদের। এসব পণ্য আমদানির জন্য ব্যাংক কোনো ধরনের ঋণ দিতে পারবে না।

বিলাস পণ্য আমদানিতে ব্যাংকঋণ নয়

সব ধরনের মোটরকারসহ বেশকিছু বিলাস পণ্য আমদানিতে এখন থেকে ব্যাংক থেকে কোনো ধরনের ঋণসুবিধা পাবেন না আমদানিকারকেরা। ফাইল ছবি

দেশের সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো এক সার্কুলারে সোমবার এই নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় চাপের মুখে পড়েছে দেশের অর্থনীতি। বাণিজ্য ঘাটতি ৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

ফলে ডলারের দাম বেড়েই চলেছে। আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারেই এখন এক ডলারের জন্য ৯৩ টাকা ৪৫ পয়সা খরচ করতে হচ্ছে।

ব্যাংকগুলো ডলার বিক্রি করছে এর চেয়ে সাড়ে পাঁচ-ছয় টাকা বেশি দরে।

এ নাজুক পরিস্থিতিতে আমদানি ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরতে বিলাস পণ্য আমদানি কমাতে আরও কড়াকড়ি আরোপ করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, করোনার দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব এবং বহির্বিশ্বে সাম্প্রতিক যুদ্ধাবস্থা প্রলম্বিত হওয়ার কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে দেশের মুদ্রা ও ঋণ ব্যবস্থাপনা অধিকতর সুসংহত রাখার লক্ষ্যে আমদানি ঋণপত্র স্থাপনের ক্ষেত্রে নগদ মার্জিন হার পুনর্নির্ধারণের জন্য নির্দেশনা দেয়া হলো।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মোটরকার (সেডানকার,এসইউভি, এমপিভি ইত্যাদি), ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিকস হোম অ্যাপ্লায়েন্স, স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার, মূল্যবান ধাতু ও মুক্তা, তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, প্রসাধনী, আসবাব ও সাজসজ্জার সামগ্রী, ফল ও ফুল, নন–সিরিয়াল ফুড (যেমন অশস্য খাদ্যপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যদ্রব্য ও পানীয়, যেমন টিনজাত খাদ্য, চকলেট, বিস্কুট, জুস, সফট ড্রিংকস ইতাদি), অ্যালকোহল–জাতীয় পানীয়, তামাক, তামাকজাত বা এর বিকল্প পণ্যসহ অন্যান্য বিলাসজাতীয় পণ্যের আমদানি ঋণপত্র স্থাপনের ক্ষেত্রে শতভাগ নগদ মার্জিন সংরক্ষণ করতে হবে।

অর্থাৎ কোনো ব্যবসায়ী বা ব্যক্তি ১ কোটি টাকার একটি গাড়ি আমদানি করতে চাইলে তাকে পুরো টাকা নগদ দিতে হবে। ব্যাংক কোনো ঋণ দেবে না।

গত ১১ এপ্রিল জরুরি পণ্য ছাড়া অন্য সকল পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে কমপক্ষে ২৫ শতাংশ এলসি মার্জিন রাখার নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

এরপর ১০ মে সে নির্দেশনায় পরিবর্তন এনে সব ধরনের গাড়ি, ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিকস সামগ্রী আমদানির এলসি খুলতে ন্যূনতম ৭৫ শতাংশ নগদ মার্জিন রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। জরুরি পণ্য ছাড়া অন্য সব পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ মার্জিন রাখতে বলা হয়।

আরও পড়ুন:
কাগজ আমদানিতে শুল্ক কমানোর দাবি
কিছুতেই লাগাম পরানো যাচ্ছে না আমদানিতে
আমদানি কমাতে ১৩৫ পণ্যে শুল্কারোপ
বিলাস পণ্য আমদানি কমাতে আরও কড়াকড়ি
ভোমরায় ৭ ঘণ্টা আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকল কেন

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
There are many casualties in shopping malls in Denmark

ডেনমার্কে শপিং মলে গুলি, নিহত ৩

ডেনমার্কে শপিং মলে গুলি, নিহত ৩ বন্ধুকধারীর গুলি থেকে বাঁচতে নিরাপদ স্থানে দৌড়াচ্ছে মানুষ। ছবি: এএফপি
কোপেনহেগেনের মেয়র সোফি এইচ অ্যান্ডারসেন এক টুইটে লিখেছেন, ‘গুলি চালানোর ভয়ংকর খবর! আমরা এখনও নিশ্চিত নই কতজন আহত বা মারা গেছেন। তবে এটি খুবই গুরুতর।’

ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে ফিল্ডস নামে একটি শপিং মলে এক বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন।

রোববার মাঝরাতে দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আরও অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন।

কোপেনহেগেন পুলিশ অপারেশন ইউনিটের প্রধান পুলিশ ইন্সপেক্টর সোরেন থমাসেন বলেছেন, সন্দেহভাজন হামলাকারীকে ইতোমধ্যেই আটক করা হয়েছে। ২২ বছর বয়সী জাতিগত ডেনিশ ওই যুবককে রাজধানীর দক্ষিণ প্রান্তে ফিল্ডস শপিং সেন্টারের কাছ থেকে আটক করা হয়।

সাংবাদিকদের সোরেন বলেন, ‘আমরা জানি সেখানে কয়েকজন নিহত হয়েছেন। অনেকে আহতও হয়েছেন।’

এ ঘটনায় সন্ত্রাসবাদকে উড়িয়ে দেয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এতে আরও মানুষের সম্পৃক্ততা আছে কি-না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই মুহূর্তে শহরের কাউকেই সন্দেহের বাইরে রাখা হচ্ছে না। তবে ‘জাতিগত ডেন’ ছাড়া আটক যুবক সম্পর্কে খুব বেশি বিবরণ দেননি সোরেন।

ডেনমার্কে শপিং মলে গুলি, নিহত ৩

ফিল্ডস শপিং সেন্টারটি কোপেনহেগেনের উপকণ্ঠে অবস্থিত। সাবওয়ে লাইনের বিপরীতে, যা শহরের কেন্দ্রকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

পাশ্চাত্যের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে ঘটনাস্থল থেকে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার তৎপরতা ছাড়াও প্রাণভয়ে নারী-পুরুষদের ছোটাছুটি করতেও দেখা গেছে।

কোপেনহেগেনের মেয়র সোফি এইচ অ্যান্ডারসেন এক টুইটে লিখেছেন, ‘ফিল্ডসে গুলি চালানোর ভয়ংকর খবর! আমরা এখনও নিশ্চিত নই কতজন আহত বা মারা গেছেন। তবে এটি খুবই গুরুতর।’

আরও পড়ুন:
শামীম ওসমানপুত্রের বিরুদ্ধে ফাঁকা গুলি ছোড়ার অভিযোগ
এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ানের জামিন
শপিং ব্যাগে গুলির ১৩৭ খোসা
‘আধিপত্য বিস্তারে ককটেল-গুলি’, আহত ৪
খুলনায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে ব্যবসায়ী নিহত

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Panchil Topke Mamatas house

পাঁচিল টপকে মমতার বাড়িতে

পাঁচিল টপকে মমতার বাড়িতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত
শনিবার রাত ১টার পর কলকাতার কালীঘাটে হরিশ চ্যাটার্জী রোডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির পাঁচিল টপকে ভেতরে ঢুকে পড়েন এক ব্যক্তি। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি রাখার জায়গা পর্যন্ত পৌঁছে যান এবং সারারাত সেখানেই নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দেন। পরে পুলিশ তাকে আটক করে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির পাঁচিল টপকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি ভেতরে ঢুকে পড়ায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ইতোমধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

কলকাতার কালীঘাটের মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির নিরাপত্তা রক্ষীরা রোববার সকালে ওই ব্যক্তিকে বাড়ির ভেতরে দেখতে পান। একইসঙ্গে তারা জানতে পারেন, ওই লোক সেখানে পুরো রাত নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দিয়েছেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, শনিবার রাত ১টার পর হরিশ চ্যাটার্জী রোডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির পাঁচিল টপকে ভেতরে ঢুকে পড়েন ওই ব্যক্তি। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি রাখার জায়গা পর্যন্ত পৌঁছে যান। এবং সারারাত মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতেই কাটান। পরে কালীঘাট থানার পুলিশ তাকে আটক করে।

ওই ব্যক্তি কী উদ্দেশ্য নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ঢুকেছিলেন তা জিজ্ঞাসাবাদ করে জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় পেরিয়ে কিভাবে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ঢুকে পড়লেন ওই ব্যক্তি তা তদন্ত করে দেখছেন লালবাজারের গোয়েন্দারা।

এ ঘটনার পর রাজ্যের পুলিশ কমিশনার, ডিজি, ডিসি সাউথসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা জরুরি বৈঠকে বসেন।

জয়েন্ট সিপি ক্রাইম মুরলিধর শর্মা বলেন, ‘সন্দেহজনক উদ্দেশ্য নিয়েই ওই ব্যক্তি মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ঢুকেছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। বিষয়টি বিশেষ জোর দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হচ্ছে।’

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পান। সেই নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে কীভাবে ওই ব্যক্তি কী উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ঢুকেছিলেন তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
কংগ্রেস ব্যর্থ, বিজেপিকে হারাতে পারে তৃণমূল: মমতা
মমতাই মুখ্যমন্ত্রী, ন্যাড়া হয়ে বিজেপি ছাড়ার ঘোষণা এমপির
ভবানীপুরের জয়ে মমতাকে অভিনন্দন বিজেপিবিরোধীদের
বিশাল জয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী থাকছেন মমতা
দ্বিতীয় রাউন্ড ভোট গণনা শেষে এগিয়ে মমতা

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Lookout notice against Nupur Sharma

নূপুর শর্মার বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিশ

নূপুর শর্মার বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিশ বিজেপি নেত্রী নূপুর শর্মা। ছবি: সংগৃহীত
মহানবী (সা.) সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য ইস্যুতে নূপুর শর্মার বিরুদ্ধে সমন পাঠায় কলকাতা পুলিশ। নিজের প্রাণের ঝুঁকির উল্লেখ করে তিনি চার সপ্তাহ সময় নেন। দ্বিতীয় দফা সমনেও সাড়া দেননি এই বিজেপি নেত্রী। অবশেষে পুলিশ তার বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিশ জারি করেছে।

মহানবী (সা.) সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কে ভারতে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নেত্রী নূপুর শর্মাকে দু-দুবার হাজিরা দেয়ার নোটিশ পাঠালেও তিনি পুলিশের মুখোমুখি হননি। এবার তার বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিশ জারি করেছে কলকাতা পুলিশ।

কলকাতার নারকেলডাঙ্গা থানায় নূপুরের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে এই লুকআউট নোটিশ জারি করেছে পুলিশ।

বিজেপি থেকে বরখাস্ত হওয়া নূপুর শর্মা মহানবী (স.)কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার জের ধরে ভারতে অশান্তির আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বিদেশেও এ নিয়ে সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে। বাদ যায়নি পশ্চিমবঙ্গও। এই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অশান্তির আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শক্রমে কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন থানায় এফআইআর দায়ের হয় নূপুর শর্মার বিরুদ্ধে। কলকাতার নারকেলডাঙ্গা থানায় নূপুরের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে সমন পাঠায় কলকাতা পুলিশ। কিন্তু নূপুর কলকাতা পুলিশকে ই-মেইল করে জানান, নিজের প্রাণের ঝুঁকির কারণে তিনি এখনই হাজিরা দিতে পারছেন না। সে জন্য তিনি চার সপ্তাহ সময় চেয়ে নেন।

চার সপ্তাহ পর আবারও জুনে সমন পাঠালে বিজেপি নেত্রী সেই হাজিরাও এড়িয়ে যান। এরপর নারকেলডাঙ্গা থানার অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতা পুলিশ নূপুর শর্মার বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিশ জারি করে।

পুলিশ সূত্রে খবর, নূপুর শর্মার বিরুদ্ধে রাজ্যের অন্তত ১০টি থানায় এফআইআর হয়েছে। নূপুরের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগের তদন্ত প্রয়োজন। সে কারণে লুকআউট নোটিশ জারি হয়েছে।

আরও পড়ুন:
রাজস্থানে দর্জি হত্যার পেছনে পাকিস্তানের জঙ্গিরা?
নূপুর শর্মাকে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে বলল আদালত
ভারতে ‘তালেবানি মানসিকতা’ চলবে না: আজমির শরিফ প্রধান
সেই নূপুরের পক্ষ নেয়ায় রাজস্থানে দর্জি খুন, ১৪৪ ধারা
জবিতে শিক্ষার্থীদের ভারতীয় পণ্য বয়কটের ডাক

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
China India leaving WHO?

ডব্লিওএইচও ছাড়ছে চীন-ভারত? 

ডব্লিওএইচও ছাড়ছে চীন-ভারত?  ভারত, চীন, রাশিয়াসহ সাত দেশের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ছাড়ার খবর ভুয়া। ছবি: সংগৃহীত
একাধিক গুগল কি-ওয়ার্ড অনুসন্ধানেও এ ইস্যুতে বিশ্বাসযোগ্য কোনো প্রতিবেদন বা ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ডব্লিওএইচও-র ওয়েবসাইটে এসব দেশের নাম এখনও রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদস্যপদ ছেড়ে দিচ্ছে সাত দেশ- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কিছু পোস্ট এখন আলোচনায়। এসব পোস্টে বলা হচ্ছে, চীন, ভারত এবং রাশিয়াসহ সাত দেশ ঘোষণা দিয়েছে, তারা সংস্থাটি ছেড়ে দেবে। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে বাস্তবে এমন কিছুই ঘটছে না। সংস্থাটির কোনো সদস্যই এমন ঘোষণা দেয়নি।

মিথ্যা দাবিটি ৪ জুন প্রথম টুইটারে শেয়ার হয়। যে অ্যাকাউন্ট থেকে এটি শেয়ার হয়, সেটির প্রায় ১৪ হাজার ফলোয়ার রয়েছে।

চীনা অক্ষরে ওই পোস্টে লেখা হয়, ‘রাশিয়া, ভারত, চীন, সাউথ আফ্রিকা, ইরান এবং মালয়েশিয়ার পাশাপাশি ব্রাজিল ঘোষণা দিয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিওএইচও)-এর সদস্যপদ ছেড়ে দিচ্ছে তারা।

লেখার সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অধিবেশনের একটি ছবি প্রকাশ হয়, যেটি ২০১৭ সালের।

আরও কয়েকটি অ্যাকাউন্ট থেকে একই দাবি করে টুইট করা হয়। বাদ যায়নি ফেসবুক। কেবল তা-ই নয়, ইংরেজি এবং ফরাসি ভাষায় একই ধরনের দাবি করা আরও কিছু টুইট ছড়িয়ে পড়েছে।

সেখানে বলা হয়, ভবিষ্যতে রোগের প্রাদুর্ভাবের বিষয়ে এজেন্সির প্রতিক্রিয়াকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ডব্লিওএইচও নীতিমালায় পরিবর্তন আনছে। যুক্তরাষ্ট্র সংশোধনীর প্রস্তাবটি তুলেছে।

এই প্রস্তাব পাস হলে ডব্লিওএইচও সদস্য দেশের অভ্যন্তরীণ নীতিতে হস্তক্ষেপ করতে পারবে।

এসব পোস্টে করা মন্তব্যগুলোও জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালকে উল্লেখ করে একজন লেখেন, ‘ডব্লিউএইচও কি চীন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়? টেড্রোসের এখন কী হবে?’

আরেকজন লেখেন, ‘আপনি চলে যাওয়ার সময় দয়া করে টেড্রোসকে নিয়ে যান।’

বিষয়টি নিশ্চিত হতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, সংস্থাটির এক মুখপাত্র জানান, এমন কিছুই ঘটছে না।

তিনি বলেন, ‘ডব্লিউএইচও-এর ১৯৪ সদস্য রাষ্ট্রের কেউই সংস্থা থেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়নি।’

একাধিক গুগল কি-ওয়ার্ড অনুসন্ধানেও এ ইস্যুতে বিশ্বাসযোগ্য কোনো প্রতিবেদন বা ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ডব্লিওএইচও-র ওয়েবসাইটে এসব দেশের নাম এখনও রয়েছে।

আরও পড়ুন:
শিক্ষাবোর্ডের নামে ‘সুন্দরী বউ’ বাছাইয়ের তথ্য ছড়াল কারা
আরিয়ানের শাক বেচে চাল কেনার দাবি কতটা সত্যি?
মঙ্গল শোভাযাত্রায় ‘দেশাত্মবোধক গান’-এর পেছনে কী?
মাদকবিরোধী দেয়াল লিখনে ভুলের সত্যতা কতটা
বুলেট-নির্মিত পুতিনের শিল্পকর্মটি কবেকার?

মন্তব্য

p
উপরে