× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

স্বাস্থ্য
What to do if you are scared of monkeypox
google_news print-icon

মাঙ্কিপক্স কতটা ভয়ের, আক্রান্ত হলে কী করবেন

মাঙ্কিপক্স
কঙ্গোয় মাঙ্কিপক্স আক্রান্ত এক যুবকের ফুসকুড়ির নমুনা নিচ্ছেন চিকিৎসাকর্মীরা। ছবি: এএফপি
আফ্রিকা মহাদেশের ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোয় (ডিআরসি) ১৯৭০ সালে প্রথম একটি শিশুর দেহে মাঙ্কিপক্স সংক্রমণ শনাক্ত হয়। শিশুটিকে শুরুতে গুটিবসন্ত আক্রান্ত বলে সন্দেহ করছিলেন চিকিৎসকেরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঙ্কিপক্সে শারীরিক জটিলতার মাত্রা বেশ কম। তবে কিছু বিরল ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থতার মুখে পড়তে পারেন।

কোভিড-১৯ মহামারির আতঙ্ক পুরোপুরি না কাটতেই মাঙ্কিপক্স সংক্রমণ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ২০ মে দেয়া বিবৃতি অনুসারে, ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশে প্রায় ৮০টি নিশ্চিত সংক্রমণ ধরা পড়েছে। সন্দেহভাজন আরও ৫০ রোগী পর্যবেক্ষণে আছেন। মাঙ্কিপক্সের সংক্রমণ ব্যাপক মাত্রায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

তবে মাঙ্কিপক্স কোনো নতুন রোগ নয়। ভাইরাসজনিত রোগটির প্রাদুর্ভাব পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে মাঝেমধ্যেই দেখা যায়। এবার ইউরোপ ও আমেরিকাতেও বেশ কয়েকজন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এ কারণে ভাইরাস ছড়ানোর গতি বেড়েছে কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় বিশেষজ্ঞরা।

ইউরোপে ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালক হ্যান্স ক্লুগ বলেছেন, ‘আমরা গ্রীষ্ম মৌসুমে প্রবেশ করছি, এর সঙ্গে গণজমায়েত, উৎসব ও পার্টির সংখ্যা বাড়ছে। এতে সংক্রমণের হার বাড়তে পারে বলে আমি উদ্বিগ্ন।’

এর আগে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ ঠেকাতেও কঠোর লকডাউন ও গণজমায়েত নিয়ন্ত্রণের কৌশল অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছিল ডব্লিউএইচও। তবে তীব্র অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে বিশ্বের প্রতিটি দেশই পরে সেই পথ থেকে সরে আসে। পাশাপাশি বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, খোলা এলাকার পরিবর্তে আবদ্ধ পরিবেশেই করোনা ভাইরাসের কার্যকারিতা ও বিস্তার বেশি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঙ্কিপক্সের বিস্তারের ধরন পর্যালোচনায় বোঝা যায় বিশ্বজুড়ে নতুন মহামারি সৃষ্টির আশঙ্কা বলতে গেলে নেই। তবে মাত্র বছর দুয়েক আগে কোভিড-১৯ মহামারির কারণেই রোগটি নিয়ে বাড়তি ভীতি তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, মাঙ্কিপক্সে শারীরিক জটিলতার মাত্রাও বেশ কম। কিছু বিরল ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থতার মুখে পড়তে পারেন।

কোন ভাইরাস দায়ী

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, বিরল রোগ মাঙ্কিপক্সের জন্য দায়ী ভাইরাসটির নাম মাঙ্কিপক্স ভাইরাস। এটি পক্সভিরিডাই পরিবারের অর্থোপক্সভাইরাস গণের অন্তর্গত। এই অর্থোপক্সভাইরাস গণের মধ্যেই রয়েছে ভ্যারিওলা ভাইরাস, যা গুটিবসন্তের জন্য দায়ী। আবার এই গণের অন্তর্ভুক্ত ভ্যাক্সিনিয়া ভাইরাস গুটিবসন্তের টিকা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণেই মাঙ্কিপক্সের ক্ষেত্রে গুটিবসন্তের মতো উপসর্গ দেখা যায়।

আফ্রিকা মহাদেশের ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোয় (ডিআরসি) ১৯৭০ সালে প্রথম একটি শিশুর দেহে মাঙ্কিপক্স সংক্রমণ শনাক্ত হয়। শিশুটিকে শুরুতে গুটিবসন্ত আক্রান্ত বলে সন্দেহ করছিলেন চিকিৎসকেরা।

অবশ্য মানুষের সংক্রমণ ধরা পড়ার এক যুগ আগে ১৯৫৮ সালে প্রথম মাঙ্কিপক্স শনাক্ত করেন বিজ্ঞানীরা। সেবার ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোয় গবেষণার জন্য আটকে রাখা বানরের দেহে গুটিবসন্তের মতো রোগের সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরীক্ষা করে দেখা যায়, ওই রোগের জন্য দায়ী ভাইরাসটি গুটিবসন্তের ভাইরাসের চেয়ে কিছুটা আলাদা। আর এর পরই ভাইরাসটির নাম দেয়া হয় মাঙ্কিপক্স।

ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোয় মানুষের দেহে ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্তের কিছুদিনের মধ্যে মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকান আরও অনেক দেশ যেমন ক্যামেরুন, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, কোত ডে ভোয়া, গ্যাবন, লাইবেরিয়া, নাইজেরিয়া, রিপাবলিক অফ দ্য কঙ্গো এবং সিয়েরা লিওনে মাঙ্কিপক্সের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। বেশির ভাগ সংক্রমণের ঘটনা অবশ্য ঘটেছিল ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোয়।

ছয় দশকেরও বেশি আগে মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হলেও এর প্রাকৃতিক পোষক সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নন। কেউ কেউ ধারণা করেন, আফ্রিকান ইঁদুর বা বানরজাতীয় প্রাণী ভাইরাসটির পোষক হতে পারে। আর সেসব প্রাণী থেকেই মাঙ্কিপক্স মাঝেমধ্যে মানুষে সংক্রমিত হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বেশ কিছু প্রাণীকে মাঙ্কিপক্স ভাইরাসের পোষক হিসেবে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে আছে দুই প্রজাতির কাঠবিড়ালি (রোপ স্কুইরেল ও ট্রি স্কুইরেল), গাম্বিয়ান পাউচড ইঁদুর, ডর্মিস এবং বানর।

সংক্রমণ

মাঙ্কিপক্স সংক্রমণের ঘটনা সবচেয়ে বেশি লক্ষ করা যায় ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোয়। এ ছাড়া মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশেও এই রোগের অস্তিত্ব রয়েছে। আফ্রিকার দেশগুলোয় ভ্রমণ ও আমদানি করা প্রাণীর মাধ্যমে বিশ্বের আরও কিছু দেশে বিভিন্ন সময়ে মাঙ্কিপক্সের অল্পবিস্তর সংক্রমণ দেখা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হয় ২০০৩ সালে। টেক্সাসে ঘানা থেকে আমদানি করা পশুর একটি চালান থেকে ভাইরাসের সংক্রমণের ওই ঘটনা ঘটেছিল বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে গত বছরের নভেম্বর ও জুলাইয়েও মাঙ্কিপক্স আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়।

১৯৭০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত আফ্রিকার ১১টি দেশে মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৯৬-৯৭ সালে ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোয় বেশ বড় একটি প্রাদুর্ভাব ঘটে। তবে আক্রান্তের তুলনায় মৃত্যুহার ছিল বেশ কম। ২০১৭ সালে নাইজেরিয়ায় ৫০০-র বেশি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হন। সেখানে মৃত্যুর হার ছিল প্রায় ৩ শতাংশ। নাইজেরিয়া থেকে ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে ২০১৮ সালে ইসরায়েল, যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরেও মাঙ্কিপক্সের বিস্তার ঘটেছিল।

মাঙ্কিপক্সের ভাইরাসের সঙ্গে গুটিবসন্তের ভাইরাসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় গুটিবসন্তের টিকা দুটি ক্ষেত্রেই সুরক্ষা দিতে পারে। তবে ১৯৮০ সালে গুটিবসন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মূলের ঘোষণা দেয়ার পর বিভিন্ন দেশে এই টিকাদান বন্ধ রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এই সুযোগে মাঙ্কিপক্স জনস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে সক্রিয় অর্থোপক্স ভাইরাস হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, মাঙ্কিপক্স সংক্রমিত কোনো প্রাণীকে স্পর্শ করলে বা সেটি কামড় দিলে অথবা ওই প্রাণীর রক্ত, শরীরের তরল, ফোসকা স্পর্শ করলে মানুষে এই ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে।

সংক্রমিত প্রাণীর মাংস ভালোভাবে রান্না না করে খেলেও মানুষ মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত হতে পারে। এ ছাড়া সংক্রামিত প্রাণীর চামড়া বা পশম স্পর্শের মাধ্যমে সংক্রমণের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না এনএইচএস।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস বলছে, মাঙ্কিপক্সের কারণে ফুসকুড়িতে আক্রান্ত ব্যক্তির পোশাক, বিছানা বা তোয়ালে স্পর্শ করা যাবে না। এ ছাড়া মাঙ্কিপক্সজনিত ফোসকা বা চলটা স্পর্শ না করার পাশাপাশি ফুসকুড়ি থাকা ব্যক্তির কাশি বা হাঁচি থেকে দূরে থাকতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, দীর্ঘক্ষণ আক্রান্ত ব্যক্তির মুখোমুখি অবস্থান করলে তার হাঁচি-কাশির ড্রপলেট বা অণুকণার মাধ্যমে সুস্থ ব্যক্তিও ভাইরাস আক্রান্ত হতে পারেন। এ কারণে স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীর পরিবারের সদস্যদের বাড়তি ঝুঁকি রয়েছে।

প্ল্যাসেন্টার মাধ্যমে মা থেকে ভ্রূণে ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটতে পারে। জন্মের সময় এবং পরে মায়ের সান্নিধ্যে থাকা সন্তানও ঝুঁকির বাইরে নয়।

সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজনের ক্ষেত্রে শারীরিক মিলনের মাধ্যমে মাঙ্কিপক্স সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বক্তব্যে রয়েছে অস্পষ্টতা।

ডব্লিউএইচওর ওয়েবসাইটে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে যৌন সম্পর্ক বা দূষিত পদার্থ স্পর্শের মতো ঘনিষ্ঠ সংযোগের (সংক্রমিত ত্বকের ক্ষত, নিঃশ্বাসের ড্রপলেট বা শরীরের তরল স্পর্শ) মাধ্যমে মাঙ্কিপক্সের সংক্রমণ ঘটে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ডেভিড হেম্যানও সতর্ক করে বলছেন, ‘এখন যা ঘটছে বলে মনে হচ্ছে তা হলো এটি (মাঙ্কিপক্স ভাইরাস) যৌন ক্রিয়াকলাপ বা যৌনাঙ্গের মাধ্যমে কিছু মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। যৌনতার মাধ্যমে সংক্রমণের কারণেই সারা বিশ্বে ভাইরাসটির ছড়ানোর মাত্রা বেড়ে গেছে।’

তবে মাঙ্কিপক্স নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্যাক্টশিটে বলা হয়েছে, শারীরিক ঘনিষ্ঠতা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায় এমন ধারণাটি সুপরিচিত হলেও বিষয়টি নিয়ে এখনও অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। ঝুঁকির এই দিকটি ভালোভাবে বোঝার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।

লক্ষণ উপসর্গ

ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিনে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র বলছে, মাঙ্কিপক্সের ভাইরাস শরীরে প্রবেশের পর প্রতিলিপি তৈরি করতে শুরু করে। এরপর রক্তের মাধ্যমে সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত সংক্রমণের এক-দুই সপ্তাহের আগে বাহ্যিক কোনো উপসর্গ দেখা যায় না।

মাঙ্কিপক্স ত্বকে গুটিবসন্তের মতো ক্ষত তৈরি করে, তবে লক্ষণগুলো সাধারণত গুটিবসন্তের তুলনায় মৃদু। আক্রান্তরা প্রাথমিকভাবে সাধারণ জ্বর ও মাথাব্যথায় ভুগতে পারেন। কারও কারও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। লক্ষণ প্রকাশের ১ থেকে ১০ দিন পর শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। ধীরে ধীরে তা পুঁজ ভরা ফোসকায় পরিণত হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্যাক্টশিটের তথ্য অনুযায়ী, মাঙ্কিপক্স ভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড (সংক্রমণ থেকে উপসর্গের সূত্রপাত পর্যন্ত সময়ের ব্যবধান) সাধারণত ৬ থেকে ১৩ দিন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা ৫ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত হতে পারে।

এতে বলা হয়েছে, ভাইরাস আক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে (সর্বোচ্চ ৫ দিন পর্যন্ত) জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, লিম্ফ্যাডেনোপ্যাথি (লিম্ফ নোডের ফোলা), পিঠ ব্যথা, পেশিতে ব্যথা এবং প্রচণ্ড দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে। জলবসন্ত, গুটিবসন্ত বা হামের ক্ষেত্রে এ ধরনের সব লক্ষণ থাকলেও লিম্ফ্যাডেনোপ্যাথি দেখা যায় না।

জ্বরের এক থেকে তিন দিনের মধ্যে ত্বকে ফুসকুড়ি দেখা যায়। কাঁধের চেয়ে মুখ ও হাতের দিকে ফুসকুড়ি থাকে বেশি। আক্রান্তদের শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে ৯৫ শতাংশের মুখমণ্ডলে ফুসকুড়ি বেশি দেখা গেছে। এ ছাড়া হাতের তালু, পায়ের তলা, মুখের শ্লেষ্মা ঝিল্লি, যৌনাঙ্গ, এমনকি চোখের কর্নিয়াও আক্রান্ত হয়।

এই ফুসকুড়ি ধীরে ধীরে স্বচ্ছ তরলে পূর্ণ হয়, যা পরে পুঁজ তৈরি করে। সর্বশেষে চলটা শুকিয়ে ঝরে পড়ে। মাঙ্কিপক্সে শরীরে কয়েক হাজার পর্যন্ত ফুসকুড়ি তৈরি হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে ত্বকের বড় অংশের চামড়া উঠে না যাওয়া পর্যন্ত ক্ষত সারে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, মাঙ্কিপক্স সাধারণত আপনাআপনি সেরে যায়। রোগের লক্ষণের স্থায়িত্ব দুই থেকে চার সপ্তাহ পর্যন্ত। ক্ষতের মাত্রা কতটা হবে, তা রোগীর স্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে।

মাঙ্কিপক্স সেরে যাওয়ার পরও অনেকে ত্বকের অন্য সংক্রমণ, ব্রঙ্কোপনিউমোনিয়া, সেপসিস, এনসেফালাইটিস এবং কর্নিয়ার জটিলতায় ভুগতে পারেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বর্তমানে মাঙ্কিপক্সে মৃত্যুহার ৩ থেকে ৬ শতাংশ। তবে কিছু বিশেষজ্ঞের দাবি, এই হার ১ শতাংশের নিচে।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ রিডিংয়ের সেলুলার মাইক্রোবায়োলজির সহযোগী অধ্যাপক সাইমন ক্লার্ক বলছেন, ‘যুক্তরাজ্যে পশ্চিম আফ্রিকার ভাইরাসের যে ধরনটি ছড়িয়েছে তাতে মৃত্যুহার প্রায় ১ শতাংশ। আফ্রিকার কঙ্গো অঞ্চলের আরেকটি ধরন রয়েছে যেটি প্রায় ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে মারাত্মক হতে পারে, তবে যুক্তরাজ্যে সেটি দেখা যায়নি।’

চিকিৎসা

মাঙ্কিপক্স সংক্রমণের দুই-চার সপ্তাহের মধ্যে জটিলতাগুলো এমনিতেই সেরে যায়। এ সময়ে রোগীকে পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বেশি করে তরল ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ ঠেকাতে লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসার ওপরও জোর দিচ্ছে তারা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, আক্রান্ত ব্যক্তিকে সেবা দেয়া স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। এ জন্য তাদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। সম্ভব হলে গুটিবসন্তের টিকা নিয়েছেন এমন স্বাস্থ্যকর্মীদের মাঙ্কিপক্স আক্রান্তদের সেবায় নিয়োজিত করতে হবে।

বন্যপ্রাণী, বিশেষ করে অসুস্থ বা মৃত প্রাণীর মাংস, রক্ত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। পশুর মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে ভালো করে সেদ্ধ করার পরামর্শও দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ছয় জেলায় ২৯ রোগী, ঢাকা বিভাগেই ২৬
মাঙ্কিপক্স: দেশের সব বন্দরে সতর্কতা
১১ দেশে মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত ৮০
মাঙ্কিপক্স নিয়ে যে বিষয়গুলো জানা দরকার
মাঙ্কিপক্স নিয়ে ডব্লিউএইচওর জরুরি বৈঠক

মন্তব্য

আরও পড়ুন

স্বাস্থ্য
Finding palliative drugs over chemo in cancer treatment

ক্যানসারের চিকিৎসায় ‘কেমোর চেয়ে স্বস্তির’ ওষুধের সন্ধান

ক্যানসারের চিকিৎসায় ‘কেমোর চেয়ে স্বস্তির’ ওষুধের সন্ধান
আর্থারের পরিবার এ চিকিৎসাকে ‘আশার আলো’ আখ্যা দিয়ে দিয়ে বলেছে, এই ওষুধ তাকে বেশি অসুস্থতা বোধ না করিয়েই কাজ করেছে। এ ছাড়া হাসপাতালের পরিবর্তে বাসাতেও এই চিকিৎসা দেয়া যায়। এতে শিশুটি তার পরিবারের সঙ্গে আরও বেশি সময় দিতে পারছে।

ক্যানসারের চিকিৎসায় যুক্তরাজ্যের শিশুরা কেমোথেরাপির চেয়ে স্বস্তি দেয় এমন এক ওষুধ ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে।

লন্ডনের গ্রেট অরমন্ড স্ট্রিট হসপিটালে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত ১১ বছর বয়সী শিশু আর্থারকে দিয়ে এই ওষুধ প্রয়োগ শুরু হয় বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বুধবার জানানো হয়েছে।

আর্থারের পরিবার এ চিকিৎসাকে ‘আশার আলো’ আখ্যা দিয়ে দিয়ে বলেছে, এই ওষুধ তাকে বেশি অসুস্থতা বোধ না করিয়েই কাজ করেছে। এ ছাড়া হাসপাতালের পরিবর্তে বাসাতেও এই চিকিৎসা দেয়া যায়। এতে শিশুটি তার পরিবারের সঙ্গে আরও বেশি সময় দিতে পারছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্লিনাটুমোমাব বা ব্লিনা নামের এ ওষুধ এখন শিশুদের পাশপাশি ক্যানসারে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের চিকিৎসারও লাইসেন্স পেয়েছে। শিশুদের ক্ষেত্রে নিরাপদে ব্যবহার করা যাচ্ছে ওষুধটি।

শিশু আর্থারের পরিবার বলছে, তা জন্য ব্লিনাটুমোমাব বা ব্লিনা একমাত্র আসল বিকল্প ছিল। এক পর্যায়ে কেমোথেরাপি যখন ব্যর্থ হয় এবং সে খুব দুর্বল হয়ে পড়ে তখন তার জন্য ওই ওষুধ খুব কার্যকর স্বস্তির কারণ হয়।

যুক্তরাজ্য জুড়ে প্রায় ২০টি কেন্দ্র বি-সেল অ্যাকিউট লিম্ফোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া (বি-এএলএল) আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় এটি অফ-লেবেল ব্যবহার করছে। ওষুধটি একটি ইমিউনোথেরাপি যা ক্যান্সার কোষ খুঁজে বের করে, যাতে শরীরের নিজস্ব ইমিউন সিস্টেম তাদের চিনতে পারে এবং ধ্বংস করতে পারে।

ব্লিনা একটি পাতলা প্লাস্টিকের টিউবের মাধ্যমে পরিচালিত তরলের একটি ব্যাগে থাকে যার মাধ্যমে রোগীর বাহুতে অনেক মাস ধরে শিরায় প্রবাহিত থাকে। একটি ব্যাটারি চালিত পাম্প নিয়ন্ত্রণ করে দ্রুত ওষুধটি রক্তে প্রবেশ করে, একটি ব্যাগ অনেক দিন স্থায়ী হতে পারে।

বিবিসি বলছে, ব্লিনার কিট একটি ছোট ব্যাকপ্যাকে বহন করা যেতে পারে। কেমোথেরাপির বিপরীতে এখন এই ওষুধ বেশি স্বস্তির কারণ হয়েছে আর্থারের মতো অনেক রোগীর জন্য।

আরও পড়ুন:
ক্যানসারের অন্যতম কারণ খাদ্যে ভেজাল ও বায়ুদূষণ
‘সূর্যের আলো থেকে হতে পারে ত্বকের ক্যানসার’
ড্রাগ ট্রায়ালে ক্যানসার অদৃশ্য

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
2023 is going to be the hottest in 100 million years

সোয়া লাখ বছরের মধ্যে উষ্ণতম ‘হতে যাচ্ছে’ ২০২৩

সোয়া লাখ বছরের মধ্যে উষ্ণতম ‘হতে যাচ্ছে’ ২০২৩ রোদে ফেটে চৌচির হয়ে যাওয়া মাঠে চলাচল। ফাইল ছবি
ইইউর কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস (সিথ্রিএস) জানায়, অক্টোবরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে যায় গত মাসে। এর আগে ২০১৯ সালের অক্টোবর স্মরণকালের উষ্ণতম অক্টোবর ছিল বলে জানিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা।

বিশ্বে বিগত এক লাখ ২৫ হাজার বছরের মধ্যে ২০২৩ সালের উষ্ণতম বর্ষ হওয়া ‘দৃশ্যত নিশ্চিত’ বলে বুধবার জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিজ্ঞানীরা।

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নিয়ে প্রকাশিত ডেটা অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবর স্মরণকালের সবচেয়ে উষ্ণ অক্টোবর হওয়ার পর বিজ্ঞানীরা উল্লিখিত তথ্য জানিয়েছেন।

ইইউর কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস (সিথ্রিএস) জানায়, অক্টোবরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে যায় গত মাসে। এর আগে ২০১৯ সালের অক্টোবর স্মরণকালের উষ্ণতম অক্টোবর ছিল বলে জানিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা।

সিথ্রিএসের ‍উপপরিচালক সামান্থা বুরগেস এ বছরের অক্টোবরের তাপমাত্রা ‘অতি চরমভাবাপন্ন’ আখ্যা দিয়ে বলেন, গত মাসে তাপমাত্রা দশমিক চার ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হওয়ার মধ্য দিয়ে আগের রেকর্ড ভেঙে যায়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মানবীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফলে বায়ুমণ্ডলে অব্যাহত গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন, চলতি বছরে এল নিনোর প্রভাবে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণায়নের ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বেড়েছে।

সিথ্রিএস জানায়, চলতি বছরের অক্টোবরে ভূপৃষ্ঠে বায়ুর তাপমাত্রা ছিল ১৮৫০ থেকে ১৯০০ সাল নাগাদ একই মাসের তাপমাত্রার চেয়ে এক দশমিক সাত ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।

ইইউর সার্ভিসটি জানায়, তাপমাত্রার রেকর্ডভাঙা অক্টোবরের অর্থ হলো ২০২৩ সাল যে স্মরণকালের উষ্ণতম বছর হতে যাচ্ছে, তা ‘দৃশ্যত নিশ্চিত’।

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Two researchers won the Nobel Prize in Chemistry

ন্যানোটেকনোলজি নিয়ে গবেষণায় রসায়নে নোবেল পেলেন তিনজন

ন্যানোটেকনোলজি নিয়ে গবেষণায় রসায়নে নোবেল পেলেন তিনজন রসায়নে ২০২৩ সালের নোবেল পুরস্কারজয়ী মোঙ্গি বাওয়েন্ডি, লুইস ব্রুস ও অ্যালেক্সেই একিমভ। ছবি: রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস
রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস বুধবার তিন বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে।

চলতি বছর রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিন গবেষক।

রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস বুধবার এ তিন বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে।

নোবেল পুরস্কারের ওয়েবসাইটে জানানো হয়, কোয়ান্টম ডটস নিয়ে আবিষ্কার ও সংশ্লেষণের জন্য ২০২৩ সালের নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছে মোঙ্গি বাওয়েন্ডি, লুইস ব্রুস ও অ্যালেক্সেই একিমভকে।

ওয়েবসাইটে বলা হয়, একিমভ ও ব্রুস স্বতন্ত্রভাবে কোয়ান্টম ডটস সৃষ্টিতে সক্ষম হন। আর বাওয়েন্ডি রাসায়নিক উৎপাদনে আমূল পরিবর্তন আনেন।

কোয়ান্টাম ডটস বা কিউডিস সেমিকন্ডাক্টর ন্যানোক্রিস্টাল হিসেবেও পরিচিত। এগুলো সেমিকন্ডাক্টর কণা, যেগুলো আকারে কয়েক ন্যানোমিটার। ন্যানোটেকনোলজি ও বস্তুবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই কিউডিস।

রসায়নে এবারের নোবেল পুরস্কারজয়ী মোঙ্গি জি. বাওয়েন্ডির জন্ম ১৯৬১ সালে ফ্রান্সের প্যারিসে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে (এমআইটি) কাজ করছেন।

যৌথভাবে রসায়নের আরেক নোবেলজয়ী লুইস ই. ব্রুসের জন্ম ১৯৪৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইর ক্লিভল্যান্ডে। তিনি নিউ ইয়র্কের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে কর্মরত।

উল্লিখিত দুজনের সঙ্গে এবার রসায়নে নোবেল পাওয়া আরেক ব্যক্তি অ্যালেক্সেই আই. একিমভের জন্ম ১৯৪৫ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে। তিনি নিউ ইয়র্কভিত্তিক ন্যানোক্রিস্টালস টেকনোলজি ইনকরপোরেটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত।

রসায়নে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১১৪ জন এ শাস্ত্রে নোবেল পান।

এ শাস্ত্রে ২৫ বার নোবেল পুরস্কার তুলে দেয়া হয়েছে দুজন করে ব্যক্তিকে। এ শাস্ত্রে দুবার নোবেল পুরস্কার পান ফ্রেডেরিক স্যাঙ্গার ও ব্যারি শার্পলেস।

সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে ৩৫ বছর বয়সে রসায়নে নোবেল পান ফ্রেডেরিক জোলিয়ট, যিনি ১৯৩৫ সালে এ পুরস্কার পান। সবচেয়ে বেশি ৯৭ বছর বয়সে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান জন বি. গুডএনাফ। পুরস্কারের ইতিহাসে সর্বজ্যেষ্ঠ নোবেলজয়ীও তিনি।

সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের নামে ও তার রেখে যাওয়া অর্থে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেয়া শুরু হয়। প্রতি বছর চিকিৎসা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিতে দেয়া হয় বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার। ১৮৯৫ সালে এক উইলে ‘মানবজাতির সর্বোচ্চ সেবায় অবদান রাখা’ ব্যক্তিদের জন্য এই পুরস্কার নিবেদিত করেছেন তিনি।

এবার নোবেল পুরস্কারের মধ্যে চিকিৎসাশাস্ত্রের পুরস্কারটি সোমবার সুইডেনের স্টকহোমে ঘোষণা করা হয়। মঙ্গলবার ঘোষণা করা হয় পদার্থবিজ্ঞানের পুরস্কার। বুধবার রসায়নের পর বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে সাহিত্যের পুরস্কার।

আগামী শুক্রবার অসলো থেকে ঘোষণা করা হবে বহুল কাঙ্ক্ষিত নোবেল শান্তি পুরস্কার। আর অর্থনীতির পুরস্কারটি ঘোষণা করা হবে ৯ অক্টোবর।

আরও পড়ুন:
পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ৩ বিজ্ঞানী
করোনার টিকা উদ্ভাবনে ভূমিকায় চিকিৎসায় নোবেল পেলেন দুই গবেষক

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Russian and American astronauts arrived together at the International Space Station

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে রুশ ও আমেরিকার নভোচারী

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে রুশ ও আমেরিকার নভোচারী আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) পৌঁছেছেন দুই রুশ ও এক আমেরিকান নভোচারী। ছবি: রয়টার্স
রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থা রসকসমসের তথ্য অনুযায়ী, মহাকাশযানটি তিন ঘণ্টা পর শুক্রবার আইএসএসে পৌঁছায়। সেখানে তারা তিন রাশিয়ান, দুই আমেরিকান, এক জাপানি নভোচারী ও ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার এক প্রতিনিধির সাঙ্গে যোগ দেন।

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) পৌঁছেছেন দুই রুশ ও এক আমেরিকান নভোচারী।

রুশ-আমেরিকা সম্পর্কে টানাপোড়েনের মধ্যেই উভয় দেশের নভোচারীরা যৌথভাবে মহাকাশ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।

রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থা রসকসমসের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রোসকসমস মহাকাশচারী ওলেগ কোনোনেনকো ও নিকোলাই চুবসহ নাসার নভোচারী লোরাল ও’হারা কাজাখস্তানের বাইনোকুর কসমোড্রোম থেকে সয়ুজ এমএস-২৪ মহাকাশযানে ওঠেন।

মহাকাশযানটি তিন ঘণ্টা পর আইএসএসে পৌঁছায়। সেখানে তিন রাশিয়ান, দুই আমেরিকান, এক জাপানী নভোচারী ও ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার এক প্রতিনিধির সাঙ্গে যোগ দেন।

রাশিয়ার প্রায় ৫০ বছর পর চালানো চন্দ্রাভিযান গত মাসে ব্যর্থ হওয়ার পর মহাকাশ স্টেশনে গেল নভোচারীরা।

আইএসএস আমেরিকা ও রাশিয়ার সহযোগিতার একটি ব্যতিক্রমী ভেন্যু। রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হয়।

নভোচারীরা এমএস-২৩ মহাকাশযানে করে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন বলে জানায় রসকসমস। সূত্র: বাসস

আরও পড়ুন:
৯৩ বছর বয়সে বিয়ে করলেন চাঁদে পা দেয়া দ্বিতীয় মানব
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন ছাড়ছে রাশিয়া

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Indias solar spacecraft took a selfie with the Earth and the Moon

পৃথিবী ও চাঁদের সঙ্গে সেলফি তুলে পাঠাল ভারতের সৌরযান

পৃথিবী ও চাঁদের সঙ্গে সেলফি তুলে পাঠাল ভারতের সৌরযান ইসরো প্রকাশ করেছে এই ছবি
দেখা যায়, ঘন কালো আকাশে আলোয় উদ্ভাসিত পৃথিবীর একদিক। তার ডানদিকে চোখে পড়ছে একটি চলমান বিন্দু। সেটি চাঁদ বলে জানিয়েছে ইসরো। পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করার মুহূর্ত ধরা পড়েছে ক্যামেরায়।

মহাশূন্যে সেলফি তুলে পাঠিয়েছে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর সৌরযান আদিত্য এল-১। চন্দ্রাভিযানের ঠিক পর পরই সৌর অভিযানে নেমেছে দেশটি।

ল্যাগরেঞ্জ পয়েন্ট ‘এল-১’-এর পথে রওনা দেয়ার সময় পৃথিবী থেকে ১৫ লাখ কিলোমিটার দূরে পৃথিবী ও চাঁদের সঙ্গে ছবি তুলে পাঠিয়েছে ওই সৌরযান।

বৃহস্পতিবার ইসরো এ ছবি প্রকাশ করেছে বলে এনডিটিভর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। টুইটারে ছবিগুলো ভিডিও আকারে প্রকাশ করেছে ইসরো।

পোস্টে লেখা হয়েছে, আদিত্য এল-১ অভিযান: প্রত্যক্ষদর্শী! আদিত্য এল-১ সূর্যের ল্যাগ্রেঞ্জ এল-১ পয়েন্টের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। পথে সেলফি তুলল, ছবি তুলল পৃথিবী এবং চাঁদেরও।

৪১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওর শুরুতে ভারতীয় সৌরযানের তোলা সেলফি তুলে ধরা হয়েছে। তাতে সৌরযান আদিত্য-এর ভিইএলসি এবং সুইট দৃশ্যমান।

এর পর ভারতীয় সৌরযানে বসানো ক্যামেরার তোলা পৃথিবী এবং চাঁদের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়। তাতে দেখা যায়, ঘন কালো আকাশে আলোয় উদ্ভাসিত পৃথিবীর একদিক। তার ডানদিকে চোখে পড়ছে একটি চলমান বিন্দু। সেটি চাঁদ বলে জানিয়েছে ইসরো। পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করার মুহূর্ত ধরা পড়েছে ক্যামেরায়।

গত ২ সেপ্টেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে আদিত্য এল-১ সৌরযানের উৎক্ষেপণ হয়। এখনও পর্যন্ত পৃথিবীর চারদিকে দুবার চক্কর কেটেছে সেটি।

সূর্যের ল্যাগ্রেঞ্জ পয়েন্ট এল-১-এ পৌঁছানোর আগে, আরও দুবার গতি বাড়িয়ে চক্কর কাটবে এই যান। ১২৫ দিন পর ল্যাগ্রেঞ্জ পয়েন্ট এল-১-এ পৌঁছনোর কথা ভারতের সৌরযানের।

মহাশূন্যে সূর্য এবং পৃথিবীর মতো দুই বস্তুর পারস্পরিক আকর্ষণ এবং বিকর্ষণের ফলে যে স্থিতিশীল অঞ্চল গড়ে ওঠে, তাকেই বলে ল্যাগ্রেঞ্জ পয়েন্ট। এই ল্যাগ্রেঞ্জ পয়েন্টকে মহাকাশযানের পার্কিং স্পটও বলা হয়। সেখানে কম জ্বালানি খরচ করে, মহাজাগতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নির্বিঘ্নে নজরদরি চালানো যায়।

সূর্যের ওপর নজরদারি চালানোর জন্য, গণিত বিশারদ জোসেফ লুইস ল্যাগ্রেঞ্জ এই ল্যাগ্রেঞ্জ পয়েন্ট এল-১ আবিষ্কার করেন।

ইসরো জানিয়েছে, ল্যাগ্রেঞ্জ পয়েন্ট এল-১ থেকে কোনো রকম বাধা-বিঘ্ন ছাড়াই সূর্যকে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। এর মাধ্যমে সূর্যের বায়ুমণ্ডলে ঠিক কী ঘটছে, মহাকাশের সার্বিক আবহাওয়ায় তার কী প্রভাব পড়ছে, তৎক্ষণাৎই সব তথ্য হাতে পাওয়া সম্ভব।

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman Novotheater is awaiting inauguration in Rajshahi

উদ্বোধনের অপেক্ষায় ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার’

উদ্বোধনের অপেক্ষায় ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার’ রাজশাহীতে নির্মিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নভোথিয়েটার ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার’। ছবি: নিউজবাংলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, ‘রাজশাহী শিক্ষানগরী হওয়ায় স্থানীয় ও বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তুলতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে নভোথিয়েটারটি।’

রাজশাহী শহরে উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নভোথিয়েটার ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার।’

আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাজশাহীর গণপূর্ত অধিদপ্তর চলতি বছরের জুলাইয়ে নভোথিয়েটারটির পুরো কাজ শেষ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর শিডিউল অনুযায়ী যেকোনো সময় নভোথিয়েটারটির উদ্বোধন হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২০১৮ সালে রাজশাহীর শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার সামনের অংশে শুরু হয় ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার’-এর নির্মাণকাজ।

করোনাভাইরাস মহামারি ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধসহ নানা প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ২৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ শেষ হয় চলতি বছরের জুলাইয়ে। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা দেশের সর্ববৃহৎ পরিধির এ প্রকল্পের মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছে প্ল্যানেটেরিয়ামসহ ফাইভজি হল ও আধুনিক অবজারভেটেড টেলিস্কোপ, যা দেশে প্রথম। এটি দিয়ে গবেষকরা নভোমণ্ডলের গবেষণা আরও এগিয়ে নিতে পারবেন।

এ নভোথিয়েটারে সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠে তিন তলায় যেতে ভেতরে দুটি বড় সিঁড়ি ছাড়াও রয়েছে লিফট ও এস্কেলেটর। তৃতীয় তলায় পূর্ব-উত্তর কোনায় বসানো হয়েছে ডোম বা গম্বুজ। সফটওয়্যার চালুর সঙ্গে সঙ্গে ক্লিক করলেই গম্বুজের চারপাশ থেকে হালকা আলোয় আলোকিত হতে শুরু করবে মাথার ওপরের সাদা পর্দা।

চার পাশের মোট পাঁচটি প্রজেক্টর একসঙ্গে চালু হয়ে শুরু হবে পৃথিবী সৃষ্টির রহস্য দ্য বিগ ব্যাং শো। কক্ষটিতে প্রবেশ করতে হচ্ছে জুতা খুলে। কারণ ভেতরে খুবই স্পর্শকাতর যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে।

নভোথিয়েটারটি প্রতিটি ফ্লোরে লাইটিং, ভবনের সামনে সুদৃশ্য পানির ফোয়ারাসহ করা হয়েছে আধুনিক ডেকোরেশন। পুরো ভবনে সেন্ট্রাল এসি স্থাপন, টিকেটিং সিস্টেম পুরোপুরি অটোমেটেড ও ডিজিটাল। এ ছাড়া মেঝেতে বিছানো হয়েছে মূল্যবান মাদুর।

বসার জন্যে সারি সারি লাল রঙের আরামদায়ক চেয়ার স্থাপন করা হয়েছে।

পুরো নভোথিয়েটারে আধুনিক ফায়ার প্রটেকশন ও ডিটেকশন ব্যবস্থাসহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লাগানো হয়েছে ১৪০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা। দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে অন্তত ১০০টি কার পার্কিংয়ের ব্যবস্থা।

সম্প্রতি পরীক্ষামূলক প্রদর্শনীতে দেখা যায়, নভোথিয়েটারে মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য থেকে পৃথিবীর সৃষ্টি, সূর্য, চাঁদ, গ্রহ, নক্ষত্র সবই এক পর্দায় ভেসে উঠছে নিমেষেই। নিখুঁত সাউন্ডের জন্য পুরো হলে লাগানো হয়েছে ডলবি ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেম, যা দর্শকদের প্রদর্শনীর মাধ্যমে নিয়ে যাবে সরাসরি মহাশূন্যে গ্রহ-নক্ষত্রের খুব কাছে।

একসঙ্গে ১৫০ জন আসনগুলোতে বসে অসীম মহাকাশের গ্রহ-নক্ষত্রের খুঁটিনাটি সম্পর্কে জানতে ও দেখতে পারবেন। এখানে দিনে অন্তত ছয় থেকে সাতটি শো চালানো সম্ভব বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

এ বিজ্ঞান গবেষণা ও মহাকাশ প্রদর্শনী কেন্দ্রটি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আধুনিক ভবন হতে যাচ্ছে জানিয়ে রাজশাহী গণপূর্ত-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ বলেন, প্রকল্পে শুধু ভবন তৈরিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা। বাকি অর্থ ব্যয় হয় নভোথিয়েটারের যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য খাতে। শুধু প্ল্যানেটেরিয়াম ছাড়াও এখানে রয়েছে বিশাল জায়গা। যেকোনো বিজ্ঞান প্রদর্শনী ছাড়াও চাইলে শিক্ষাবিষয়ক নানা অনুষ্ঠান এখানে করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান রাজশাহী এসে নভোথিয়েটার পরিদর্শন করেছেন। এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিস্তারিত অবহিত করে উদ্বোধনের জন্য শিডিউল নেবেন। প্রধানমন্ত্রীর শিডিউল পেলে চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই নভোথিয়েটারটির উদ্বোধন হবে।’

স্থপতি ইয়াফেস ওসমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাজশাহী শিক্ষানগরী হওয়ায় স্থানীয় ও বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তুলতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে নভোথিয়েটারটি।’

ঢাকার পরে দ্বিতীয় বিভাগীয় শহরে নভোথিয়েটার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষানগরী ও প্রকৃষ্ট জায়গা বলেই ঢাকার বাইরে রাজশাহীকে নভোথিয়েটার নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এখানে নভোথিয়েটার অত্যন্ত প্রয়োজন। এটা আরও আগে হওয়া উচিত ছিল।’

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার নির্মাণের জায়গা পরিদর্শনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
India launches Aditya L1 for solar research

এবার সূর্যের পথে ভারতের রকেট

এবার সূর্যের পথে ভারতের রকেট ইসরো শনিবার ‘আদিত্য-এল ১’ নামের রকেটটি উৎক্ষেপণ করে। ছবি: ইসরো
সূর্যপৃষ্ঠের দূরতম স্তরগুলো পর্যবেক্ষণ করতে ‘আদিত্য-এল ১’ নামের রকেটটিতে প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি রয়েছে। ভারত সময় শনিবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে এটি চার মাসের যাত্রা শুরু করে।

চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানবহীন ভারতীয় মহাকাশযান অবতরণের এক সপ্তাহ পর গবেষণা চালানোর জন্য সূর্যের উদ্দেশে রকেট পাঠিয়েছে দেশটির মহাকাশ গবেষণা সংস্থা আইএসআরও বা ইসরো।

আল জাজিরার শনিবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, সূর্যপৃষ্ঠের দূরতম স্তরগুলো পর্যবেক্ষণ করতে ‘আদিত্য-এল ১’ নামের রকেটটিতে প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি রয়েছে। ভারত সময় শনিবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে এটি চার মাসের যাত্রা শুরু করে।

ইসরোর ওয়েবসাইটে রকেট উৎক্ষেপণ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়, যেটি দেখেছে প্রায় পাঁচ লাখ দর্শক।

ইসরো জানায়, সূর্যে পদ্ধতিগত গবেষণার জন্য সাতটি বৈজ্ঞানিক সামগ্রী বহন করছে রকেটটি। এসব সামগ্রীর সবগুলোই ভারতের মহাকাশ সংস্থা ও বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতায় দেশীয়ভাবে তৈরি।

সংস্থাটি জানায়, মিশন সফল হলে এটি হবে সৌর কক্ষপথে এশিয়ার কোনো দেশের প্রথম অনুসন্ধান।

মহাকাশযানটিকে চার মাসের মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়ার উপযোগী করে নির্মাণ করা হয়েছে।

আদিত্য এল-১ সূর্য-পৃথিবী সিস্টেমের ল্যাগ্রেঞ্জ পয়েন্ট ১-এর চারপাশের কক্ষপথে অবস্থান নেবে।

ল্যাগ্রেঞ্জ পয়েন্ট হলো এমন এক জায়গা, যেখানে সূর্য ও পৃথিবীর আকর্ষণ ও বিকর্ষণ বল একসঙ্গে কাজ করে। এ কারণে ওই অঞ্চলে মহাকাশযান স্থির থাকতে পারে।

ইতালীয়-ফরাসি গণিতবিদ জোসেফ-লুই ল্যাগ্রেঞ্জের নামানুসারে এই অবস্থানগুলোকে ল্যাগ্রেঞ্জ পয়েন্ট বলা হয়।

আরও পড়ুন:
নির্বাচন ও প্রার্থিতা নিয়ে শেখ হাসিনাকে ‘স্পষ্ট বার্তা’ দেবে ভারত
বাংলাদেশের দলগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াচ্ছে ভারত: দ্য হিন্দু
উত্তরাখণ্ডে তীর্থযাত্রীদের বাস খাদে পড়ে নিহত ৭
উত্তর প্রদেশে মুসলিম দম্পতিকে পিটিয়ে হত্যা
ভারত ফেরত যাত্রীকে অযথাই পেটালেন কাস্টমস গোয়েন্দা

মন্তব্য

p
উপরে