× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

স্বাস্থ্য
What to do if you are scared of monkeypox
hear-news
player
print-icon

মাঙ্কিপক্স কতটা ভয়ের, আক্রান্ত হলে কী করবেন

মাঙ্কিপক্স-কতটা-ভয়ের-আক্রান্ত-হলে-কী-করবেন
কঙ্গোয় মাঙ্কিপক্স আক্রান্ত এক যুবকের ফুসকুড়ির নমুনা নিচ্ছেন চিকিৎসাকর্মীরা। ছবি: এএফপি
আফ্রিকা মহাদেশের ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোয় (ডিআরসি) ১৯৭০ সালে প্রথম একটি শিশুর দেহে মাঙ্কিপক্স সংক্রমণ শনাক্ত হয়। শিশুটিকে শুরুতে গুটিবসন্ত আক্রান্ত বলে সন্দেহ করছিলেন চিকিৎসকেরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঙ্কিপক্সে শারীরিক জটিলতার মাত্রা বেশ কম। তবে কিছু বিরল ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থতার মুখে পড়তে পারেন।

কোভিড-১৯ মহামারির আতঙ্ক পুরোপুরি না কাটতেই মাঙ্কিপক্স সংক্রমণ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ২০ মে দেয়া বিবৃতি অনুসারে, ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশে প্রায় ৮০টি নিশ্চিত সংক্রমণ ধরা পড়েছে। সন্দেহভাজন আরও ৫০ রোগী পর্যবেক্ষণে আছেন। মাঙ্কিপক্সের সংক্রমণ ব্যাপক মাত্রায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

তবে মাঙ্কিপক্স কোনো নতুন রোগ নয়। ভাইরাসজনিত রোগটির প্রাদুর্ভাব পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে মাঝেমধ্যেই দেখা যায়। এবার ইউরোপ ও আমেরিকাতেও বেশ কয়েকজন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এ কারণে ভাইরাস ছড়ানোর গতি বেড়েছে কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় বিশেষজ্ঞরা।

ইউরোপে ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালক হ্যান্স ক্লুগ বলেছেন, ‘আমরা গ্রীষ্ম মৌসুমে প্রবেশ করছি, এর সঙ্গে গণজমায়েত, উৎসব ও পার্টির সংখ্যা বাড়ছে। এতে সংক্রমণের হার বাড়তে পারে বলে আমি উদ্বিগ্ন।’

এর আগে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ ঠেকাতেও কঠোর লকডাউন ও গণজমায়েত নিয়ন্ত্রণের কৌশল অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছিল ডব্লিউএইচও। তবে তীব্র অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে বিশ্বের প্রতিটি দেশই পরে সেই পথ থেকে সরে আসে। পাশাপাশি বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, খোলা এলাকার পরিবর্তে আবদ্ধ পরিবেশেই করোনা ভাইরাসের কার্যকারিতা ও বিস্তার বেশি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঙ্কিপক্সের বিস্তারের ধরন পর্যালোচনায় বোঝা যায় বিশ্বজুড়ে নতুন মহামারি সৃষ্টির আশঙ্কা বলতে গেলে নেই। তবে মাত্র বছর দুয়েক আগে কোভিড-১৯ মহামারির কারণেই রোগটি নিয়ে বাড়তি ভীতি তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, মাঙ্কিপক্সে শারীরিক জটিলতার মাত্রাও বেশ কম। কিছু বিরল ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থতার মুখে পড়তে পারেন।

কোন ভাইরাস দায়ী

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, বিরল রোগ মাঙ্কিপক্সের জন্য দায়ী ভাইরাসটির নাম মাঙ্কিপক্স ভাইরাস। এটি পক্সভিরিডাই পরিবারের অর্থোপক্সভাইরাস গণের অন্তর্গত। এই অর্থোপক্সভাইরাস গণের মধ্যেই রয়েছে ভ্যারিওলা ভাইরাস, যা গুটিবসন্তের জন্য দায়ী। আবার এই গণের অন্তর্ভুক্ত ভ্যাক্সিনিয়া ভাইরাস গুটিবসন্তের টিকা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণেই মাঙ্কিপক্সের ক্ষেত্রে গুটিবসন্তের মতো উপসর্গ দেখা যায়।

আফ্রিকা মহাদেশের ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোয় (ডিআরসি) ১৯৭০ সালে প্রথম একটি শিশুর দেহে মাঙ্কিপক্স সংক্রমণ শনাক্ত হয়। শিশুটিকে শুরুতে গুটিবসন্ত আক্রান্ত বলে সন্দেহ করছিলেন চিকিৎসকেরা।

অবশ্য মানুষের সংক্রমণ ধরা পড়ার এক যুগ আগে ১৯৫৮ সালে প্রথম মাঙ্কিপক্স শনাক্ত করেন বিজ্ঞানীরা। সেবার ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোয় গবেষণার জন্য আটকে রাখা বানরের দেহে গুটিবসন্তের মতো রোগের সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরীক্ষা করে দেখা যায়, ওই রোগের জন্য দায়ী ভাইরাসটি গুটিবসন্তের ভাইরাসের চেয়ে কিছুটা আলাদা। আর এর পরই ভাইরাসটির নাম দেয়া হয় মাঙ্কিপক্স।

ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোয় মানুষের দেহে ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্তের কিছুদিনের মধ্যে মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকান আরও অনেক দেশ যেমন ক্যামেরুন, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, কোত ডে ভোয়া, গ্যাবন, লাইবেরিয়া, নাইজেরিয়া, রিপাবলিক অফ দ্য কঙ্গো এবং সিয়েরা লিওনে মাঙ্কিপক্সের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। বেশির ভাগ সংক্রমণের ঘটনা অবশ্য ঘটেছিল ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোয়।

ছয় দশকেরও বেশি আগে মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হলেও এর প্রাকৃতিক পোষক সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নন। কেউ কেউ ধারণা করেন, আফ্রিকান ইঁদুর বা বানরজাতীয় প্রাণী ভাইরাসটির পোষক হতে পারে। আর সেসব প্রাণী থেকেই মাঙ্কিপক্স মাঝেমধ্যে মানুষে সংক্রমিত হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বেশ কিছু প্রাণীকে মাঙ্কিপক্স ভাইরাসের পোষক হিসেবে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে আছে দুই প্রজাতির কাঠবিড়ালি (রোপ স্কুইরেল ও ট্রি স্কুইরেল), গাম্বিয়ান পাউচড ইঁদুর, ডর্মিস এবং বানর।

সংক্রমণ

মাঙ্কিপক্স সংক্রমণের ঘটনা সবচেয়ে বেশি লক্ষ করা যায় ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোয়। এ ছাড়া মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশেও এই রোগের অস্তিত্ব রয়েছে। আফ্রিকার দেশগুলোয় ভ্রমণ ও আমদানি করা প্রাণীর মাধ্যমে বিশ্বের আরও কিছু দেশে বিভিন্ন সময়ে মাঙ্কিপক্সের অল্পবিস্তর সংক্রমণ দেখা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হয় ২০০৩ সালে। টেক্সাসে ঘানা থেকে আমদানি করা পশুর একটি চালান থেকে ভাইরাসের সংক্রমণের ওই ঘটনা ঘটেছিল বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে গত বছরের নভেম্বর ও জুলাইয়েও মাঙ্কিপক্স আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়।

১৯৭০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত আফ্রিকার ১১টি দেশে মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৯৬-৯৭ সালে ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোয় বেশ বড় একটি প্রাদুর্ভাব ঘটে। তবে আক্রান্তের তুলনায় মৃত্যুহার ছিল বেশ কম। ২০১৭ সালে নাইজেরিয়ায় ৫০০-র বেশি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হন। সেখানে মৃত্যুর হার ছিল প্রায় ৩ শতাংশ। নাইজেরিয়া থেকে ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে ২০১৮ সালে ইসরায়েল, যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরেও মাঙ্কিপক্সের বিস্তার ঘটেছিল।

মাঙ্কিপক্সের ভাইরাসের সঙ্গে গুটিবসন্তের ভাইরাসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় গুটিবসন্তের টিকা দুটি ক্ষেত্রেই সুরক্ষা দিতে পারে। তবে ১৯৮০ সালে গুটিবসন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মূলের ঘোষণা দেয়ার পর বিভিন্ন দেশে এই টিকাদান বন্ধ রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এই সুযোগে মাঙ্কিপক্স জনস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে সক্রিয় অর্থোপক্স ভাইরাস হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, মাঙ্কিপক্স সংক্রমিত কোনো প্রাণীকে স্পর্শ করলে বা সেটি কামড় দিলে অথবা ওই প্রাণীর রক্ত, শরীরের তরল, ফোসকা স্পর্শ করলে মানুষে এই ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে।

সংক্রমিত প্রাণীর মাংস ভালোভাবে রান্না না করে খেলেও মানুষ মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত হতে পারে। এ ছাড়া সংক্রামিত প্রাণীর চামড়া বা পশম স্পর্শের মাধ্যমে সংক্রমণের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না এনএইচএস।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস বলছে, মাঙ্কিপক্সের কারণে ফুসকুড়িতে আক্রান্ত ব্যক্তির পোশাক, বিছানা বা তোয়ালে স্পর্শ করা যাবে না। এ ছাড়া মাঙ্কিপক্সজনিত ফোসকা বা চলটা স্পর্শ না করার পাশাপাশি ফুসকুড়ি থাকা ব্যক্তির কাশি বা হাঁচি থেকে দূরে থাকতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, দীর্ঘক্ষণ আক্রান্ত ব্যক্তির মুখোমুখি অবস্থান করলে তার হাঁচি-কাশির ড্রপলেট বা অণুকণার মাধ্যমে সুস্থ ব্যক্তিও ভাইরাস আক্রান্ত হতে পারেন। এ কারণে স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীর পরিবারের সদস্যদের বাড়তি ঝুঁকি রয়েছে।

প্ল্যাসেন্টার মাধ্যমে মা থেকে ভ্রূণে ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটতে পারে। জন্মের সময় এবং পরে মায়ের সান্নিধ্যে থাকা সন্তানও ঝুঁকির বাইরে নয়।

সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজনের ক্ষেত্রে শারীরিক মিলনের মাধ্যমে মাঙ্কিপক্স সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বক্তব্যে রয়েছে অস্পষ্টতা।

ডব্লিউএইচওর ওয়েবসাইটে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে যৌন সম্পর্ক বা দূষিত পদার্থ স্পর্শের মতো ঘনিষ্ঠ সংযোগের (সংক্রমিত ত্বকের ক্ষত, নিঃশ্বাসের ড্রপলেট বা শরীরের তরল স্পর্শ) মাধ্যমে মাঙ্কিপক্সের সংক্রমণ ঘটে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ডেভিড হেম্যানও সতর্ক করে বলছেন, ‘এখন যা ঘটছে বলে মনে হচ্ছে তা হলো এটি (মাঙ্কিপক্স ভাইরাস) যৌন ক্রিয়াকলাপ বা যৌনাঙ্গের মাধ্যমে কিছু মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। যৌনতার মাধ্যমে সংক্রমণের কারণেই সারা বিশ্বে ভাইরাসটির ছড়ানোর মাত্রা বেড়ে গেছে।’

তবে মাঙ্কিপক্স নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্যাক্টশিটে বলা হয়েছে, শারীরিক ঘনিষ্ঠতা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায় এমন ধারণাটি সুপরিচিত হলেও বিষয়টি নিয়ে এখনও অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। ঝুঁকির এই দিকটি ভালোভাবে বোঝার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।

লক্ষণ উপসর্গ

ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিনে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র বলছে, মাঙ্কিপক্সের ভাইরাস শরীরে প্রবেশের পর প্রতিলিপি তৈরি করতে শুরু করে। এরপর রক্তের মাধ্যমে সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত সংক্রমণের এক-দুই সপ্তাহের আগে বাহ্যিক কোনো উপসর্গ দেখা যায় না।

মাঙ্কিপক্স ত্বকে গুটিবসন্তের মতো ক্ষত তৈরি করে, তবে লক্ষণগুলো সাধারণত গুটিবসন্তের তুলনায় মৃদু। আক্রান্তরা প্রাথমিকভাবে সাধারণ জ্বর ও মাথাব্যথায় ভুগতে পারেন। কারও কারও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। লক্ষণ প্রকাশের ১ থেকে ১০ দিন পর শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। ধীরে ধীরে তা পুঁজ ভরা ফোসকায় পরিণত হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্যাক্টশিটের তথ্য অনুযায়ী, মাঙ্কিপক্স ভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড (সংক্রমণ থেকে উপসর্গের সূত্রপাত পর্যন্ত সময়ের ব্যবধান) সাধারণত ৬ থেকে ১৩ দিন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা ৫ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত হতে পারে।

এতে বলা হয়েছে, ভাইরাস আক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে (সর্বোচ্চ ৫ দিন পর্যন্ত) জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, লিম্ফ্যাডেনোপ্যাথি (লিম্ফ নোডের ফোলা), পিঠ ব্যথা, পেশিতে ব্যথা এবং প্রচণ্ড দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে। জলবসন্ত, গুটিবসন্ত বা হামের ক্ষেত্রে এ ধরনের সব লক্ষণ থাকলেও লিম্ফ্যাডেনোপ্যাথি দেখা যায় না।

জ্বরের এক থেকে তিন দিনের মধ্যে ত্বকে ফুসকুড়ি দেখা যায়। কাঁধের চেয়ে মুখ ও হাতের দিকে ফুসকুড়ি থাকে বেশি। আক্রান্তদের শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে ৯৫ শতাংশের মুখমণ্ডলে ফুসকুড়ি বেশি দেখা গেছে। এ ছাড়া হাতের তালু, পায়ের তলা, মুখের শ্লেষ্মা ঝিল্লি, যৌনাঙ্গ, এমনকি চোখের কর্নিয়াও আক্রান্ত হয়।

এই ফুসকুড়ি ধীরে ধীরে স্বচ্ছ তরলে পূর্ণ হয়, যা পরে পুঁজ তৈরি করে। সর্বশেষে চলটা শুকিয়ে ঝরে পড়ে। মাঙ্কিপক্সে শরীরে কয়েক হাজার পর্যন্ত ফুসকুড়ি তৈরি হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে ত্বকের বড় অংশের চামড়া উঠে না যাওয়া পর্যন্ত ক্ষত সারে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, মাঙ্কিপক্স সাধারণত আপনাআপনি সেরে যায়। রোগের লক্ষণের স্থায়িত্ব দুই থেকে চার সপ্তাহ পর্যন্ত। ক্ষতের মাত্রা কতটা হবে, তা রোগীর স্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে।

মাঙ্কিপক্স সেরে যাওয়ার পরও অনেকে ত্বকের অন্য সংক্রমণ, ব্রঙ্কোপনিউমোনিয়া, সেপসিস, এনসেফালাইটিস এবং কর্নিয়ার জটিলতায় ভুগতে পারেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বর্তমানে মাঙ্কিপক্সে মৃত্যুহার ৩ থেকে ৬ শতাংশ। তবে কিছু বিশেষজ্ঞের দাবি, এই হার ১ শতাংশের নিচে।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ রিডিংয়ের সেলুলার মাইক্রোবায়োলজির সহযোগী অধ্যাপক সাইমন ক্লার্ক বলছেন, ‘যুক্তরাজ্যে পশ্চিম আফ্রিকার ভাইরাসের যে ধরনটি ছড়িয়েছে তাতে মৃত্যুহার প্রায় ১ শতাংশ। আফ্রিকার কঙ্গো অঞ্চলের আরেকটি ধরন রয়েছে যেটি প্রায় ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে মারাত্মক হতে পারে, তবে যুক্তরাজ্যে সেটি দেখা যায়নি।’

চিকিৎসা

মাঙ্কিপক্স সংক্রমণের দুই-চার সপ্তাহের মধ্যে জটিলতাগুলো এমনিতেই সেরে যায়। এ সময়ে রোগীকে পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বেশি করে তরল ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ ঠেকাতে লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসার ওপরও জোর দিচ্ছে তারা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, আক্রান্ত ব্যক্তিকে সেবা দেয়া স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। এ জন্য তাদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। সম্ভব হলে গুটিবসন্তের টিকা নিয়েছেন এমন স্বাস্থ্যকর্মীদের মাঙ্কিপক্স আক্রান্তদের সেবায় নিয়োজিত করতে হবে।

বন্যপ্রাণী, বিশেষ করে অসুস্থ বা মৃত প্রাণীর মাংস, রক্ত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। পশুর মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে ভালো করে সেদ্ধ করার পরামর্শও দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ছয় জেলায় ২৯ রোগী, ঢাকা বিভাগেই ২৬
মাঙ্কিপক্স: দেশের সব বন্দরে সতর্কতা
১১ দেশে মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত ৮০
মাঙ্কিপক্স নিয়ে যে বিষয়গুলো জানা দরকার
মাঙ্কিপক্স নিয়ে ডব্লিউএইচওর জরুরি বৈঠক

মন্তব্য

আরও পড়ুন

স্বাস্থ্য
50 feet diameter sundial in Calcutta

৫০ ফুট ব্যাসের সূর্যঘড়ি কলকাতায়

৫০ ফুট ব্যাসের সূর্যঘড়ি কলকাতায় কলকাতার সায়েন্স সিটি মিউজিয়াম। ছবি: ফেসবুক থেকে
কলকাতার বাইপাসের পাশেই ১৯৯৭ সালে চালু হয় বিজ্ঞান বিনোদন পার্ক। ২৫ বছর হয়ে গেলেও বিনোদন স্থান হিসেবে এখনও  শহরে নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে পার্কটি। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে ২০২০ সাল থেকে দুই বছর দর্শনার্থী শূন্য থাকার পর আবার জমে উঠেছে কলকাতার সায়েন্স সিটি মিউজিয়াম।

কলকাতা শহরের জনপ্রিয় জায়গাগুলোর মধ্যে অন্যতম সায়েন্স সিটি মিউজিয়াম। এই মিউজিয়ামের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দর্শকদের জন্য একাধিক চমক হাজির করছে মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ।

নতুন চমকের অংশ হিসেবে সায়েন্স সিটি পার্কে বসছে ৫০ ফুট ব্যাসের সুর্যঘড়ি। সুর্যোদয় থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত নিখুঁত হিসেব দেবে এই ঘড়ি।

কলকাতার বাইপাসের পাশেই ১৯৯৭ সালে চালু হয় বিজ্ঞান বিনোদন পার্ক। ২৫ বছর হয়ে গেলেও বিনোদন স্থান হিসেবে এখনও শহরে নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে পার্কটি।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে ২০২০ সাল থেকে দুই বছর দর্শনার্থী শূন্য থাকার পর আবার জমে উঠেছে কলকাতার সায়েন্স সিটি মিউজিয়াম।

মিউজিয়ামের প্রধান কর্মকর্তা অনুরাগ কুমার জানান, ‘এবছর মে মাসে গত ২৪ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি লোকসমাগম হয়েছে। ১৯৯৮ সালের মে মাসে ১ লাখ ৪৯ হাজার দর্শনার্থী এসেছিলেন। এবার মে মাসে দর্শনার্থী আসেন ১ লাখ ৫৪ হাজার।’

দর্শনার্থীদের জন্য সায়েন্স সিটি মিউজিয়ামের প্রধান আকর্ষণ স্পেস থিয়েটার, টাইম মেশিন, ডাইনোসর পার্ক রাইড, ডিজিটাল প্যানোরমা। এবার এই তালিকায় যোগ হচ্ছে ৫০ ফুট ব্যাসের সূর্য ঘড়ি।

আরও পড়ুন:
কলকাতার এয়ারক্রাফট মিউজিয়ামে কার্গিল যুদ্ধের উড়োজাহাজ

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
5 planets can be seen together with the naked eye

খালি চোখে একসঙ্গে দেখা যাবে ৫ গ্রহ

খালি চোখে একসঙ্গে দেখা যাবে ৫ গ্রহ মহাজাগতিক ঘটনাগুলো সংগঠিত হয় অনেক বছর পর পর। ছবি: সংগৃহীত
পাঁচটি গ্রহের অর্ধাকার চাঁদের মতো এই সংযোগ শুক্রবার সবচেয়ে ভালো দেখা যাবে এবং বিশ্বের অধিকাংশ জায়গায় সোমবার পর্যন্ত দেখা যাবে। শেষবার গ্রহগুলোর এই অর্ধচন্দ্রাকৃতির সংযোগ ঘটেছিল ২০০৪ সালে। পরে আবার এই সংযোগ দেখতে চাইলে অপেক্ষা করতে হবে ২০৪০ সাল পর্যন্ত।

মহাজাগতিক যেকোনো ঘটনার জন্য অপেক্ষা করতে হয় বহু বছর। এবার এমনই এক মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ববাসী। যা এর আগে হয়েছিল ১৮ বছর আগে। আবার এই ঘটনা দেখতে চাইলে অপেক্ষা করতে হবে আরও ১৮ বছর।

আমাদের সৌরজগতের প্রধান পাঁচটি গ্রহ শুক্রবার থেকে একই সারিতে উজ্জ্বলভাবে জ্বলবে আবারও।

স্পেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোরের আগে আকাশ পরিষ্কার থাকলে বুধ, শুক্র, মঙ্গল, বৃহস্পতি এবং শনিগ্রহ দেখার জন্য খালি চোখই যথেষ্ট।

তবে বুধগ্রহকে দেখার জন্য এটিই বিশেষ সুযোগ, সাধারণত সূর্যের উজ্জ্বল আলোর কারণে বুধ অস্পষ্ট থাকে।

বলা হচ্ছে পাঁচটি গ্রহের অর্ধাকার চাঁদের মতো এই সংযোগ শুক্রবার সবচেয়ে ভালো দেখা যাবে এবং বিশ্বের অধিকাংশ জায়গায় সোমবার পর্যন্ত দেখা যাবে।

খালি চোখে একসঙ্গে দেখা যাবে ৫ গ্রহ
সমান্তরালে শুক্র, বৃহস্পতিগ্রহ ও চাঁদ

মহাকাশ বিজ্ঞানী এবং সোসাইটি ফর পপুলার অ্যাস্ট্রোনমির প্রফেসর লুসি গ্রিন ব্যাখ্যা করেছেন যে, ‘মুক্তোর একটি মালার মতন দিগন্তের কাছাকাছি থেকে তা ছড়িয়ে পড়বে।’

শেষবার গ্রহগুলোর এই অর্ধচন্দ্রাকৃতির সংযোগ ঘটেছিল ২০০৪ সালে। পরে আবার এই সংযোগ দেখতে চাইলে অপেক্ষা করতে হবে ২০৪০ সাল পর্যন্ত।

আরও পড়ুন:
পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে প্লাজমা
মঙ্গলগ্রহে যেতে লাগবে লেটুস পাতা
পৃথিবীর প্রত্যেকে হবে বিলিয়নেয়ার!
সৌরজগতে তিন চাঁদের গ্রহাণু
সবচেয়ে বড় ছায়াপথের সন্ধান

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Where did the mysterious alien signal from China come from?

চীনের রহস্যজনক এলিয়েন সংকেত এলো কোথা থেকে

চীনের রহস্যজনক এলিয়েন সংকেত এলো কোথা থেকে এখন পর্যন্ত পৃথিবীর বাইরের বুদ্ধিমত্তার মুখোমুখি হয়নি মানুষ। ছবি: সংগৃহীত
চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রকাশিত দৈনিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দৈত্যাকার স্কাই আই টেলিস্কোপ পৃথিবীর বাইরে জীবনের চিহ্নের সন্ধান পেয়েছে। যদিও গবেষক ড্যান ওয়ারথিমার যিনি প্রথম সংকেতগুলো দেখেছিলেন তিনি লাইফ সায়েন্সকে বলেছিলেন, এটি মানব হস্তক্ষেপ ( ন্যারো ব্যান্ড রেডিও সিগন্যাল) থেকে এসেছে, বহির্জাগতিক বিষয় নয়।

পৃথিবীর বাইরে বুদ্ধিমত্তার খোঁজে দীর্ঘদিন যাবৎ কাজ করে আসছে বিজ্ঞানীরা, তবে তেমন কিছুর দেখা এখনও পাওয়া যায়নি। অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান প্রায়ই এলিয়েনের অস্তিত্বের বিভিন্ন প্রমাণ সামনে নিয়ে এলেও শেষ পর্যন্ত সেই প্রমাণগুলো আর টেকেনি।

সবশেষ চীনের একটি রাষ্ট্রীয় প্রযুক্তি পত্রিকায় বলা হয়, দেশটির গবেষকরা দাবি করেছিলেন, তারা খুব সম্ভবত তাদের রেডিও টেলিস্কোপ ‘স্কাই আই’তে বুদ্ধিমান এলিয়েনদের পাঠানো সংকেত পেয়ে থাকতে পারে।

তবে লাইফ সায়েন্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এলিয়েন গবেষকদের এ নিয়ে সংশয় রয়েছে।

চীনে প্রাপ্ত এলিয়েন সংকেত গবেষণা প্রকল্পের একজন সহ-লেখক ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃথিবীর বাইরে বুদ্ধিমত্তা খোঁজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান সার্চ ফর এক্সট্রাটেরেস্ট্রিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এসইটিআই) গবেষক ড্যান ওয়ারথিমার যিনি প্রথম সংকেতগুলো দেখেছিলেন তিনি লাইফ সায়েন্সকে বলেছিলেন, এটি মানব হস্তক্ষেপ (ন্যারো ব্যান্ড রেডিও সিগন্যাল) থেকে এসেছে, বহির্জাগতিক বিষয় নয়।

সাধারণত ন্যারো ব্যান্ড রেডিও সংকেতগুলো প্রাকৃতিক উৎস থেকে সৃষ্টি হয় না।

স্কাই আই টেলিস্কোপের সংকেত ধারণের মতো ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ২০১৯ সালেও বিজ্ঞানীরা এমন একটি সংকেত শনাক্ত করে, যা তারা ধারণা করেছিলেন প্রক্সিমা সেন্টোরি থেকে এসেছে, যেখানে অন্তত সম্ভাব্য বাসযোগ্য গ্রহ রয়েছে বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা।

সেখান থেকে প্রাপ্ত সংকেতটিও ছিল ন্যারো ব্যান্ডের।

যদিও দুই বছরের গবেষণায় বেরিয়ে আসে যে, কারিগরি ত্রুটির কারণেই এমনটি হয়েছিল। সেটি কোনো এলিয়েন প্রযুক্তি থেকে আসা রেডিও সিগন্যাল ছিল না।

চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রকাশিত দৈনিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের দৈত্যাকার স্কাই আই টেলিস্কোপ পৃথিবীর বাইরে জীবনের চিহ্নের সন্ধান পেয়েছে।

যদিও প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, পৃথিবীর বাইরের সভ্যতা অনুসন্ধান দলের প্রধান বিজ্ঞানী ঝাং টঞ্জি বলেছেন, সন্দেহজনক সংকেতগুলো রেডিও হস্তক্ষেপও হতে পারে এবং এর জন্য আরও তদন্তের প্রয়োজন।

দৈনিকটি পরে এ-সংক্রান্ত সব প্রতিবেদন ও পোস্টগুলো মুছে ফেলে।

তবে চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দৈনিক থেকে কেন প্রতিবেদনটি সরিয়ে দেয়া হয়েছিল তা স্পষ্ট নয়।

খবরটি এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওয়েবুতে ছড়িয়ে পড়েছে এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবরটি চলে এসেছে।

স্কাই আই বিশ্বের সবচেয়ে বড় রেডিও টেলিস্কোপ। এটি ন্যারো-ব্যান্ড ইলেকট্রোম্যাগনেটিক সিগন্যালে কাজ করে।

২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে বহির্জাগতিক প্রাণের অনুসন্ধান শুরু করে স্কাই আই। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিম গুইঝো প্রদেশে এর অবস্থান। টেলিস্কোপটির ব্যাস ৫০০ মিটার (১ হাজার ৬৪০ ফুট)।

ঝাংয়ের মতে, কম ফ্রিকোয়েন্সির এই রেডিও ব্যান্ড টেলিস্কোপ স্কাই আই অত্যন্ত সংবেদনশীল। বহির্জাগতিক প্রাণের সন্ধানে এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন:
এলিয়েনের সংস্পর্শে গর্ভবতী!
এলিয়েনের উদ্দেশে খোলা চিঠি
ইউএফও নিয়ে ব্যাখ্যা নেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে
‘এলিয়েনের নজরদারি’, ২৯ গ্রহ চিহ্নিত
এলিয়েনের খোঁজ পেয়েছে মানুষ!

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Construction of high tech park begins in Barisal

ব‌রিশালে হাইটেক পার্ক নির্মাণ শুরু

ব‌রিশালে হাইটেক পার্ক নির্মাণ শুরু বরিশালের হাইটেক পার্কের নকশা। ছবি: সংগৃহীত
‘বরিশালে সাড়ে ছয় একর জ‌মিতে হাইটেক পার্ক নির্মাণ হবে। আগেই এখানে শেখ কামাল আই‌টি ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণ হয়েছে। ১৫৪ কো‌টি টাকা ব্যয়ে সাত তলা হাইটেক পার্কের ভি‌ত্তিপ্রস্তর স্থাপন হলো।’

বরিশালের নথুল্লাবাদে হাইটেক পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বৃহস্প‌তিবার দুপুরে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ সময় সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

ভারতের দেয়া সহজ শর্তে অর্থায়নে দেশের ১২ জেলায় ১২টি হাইটেক পার্ক স্থাপন প্রকল্পের অংশ হিসেবে বরিশালে এর কাজ শুরু হলো।

প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে পলক বলেন, ‘এই হাইটেক পার্ক ব‌রিশালের তরুণদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনার উপহার। আমরা ছিলাম শ্রমনির্ভর অর্থনী‌তির বাংলাদেশ, প্রধানমন্ত্রী আমাদের‌ প্রযু‌ক্তিনির্ভর করতে কাজ করছেন।

‘বরিশালে সাড়ে ছয় একর জ‌মিতে হাইটেক পার্ক নির্মাণ হবে। আগেই এখানে শেখ কামাল আই‌টি ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণ হয়েছে। ১৫৪ কো‌টি টাকা ব্যয়ে সাত তলা হাইটেক পার্কের ভি‌ত্তিপ্রস্তর স্থাপন হলো।’

প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, ‘এখানে সুস্থ বিনোদনের সিনেপ্লেক্স নির্মাণ হবে, এ জন্য প্রধানমন্ত্রী ২০ কো‌টি টাকা অনুমোদন দিয়েছেন। সবকিছু মি‌লিয়ে ২০০ কো‌টি টাকায় সাড়ে ছয় একর জ‌মিতে তরুণদের কর্মসংস্থান এবং বিনোদনের জন্য এই হাইটেক পার্ক নি‌র্মিত হচ্ছে।

ব‌রিশালে হাইটেক পার্ক নির্মাণ শুরু

‘ভারতের কাছ থেকে আমরা ঋণ সহায়তা পে‌য়ে‌ছি। সারা বাংলাদেশে হাইটেক পার্ক নির্মাণের জন্য প্রায় ১ হাজার ৭০০ কো‌টি টাকা ব্যয় হবে। এর মধ্যে খুব সহজ শর্তে ভারত ১ হাজার ৩০০ কো‌টি টাকা ঋণ দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আগামী দুই বছরের মধ্যে এই হাইটেক পার্ক নির্মাণ শেষ হলে এক হাজার তরুণ-তরুণীকে সরাসরি প্রশিক্ষণ দেব। প্রতি বছর তিন হাজার জনের কর্মসংস্থান সৃ‌ষ্টি হবে। ব‌রিশালকে সি‌লিকন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে এই হাইটেক পার্ক কাজ করবে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাইটেক পার্ক প্রকল্পের প‌রিচালক এ কে এ এম ফজলুল হক, বরিশাল মহানগর পুলিশের ভা‌রপ্রাপ্ত ক‌মিশনার প্রলয় চি‌সিম, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা প‌রিচালক বিকর্ণ কুমার ঘোষ, ব‌রিশাল চেম্বার সভাপ‌তি সাইদুর রহমান রিন্টু।

আরও পড়ুন:
ওয়াজেদ মিয়া হাইটেক পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
হাইটেক সিটিতে সিসিটিভিসহ নিরাপত্তা সরঞ্জাম উৎপাদনে কারখানা
‘ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদনের হাব হবে হাইটেক পার্ক’

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Where the Black Death started

ব্ল্যাক ডেথের শুরু যেখান থেকে

ব্ল্যাক ডেথের শুরু যেখান থেকে ব্ল্যাক ডেথে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা করতে ডাক্তাররা এমন লম্বা মাস্ক পরতেন। ছবি: সংগৃহীত
টিউবিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডা. মারিয়া স্পাইরু বলেছেন, দলটি সাতটি কঙ্কাল থেকে ডিএনএ সিকোয়েন্স করেছে। এসব নমুনার তিনটিতে প্লেগ, ব্যাকটেরিয়া ও ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস খুঁজে পেতে সক্ষম হয়েছে।

ইউরোপ, এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকায় ব্ল্যাক ডেথ মহামারিতে কয়েক কোটি লোক মারা যায়। ১৪ শতকের মাঝামাঝি সময়ে দেখা দেয়া এই স্বাস্থ্য বিপর্যয় মানব ইতিহাসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংক্রামক ঘটনাগুলোর একটি। ইউরোপের মোট জনসংখ্যার ৩০ থেকে ৬০ ভাগ এই ব্ল্যাক ডেথে মারা যায়।

ন্যাচারের প্রকাশিত এক গবেষণা প্রবন্ধে বলা হয়েছে, এবার এই ব্ল্যাক ডেথ মহামারির ৬০০ বছর পরে এসে গবেষকরা বলছেন তারা এই মহামারির উৎসের সন্ধান পেয়েছেন। বছরের পর বছর গবেষণা করেও এত দিন এর উৎস ছিল অজানা।

গবেষকরা বলছেন, এর সূত্রপাত ১৩৩০-এর দশকে মধ্য এশিয়ার কিরগিজস্তানে। সেখানে দুটি কবরস্থান কারা ডিজিগাচ ও বুরানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন তারা।

ধারণা করা হয়, মহামারির কারণে মারা যাওয়া লোকদের এই কবরস্থানগুলোতে সমাধিস্থ করা হয়েছে। এই কবরস্থানের সমাধিফলকগুলোতে মৃত্যুর তারিখও লেখা আছে। এই কবরস্থানগুলো আইসিককুল হ্রদের কাছে অবস্থিত।

মহামারির কারণে ১৩৩৮ থেকে ১৩৩৯ সালে সেখানে সমাধিগুলোর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল।

স্কটল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অফ স্টার্লিং, জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ও ইউনিভার্সিটি অফ টিউবিনজেনের গবেষণা দল ৭টি কঙ্কালের দাঁত থেকে প্রাচীন ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণ করেছেন।

টিউবিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডা. মারিয়া স্পাইরু বলেছেন, দলটি সাতটি কঙ্কাল থেকে ডিএনএ সিকোয়েন্স করেছে।

গবেষকদল এসব নমুনার তিনটিতে প্লেগ, ব্যাকটেরিয়া ও ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস খুঁজে পেতে সক্ষম হয়েছে।

তাই গবেষকদের দাবি চৌদ্দ শতকের প্রথম দিকেই এই মহামারির প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল। যদিও ব্ল্যাক ডেথের ভয়ংকর সময়সীমা বলতে বোঝানো হয়, ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ সাল পর্যন্ত।

প্লেগ একটি সম্ভাব্য প্রাণঘাতী ব্যাকটেরিয়াবাহিত সংক্রামক রোগ। প্রধানত এর বাহক হলো ইঁদুর ও মাছি। ইয়েরসেনিয়া পেস্টিস ব্যাকটেরিয়া এই রোগের উত্তরসূরি।

এর মধ্যে বুবোনিক প্লেগে মানুষের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই রোগে আক্রান্ত নারী ও পুরুষ কবজি ও বগলের স্থানে টিউমারের মতো কোনো কিছুর অস্তিত্ব অনুভব করে। ধীরে ধীরে সেগুলো বড় হতে থাকে।

একপর্যায়ে এটি আপেল বা ডিমের মতো আকার ধারণ করে ও ছড়িয়ে পড়তে থাকে। কালো রঙের এই ফোড়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক হয় এবং রোগাক্রান্ত ব্যক্তির সারা শরীরে এটি দেখা যায়। একপর্যায়ে এগুলো পচে যায় ও পুঁজ বের হতে থাকে এবং আক্রান্ত ব্যক্তি সাধারণত ৩ থেকে ৭ দিনের মধ্যে মারা যায়।

ব্ল্যাক ডেথের শুরু যেখান থেকে
ব্ল্যাক ডেথে আক্রান্ত রোগীর আঙুল। ছবি: সিডিসি

২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ৩ হাজার ২৪৮ জনের প্লেগ শনাক্ত হয়। আক্রান্তদের মধ্যে ৫৮৪ জন মারা যায়।

ঐতিহাসিকভাবে এই প্লেগকে ব্ল্যাক ডেথ বলা হয়, কারণ এই রোগে আক্রান্ত হলে হাত-পায়ের আঙুল কালো হয়ে যায়।

আরও পড়ুন:
মহামারিতে স্কুল হারিয়েছে হাজারও ছেলেশিশু
দেশের ৫৫ কোটি মানুষের সমান সম্পদের মালিক ৯৮ ভারতীয়
ভবিষ্যৎ মহামারি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ‘অপ্রস্তুত’
মহামারিতে অতিধনীরা আরও ফুলে-ফেঁপে উঠেছেন
টিকা জাতীয়তাবাদে ভুগবে বিশ্ব: ডব্লিউটিও প্রধান

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Evidence of the search for life outside the Earth is probably in Chinas hands

পৃথিবীর বাইরে ‘প্রাণের সন্ধানের প্রমাণ’ সম্ভবত চীনের হাতে

পৃথিবীর বাইরে ‘প্রাণের সন্ধানের প্রমাণ’ সম্ভবত চীনের হাতে মহাজাগতিক প্রাণের সন্ধানে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মানুষ। ছবি: সংগৃহীত
চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রকাশিত দৈনিকের প্রতিবেদনে  বলা হয়েছে, দৈত্যাকার স্কাই আই টেলিস্কোপ পৃথিবীর বাইরে জীবনের চিহ্নের সন্ধান পেয়েছে। যদিও পৃথিবীর বাইরের সভ্যতা অনুসন্ধান দলের প্রধান বিজ্ঞানী ঝাং টঞ্জি বলেছেন, সন্দেহজনক সংকেতগুলো রেডিও হস্তক্ষেপও হতে পারে এবং এর জন্য আরও তদন্তের প্রয়োজন।

এই বিশাল মহাবিশ্বের সীমা মানুষের অজানা। মানুষ যখন মহাবিশ্বের বিশালতার বিষয়ে ধারণা লাভ করতে পেরেছে, তখন একটি মৌলিক প্রশ্ন দাঁড়িয়ে গেছে, মহাবিশ্বে আমরা কী একা? আর এই উত্তর খুঁজতে দর্শনের পাশাপাশি মানুষ এখন দ্বারস্থ হচ্ছে বিজ্ঞানেরও।

এর উত্তর খুঁজতে আমাদের চেনা পৃথিবীর বাইরে বহির্জাগতিক প্রাণের সন্ধানের জন্য আস্ত একটি রেডিও টেলিস্কোপ বসিয়েছে চীন। আর সেই টেলিস্কোপেই ধরা পড়েছে রহস্যজনক সংকেত। চীন বলছে, পৃথিবীর বাইরে প্রাণের প্রমাণ তারা সম্ভবত পেয়ে গেছে।

চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত দৈনিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের দৈত্যাকার স্কাই আই টেলিস্কোপ পৃথিবীর বাইরে জীবনের চিহ্নের সন্ধান পেয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, পৃথিবীর বাইরের সভ্যতা অনুসন্ধান দলের প্রধান বিজ্ঞানী ঝাং টঞ্জি বলেছেন, সন্দেহজনক সংকেতগুলো রেডিও হস্তক্ষেপও হতে পারে এবং এর জন্য আরও তদন্তের প্রয়োজন।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, দৈনিকটি পরে এ-সংক্রান্ত সব প্রতিবেদন এবং পোস্টগুলো মুছে ফেলে।

তবে চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দৈনিক থেকে কেন প্রতিবেদনটি সরিয়ে দেয়া হয়েছে তা স্পষ্ট নয়।

খবরটি এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওয়েবুতে ছড়িয়ে পড়েছে এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবরটি চলে এসেছে।

পৃথিবীর বাইরে ‘প্রাণের সন্ধানের প্রমাণ’ সম্ভবত চীনের হাতে
চীনের স্কাই আই রেডিও টেলিস্কোপ

স্কাই আই বিশ্বের সবচেয়ে বড় রেডিও টেলিস্কোপ। এটি ন্যারো-ব্যান্ড ইলেকট্রোম্যাগনেটিক সিগন্যালে কাজ করে।

২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে বহির্জাগতিক প্রাণের অনুসন্ধান শুরু করে স্কাই আই। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিম গুইঝো প্রদেশে এর অবস্থান। টেলিস্কোপটির ব্যাস ৫০০ মিটার (১ হাজার ৬৪০ ফুট)।

ঝাংয়ের মতে, কম ফ্রিকোয়েন্সির এই রেডিও ব্যান্ড টেলিস্কোপ স্কাই আই অত্যন্ত সংবেদনশীল। বহির্জাগতিক প্রাণের সন্ধানে এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন:
এলিয়েনের সংস্পর্শে গর্ভবতী!
এলিয়েনের উদ্দেশে খোলা চিঠি
ইউএফও নিয়ে ব্যাখ্যা নেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে
‘এলিয়েনের নজরদারি’, ২৯ গ্রহ চিহ্নিত
এলিয়েনের খোঁজ পেয়েছে মানুষ!

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Did the dinosaur T Rex swim?

ডাইনোসর টি-রেক্স কি সাঁতরাতে পারত

ডাইনোসর টি-রেক্স কি সাঁতরাতে পারত ৩০ মিটার উচ্চতার ও ১০ টন ওজনের টি-রেক্স ছিল ভয়ংকর শিকারি প্রাণী। ছবি: সংগৃহীত
অনেক নদী ও হ্রদের তলদেশের স্তরে থেরোপড ডাইনোসরের সাঁতারের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আর টাইনোসরাস রেক্স বা টি-রেক্স হল থেরাপড প্রজাতিরই ডাইনোসর। থেরাপড প্রজাতির হওয়ায় টি-রেক্সের ফাঁপা হাড়গুলো তাকে পানিতে ভেসে থাকতে সাহায্য করত এবং এর শক্তিশালী দুটি পা দিয়ে সে পানিতে সাঁতার কেটে বেড়াত।

পৃথিবীর স্থলভাগে আমরা এখন বিশাল বিশাল প্রাণী বিচরণ দেখতে পাই, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো হাতি। এ ছাড়া বড় প্রাণীর মধ্যে রয়েছে ঘোড়া, উটপাখি, ইমু। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো এই প্রতিটি প্রাণীই সাঁতার কাটতে জানে। তাই প্রশ্ন ওঠে। প্রাগঐতিহাসিক যুগের প্রাণী, বিশেষ করে টি-রেক্সের মতো বিশাল ডাইনোসর কি সাঁতার কাটতে পারত?

ডেভিড এটেনবোরোর তত্ত্বাবধানে অ্যাপল টিভিতে সদ্য মুক্তি পাওয়া প্রিহিস্টোরিক প্ল্যানেটে বলা হয়েছে, এই পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত আবির্ভাব হওয়া সব প্রাণীর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর শিকারি প্রাণী টি-রেক্সও সাঁতার কাটতে পারত। অথচ টি-রেক্সের উচ্চতা ছিল ৩০ মিটার আর একটি প্রাপ্ত বয়স্ক টি-রেক্সের ওজন ১০ টনের মতো।

ডাইনোসর টি-রেক্স কি সাঁতরাতে পারত
ফাঁপা হাড় টি-রেক্সকে পানিতে ভাসিয়ে রাখত

এরই মধ্যে অনেক নদী ও হ্রদের তলদেশের স্তরে থেরোপড ডাইনোসরের সাঁতারের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আর টাইনোসরাস রেক্স বা টি-রেক্স হলো থেরাপড প্রজাতিরই ডাইনোসর।

সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে গবেষকরা জানতে পারে যে থেরাপড প্রজাতির ডাইনোসরের হাড় ছিল পাখির মতোই ফাঁপা এবং এর পাও ছিল পাখির অনুরূপ।

থেরাপড প্রজাতির ডাইনোসর হওয়ায় টি-রেক্সের ফাঁপা হাড়গুলো তাকে পানিতে ভেসে থাকতে সাহায্য করত এবং এর শক্তিশালী দুটি পা দিয়ে সে পানিতে সাঁতার কেটে বেড়াত। ফসিল রেকর্ডেও সরাসরি এর প্রমাণ রয়েছে।

ডাইনোসর টি-রেক্স কি সাঁতরাতে পারত
প্রাগৌতিহাসিক যুগে সমুদ্রে দাপিয়ে বেড়াত ভয়ংকর মোজেসরোস

তবে স্থলভাগের ভয়ংকর শিকারি টি-রেক্স অনেক ক্ষেত্রে সমুদ্রের জলে নেমে নিজেই শিকারে পরিণত হতো। প্রাগৌতিহাসিক যুগে সমুদ্রে বাস করত বিশালাকার শিকারি প্রাণী মোজেসরস। সাগরে সাঁতার কাটার সময় কম বয়সী টি-রেক্সগুলোই হতো মোজেসরসের শিকার।

আরও পড়ুন:
মুরগির ছানাসদৃশ ডাইনোসরের ভ্রূণ আবিষ্কার
অস্ট্রেলিয়ার ডাইনোসরটি তৃণভোজী
চিলিতে জুরাসিক যুগের ‘উড়ন্ত ড্রাগনের’ জীবাশ্ম
বৃহত্তম ডাইনোসরের তালিকায় নতুন প্রজাতি
চিলিতে নতুন প্রজাতির ডাইনোসরের দেহাবশেষ

মন্তব্য

p
উপরে