× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

স্বাস্থ্য
Proposal to effectively increase the price of tobacco products
hear-news
player
print-icon

কার্যকরভাবে তামাকপণ্যের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব

কার্যকরভাবে-তামাকপণ্যের-দাম-বাড়ানোর-প্রস্তাব
তামাক পণ্যে সুনির্দিষ্ট সম্পূরক কর আরোপের প্রস্তাব করা হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় তামাকবিরোধী মঞ্চের আহ্বায়ক ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, ‘এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে রাজস্ব আয় বাড়বে, স্বাস্থ্যখাতে খরচ কমবে এবং প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনের পথ সুগম হবে।’

সুনির্দিষ্ট করারোপের মাধ্যমে সিগারেটসহ সব তামাকপণ্যের দাম বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স- আত্মা।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য তামাক কর ও দাম সংক্রান্ত বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরে সংগঠন দুটি। অনুষ্ঠানটি আয়োজনে সহযোগিতা দিয়েছে ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস।

সংবাদ সম্মেলনে তামাক কর বিষয়ক বাজেট প্রস্তাবের সমর্থনে অর্থনীতিবিদ, জাতীয় তামাকবিরোধী মঞ্চের আহ্বায়ক ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, ‘এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে রাজস্ব আয় বাড়বে, স্বাস্থ্যখাতে খরচ কমবে এবং প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনের পথ সুগম হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে নিম্ন স্তরে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ৫০ টাকা নির্ধারণ করে ৩২ দশমিক ৫০ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ, মধ্যম স্তরে ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ৭৫ টাকা নির্ধারণ করে ৪৮ দশমিক ৭৫ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ, উচ্চ স্তরে ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ১২০ টাকা নির্ধারণ করে ৭৮ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ এবং প্রিমিয়াম স্তরে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ১৫০ টাকা নির্ধারণ করে ৯৭ দশমিক ৫০ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়।

পাশাপাশি মধ্যমেয়াদে (২০২২-২৩ থেকে ২০২৭-২৮) সিগারেটের মূল্য স্তর চার থেকে কমিয়ে দুই স্তরে আনার প্রস্তাব করা হয়।

সংগঠন দুটির দাবি, বর্তমানে চার স্তরের অ্যাডভ্যালুরেম কর কাঠামো চালু থাকায় সিগারেট সস্তা এবং সহজলভ্য। সিগারেট ছেড়ে দেয়ার পরিবর্তে ভোক্তা কমদামী ব্রান্ড বেছে নিতে পারছে।

ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করে ১১ টাকা ২৫ পয়সা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ এবং ফিল্টারযুক্ত ২০ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ২০ টাকা নির্ধারণ করে ৯ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়।

প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার খুচরা মূল্য ৪৫ টাকা নির্ধারণ করে ২৭ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক এবং প্রতি ১০ গ্রাম গুলের খুচরা মূল্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করে ১৫ টাকা শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়।

এ ছাড়া সব তামাকপণ্যের খুচরা মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক, সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) এর রিসার্চ ফেলো সৈয়দ ইউসুফ সাদাত, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস (সিটিএফকে)- বাংলাদেশের লিড পলিসি অ্যাডভাইজর মোস্তাফিজুর রহমান এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরসহ বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।

আত্মার কো-কনভেনর নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রজ্ঞার তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক প্রকল্প প্রধান হাসান শাহরিয়ার।

আরও পড়ুন:
আগের সব স্ট্রিমিং রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে ‘দৌড়’
বাসাইল পৌরসভায় চাকরি
২২৫ সহকারী পরিচালক নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক
শিক্ষক নিচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
এসেছে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য, বসছে দোলাইরপাড়েই

মন্তব্য

আরও পড়ুন

স্বাস্থ্য
The proposed budget is being passed without major changes

বড় পরিবর্তন ছাড়াই পাস হচ্ছে প্রস্তাবিত বাজেট

বড় পরিবর্তন ছাড়াই পাস হচ্ছে প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ছবি: পিএমও
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বাজেট নিয়ে সমাপনী অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের সর্বসম্মত কণ্ঠভোটে পাস হবে এই বাজেট।

বড় কোন সংশোধনী ছাড়াই জাতীয় সংসদে পাস হতে যাচ্ছে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বাজেট নিয়ে সমাপনী অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের সর্বসম্মত কণ্ঠভোটে পাস হবে এই বাজেট।

এর আগে ৯ জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ৭ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে আগামী অর্থ বছর জুড়ে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার ব্যায়ের বাজেট প্রস্তাব করেন।

এর মধ্যে পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে মোট ৪ লাখ ৩১ হাজার ৯৯৮ কোটি টাকা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবিত বাজেটে মূল লক্ষ্য হলো করোনার অভিঘাত পেরিয়ে দেশকে উন্নয়নের ধারায় প্রত্যাবর্তন। সেই লক্ষ্যে এবার বাজেটের মূল ফোকাস হল অর্থনীতির সব খাতে সক্ষমতার উন্নয়ন। এজন্য তিনি এই বাজেটে আয়ের চেয়ে বেশি ব্যয় করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন।

ফলে এ বাজেটে ঘাটতি পরিমাণ রাখা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা, যা মোট দেশ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ দশমিক ৬ শতাংশের সমান। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছে ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার কর-রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই আয় আসবে মূলত আয়কর, ভ্যাট এবং আমদানি ও রপ্তানি শুল্ক থেকে।

এনবিআরবহির্ভূত কর থেকে আসবে ১৮ হাজার কোটি টাকা আর কর ছাড়া প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা।

ঘাটতির মধ্যে অনুদানসহ বৈদেশিক উৎস থেকে আসবে ৯৮ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা; আর অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আসবে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা, এর মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা।

অপরদিকে ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভোক্তাকে মূল্যস্ফীতি থেকে সুরক্ষা দেয়ার লক্ষ্য রয়েছে বাজেটে। এজন্য ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাজেটে অর্থমন্ত্রী আগামী বছর জুড়ে দেশের মূল্যস্ফীতিকে ৫ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার প্রস্তাব করেছেন।

আরও পড়ুন:
মেডিটেশনে ভ্যাট কমল, বাড়ল বিটুমিনে
মিতব্যয়ী হোন, দেশেই চিকিৎসা নিন: প্রধানমন্ত্রী
স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ দেশে আনার প্রস্তাব বাতিল
জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে এশিয়ায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হবে বাংলাদেশ
করপোরেট করের সুবিধা পেতে শর্ত শিথিল হচ্ছে

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
The proposal to bring movable and immovable property in the country was rejected

স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ দেশে আনার প্রস্তাব বাতিল

স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ দেশে আনার প্রস্তাব বাতিল সংসদে বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ফাইল ছবি
দেশের বাইরে কারও সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেলে সেই সম্পদ অর্জনের উৎস সম্পর্কে জানতে চাওয়া হবে। সন্তোষজনক জবাব পাওয়া না গেলে ওই সম্পদের মূল্যের সমপরিমাণ জরিমানা অথবা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে। নতুন বাজেটে এটিসহ আর কিছু কর প্রস্তাবে পরিবর্তন এনে অর্থবিল-২০২২ পাস হয়েছে।

পাচারের অর্থ-সম্পদ দেশে ফেরত আনতে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে যেসব সুযোগ দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল তাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সে অনুযায়ী পাচারের সব ধরনের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ দেশে আনার প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে। শুধু নির্ধারিত হারে কর দিয়ে নগদ টাকা দেশে আনা যাবে।

সংশোধনীতে নতুন করে একটি শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। তা হলো, দেশের বাইরে কারও সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেলে সেই সম্পদ অর্জনের উৎস সম্পর্কে জানতে চাওয়া হবে। সন্তোষজনক জবাব পাওয়া না গেলে ওই সম্পদের মূল্যের সমপরিমাণ জরিমানা অথবা বাজেয়াপ্ত করা হবে।

নতুন বাজেটে এটিসহ আর কিছু কর প্রস্তাবে পরিবর্তন এনে অর্থবিল-২০২২ পাস হয়েছে।

বুধবার জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর এসব সংশোধনী আনেন। পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

বিদেশ থেকে পাচারের টাকা ফেরত আনতে গত ৯ জুন ঘোষিত বাজেটে বিশেষ সুযোগ দেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

বলা হয়, স্থাবর সম্পদ দেশে আনার ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ এবং অস্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ কর দিয়ে ফেরত আনা যাবে। আর কেউ যদি নগদ টাকা দেশে আনতে চায় তাকে কর দিতে হবে ৭ শতাংশ।

এ নিয়ে দেশ জুড়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। মূলত এমন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বাজেট প্রস্তাবে এই সংশোধন আনা হয়েছে।

সংশোধনীতে শুধু নগদ টাকা আনার সুযোগ রেখে বাকি দুটি অর্থাৎ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ আনার প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে।

কোম্পানির করপোরেট কর সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও সংশোধন আনা হয়েছে। বলা হয়েছে, যেসব কোম্পানি বছরে ৩৬ লাখার টাকার বেশি ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করবে তারা কম হারে করপোরেট কর পরিশোধের সুবিধা পাবে। প্রস্তাবিত বাজেটে এই সীমা ছিল বছরে ১২ লাখ টাকা। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রে কোম্পানিকে ছাড় দেয়া হয়েছে।

নতুন কোম্পানির বার্ষিক রিটার্ন জমার নিয়ম সহজ করা হয়েছে। যেসব কোম্পানির ব্যবসার বয়স এক কিংবা দুই বছর সেসব কোম্পানি শুধু টিআইএন সনদ দিলেই রিটার্ন গ্রহণ করা হবে। সঙ্গে অন্যান্য আনুষঙ্গিক দলিলপত্র জমা না দিলেও চলবে। তবে তৃতীয় বছর থেকে সব ডকুমেন্টসহ রিটার্ন জমা দিতে হবে।

শ্রমিকদের কল্যাণে সব প্রতিষ্ঠানে একটি তহবিল থাকার কথা। নিয়ম অনুযায়ী, মালিক পক্ষ ওই তহবিলে যে পরিমাণ টাকা দেয় তা কোম্পানির খরচ হিসেবে গণ্য করা হয়। এতে করে কোম্পানির ওপর করের চাপ কমে।

প্রস্তাবিত বাজেটে খরচের বিধান বাতিল করলেও সংশোধন করে তা ফের আগের অবস্থানে নেয়া হয়। তবে এই সুযোগ এক বছরের জন্য বহাল থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন:
মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ কমিয়ে বাজেটে ভর্তুকি বাড়ানোর পরামর্শ
আবাসনে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনা প্রশ্নে বিনিয়োগের সুযোগ চায় রিহ্যাব
ঢাবির ৯২২ কোটি টাকার বাজেট পাস
সংসদে সম্পূরক বাজেট পাস
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই বাজেটে: সানেম

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
The bank will check the counterfeit notes at the cattle market

পশুর হাটে জাল নোট যাচাই করবে ব্যাংক

পশুর হাটে জাল নোট যাচাই করবে ব্যাংক ফাইল ছবি
জাল নোট শনাক্তকরণ বুথে নোট যাচাই সংক্রান্ত সেবা প্রদান কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা বা কর্মচারীদেরকে অবশ্যই যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংক কর্তৃক সুনিশ্চিত করতে হবে।

ঈদ-উল-আজহাকে সামনে রেখে দেশের সব পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন ব্যবহারসহ বিনা খরচে নোট যাচাইয়ের সেবা দেবে ব্যাংক।

বুধবার এ সংক্রান্ত্র নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সী ম্যানেজমেন্ট বিভাগ।

সকল তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো সার্কুলারে বলা হয়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদিত হাটগুলোতে জালনোট সনাক্তকারি মেশিনের সহায়তায় অভিজ্ঞ ক্যাশ কর্মকর্তাদের দিয়ে নোট যাচাই সেবা দিতে হবে।

হাট শুরুর দিন থেকে ঈদের পূর্ব রাত পর্যন্ত বিরতিহীনভবে পশু ব্যবসায়ীদের এ সেবা দিতে হবে। এজন্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেয়া যাবে না।

এসব হাটে সেবা দেয়ার লক্ষ্যে মনোনীত কর্মকর্তাদের নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বরসহ ব্যাংকের সমন্বয়ক হিসেবে মনোনীত একজন উপযুক্ত কর্মকর্তার নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বর আগামী ৪ জুলাইয়ের মধ্যে ইমেইলে পাঠাতে হবে। ব্যাংকের সমন্বয়কারী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট হাটে দায়িত্বপালনকারী কর্মকর্তাদের কার্যক্রম মনিটরিং করবেন।

ঢাকার বাইরে যেসব জেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিস রয়েছে সেখানে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার অনুমোদিত পশুর হাটগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট অফিসের নেতৃত্বে অনুরূপ ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য আঞ্চলিক কার্যালয় বা প্রধান শাখাগুলোকে নির্দেশনা প্রদান করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিস নেই এমন জেলাগুলোর সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও খানা বা উপজেলার অনুমোদিত পশুর হাটে বিভিন্ন ব্যাংকের দায়িত্ব বণ্টনের জন্য সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের চেস্ট শাখাগুলোকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

সোনালী ব্যাংকের চেস্ট শাখা কর্তৃক বণ্টিত দায়িত্ব অনুযায়ী অন্যান্য ব্যাংক জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শাখাগুলোও যাতে পশুর হাটগুলোতে নোট যাচাই সংক্রান্ত সেবা প্রদান করে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।

হাটে স্থাপিত বুথে নোট কাউন্টিং মেশিনের সাহায্যে নগদ অর্থ গণনার সুবিধা প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

বুথ স্থাপন কার্যক্রমের সুবিধার্থে ও সহযোগিতার জন্য (প্রয়োজনে) সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ, জেলা মিউনিসিপালিটি কর্তৃপক্ষ এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা সংশ্লিষ্ট পৌরসভা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা এবং সার্বিক নিরাপত্তার জন্য (প্রয়োজনে) সংশ্লিষ্ট পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

বুথে নোট যাচাইকালে কোনো জাল নোট ধরা পড়লে জাল নোট পলিসির নির্দেশনা মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বুথে ব্যাংকের নাম ও সাথে “জাল নোট সনাক্তকরণ বুথ” উল্লেখ করে ব্যানার বা নোটিশ দিতে হবে।

ইতোপূর্বে সরবরাহকৃত ব্যাংক নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্বলিত ভিডিও চিত্রটি ব্যাংকের শাখাগুলোতে ঈদের আগ পর্যন্ত গ্রাহকদের জন্য স্থাপিত টিভি মনিটরগুলোতে পুরো ব্যাংকিং সময়ে দেখাতে হবে।

দায়িত্বপালনকারী কর্মকর্তা বা কর্মচারীদেরকে দায়িত্বপালনের জন্য ব্যাংকের প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আর্থিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে হবে।

পবিত্র ঈদুল আজহা সমাপ্তির পর পরবর্তী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে এসব নির্দেশনার পালন সংক্রান্ত্র প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সী ম্যানেজমেন্ট বিভাগ প্রেরণ করতে হবে।

জাল নোট শনাক্তকরণ বুথে নোট যাচাই সংক্রান্ত সেবা প্রদান কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা বা কর্মচারীদেরকে অবশ্যই যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংক কর্তৃক সুনিশ্চিত করতে হবে।

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
The World Bank is on the side of Bangladesh and Nepal to increase regional trade

আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও নেপালের পাশে বিশ্বব্যাংক

আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও নেপালের পাশে বিশ্বব্যাংক শেওলা স্থলবন্দর। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ও নেপালকে ১০৩ কোটি (১.০৩ বিলিয়ন) ডলার ঋণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। আঞ্চলিক করিডোর বরাবর পরিবহন খরচ এবং ট্রানজিট সময় কমিয়ে আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে এই অর্থ ব্যয় হবে।

বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতুতে যান চলাচল শুরু হওয়ায় তিন দিনের মাথায় আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়াতে বাংলাদেশ ও নেপালকে ১০৩ কোটি (১.০৩ বিলিয়ন) ডলার ঋণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বর্তমান বিনিময় হার (প্রতি ডলার ৯৩ টাকা ৪৫ পয়সা) হিসাবে টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ৯ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা।

এই অর্থের ৭৫ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার পাবে বাংলাদেশ। আর নেপাল পাবে ২৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

আঞ্চলিক করিডোর বরাবর পরিবহন খরচ এবং ট্রানজিট সময় কমিয়ে বাংলাদেশ ও নেপালের আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে এই অর্থ ব্যয় হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংক সদরদপ্তরে সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই ঋণ অনুমোদন করা হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাণিজ্যের কিছু মূল বাধা দূর করতে পূর্ব-দক্ষিণ এশিয়ায় এক্সিলারেটিং ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড ট্রেড কানেক্টিভিটি প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে বাংলাদেশ ৭৫ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার পাবে।

এই অর্থ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সঙ্গে বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা স্থলবন্দরকে সংযুক্ত করে ৪৩ কিলোমিটার দুই লেনের সিলেট-চরকাই-শেওলা সড়কটিকে জলবায়ু-সহনশীল চার লেনের সড়কে উন্নীত করা হবে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, এতে ভ্রমণের সময় কমবে ৩০ ভাগ। প্রকল্পটি বেনাপোল, ভোমরা এবং বুড়িমারী স্থলবন্দরে ডিজিটাল সিস্টেম, অবকাঠামো এবং আরও সুবিন্যস্ত হবে বলেও আশা করছে বিশ্বব্যাংক।

আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও নেপালের পাশে বিশ্বব্যাংক

তারা বলছে এই প্রকল্প চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের আধুনিকীকরণে সহায়তা করবে, এই কাস্টমস হাউসের মাধ্যমে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি ঘোষণার ৯০ শতাংশ পরিচালিত হয়ে থাকে।

সবুজ ও জলবায়ু-স্থিতিস্থাপক নির্মাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্বাচিত সড়ক করিডোর উন্নত করা এবং মূল স্থলবন্দর ও কাস্টম অবকাঠামো উন্নত করাও এই কর্মসূচির লক্ষ্য।

এটি স্থলবেষ্টিত নেপাল ও ভুটানকে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রবেশদ্বার দেশগুলোর সঙ্গে যুক্ত করতে সহায়তা করবে।

বিশ্বব্যাংক দক্ষিণ এশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টউইগ শ্যাফার বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্বে মোট আঞ্চলিক বাণিজ্যে দক্ষিণ এশিয়ার অবদান মাত্র ৫ শতাংশ, যেখানে পূর্ব এশিয়ায় এটি ৫০ শতাংশ। এই বাণিজ্য বাড়ানোর প্রচুর সম্ভাবনা আছে; আর সেটি করতেই এই প্রকল্প।’

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে পারে এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সংযোগ বৃদ্ধি করে লাখ লাখ মানুষের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে।’

বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন বলেন, ‘২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালের মধ্যে বাণিজ্য ছয় গুণ বেড়েছে।

‘প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও পরিবহনের উন্নতিতে সাহায্য করবে। অনুমান করা হচ্ছে, বাংলাদেশের আঞ্চলিক বাণিজ্য ৯৩ শতাংশ বাড়তে পারে।’

নেপাল পাবে ২৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার

বিশ্বব্যাংকের এই প্রকল্পের আওতায় নেপালকে ২৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার ঋণ দেয়া হবে।

প্রকল্পের অধীনে নেপাল ভ্রমণের সময় কমাতে এবং ভারতের পশ্চিম সমুদ্রবন্দরগুলোতে সুবিধা বাড়াতে সড়ক অবকাঠামো উন্নত করতে এই অর্থ ব্যয় হবে।

এই অর্থে পূর্ব-পশ্চিম হাইওয়ে বরাবর ৬৯ কিলোমিটার দ্বি-লেনের বুটওয়াল-গোরুসিংহে-চনাউতা সড়ককে একটি জলবায়ু সহনশীল চার লেনের হাইওয়েতে উন্নীত করা হবে। এতে ভ্রমণের সময় ৩০ শতাংশ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পটি বাংলাদেশ ও নেপালের প্রস্তুতি এবং পরে মোটরযান চুক্তি বাস্তবায়ন এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে। দ্বিতীয় পর্বে ভুটানকেও এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশে সড়কপথে যাতায়াত অনেক সহজ হয়ে গেছে, সময়ও কমেছে অনেক। এই সেতুর সুবিধা পাবে নেপালও।

আরও পড়ুন:
খাদ্য-জ্বালানির আগুন ২০২৪ পর্যন্ত জ্বলবে: বিশ্বব্যাংক
গরিব দেশগুলোকে জরুরি খাদ্য সহায়তার আহ্বান
শ্রীলঙ্কা হওয়ার শঙ্কা নেই বাংলাদেশের: বিশ্বব্যাংক
বৈশ্বিক অনিশ্চয়তাতেও বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল: বিশ্বব্যাংক
করোনায় ২৬ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Fear of selling livestock in Sylhet flooded

সিলেটে বন্যায় তলিয়ে হাট, পশু বিক্রি নিয়ে শঙ্কা

সিলেটে বন্যায় তলিয়ে হাট, পশু বিক্রি নিয়ে শঙ্কা
খামারি সাত্তার জানান, পানি উঠে গেছে বলে খামারেও এখন গরু রাখা যাচ্ছে না। আছে গো-খাদ্যের সংকট। তিনি হতাশ কণ্ঠে বলেন, ‘গরুগুলো না পারছি রাখতে, না পারছি বিক্রি করতে।’

সিলেটে সবচেয়ে বড় পশুর হাট বসে নগরের কাজিরবাজারে। বন্যায় এখন তলিয়েছে আছে সেই এলাকা। এ কারণে হাট বসেনি সেখানে। কবে হাট বসবে, জানে না কেউ।

কোরবানির ঈদের আর ৯ দিন বাকি। জেলার বেশিরভাগ হাটগুলো তলিয়ে যাওয়ায় পশু বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন খামারিরা।

দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লালবাজার এলাকার খামারি আব্দুস সাত্তার প্রায় ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে খামার গড়ে তুলেছেন। সেখানে এখন বিক্রির জন্য উপযুক্ত গরু আছে ৪০টি। এই ঈদে সেগুলো বিক্রি করবেন ভেবেছিলেন। কিন্তু এখনও হাট না বসায় তিনি লোকসানের শঙ্কায় আছেন।

সাত্তার বলেন, ‘হাটের জায়গাগুলো এখনও পানির নিচে। পানি কোনদিন কমবে তার কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই। হাট বসবে কি না এ নিয়েও শঙ্কায় আছি।’

শেষদিকে হাট বসলেও আশানুরূপ ব্যবসা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বন্যায় সব মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত। এখন জীবন বাঁচানোই দায় হয়ে উঠেছে অনেকের। কোরবানি দেয়ার মতো পয়সা বেশিরভাগের হাতেই নেই। এ কারণে এবার পশু বিক্রি কমে যাবে। আবার বিক্রি হলেও আশানুরূপ দাম পাওয়া যাবে না।’

তিনি জানান, পানি উঠে গেছে বলে খামারেও এখন গরু রাখা যাচ্ছে না। আছে গো-খাদ্যের সংকট।

হতাশ কণ্ঠে বলেন, ‘গরুগুলো না পারছি রাখতে, না পারছি বিক্রি করতে।’

নগররের কাজিরবাজার পশুর হাটও তলিয়ে আছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ৮ থেকে ৯ দিন ধরে তলিয়ে ছিল এই হাট। দুদিন আগে পানি নেমেছিল। তবে বুধবার থেকে আবার পানি উঠেছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ দিন ধরে এই হাটের সব কাজ বন্ধ।

কাজিরবাজার পশুর হাটের ব্যবস্থাপক শাহাদাত হোসেন লোলন জানান, সিলেটের বিভিন্ন উপজেলার খামারি ও ব্যবসায়ীরা ট্রাকে করে পশু নিয়ে আসেন। এবার বন্যার বেশিরভাগ সড়ক তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে কেউ পশু নিয়েও আসতে পারছেন না।

সিলেটে বন্যায় তলিয়ে হাট, পশু বিক্রি নিয়ে শঙ্কা

তিনি বুধবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের হাটে বন্যার পানি থাকায় কোরবানির হাটের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারিনি। আগামী শুক্রবার থেকে কোরবানির জন্য হাটের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, কিন্তু আজকে আবার হাট পানিতে তলিয়ে গেছে।

‘বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাটে স্থানীয় খামারি ও ব্যবসায়ীরা পশু নিয়ে আসেন। কিন্তু এবারের বন্যায় স্থানীয়রা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কারও পালিত পশু মারাও গেছে। সড়ক ভেঙে যাওয়ার কারণে অনেকে পশুর গাড়ি নিয়ে নাও আসতে পারেন। তাই কোরবানির হাটে পশু ওঠা ও দামের ক্ষেত্রে এবার প্রভাব পড়বে।’


সিলেটে বসবে ৪১টি পশুর হাট

সিলেট জেলা ও মহানগরে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৪১টি কোরবানির পশুর হাট বসার অনুমতি দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসকের হলরুমে বুধবার বিকেলে ঈদ উদযাপন ও অস্থায়ী পশুর হাট স্থাপন উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান।

তিনি জানান, সিলেট নগরে ৬টি এবং জেলায় ৩৫টি হাট প্রাথমিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর বাইরে কোথাও হাট বসার অনুমতি নেই। কোথাও অবৈধভাবে হাট বসলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিলেট সিটি করপোরেশন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) বিধায়ক রায় চৌধুরী বলেন, ‘নগরের ৮টি স্থান পশুর হাট বসাতে জেলা প্রশাসক বরাবর প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে ৬টি হাটের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তবে বন্যার কারণে এবার হাট বসতে কিছুটা দেরি হচ্ছে।’

কোরবানির জন্য সিলেটে দুই লক্ষাধিক পশু প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো রুস্তুম আলী।

আরও পড়ুন:
‘সম্রাটকে’ গোয়াল থেকে বের করতে হয়েছে দেয়াল কেটে
নওগাঁয় প্রস্তুত ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোরবানির পশু
কোরবানির পশুর দাম চড়ার শঙ্কা
বন্যার কবলে পৌনে ৬ লাখ শিক্ষার্থী
আসামের বন্যাদুর্গতদের জন্য ২৫ লাখ রুপি দিলেন আমির খান

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Where and how the cost of the bridge was met

কোথা থেকে, কীভাবে মেটানো হলো সেতুর খরচ

কোথা থেকে, কীভাবে মেটানো হলো সেতুর খরচ বাংলাদেশের অহংকার পদ্মা সেতু নির্মাণে সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে ১ শতাংশ সুদে সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগকে ঋণ দেয়া হয়েছে এই অর্থ। সেতু কর্তৃপক্ষ ১৪৭ কিস্তিতে সুদসহ এই অর্থ পরিশোধ করবে। বিদেশি মুদ্রার জোগান এককভাবে দিয়েছে অগ্রণী ব্যাংক।

বিশ্বব্যাংককে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এবং বিশ্ববাসীকে অবাক করে দিয়ে নিজস্ব অর্থে নির্মাণ করা হয়েছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। ইতিহাসে স্থান করে নেয়া বাংলাদেশের অহংকারের এই সেতু নির্মাণে সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

বিশাল অঙ্কের এই অর্থ দেশের অভ্যন্তর বা ভেতর থেকে জোগান দেয়া হয়েছে। কোথা থেকে, কীভাবে এলো এই টাকা? কীভাবে খরচ হলো?

অর্থসচিব আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে ১ শতাংশ সুদে সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগকে ঋণ দেয়া হয়েছে এই অর্থ। সেতু কর্তৃপক্ষ ১৪৭ কিস্তিতে সুদসহ এই অর্থ পরিশোধ করবে।’

সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে জানান, ১৭ বছরে উঠে আসতে পারে পদ্মা সেতুর এই ব্যয়।

কোথা থেকে, কীভাবে মেটানো হলো সেতুর খরচ

পদ্মা সেতু নির্মাণে মোট ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকার যে ব্যয় হয়েছে, তা পাঁচটি প্যাকেজে হয়েছে। প্যাকেজ পাঁচটি হচ্ছে: সেতু নির্মাণ, নদীশাসন, জাজিরা অংশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ, মাওয়া অংশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ এবং দুই পাশের সার্ভিস এরিয়া। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতুর টাকা সেতু কর্তৃপক্ষকে ১ শতাংশ হার সুদে সরকারকে (অর্থ মন্ত্রণালয়) ফেরত দিতে হবে। ফিজিবিলিটি স্টাডিতে বলা হয়েছে, ২৪ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে টাকাটা (নির্মাণ ব্যয়) উঠে আসবে। এখন মনে হচ্ছে ১৬ থেকে ১৭ বছরের মধ্যেই টাকাটা উঠে আসবে, কারণ মোংলা পোর্ট এত শক্তিশালী হবে, পায়রা বন্দর হবে, এত শিল্পায়ন হবে, সেগুলো কিন্তু ফিজিবিলিটি স্টাডিতে আসেনি।

‘সেতুর টোল থেকে যে আয় হবে, তা দিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঋণ পরিশোধ করবে সেতু কর্তৃপক্ষ।’

পাঁচটি প্যাকেজে কোথায়, কী খরচ

পদ্মা সেতু নির্মাণে মোট ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকার যে ব্যয় হয়েছে, তা পাঁচটি প্যাকেজে হয়েছে। প্যাকেজ পাঁচটি হচ্ছে: সেতু নির্মাণ, নদীশাসন, জাজিরা অংশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ, মাওয়া অংশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ এবং দুই পাশের সার্ভিস এরিয়া।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান অধ্যাপক শামীম–উজ–জামান বসুনিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মূল সেতু নির্মাণে খরচ হয়েছে ১২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। নদীশাসনের পেছনে খরচ ৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকা, দুই দিকে সংযোগ সড়ক ও সার্ভিস এরিয়ার জন্য ১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা এবং জমি অধিগ্রহণ বাবদ ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। আর ভ্যাট, ট্যাক্স, বিলসহ অন্যান্য খরচ ৩ হাজার কোটি টাকা দিতে হয়েছে।’

বিদেশি মুদ্রা সরবরাহ করেছে অগ্রণী ব্যাংক

পদ্মা সেতু নির্মাণে বিদেশি কেনাকাটায় যে খরচ হয়েছে, তার সবই রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক সরবরাহ করেছে। একক ব্যাংক হিসেবে তারা এই প্রকল্পে বৈদেশিক মুদ্রার জোগান দিয়েছে।

এ জন্য গর্বিত অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহম্মদ শামস-উল ইসলাম।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু আমাদের সক্ষমতার প্রতীক। মাথা উঁচু করে রাখার মতো বিষয়। জাতির পিতা বলেছিলেন, কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না। তারই যোগ্য উত্তরসূরি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সাহসিকতার ফলে এই সেতু বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।’

কোথা থেকে, কীভাবে মেটানো হলো সেতুর খরচ

পদ্মা সেতু নির্মাণে বিদেশি কেনাকাটায় যে খরচ হয়েছে, তার সবই রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক সরবরাহ করেছে। একক ব্যাংক হিসেবে তারা এই প্রকল্পে বৈদেশিক মুদ্রার জোগান দিয়েছে। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

‘বিশ্বব্যাংককে “না” করে দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন। সে অবস্থায় সেতুর ফরেন কারেন্সি (বিদেশি মুদ্রা) আসবে কোথা থেকে, সে বিষয়ে তখন আলোচনা চলছিল। অগ্রণী ব্যাংকের পক্ষ থেকে আমরা বলেছিলাম, আমরা সব ডলার সরবরাহ করব। পুরো প্রকল্পে ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার লাগবে। এখন পর্যন্ত আমরা ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার সরবরাহ করেছি। একক ব্যাংক হিসেবে শুরু থেকে আমরা সব ফরেন কারেন্সি সরবরাহ করেছি।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তখনকার গভর্নর ড. আতিউর রহমানের ভূমিকাকেও ধন্যবাদ দিয়েছেন অগ্রণী ব্যাংকের এমডি মোহম্মদ শামস-উল ইসলাম।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু প্রকল্পে ফরেন কারেন্সি সরবরাহের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমাদের নীতি সহায়তা দিয়েছে। আমরা যখন প্রস্তাবে রাজি হয়েছি, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকও আমাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। তবে অগ্রণী ব্যাংক একাই এই অর্থ নিশ্চিত করতে পারায় দেশের রিজার্ভে কোনো প্রভাব পড়েনি।’

২০১২ সালে অগ্রণী ব্যাংকে পদ্মা সেতুর জন্য এফসি (ফরেন অ্যাকাউন্ট) হিসাব খোলা হয়। ডলার সরবরাহ শুরু হয় ২০১৩ সাল থেকে। এখন পর্যন্ত মোট ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার সরবরাহ করেছে ব্যাংকটি। আরও অন্তত ১ বিলিয়ন ডলার এই প্রকল্পে জোগান দিতে হবে। সেই বৈদেশিক মুদ্রাও রাষ্ট্রায়ত্ত এই বাণিজ্যিক ব্যাংক সরবরাহ করবে বলে জানান শামস-উল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, বিশেষ করে ব্যাংকের চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ জায়েদ বখত দক্ষতার সঙ্গে আমাদের সহায়তা করেছেন। তার সঠিক নেতৃত্বের কারণে এটা সম্ভব হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতু পার করে দিতে বাইকপ্রতি ১০০০ টাকা
বাইক বন্ধের পর পদ্মায় টোল কমল ৭৮ লাখ
পদ্মা সেতুতে স্পিড গান-সিসিটিভি বসানোর পর বাইক
পদ্মা সেতু ষড়যন্ত্রে জড়িতদের খুঁজতে কমিশন গঠনের নির্দেশ
পণ্য পরিবহনে সময়-খরচ কমাল পদ্মা সেতু

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
The government wants more speed on motorcycles

মোটরসাইকেলে আরও গতি চায় সরকার

মোটরসাইকেলে আরও গতি চায় সরকার দেশি-বিদেশি কোম্পানিগুলো যার যার সক্ষমতা অনুযায়ী দেশে মোটরসাইকেলের একটা স্থায়ী বাজার তৈরি করেছে। ছবি: সংগৃহীত
মোটরসাইকেল উৎপাদনে এখন পর্যন্ত দেশি-বিদেশি ১০ কোম্পানি বিনিয়োগ করেছে। এদের সম্মিলিত বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা। দেশে এখন প্রতি ৫৪ জনে একজন মোটরসাইকেল ব্যবহার করছেন। পাঁচ বছর আগে এ সংখ্যা ছিল প্রতি ১৬১ জনে মাত্র একজন।

দেশে উৎপাদিত ও সংযোজিত মোটরসাইকেলের গতি আরও বাড়াতে চায় সরকার। বর্তমানে সর্বনিম্ন ৮০ সিসি থেকে সর্বোচ্চ ১৬০ সিসি ক্ষমতাসম্পন্ন ফোর স্ট্রোক ও টু স্ট্রোক মোটরসাইকেল স্থানীয়ভাবে বাজারজাত হচ্ছে। সরকার চায় এগুলোকে ২৫০ সিসির ওপরে নিয়ে যেতে।

মোটরসাইকেল উৎপাদনে এখন পর্যন্ত দেশি-বিদেশি ১০ কোম্পানি বিনিয়োগ করেছে। এদের সম্মিলিত বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা। এখানে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ২০ হাজার লোকের।

কোম্পানিগুলো যার যার সক্ষমতা অনুযায়ী ইতোমধ্যে দেশে মোটরসাইকেলের একটা স্থায়ী বাজার তৈরি করেছে। এখন চেষ্টা সেই বাজার অংশীদারত্বকে আরও বড় করার। এ জন্য ক্রেতা টানতে মোটরসাইকেলে যুক্ত করা হচ্ছে নিত্যনতুন প্রযুক্তি। নতুন ডিজাইন করা হচ্ছে। বাড়ানো হচ্ছে ইঞ্জিনের শক্তি। এ উদ্যোক্তাদের নীতি-সহায়তা দিয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিতে চায় সরকার। এবারের বাজেটে সেই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

মোটরসাইকেলে আরও গতি চায় সরকার

দেশে এখন প্রতি ৫৪ জনে একজন মোটরসাইকেল ব্যবহার করছেন। পাঁচ বছর আগে এ সংখ্যা ছিল প্রতি ১৬১ জনে মাত্র একজন। ছবি: নিউজবাংলা

ফোর স্ট্রোক ইঞ্জিন চারটি ধাপে জ্বালানিকে ব্যবহার উপযোগী করে। এটি একই সঙ্গে যেমন জ্বালানি-সাশ্রয়ী, তেমনি মাইলেজ বেশি, শব্দ কম এবং তুলনামূলক পরিবেশবান্ধব। অন্যদিকে টু স্ট্রোক ইঞ্জিন দুই ধাপে জ্বালানিকে ব্যবহার উপযোগী করে। তবে এ জ্বালানির একটি বড় অংশ অব্যবহৃত থাকে। ফলে এর জ্বালানিও বেশি লাগে এবং এটি কালো ধোঁয়া উৎপন্ন করে।

সরকারের পরিকল্পনা হলো আগামীতে দেশে তৈরি সব ধরনের মোটরসাইকেল হবে আরও বেশি গতিসম্পন্ন। তাই কারখানায় ফোর স্ট্রোক বা টু স্ট্রোক ইঞ্জিন মোটরসাইকেলের উৎপাদন বা সংযোজন পর্যায়েই দুই চাকার এই বাহনটির গতি ২৫০ সিসির ওপরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এ খাতে বিনিয়োগ করা কোম্পানিগুলোকে সুরক্ষা দেয়ার অংশ হিসেবে উচ্চগতির মোটরসাইকেল আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়েছে।

বাজেটে কী পেল মোটরসাইকেল খাত

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তার প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে বলেছেন, দেশে ২৫০ সিসির ঊর্ধ্বের ইঞ্জিন ক্যাপাসিটি ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেল প্রস্তুত করার কারখানা গড়ে উঠেছে। অন্যদিকে ২৫০ সিসি পর্যন্ত মোটারসাইকেল আমদানিতে ফোর স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ এবং টু স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ২৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপিত আছে।

অর্থমন্ত্রী ২৫০ সিসির ঊর্ধ্বের ইঞ্জিন ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেল আমদানিতে ফোর স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ এবং টু স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ২৫০ শতাংশ বহাল রাখার প্রস্তাব করেছেন বাজেটে।

খাতসংশ্লিষ্টরা এই বাজেট পদক্ষেপের পর্যালোচনা করতে গিয়ে বলেছেন, মোটরসাইকেল ইস্যুতে অর্থমন্ত্রী বাজেটে যে রাজস্ব পদক্ষেপ নিয়েছেন, তার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় মোটরসাইকেল শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানো ও উৎপাদিত কিংবা সংযোজিত মোটরসাইকেলের গতিকে উন্নত দেশের মতো করা, যাতে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করেও উন্নত দেশে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে আমদানিনির্ভর বিদেশি মোটরসাইকেলের প্রতি ঝোঁক কমিয়ে ক্রেতাকে দেশে তৈরি মোটরসাইকেল কিনতে উৎসাহিত করাও উদ্দেশ্য।

এ ক্ষেত্রে আরেকটি উদ্দেশ্য হলো বৈশ্বিক অর্থনীতির মন্দার প্রেক্ষাপটে এই মুহূর্তে মোটরসাইকেলের মতো বিলাসপণ্যের আমদানি ঠেকাতে ক্রেতাকে নিরুৎসাহিত করা, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অহেতুক অপচয় রোধ করতে ভূমিকা রাখবে।

বাড়ছে মোটরসাইকেলের ব্যবহার

দেশে মোটরসাইকেলের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে স্থানীয় উৎপাদনও। পরিসংখ্যান বলছে, দেশে এখন প্রতি ৫৪ জনে একজন মোটরসাইকেল ব্যবহার করছে। পাঁচ বছর আগে এ সংখ্যা ছিল প্রতি ১৬১ জনে মাত্র একজন। অর্থাৎ ব্যবহারকারী বেড়েছে প্রায় তিন গুণ (২ দশমিক ৯৮ গুণ)। এখন দেশে সর্বনিম্ন ৭৭ হাজার টাকা থেকে আড়াই লাখ টাকার মধ্যে প্রায় সব ব্র্যান্ডের যেকোনো মডেলের মোটরসাইকেল মিলছে।

চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) হিসাব অনুযায়ী, সারা দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ২৯ লাখ ৯১ হাজার।

বিআরটিএর তথ্য বলছে, সম্প্রতি দেশে ভাড়ায় চালিত অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল বৃদ্ধির কারণে এর ক্রয়-বিক্রয় এবং নিবন্ধনের হারও ঊর্ধ্বমুখী। নিবন্ধিত প্রায় ৩০ লাখ মোটরসাইকেলের মধ্যে ২৫ শতাংশই চলাচল করছে ঢাকায়।

মোটরসাইকেলের বাজার

বাংলাদেশ মোটরসাইকেল অ্যাসেম্বলার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএএমএ) তথ্যমতে, ২০১৭ সালে প্রতিদিন এক হাজারের বেশি মোটরসাইকেল বিক্রি হতো। ২০১৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫২৩টিতে। ২০১৭ সালে মোটরসাইকেলের বাজার ছিল ৪ হাজার কোটি টাকার। সেটি ২০১৯ সালে বেড়ে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

সংগঠনটির তথ্যমতে, ২০১৪ সালে দেশে সবকটি ব্র্যান্ড মিলে মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছিল ১ লাখ ৮৫ হাজার ইউনিট। ২০১৮ সালে সেই বিক্রি বেড়ে হয় ৪ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ ইউনিট, যা ২০১৯ সালে এসে দাঁড়ায় ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৫০০ ইউনিটে।

মোটরসাইকেলে আরও গতি চায় সরকার

দেশে উৎপাদিত ও সংযোজিত মোটরসাইকেল বর্তমানে সর্বনিম্ন ৮০ সিসি ও সর্বোচ্চ ১৬০ সিসি ক্ষমতাসম্পন্ন ফোর স্ট্রোক ও টু স্ট্রোক। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মোটরসাইকেলকে ২৫০ সিসির ওপরে নিয়ে যেতে চায় সরকার। ছবি: সংগৃহীত

এর মধ্যে বাজার অংশীদারত্বের হিসাব অনুযায়ী ভারতীয় ব্র্যান্ড বাজাজের একক অংশীদারত্ব ছিল ৫৩ শতাংশ এবং টিভিএসের ১২ শতাংশ। এ ছাড়া ভারতীয় ও জাপানি ব্র্যান্ড হিরো হোন্ডার ১৫ শতাংশ এবং দেশীয় ব্র্যান্ড রানারের ৮ শতাংশ। বাকি ১২ শতাংশের বাজার ছিল দেশীয় ও বিদেশি অন্য ব্র্যান্ডগুলোর। তবে বাজার অংশীদারত্বে ক্রমেই প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড ইয়ামাহা, সুজুকি ও মাহেন্দ্রাও।

আগামীর সম্ভাবনা যেখানে

খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের দাবি, সরকারের নীতি-সহায়তার কারণেই মোটরসাইকেল শিল্পে এই বিপ্লব ঘটেছে। তবে উন্নতির এখনও অনেক বাকি। মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডে প্রতি চারজনে একজন মোটরসাকেল ব্যবহারকারী। ভারতে সেটি প্রতি ২০ জনে একজন। সেদিক থেকে বাংলাদেশ জনবহুল হয়েও মোটরসাইকেল ব্যবহারে অনেক পিছিয়ে। আর এটাই হলো দেশের মোটরসাইকেলের বাজারের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার জায়গা। যার ওপর দাঁড়িয়ে আজ দেশে বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

সরকারের দায়িত্বশীল মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে, আগামীর বাংলাদেশে মোটরসাইকেল শিল্পের সম্ভাবনা বিরাট।

এ প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন নিউজবাংলাকে বলেন, সরকারের নীতি-সহায়তার কারণেই মোটরসাইকেল শিল্পে বিপ্লব ঘটেছে। দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা এগিয়ে এসেছেন। খাতটির উন্নয়নে ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তা অব্যাহত রাখা হবে। তিনি জানান, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি এ শিল্প খাতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোরও উদ্যোগ রয়েছে।

লক্ষ্য প্রতি বছর ১০ লাখ ইউনিট উৎপাদন

শিল্প মন্ত্রণালয়ের দাবি, চাহিদার ৬০ শতাংশ মোটরসাইকেল দেশেই উৎপাদন হয়। বাকি ৪০ শতাংশ এখনও আমদানি হয়। তবে সরকারের মোটরসাইকেল শিল্প উন্নয়ন নীতি ২০১৭ অনুযায়ী, প্রতি বছর ৪ দশমিক ৪ শতাংশ হারে মোটরসাইকেল উৎপাদন প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এভাবে ২০২৭ সালের মধ্যে সরকার স্থানীয়ভাবে মোটরসাইকেলের উৎপাদন বছরে ১০ লাখ ইউনিটে নিয়ে যেতে চায়। এর পাশাপাশি ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

মোটরসাইকেলে বাজার মাত করছে যারা

বর্তমানে ভারতের বাজাজ, টিভিএস ও হিরো, জাপানের হোন্ডা, সুজুকি ও ইয়ামাহার মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিদেশি মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগে কারখানা স্থাপন করেছে। কোনো ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করেছে বাংলাদেশি কোম্পানি, কারিগরি সহায়তা দিয়েছে ব্র্যান্ডের মূল প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের একক বিনিয়োগের মাধ্যমে রানার, গ্রামীণ মোটরস, লিফান, রোডমাস্টারের মতো স্থানীয় ব্র্যান্ডও ইতোমধ্যে সুপরিচিত হয়ে গেছে।

পাশাপাশি এসব কোম্পানির মাধ্যমে এ শিল্পের যন্ত্রাংশ তৈরিতে রানার ইন্ডাস্ট্রিজ, নিটল মেশিনারিজ, কিউভিসিসহ বিভিন্ন সহযোগী শিল্পও গড়ে উঠেছে। বাজারজাতকারী এসব প্রতিষ্ঠান যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বৈশ্বিক সর্বশেষ প্রযুক্তির সমন্বয়ে ক্রেতার রুচি অনুযায়ী সামনে আনছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলের নতুন নতুন মডেল, যা বাজারে আসামাত্র লুফে নিচ্ছেন ক্রেতারা।

যেভাবে দেখছে উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানগুলো

দেশে ভারতের হিরো ও জাপানোর হোন্ডা ব্র্যান্ডের পরিবেশক ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে নিটল-নিলয় গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আবদুল মাতলুব আহমাদ নিউজবাংলাকে এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘মোটরসাইকেলের প্রতি মানুষের আকর্ষণ, চাহিদা ও ক্রয়ক্ষমতা সমান্তরাল বাড়ছে। এখন এটি মোটেও বিলাসপণ্য নয়। বরং দ্রুত সময়ে সবার গন্তব্যে পৌঁছানোর নিরাপদ ও অত্যাবশ্যকীয় বাহন।’

তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারের নেয়া পদক্ষেপের মূল বার্তা হচ্ছে: সরকার স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে চায়। সক্ষমতা বাড়াতে চায়। এ ক্ষেত্রে ২৫০ সিসি পর্যন্ত সুরক্ষা শুল্ক বা সম্পূরক শুল্কের উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় কোম্পানিগুলোও যাতে সেই সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। আবার এ পদক্ষেপ নেয়ার আরেকটি সময়োপযোগী উদ্দেশ্য হলো, সারা বিশ্ব এখন অর্থনৈতিকভাবে খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। সে ক্ষেত্রে আমদানি যতটা সংকুচিত করা যাবে, বৈশ্বিক ঝুঁকি তত কম থাকবে। ফলে রিজার্ভও সুরক্ষিত থাকবে। এখানে পদক্ষেপ একটি, কিন্তু কাজ হয়েছে দুটি।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অটোমোবাইল অ্যাসেম্বলার অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ও দেশীয় ব্র্যান্ড ‘রানার’-এর উদ্যোক্তা হাফিজুর রহমান খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২৪ অনুযায়ী সুস্পষ্টভাবে বলে দেয়া হয়েছে, উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় কারখানায় কম্পোনেন্ট কাজে ব্যবহার ছাড়া দেশে ১৬৫ সিসির ঊর্ধ্বে কোনো মোটরসাইকেল আমদানি করা যাবে না। তবে শুধু পুলিশ বাহিনীর কাজে ব্যবহার প্রয়োজনে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণসাপেক্ষে আমদানি করার সুযোগ রাখা হলেও বাকিদের জন্য তা পুরোপুরি নিষিদ্ধ।

‘প্রস্তাবিত বাজেটে ২৫০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল আমদানিতে ২৫০ সিসি ক্ষমতাসম্পন্ন ফোর স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ ও টু স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ২৫০ শতাংশ পর্যন্ত সম্পূরক শুল্কারোপের হ্রাস-বৃদ্ধির বিষয়টি সেই অর্থে কিছু যায় আসে না। কারণ দেশীয় শিল্পের সুরক্ষার বিষয়টি আমদানিনীতির মাধ্যমেই সুস্পষ্ট করা হয়েছে। রাজস্ব পদক্ষেপের আওতায় কম শুল্কেই উদ্যোক্তারা শিল্পের প্রয়োজনে আনার সুযোগ রাখা হয়েছে। এখানে আমদানিকারকদের সঙ্গে দেশীয় শিল্পের কোনো সম্পর্ক নেই।

‘তবে এটা ঠিক, এখন পর্যন্ত দেশে মোটরসাইকেল শিল্পের যে অগ্রগতি সেটি সরকারের নীতি-সহায়তার ওপর ভর করেই হয়েছে। সামনে সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হবে যদি কম্পোনেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং বাংলাদেশে আরও বেশি হয়। এর জন্য স্থানীয়ভাবে যন্ত্রাংশ উৎপাদনের সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। যত বেশি উৎপাদন স্থানীয়ভাবে করতে পারব, তত বেশি যন্ত্রাংশ স্থানীয় মার্কেট থেকেই কেনা সম্ভব হবে। তখন প্রতিযোগিতার বাজারে দামও কমে আসবে, যা আমাদের মোটরসাইকেলের বাজারে টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়াবে।’

দেশে ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসিআই মোটরসের অ্যাসিস্ট্যান্ট মার্কেটিং ম্যানেজার ও ইয়ামাহা মোটরসাইকেল বাংলাদেশের হেড অফ মার্কেটিং হুসেইন মোহাম্মদ অপশন বলেন, ‘দেশে এখন ৮০, ১১০, ১২৫, ১৩৫, ১৫০, ১৫৫ ও ১৬০ সিসির গতিবেগসম্পন্ন মোটরসাইকেল বাজারজাত হচ্ছে। এই মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ হয় দীর্ঘমেয়াদি। অথচ কোনো নতুন মডেল কিংবা ভিন্ন ভিন্ন সিসির মোটরসাইকেল উৎপাদনে ভিন্ন ভিন্ন প্ল্যান্টের প্রয়োজন হয়। সে ক্ষেত্রে যে বিনিয়োগ করতে হয়, তা খুবই ব্যয়বহুল।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোম্পানিগুলোর সেই ব্যয়বহুল বিনিয়োগ সক্ষমতা এখন নেই। তবে সবাই চায় তাদের সক্ষমতাকে আরও ছাড়িয়ে যেতে। নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে। সেই চেষ্টাও হয়তো অনেকে করছে। তবে প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়ে স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষা দেয়ার যে চেষ্টা হয়েছে, তা খুবই উৎসাহব্যঞ্জক। এখনই তার সুফল পাওয়া যাবে না, তবে ভবিষ্যতের পথ প্রশস্ত হচ্ছে।’

সামনে যত চ্যালেঞ্জ

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মোটরসাইকেল শিল্পের বর্তমানে চার চ্যালেঞ্জ আছে।

প্রথমত, মোটরসাইকেল শিল্পে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের ৭০ শতাংশ এখনও আমদানিনির্ভর। বাকি ৩০ শতাংশ স্থানীয় জোগান আসে। তাই মোটরসাইকেল শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ বা সহযোগী শিল্প কিংবা ভেন্ডরের উন্নয়ন প্রয়োজন, যারা কারখানার জন্য বিভিন্ন খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরি করবে।

দ্বিতীয়ত, মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ব্যয় হ্রাস।

তৃতীয়ত, সহজ শর্তে ক্রেতাকে মোটরসাইকেল কেনায় ঋণ প্রদান।

চতুর্থত, মোটরসাইকেল চালনার প্রশিক্ষণের জন্য সহায়তা প্রদান।

মন্তব্য

p
উপরে