× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

স্বাস্থ্য
How much bipolar disorder affects sex
hear-news
player
print-icon

বাইপোলার ডিজঅর্ডার কতটা প্রভাব ফেলে যৌনতায়

বাইপোলার-ডিজঅর্ডার-কতটা-প্রভাব-ফেলে-যৌনতায়
যৌন জীবনের ওপর নানান প্রভাব ফেলে বাইপোলার ডিজঅর্ডার। ছবি: এএফপি
বাইপোলার ডিজঅর্ডারের ধরন ও এর লক্ষণের ধারাবাহিকতা, সময়কাল ও তীব্রতা একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম। প্রায় ক্ষেত্রে এগুলো সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। বেশির ভাগ ব্যক্তির মেজাজের পরিবর্তন কোনো ধারাবাহিক ছন্দ অনুসরণ করে না। যেমন, ম্যানিয়ার আগে তাদের বিষণ্নতার একাধিক পর্ব থাকতে পারে। প্রতিটি পর্বের সময়সীমাও আলাদা।

বাইপোলার ডিজঅর্ডার বিশেষ এক মানসিক সমস্যা। পূর্ণবয়স্ক মানুষের তিন শতাংশ এ সমস্যায় ভোগেন। যৌন জীবনের ওপরেও প্রভাব ফেলে বাইপোলার ডিজঅর্ডার।

এ ধরনের সমস্যার বেশ কয়েকটি দৃশ্যমান ধরন রয়েছে। তবে সাধারণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে হুট করে মেজাজ পরিবর্তন ও বিষণ্নতা বা উন্মত্ত আচরণ। বিষণ্নতার সময় ইচ্ছা থাকার পরেও অনেকে কামশক্তি, যৌনতার অনুপ্রেরণা ও উত্তেজিত হওয়া বা আনন্দ অনুভব করা এবং অর্গাজমের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। বিপরীতে ম্যানিয়া বা উন্মত্ততার সময় অনেকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মাত্রায় ও বেশি সময় ধরে যৌনতা চান।

স্বাভাবিক অবস্থায় তারা যেটা করতে চান না ম্যানিয়ার সময় সে যৌনতা নিয়েও তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষায় আগ্রহী হতে পারেন। এ সময়ে খুব কম ব্যক্তি সম্পূর্ণ সন্তুষ্টি লাভ করেন। বাইপোলার ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত অনেকে উন্মত্ততার অধ্যায় পার হওয়ার পর সক্রিয় যৌনতার জন্য অনুশোচনাও বোধ করেন।

বাইপোলার ডিজঅর্ডারের ধরন ও এর লক্ষণের ধারাবাহিকতা, সময়কাল ও তীব্রতা একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম। প্রায় ক্ষেত্রে এগুলো সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। বেশির ভাগ ব্যক্তির মেজাজের পরিবর্তন কোনো ধারাবাহিক ছন্দ অনুসরণ করে না। যেমন, ম্যানিয়ার আগে তাদের বিষণ্নতার একাধিক পর্ব থাকতে পারে। প্রতিটি পর্বের সময়সীমাও আলাদা। কেউ কেউ এক পর্ব থেকে আরেক পর্বে যাওয়ার সময় মাঝামাঝি একটি অবস্থানে আসেন। অন্যদের ক্ষেত্রে সেটি নাও ঘটতে পারে।

হাই এনার্জির পাশাপাশি শূন্যতার অনুভূতির মতো বিষণ্নতা ও ম্যানিয়ার মিশ্র পর্ব থাকাও সম্ভব। এ কারণে বেশির ভাগ মানুষের পক্ষে বাইপোলার ডিজঅর্ডারের লক্ষণের পূর্বাভাস দেয়া বা হিসাব রাখা বেশ কঠিন। এ জন্য প্রায়ই তাদের ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

কোন বিষয়গুলো মেজাজ পরিবর্তনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে, কী করে পরিবর্তনগুলো আগে থেকে চিহ্নিত করা যায় সে বিষয়ে বাইপোলার ডিজঅর্ডারে ভোগা ব্যক্তিদের পরামর্শ দেন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তবে বাইপোলার ডিজঅর্ডার ও যৌন সম্পর্কের ওপর প্রভাব নিয়ে খুব বেশি গবেষণা হয়নি। ফলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিষয়টিকে এড়িয়ে যেতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

অধিকাংশ সময়ে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে প্রধান ভূমিকা পালন করে ওষুধ। তবে অনেক ওষুধ রোগীর যৌন জীবনকেও প্রভাবিত করে। তাদের কাম বা আনন্দ ও অর্গাজম অনুভবের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। যৌন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরিতে এসব ওষুধের প্রভাব জানা থাকলেও তা দূর করতে খুব বেশি গবেষণা হয়নি।

বাইপোলার ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত কয়েকজন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ বিষয়ক সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছেন। এ-সংক্রান্ত আলোচনা উৎসাহিত করতে নিজেদের যৌনতার অভিজ্ঞতাও প্রকাশ করতে শুরু করেছেন। এমন এক নারী কেসি ও তার সঙ্গী ক্যামেরনের সঙ্গে কথা বলেছে কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সভিত্তিক সাইট ভাইস। কেসি কিশোর বয়সেই টাইপ ওয়ান বাইপোলার ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত হন। এরপর থেকে সচেতনভাবেই সমস্যাটির মোকাবিলা করছেন তিনি। কেসি ও ক্যামেরনের আলাপচারিতা বাংলায় ভাষান্তর করেছেন রুবাইদ ইফতেখার।

কেসি: অল্প বয়সেই আমার মধ্যে লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। তবে হাইস্কুলে যাওয়ার সময় আমি নিজে ও আমার মা সেটা লক্ষ করি। এখন জানি, আমি তখন হাইপোম্যানিয়ায় আক্রান্ত ছিলাম। হাইপোম্যানিয়া হচ্ছে কিছুটা মৃদু ধরনের ম্যানিয়া। টানা কয়েক সপ্তাহ ঘুম কম হতো, মাথায় একের পর এক আইডিয়া আসত। তবে কোনো কাজ শুরু করে আর শেষ করতাম না। ম্যানিয়া শেষ হয়ে গেলে, আমার সব শক্তি নিঃশেষ হয়ে আসত, আমি বিধ্বস্ত বোধ করতাম। মানুষজনের সঙ্গে কথা বলতে ভালো লাগত না। আমার জটিলতার গ্রেড এ থেকে ডি ও এফ-এ নেমে গিয়েছিল।

আমরা আর্থিকভাবে অসচ্ছল ছিলাম, রোগটি সম্পর্কেও জানাশোনার অভাব ছিল। পরিবারের ধারণা ছিল, আমি কিশোর বয়সের হরমোনজনিত সমস্যায় ভুগছি। যদিও আমার আচরণ সাধারণ কিশোর-কিশোরীর মতো ছিল না।

বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পর লক্ষণগুলো আবারও প্রকাশ পেতে শুরু করে। একদিন ক্লাসে যাওয়ার সময় আমি ম্যানিয়ার একটি বড় ধাক্কা অনুভব করতে শুরু করি। চারদিকের সবকিছু আমার পরিচিত, অথচ বিল্ডিংগুলো ঠিক মনে হচ্ছিল না। মনে হচ্ছিল পৃথিবী গলে যাচ্ছে। আমার মনে একের পর এক চিন্তা আসছিল। এক পর্যায়ে আজেবাজে বকতে শুরু করি। লোকে ভাবছিল আমি নেশা করেছি। এরপর কয়েকজন বন্ধু থেরাপিস্টের কাছে নিয়ে যায়। এর মাধ্যমেই শুরু হয় চিকিৎসা। সেই প্রথম জানতে পারি, আমার বাইপোলার ডিজঅর্ডার রয়েছে।

এখন যে ওষুধ খাচ্ছি সেগুলো বেশ কার্যকর। বহু বছর ধরে থেরাপি নিচ্ছি। এমন ওষুধও খেয়েছি যেগুলোর কারণে আমার যৌন চাহিদা প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। আক্ষরিকভাবেই কোনো কামনা অনুভব করতাম না। বর্তমান ওষুধের ক্ষেত্রে তেমনটা হচ্ছে না। আমাকে এখনও হাইপোম্যানিক ও বিষণ্নতার অধ্যায়গুলোর মধ্য দিয়ে যেতে হয়। থেরাপিস্ট বলেছেন, বাকি জীবন আমাকে এ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই যেতে হবে। কারণ ওষুধের ডোজ বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আমি অনুভূতিশূন্য হয়ে পড়ি।

আমার পরিবার বাইপোলার ডিজঅর্ডারের চিকিৎসার বিষয়ে খুবই সহায়তা করেছে। অন্য যেকোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা যেমন হাঁপানি বা এ-জাতীয় কিছু যেভাবে চিকিৎসার মাধ্যমে সমাধান করা দরকার, এটিকেও তারা সেভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছে।

একপর্যায়ে আমি এমন একজনের সঙ্গে ডেট শুরু করি যার আচরণ ছিল সহিংস। সে আমাকে আমার বাইপোলার ডিজঅর্ডার নিয়ে লজ্জা দিয়েছে। সে বলত, আমি খুব সমস্যাজনক এবং আমাকে কেউ সত্যিই ভালোবাসতে পারবে না।

ও আমার বিষণ্নতা ও ম্যানিয়াকে নিজের সুবিধার জন্যও ব্যবহার করেছে। ছেলেটি জানত, যখন আমি হাইপোম্যানিক থাকি তখন এমন সব ঝুঁকি নিতে পারি, যা অন্য সময় অসম্ভব। সে আমার সঙ্গে প্রচুর যৌন সম্পর্ক করেছে, স্বাভাবিক থাকলে আমি হয়তো তাতে সম্মতি দিতাম না। আমার বিষণ্ণতা নিয়ে সে আমাকে অপরাধবোধে ভোগাত এবং সেক্স করতে চাপ দিত, যেটা আমি আসলে চাইতাম না।

থেরাপিস্টরা বাইপোলার ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত রোগীদের সঙ্গে যৌনতা নিয়ে খুব কম কথা বলেন। যখন তারা বলেন তখন শুধু ঝুঁকির ওপর জোর দেন। যেমন, যদি হাইপোম্যানিক হন এবং ওষুধ না খান তাহলে আপনার কনডম ব্যবহার না করার সম্ভাবনা বেশি। আর তাতে আপনার যৌনবাহিত রোগ বেশি হতে পারে কিংবা নিজের বিপদ ডেকে আনতে পারেন, এমনকি অপমানিত হতে পারেন।

এটি অনেকটা ভয় দেখানোর কৌশলের মতো। তারা বলতে চান ওষুধ না খেলে এবং নিয়ম না মানলে আপনি যৌনরোগে আক্রান্ত হবেন। তারা অধিকাংশ সময়ে বাইপোলার ডিজঅর্ডার সত্ত্বেও সম্মতিমূলক সুস্থ যৌন সম্পর্ক বজায় রাখার পদ্ধতি নিয়ে কথা বলেন না।

ক্যামেরনের সঙ্গে সম্পর্কের আগে আমি এ বিষয়টি পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারিনি। তার সঙ্গে এমন একটি সুস্থ সম্পর্কের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি যে আমার মধ্যে মর্যাদাবোধ ও ভেবেচিন্তে সম্মতি দেয়ার ধারণা তৈরি করেছে।

ক্যামেরন: আমাদের দেখা হয় বাম্বলে (ডেটিং অ্যাপ)। আমরা কয়েক দিন কথা বলি ও দেখা করি। দুজনের পছন্দের একটি ভিডিও গেম-বারে আমরা দেখা করি এবং শুরুতেই একে অপরকে পছন্দ করে ফেলি।

কেসি: কোভিড মহামারির সময়ে লকডাউনে এলাকার সবকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগের দিন আমাদের প্রথম ডেট ছিল। আমি যে প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করি তারা ফান্ডিং হারায় এবং আমাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে। ক্যামেরনের প্রতিষ্ঠানও বন্ধ হয়ে যায়।

আমি একা থাকতাম। তবে আমি জানতাম, ওই সময়ে একা থাকাটা আমার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হবে না। ক্যামেরন এমন একজনের সঙ্গে থাকত, যার সঙ্গী সব সময় তাদের বাসায় আসত। মহামারির তিন সপ্তাহের মাথায় আমরা একসঙ্গে কোয়ারেন্টিনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আমি একসঙ্গে থাকতে শুরু করলেও, ক্যামেরনকে আমার বাইপোলার ডিজঅর্ডার সম্বন্ধে জানাইনি। আগের সম্পর্কের ক্ষত আমাকে ভীত করে রেখেছিল।

ক্যামেরনের সঙ্গে থাকাটা কিছুটা ভয়েরও ছিল। কারণ এর আগে আমি যতজনের সঙ্গে ডেট করেছি, তাদের অধিকাংশই ছিলেন সমাজসেবাকর্মী ও মনোবিজ্ঞানে পড়াশোনা করা। তারা বাইপোলার ডিজঅর্ডার সম্বন্ধে জানতেন।

ক্যামেরন: দীর্ঘদিন বিষণ্ণতায় ভুগেছে এমন ব্যক্তিদের আমি চিনতাম। তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য কী ধরনের সাহায্য ও স্বাধীনতা প্রয়োজন সেটাও জানতাম। তবে কেসির সঙ্গে পরিচয় হওয়ার আগে বাইপোলার ডিজঅর্ডার নিয়ে তেমন কিছু জানা ছিল না।

কেসি: আমার চিন্তা ছিল, ‘ধুর এই মেয়েকে নিয়ে যথেষ্ট হয়েছে’ বলে ও চলে যায় কি না!

ক্যামেরন: আমার জননাঙ্গে হার্পিস হয়েছে। বিষয়টি আগে সঙ্গীদের বলতে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগতাম। তবে আমার মতে প্রকাশ করাটা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাপারটা এমন যে, তুমি এটা মেনে নিতে না পারলে আমাদের সম্পর্ক টিকবে না। কেসির সঙ্গে একসঙ্গে বসবাস ও প্রথম যৌন সম্পর্কের আগে আমি ওকে হার্পিসের কথা বলেছি।

কেসি: ও আমার সঙ্গে গোপনে এ বিষয়টি শেয়ার করার পর আমি অনুভব করি, ওকেও আমি নিজের কথা বলতে পারি। প্রায় দুই বা তিন সপ্তাহ পরে ওকে আমার বাইপোলার ডিজঅর্ডারের কথা খুলে বলি। আমি খুব নার্ভাস ছিলাম, তাই সেই কথোপকথনের খুব বেশি কিছু মনে নেই। একসঙ্গে থাকা শুরুর আগে তাকে বিষয়টি খুলে না বলার কারণে আমার মধ্যে অপরাধবোধ কাজ করছিল। আমার মনে আছে ওকে বলার সময় চোখের সামনে সবকিছু ঘোলা হয়ে এসেছিল। ‘আমার বাইপোলার ডিজঅর্ডার আছে’- এটা বলেই আমি রুম থেকে ছুটে বেরিয়ে গিয়েছিলাম।

ক্যামেরন: আমার স্মৃতিটা একটু ভিন্ন। মনে আছে, তুমি (কেসি) হালকাভাবে একদিন বলেছিলে, ‘ও হ্যাঁ আরেকটা ব্যাপার, আমি বাইপোলার...’। এরপর যা করছিলে সেটাই করতে থাকলে। আমি এরপর কয়েকটি প্রশ্ন করেছি। যেমন, কখন রোগ ধরা পড়েছে, ওষুধ খাচ্ছ কি না, কোনো লক্ষণে আছি কি না। আমি মনে করেছিলাম, বিষয়টি যদি আমাদের জীবনের একটি অংশ হয় তাহলে বাইপোলার ডিজঅর্ডার সম্পর্কে আরও ভালো করে জানতে চাই। তবে শুরুর আলোচনায় আমি অনেক কিছু জানাতে তোমাকে চাপ দিইনি।

কেসি: বিষয়টি হাস্যকর শোনাতে পারে, কিন্তু ওই সময় আমার একটা বিড়াল খুব অল্প বয়সে হুট করে মারা যায়। এতে আমি বিষণ্ণতায় ভুগতে শুরু করি। অবশ্য এতে করে ক্যামেরন সম্পর্কের শুরুতেই পুরো বিষয়টি দেখার একটা সুযোগ পেয়ে যায়। আমি জানি বিষয়টি ওর জন্য খুব কঠিন ছিল।

ক্যামেরন: ক্যাসি আমাকে তার আগের নিপীড়নের কথা জানিয়েছিল। সম্পর্কের প্রথম দিন থেকে আমি জানতাম, বাহ্যিক জিনিসগুলো তাকে প্রভাবিত করতে পারে। এমনও সময় আসতে পারে যখন ঘনিষ্ঠ হওয়া সম্ভব নয়। তবে ওই সময়গুলো আমার বা আমাদের সম্পর্কের প্রতিফলন নয়। কখনও কখনও যৌন ঘনিষ্ঠতা ছাড়াই আমাদের সবার সময় ও নিজস্ব জায়গা প্রয়োজন। যৌনতা আরও আনন্দের হয় যখন সবাই সহজ থাকে। আমি কখনই চাই না, কেউ মনে করুক সে যৌন সম্পর্কে যেতে বাধ্য।

কেসি: ছয় মাস পর বুঝতে পারি, এর আগের সম্পর্কগুলোতে আমি সাধারণত যতবার যৌন সম্পর্ক করেছি এখন ততটা হচ্ছে না। আমি নিজের সঙ্গে কথা চালিয়ে যাই এবং বোঝার চেষ্টা করি কেন এমন হচ্ছে। আমার ধারণা ছিল নতুন জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির কারণে আমার কামনা কমে গেছে অথবা আমি হয়তো মহামারি-সংক্রান্ত স্ট্রেসে ভুগছি। তবে পরে বুঝলাম, যখন কোনো সঙ্গী আমার সীমানাকে শ্রদ্ধা করে তখন এটিই স্বাভাবিক।

একটি স্বাস্থ্যকর সম্পর্কের মধ্যে থাকায় আমার নতুন উপলব্ধি হয়েছে। একটি অস্থির সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমি নিজেকে ‘ভালো বাইপোলার ব্যক্তি’, ‘পাগল বা সারাক্ষণ বিষণ্ণ নই’ এমন ভাবতে থাকার চাপ অনুভব করেছি। ফলে সেটা আমার নিজের আবেগকে লুকিয়ে রাখতে বাধ্য করেছে। এ অবস্থা যৌনতা ও ঘনিষ্ঠতার সময় নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেয়া, সত্যিই দুর্বল হওয়া ও সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা হওয়ার বিষয়টিকে কঠিন করে তোলে।

ক্যামেরন: আমি এখানে কেসির তথ্য উন্মোচন করতে আসিনি। আমি ওকে প্রশ্ন করি এবং পাশে থাকার চেষ্টা করি। এমন একটি অবস্থা তৈরির চেষ্টা করি যেখানে ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে। সে যা বলবে সেটা আমি গ্রহণ করে নিতে প্রস্তুত থাকি।

কেসি: আমি যখন একেবারে নিঁখুত আচরণের ভাব করি সেটা ক্যামেরন লক্ষ করে। সে আমার দেহের ভাষা পড়তে শিখেছে এবং জানতে শিখেছে কখন তার সরে যাওয়া উচিত। আমরা যত বেশি সেক্স করি, ততই নিজেকে খুঁজে পেতে ও ছেড়ে দিতে এবং উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়ে আরও ভালোভাবে শিখতে পারছি।

ক্যামেরন: কেসি কেমন আছে সেটা বোঝার জন্য ওর দেহের ভাষা পড়ার চেষ্টা করি। সে কেমন আছে এবং কখন সেক্স করতে পারে বা করবে না বুঝতে চাই। আমি ঠাট্টার ছলে সব কিছু হালকা করি। যৌনতার ক্ষেত্রে আমি প্রায়ই বলি (একটি নকল কোমল কণ্ঠে), ‘এই তুমি কেমন আছ? আজ রাতে কি একটু সেক্সি টাইম কাটানো যায়?’

কেসি: (হাসি)

ক্যামেরন: ও সেক্স করতে চাইছে কি না বিষয়টি পরিষ্কার থাকে। সে হয় সাড়া দেয় বা দেয় না।

কেসি: আমি আসলে একেবারেই এ বিষয়ে পরিষ্কার। হয় আমি করতে চাই অথবা চাই না।

ক্যামেরন: আমি আগে যৌনতায় আরও ইতিবাচক ও স্বতঃস্ফূর্ত ছিলাম। এমন সঙ্গীদের সঙ্গে ছিলাম যারা চাইত আমি তাদের দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা দিয়ে চুম্বন করি। তবে এখনকার এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমার ঝুলি থেকে আকস্মিক শারীরিক ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি সরিয়ে নিয়েছি।

কেসি: আসলে আকস্মিক শারীরিক সংযোগের বিষয়টি আমার ভালো লাগে না। বন্ধুরা জানে, আমি জড়িয়ে ধরা পছন্দ করি না। ক্যামেরনের পরিবারের সবাই আবার জড়িয়ে ধরতে খুব পছন্দ করে। তবে ক্যামেরনের ক্ষেত্রে যে ব্যাপারটা ভালো তা হচ্ছে, ও জিজ্ঞেস করে, ‘আমি যদি তোমাকে জড়িয়ে ধরি সেটা কি তোমার ভালো লাগবে?’ বা ‘আমি তোমার পায়ের ওপর আমার পা উঠিয়ে দিই?’

বন্ধুরা খুব শক্তভাবে আমাকে সমর্থন করে। ওদের বেশির ভাগ সামাজকর্মী। আমি কখন হাইপোম্যানিক সেটা বুঝতে ওরা আমাকে সাহায্য করে। তারা বুঝতে সাহায্য করে, আসলেই কি আমি এতটা যৌনতা চাই, নাকি বাইপোলার ম্যানিয়া আমার মস্তিষ্ককে চালিত করার কারণে এটা ঘটছে?

ক্যামেরন যখন আশপাশে থাকে তখন আমি ও আমার বন্ধুরা প্রায়ই আলোচনা করি। এতে আসলেই অনেক লাভ হয়। ক্যামেরন জানে, কখনও কোনো বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়লে ও আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের ফোন করতে পারবে। তাদের বলতে পারবে, ‘আরে, কেসি সত্যিই এখন অনেক প্রাণবন্ত হয়ে আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে! আমি জানি না এই মুহূর্তে তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করার উপযুক্ত সময় কি না।’

ক্যামেরন: আমরা আমাদের যৌনজীবন নিয়ে সব সময় অন্য মানুষের সঙ্গে কথা বলি না। তবে কাছের বন্ধুদের একটা সার্কেল থাকা উচিত, যারা জানে কী ঘটনা ঘটছে। যাদের ফোন করলে আসলেই অনেক সাহায্য পাওয়া যাবে।

কেসি: আমি কিছুটা হাইপোম্যানিক বোধ করলে এবং যতটা যৌনতা চাচ্ছি সেটা আমার আসল চাহিদা না- এটা বুঝতে পারলে ক্যামেরন ও আমি কয়েক সপ্তাহ যৌনতা ছাড়া থাকার সিদ্ধান্ত নিই। তবে অন্তরঙ্গ মুহূর্তগুলো বজায় রাখতে আমরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরি বা চুমু খাই।

নিজের খারাপ লাগতে শুরু করলে দ্রুত সম্ভব ক্যামেরনকে জানাতে চেষ্টা করি। ও হালকা ঠাট্টা করে আমাকে সহজ করে তোলে। আমি জানি, আমার সীমানাগুলোকে ও সম্মান করবে। এ বিশ্বাস থেকে আমি ডিজঅর্ডারের পর্বগুলোতে আরও মনোযোগ দেয়ার সময় পাই। ক্যামেরন জানে কীভাবে আমাকে সাহায্য করতে হয়।

আমাদের সম্পর্কের মাধ্যমে যৌনতার ওপর ধীরে ধীরে নিজস্ব নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি ফিরে পাই। যেমন, আগে যৌনতার সময়ে কোনো কিছু অনুভব না করলেও আমি শেষ পর্যন্ত যেতাম। আর এখন জানি, আমি যদি বলি ‘আমাদের শেষ করতে হবে’, আমরা সেটাই করব।

আমি যখন বিষণ্ণতায় ভুগি তখন এটা খুবই সহায়ক। যৌনতার চাহিদা থাকলেও আমি হয়তো দীর্ঘ সময় তা উপভোগ করতে পারি না। কদিন ধরে আমি যৌন মিলনের সময় জোকস বলছি, যাতে করে যে কথাগুলো বলতে আমি দ্বিধা করি সেগুলো সহজে বলতে পারি। এতে ক্যামেরন বিরক্ত ও বিব্রত হয়।

ক্যামেরন: আমি বিব্রত কারণ ওই মুহূর্তগুলো দুনিয়ার কারও সঙ্গে শেয়ার করতে পারিনি।

কেসি: (হেসে) আসলে ক্যামেরন আমার উন্মত্ত অবস্থার চরম রূপটা দেখেনি। থেরাপিস্টের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো এবং এখন ওষুধগুলো চমৎকার কাজ করছে বলে আশা করি, সেই চেহারা ওকে আর দেখতে হবে না। উন্মত্ত অবস্থায় পৌঁছালে দশবারের মধ্যে নয়বারই আমাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। কারণ ওই সময় আমাকে পর্যবেক্ষণ ও বিশেষায়িত চিকিৎসা দেয়া প্রয়োজন।

ক্যামেরন: আমার কাছে কোনো কিছু ঠিক মনে না হলে, কী করতে হবে সেটা ঠিক করে রেখেছি। কোন হাসপাতালে যাব, যেতে কতক্ষণ লাগবে, কাকে ফোন করব এগুলো সব ঠিক করা আছে।

কেসি: বাইপোলার ডিজঅর্ডারের কারণে আপাতত আমাদের সম্পর্কে বড় কোনো সমস্যা হচ্ছে না। ক্যামেরনের হার্পিস বা আমাদের পোষা বিড়ালের মতোই এটা আমাদের জীবনের অংশ।

ক্যামেরন: পুরো বিষয়টি নিয়ে কথা বললেই তার ফল ইতিবাচক হবেই।

আরও পড়ুন:
ঈদের দিন স্বজনহীন প্রবীণদের পাশে ‘লেটস টক মেন্টাল হেলথ’
সচেতন হোন ঈদের খাবারে
নারী ডেটে ডাকলে যৌনতার সম্ভাবনা বেশি
জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস কাল
স্বাস্থ্য খাত সংস্কারে কমিশন গঠনের পরামর্শ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

স্বাস্থ্য
Less intelligent people make decisions based on news headlines

কম বুদ্ধির মানুষ সিদ্ধান্ত নেন খবরের শিরোনাম দেখেই

কম বুদ্ধির মানুষ সিদ্ধান্ত নেন খবরের শিরোনাম দেখেই গবেষণায় দেখা গেছে, বুদ্ধিবৃত্তিক মান যাদের বেশি তারা খবরের শিরোনাম দেখেই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেন না। ছবি: সংগৃহীত
গবেষকেরা বলছেন, ইন্টেলেকচুয়াল হিউমিলিটি বা আমরা যা জানি সেটা ভুলও হতে পারে। রাজনৈতিক ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যাচাই একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আর সেটি করতে হলে নিজেদের জ্ঞান সম্বন্ধে আমাদের সম্যক ধারণা থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ।

ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিবেদন শেয়ার করেন ব্যবহারকারীরা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এসব প্রতিবেদনের বিস্তারিত পড়ার আগ্রহ থাকে না নেটিজেনদের। অনেকেই কেবল শিরোনাম পড়ে ধারণাপ্রসূত একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন।

সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, শিরোনাম দেখে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। উল্টোদিকে বুদ্ধিবৃত্তিক মান যাদের বেশি তারা ঘটনাটিকে তলিয়ে দেখার চেষ্টা করেন। খবরের শিরোনাম দেখেই তারা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেন না।

পার্সোনালিটি অ্যান্ড সোশ্যাল সাইকোলজি বুলেটিনে প্রকাশিত হয়েছে গবেষণাটি।

‘ফ্যালিবিলিটি স্যালিয়েন্স ইনক্রিজেস ইন্টেলেকচুয়াল হিউমিলিটি: ইমপ্লিকেশনস ফর পিপলস উইলিংনেস টু ইনভেস্টিগেট পলিটিক্যাল মিসইনফরমেশন’ শীর্ষক গবেষণাপত্রটির গবেষক ছিলেন জোনাহ কোটকে, কারনা শুমান, টেনেলে পোর্টার ও ইলসে স্মাইলো-মরগান।

ইন্টেলেকচুয়াল হিউমিলিটি বলতে নিজের জ্ঞানের সীমা সম্বন্ধে সচেতন থাকা ও ভুল হওয়ার আশঙ্কাকে মেনে নেয়ার ক্ষমতাকে বোঝায়। যাদের এ ক্ষমতা বেশি তারা আর্থরাজনৈতিক ক্ষেত্রে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতি কম শত্রুতা পোষণ করেন। নতুন তথ্য শিখতেও তারা বেশি আগ্রহী হন।

আমেরিকার পেনসিলভেনিয়ার ইউনিভার্সিটি অফ পিটসবার্গের স্নাতকের ছাত্র ও গবেষক দলের অন্যতম সদস্য জোনাহ কোটকে বলেন, ‘রাজনৈতিক ভুল তথ্য একটি সমস্যা। এটি রাজনৈতিক বিভাজনে অবদান রাখে। কী কারণে মানুষ তার কাছে আসা তথ্য নিয়ে যাচাই-বাছাই করেন, সেটি ভালোভাবে বোঝা তাই গুরুত্বপূর্ণ৷’

কোয়েটকে ও তার সহকর্মীরা ইন্টেলেকচুয়াল হিউমিলিটি ও রাজনৈতিকভাবে অভিযুক্ত সংবাদ শিরোনাম যাচাইয়ের জন্য তিনটি গবেষণার একটি সিরিজ পরিচালনা করেছেন।

প্রথম গবেষণায় ২৮৯ জন অংশগ্রহণকারীকে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল ভবনে রায়টের কিছু সঠিক ও ভুয়া সংবাদের শিরোনাম দেখানো হয়। এরপর দৈবচয়নের ভিত্তিতে নির্বাচিতদের সংবাদগুলোর শিরোনাম যাচাই করতে বলা হয়। আর চাইলে সেগুলো যাচাই না করার সুযোগও রাখা হয়।

কোটকে ও তার সহকর্মীরা দেখেছেন, যাদের যাচাই করতে বলা হয়েছে তারা দেখেছেন সঠিক সংবাদের শিরোনাম ভুয়া বা মিথ্যা সংবাদের শিরোনামের তুলনায় বেশ খানিকটা নিঁখুত।

কোটকে বলেন, ‘আমরা দেখলাম, অনলাইন আর্টিকেলের ক্ষেত্রে ভুল তথ্য যাচাই করা (ফ্যাক্ট চেক বা বিকল্প সোর্স খোঁজা) কার্যকর ও খুব একটা সময়সাপেক্ষ নয়।’

দ্বিতীয় গবেষণায় দৈবচয়নের ভিত্তিতে ২৮৫ জন অংশগ্রহণকারীকে এমন একটি ভুয়া শিরোনাম পড়তে বলা হয়, যা তাদের আদর্শের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বা অসংগতিপূর্ণ ছিল। অর্থাৎ কারও রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে ওই শিরোনামটি ছিল সাংঘর্ষিক, আবার কারও মতাদর্শের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। এরপর তাদের জিজ্ঞাসা করা হয়, সংবাদটি তারা যাচাই করবেন কি না। শিরোনামের উৎস পরীক্ষা বা সম্পূর্ণ নিবন্ধটি পড়বেন কি না।

অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যাদের ইন্টেলেকচুয়াল হিউমিলিটি উচ্চতর ছিল তারা সংবাদটি যাচাইয়ের আগ্রহ জানিয়েছেন। মতাদর্শ যা-ই হোক না কেন, তারা সেটি করতে চেয়েছিলেন।

তৃতীয় গবেষণায় কোটকে ও তার দল ৩১৫ জন অংশগ্রহণকারীর সঙ্গে দৈবচয়নের ভিত্তিতে করা কিছু পরীক্ষার মাধ্যমে ইন্টেলেকচুয়াল হিউমিলিটি ও যাচাই করার প্রবণতার মাঝে যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা করেন।

এতে অংশগ্রহণকারীদের তিনটি আপাতদৃষ্টিতে বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশ্ন করা হয়, যেগুলোর উত্তর সাধারণত ভুল আসে। যেমন, একটা প্রশ্ন ছিল ‘পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে কোন পর্বতশৃঙ্গ সবচেয়ে দূরবর্তী?’ অধিকাংশ মানুষই এর উত্তর দেন মাউন্ট এভারেস্ট, তবে সঠিক উত্তর হচ্ছে চিম্বোরাসো।

কোটকে বলেন, ‘ইন্টেলেকচুয়াল হিউমিলিটি বা আমরা যা জানি সেটা ভুলও হতে পারে। রাজনৈতিক ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যাচাই একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আর সেটি করতে হলে নিজেদের জ্ঞান সম্বন্ধে আমাদের সম্যক ধারণা থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ।’

গবেষকরা বেশ কিছু বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেছেন। যেমন, শিক্ষা, মুক্তমনস্কতা ও রাজনৈতিক অভিযোজন। এগুলো ইন্টেলেকচুয়াল হিউমিলিটি ও খবরের শিরোনাম যাচাই করার ইচ্ছাকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে যেকোনো গবেষণার মতো এ গবেষণাতেও কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল।

কোটকে বলেন, ‘একটা বড় দিক হচ্ছে, পরীক্ষাগুলো নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে করা হয়েছে। যে কারণে বাস্তব জগতে একই ফল পাওয়া যায় কি না সেটি দেখতে হবে গবেষকদের।’

আরও পড়ুন:
রাতভর মানুষের মুখের ওপর কিলবিল করে যারা
নড়াইলে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোবাইল নিষিদ্ধ
অধ্যক্ষ লাঞ্ছনার ঘটনায় শিক্ষক টিংকুকে আ.লীগ থেকে অব্যাহতি
শিক্ষকের গলায় জুতার মালা: চারজনকে রিমান্ডে চায় পুলিশ
লাঞ্ছিত স্বপন কুমার অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেন বাধ্য হয়ে

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
How much more neglect in maternal depression?

মাতৃত্বকালীন বিষণ্ণতা, পাশে থাকা জরুরি

মাতৃত্বকালীন বিষণ্ণতা, পাশে থাকা জরুরি পোস্টপারটাম ডিপ্রেশন কখনই চারিত্রিক সমস্যা কিংবা মায়েদের ইচ্ছাকৃত কোনো কান্ড নয়। ছবি: সংগৃহীত
পোস্টপারটাম ডিপ্রেশন কখনই চারিত্রিক সমস্যা কিংবা মায়েদের ইচ্ছাকৃত নয়। দেশের বেশির ভাগ পরিবার অবশ্য এ জন্য মায়েদের দায়ী করে থাকে। এটি কেবল প্রসব-পরবর্তী অন্য সব সমস্যার মতোই একটি জটিলতা। চিকিৎসায় পুরোপুরি সেরে ওঠা যায়।

সন্তান প্রসবের পর ইমোশনাল এবং হরমোনাল এক সাইক্লোন বয়ে যায় মাতৃমনে। মানে আনন্দ, ভয় এবং আতঙ্কের এক মিশ্র অনুভূতি কাজ করে তখন। এর পরিণতি হতে পারে ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা!

বিষণ্ণতা শব্দটি আমাদের চারপাশে হরহামেশা শোনা যায়। সবাই আমরা কম-বেশি বিষণ্ণতায় ভুগছি।

নানা কারণে বিষণ্ণতায় ভোগে মানুষ। একেকজনের একেক কারণ। এর ফলে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতাও।

তবে সন্তান প্রসবের পর বেশির ভাগ মায়েরা এক ধরনের বিষণ্ণতায় ভোগে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে তা ‘মাতৃত্বকালীন বিষণ্ণতা’ নামে পরিচিত।

বেশির ভাগ মা প্রসবের পর ‘বেবি-ব্লু’-তে আক্রান্ত হন; যা সাধারণত মুড সুইং। এটা মূলত অকারণে কান্নাকাটি করা, আতঙ্কিত বা শঙ্কিত হওয়া, ঠিকমতো ঘুম না হওয়ার মতো বিষয়গুলোতে সীমাবদ্ধ থাকে। এটি সাধারণত প্রসবের ২-৩ দিন পর শুরু হয়ে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

কিছু মায়ের ক্ষেত্রে তা আরও দীর্ঘ হয়ে থাকে। তারা আরও মারাত্মক বিষণ্ণতায় (সিভিয়ার ডিপ্রেশন) ভোগেন, যাকে পোস্টপারটাম ডিপ্রেশন বলা হয়। এর থেকে আরও মারাত্মক একটা কনসিকোয়েন্স হতে পারে, যাকে মেডিক্যাল ভাষায় ‘পোস্টপারটাম সাইকোসিস’ বলা হয়।

পোস্টপারটাম ডিপ্রেশন কখনই চারিত্রিক সমস্যা কিংবা মায়েদের ইচ্ছাকৃত কোনো কাণ্ড নয়। দেশের বেশির ভাগ পরিবার অবশ্য এ জন্য মায়েদেরই দায়ী করে থাকে।

বাস্তবতা হলো, এটি প্রসব-পরবর্তী অন্য সব সমস্যার মতোই একটি শারীরিক জটিলতা। চিকিৎসায় তা পুরোপুরি সেরে ওঠে।

বেবি-ব্লুজের লক্ষণ এবং উপসর্গ:

  • মুড সুইং, আতঙ্কিত থাকা, হতাশা, বিরক্তি, কান্নাকাটি, অমনোযোগী, ক্ষুধামান্দ্য, ঘুমে ব্যাঘাত।

পোস্টপারটাম ডিপ্রেশনের লক্ষণ এবং উপসর্গ:

  • মারাত্মক মুড সুইং, অতিরিক্ত কান্নাকাটি, সন্তানের সঙ্গে বন্ডিং না থাকা, পরিবার-পরিজন থেকে নিজেকে আলাদা করে ফেলা, ক্ষুধামান্দ্য অথবা অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া-দাওয়া করা, অনিদ্রা অথবা অতিরিক্ত ঘুম, সবকিছু থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা।

  • এ ছাড়া অতিরিক্ত রাগ এবং বিরক্তি, ভালো মা হতে না পারার ভয়, আশাহীন হয়ে পড়া, নিজেকে মূল্যহীন মনে করা, লজ্জা এবং ভয়ে কুঁকড়ে থাকা, মনোযোগ নষ্ট হয়ে যাওয়া, কল্পনাশক্তি কমে যাওয়া, সিদ্ধান্তহীনতা, অস্থিরতা, প্যানিকড হয়ে যাওয়া, সন্তান কিংবা নিজের ক্ষতি করার চিন্তা, বারবার আত্মহত্যা করার পরিকল্পনা।

মারাত্মক পোস্টপারটাম সাইকোসিসের লক্ষণ ও উপসর্গ:

  • কনফিউশন এবং ডিসঅরিয়েনটেশন, সন্তান নিয়ে অতিরিক্ত ভাবনা, হ্যালুসিনেশন এবং ডেলিউশন, অনিদ্রা, অতিরিক্ত রাগ , প্যারোনিয়া, সন্তান কিংবা নিজের ক্ষতি করা বা করার চেষ্টা।

কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন?

  • যদি দুই সপ্তাহ ধরে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে।

  • সন্তানের যত্ন নিতে না পারা কিংবা যত্ন নিতে বেশি কষ্ট লাগলে।

  • দৈনন্দিন কাজকর্ম ঠিকমতো করতে না পারলে।

  • নিজের কিংবা সন্তানের ক্ষতি করার চিন্তা মাথায় এলে।

শেষকথা

বিষণ্ণতায় ভোগা রোগীরা চিকিৎসায় সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়। যারা বিষণ্ণতায় ভুগছেন, তারা নিজেরা হয়তো বুঝতে পারেন না। তাই এগিয়ে আসতে হবে স্বামীকে, পরিবারকে। আপনার কাছের কেউ এমন সমস্যায় ভুগলে, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। তাকে একজন মনোরোগ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Hidden in bad dreams are hints of the future

খারাপ স্বপ্নে লুকিয়ে আছে ভবিষ্যতের ইঙ্গিত

খারাপ স্বপ্নে লুকিয়ে আছে ভবিষ্যতের ইঙ্গিত গবেষণা বলছে, আমাদের স্বপ্নগুলো মস্তিষ্কের গঠন এবং কার্যকারিতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
২০২১ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, পারকিনসনে নতুন শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা ‘আক্রমণাত্মক বা অ্যাকশন-প্যাকড’-এর মতো বিষয়গুলো বারবার স্বপ্নে দেখেন। যেসব রোগী এমন স্বপ্ন দেখেন, রোগ নির্ণয়ের এক বছরের মাথায় তাদের অবস্থা আরও খারাপের দিকে যায়। এটা আসলে প্রমাণ করে, ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যের পূর্বাভাস দিতে পারে পারকিনসনে আক্রান্তরা।

প্রতি রাতে যখন আমরা ঘুমাতে যাই, আমাদের মস্তিষ্ক তখন একটি ভার্চুয়াল জগতে কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করে। যেখানে আমরা একটি উদ্ঘাটিত গল্পের প্রধান নায়ক, যা সচেতনভাবে তৈরি করিনি; অন্য কথায়- আমরা স্বপ্ন দেখি।

বেশির ভাগ মানুষের ক্ষেত্রে স্বপ্নগুলো আনন্দদায়ক, কখনও কখনও নেতিবাচক, প্রায়শই উদ্ভট, তবে খুব কমই ভয়ংকর। অর্থাৎ যদি তাদের আদৌ স্মরণ করা হয়। তবুও প্রায় ৫ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে স্মরণীয় এবং ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন (খারাপ স্বপ্ন যা আপনাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলে) সপ্তাহে এমনকি প্রতি রাতেও ঘটে।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, পারকিনসন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণের তুলনায় খারাপ স্বপ্ন বা দুঃস্বপ্ন বেশি দেখেন। পারকিনসনে আক্রান্ত ১৭-৭৮ শতাংশ মানুষ সাপ্তাহিক দুঃস্বপ্ন দেখে থাকেন।

২০২১ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, পারকিনসনে নতুন শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা ‘আক্রমণাত্মক বা অ্যাকশন-প্যাকড-এর মতো বিষয়গুলো বারবার স্বপ্নে দেখেন। যেসব রোগী এমন স্বপ্ন দেখেন, রোগ নির্ণয়ের এক বছরের মাথায় তাদের অবস্থা আরও খারাপের দিকে যায়। এটা আসলে প্রমাণ করে, ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যের পূর্বাভাস দিতে পারে পারকিনসনে আক্রান্তরা।

এখন প্রশ্ন হলো, পারকিনসনে আক্রান্ত নন এমন মানুষের স্বপ্নও কি ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যের ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে?

দ্য ল্যানসেটের ইক্লিনিক্যাল মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হয়, হ্যাঁ। তারাও পারে। বৃদ্ধ বয়সে ঘন ঘন খারাপ বা দুঃস্বপ্ন দেখা পারকিনসনে আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক সতর্কতা ধরে নেয়া যেতে পারে।

গবেষকরা আমেরিকার একটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য নিয়ে বিশ্লেষণ করে। সেখানে ১২ বছরের বেশি সময় ধরে স্বাধীনভাবে বাস করা ৩ হাজার ৮১৮ জন বয়স্ক পুরুষের তথ্য ছিল। তাদের যেসব প্রশ্ন করা হয়েছিল সেগুলোর মধ্যে একটি ছিল খারাপ স্বপ্ন নিয়ে।

যেসব অংশগ্রহণকারী সপ্তাহে অন্তত একবার খারাপ স্বপ্ন দেখেন, তাদের পারকিনসন রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা দেখতে গড়ে সাত বছর ধরে চলে পর্যবেক্ষণ। এ সময়ে ৯১ জনের পারকিনসন নির্ণয় করা হয়। গবেষণার শুরুতে যারা ঘন ঘন খারাপ স্বপ্ন দেখেছেন, তাদের পারকিনসন হওয়ার সম্ভাবনা দ্বিগুণ ছিল।

আশ্চর্যজনকভাবে গবেষণার প্রথম পাঁচ বছরে নির্ণয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অনুপাত ঘটে। এই সময়ের মধ্যে যারা ঘন ঘন খারাপ স্বপ্ন দেখেছেন, তাদের পারকিনসন রোগ হওয়ার আশঙ্কা তিন গুণেরও বেশি ছিল।

এই ফলাফলগুলো এটাই পরামর্শ দেয় যে বয়স্ক/প্রাপ্তবয়স্করা যাদের একদিন পারকিনসন রোগ নির্ণয় হবে, তারা রোগের বৈশিষ্ট্যযুক্ত লক্ষণগুলোর বিকাশের কয়েক বছর আগে খারাপ স্বপ্ন বা দুঃস্বপ্ন দেখতে শুরু করতে পারেন। যার মধ্যে কাঁপুনি, কঠোরতা এবং নড়াচড়ার মন্থরতাও রয়েছে।

খারাপ স্বপ্নে লুকিয়ে আছে ভবিষ্যতের ইঙ্গিত

পারকিনসনের লক্ষণগুলোর মধ্যে আছে কাঁপুনি, দৃঢ়তা এবং নড়াচড়ার ধীরগতি। ছবি: সংগৃহীত

গবেষণাটি আরও দেখায় যে আমাদের স্বপ্নগুলো মস্তিষ্কের গঠন এবং কার্যকারিতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করতে পারে। নিউরোসায়েন্স গবেষণায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অনেকেই।

এই গবেষণায় ঘন ঘন খারাপ স্বপ্ন দেখা ৩৬৮ জন পুরুষের মধ্যে মাত্র ১৬ জন পারকিনসনে আক্রান্ত হয়েছেন। যেহেতু পারকিনসন তুলনামূলক বিরল রোগ, তাই বেশির ভাগ মানুষ যারা ঘন ঘন খারাপ স্বপ্ন দেখেন, তাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম।

তবুও যাদের অত্যধিক দিনের ঘুম বা কোষ্ঠকাঠিন্য আছে, তাদের জন্য অনুসন্ধানটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আগে থেকে রোগ নির্ণয় করা গেলে চিকিৎসায় তা নিয়ন্ত্রণে রাখার সম্ভাবনা বেশি।

পারকিনসনে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বপ্ন পরিবর্তনের জৈবিক কারণগুলো দেখার জন্য ইলেক্ট্রোএনসেফালোগ্রাফি (মস্তিষ্কের তরঙ্গ পরিমাপ করার একটি কৌশল) ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছেন গবেষকরা।

এটি এমন একটি চিকিৎসাপদ্ধতি যার মাধ্যমে রোগ শনাক্তের পাশাপাশি খারাপ স্বপ্নের চিকিৎসা করানো যেতে পারে। সেই সঙ্গে এই অবস্থার বিকাশের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদেরও সারিয়ে উঠানো সম্ভব হবে।

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Hollywood is responsible for depriving women of orgasm

নারীর অর্গাজম বঞ্চনায় হলিউড, বিজ্ঞানের দায়

নারীর অর্গাজম বঞ্চনায় হলিউড, বিজ্ঞানের দায় গুড লাক টু ইউ, লিও গ্র্যান্ড’ সিনেমার একটি দৃশ্য। ছবি: এপি
হস্তমৈথুনের ক্ষেত্রে অনেক নারীই এক ধরনের ‘কলঙ্ক ও লজ্জা’ অনুভব করেন। যৌন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ লরা জার্ভিস বলেন, “যখন এটা কোনো পুরুষ করে, তখন বিষয়টাকে নেতিবাচকভাবে দেখা হয় না। নারীরা করলেই আমরা তাদের ‘কিছুটা দুষ্টু’ ভাবি। সেই দৃষ্টিভঙ্গি দূর করা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। নারীদের শিখতে হবে কীভাবে নিজেকে আনন্দ দিতে হয়।”

সঙ্গমের চরম মুহূর্তকে বলা হয় অর্গাজম। স্বর্গীয় এই অনুভূতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকে সবার। তবে সবাই কি এই অনুভূতির স্পর্শে আসেন? নাকি কেউ কেউ বঞ্চিত হচ্ছেন চরম সেই মুহূর্ত থেকে?

বিষয়টিকে হালকাভাবে নেয়ার আসলে উপায় নেই। কারণ অর্গাজম ছাড়া যৌনতায় পুরোপুরি তৃপ্তি আসে না। ড্রামা-সেক্স কমেডি ‘গুড লাক টু ইউ, লিও গ্র্যান্ড’ সিনেমায় এই বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন অস্ট্রেলিয়ান পরিচালক সোফি হাইড। সিনেমার মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন ৬৩ বছরের ব্রিটিশ অভিনেত্রী এমা থম্পসন

সিনেমায় এমা একজন বিধবা শিক্ষকের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, যিনি জীবনের শেষ দিকে অর্গাজমের জন্য একজন পুরুষ এসকর্ট নিয়োগ দেন! যুক্তরাজ্যে ১৭ জুন সিনেমাটি মুক্তি পাবে।

হলিউডের যৌন দৃশ্যগুলো অনেকটা একঘেয়ে। উষ্ণতা, কামুকতা আর কিছু ক্ষেত্রে আবেগ। নারীর উত্তেজনা, হতাশা বা কিছুটা বিরক্ত এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না হলিউডের সিনেমায়।

তবে বাস্তবে অনেক নারীই ভোগেন এ ধরনের অতৃপ্তিতে। তাই তো তারা সিনেমায় এমার চরিত্রে খুঁজে পেয়েছেন নিজেকে।

চলতি সপ্তাহে এক সাক্ষাৎকারে এমা দাবি করেন, ১৫ শতাংশ নারী কখনও প্রচণ্ডভাবে উত্তেজিত হননি।

সিনেমায় এমার চরিত্রটিকে দারুণ পছন্দ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞানী এবং ‘দ্য কেস অফ দ্য ফিমেল অর্গাজম’-এর লেখক অধ্যাপক এলিজাবেথ লয়েড বলেন, ‘আমি রোমাঞ্চিত, কারণ এমা থম্পসন এই সিনেমাটি করেছেন। বহু বছর ধরে সাধারণ জনগণকে সিনেমার মাধ্যমে নারীদের যৌন উত্তেজনা সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়ে আসছে হলিউড। এ কারণেই সিনেমাটি বিশেষ।’

লয়েডের গবেষণায় গুরুত্ব পেয়েছিল ‘অর্গাজম গ্যাপ’। যেখানে তিনি দেখিয়েছেন, অর্গাজমের ক্ষেত্রে পুরুষের তুলনায় নারীরা অনেক পিছিয়ে। লয়েডের গবেষণা বলছে, এ অতৃপ্তিতে ভোগা নারীর সংখ্যা ১০ শতাংশ।

এমা বলেন, ‘আমি মনে করি এই সংখ্যাটি এমন নারীদের প্রতিনিধিত্ব করে যারা ইচ্ছা সত্ত্বেও সঙ্গীর কাছ থেকে পূর্ণ তৃপ্তি পাননি, অনেক নারী নিজেই অর্গাজম চাননি এবং যারা সেই চরম মুহূর্তে পৌঁছাতে শারীরিকভাবে অক্ষম।’

স্কটল্যান্ডের টেইসাইডের যৌন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ লরা জার্ভিস বলেন, ‘আমি এমন রোগী দেখেছি যাদের অর্গাজম না হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে।

‘বেশির ভাগেরই স্নায়ু বৈকল্যের মতো শারীরিক কোনো সমস্যা থাকে না। এটা আসলে তাদের নিজস্ব যৌন অনুভূতির ওপর নির্ভর করে। তারা আদতে কি সেই আনন্দ পেতে চান?’

তিনি বলেন, ‘যৌন নির্যাতন থেকে শুরু করে যৌনতার ওপর ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞার মতো নেতিবাচক অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন অনেক নারী। এগুলো তাদের মনস্তত্ত্বে প্রভাব ফেলে। ফলে তারা যৌনতাকে উপভোগ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।

‘এসব নারী প্রায়ই আমাকে বলে, জীবন থেকে কিছু হারিয়ে যাচ্ছে এই অনুভূতিটা তাদের মধ্যে কাজ করে। নেটফ্লিক্সে নাটকগুলোয় অহরহ অর্গাজমের দৃশ্য দেখা যায়। এসব দেখে তাদের মনে হয় তারা স্বাভাবিক জীবনে নেই। এটা তাদের হতাশায় নিমজ্জিত করে।’

হস্তমৈথুনের ক্ষেত্রে অনেক নারীই এক ধরনের ‘কলঙ্ক ও লজ্জা’ অনুভব করেন। জার্ভিস বলেন, “যখন এটা কোনো পুরুষ করেন, তখন বিষয়টাকে নেতিবাচকভাবে দেখা হয় না। নারীরা করলেই আমরা তাদের ‘কিছুটা দুষ্টু’ ভাবি। সেই দৃষ্টিভঙ্গি দূর করা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। নারীদের শিখতে হবে কীভাবে নিজেকে আনন্দ দিতে হয়।”

অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধ বিশেষ করে এসএসআরআই- যৌনতায় প্রভাব ফেলে। এ ছাড়া আরও অনেক জাগতিক কারণ আছে।

২০ জন ইরানি নারীর ওপর চালানো এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, গৃহস্থালি কাজ, সন্তান, স্বামীর ব্যস্ততা, স্বামী-স্ত্রীর বিবাদের মতো নানা কারণে তারা যৌনতা থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।

লয়েড বলেন, ‘নারীরা প্রচণ্ড উত্তেজনা অনুভব করে সিনেমায় এটা দেখানো হলো অবাস্তব প্রত্যাশা। কারণ প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে বা দুর্বল সঙ্গম এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিষয়টা এমন না যে কীভাবে নারীর অর্গাজম হয়, এটি চরম উত্তেজনা পাওয়ার একটি ভয়ানক উপায়।’

লয়েড ও তার সহকর্মীরা ৫২ হাজার অংশগ্রহণকারীর ওপর একটি সমীক্ষা চালান। সঙ্গীর সঙ্গে যৌন উত্তেজনার চরমে পৌঁছানোর জন্য যৌনাঙ্গের উদ্দীপনা, গভীর চুম্বন এবং ওরাল সেক্সের সমন্বয়কে নারীদের জন্য ‘সোনার ত্রয়ী’ চিহ্নিত করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, ৩৫ শতাংশ বিষমকামী নারী সব সময় বা সাধারণত যোনিপথে মিলনের সময় উত্তেজনা অনুভব করেন। সে তুলনায় ৮০ শতাংশ বিষমকামী নারী এবং ৯১ শতাংশ সমকামী নারী বলেছেন, সব সময় বা সাধারণত যৌনাঙ্গের উদ্দীপনা, গভীর চুম্বন এবং ওরাল সেক্সের সংমিশ্রণে তাদের অর্গাজম হয়। যোনিপথে সঙ্গমের প্রয়োজন হয় না তাদের।

ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানী অধ্যাপক মিহায়েলা পাভলিচেভের মতে, যৌনতায় পুরুষের অসক্রিয়তার বিপরীতে নারীর যৌন আনন্দের বিষয়টি অপেক্ষাকৃত অবহেলিত থেকে গেছে। দীর্ঘ সময় বিষয়টি চিকিৎসক সম্প্রদায়ের কাছে গুরুত্ব পায়নি। তাদের চোখ ছিল বীর্যপাতের সমস্যায় আক্রান্ত পুরুষের দিকে।

‘সিগমুন্ড ফ্রয়েডের মতে, নারীরা যোনিপথের পরিবর্তে ভগাঙ্কুর (clitoris) থেকে বেশি আনন্দ অনুভব করেন। তিনি নারীদের যৌনতাকে ‘অন্ধকার মহাদেশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। তিনি কয়েক প্রজন্ম ধরে নারীর যৌন উত্তেজনাকে কলঙ্কিত করেছিলেন।’

জার্ভিস মনে করেন, যৌন আনন্দকে আরও মূল্য দেয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক পরিবর্তন হয়েছে। অল্প বয়সী নারীদের যৌনতায় সক্রিয় ভূমিকায় আসতে দেখা যাচ্ছে। তবে উত্তেজনাপূর্ণ যৌনতা সবার অগ্রাধিকার নাও হতে পারে।

‘অর্গাজম হলো উত্তেজনা এবং চাপ থেকে মুক্তির একটি কার্যকর উপায়। সংশ্লিষ্ট হরমোনগুলো আপনাকে ভালো বোধ করাবে। আপনার রক্তচাপ এবং মনের উৎফুল্লতা বাড়াতে সাহায্য করবে।’

আরও পড়ুন:
শার্ট খোলা ছবি দিলেই আবেদন হারায় পুরুষ!
যৌনতায় ইউক্রেনীয় নারীর চাহিদা তুঙ্গে
বাইপোলার ডিজঅর্ডার কতটা প্রভাব ফেলে যৌনতায়
মানব যৌনতার ভবিষ্যৎ ‘উদ্ভট’
যৌন মিলনের পর অনেকে কেন কাঁদেন?

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
63 women are victims of harassment in Dhakas public transport

ঢাকার গণপরিবহনে হয়রানির শিকার ৬৩ শতাংশ নারী

ঢাকার গণপরিবহনে হয়রানির শিকার ৬৩ শতাংশ নারী ঢাকায় বাসে ওঠার প্রতিযোগিতায় যাত্রীরা। ছবি: সংগৃহীত
জরিপের উদ্দেশ্য ছিল কিশোরী এবং তরুণীরা ঢাকার গণপরিবহনে কোন ধরনের হয়রানির শিকার হন এবং মানসিক স্বাস্থ্যে কী প্রভাব তা খুঁজে বের করা।

ঢাকায় গণপরিবহনে চলাচল করতে গিয়ে অন্তত ৬৩ দশমিক ৪ শতাংশ কিশোরী ও তরুণী বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন। এসব হয়রানির মধ্যে রয়েছে যৌন হয়রানি, বডি শেমিং, আপত্তিকর স্পর্শ, লিঙ্গ বৈষম্য।

অবশ্য সবচেয়ে বেশি নারী যাত্রী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেন উঠে এসেছে আঁচল ফাউন্ডেশনের এক জরিপ প্রতিবেদনে।

শুক্রবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ‘ঢাকা শহরে গণপরিবহনে হয়রানি: কিশোরী ও তরুণীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব’ শীর্ষক জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়।

জরিপে বলা হয়, ৬৩ দশমিক ৪ শতাংশ কিশোরী ও তরুণী গণপরিবহনে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশ বলেছেন, তাদেরকে যৌন হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ বুলিং, ১৫ দশমিক ২ শতাংশ সামাজিক বৈষম্য, ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ লিঙ্গ বৈষম্য এবং ৮ দশমিক ২ শতাংশ বডি শেমিংয়ের শিকার হয়েছেন।

জরিপের উদ্দেশ্য ছিল কিশোরী এবং তরুণীরা ঢাকার গণপরিবহনে কোন ধরনের হয়রানির শিকার হন এবং মানসিক স্বাস্থ্যে কী প্রভাব তা খুঁজে বের করা।

গবেষণায় ঢাকায় বহুল ব্যবহৃত গণপরিবহনগুলোকেই নমুনা হিসেবে বেছে নেয় জরিপকারীরা। এসব পরিবহনের মধ্যে বাস, ট্রেন, লেগুনা, রাইড শেয়ারিংয়ের বিভিন্ন বাহন, বিশেষ করে মোটরসাইকেল।

এ ছাড়া ডেটা সংগ্রহের জন্য অনলাইন এবং অফলাইন উভয় পদ্ধতির সমন্বয় করা হয়েছে।

যেসব নারী অংশ নিয়েছেন জরিপে তারা ঢাকার আজিমপুর, মিরপুর, গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, বারিধারাসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। যাদের বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।

৮০৫ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ১৯-২৪ বছর বয়সী তরুণী রয়েছেন ৬৮ দশমিক ৪ শতাংশ। বয়সভেদে কিশোরী বিবেচনায় ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী রয়েছেন ১৩ দশমিক ২ শতাংশ। ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী ১২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ৩১ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ৫ দশমিক ৮ শতাংশ এই জরিপে অংশ নেন।

জরিপটিতে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। মোট অংশ নেয়ার ৮৬ দশমিক ০৯ শতাংশই শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৯ দশমিক ০৭ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া, ১২ দশমিক ৮০ শতাংশ কলেজ পড়ুয়া এবং ৪ দশমিক ২২ শতাংশ স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী।

এ ছাড়া ৭ দশমিক ৭ শতাংশ কর্মজীবী এবং ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ গৃহিণীও ছিলেন।

যৌন হয়রানি করায় এগিয়ে সাধারণ যাত্রীরা

যৌন নিপীড়নের শিকার নারীদের ৭৫ শতাংশ জানিয়েছেন, তাদেরকে অন্যযাত্রীদের মাধ্যমে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বেশি। ২০ দশমিক ৪ শতাংশ জানিয়েছেন, তাদের হয়রানি করেছেন পরিবহনের সহকারী বা হেল্পাররা।

৩ শতাংশ হকারের মাধ্যমে এবং ১ দশমিক ৬ শতাংশ ড্রাইভারের মাধ্যমে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে সমীক্ষায় উঠে এসেছে।

গণপরিবহনকে অনিরাপদ করে তোলার পেছনে সবচেয়ে বড় নিয়ামক হিসেবে জরিপে সাধারণ যাত্রীদের চিহ্নিত করা হয়েছে।

আপত্তিকর স্পর্শ

গণপরিবহনে কোন ধরনের যৌন হয়রানির শিকার হতে হয়েছে সে বিষয়ে ১১ দশমিক ৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, চলাচলের সময় তাদেরকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করা হয়েছে। ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ কিশোরী ও তরুণী জানিয়েছেন, গণপরিবহনে যথেষ্ট জায়গা থাকা সত্ত্বেও অন্য যাত্রীরা ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের গা ঘেঁষে দাঁড়ায়। ইচ্ছাকৃতভাবে হালকা স্পর্শ করে গেছেন ১৭ দশমিক ৯ শতাংশকে।

এ ছাড়া ১৪ দশমিক ২ শতাংশ ইচ্ছাকৃত ধাক্কার শিকার হয়েছেন। ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ কিশোরী ও তরুণী জানিয়েছেন, তারা বাজে মন্তব্যের শিকার হয়েছেন।

ভীড়ের মধ্যে যৌন হয়রানি বেশি হয়

পরিসংখ্যান বলছে, গণপরিবহনে হালকা ভিড়ে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় কিশোরী ও তরুণীরা সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হয়েছেন, যা ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ। অতিরিক্ত ভিড়ে যৌন হয়রানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ২ শতাংশের ক্ষেত্রে।

বসে থাকা অবস্থায় যৌন নিপীড়নের মুখোমুখি হয়েছেন ২২ দশমিক ৯ শতাংশ। গণপরিবহনে ওঠা বা নামার সময় ১১ দশমিক ৩ শতাংশ নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

ঝামেলা এড়াতে নিরব অনেকেই

যৌন নিপীড়নের ঘটনাকে অহেতুক ঝামেলা মনে করায় তা এড়াতে পিছিয়ে গেছেন ১৪ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা। কিন্তু কীভাবে তার পাশে দাঁড়ানো যায়, তা না বুঝতে পারায় সহযোগিতা করতে পারেননি ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ। গণপরিবহনের অন্য যাত্রীদের সাহায্য করা উচিত বলে মনে করেছেন ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ।

গণপরিবহনের হয়রানি প্রভাব ফেলছে মানসিক স্বাস্থ্যেও

জরিপে দেখা গেছে, ২১ দশমিক ২ শতাংশ কিশোরী ও তরুণী গণপরিবহন ব্যবহারের সময় যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার কারণে পরে ট্রমাটাইজড হয়েছেন।

২৯ দশমিক ৪ শতাংশের মনে গণপরিবহন এক ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ হীনমন্যতায় এবং ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ বিষণ্ণতায় ভুগেছেন বলে শেয়ার করেছেন।

গণপরিবহনে নারীদের যৌন হয়রানি নিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. মো. ইসমাইল হোসাইন বলেন, ‘আঁচল ফাউন্ডেশনের জরিপের মধ্যে যে চিত্র ফুটে উঠেছে তা থেকে স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে, এই সামাজিক সমস্যাকে পুরোপুরি মোকাবিলা করতে হলে আমদের নৈতিকতাকে ঠিক করতে হবে।’

সুপারিশ, গণপরিবহনে সিট সংখ্যার বেশি যেন যাত্রী না তুলে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া, সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে বাস স্টাফসহ যাত্রীদের পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা, প্রতিটি বাসে সিটের পাশে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সতর্কতামূলক বিভিন্ন লিফলেট লাগাতে হবে, সময় ও চাহিদার প্রেক্ষিতে বাসে সংরক্ষিত আসন সংখ্যা জরুরিভিত্তিতে বাড়াতে হবে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা আইনজীবী সমিতির ব্যারিস্টার শাইখ মাহদি এবং আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তানসেন রোজ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
করিমগঞ্জের ইউএনওর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ
যৌন হয়রানির অভিযোগে বান্ধবীসহ ৮ জনের নামে মামলা
শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক আটক
আশ্রমে যৌন হয়রানির অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১
প্রকাশ্যে যৌন হয়রানি, ভিডিও ভাইরাল

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Climate is affecting sex life

যৌন জীবনে প্রভাব ফেলছে জলবায়ু

যৌন জীবনে প্রভাব ফেলছে জলবায়ু জলবায়ু পরিবর্তনে প্রভাব পড়ছে যৌন সম্পর্কে। ছবি: সংগৃহীত
জলবায়ু সংকট নিয়ে উদ্বেগ জনগণের সম্পর্ক এবং যৌন জীবনকে প্রভাবিত করছে। কেউ কেউ সন্তানধারণের পরিবেশগত খরচ নিয়ে উদ্বিগ্ন; অন্যরা কনডম দিয়ে সমুদ্রকে দূষিত করার জন্য দোষী বোধ করেন।

পৃথিবী যত উত্তপ্ত হচ্ছে, ততই ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে বিছানা। পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ মানুষের খাদ্য, কেনাকাটা বা ভ্রমণকে যেমন প্রভাবিত করছে, তেমনি তা প্রভাব ফেলছে তার রোমান্টিক এবং যৌন সম্পর্কেও

যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৯ সালে চালানো একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের প্রায় ৩৮ শতাংশ বিশ্বাস করেন, সন্তান নেয়ার ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া উচিত।

আগের বছর অন্য একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ২০ থেকে ৪৫ বছর বয়সী নারী-পুরুষের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তাদের কম সন্তান নেয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন।

সেক্স থেরাপি অ্যাপ ব্লুহার্টের লরা ভোয়েলস বলছেন, ‘আমার বেশ কিছু ক্লায়েন্ট আছে, যাদের জন্য পরিবেশগত উদ্বেগ একটি সমস্যা। এটি তাদের সম্পর্কের বিভিন্ন দিককে প্রভাবিত করেছে।

‘বিশেষ করে তারা কার সঙ্গে ডেট করবে (সেই ব্যক্তি কি পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন?), তারা কোথায় ডেটিং করবে (রেস্তোরাঁটি কি টেকসই উপাদান ব্যবহার করে?), কীভাবে তারা সঙ্গম করে (সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব গর্ভনিরোধক কোনটা?) এবং কীভাবে তাদের সন্তান হবে (তাদের কি দত্তক নেয়া উচিত?) এসব বিষয়ে দারুণ প্রভাব ফেলে পরিবেশ নিয়ে এই উদ্বেগ।’

ফিলিপাইনের ম্যানিলার বাসিন্দা ক্যারি নাকপিলের বয়স ২৬। তিনি সাসটেইনিবিলিটি এবং পরিবেশবিষয়ক একটি পডকাস্ট চালান। এই উদ্বেগগুলো ভীষণভাবে তিনি অনুভব করেন।

নাকপিল সন্তান নিতে চান। পাশাপাশি বিশ্বকে জলবায়ু সংকট থেকে রক্ষা করতেও চান। যদিও তিনি জানেন, এই দুটো একসঙ্গে পাওয়া কঠিন।

একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, উন্নত কোনো দেশে একটি সন্তান নেয়া মানেই বছরে প্রায় ৫৮.৬ টন অতিরিক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড উৎপাদন। পুনরুৎপাদনের চেয়ে পৃথিবীর নবায়নযোগ্য সম্পদের বেশির ভাগই মানুষ ইতোমধ্যে ব্যবহার করছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি কেবল এই ব্যয়কে আরও বাড়াবে

লরা ভোয়েলস বলছেন, ‘পরিবেশগত প্রভাবের কারণে বা তাদের সন্তানরা জলবায়ু সংকটের প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে অনেকে সন্তান না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। গর্ভবতী হয়ে পড়ার চিন্তায় দম্পতিরা ভীত থাকেন। আর এ উদ্বেগের কারণে তারা সঙ্গমের মুহূর্তকে পুরোপুরি উপভোগ করতে পারছেন না।’

বিশ্বে কার্বন নিঃসরণের মাত্রা বাড়ানোর চেয়ে অনেকেই ভিন্ন পন্থার সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। তবে ভোয়েলস বলছেন, কারও কারও জন্য কনট্রাসেপটিভ বা গর্ভনিরোধকগুলো পরিবেশ উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের হিসাবে প্রতি বছর প্রায় ১০ বিলিয়ন ল্যাটেক্স কনডম উৎপাদন হয়। ব্যবহারের পর যেগুলোর বেশির ভাগই ফেলে দেয়া হয় বিভিন্ন স্থানে। এই কনডম পুনর্ব্যবহার করা যায় না। কিছু প্রতিষ্ঠান পরিবেশবান্ধব কনডম উৎপাদনের দাবি করলেও সেগুলো সচরাচর পাওয়া যায় না।

কনডমের বিকল্প অন্যান্য গর্ভনিরোধক পদ্ধতি যেমন জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল ও ভ্যাসেকটমি রয়েছে। তবে এগুলো সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা করে না। তাই কেবল ‘প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সম্পর্কে’ থাকা দম্পতিদের জন্য এগুলো ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে অন্যদের ক্ষেত্রে (বহুগামী) এটা সেরা বিকল্প নাও হতে পারে।

ভোয়েলস তাই জোর গলায় বলেছেন, ‘কনডম ব্যবহারের অপরাধবোধ এড়াতে মানুষের যৌন স্বাস্থ্যের ঝুঁকি নেয়া একেবারেই উচিত নয়।

‘ধরুন আপনি পরিবেশবান্ধব গর্ভনিরোধক পাচ্ছেন না, কিন্তু জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে পরিবেশবিষয়ক সচেতনতা মেনে চলছেন। তাহলে নিশ্চিত থাকুন, আপনি আপনার সাধ্যের সবটুকুই ইতোমধ্যে করেছেন।

‘এটা খারাপ না, কারণ এর বিকল্প হলো একটি সন্তানধারণ, যা পরিবেশের জন্য একটি কনডমের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতিকর।’

অনেকে কোন ধরনের গর্ভনিরোধক ব্যবহার করবেন সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন। এই অনুভূতি যৌনতায় আগ্রহ কমিয়ে দেয়ার অন্যতম কারণ।

ভোয়েলস বলেন, ‘আপনি যদি উদ্বিগ্ন থাকেন তবে অন্য কিছুতে মনোযোগ দেয়া খুব কঠিন। আপনার উদ্বেগের শারীরিক লক্ষণগুলো যদি অনুভব করেন, তবে যৌন অভিজ্ঞতা উপভোগ করা বা যৌনতা নিয়ে চিন্তা করার অবস্থায় থাকবেন না আপনি।’

এমন কিছু মানুষ আছে যাদের কাছে যৌনতা একটি চমৎকার স্ট্রেস রিলিভার এবং উদ্বেগ মোকাবিলার পদ্ধতি। তাদের ক্ষেত্রে ইকো-অ্যাংজাইটি বা পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ যৌনতা বাড়াতে পারে।

ভোয়েলস বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, “এ ধারণা ‘প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সম্পর্কে’ থাকাদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ‘সত্য’ হতে পারে। তাদের গর্ভবতী হওয়া বা কনডম ব্যবহারের বিষয়ে চিন্তা করতে হয় না।”

তবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সম্পর্কগুলোও পরিবেশগত উদ্বেগের নাগালের বাইরে নয়। ভোয়েলস বলেন, ‘ইকো-উদ্বেগ আপনার এবং আপনার সঙ্গীর মধ্যে সম্পর্ককেও প্রভাবিত করতে পারে। যদি আপনার মধ্যে একজন জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপে বেশি মনোযোগী হন আর অন্যজন ততটা নন, তবে তা সম্পর্কের মধ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।’

ফিরে যাই নকপিলের ঘটনায়। তিনি চার বছর ধরে তার ছেলে বন্ধুর সঙ্গে থাকছেন। নকপিল বলেন, ‘দুজন মানুষকে একত্রিত করার বিষয়টি বেশ জটিল। তবে যুগল হিসেবে যখন আপনারা একটি সবুজ ভবিষ্যতের দিকে এগোবেন, তখন বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে।’

এ ধরনের যুগলদের জন্য কিছু পরামর্শ দিয়েছেন সেক্স থেরাপিস্ট ভোয়েলস। তার পরামর্শ, কোন বিষয়টিকে তারা অগ্রাধিকার দেবে, সে বিষয়ে তাদের খোলামেলা আলোচনা করা উচিত। একে-অপরের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করতে হবে। মতের কিছু অমিল থাকতেই পারে। এগুলোকে মেনে নিতে হবে। তারপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে, এ অমিলগুলোকে কীভাবে সহজ করা যায়।

নকপিল জানিয়েছেন, তিনি এবং তার প্রেমিক একটি মধ্যম অবস্থান খুঁজে পেতে সক্ষম হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘বিষয়টা এমন না যে আমরা সব সময় সবুজে থাকব। এটা আদর্শবাদী, তবে (আমার বয়ফ্রেন্ড) আমাকে বাস্তববাদী রাখে। এটা চমৎকার যে একটি মধ্যম অবস্থান থেকে চিন্তা করি, যেখান থেকে দুজনের দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করে অনেক বিষয়ে ছাড় দিয়ে থাকি।’

নকপিল স্বীকার করেছেন, দৈনন্দিন জীবন এবং সম্পর্কের বাস্তবতার সঙ্গে পরিবেশের যত্নের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হতে পারে, তবে তিনি এটি বজায় রাখতে আগ্রহী।

‘এই মুহূর্তে জানি না কীভাবে (আমার পরিবেশের বিষয়ে চেতনা) বন্ধ করতে হবে বা আমি কি তা সত্যি চাই?’

আরও পড়ুন:
‘জলবায়ুজনিত ক্ষতি কমাতে ন্যাপ জরুরি’
অ্যালবেট্রস দম্পতিদের বিচ্ছেদ কেন বাড়ছে
বৈশ্বিক উষ্ণতা বাদ দিয়েই গ্লাসগো চুক্তি সই
একমত না হওয়ায় বাড়তি সময়ে জলবায়ু সম্মেলন
‘জলবায়ু অভিযোজনে প্রয়োজন প্রতিশ্রুত বরাদ্দ’

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
The health workers involved in the corona treatment are in mental anguish

করোনা চিকিৎসায় জড়িত স্বাস্থ্যকর্মীরা মানসিক যাতনায়

করোনা চিকিৎসায় জড়িত স্বাস্থ্যকর্মীরা মানসিক যাতনায় দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ২৩ দশমিক ৫০ শতাংশ মানসিক যাতনায় ছিলেন। ফাইল ছবি
অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই মানসিক চাপে ছিলেন, ক্লান্ত ছিলেন এবং অনেকেরই ঘুমাতে সমস্যা হচ্ছিল। অনেকে তাদের পরিবার এবং আত্মীয়দের নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। এতে করে তাদের উত্তেজনা ও উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ২৩ দশমিক ৫০ শতাংশ পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডারে (পিটিএসডি) আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে সরকারি একটি গবেষণায় উঠে এসেছে।

স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারদের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা হয়েছিল চিকিৎসকদের। এরপরেই ছিলেন, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট ও নার্স। পিটিএসডি-তে আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসক ২৪ দশমিক ৩০ শতাংশ, টেকনোলজিস্ট ২৩ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং নার্স ২২ দশমিক ৮০ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার রাজধানির মহাখালীর জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম) মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মহামারিকালে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব, কুশলবস্থা, সংশ্লিষ্ট ফ্যাক্টরসমূহ মানিয়ে নেওয়ার কৌশল’শীর্ষক জাতীয় জরিপের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থায়নে গবেষণাটি পরিচালনা করে নিপসম। সংস্থাটির পরিচালক ও গবেষণা দলের প্রধান বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ ফলাফল তুলে ধরেন।

জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো আঘাতের কারণে পিটিএসডি হতে পারে এবং এর লক্ষণের মধ্যে রয়েছে পুরনো কথা মনে পরা, দুঃস্বপ্ন, গুরুতর উদ্বেগ ও ঘটনা সম্পর্কে নিয়ন্ত্রণহীন চিন্তা।

বাংলাদেশে করোনা মহামারির সময় স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের ওপর মানসিক প্রভাব, সংশ্লিষ্ট কারণ ও মোকাবিলার কৌশল শীর্ষক গবেষণাটি ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে ১ হাজার ৩৯৪ জন স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর পরিচালিত হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন ৫৯৬ জন চিকিৎসক, ৭১৩ জন নার্স এবং ৮৫ জন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট।

এসব স্বাস্থ্যকর্মীরা অন্তত এক মাস করোনা রোগীদের সঙ্গে কাজ করেছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন জরিপ কর্মীরা।

জরিপে দেখা গেছে, নারীদের পিটিএসডির ঝুঁকি ছিল বেশি। যাদের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৯ শতাংশেরই পিটিএসডি ছিল। তাদের মধে ৮৩ দশমিক ৬ শতাংশ ছিলেন বিবাহিত।

স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারদের কাজের চাপ অনেক বেশি ছিল, তারা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সামগ্রীর (পিপিই) অপ্রতুলতায় ছিলেন এবং করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে ছিলেন।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই মানসিক চাপে ছিলেন, ক্লান্ত ছিলেন এবং অনেকেরই ঘুমাতে সমস্যা হচ্ছিল। অনেকে তাদের পরিবার এবং আত্মীয়দের নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। এতে করে তাদের উত্তেজনা ও উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

প্রতিবেদনে একজন অংশগ্রহণকারী বলেন, ‘সংক্রামক রোগ হওয়ায় রোগীদের মতো আমাদেরও একই ভয় ছিল। অনেক কিছুই আমাদের কাছে ছিল অজানা। হাসপাতালগুলোও এই ধরনের নতুন রোগের চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত ছিল না। রোগী, গণমাধ্যম ও গণমানুষসহ সমাজের নেতিবাচক মনোভাবের পাশাপাশি কাজের সময় সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি আমাদের মানসিক চাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।’

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অনেকেই নিয়মিত প্রার্থনা, টিভি দেখা, বই পড়ার মতো কার্যক্রমে সময় ব্যয় করতেন, যাতে পিটিএসডির প্রভাব কম থাকে।

ফলা প্রকাশ অনুষ্ঠানে নিপসমের পরিচালক বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ জানান, পিটিএসডি আক্রান্ত স্বাস্থ্যসেবা পেশাদাররা সবার থেকে দূরে সরে থাকতে পারেন বা চাকরি ছেড়ে দিতে পারেন বা তাদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা থাকতে পারে। এই স্বাস্থ্য সমস্যাটির সমাধান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের করা উচিত।
গবেষণায় স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারদের মানসিক সুস্থতায় কাউন্সেলিং প্রোাগ্রামের ব্যবস্থা জোরদার ও প্রবর্তনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

অধ্যাপক বায়জীদ বলেন, পিটিএসডিতে আক্রান্ত স্বাস্থ্যসেবা পেশাদাররা এখন কীভাবে কাজ করছেন সে সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। কেননা, গবেষণার তথ্যগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে গত বছর।

স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব সাইফুল হাসান বাদল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শারফুদ্দিন আহমেদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম এনায়েত হোসেনও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
বগুড়ায় ১১ স্বাস্থ্যকর্মীকে সংবর্ধনা
১৪ হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীর করোনা প্রণোদনা ১ মে

মন্তব্য

p
উপরে